শিরোনাম :
বরিশাল নগরীর আলোচিত সেই পাদুকা ব্যবসায়ী সোলাইমানসহ পরিবারের ৫ জনের বিরুদ্ধে অবশেষে ধর্ষণ মামলা! গ্রেফতার ২ : হামলায় আহত ১ হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বিএনপি-জামায়াত ভোলা পৌরসভার কর্মীদের বিক্ষোভ, ‘সন্ত্রাসীদের ধরে দে, নইলে গাড়ি কিনে দে’ স্লোগান দ্বীপজেলার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন মৎস্য ও যোগাযোগ উন্নয়নে ভোলার মানুষের পক্ষে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবো—– জেলা প্রশাসক বরিশাল নগরীর আলোচিত সেই পাদুকা ব্যবসায়ী সোলাইমানের বিরুদ্ধে অবশেষে ধর্ষণ মামলা দায়ের! জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি মোনায়েম মুন্নাকে বরিশালে ফুল দিয়ে বরন বাকেরগঞ্জের কৃতি সন্তান সাইফুল ইসলাম মিলন বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক পদে পদোন্নতি লাভ শীতকালীন মাঠে লাভের নতুন সম্ভাবনা ব্রকলি চাষ বরিশাল মহানগরে পদ ফিরে পেলেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলায়েত হোসেন : ধানের শীষের পক্ষে আনন্দ মিছিল ভূমিকম্পে করণীয়

আন্তর্জাতিক

রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি মোনায়েম মুন্নাকে স্বাগত জানান জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি (বরিশাল বিভাগ), এডভোকেট এইচএম তসলিম উদ্দিন এর নেতৃত্বে জেলা যুবদলের নেতৃবৃন্দ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলায়েত হোসেন ও ঝালকাঠি জেলা যুবদলের আহবায়ক শামিম তালুকদার সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বরিশালে পৌছালে তাকে প্রথমে বিভিন্ন শ্লোগানে মুখরিত করে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ সময় বিভিন্ন জেলা, উপজেলা , পৌরসভা ও ইউনিয়ন যুবদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে রাতে সুপার ফাইভ নিয়ে বরিশাল ক্লাবে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগাদান করেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোনায়েম মুন্না।

জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি মোনায়েম মুন্নাকে বরিশালে ফুল দিয়ে বরন


নিজস্ব প্রতিনিধি ::
নগরীতে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলায়েত হোসেন পদ ফিরে পাওয়ায় ধানের শীষের পক্ষে আনন্দ মিছিল বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। রোববার মাগরিব বাদ জেলা মডেল জামে মসজিদের সামনে থেকে আনন্দ মিছিলটি ১৩ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আমতলা বিজয় বিহঙ্গে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এ সময় জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলায়েত হোসেন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহানগর জাসাসের সভাপতি মীর আদনান তুহিন, জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রুহুল, অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসলাম বাচ্চু, বিএম কলেজের ছাত্র দলের সভাপতি মোঃ যুবায়ের, সদর উপজেলা ছাত্র দলের সভাপতি আল আমিন মৃধা, বাস্তুহারা দলের সভাপতি মোঃ রাসেদ খান তুহিন ও সাধারণ সম্পাদক সফিক মামুন, শ্রমিক দল সেক্রেটারি আঃ ছালাম।

সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেনকে গত ৮ এপ্রিল বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ তার সকল পদ স্থগিত করা হয়েছিল।

বরিশাল মহানগরে পদ ফিরে পেলেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলায়েত হোসেন : ধানের শীষের পক্ষে আনন্দ মিছিল

 

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
‎দাওয়াত এবং প্রশিক্ষণে মজবুত হবে সংগঠন, জ্ঞানের আলোয় গড়বো সমাজ, সফল হবে আন্দোলন এই শ্লোগানকে সামনে রেখে চরফ্যাশনে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উপশাখা প্রতিনিধি সমাবেশ।‎ মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে ব্রজ গোপাল টাউন হল মিলনায়তনে শিবির ভোলা জেলা শাখার আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

‎‎সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, একটি আদর্শ সমাজ গঠনে সুসংগঠিত দাওয়াত, শক্তিশালী প্রশিক্ষণ ও নৈতিক নেতৃত্বের আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, আদর্শ শিক্ষা ও নৈতিক চরিত্র গঠনে ছাত্রশিবির দীর্ঘদিন ধরে কাজ যাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে সৎ, দক্ষ ও আদর্শ দেশ প্রেমিক নাগরিকের পক্ষে কাজ করার আহবান জানাই।

তিনি আরো বলেন,ছাত্রশিবিরের প্রতিনিধিদের সময় অপচয় রোধ, কঠোর পরিশ্রম ও আল্লাহ সাহায্য প্রার্থনা করে জীবনের সফলতা অর্জন করতে হবে। ডাকসু, জাকসু, রাকসু ও চাকসু আল্লাহর অসীম রহমতে বিজয় লাভ হয়েছে। ধৈর্য আর সাহসিকতার সহিত দ্বিনের কাজ করলে অবশ্যই আল্লাহ বিজয় দান করেন।

উপশাখা যে চারটি নিয়মিত কাজ রয়েছে তা সবাইকে যথাযথভাবে পালন করতে হবে। ‎‎তরুণ প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশনায় গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণভিত্তিক কর্মসূচি আরও জোরদার করার আহ্বান জানান কেন্দ্রীয় এ সভাপতি।‎

ভোলা জেলা শাখার সভাপতি জসিমউদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ আল জায়েদের সঞ্চালনায় সমাবেশে ‎বক্তব্য রাখেন, ভোলা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল, ভোলা-৩ আসনের জামায়াত সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট পারভেজ হোসাইন কেন্দ্রীয় পাঠাগার স¤পাদক সোহেল রানা, জামায়াতে ইসলামী উপজেলা সহকারি সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এনামুল হক রায়হান, উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মহিববুল্লাহ, ছাত্রশিবিরে সাবেক ভোলা শহর সভাপতি মাকসুদুর রহমান, সাবেক জেলা সভাপতি আলমগীর মোঃ সোহাগ, উপজেলা শিবির সভাপতি মেহেদী হাসান সজীব সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

‎সমাবেশে বক্তারা বলেন, জ্ঞানের আলোয় আলোকিত শিক্ষার্থীরাই পারে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে। সংগঠনের প্রতিটি স্তরে দায়িত্বশীলতা, ত্যাগ, আনুগত্য ও একাগ্রতা একটি আদর্শিক আন্দোলনকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে চরফ্যাশনে বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধিরা সমাবেশে অংশ নেন। এতে সংগঠনের সাংগঠনিক অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ করণীয়, সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে বিভিন্ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।

‎‎অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথি প্রতিনিধিদের জন্য বিশেষ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেন।

আগামী নির্বাচনে সৎ ও দক্ষ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার আহ্বান————কেন্দ্রীয় শিবির সভাপতি

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভোলা সরকারি কলেজ শাখার আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করায় নবগঠিত কমিটিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে এ আনন্দ মিছিল করেছে ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদল। মিছিলটি শহরের যুগীরঘোল চত্বর থেকে শুরু হয়ে কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক আরাফাত ইসলাম (ইফতি) ও সদস্য সচিব মো. আব্দুস সামাদের নেতৃত্বে মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলে রাব্বি, সাকিব হোসেন সাখাওয়াত, সাইফুল ইসলাম (মিঠু), সিফাত উল্লাহ সিফাত, মো. কামরুল হাসান, মোহাইমিনুল ইসলাম, সাফায়েত হোসেন সাফী, সদস্য আদনান হাছান, আবু সুফিয়ান, ছাত্রদল নেতা তাহলা জুবায়েরসহ অনেকে।

মিছিলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল, জেলা ছাত্রদল ও টিম-১৮ ধন্যবাদ জানিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেন ছাত্রদলের শত শত নেতাকর্মী। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত এক সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই কমিটি কলেজ ছাত্রদলকে আরও গতিশীল করবে এবং গণতন্ত্র ও ছাত্র-অধিকার প্রতিষ্ঠায় বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে ছাত্রদল ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং শিক্ষা-শান্তি-প্রগতির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকবে।

তারা আরো বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের কারণে ভোলা সরকারি কলেজে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ ছিল। ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতিতে প্রাণ ফিরে এসেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সব সময় পাশে থাকবে। পরে নতুন কমিটি ঘোষণা করায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তারা আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে জয়ী করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

এরআগে গত ১৬ অক্টোবর ছাত্রদল জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আল-আমিন হাওলাদারের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির আনন্দ মিছিল

অন্যান্য সংবাদ

ঢাকা

চট্টগ্রাম

কক্সবাজার প্রতিনিধি::

কক্সবাজারের মহেশখালীতে দীর্ঘ ২ যুগ পর রাস্তা সংস্কার কার্যক্রম শুরুতে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
হোয়ানক ইউনিয়ন পানিরছড়া এলাকায় ৩ টি চলমান রাস্তা

সংস্কারের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। যেখানে ড্রেন হওয়ার কথা সেখানে হচ্ছে না ড্রেন, আর যেখানে আরসিসি ঢালাই দরকার সেখানে তা হচ্ছে না, বলে প্রশ্ন জনমনে। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে জেনেও না জানার ভাণ করছে ।

এলাকাবাসীর অনুরোধ, মহেশখালী ইউএনও যেন বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করেন, তা না হলে একটি সংকট তৈরি হতে পারে।

মোহাম্মদ হোচেন জানান, এই অনিয়মের পেছনে একমাত্র দায়ী ৯ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার কালা চান সহ কিছু অসৎ লোক, তারা রাস্তার কাজে কোন কারণ ছাড়া বাঁধা সৃষ্টি করে যাচ্ছে এসব চামচাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক

রুবেল জানান আরো কিছু দিন পরে পোস্ট দিলে ভালো হতো। কাজ প্রায় শেষের দিকে এতদিন কোথায় ছিলো সমাজের সচেতন মহল?? ব্যাপক দুর্নীতি অনিয়ম হলে কাজ বন্ধ করে দাও। সবার সাথে পরামর্শ করে সঠিকভাবে কাজ হচ্ছে কিনা তদারকি কর। ফেসবুকে বুকে পোস্ট দিয়ে বসে থাকলে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা মেরে দিবে।

আরমান আলী জানান, যদি ড্রেইন না দেয় রাস্তা এক বর্ষার পরে মাটির নিচে চলে যাবে! এটা তদন্ত করার জন্য ইউ এনও বরাবর কেউ অভিযোগ করেন। যদি রাস্তার টেন্ডারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংযুক্ত থাকে তাহলে অবশ্যই দিতে হবে আর যদি ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংযুক্ত না থাকে তাহলে তাদের ওপর কোন অভিযোগ নেই।

আলমগীর জানান, এ বিষয়ে আমরা চাই যে জায়গায় ড্রেন দরকার সে জায়গায় ড্রেন আর যে জায়গায় আরসিসি ঢালাই দরকার সেখানে তা হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ বৃহত্তর পানিরছড়া এলাকায় বর্ষাকালে প্রায় ৭৫ % রাস্তার উপর দিয়ে পানি চলাচল করে তা সকলে জানে।
ইতিমধ্যে ইউএনও মহোদয়কে মৌখিকভাবে জানিয়েছি উনি নিজে তদারকি করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

মহেশখালীতে দীর্ঘ ৩০ বছর পর রাস্তা সংস্কার কার্যক্রম : শুরুতেই অনিয়ম ও দুর্নীতি

অনুসন্ধান ডেস্ক :: 
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বৃহস্পতিবার (২৮ আগষ্ট) জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার চন্দ্রনাথ ধামের ভৈরব মন্দির ও ব্যাসকুন্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় সাথে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সান্তু বিপিএম (বার)।
পরিদর্শনকালে উল্লিখিত এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। সামগ্রিক বিষয়ে জেলা প্রশাসক মন্তব্য করেন, “চট্টগ্রাম সমগ্র বাংলাদেশে বিভিন্ন সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির এক মিলনমেলা। কোন প্রকার মিথ্যা প্রচারণা বা উস্কানিতে এই সম্প্রীতি কেউ যেন বিনষ্ট না করতে পারে সে ব্যাপারে প্রশাসন, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। আমরা চাই ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এখানে একটি সুন্দর ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকুক।”
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারবৃন্দ, সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং মাঠ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক’র সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধাম পরিদর্শন

