অনুসন্ধানী প্রতিবেদন,
ভূরুঙ্গামারী(কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সোনাহাট স্থলবন্দরের কুখ্যাত এক ভূমিদস্যু, মাদকের গড ফাদার, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী মিজানুর রহমান মিজু। তিনি ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বানুরকুটি গ্রামের আলিমুদ্দিনের ছেলে।
তিনি ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনীর অপ:কর্মের বিরুদ্ধে ইতোপূর্বে বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় অসংখ্য সংবাদ প্রকাশিত হয়। এসব সংবাদ প্রকাশের জেরে বর্ষিয়ান অসুস্থ্য সাংবাদিক ওয়ালিউর রহমান রাজু সহ চার জনের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রামের বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা করেন এই মিজু বাহিনী। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে পুলিশ তদন্ত করে কালো টাকার কাছে হার মেনে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক ওয়ালিউর রহমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ দাখিল করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগের তদন্তের নির্দেশ দিলে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী সার্কেল এএসপি তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন।
নাগেশ্বরী সার্কেল এএসপি গত ২০ নভেম্বর (শুক্রবার) তার কার্যালয়ে অভিযোগকারী সাংবাদিক ওয়ালিউর রহমান রাজু এবং স্বাক্ষী সহ অন্যান্য ভূক্তভোগীগণের লিখিত জবানবন্দী নিয়ে অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন করেন।

তদন্তকালে বর্ষিয়ান সাংবাদিক ওয়ালিউর রহমান এর জবানবন্দী, উপস্থিত অন্যান্য স্বাক্ষী গণের লিখিত স্বাক্ষ্য এবং স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মিজানুর রহমান মিজু কর্তৃক দায়েরকৃত মিথ্যা মামলায় উল্লেখিত ঘটনার দিন অর্থাৎ ২০১৭ সালের ১০ নভেম্বর অভিযোগকারী সাংবাদিক ওয়ালিউর রহমান সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সোনাহাট স্থলবন্দরে যান। ভূমিদস্যু, মাদক সম্রাট, চাঁদাবাজ, হুন্ডি ব্যবসায়ী সন্ত্রাসী মিজানুর রহমান মিজু কর্তৃক নিপীড়িত নির্যাতিত অসহায় বৃদ্ধ মুয়াজ্বিন হাসর উদ্দিন, আঃ মোন্নাফ, আয়নাল হক, নজরুল, জায়েদা বেগম, ফজলুল হক সহ এলাকার লোকজন এ সময়ে দূষ্কৃতিকারী মিজানুর রহমান মিজু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অপঃকর্ম সম্পর্কে সাংবাদিক ওয়ালিউর রহমানকে তথ্য প্রদান করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করে সাংবাদিক ওয়ালিউর রহমান তাঁর নিজ সম্পাদনা ও প্রকাশনায় লালমনিরহাট থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পত্রিকা “সাপ্তাহিক নতুন বাংলার সংবাদ” পত্রিকায় মিজু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর তথ্য বহুল সংবাদ প্রকাশ করেন। এ প্রেক্ষিতে সন্ত্রাসী মিজু ক্ষিপ্ত হয়ে বর্ষিয়ান ওই সাংবাদিক ওয়ালিউর রহমান সহ ৪ জনকে আসামী করে কুড়িগ্রামের বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগে সি,আর নং ১৭০/১৭(ভূরু) মামলা দায়ের করে।

বিজ্ঞ আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)’র উপর দায়িত্ব ন্যাস্ত করলে থানার তৎকালীন ওসি তাপস চন্দ্র পাল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য এস.আই বনমালীকে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ প্রদান করেন। এস.আই বনমালী মিথ্যা মামলাটি সরেজমিনে প্রকাশ্যে তদন্ত না করে দেশের আলেচিত ওসি প্রদীপের পদাঙ্ক অনুসরনে মামলার বাদী সন্ত্রাসী মিজুর কালো টাকার প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে সাংবাদিক ওয়ালিউর রহমান, নব্বইয়োর্ধ্ব বয়সের অসুস্থ্য বৃদ্ধ মুয়াজ্বিন সহ ৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে দ্বন্ডবিধি আইনের ৪৪৮/৫০০/৫০১/৩৮৫/৫০৬/৩৪ ধারার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে মিথ্যা বানোয়াট ও মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করেন।
বিজ্ঞ আদালতে এসআই বনমালীর এ ধরনের উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কারনে গুরুতর অসুস্থ্য বর্ষিয়ান সাংবাদিক ওয়ালিউর রহমান সীমাহীন আর্থিক ও মানসিক হয়রানীর শিকার হন। তিনি এই মিথ্যা মামলা ও মিথ্যা বানোয়াট তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাহার এবং ন্যায় বিচার চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী সার্কেল এএসপিকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন