
নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা নিয়ে নির্মিত হচ্ছে নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘অস্তিত্বের লড়াই’। ১৯৭০ সালে ভোলায় ঘটে যাওয়া ভয়াল প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কেন্দ্র করে এটি নির্মাণ করেছেন ‘প্রেমের তাজমহল’খ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী মাহবুব। সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) দৃশ্যধারণের কাজ শেষ হয়েছে।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় নায়িকা পূর্ণিমা। অভিনয় আর সৌন্দর্য গুণে দীর্ঘ সময় দর্শকদের হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন। যদিও গত কয়েক বছর ধরে অভিনয়ে অনেকটাই অনিয়মিত এই অভিনেত্রী। মাঝে কয়েকটি সিনেমায় কাজ করলেও সেগুলোর মুক্তির খবর নেই। নাটকেও দেখা যায়নি দীর্ঘকাল। হঠাৎ সচেতনতামূলক একটি প্রামাণ্যচিত্রে অংশ নিয়ে আলোচনায় পূর্ণিমা।
জানা গেছে, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মানবসুর উন্নয়ন সংস্থার (মাউস) উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে প্রামাণ্যচিত্রটি। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভুর গ্রন্থণা ও পরিকল্পনায় নির্মিত কাজটির নাম রাখা হয়েছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’।
প্রামাণ্যচিত্রে কাজের বিষয়ে পূর্ণিমা বলেন, কাজটির ভাবনা আমার খুব ভালো লেগেছে। মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ববোধ থেকেই এতে যুক্ত হয়েছি। আমি সবসময় ভালো ও ইতিবাচক কাজের সঙ্গে থাকতে চাই।
নির্মাতা গাজী মাহবুব জানান, প্রামাণ্যচিত্রটিতে উঠে আসবে ১৯৭০ সালের ভয়াবহ বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মর্মান্তিক স্মৃতি। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্তমান বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি এবং এ থেকে উত্তরণের করণীয় বিষয়গুলোও তুলে ধরা হবে।
মানবসুর উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে ‘জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শন করা হবে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়া হবে। পরবর্তীতে এটি অনলাইনেও প্রকাশ করা হবে বলেও জানান গাজী মাহবুব।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য সংস্থাটির ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভু। প্রামাণ্যচিত্রটিতে পূর্ণিমার পাশাপাশি আরো অংশ নিয়েছেন কাজী হায়াৎ, শিবা শানু, তানহা তাসনিয়া, শিরিন শিলা, মৌ খান, জয় চৌধুরী প্রমুখ।


নিজস্ব প্রতিনিধি, ভোলা::
একসময় বিকেল হলেই ভোলার বিভিন্ন গ্রামের খোলা মাঠ, স্কুলের প্রাঙ্গণ কিংবা বাড়ির উঠান ভরে উঠত শিশু-কিশোরদের কোলাহলে। দল বেঁধে চলত দৌড়ঝাঁপ, হাসি-ঠাট্টা আর প্রতিযোগিতা। সেই সময়ের দুই জনপ্রিয় খেলা ‘গোল্লাছুট’ ও ‘কানামাছি’ এখন প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। ভোলা সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ গ্রামে নিয়মিত গোল্লাছুট খেলার চর্চা নেই, স্কুলের মাঠে ক্রিকেট ও ফুটবলের আধিক্য, উঠানভিত্তিক খেলাধুলা প্রায় বন্ধ।
ভোলা সদরের চর জাংগালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ আবি আবদুল্লাহ বলেন, সাত-আট বছর আগেও টিফিনের ছুটির সময়ে বাচ্চারা ‘গোল্লাছুট’ ও ‘কানামাছি’ খেলত। এখন বেশিরভাগই মোবাইল গেম নিয়ে ব্যস্ত। গোল্লাছুট ছিল সম্পূর্ণ দলীয় খেলা। এতে শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি কৌশল ও সমন্বয় প্রয়োজন হতো।
স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের মতে, এই খেলায় শিশুদের নেতৃত্বগুণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, দলগত চেতনা গড়ে উঠত স্বাভাবিকভাবেই। কানামাছিতে একজনের চোখ বেঁধে দেওয়া হতো, আর অন্যরা শব্দ করে তাকে বিভ্রান্ত করত। এই খেলায় মনোযোগ বৃদ্ধি পেত, শ্রবণশক্তি ও প্রতিক্রিয়া দক্ষতা বাড়ত, পারস্পরিক আস্থা তৈরি হতো।
ভেলুমিয়ার এক প্রবীণ বাসিন্দা আবদুল খালেক মিয়া জানান, আমাদের সময় আমরা প্রত্যেকদিন বিকালে বাড়ির উঠানে কানামাছি খেলতাম আর এখনকার বাচ্চারা নামই জানে না। এ বিষয়ে কথা হয় ভোলা জেলার একাধিক ক্রীড়া সংগঠক এর সাথে তাঁরা বলেন, ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা শিশুদের সামাজিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাঠের খেলায় শারীরিক সুস্থতা যেমন নিশ্চিত হয়, তেমনি মানসিক বিকাশও ঘটে। স্ক্রিননির্ভর জীবনে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ কমে যাচ্ছে বলে অভিভাবকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। গ্রামীণ খেলাধুলা উৎসব আয়োজন না করলে এই ঐতিহ্য টিকবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে স্মার্টফোন ও অনলাইন গেমের বিস্তার, খেলার মাঠ কমে যাওয়া, শিক্ষার অতিরিক্ত চাপ, অভিভাবকদের নিরাপত্তা উদ্বেগসহ বিভিন্ন কারণে আমাদের গ্রামবাংলা থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে এসব ঐতিহ্যবাহী খেলা।
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এসব খেলাগুলো টিকিয়ে রাখতে হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঐতিহ্যবাহী খেলা অন্তর্ভুক্ত করা, উপজেলা পর্যায়ে গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা, স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে খেলাধুলা উৎসব পালন, অভিভাবক সচেতনতা কার্যক্রমসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে বলেও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা। গোল্লাছুট ও কানামাছি শুধু খেলা নয় এগুলো ছিল গ্রাম বাংলার শৈশবের প্রাণ। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে ঠিকই, তবে শিকড়কে ভুলে নয়। এখনই উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো বইয়ের পাতায়ই কেবল এসব খেলার নাম পড়বে।

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
শীতকে ঘিরে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ জেলা ভোলার চরফ্যাশনে পর্যটকদের ভিড়। বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের প্রকৃতি, নদী উপকূলের ঢেউ আর ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল, কুকরি-মুকরি সু-উচ্চ টাওয়ার, কুকরি-মুকরি ফরেস্ট বাগান, নারকেল বাগান ও বীচ, সমুদ্র সৈকত তারুয়াসহ, ফ্যাশন স্কয়ারের পানির ফোয়ারা পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখানে এসে দৃষ্টি নন্দন খাস মহল জামে মসজিদ দেখেও মুগ্ধ হন পর্যটকরা। পাশাপাশি চরফ্যাশন ওয়াটস টাওয়ার (সাবেক জ্যাকব টাওয়ার) এবং শিশুপার্ক, এসব পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। এলাকাটি পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় হলেও এখানে ঘাটতি রয়েছে পর্যটকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চরফ্যাশনের পর্যটন এলাগুলোতে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত থাকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন দলবেঁধে বনভোজনে আসেন এই উপজেলায়। জানা গেছে, পর্যটকদের থাকার জন্য চরফ্যাশন শহরে একটি ডাকবাংলোর পাশাপাশি কিছু হোটেল রয়েছে। স্থানীয়রা জানান,চরফ্যাশন শহরে অবস্থিত সু-উচ্চ ওয়াটস টাওয়ার ও শিশু পার্ক দেখতে আসা অগনিত পর্যটকদের জন্য নেই শৌচাগার। শৌচাগারের অভাবে বিপাকে পড়তে হচ্ছে পর্যটকদের। যুবক বয়সী পর্যটকরা মানিয়ে নিতে পারলেও বেশ বিপাকে পড়তে হচ্ছে নারী ও শিশু কিশোর এবং বয়স্ক পর্যটকদের।