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজন নিহতের ঘটনায় উল্টো পথে আসা হানিফ পরিবহনের সেই বাসটিকে জব্দ করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার খাদঘর মানামা হোটেলের সামনের মাঠ থেকে বাসটি জব্দ করা হয়।

ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।ওসি জানান, শুক্রবার দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাসটিকে শনাক্ত করা হয়। সিসিটিভিতে দেখা যাচ্ছিল, হানিফ পরিবহনের ঢাকা মেট্টো-ব-১২-২১৯৭ নম্বরের বাসটি উল্টো পথে চলাচল করার কারণেই সিমেন্ট বোঝাই কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারের ওপর উল্টে পড়ে, তারপর ওই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাসটি জব্দ হলেও চালক বা হেলপার কাউকে পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর বাসটিকে খাদঘর এলাকায় রেখে আত্মগোপনে চলে যান চালক এবং হেলপার। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ইউটার্নে সিমেন্টবোঝাই একটি কাভার্ড ভ্যান প্রাইভেট কারের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চারজন নিহত হন।

নিহতরা হলেন, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মোহাম্মদ ওমর আলী (৮০), তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৫), বড় ছেলে ব্যাংক এশিয়ার কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম (৫০) ও ছোট ছেলে আবুল কাশেম (৪৫)। প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন বড় ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল হাশেম। একই দুর্ঘটনায় লরির নিচে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রীও আহত হন। আহতরা ঢাকা ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহত ওমর আলীর ভাই আবুল কালাম বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহন বাসের অজ্ঞাতনামা চালকদের আসামি করা হয়েছে।

কুমিল্লার সড়ক দুর্ঘটনায় হানিফ পরিবহনের বাস জব্দ 

কক্সবাজার প্রতিনিধি ::
কক্সবাজারের চকরিয়া থানা হাজতে যুবক দুর্জয় চৌধুরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার ওসিকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন, এর আগে এ ঘটনায় থানার তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছিল। আজ শনিবার ওসি শফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “তৌহিদুল আনোয়ারকে চকরিয়া থানার নতুন ওসির দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শফিকুল ইসলামকে কক্সবাজার পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ করা হয়েছে।”
শুক্রবার সকালে চকরিয়া থানা হাজত থেকে দুর্জয় চৌধুরী নামে এক যুবককে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবার হত্যার অভিযোগ করলেও পুলিশের দাবি, দুর্জয় আত্মহত্যা করেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের ক্ষোভের মধ্যে শুক্রবার দুপুরে থানার এএসআই মোহাম্মদ হানিফ মিয়া, কনস্টেবল মহি উদ্দিন ও ইশরাক হোসেনকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
দুর্জয় চাকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দু পাড়ার কমল চৌধুরীর ছেলে। চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটরের দায়িত্বে ছিলেন দুর্জয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে দুর্জয়ের বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক তাকে থানায় হস্তান্তর করেন। তার বিরুদ্ধে ২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মামলা করেন। ভোরে চকরিয়া থানা হাজতের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে পুলিশের দাবি করা আত্মহত্যাকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন দুর্জয় চৌধুরীর বাবা কমল চৌধুরী।
শনিবার সকালে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে কমল চৌধুরী বলেন, “কোনো মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়া আমার ছেলেকে থানায় রাখা হয়েছে।”
তিনি এ ঘটনার জন্য স্কুলের দুজন শিক্ষককে দায়ী করে বলেন, “আমার ছেলের ব্যাগ ও ল্যাপটপ খুঁজে পাচ্ছি না। হয়তো ল্যাপটপে থাকা কোনো তথ্যের কারণেই প্রাণ হারিয়েছে দুর্জয়।”

চকরিয়া থানা হাজতে দুর্জয় চৌধুরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ওসি প্রত্যাহার : দুর্জয়ের ল্যাপটব উধাও

ডেস্ক রিপোর্ট ::
কুমিল্লায় প্রাইভেট কারের ওপর সিমেন্ট বোঝাই কাভার্ড ভ্যান উল্টে একই পরিবারের ৪ জন নিহতের পর এবার বিপজ্জনক সেই ইউটার্ন বন্ধ হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড সংলগ্ন উত্তর রামপুর এলাকার ইউটার্নটি বন্ধ করার প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। শনিবার (২৩ আগষ্ট) বেলা ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ২৩ বীরের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসানসহ হাইওয়ে পুলিশ ও সওজ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানায়।
সওজ কুমিল্লার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আদনান ইবনে হাসান সমকালকে বলেন, এ ইউটার্নটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। আজ সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশসহ আমরা আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রোববার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রশাসনের আরও একটি সভা হবে। সেখানে ইউটার্নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তবে আপাতত আজ রাত থেকে ইউটার্নটি বন্ধ রাখা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সকল যানবাহন পাশের সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের পাশের দয়াপুর এলাকা দিয়ে ইউটার্ন করবে।
এই সওজ কর্মকর্তা আরও বলেন, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার ইউলুপের কাজ চলমান আছে। তা চালু না হওয়া পর্যন্ত ইউটার্নগুলোতে যানবাহন চালকদের সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা অতিক্রম করতে হবে।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে মহাসড়কের পদুয়ারবাজার সংলগ্ন উত্তর রামপুর এলাকায় ইউটার্ন অতিক্রম করার সময় সিমেন্ট বোঝাই কাভার্ড ভ্যান উল্টে চাপা পড়ে প্রাইভেট কারের যাত্রী একই পরিবারের চার জনের মৃত্যু হয়। এরা হলেন, জেলার বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মোহাম্মদ ওমর আলী (৮০), তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৫), তাদের বড় ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল হাশেম (৫০) এবং ছোট ছেলে আবুল কাশেম (৪৫)। প্রাইভেটকারটি চালাচ্ছিলেন আবুল হাশেম।
এদিকে এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহত ওমর আলীর ভাই আবুল কালাম বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহন বাসের অজ্ঞাতনামা চালকদের আসামি করা হয়েছে।
ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার এসআই আনিসুর রহমান আজ শনিবার সমকালকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে দুর্ঘটনার জন্য কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহনের বাসের চালকই দায়ী। মামলার অভিযোগেও তাদের কথা বলা হয়েছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত : উম্মত্ত চালকদের নিয়ন্ত্রন করার দায়িত্ব কার?

অন্যান্য সংবাদ

বরিশাল

ডেস্ক রিপোর্ট ::

সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষমেশ  বরিশাল নগরীর দক্ষিণ চকবাজারে পুলিশ স্টলের “সোলায়মান সু হাউজ”র সত্বাধিকারী মোঃ সোলাইমান ফরাজীর বিরুদ্ধেধর্ষণ মামলা করেছেন তার সাবেক স্ত্রী মোসা: আখি আক্তার। শেষ রক্ষা হলোনা স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তা গোপন রেখে টানা ৯৯ দিন ঘরসংসার করার পরে স্ত্রী আখিকে নগরীর ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে প্রকাশ্য রাস্তার ওপর ফেলে পেটানো আলোচিত সেই জুতা ব্যবসায়ী সোলাইমানের। অবশেষে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার মূল আসামী সোলাইমান এবং এসব অপকর্মে সরাসরি সহযোগিতায় যুক্ত থাকার কারণে সোলাইমানের বড় ভাই লোকমান ফরাজীকে আজ রোববার রাত ৯ টায় নগরীর দক্ষিণ চকবাজারস্থ নিজ নিজ দোকান থেকে কাউনিয়া থানার এসআই উজ্জল’র নেতৃত্বে একদল পুলিশ গ্রেফতার করে।

এসময়ে আসামীদের লালিত সন্ত্রাসীরা হ্যান্ডকাপসহ আসামীদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে সহিংস আক্রমণে পুলিশের সাথে থাকা বাদীর মামা ফয়সাল (৩০) মারাত্মক

জখম আঘাতপ্রাপ্ত হন। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বেও গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর সোলাইমান ফরাজী আখি আক্তারকে ফায়ার সার্ভিসের সামনে রাস্তার ওপর ফেলে প্রকাশ্যে লাথি ঘুষি মেরে মারাত্মক জখম করলে বিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের সহকারী পুলিশ কমিশনার প্রনয় রায় গাড়ী

থামিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় আখিকে উদ্ধার করে লঞ্চঘাট ফাঁড়ির এসআই মাহবুবের মাধ্যমে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে কোতয়ালী থানায় সোপর্দ করেন। এ সময়ে লোকমান ফরাজী কতিপয় সন্ত্রাসী নিয়ে থানায় উপস্থিত হয়ে থানা ঘেরাও করার হুমকি দিলে পুলিশ ভয়ে আসমীর হ্যান্ডকাপ খুলে দিয়ে মামলা না নিয়ে ১৬৯৮ ম্বর জিডি করে।

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, স্ত্রীকে ঘরে রেখেই ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে গোপন করা তালাকের কাগজপত্র উদ্ধার করে গত ২৫ নভেম্বর আখি বাদী হয়ে বরিশালের শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধিত) ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় সোলাইমানকে প্রধান আসামী করে ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এসব অপকর্মে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত অপর আসামীরা হলেন সোলাইমানের বাবা মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজী, মা মোসাঃ পেয়ারা বেগম, বড় ভাই মোঃ লোকমান ফরাজী এবং বোন মোসাঃ আখি বেগম। মামলায় অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় প্রধান আসামী সোলাইমানের বিরুদ্ধে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর স্ত্রী আখি আক্তারকে তালাক দেয়ার পরে ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে তা গোপন রেখে ৬ সেপ্টেম্বর  আখিকে শশুরালয় থেকে লামচরি নিজ বাড়িতে নিয়ে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৯৯ দিন ঘর-সংসার করে সোলাইমান তার বাবা মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজীর মাধ্যমে আবার আখির পিত্রালয়ে পাঠয়ে দেয়। কিন্তু ঘুনাক্ষরেও তালাকে বিষয়টি জানতে পায়নি আখি আক্তার।
ওই আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ রকিবুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) দীর্ঘ শুনানী শেষে এমপি নং-৪৮৭/২০২৫ মোকদ্দমাটি বিএমপি কাউনিয়া থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন।
এ ছাড়াও ওই আসামীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় জিআর-২২/২০২৫ (নারী ও শিশু কেস নং-৪৬৮/২০২৫) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ-হেল-মাফি’র তদন্তাদীন এবং দ: বি: ৩২৩/৫০৬(২) ধারায় নন এফ.আই.আর প্রসিকিউশন নং-৬৩/২০২৫ (কোতয়ালী) ও ৫০৬(২) ধারায় নন এফ.আই.আর প্রসিকিউশন নং-৬২/২০২৫ (কাউনিয়া) মোকদ্দমা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন আছে।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ সোলাইমান ফরাজী(৩৬) ও মোঃ লোকমান ফরাজী(৩৮) নগরীর কাউনিয়া থানাধীন চর বাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরী গ্রামের বাসিন্দা মো: ইউসুফ আলী ফরাজী ও মোসা: পেয়ারা বেগম দম্পত্তির পুত্র এবং মোসা: আখি আক্তার(২২) একই ইউনিয়নের চর আবদানীর বাসিন্দা মোঃ আলমগীর হোসেন ও মোসাঃ মিনারা বেগম দম্পত্তির কন্যা।
ইতোপূর্বেও এসব ঘটনার আলোকে অনুসন্ধান টিভিনিউজ-এ গত ১২ আগষ্ট, ৬ অক্টোবর, ১২ অক্টোবর এবং ২৭ নভেম্বর চারটি সবিস্তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বরিশাল নগরীর আলোচিত সেই পাদুকা ব্যবসায়ী সোলাইমানসহ পরিবারের ৫ জনের বিরুদ্ধে অবশেষে ধর্ষণ মামলা! গ্রেফতার ২ : হামলায় আহত ১

বিশেষ প্রতিনিধি ::

