শিরোনাম :
ভোলার মনপুরায় জেলের জালে দুই কেজির ‘রাজা ইলিশ’ এ্যাজলা-জলজ সবুজ সোনা : কৃষি, প্রাণিখাদ্য ও পুষ্টির সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সম্পদ ভোলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বোরহানউদ্দিনে গাঁজা সহ জয়নাল পাটোয়ারী আটক লালমোহনে অবৈধ বালু উত্তোলনব : ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা চান্দিনায় সংখ্যালঘু নারীকে পিটিয়ে হত্যা চরফ্যাশনে ২ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড নির্মাণের ৩৮ বছরেও সংস্কার হয়নি ভোলা বাস টার্মিনাল পরিত্যক্ত ভবন-টিনশেডে পাঠদান : ঝুঁকিতে তজুমদ্দিনের ৭৬ শিক্ষার্থী ভোলা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কার্যালয়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

প্রেক্ষাপট লালমোহন : জ্ঞানের দ্যুতি বিচ্ছুরণের লাইব্রেরির বেহাল দশা

প্রতিম গাঙ্গুলী
  • আপডেট সময় : Tuesday, September 23, 2025
  • 452 বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার লালমোহন উপজেলায় জ্ঞানপিপাসুদের জন্য একটি পাবলিক লাইব্রেরি থাকলেও জানেন না অনেকেই। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে ভবনটির আশপাশে। রাতের সুনসান নীরবতায় রীতিমতো পাবলিক লাইব্রেরিটি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

জ্ঞানের আলো ছড়ানো পাবলিক লাইব্রেরিটি এখন চরম বেহাল দশায় ভুগছে। তবে হেল্পিং ক্লাব নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চলতি মাসে পাবলিক লাইব্রেরিটিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তারা পাবলিক লাইব্রেরিটি পুরোদমে চালু করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

জানা গেছে, ১৯৯০ সালের ১০ জানুয়ারি তৎকালীন ভোলা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভোলা-৩ আসনের সাবেক এমপি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ (বীরবিক্রম) এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় একটি দুইতলা বিশিষ্ট পাবলিক লাইব্রেরি কাম-অডিটোরিয়ামটি নির্মাণ করা হয়। উদ্বোধনের পর একজন লাইব্রেরিয়ানও নিয়োগ দেওয়া হয়। শুরু হওয়ার পর কয়েক মাস জমজমাটভাবেই চলে লাইব্রেরির কার্যক্রম।

তবে ১৯৯৩ সালে লালমোহন করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজের কার্যক্রম পাবলিক লাইব্রেরিটিতে চালু হয়। এরপর থেকেই পাবলিক লাইব্রেরির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

২০১৮ সালে নিজস্ব ভবন হওয়ার পর লালমোহন করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজ পাবলিক লাইব্রেরি ছেড়ে তাদের নিজস্ব ভবনে চলে যায়। সেই থেকে আর আলোর মুখ দেখেনি পাবলিক লাইব্রেরিটি। তবে নিয়মিত বেতন-ভাতা ভোগ করে এখন অবসরে চলে গেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই লাইব্রেরিয়ান।

লালমোহনের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হেল্পিং ক্লাবের উপদেষ্টা মোহাম্মদ জাকির হোসাইন জুয়েল বলেন, পৌরশহরের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে পাবলিক লাইব্রেরি রয়েছে। অথচ লাইব্রেরিটির কার্যক্রম দীর্ঘদিন চোখে পড়েনি। সংশ্লিষ্টদের এক প্রকার অবহেলায় ঝিমিয়ে পড়েছে লাইব্রেরির কার্যক্রম।

লাইব্রেরির ভেতরে ও বাইরে ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। বিষয়টি আমাদের চোখে পড়ার পর উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। যাতে করে বইপ্রেমী এবং জ্ঞানপিপাসুরা এখানে নিয়মিত প্রয়োজনীয় বই-পত্রিকা পড়তে পারেন। যার জন্য বিগত কয়েকদিনে আমাদের সংগঠনের সদস্যরা মিলে লাইব্রেরির আঙিনা ও ভেতরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়েছি। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে পাবলিক লাইব্রেরিটি চালু করতে যেন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেন।

লালমোহন প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) উপজেলা সভাপতি মো. সোহেল আজিজ শাহিন জানান, লাইব্রেরি হলো বই, তথ্য ও জ্ঞানের ভান্ডার। যা মানুষকে জ্ঞান অর্জন ও গবেষণার সুযোগ করে দেয়। একটি লাইব্রেরি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রতিষ্ঠান। যা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে, ব্যক্তিগত আগ্রহ অন্বেষণ করতে এবং শেখার জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে। তাই স্থানীয় জ্ঞানপিপাসু মানুষজন ও শিক্ষার্থীদের জন্য শিগগিরই পাবলিক লাইব্রেরিটি উপযোগী করে তোলতে সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ করছি।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ বলেন, পাবলিক লাইব্রেরিটি চালু করতে জেলা পরিষদ থেকে ১ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। শিগগিরই ওই টাকা দিয়ে বই কেনা হবে। এলাকার চাহিদা অনুযায়ী বই কেনার জন্য কেউ পরামর্শ দিলে তা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া লাইব্রেরিটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করাসহ বসার জন্য চেয়ার-টেবিল কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে পাবলিক লাইব্রেরির কার্যক্রম পুরোদমে চালু করা যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