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জামাল মোল্লা জানান, পর্যটক এলাকা হিসেবে এই উপজেলাটি পরিচিতি পেয়েছে অনেক আগেই। প্রতিদিনই এই অঞ্চলে শতশত ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকরা ঘুরতে আসেন কিন্তু ঘুরাঘুরি শেষে প্রকৃতির ডাকে সারা দেয়ার মতো কোনো ধরনের ব্যবস্থা না থাকায় বিশেষ করে পাব্লিক টয়লেট না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় পর্যটকদের।
এই দুর্ভোগ লাঘবে দায়িত্বশীলদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। রাজশাহী থেকে আসা পর্যটক নওরীন হক বলেন, কুকরি-মুকরি ভ্রমণ শেষে ওয়াটস টাওয়ারে ঘুরতে আসলাম কিন্তু টাওয়ার সংলগ্ন এরিয়াতে কোনো পাবলিক টয়লেট না পাওয়ায় অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এখানে একটি ভালো মানের পাব্লিক টয়লেট প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়াও কুকরি-মুকরি পিকনিক কর্নারের বাগান এরিয়াতেও সংকট রয়েছে পাবলিক টয়লেট। বেতুয়া প্রশান্তি পার্ক এলাকায় একটি পাবলিক টয়লেট থাকলেও সেটি রয়েছে অরক্ষিত অবস্থায়।
পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বনভোজনে এসে তাঁরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। পানি ও শৌচাগারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরনবী বলেন, পর্যটকদের জন্য গণ-শৌচাগার না থাকায় অনেকেই আমাদের অফিসের ওয়াশরুমে ব্যবহার করেন। মানবিক কারণে আমাদের একটি ওয়াশরুম তাদের ব্যবহার করতে দিচ্ছি। তিনি পর্যটকদের সুবিধার্থে ফ্যাশন স্কয়ার সংলগ্ন এরিয়াতে একটি শৌচাগার নির্মাণে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শামিম হাসান বলেন, ‘পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে। তবে ওয়াটস টাওয়ার এরিয়াতে জায়গা সংকুলান হওয়ায় সৌচাগার নির্মাণে পৌর প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নিবো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লোকমান হোসেন বলেন,পর্যটন স্পটের জন্য গণ-শৌচাগারের প্রয়োজনিয়তা রয়েছে বলে আমিও অনুধাবন করেছি। একটি সুবিধাজনক স্থানে শৌচাগার নির্মাণে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
সংবাদপত্রের পাঠকসংখ্যা বৃদ্ধি ও সংবাদ পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বিপণন কর্মীদের পেশাগত বন্ধন সুদৃঢ় করতে ভোলায় কর্মরত সংবাদপত্র বিপণন কর্মীদের অংশগ্রহণে এক মিলনমেলা ও আনন্দ ভ্রমণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া পর্যটন কেন্দ্রে দিনব্যাপী এ আনন্দ ভ্রমণ আয়োজন করা হয়।
আনন্দ ভ্রমণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোঃ ইব্রাহিমের সঞ্চালনায় এবং মোঃ মাকসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের সভাপতি মাসুদুর রহমান, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ, সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইব্রাহিম, জয়েন্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইলিয়াস, কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাফর, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কবির, প্রচার সম্পাদক মোঃ রিয়াজ, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ নিশান, ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ শরীফ ও উপদেষ্টা মোঃ জামাল খান বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা বলেন, সংবাদপত্র বিপণন কর্মীরা নীরবে সংবাদপত্র শিল্পের ভিত্তি মজবুত