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-কাজীরহাট) আসনকে ঘিরে ক্রমশ বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। তরুণদের মাঝে যেমন বিএনপির প্রার্থী রাজিব আহসানকে নিয়ে ব্যাপক সাড়া পরেছে।
তেমনি প্রবীণরা ঝুঁকছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল জব্বারের পক্ষে।
গত কয়েকদিন থেকে ওই আসনে নির্বাচনী উত্তাপ এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে তাতে স্পষ্ট করেই বোঝা যাচ্ছে এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে হতে যাচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
অপরদিকে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ এছাহাক মো. আবুল খায়ের। তার এই আসনে দলীয় কিছু রিজার্ভ ভোট রয়েছে। তবে তিনি প্রার্থী হওয়ার পর থেকে এলাকায় এখনও উল্লেখযোগ্য কোনো তৎপরতা শুরু করেননি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপির মধ্যে কিছুটা বিভাজন রয়েছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও একাধিক গ্রুপিং থাকায় ধানের শীষ মার্কার প্রার্থীর জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। যদিও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসান তরুণ নেতৃত্ব দিয়ে এই বিভাজন কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন।
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় জনভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী। যা জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। গোবিন্দপুর ইউনিয়নে উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মরহুম মাওলানা আবুল হাসেম পাঁচবার এবং হিজলার বড়জালিয়া ইউনিয়ন ও অবিভক্ত উলানিয়া ইউনিয়নে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা অতীতে একাধিকবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
জামায়াতের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের মধ্যে বরিশাল-৪ আসনে তাদের সাংগঠনিক ভীত খুবই মজবুত। এখানকার প্রার্থী বরিশাল জেলা জামায়াতের আমীর হওয়ায় তাকে শক্ত প্রার্থী হিসেবেই দেখছেন সাধারণ ভোটাররা।
ইতোমধ্যে তিনি প্রান্তিক জনপদে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষকদের সমস্যা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার সমস্যা সবকিছু অবগত হয়ে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এলাকার সাধারণ ভোটাররা বলছেন, বহুবছর যাবতই প্রার্থী আব্দুল জব্বার নিবিড়ভাবে মানুষের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় করে তাদের সবার মতামত গ্রহন করছেন। তিনি অত্র অঞ্চলে ছাত্রজীবন থেকে সাংগঠনিক দায়িত্বপালনের সুবাধে এলাকাবাসীর সাথে তার একটি নিবিড় বন্ধন রয়েছে।
এ অবস্থায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী যদি জোটবদ্ধ হয়ে আব্দুল জব্বারকে সমর্থন জানায় তাহলে ভোটের দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। ইসলামী জোটের পক্ষ থেকে মাওলানা আব্দুল জব্বারকে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হলে তিনি সম্মিলিতভাবে একটি বিশাল জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একাধিক কর্মীরা বলেন, এটা অত্যন্ত বাস্তব যে বরিশাল-৪ আসনে আমাদের চেয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। তাই জাতীয় স্বার্থে এই আসনটি আব্দুল জব্বারকে দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে ইসলামী জোটের বিজয়ী হতে তেমন কোন বেগ পেতে হবেনা। আবার একইভাবে যেসব আসনে হাতপাখা প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছে সেগুলোও ছেড়ে দেওয়া উচিৎ।
এসব বিষয়ে কোন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি না হলেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানিয়েছেন-সময় অনুযায়ী সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন।
এ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসান দিন-রাত সমান তালে নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছেন।

হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বিএনপি-জামায়াত

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

ভোলা পৌরসভার কর্মচারীদের ওপর হামলা ও তিনটি ডাম্প ট্রাক পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার এক মাস পরও আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি। এর প্রতিবাদে পৌরসভার কর্মচারীরা বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ভোলা প্রেসক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। পরে তাঁরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

পৌরসভার কর্মচারীরা সকালে মিছিল নিয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কর্মচারীদের অনেকেই স্লোগান দেন, ‘সন্ত্রাসীদের ধরে দে, নইলে গাড়ি কিনে দে।’

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পৌরসভা কর্মচারী ফেডারেশনের উপদেষ্টা সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদসহ অনেকে। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে দ্রুত আসামি গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ২৫ অক্টোবর ভোলা পৌরসভার নতুনবাজার এলাকায় পৌর কর্তৃপক্ষের ৩১ শতাংশ জমি দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ওই সময় দুলাল নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত পৌরসভার কর্মচারী ও তিনটি গার্বেজ ট্রাকের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে ট্রাকগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয় এবং একাধিক কর্মী আহত হন। পরদিন ভোলা মডেল থানায় দুলালসহ ২৪ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। তবে এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

পৌরসভার কর্মচারীরা জানান, তাঁরা চাইলে ধর্মঘটে যেতে পারতেন। এতে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পুরোপুরিভাবে ভেঙে পড়ত। নাগরিক সেবার কথা ভেবে তাঁরা তা করেননি। তবু পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে গড়িমসি করছে। কর্মচারীরা হুঁশিয়ারি দেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে তাঁরা কঠোর আন্দোলনে নামবেন।

পৌরসভার সচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, নতুনবাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলদারদের কারণে কিচেন মার্কেট চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে পৌরসভা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে। কর্মীদের বেতন দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফুটপাত দখল করে কিছু চক্র লুটপাট চালাচ্ছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও জনস্বার্থে পরিচালিত কর্মকাণ্ডে সন্ত্রাসী হামলা বরদাশত করা হবে না। সেই সঙ্গে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

ভোলা পৌরসভার কর্মীদের বিক্ষোভ, ‘সন্ত্রাসীদের ধরে দে, নইলে গাড়ি কিনে দে’ স্লোগান

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
‘দ্বীপজেলা ভোলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে আমি আনন্দিত। গত ক’দিন যাবত ভোলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ। আমি মনে করি ভোলার যেসব সমস্যা রয়েছে বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন, গ্যাস ভিত্তিক শিল্পায়ন ও মূল ভূখন্ডের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আমি সর্বশক্তি দিয়ে ভোলার একজন হয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।’ ভোলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ৬ দিনের মাথায় দৈনিক আজকের ভোলার সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডাঃ শামীম রহমান এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন দৈনিক আজকের ভোলার সম্পাদক মুহাম্মদ শওকাত হোসেন। সাথে ছিলেন, স্টাফ রিপোর্টার মো. বেল্লাল নাফিজ।

প্রশ্ন ছিল ভোলা এসে এই ক’টি দিন থেকে আপনার অনুভূতি কি? তিনি বললেন এর আগে আমি কখনো ভোলায় আসিনি, আসার আগে কিছুটা দ্বিধা সংকোচ থাকলেও ভোলা এসে আমি মুগ্ধ ও সন্তুষ্ট। বিশেষ করে গত পাঁচ দিন ভোলাবাসীর যে আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা আমি দেখেছি তাতে এরা আমার আপনজন হয়ে গেছে। আর আমিও এদের আপনজন হওয়ার জন্য চেষ্টা করছি।

ভোলার কোন সমস্যাগুলো প্রতি আপনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হিসেবে ভোলাবাসীর স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। আমি আমার সময়কালে হাসপাতালের চিকিৎসার মান উন্নয়নসহ সরকারি ও বেসরকারি খাতে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাবো। তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। দ্বীপজেলার ভবিষ্যৎ বংশধরদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদান এবং প্রকৃত শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমার সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করব। তিনি বলেন, প্রকৃতির এক অনন্য অবদান পলিমাটির দেশ ভোলা জেলা। এখানে কুকরী-মুকরী, ঢালচরসহ নদী সাগর বনভূমি কেন্দ্রীক পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ভোলাকে পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো। তিনি আরো বলেন, অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি মূল ভূখন্ডের সাথে ভোলা বরিশাল ব্রিজের বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমার সাধ্যানুযায়ী প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, চারদিকে নদী সাগর বেষ্টিত ভোলায় রয়েছে বিশাল মৎস্য সম্পদ। জেলেদের প্রশিক্ষণসহ মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, রপ্তানি এবং বৃহত্তর বাজারে উপস্থাপনের জন্য আমার আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকবে।

তিনি কিভাবে এসব কাজ করবেন এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক ডাঃ শামীম রহমান বলেন, আমি প্রথমত ভোলার সমস্যাগুলো এবং সামগ্রিক উন্নয়নে আমার কি করণীয় আছে সেটা নির্ধারণ করে নেব। এখন আমি কর্মসূত্রে ভোলার একজন মানুষ।

ভোলাবাসীর একজন হয়েই আমি ভোলার সমস্যা সমূহ সমাধানে আমার সামগ্রিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। এখানকার প্রতিটি মানুষ যাতে তাদের জন্য সরকারের যে সমস্ত সেবা আছে সেই সব সেবা, ন্যায়বিচার এবং প্রশাসনিক সহায়তা পেতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাব। এক কথায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং মানবিক সেবা যাতে সাধারণ মানুষ পেতে পারে সেই লক্ষ্যে আমি প্রচেষ্টা চালাবো।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এখন তাদেরই একজন। ভোলার প্রতিটি মানুষ আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি সকলের সহযোগিতা চাই এবং ভোলার সাংবাদিক নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংস্থাসহ সবাই আমাকে সহযোগিতা করবে এটাই আমার তাদের কাছ থেকে চাওয়া। আমি ভোলার সকল মানুষের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

জেলা প্রশাসক ডাঃ শামীম রহমানের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ

ভোলার নবাগত জেলা প্রশাসক মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলায় ১৯৮৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোঃ বদিয়ার রহমান, মাতা ফিরোজা রহমান। ডাঃ শামীম রহমান ১৯৯৮ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি, ২০০০ সালে নটেরডেম বিজ্ঞান বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি, পরে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএইচ ও পাবলিক এড বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২৯ তম বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ২০১১ সালে সিলেটে প্রভিশনার হিসেবে যোগদান করেন। ম্যাজিস্ট্রেট, এসিল্যান্ড ও ইউএনও হিসেবে তিনি সিলেট ও ময়মনসিংহ জেলার গফরগাও উপজেলায় এবং ডিডিএলজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়সহ সর্বশেষ মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১৮ই নভেম্বর তিনি ভোলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি একজন সদালাপী, ভদ্র ও মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে সকলের কাছে সুপরিচিত।

দ্বীপজেলার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন মৎস্য ও যোগাযোগ উন্নয়নে ভোলার মানুষের পক্ষে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবো—– জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিনিধি [২৭ নভেম্বর, রাত ১২.১৫ মি:] ::

সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষমেশ  বরিশাল নগরীর দক্ষিণ চকবাজারে পুলিশ স্টলের “সোলায়মান সু
হাউজ”র সত্বাধিকারী মোঃ সোলাইমান ফরাজীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন তার সাবেক স্ত্রী মোসা: আখি আক্তার। শেষ রক্ষা হলোনা স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তা গোপন রেখে টানা ৯৯ দিন ঘরসংসার করার পরে স্ত্রী আখিকে নগরীর ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে প্রকাশ্য রাস্তার ওপর ফেলে পেটানো আলোচিত সেই জুতা ব্যবসায়ী সোলাইমানের।
স্ত্রীকে ঘরে রেখেই ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে গোপন করা তালাকের কাগজপত্র উদ্ধার করে গত ২৫ নভেম্বর আখি বাদী হয়ে বরিশালের শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধিত) ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় সোলাইমানকে প্রধান আসামী করে ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এসব অপকর্মে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত অপর আসামীরা হলেন সোলাইমানের বাবা মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজী, মা মোসাঃ পেয়ারা বেগম, বড় ভাই মোঃ লোকমান ফরাজী এবং বোন মোসাঃ আখি বেগম। মামলায় অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় প্রধান আসামী সোলাইমানের বিরুদ্ধে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর স্ত্রী আখি আক্তারকে তালাক দেয়ার পরে ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে তা গোপন রেখে ৬ সেপ্টেম্বর  আখিকে শশুরালয় থেকে লামচরি নিজ বাড়িতে নিয়ে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৯৯ দিন ঘর-সংসার করে সোলাইমান তার বাবা মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজীর মাধ্যমে আবার আখির পিত্রালয়ে পাঠয়ে দেয়। কিন্তু ঘুনাক্ষরেও তালাকে বিষয়টি জানতে পায়নি আখি আক্তার।
ওই আদালতের বিচারক প্রশিক্ষণে বরিশালের বাহিরে অবস্থান করার কারণে আদালতের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আজ বৃহস্পতিবার দীর্ঘ শুনানী শেষে বিজ্ঞ বিচারক মোঃ রকিবুল ইসলাম এমপি নং-৪৮৭/২০২৫ মোকদ্দমাটি বিএমপি কাউনিয়া থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন।
এ ছাড়াও ওই আসামীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় জিআর-২২/২০২৫ (নারী ও শিশু কেস নং-৪৬৮/২০২৫) তদন্তে এবং দ: বি: ৩২৩/৫০৬(২) ধারায় নন এফ.আই.আর প্রসিকিউশন নং-৬৩/২০২৫ (কোতয়ালী) ও দ: বি: ৫০৬(২) ধারায় নন এফ.আই.আর প্রসিকিউশন নং-৬২/২০২৫(কাউনিয়া) মোকদ্দমা বিচারাধীন আছে।
উল্লেখ্য, মোঃ সোলাইমান ফরাজী(৩৫) নগরীর কাউনিয়া থানাধীন চর বাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরী গ্রামের বাসিন্দা মো: ইউসুফ আলী ফরাজী ও মোসা: পেয়ারা বেগম দম্পত্তির পুত্র এবং মোসা: আখি আক্তার(২২) একই ইউনিয়নের চর আবদানীর বাসিন্দা মোঃ আলমগীর হোসেন ও মোসাঃ মিনারা বেগম দম্পত্তির কন্যা।
ঘটনার বিষয়ে জানতে মো: সোলাইমানের মোবাইল ফোনে (01719541613 ও 01919079090 নম্বরে) বারং বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ইতোপূর্বেও এসব ঘটনাবলীর আলোকে অনুসন্ধান টিভিনিউজ-এ গত ১২ আগষ্ট, ৬ অক্টোবর এবং ১২ অক্টোবর তিনটি সবিস্তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বরিশাল নগরীর আলোচিত সেই পাদুকা ব্যবসায়ী সোলাইমানের বিরুদ্ধে অবশেষে ধর্ষণ মামলা দায়ের!

অন্যান্য সংবাদ

রাজশাহী

সিলেট

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের কিশোরী রীমা রানী সরকার (১৫)-কে নিখোঁজের প্রায় ২৪ দিন পর পুলিশ ও র্যাবের সহায়তায় রিমাকে সিলেট থেকে উদ্ধার করেছে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ। এই কাজে জড়িত থাকার অভি
যোগে ভিকটিমের ধর্মান্তরিত আপন মাসিসহ তার
স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী অন্যান্য সংস্থা ও এর সাথে কাজ করেন।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়,গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুর্গাপূজার সপ্তমীর দিনে শ্রীমঙ্গল শহরের আর.কে. মিশন রোড দুর্গা মন্দিরে অঞ্জলী দিতে গিয়ে নিখোঁজ হয় রীমা রানী সরকার। এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা মতিলাল বিশ্বাস বাদী হয়ে কমলগঞ্জ উপজেলার কাঠালকান্দি গ্রামের বদরুল আলম (২৫)সহ তিনজনের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৩০ ধারায় মামলা (নং–০৮, তারিখ: ০৫/১০/২০২৫) রুজু করা হয়। অপহরণের পর থেকেই বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি এবং সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি এর দিকনির্দেশনায়, মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোঃ এম.কে.এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন, পিপিএম-সেবা’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেন।
ঘটনা ক্রমে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি টিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৮ ও ১১ অক্টোবর মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামী বদরুল আলম (২৫) ও শহিদ মিয়া (৩২)-কে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভিকটিম সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় তদন্ত আরও প্রসারিত করা হয়। পরবর্তী তদন্তে ভিকটিমের খালা প্রিয়াংকা সরকারের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তার কল রেকর্ড বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভিকটিমের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
সেই সূত্র ধরে সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানার ধরাধরপুর এলাকায় শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগম ও তার স্বামী মোবারক মিয়া ভিকটিমকে তাদের ভাড়া বাসায় আটক করে রেখেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে আরও প্রকাশ পায় যে, শিল্পী সরকার (ওরফে শিল্পী বেগম) ভিকটিমের আপন খালা (তিনি ধর্মান্তরিত মুসলিম)। প্রায় দুই বছর আগে তিনি মোবারক মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে ধর্মান্তরিত হয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পুলিশের দাবি,ঘটনার দিন তিনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করে অঞ্জলী শেষে ফেরার পথে কিশোরী রীমাকে প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের ধরাধরপুর এলাকায় নিয়ে যায় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখে। এমনকি ঘটনার পর ভিকটিমের মা জড়িত শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগমের সাথে যোগাযোগ করে ভিকটিমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। গতকাল (২৪ অক্টোবর) তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ভিকটিম রীমা রানী সরকারকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগম ও তার স্বামী মোবারক মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রসঙ্গত রিমা রানী সরকারের ঘটনাটি নিখোঁজ নাকি আত্মগোপন না অপহরণ এ বিষয়ে শহর জুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়, অনেকেই অপহরণ দাবি করে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক কিসোর কিশোরীকে যদি কেহ ফুসলিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে গোপন করার চেষ্টা করে তাহলে সেটি অপহরণ হিসেবেই গণ্য হয়। প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটি আরও তদন্তের দাবি সাধারণ জনগণের। এর পিছনে মূল রহস্য কি এবং কেন শুধুমাত্র একটি বিষয়কেই হাইলাইট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কে ভাইরাল করা হয়েছে,যেহেতু শ্রীমঙ্গল থানায় এরূপ আরো হাফ ডজনের ও অধিক নিখোঁজ ও অপহরণ অভিযোগ এই মাস দুয়েকের মধ্যেই হয়েছে। এছাড়া পূর্ব যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের ব্যাপারে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় নেটিজেনরা।বিস্তারিত পরবর্তী সংবাদে নজর রাখুন।
 #শ্রীমঙ্গলের রীমা সিলেট থেকে উদ্ধার:ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আপন খালা ও তার স্বামীকে গ্রেফতার
#সংগ্রহ #শ্রীমঙ্গল

শ্রীমঙ্গলের রীমা রানী সিলেট থেকে উদ্ধার : ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ধর্মান্তরিত আপন মাসী গ্রেফতার

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সাত বছরের শিশু ছোঁয়া মনিকে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শিশুটিকে আছড়ে হত্যা করার দায়ে তার ফুপাতো ভাই মো. মনিরুল ইসলাম জিহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে রায়গঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক মো. ওমর ফারুকের কাছে জিহাদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক রতন জানান, শনিবার সকালে গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে জিহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জিহাদ জানায়, বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে সে তার মামাতো বোন ছোঁয়া মনিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ছোঁয়া মনি বিষয়টি বাবা-মাকে জানিয়ে দেবে বলায়, জিহাদ তাকে প্রতিবেশীর পরিত্যক্ত টয়লেটের ওয়ালের সঙ্গে আছড়ে হত্যা করে। এরপর সে মরদেহ টয়লেটের ভেতরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এসআই নাজমুল বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর জিহাদ অন্যদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ভান করে। এমনকি মসজিদে মাইকিংও করে। পরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর পেয়ে সে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে জিহাদের রক্তমাখা গেঞ্জি ও লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে প্রতিবেশীর একটি ভাঙা ও পরিত্যক্ত টয়লেটের ভেতর থেকে ছোঁয়া মনির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির দাদি মোছা. ফিরোজা বেগম অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর গোয়েন্দা পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়।

 

সিরাজগঞ্জে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশু ছোঁয়াকে হত্যা করে ফুপাতো ভাই

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং স্থানীয় পুলিশি সূত্রে ব্যাপকভাবে আলোচনা হয়েছে, সুনামগঞ্জের এক কিশোরী নিখোঁজ থাকার ঘটনায়। দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান ও সামাজিক সমন্বয়মূলক প্রচেষ্টার পর অবশেষে ওই কিশোরীর খোঁজ পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিশোরী স্বধর্মের একটিছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। তবে স্থানীয়রা এবং পরিবার সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর বয়স মাত্র ১৫ বছর, যা আইনগতভাবে তাকে নাবালিকা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করে। এত অল্প বয়সে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সামাজিক ও আইনগতভাবে উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

স্থানীয় পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কিশোরীর নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করেছি এবং তার পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এটি কেবল পরিবারের নয়, সমাজেরও একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।”

পুলিশ এবং সমাজকর্মীরা কিশোরী এবং তার পরিবারের সঙ্গে মানসিক সহায়তা এবং পরামর্শ প্রদান করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নাবালিকা কিশোরীদের এমন পরিস্থিতি সামাজিক শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবের প্রতিফলন, যা নিয়মিত মনিটরিং এবং পরিবারিক সহায়তার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।

অবশেষে খোঁজ মিলেছে নিখোঁজ কিশোরীর : প্রেমের টানে স্বধর্মের ছেলেকে বিয়ে!

ডেস্ক রিপোর্ট ::

স্নেহা চক্রবর্তী। সুনামগঞ্জ সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি-দুই পরীক্ষাতেই জিপিএ ৫। শত প্রতিকূলতার মাঝেও দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে গিয়েছিল মেয়েটি। স্বপ্ন ছিলো বড় হয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চলতি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয় সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে।
আজ ছিল তার জীবনের একটি নতুন সূচনার দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ক্লাস। গতকাল সকালে বাবার হাত ধরে প্রথমবার পা রাখে স্বপ্নের প্রাঙ্গণে। বাবা বিপুল চক্রবর্তী, শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। চোখে আনন্দের অশ্রু আর গর্ব ভরে মেয়েকে নিয়ে যান ভর্তি করাতে। মেয়ে ভর্তি হলো, ভর্তির কাজ শেষে বিকেলের দিকে বাবার বুক জড়িয়ে ধরে বাড়ির পথে রওনা দেয় স্নেহা। বাবা নিজে তাকে তুলে দেন সিএনজিচালিত অটোরিকশায়। কে জানত, সেই শেষ বিদায়টা হবে এতটা চিরন্তন, এতই নির্মম! পথেই বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে থেমে যায় একটি সম্ভাবনাময় প্রাণ। স্নেহা আর বাড়ি ফিরে আসেনি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মা জ্যোতি চক্রবর্তী আর ছোট ভাই সূর্য চক্রবর্তী ছুটে যান হাসপাতালে। মেয়ের নিথর শরীর দেখে ছটফট করতে করতে জ্ঞান হারান মা। ছোট ভাই সূর্য যেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না, শুধু বড় বোন স্নেহার লাশের দিকে তাকিয়ে থাকে! এটা তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। একে একে পরিবারের নিকটজনরা হাসপাতালে আসতে থাকে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তখন কেবল কান্না আর আহাজারি! একটি পরিবার ভেঙে চুরমার হয়ে গেল মুহূর্তে।
একটি স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস এভাবেই নিরবে লেখা হলো আজ। স্নেহা চক্রবর্তী আর নেই। থেকে গেলো তার অসমাপ্ত স্বপ্ন, বাবার চোখের জল, মায়ের বুকভাঙা কান্না আর ভাইয়ের অজস্র প্রশ্ন,”দিদিগো, তুমি কোথায় গেলে?”
আমরা স্নেহার আত্মার শান্তি কামনা করছি, অনন্তলোকে ভালো থাকুক মেয়েটি। ওঁ দিব্যান্ লোকান্ স গচ্ছতু।।

স্বপ্নার স্বপ্নীল স্বপ্ন ভেঙ্গে চূড়মার : একটি পরিবার ধ্বংসস্তূপে পরিনত

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
সিলেট মহানগরের শামীমাবাদে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।  পুলিশের বিরুদ্ধেও অসহযোগীতার অভিযোগ করেছে ওই পরিবার।
 রোববার (৩ আগস্ট) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন শামীমাবাদ এলাকার ১৮৩ নং বাসার বাসিন্দা ও এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার গীতা রানী হালদারের মেয়ে পুজা মন্ডল।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান তার বাবা তপুন কুমার মন্ডল কাজল প্রবাসে থাকেন। মা গীতা রানী স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে শামীমাবাদের বাসায় থাকেন। ২০১৩ সালে শামীমাবাদ এলাকায় ৪ শতক জায়গা ক্রয় করে সেখানে বাসা নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন গীতা রানী। বাসা নির্মাণের সময় এবং পরবর্তীতে কোনো ঝামেলার শিকার হননি। তবে চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করে একটি চক্র তাদেরকে হয়রানি শুরু করে। তার বাসার লাগোয়া প্লটের মালিক সোহেল বেগ এবং তার সহযোগী রজব আলী, আব্দুল মুমিন, ইমরান আহমদ, শাহান আহমদ, কামরান আহমদ, আঙ্গুর মিয়া, ফকির আলী, রাসেল আহমদ, সুমান আহমদ ও রাব্বিসহ আরও বেশ কয়েকজন এই উৎপাত শুরু করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সোহেল বেগের দাবি তার জায়গায় গীতা রানীদের বাসা। কিন্তু এর সপক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সোহেল বেগ। তারপরও গীতা রানী বলেন, প্রবাসী স্বামী দেশে আসলে এ বিষয়ে দুপক্ষ আলোচনায় বসবেন। সোহেল তার কথায় কর্ণপাত না করে গীতা রানীকে নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন এবং ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পূজা মন্ডলের অভিযোগ, মূলত চাঁদা আদায় করাই এই চক্রের আসল উদ্দেশ্য।
গীতা রানীর মেয়ে বক্তব্যে আরও বলেন, চাঁদা না দেয়ায় গত ২৮ জুলাই মধ্যরাতে সোহেল বেগ তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তার বাউন্ডারি দেওয়াল গুড়িয়ে দেন এবং বাসায় হামলা ও ভাঙচুর চালান। বাসার সিসিটিভি ক্যামেরাও ভাঙচুর করেন। এসময় গীতা রানী হাসপাতালে ডিউটিতে ছিলেন, বাসায় ছিলেন তার দুই ছেলে-মেয়ে। তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ যাওয়ার আগে হামলাকারীরা গীতা রানীর ছেলে-মেয়ে ও তাকে প্রাণে হত্যা করার হুমকি দিয়ে যায়।
 এ ঘটনার পর গীতা রানী সিলেট কোতোয়ালি থানায় এজাহার দায়ের করলেও পুলিশ মামলা রেকর্ড করেন নি। পরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ দিলেও মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ। পুলিশের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে অবশেষে বাধ্য হয়ে গীতা রানী আদালতের দ্বারস্থ হয়ে দুটি মামলার আবেদন করেছেন।

সিলেটে সংখ্যালঘু পরিবারকে হয়রানী : সহযোগিতা করেনি পুলিশ

অন্যান্য সংবাদ

রংপুর

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার হামিন্দপুর কামারপাড়া এলাকায় আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে তৈরি করা প্রতিমায় আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রতিমার বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে হামিন্দপুর সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও এর আগেই প্রতিমাগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মন্দির নিয়ে ক্যাশিয়ার কার্তিক চন্দ্রের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত শনিবার দুপুরে তিনি মন্দিরের প্রধান দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। বাধ্য হয়ে মন্দিরের দক্ষিণ পাশে খোলা আকাশের নিচে পূজার প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন কারিগররা। গত ৫/৬ দিনে তারা বাঁশ ও খড় দিয়ে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশসহ প্রতিমার নানা সরঞ্জাম তৈরি করেন। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা হঠাৎ প্রতিমাগুলোতে আগুন দিলে মুহূর্তেই সব পুড়ে যায়।
মন্দির কমিটির সাবেক সভাপতি অনুকূল চন্দ্র রনু বলেন, ‘মন্দির নিয়ে সামাজিক বিরোধের কারণে আমরা ৮-১০টি পরিবার মন্দিরের পাশে ছাপরা ঘর তুলে পূজার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিই। সে অনুযায়ী প্রতিমা তৈরির কাজ চলছিল। কিন্তু শত্রুতার আগুনে সব পুড়ে গেছে। পরিকল্পিতভাবে প্রতিমায় আগুন দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কার্তিক চন্দ্রের সম্পৃক্ততা আছে।’
মন্দিরের পাশের বাসিন্দা টুলু বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বিরোধ এর আগেও কয়েকবার বসে সমাধান হয়েছিল। কিন্তু কার্তিক চন্দ্র জোরপূর্বক মন্দিরে সমাজের লোকজনের প্রবেশে বাধা দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। প্রতিমা পুড়ে যাওয়ায় এবার দুর্গাপূজা নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানাই।’
এদিকে, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজউদ্দীন খন্দকার এবং সাদুল্লাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাত চন্দ্র অধিকারী। তারা প্রতিমাগুলো দেখে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলেন।
এ বিষয়ে ওসি তাজউদ্দীন খন্দকার বলেন, ‘রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা প্রতিমায় আগুন দিয়েছে। গুরুত্ব  সহকারে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া বিরোধ সমাধানে উভয়পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে।’
সাদুল্লাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাত চন্দ্র অধিকারী বলেন, ‘এই মন্দির নিয়ে কার্তিক চন্দ্রের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি আমরা এর আগেও থানায় বসে সমাধান করেছি। কিন্তু আবারও দ্বন্দ্ব চলছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য বসার কথা ছিল। তার আগেই প্রতিমায় আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুতই উভয়কে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করবো।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে বারবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি মন্দিরের ক্যাশিয়ার কার্তিক চন্দ্রকে। রাতে তার বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও কোনও সাড়া মেলেনি।
[তথ্যসূত্র: সনাতন টিভি]

মন্দির কমিটির অন্তর্দ্বন্দের শিকার স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় : গাইবান্ধায় রাতের আঁধারে দূর্গা প্রতিমায় দুর্বৃত্তের আগুন

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ১০ মাস ধরে আটকে রেখে ১২ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে সৎ বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা সহায়তা করেছে বলে জানা গেছে। তাদের দুজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম। এর আগে শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগীর মামা বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

আসামিরা হলেন, উপজেলার নিতাই পানিয়ালপুকুর গাংবের এলাকার আসাদুল মিস্ত্রির ছেলে রশিদুল ইসলাম (৪০) ও তার স্ত্রী আঁখি আক্তার নাসরিন (২৮)।

মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর মা চার বছর আগে প্রথম স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে দুই সন্তানসহ রশিদুল ইসলামকে বিয়ে করেন। তাকে বিয়ে করার পর রশিদুলের প্রথম স্ত্রী থাকার কারণে নাসরিনকে সন্তানসহ উপজেলা ব্র্যাক অফিসের পাশে ভাড়া বাসায় রাখতেন। পরে রশিদুল তার স্ত্রী নাসরিনের ১২ বছরের মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে সে রাজি না হওয়ার কারণে তার মাসহ তাকে মারধর করেন। পরে জোরপূর্বক ১০ মাস ধরে ভুক্তভোগীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে আসছে। এতে ভুক্তভোগী দুই মাসের গর্ভবতী হলে তার গর্ভপাত করাতে ওষুধ সেবন করালে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর আবারও ধর্ষণ করেন রশিদুল ইসলাম।

শুক্রবার ভুক্তভোগীর মামার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। এসময় ভুক্তভোগী তার মামাকে সবকিছু খুলে বললে তিনি থানায় এসে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করেন।

ভুক্তভোগীর মামা ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার ভাগ্নিকে ১০ মাস ধরে আটকে রেখে তার মায়ের সহায়তায় সৎ বাবা ধর্ষণ করে আসছে। ৫ মাস আগে সে গর্ভধারণ করলে তাকে ওষুধ সেবন করিয়ে গর্ভপাত করা হয়। আমরা চাই দোষীরা যেন বিচারের মুখোমুখি হয়।

কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, মায়ের সহায়তায় সৎ বাবা এক শিশুকে ১০ মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

সৎ বাবার ধর্ষণের শিকার কিশোরী : সহযোগিতা করেছে মা! 

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
❝ রংপুরের তারাগঞ্জ বাজার। ফুটপাতে ছোট্ট কাঠের চৌকিতে বসে জুতা সেলাই করছে ১৪ বছরের জয় রবিদাস। পাশে যন্ত্রপাতি, সামনে কয়েক জোড়া জুতা। এখানেই বারো বছর ধরে বসতেন তার বাবা রূপলাল রবিদাস। গত ৯ আগস্ট মব সন্ত্রাসে বাবার মৃত্যুর পর সেই শূন্য আসনে বসতে হয়েছে ছেলেকে।
জয় ছিল তারাগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। বাবাকে হারিয়ে সেই স্বপ্ন থেমে গেছে তার। সংসারের ভার কাঁধে নিয়ে বাধ্য হয়ে নামতে হয়েছে পৈতৃক পেশায়।
শুক্রবার সকালে জয়কে দেখা যায় বাজারের ফুটপাতে বসে জুতা সেলাই করতে।
জয়ের মা মালতি রানী রবিদাস বলেন, ‘সংসারে আর
কোনো পুরুষ নেই, জয়-ই এখন ভরসা। কতটুকু আয় করতে পারবে জানি না, তবে সেই আয়ে আমাদের কোনোভাবে বাঁচতে হবে। ছেলেটাকে স্কুলে পাঠাতে না পেরে বুক ফেটে যাচ্ছে। কিছু মানুষ আমাদের সুখ-শান্তি চিরদিনের জন্য কেড়ে নিয়েছে।’
রূপলালের বড় মেয়ে নুপুর রবিদাস বলেন, ‘বাবা বেঁচে থাকলে ছোট ভাইকে স্কুল ছেড়ে ফুটপাতে জুতা সেলাইয়ের কাজ করতে হতো না। ছোট ভাইয়ের রোজগারে সংসার চলছে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় দুঃখ। যদি উপায় থাকতো তাহলে জয়কে কাজ করতে যেতে দিতাম না।’ ❞
❝ গত ৯ আগস্ট রাতে রূপলাল রবিদাস (৪৮) ও তার ভাগ্নিজামাই প্রদীপ লাল রবিদাস (৪৭) ব্যাটারিচালিত ভ্যানে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তারাগঞ্জের সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলায় তাদের ভ্যানচোর সন্দেহে আটক করে স্থানীয়রা। কিছু সময়ের মধ্যেই মব গড়ে ওঠে এবং পিটিয়ে হত্যা করা হয় দুজনকে।❞
মহাজন ভালো আছেন। তার মেধাবী ছাত্ররা এখন কোটিপতি। হাঁস খায় পাঁচ তারকা হোটেলে। চলাচলের জন্য বিমান হেলিকপ্টার আছে। বিশ্রামের জন্য চীন আমেরিকা কক্সবাজারের পাঁচ তারকা হোটল আছে। আর জনগণ ভাতের অভাবে ফুটপাতে নেমে এসেছে।
[সৌজন্য: স্টার বাংলা]

মহাজনের মবের মুল্লুকে জয়ের পরাজয়! 

অনুসন্ধান ডেস্ক::
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ইউএনও’র নির্দেশে বলিদ্বারা দূর্গাপূজা মন্দিরের জায়গা দখলের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ( ৩১ জুলাই) উপজেলা পরিষদ চত্বরে পূজারিরা এ বিক্ষোভ করেছেন।
মন্দির কমিটি সূত্রে জানা যায়, বলিদ্বারা বাজার সংলগ্ন ১৬ শতাংশ জমির ওপর দূর্গাপূজা মন্দির রয়েছে। সেখানে বিগত সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূর্জা অর্চনা করে আসছেন। ওই জমির ওপর হঠাৎ ললুপ দৃষ্ঠি পড়ে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহি অফিসার সাফিউল মাজলুবিন রহমানের। তিনি গত বুধবার মন্দিরে উপস্থিত হয়ে ২ ঘন্টার মধ্যে সফিকুল নামের এক জনকে মন্দিরের জায়গা ছেড়ে দিতে বলেন। নতুবা মন্দিরের লোককে এরেস্ট করে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন।
এঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ফুঁসে উঠলে বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে ইউএন’ও বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় ইউএনও পূর্জা কমিটির লোকজনকে শান্ত হতে বলেন এবং বিকেলের মধ্যেই জমি সার্ভে করার কথা ঘোষণা দেন।
এ প্রসঙ্গে পূর্জা কমিটির সভাপতি সেবুলাল রায় বলেন, ‘বলিদ্বারা এলাকার রহমান আলী’র ছেলে সফিকুল ইসলামের মন্দিরের পিছনে বাড়ি করার কথা। এজন্য ইউএনও মন্দিরে এসে লোকজন দিয়ে বেড়া খুলে দেন এবং পূজা অর্চনার কাজে ব্যবহৃত কলা গাছ গুলো কেটে দেন। যা মোটেও কাম্য নয়। পরদিন এজন্য আমরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করি’।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শাফিউল মাজলুবিন রহমান মুঠোফোনে বলেন, সরেজমিনে গিয়ে মন্দিরের ১৬ শতাংশ মেপে দেয়া হয়েছে। এসময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ছিল, ওসি ছিল, আমি ছিলাম। সেখানে আর রাস্তা বের হবে না মনে হয়।
[তথ্যসূত্র: সনাতন টিভি]

ঠাকুরগাঁও ইউএনও’র নির্দেশে মন্দিরের জায়গা দখল : পূজারিদের বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট ::
হিন্দুদের বাড়িতে হামলার বিষয়ে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে গালমন্দ ও হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই দুই সাংবাদিক হলেন, প্রথম আলোর রংপুরের নিজস্ব প্রতিবেদক জহির রায়হান ও কালবেলার রংপুর প্রতিনিধি রেজওয়ান রনি।
রেজওয়ান রনি বলেন, ‘হামলার ঘটনার অনুসন্ধানে নেমে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা জানতে পারি, রোববার সকাল থেকে কিশোরগঞ্জের মাগুরা ইউনিয়নে মাইকিং করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। দুপুর ২টার দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকশ মানুষ ঘটনাস্থলের এক কিলোমিটার দূরে বাংলাবাজারে জড়ো হন। ওই দিন কিশোরগঞ্জ থানা থেকে বাংলাবাজারে চার-পাঁচ পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। উত্তেজিত জনতা বালাপাড়ায় হিন্দুপল্লির দিকে এগোলে তারা বাঁধা দেননি, বরং পেছনে ছিলেন।’
রনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কথা বলতে থানায় গেলে ওসি আশরাফুল ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের গালাগাল করেন। তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন এসআই মহসীন। কিন্তু ওসি তাঁকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ওদের ধরেন। ফাজলামো করলে পিটিয়ে সোজা করে দেব। এরপর আমাদের থানা থেকে সরিয়ে নেন এসআই।’
এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক বলেন, ওসি আশরাফুলকে প্রত্যাহার করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা না করলে সাংবাদিকরা আন্দোলনে যাবেন।
তথ্যসূত্র: সমকাল

গঙ্গাচড়া হিন্দু পল্লীতে হামলার বিষয়ে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে হুমকি : ওসি প্রদীপ’র ভূমিকায় আশরাফুল

অন্যান্য সংবাদ

ডেস্ক রিপোর্ট ::

সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষমেশ  বরিশাল নগরীর দক্ষিণ চকবাজারে পুলিশ স্টলের “সোলায়মান সু হাউজ”র সত্বাধিকারী মোঃ সোলাইমান ফরাজীর বিরুদ্ধেধর্ষণ মামলা করেছেন তার সাবেক স্ত্রী মোসা: আখি আক্তার। শেষ রক্ষা হলোনা স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তা গোপন রেখে টানা ৯৯ দিন ঘরসংসার করার পরে স্ত্রী আখিকে নগরীর ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে প্রকাশ্য রাস্তার ওপর ফেলে পেটানো আলোচিত সেই জুতা ব্যবসায়ী সোলাইমানের। অবশেষে ধর্ষণের অভিযোগে মামলার মূল আসামী সোলাইমান এবং এসব অপকর্মে সরাসরি সহযোগিতায় যুক্ত থাকার কারণে সোলাইমানের বড় ভাই লোকমান ফরাজীকে আজ রোববার রাত ৯ টায় নগরীর দক্ষিণ চকবাজারস্থ নিজ নিজ দোকান থেকে কাউনিয়া থানার এসআই উজ্জল’র নেতৃত্বে একদল পুলিশ গ্রেফতার করে।

এসময়ে আসামীদের লালিত সন্ত্রাসীরা হ্যান্ডকাপসহ আসামীদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে সহিংস আক্রমণে পুলিশের সাথে থাকা বাদীর মামা ফয়সাল (৩০) মারাত্মক

জখম আঘাতপ্রাপ্ত হন। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বেও গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর সোলাইমান ফরাজী আখি আক্তারকে ফায়ার সার্ভিসের সামনে রাস্তার ওপর ফেলে প্রকাশ্যে লাথি ঘুষি মেরে মারাত্মক জখম করলে বিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ের সহকারী পুলিশ কমিশনার প্রনয় রায় গাড়ী

থামিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় আখিকে উদ্ধার করে লঞ্চঘাট ফাঁড়ির এসআই মাহবুবের মাধ্যমে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে কোতয়ালী থানায় সোপর্দ করেন। এ সময়ে লোকমান ফরাজী কতিপয় সন্ত্রাসী নিয়ে থানায় উপস্থিত হয়ে থানা ঘেরাও করার হুমকি দিলে পুলিশ ভয়ে আসমীর হ্যান্ডকাপ খুলে দিয়ে মামলা না নিয়ে ১৬৯৮ ম্বর জিডি করে।

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, স্ত্রীকে ঘরে রেখেই ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে গোপন করা তালাকের কাগজপত্র উদ্ধার করে গত ২৫ নভেম্বর আখি বাদী হয়ে বরিশালের শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধিত) ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় সোলাইমানকে প্রধান আসামী করে ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এসব অপকর্মে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত অপর আসামীরা হলেন সোলাইমানের বাবা মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজী, মা মোসাঃ পেয়ারা বেগম, বড় ভাই মোঃ লোকমান ফরাজী এবং বোন মোসাঃ আখি বেগম। মামলায় অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় প্রধান আসামী সোলাইমানের বিরুদ্ধে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর স্ত্রী আখি আক্তারকে তালাক দেয়ার পরে ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে তা গোপন রেখে ৬ সেপ্টেম্বর  আখিকে শশুরালয় থেকে লামচরি নিজ বাড়িতে নিয়ে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৯৯ দিন ঘর-সংসার করে সোলাইমান তার বাবা মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজীর মাধ্যমে আবার আখির পিত্রালয়ে পাঠয়ে দেয়। কিন্তু ঘুনাক্ষরেও তালাকে বিষয়টি জানতে পায়নি আখি আক্তার।
ওই আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ রকিবুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) দীর্ঘ শুনানী শেষে এমপি নং-৪৮৭/২০২৫ মোকদ্দমাটি বিএমপি কাউনিয়া থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন।
এ ছাড়াও ওই আসামীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় জিআর-২২/২০২৫ (নারী ও শিশু কেস নং-৪৬৮/২০২৫) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ-হেল-মাফি’র তদন্তাদীন এবং দ: বি: ৩২৩/৫০৬(২) ধারায় নন এফ.আই.আর প্রসিকিউশন নং-৬৩/২০২৫ (কোতয়ালী) ও ৫০৬(২) ধারায় নন এফ.আই.আর প্রসিকিউশন নং-৬২/২০২৫ (কাউনিয়া) মোকদ্দমা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন আছে।
উল্লেখ্য, গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ সোলাইমান ফরাজী(৩৬) ও মোঃ লোকমান ফরাজী(৩৮) নগরীর কাউনিয়া থানাধীন চর বাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরী গ্রামের বাসিন্দা মো: ইউসুফ আলী ফরাজী ও মোসা: পেয়ারা বেগম দম্পত্তির পুত্র এবং মোসা: আখি আক্তার(২২) একই ইউনিয়নের চর আবদানীর বাসিন্দা মোঃ আলমগীর হোসেন ও মোসাঃ মিনারা বেগম দম্পত্তির কন্যা।
ইতোপূর্বেও এসব ঘটনার আলোকে অনুসন্ধান টিভিনিউজ-এ গত ১২ আগষ্ট, ৬ অক্টোবর, ১২ অক্টোবর এবং ২৭ নভেম্বর চারটি সবিস্তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বরিশাল নগরীর আলোচিত সেই পাদুকা ব্যবসায়ী সোলাইমানসহ পরিবারের ৫ জনের বিরুদ্ধে অবশেষে ধর্ষণ মামলা! গ্রেফতার ২ : হামলায় আহত ১

বিশেষ প্রতিনিধি ::

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-কাজীরহাট) আসনকে ঘিরে ক্রমশ বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। তরুণদের মাঝে যেমন বিএনপির প্রার্থী রাজিব আহসানকে নিয়ে ব্যাপক সাড়া পরেছে।
তেমনি প্রবীণরা ঝুঁকছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আব্দুল জব্বারের পক্ষে।
গত কয়েকদিন থেকে ওই আসনে নির্বাচনী উত্তাপ এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে তাতে স্পষ্ট করেই বোঝা যাচ্ছে এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে হতে যাচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই।
অপরদিকে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ এছাহাক মো. আবুল খায়ের। তার এই আসনে দলীয় কিছু রিজার্ভ ভোট রয়েছে। তবে তিনি প্রার্থী হওয়ার পর থেকে এলাকায় এখনও উল্লেখযোগ্য কোনো তৎপরতা শুরু করেননি।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপির মধ্যে কিছুটা বিভাজন রয়েছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও একাধিক গ্রুপিং থাকায় ধানের শীষ মার্কার প্রার্থীর জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। যদিও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসান তরুণ নেতৃত্ব দিয়ে এই বিভাজন কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন।
অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় জনভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী। যা জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। গোবিন্দপুর ইউনিয়নে উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মরহুম মাওলানা আবুল হাসেম পাঁচবার এবং হিজলার বড়জালিয়া ইউনিয়ন ও অবিভক্ত উলানিয়া ইউনিয়নে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা অতীতে একাধিকবার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
জামায়াতের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগের মধ্যে বরিশাল-৪ আসনে তাদের সাংগঠনিক ভীত খুবই মজবুত। এখানকার প্রার্থী বরিশাল জেলা জামায়াতের আমীর হওয়ায় তাকে শক্ত প্রার্থী হিসেবেই দেখছেন সাধারণ ভোটাররা।
ইতোমধ্যে তিনি প্রান্তিক জনপদে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষকদের সমস্যা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার সমস্যা সবকিছু অবগত হয়ে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।
এলাকার সাধারণ ভোটাররা বলছেন, বহুবছর যাবতই প্রার্থী আব্দুল জব্বার নিবিড়ভাবে মানুষের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে মতবিনিময় করে তাদের সবার মতামত গ্রহন করছেন। তিনি অত্র অঞ্চলে ছাত্রজীবন থেকে সাংগঠনিক দায়িত্বপালনের সুবাধে এলাকাবাসীর সাথে তার একটি নিবিড় বন্ধন রয়েছে।
এ অবস্থায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী যদি জোটবদ্ধ হয়ে আব্দুল জব্বারকে সমর্থন জানায় তাহলে ভোটের দৃশ্যপট পাল্টে যাবে। ইসলামী জোটের পক্ষ থেকে মাওলানা আব্দুল জব্বারকে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হলে তিনি সম্মিলিতভাবে একটি বিশাল জনসমর্থন নিয়ে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একাধিক কর্মীরা বলেন, এটা অত্যন্ত বাস্তব যে বরিশাল-৪ আসনে আমাদের চেয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। তাই জাতীয় স্বার্থে এই আসনটি আব্দুল জব্বারকে দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে ইসলামী জোটের বিজয়ী হতে তেমন কোন বেগ পেতে হবেনা। আবার একইভাবে যেসব আসনে হাতপাখা প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছে সেগুলোও ছেড়ে দেওয়া উচিৎ।
এসব বিষয়ে কোন প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি না হলেও নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানিয়েছেন-সময় অনুযায়ী সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন।
এ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসান দিন-রাত সমান তালে নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ, পথসভা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছেন।

হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বিএনপি-জামায়াত

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

ভোলা পৌরসভার কর্মচারীদের ওপর হামলা ও তিনটি ডাম্প ট্রাক পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার এক মাস পরও আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি। এর প্রতিবাদে পৌরসভার কর্মচারীরা বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ভোলা প্রেসক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। পরে তাঁরা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন।

পৌরসভার কর্মচারীরা সকালে মিছিল নিয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কর্মচারীদের অনেকেই স্লোগান দেন, ‘সন্ত্রাসীদের ধরে দে, নইলে গাড়ি কিনে দে।’

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন পৌরসভা কর্মচারী ফেডারেশনের উপদেষ্টা সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদসহ অনেকে। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে দ্রুত আসামি গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, ২৫ অক্টোবর ভোলা পৌরসভার নতুনবাজার এলাকায় পৌর কর্তৃপক্ষের ৩১ শতাংশ জমি দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ওই সময় দুলাল নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত পৌরসভার কর্মচারী ও তিনটি গার্বেজ ট্রাকের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে ট্রাকগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয় এবং একাধিক কর্মী আহত হন। পরদিন ভোলা মডেল থানায় দুলালসহ ২৪ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। তবে এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।

পৌরসভার কর্মচারীরা জানান, তাঁরা চাইলে ধর্মঘটে যেতে পারতেন। এতে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পুরোপুরিভাবে ভেঙে পড়ত। নাগরিক সেবার কথা ভেবে তাঁরা তা করেননি। তবু পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে গড়িমসি করছে। কর্মচারীরা হুঁশিয়ারি দেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না হলে তাঁরা কঠোর আন্দোলনে নামবেন।

পৌরসভার সচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, নতুনবাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলদারদের কারণে কিচেন মার্কেট চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে পৌরসভা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছে। কর্মীদের বেতন দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফুটপাত দখল করে কিছু চক্র লুটপাট চালাচ্ছে। অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও জনস্বার্থে পরিচালিত কর্মকাণ্ডে সন্ত্রাসী হামলা বরদাশত করা হবে না। সেই সঙ্গে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে হবে।

ভোলা পৌরসভার কর্মীদের বিক্ষোভ, ‘সন্ত্রাসীদের ধরে দে, নইলে গাড়ি কিনে দে’ স্লোগান

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
‘দ্বীপজেলা ভোলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে আমি আনন্দিত। গত ক’দিন যাবত ভোলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ। আমি মনে করি ভোলার যেসব সমস্যা রয়েছে বিশেষ করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন, গ্যাস ভিত্তিক শিল্পায়ন ও মূল ভূখন্ডের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আমি সর্বশক্তি দিয়ে ভোলার একজন হয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।’ ভোলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের ৬ দিনের মাথায় দৈনিক আজকের ভোলার সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ডাঃ শামীম রহমান এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন দৈনিক আজকের ভোলার সম্পাদক মুহাম্মদ শওকাত হোসেন। সাথে ছিলেন, স্টাফ রিপোর্টার মো. বেল্লাল নাফিজ।

প্রশ্ন ছিল ভোলা এসে এই ক’টি দিন থেকে আপনার অনুভূতি কি? তিনি বললেন এর আগে আমি কখনো ভোলায় আসিনি, আসার আগে কিছুটা দ্বিধা সংকোচ থাকলেও ভোলা এসে আমি মুগ্ধ ও সন্তুষ্ট। বিশেষ করে গত পাঁচ দিন ভোলাবাসীর যে আন্তরিকতা ও আতিথেয়তা আমি দেখেছি তাতে এরা আমার আপনজন হয়ে গেছে। আর আমিও এদের আপনজন হওয়ার জন্য চেষ্টা করছি।

ভোলার কোন সমস্যাগুলো প্রতি আপনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হিসেবে ভোলাবাসীর স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। আমি আমার সময়কালে হাসপাতালের চিকিৎসার মান উন্নয়নসহ সরকারি ও বেসরকারি খাতে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাবো। তিনি বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন। দ্বীপজেলার ভবিষ্যৎ বংশধরদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদান এবং প্রকৃত শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আমার সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করব। তিনি বলেন, প্রকৃতির এক অনন্য অবদান পলিমাটির দেশ ভোলা জেলা। এখানে কুকরী-মুকরী, ঢালচরসহ নদী সাগর বনভূমি কেন্দ্রীক পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। ভোলাকে পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো। তিনি আরো বলেন, অভ্যন্তরীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি মূল ভূখন্ডের সাথে ভোলা বরিশাল ব্রিজের বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমার সাধ্যানুযায়ী প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, চারদিকে নদী সাগর বেষ্টিত ভোলায় রয়েছে বিশাল মৎস্য সম্পদ। জেলেদের প্রশিক্ষণসহ মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, রপ্তানি এবং বৃহত্তর বাজারে উপস্থাপনের জন্য আমার আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকবে।

তিনি কিভাবে এসব কাজ করবেন এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক ডাঃ শামীম রহমান বলেন, আমি প্রথমত ভোলার সমস্যাগুলো এবং সামগ্রিক উন্নয়নে আমার কি করণীয় আছে সেটা নির্ধারণ করে নেব। এখন আমি কর্মসূত্রে ভোলার একজন মানুষ।

ভোলাবাসীর একজন হয়েই আমি ভোলার সমস্যা সমূহ সমাধানে আমার সামগ্রিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব। এখানকার প্রতিটি মানুষ যাতে তাদের জন্য সরকারের যে সমস্ত সেবা আছে সেই সব সেবা, ন্যায়বিচার এবং প্রশাসনিক সহায়তা পেতে পারে সে লক্ষ্যে কাজ করে যাব। এক কথায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং মানবিক সেবা যাতে সাধারণ মানুষ পেতে পারে সেই লক্ষ্যে আমি প্রচেষ্টা চালাবো।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি এখন তাদেরই একজন। ভোলার প্রতিটি মানুষ আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি সকলের সহযোগিতা চাই এবং ভোলার সাংবাদিক নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংস্থাসহ সবাই আমাকে সহযোগিতা করবে এটাই আমার তাদের কাছ থেকে চাওয়া। আমি ভোলার সকল মানুষের প্রতি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

জেলা প্রশাসক ডাঃ শামীম রহমানের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ঃ

ভোলার নবাগত জেলা প্রশাসক মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলায় ১৯৮৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোঃ বদিয়ার রহমান, মাতা ফিরোজা রহমান। ডাঃ শামীম রহমান ১৯৯৮ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি, ২০০০ সালে নটেরডেম বিজ্ঞান বিভাগ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এইচএসসি, পরে সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএইচ ও পাবলিক এড বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২৯ তম বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে ২০১১ সালে সিলেটে প্রভিশনার হিসেবে যোগদান করেন। ম্যাজিস্ট্রেট, এসিল্যান্ড ও ইউএনও হিসেবে তিনি সিলেট ও ময়মনসিংহ জেলার গফরগাও উপজেলায় এবং ডিডিএলজি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়সহ সর্বশেষ মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ১৮ই নভেম্বর তিনি ভোলার জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি একজন সদালাপী, ভদ্র ও মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবে সকলের কাছে সুপরিচিত।

দ্বীপজেলার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পর্যটন মৎস্য ও যোগাযোগ উন্নয়নে ভোলার মানুষের পক্ষে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবো—– জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিনিধি [২৭ নভেম্বর, রাত ১২.১৫ মি:] ::

সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষমেশ  বরিশাল নগরীর দক্ষিণ চকবাজারে পুলিশ স্টলের “সোলায়মান সু
হাউজ”র সত্বাধিকারী মোঃ সোলাইমান ফরাজীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন তার সাবেক স্ত্রী মোসা: আখি আক্তার। শেষ রক্ষা হলোনা স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তা গোপন রেখে টানা ৯৯ দিন ঘরসংসার করার পরে স্ত্রী আখিকে নগরীর ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে প্রকাশ্য রাস্তার ওপর ফেলে পেটানো আলোচিত সেই জুতা ব্যবসায়ী সোলাইমানের।
স্ত্রীকে ঘরে রেখেই ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে গোপন করা তালাকের কাগজপত্র উদ্ধার করে গত ২৫ নভেম্বর আখি বাদী হয়ে বরিশালের শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধিত) ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় সোলাইমানকে প্রধান আসামী করে ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এসব অপকর্মে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত অপর আসামীরা হলেন সোলাইমানের বাবা মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজী, মা মোসাঃ পেয়ারা বেগম, বড় ভাই মোঃ লোকমান ফরাজী এবং বোন মোসাঃ আখি বেগম। মামলায় অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় প্রধান আসামী সোলাইমানের বিরুদ্ধে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর স্ত্রী আখি আক্তারকে তালাক দেয়ার পরে ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে তা গোপন রেখে ৬ সেপ্টেম্বর  আখিকে শশুরালয় থেকে লামচরি নিজ বাড়িতে নিয়ে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৯৯ দিন ঘর-সংসার করে সোলাইমান তার বাবা মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজীর মাধ্যমে আবার আখির পিত্রালয়ে পাঠয়ে দেয়। কিন্তু ঘুনাক্ষরেও তালাকে বিষয়টি জানতে পায়নি আখি আক্তার।
ওই আদালতের বিচারক প্রশিক্ষণে বরিশালের বাহিরে অবস্থান করার কারণে আদালতের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আজ বৃহস্পতিবার দীর্ঘ শুনানী শেষে বিজ্ঞ বিচারক মোঃ রকিবুল ইসলাম এমপি নং-৪৮৭/২০২৫ মোকদ্দমাটি বিএমপি কাউনিয়া থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন।
এ ছাড়াও ওই আসামীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় জিআর-২২/২০২৫ (নারী ও শিশু কেস নং-৪৬৮/২০২৫) তদন্তে এবং দ: বি: ৩২৩/৫০৬(২) ধারায় নন এফ.আই.আর প্রসিকিউশন নং-৬৩/২০২৫ (কোতয়ালী) ও দ: বি: ৫০৬(২) ধারায় নন এফ.আই.আর প্রসিকিউশন নং-৬২/২০২৫(কাউনিয়া) মোকদ্দমা বিচারাধীন আছে।
উল্লেখ্য, মোঃ সোলাইমান ফরাজী(৩৫) নগরীর কাউনিয়া থানাধীন চর বাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরী গ্রামের বাসিন্দা মো: ইউসুফ আলী ফরাজী ও মোসা: পেয়ারা বেগম দম্পত্তির পুত্র এবং মোসা: আখি আক্তার(২২) একই ইউনিয়নের চর আবদানীর বাসিন্দা মোঃ আলমগীর হোসেন ও মোসাঃ মিনারা বেগম দম্পত্তির কন্যা।
ঘটনার বিষয়ে জানতে মো: সোলাইমানের মোবাইল ফোনে (01719541613 ও 01919079090 নম্বরে) বারং বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ইতোপূর্বেও এসব ঘটনাবলীর আলোকে অনুসন্ধান টিভিনিউজ-এ গত ১২ আগষ্ট, ৬ অক্টোবর এবং ১২ অক্টোবর তিনটি সবিস্তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

বরিশাল নগরীর আলোচিত সেই পাদুকা ব্যবসায়ী সোলাইমানের বিরুদ্ধে অবশেষে ধর্ষণ মামলা দায়ের!

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি মোনায়েম মুন্নাকে স্বাগত জানান জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসভাপতি (বরিশাল বিভাগ), এডভোকেট এইচএম তসলিম উদ্দিন এর নেতৃত্বে জেলা যুবদলের নেতৃবৃন্দ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলায়েত হোসেন ও ঝালকাঠি জেলা যুবদলের আহবায়ক শামিম তালুকদার সহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। বরিশালে পৌছালে তাকে প্রথমে বিভিন্ন শ্লোগানে মুখরিত করে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেন এবং শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। এ সময় বিভিন্ন জেলা, উপজেলা , পৌরসভা ও ইউনিয়ন যুবদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে রাতে সুপার ফাইভ নিয়ে বরিশাল ক্লাবে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগাদান করেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোনায়েম মুন্না।

জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি মোনায়েম মুন্নাকে বরিশালে ফুল দিয়ে বরন


নিজস্ব প্রতিনিধি ::
বরিশাল জেলার বাকেরগন্জ উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের কৃতি সন্তান মোঃ সাইফুল ইসলাম মিলন বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক পদে পদোন্নতি লাভ করেছেন। বর্তমানে মোঃ সাইফুল ইসলাম মিলন বাংলাদেশ ব্যাংক, বরিশাল অফিসে কর্মরত আছেন।পেশাগত দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠার জন্য তাকে ২০২৫ সালে যুগ্ন পরিচালক (৫ম গ্রেড) পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তিনি অত্র উপজেলার নিয়ামতি ইউনিয়নের ডহরকোলা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি নিয়ামতি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সুনামের সাথে এস এস সি, সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ থেকে এইচ এস সি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্নাস,মাষ্টার্স এবং ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে এম বি এ সম্পন্ন করেন। পদোন্নতি পাওয়ায় উদ্বর্তন কর্মকর্তা সহ সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এ যুগ্ম পরিচালক মোঃ সাইফুল ইসলাম মিলন।

বাকেরগঞ্জের কৃতি সন্তান সাইফুল ইসলাম মিলন বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক পদে পদোন্নতি লাভ

 

কৃষি ডেস্ক ::

বাংলাদেশে শীতকালীন সবজি বাজারে এখন ব্রকলির ভালো চাহিদা তৈরি হয়েছে। আগে শুধু বড় শহরের

সুপারশপে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতার ঘরেও ব্রকলির ব্যবহার বাড়ছে। ফলন ভালো, পরিচর্যা সহজ আর বাজারদর তুলনামূলক বেশি। সব মিলিয়ে ব্রকলি এখন কৃষকের জন্য লাভজনক এক নতুন ফসল হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে।

🔳 উপযুক্ত সময় ও জমি নির্বাচন:

ব্রকলি মূলত শীতকালীন সবজি। কার্তিক থেকে পৌষ-এই সময় চাষ করলে ফলন সবচেয়ে ভালো হয়। দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ জমি উপযোগী এবং জমিতে পানি দাঁড়িয়ে থাকা একদম চলবে না। মাটির pH ৬–৭ হলে গাছ দ্রুত বাড়ে ও ফুল বড় হয়।

🔳 জাত ও চারা উৎপাদন:

উন্নত জাতের মধ্যে-Green Magic, Premium Crop, Lucky, Calabrese-চাষ করলে ফলন ভালো হয়।
২৫–৩০ দিনের সবল চারা রোপণ করতে হবে।
রোপণের আগে বীজতলায় হালকা সেচ দিলে চারা শক্ত হয়।

🔳 জমি তৈরি ও রোপণ:

উঁচু জমিতে ১ মিটার চওড়া বেড তৈরি করা ভালো। লাইন থেকে লাইন ১৮-২০ ইঞ্চি, গাছ থেকে গাছ ১৫-১৬ ইঞ্চি দূরত্ব রাখতে হবে।

সন্ধ্যায় চারা রোপণ করলে স্ট্রেস কমে।

🔳 সার ব্যবস্থাপনা (শতকে):

গোবর/কম্পোস্ট: ৮-১০ কেজি, ইউরিয়া: ৩০০ গ্রাম, টিএসপি: ২৫০গ্রাম, এমওপি: ২০০ গ্রাম

টপ ড্রেসিং:

২০-২৫ দিন পরে ½ ইউরিয়া

ফুল আসার সময় বাকি ইউরিয়া + এমওপি

ক্যালসিয়াম–বোরন স্প্রে করলে ফুল শক্ত, ঘন ও বড় হয়

🔳 সেচ ও আগাছা দমন :

৭-১০ দিন পরপর সেচ দিতে হবে, তবে সেচ দিতে হবে বেডের পাশে নালায়, গোড়ায় নয়।

আগাছা নিয়ন্ত্রণের জন্য ২-৩ বার নিড়ানি যথেষ্ট।

মালচ দিলে পানি কম লাগে এবং আগাছাও কমে।

🔳 রোগ-পোকা দমন:

শুঁয়োপোকা দমনে ফেরোমন ট্র্যাপ বা BT স্প্রে ভালো কাজ করে।

পাতায় দাগ বা ডাউনি মিলডিউ হলে কপার অক্সিক্লোরাইড/ম্যানকোজেব ব্যবহার করা যায়।

এফিড বা মাকড়সা পোকার জন্য সাবান পানি স্প্রে কার্যকর।

জমিতে ট্রাইকোডার্মা ব্যবহার করলে মাটিবাহিত রোগ কম হয়।

ফসল তোলার ১০-১২ দিন আগে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা যাবে না।

🔳 ফুল গঠন ও সংগ্রহ:

রোপণের ৬৫-৮০ দিনের মধ্যে ফুল সংগ্রহ করা যায়।
ফুলের মাথা ঘন, শক্ত এবং গাঢ় সবুজ হলে তুলতে হবে।
বেশি সময় রেখে দিলে ফুল ঢিলা হয়ে যায়, দামও কমে যায়।

🔳 উৎপাদন :

প্রতি শতকে ৩০-৪০ কেজি
প্রতি বিঘায় ১২-১৬ মণ

🔳 বাজারজাতকরণ:

ছায়ায় রাখলে ব্রকলি দীর্ঘসময় সতেজ থাকে।

প্রয়োজনে পানির স্প্রে করা যায়।

দূরপাল্লায় পাঠানোর সময় বরফসহ প্যাকেজিং করলে নষ্ট হয় না।

আগে থেকেই সুপারশপ-রেস্তোরাঁর সাথে যোগাযোগ করা লাভজনক।

🔳 চাষাবাদের সতর্কতা:

জমিতে পানি জমতে দেওয়া যাবে না

অতিরিক্ত ইউরিয়া দিলে ফুল ঢিলা হয়।

অপরিপক্ব (২০ দিনের কম) চারা রোপণ নয়।

রোদ-হিমালয়ের প্রভাব বেশি হলে ছায়া জাল ব্যবহার করা যেতে পারে।

একটানা কয়েক বছর একই জমিতে ব্রকলি-ফুলকপি চাষ করলে রোগ বাড়ে। ফসল পরিবর্তন জরুরি।

🔳 বাণিজ্যিক খরচ-লাভ (১ বিঘা জমি):

খরচ খাত (টাকা)

বীজ : ২০০০ টাকা
জমি তৈরি : ৪০০০টাকা
সার-কীটনাশক : ৮০০০টাকা
শ্রমিক : ৭০০০টাকা
সেচ : ২০০০টাকা
পরিবহন/প্যাকেজিং : ২০০০টাকা
মোট খরচ : ২৫০০০টাকা

আয়

বিঘায় উৎপাদন  : প্রায় ১৪ মণ (৫৬০ কেজি)

গড় পাইকারি দাম : ৭০-৮০ টাকা/কেজি

৭৫×৫৬০ = ৪২,০০০ টাকা

নিট লাভ

৪২,০০০-২৫,০০০ = ১৭,০০০ টাকা (৬৫-৭৫ দিনের মধ্যে)
সঠিক পরিচর্যায় লাভ আরও বাড়তে পারে।

স্বল্প জমিতে বেশি উৎপাদন, সহজ পরিচর্যা এবং বাজারে ভালো দামের কারণে ব্রকলি এখন কৃষকের জন্য শীতকালীন লাভজনক ফসল। উন্নত জাত, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশন ভালো রাখা-এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলেই ব্রকলি চাষ থেকে ভালো আয় করা সম্ভব।

লেখক:
★ সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★ উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি
★ সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী,ঢাকা।

শীতকালীন মাঠে লাভের নতুন সম্ভাবনা ব্রকলি চাষ


নিজস্ব প্রতিনিধি ::
নগরীতে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলায়েত হোসেন পদ ফিরে পাওয়ায় ধানের শীষের পক্ষে আনন্দ মিছিল বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। রোববার মাগরিব বাদ জেলা মডেল জামে মসজিদের সামনে থেকে আনন্দ মিছিলটি ১৩ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আমতলা বিজয় বিহঙ্গে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এ সময় জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলায়েত হোসেন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহানগর জাসাসের সভাপতি মীর আদনান তুহিন, জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রুহুল, অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসলাম বাচ্চু, বিএম কলেজের ছাত্র দলের সভাপতি মোঃ যুবায়ের, সদর উপজেলা ছাত্র দলের সভাপতি আল আমিন মৃধা, বাস্তুহারা দলের সভাপতি মোঃ রাসেদ খান তুহিন ও সাধারণ সম্পাদক সফিক মামুন, শ্রমিক দল সেক্রেটারি আঃ ছালাম।

সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বরিশাল দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেনকে গত ৮ এপ্রিল বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ তার সকল পদ স্থগিত করা হয়েছিল।

বরিশাল মহানগরে পদ ফিরে পেলেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলায়েত হোসেন : ধানের শীষের পক্ষে আনন্দ মিছিল

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

ভূমিকম্প একটি আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা কয়েক সেকেন্ডের কম্পনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম। বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থান করায় ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পে অধিকাংশ প্রাণহানি ঘটে আতঙ্ক, দুর্বল ভবন এবং ভারী বস্তু পতনের কারণে-যা সঠিক জ্ঞান ও প্রস্তুতির মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

১. ভূমিকম্পের আগে করণীয়: নিরাপত্তার ভিত্তি গড়ে তোলা

ক. বাড়ির কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ

দেয়াল, সিলিং, বিম বা কলামে ফাটল থাকলে দ্রুত মেরামত করুন।

বড় আলমারি, বুকশেলফ, ফ্রিজ এবং অন্যান্য ভারী ফার্নিচার দেয়ালে স্থিরভাবে লাগিয়ে দিন।
যুক্তি: ভূমিকম্পে অধিকাংশ আঘাত ভারী বস্তুর পতনেই ঘটে।

খ. জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা

টর্চলাইট, ফার্স্ট এইড বক্স, ব্যাটারি, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানি ও শুকনো খাবার সবসময় হাতের কাছে রাখুন।
যুক্তি: কম্পন থামার পরপরই নিরাপদ ব্যবস্থা নিতে এটি দ্রুত সহায়তা করে।

গ. পারিবারিক সচেতনতা ও মহড়া

পরিবারকে নিরাপদ জায়গা, বের হওয়ার পথ, এবং কীভাবে টেবিলের নিচে আশ্রয় নিতে হয়—এসব শিখিয়ে দিন।
যুক্তি: গবেষণা বলছে, পারিবারিক ড্রিল জীবন বাঁচানোর সম্ভাবনা ৫০% পর্যন্ত বাড়ায়।

২. ভূমিকম্পের সময় করণীয়: আতঙ্কের পরিবর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত

ক. ঘরের ভিতরে থাকলে—“ডাক–কভার–হোল্ড” পদ্ধতি অনুসরণ করুন

মজবুত টেবিল/ডেস্কের নিচে ঢুকে পড়ুন।

হাত দিয়ে মাথা ও ঘাড় ঢেকে রাখুন।

টেবিল/ফার্নিচার শক্ত করে ধরে রাখুন।
যুক্তি: এটি আন্তর্জাতিকভাবে সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত।

খ. জানালা, দরজা ও ঝুলন্ত বস্তু থেকে দূরে থাকুন

গ্লাস ভেঙে উড়ে আসতে পারে এবং দুর্বল দরজা ফ্রেম ধসে যেতে পারে।

গ. লিফট ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন

কম্পনের সময় লিফট আটকে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

ঘ. বাইরে থাকলে

খোলা জায়গায় দাঁড়ান। ভবন, গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং টাওয়ার থেকে দূরে সরে যান।

ঙ. গাড়িতে থাকলে

গাড়ি থামিয়ে নিরাপদ খোলা জায়গায় অপেক্ষা করুন।

ব্রিজ বা বিল্ডিংয়ের নিচে গাড়ি থামাবেন না।

৩. ভূমিকম্পের পর করণীয়: নিরাপত্তা ও উদ্ধারসমন্বয়

ক. নিজের ও পরিবারের আঘাত পর্যালোচনা

প্রথমে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করুন। গুরুতর আহতদের সরানোর সময় সতর্ক থাকুন।

খ. গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন পরীক্ষা

ফাঁস বা শর্ট সার্কিট দেখা গেলে অবিলম্বে বন্ধ করুন।
যুক্তি: ভূমিকম্প-পরবর্তী সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে গ্যাস বিস্ফোরণ থেকে।

গ. ভবনে ক্ষতি দেখা দিলে ভেতরে প্রবেশ করবেন না

কারণ আফটারশক বা দ্বিতীয় ধাক্কা বড়সড় ধস সৃষ্টি করতে পারে।

ঘ. আটকে পড়া ব্যক্তিদের সহায়তা

শব্দ শুনে কর্তৃপক্ষকে জানান। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ছাড়া ধ্বংসস্তূপে প্রবেশ করবেন না।

ঙ. সঠিক তথ্য গ্রহণ করুন

রেডিও, টেলিভিশন, সরকারি পেজ ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
গুজব ছড়ানো বা অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকুন।

৪. কেন প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি?

বাংলাদেশ সক্রিয় ভূ-তাত্ত্বিক প্লেটের ওপর অবস্থান করায় বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময় থাকে।

নগর অঞ্চলের অধিকাংশ ভবন এখনো আন্তর্জাতিক মানে নির্মিত নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতনতা ও প্রস্তুতি জীবনরক্ষার সম্ভাবনা ৩ গুণ বাড়ায়।

আতঙ্কজনিত দৌড়াদৌড়ি ও ভারী বস্তুর পতনে মোট হতাহতের ৩০-৪০% ঘটে—যা পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব।

সচেতনতা, সঠিক সিদ্ধান্ত ও পূর্বপ্রস্তুতি—এই তিনটি বিষয় ভূমিকম্পে জীবনরক্ষার সবচেয়ে নিশ্চিত পথ।

লেখক:
সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, সংবাদ প্রতিক্ষণ।

 

 

(লেখক: সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী, ঢাকা)

ভূমিকম্পে করণীয়

খুঁজুন

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

অন্যান্য সংবাদ

খেলাধুলা

অন্যান্য সংবাদ

বিনোদন

অন্যান্য সংবাদ

লাইফস্টাইল

অন্যান্য সংবাদ

শিক্ষা