করে যাচ্ছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠকের হাতে পত্রিকা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে তারা গণমাধ্যমের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। অথচ তাদের শ্রম ও ত্যাগ অনেক সময় যথাযথভাবে মূল্যায়িত হয় না। এ ধরনের মিলনমেলা ও আনন্দ ভ্রমণ কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করার পাশাপাশি পেশাগত দায়বদ্ধতা ও কর্মস্পৃহা বাড়াতে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য মোঃ মাইনুদ্দিন, কামাল, জামাল, সুমন, মনির, হিরণ, খলিল, সুবাস, আসলাম, রাশেদ, রাজিব, আলাউদ্দিন, মামুন, মনসুর, নাসির, ছোট মনির, ফরিদ, তসলিম, মুসা, সিরাজ, আব্দুর রব, মোহাম্মদ কালু, মাহমুদুল্লাহ ও মহসিনসহ ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলার সংবাদপত্র বিপণন কর্মীরা।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে অংশ গ্রহণকারীরা ক্রিকেট খেলা, নদীর তীরে ভ্রমণ, নিজ হাতে রান্না, সাংস্কৃতিক আড্ডা ও পারস্পরিক মতবিনিময়সহ নানা বিনোদনমূলক কার্যক্রমে অংশ নেন। এতে কর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
এ সময় আনন্দ ভ্রমণ উপলক্ষে সৌজন্য উপহার হিসেবে সংবাদপত্র বিপণন কর্মীদের মাঝে অপরূপ নিউজ পরিবারের পক্ষ থেকে টি-শার্ট উপহার হিসেবে বিতরণ করা হয়। টি-শার্টগুলো বিতরণ করেন অপরূপ নিউজের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ হোসেন শান্ত ও বার্তা সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সানি। এ সময় রিয়াজ হোসেন শান্ত বলেন, সংবাদপত্র বিপণন কর্মীরা মাঠপর্যায়ে গণমাধ্যমের প্রকৃত সৈনিক। তাদের উৎসাহ ও প্রণোদনা প্রদান করা হলে সংবাদপত্র শিল্প আরও শক্তিশালী হবে।
সংবাদপত্র বিপণন কর্মীরা জানান, কর্মব্যস্ত জীবনে এ ধরনের আয়োজন মানসিক প্রশান্তি এনে দেয় এবং নতুন উদ্দীপনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনে অনুপ্রেরণা জোগায়। ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন নিয়মিত করার দাবি জানান তারা।

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে অবস্থিত আলিম উদ্দিন বাংলাবাজার এলাকার মেঘনা নদীর ব্লক পাড় এখন এক সম্ভাবনাময় পর্যটন স্পটে রূপ নিচ্ছে। একসময় এ স্থানটি ছিল নদীর প্রবাহমান অংশ। যেখানে নিয়মিত লঞ্চ চলাচল করত। নদীর গতিপথ পরিবর্তন হলেও জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আজও অপরূপ ও অক্ষুন্ন রয়েছে। গত কয়েক বছরে এই এলাকা স্থানীয়দের কাছে বিনোদন কেন্দ্র ও অবকাশযাপনের প্রিয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে এখানে ভিড় করেন শত শত দর্শনার্থী। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, পরিবার ও বন্ধু বান্ধবদের জন্য এটি এখন অন্যতম আড্ডাস্থল। বাংলাবাজারের চারপাশজুড়ে নদীর তীর, বাতাসের স্নিগ্ধ পরশ, নীরব পরিবেশ ও সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য একে দিয়েছে অনন্য সৌন্দর্য। অনেকেই বলছেন, একটু পরিকল্পিত উন্নয়ন ঘটানো গেলে এ স্থানটি কুয়াকাটা বা কক্সবাজারের মতো নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।
স্থানীয় সমাজ কর্মী মিজানুর রহমান বলেন, আগে এখানে শুধু লঞ্চঘাট ছিল, এখন প্রতিদিন মানুষ আসে ঘুরতে। দোকানপাটও বেড়েছে, এক প্রকার ছোট পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠছে। স্থানীয় কলেজ ছাত্র রাকিব হোসেন বলেন, আমরা বিকেলে এখানে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাই। নদীর বাতাসে বসে সূর্যাস্ত দেখা সত্যিই এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা যৌথভাবে উদ্যোগ নেন তবে এখানে বসার ব্যবস্থা, সৌন্দর্যবর্ধন, আলোকসজ্জা ও স্যানিটেশন সুবিধা উন্নত করে তাহলে সহজেই এটি ভোলার নতুন পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। পর্যটন উন্নয়নে স্থানীয়দের অংশগ্রহণ, সরকারি পরিকল্পনা ও পরিবেশ সংরক্ষণের সমন্বয়ে আলিম উদ্দিন বাংলাবাজার হতে পারে বোরহানউদ্দিনের গর্ব, হতে পারে সত্যিকারের ‘মিনি কুয়াকাটা’ এমনটাই আশার করছেন বিশেষজ্ঞমহল।


নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
তারুয়া সমুদ্রসৈকত ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন ঢালচর ইউনিয়নে অবস্থিত। বঙ্গোপসাগর মোহনায় হওয়ায় প্রতি বছর শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পর্যটকরা এসে ভিড় করেন তারুয়া সমুদ্রসৈকতে। এ ছাড়া প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বেশ ভিড় থাকে। তারুয়া সমুদ্রসৈকতের দক্ষিণ-পূর্ব পাশের ম্যানগ্রোভ বন, ঝাউবন, পোড়া বন ও লাল কাঁকড়া পর্যটকদের আকর্ষণ করে।
ঢালচর ইউনিয়নের মাঝের চর বাজারের ব্যবসায়ী মো. শাহে আলম ফরাজী জানান, তারুয়া সমুদ্রসৈকতের সৌন্দর্য, ম্যানগ্রোভ বন, ঝাউবন ও লাল কাঁকড়া দেখতে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক আসেন। পাশপাশি বিভিন্ন দেশ থেকেও পর্যটকরা আসেন। কেউ প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে আসেন। নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে মার্চ মাস পর্যন্ত পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত থাকে। এ সময় পুরো ঢালচর ইউনিয়নই জমজমাট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে খাবারের হোটেলে সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হয়। হোটেল মালিকরাও বিভিন্ন ধরনের মাছ, কাঁকড়া থেকে শুরু করে হরেক রকম খাবারের ব্যবস্থা করেন।
তিনি জানান, পর্যটকরা এসে কেউ মোটরসাইকেল করে ঘুরে বেড়ান। কেউ আবার স্পিড বোট এবং ট্রলারে করে ঘুরে বেড়ান। এতে আয়-রোজগার ভালো হয় মোটরসাইকেল, স্পিড বোট ও ট্রলার মালিকদের। তারুয়া সমুদ্রসৈকতে আছে সেভেন স্টার নামে একটি হোটেল ও রেস্টুরেন্ট। সেখানে পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার সুন্দর পরিবেশ আছে। এ ছাড়া স্থানীয়রা পর্যটকদের ঘুরে বেড়াতে সহযোগিতা করেন।
মোটরসাইকেল চালক মো. নুরুউদ্দিন ও সেলিম জানান, সারাবছর তারা মোটরসাইকেল চালিয়ে যে আয় করেন, তার চেয়ে ২০-২৫ গুণ টাকা নভেম্বর মাস থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত আয় করেন। প্রতি বছরের মতো এ বছরও শীত মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই মোটরসাইকেল ঠিকঠাক করে রেখেছেন মালিকরা।
তারা জানান, ঢালচরে মোটরসাইকেল ছাড়া বিকল্প যানবাহন না থাকায় তাদের চাহিদা বেশি। তবে বর্তমানে ঢালচরের আনন্দ বাজার থেকে শুরু করে তারুয়া সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার একমাত্র ইটের সড়কটির বেহাল দশা। এ বছর পর্যটকদের নিয়ে মোটরসাইকেল চালাতে কষ্ট হবে বলে দাবি করেন তারা।
তারুয়া সমুদ্রসৈকতের সেভেন স্টার হোটেল ও রেস্টুরেন্টর মালিক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মাতাব্বর বলেন, ‘এ বছর শীত মৌসুমকে সামনে রেখে প্রস্তুতি নিয়েছি। সাজানো হয়েছে নতুন করে। তারুয়া সমুদ্রসৈকতের সাথেই আমার হোটেল ও রেস্টুরেন্ট। এখানে পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। চাহিদা অনুযায়ী রান্না করে দেওয়া হয়। হোটেলের পরিবেশ সুন্দর। সিঙ্গেল ও ডাবল রুম আছে। আছে তাঁবু টানিয়ে সপরিবারে থাকার ব্যবস্থা।’
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসনা শারমিন মিথি বলেন, ‘তারুয়া সমুদ্রসৈকত ভোলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। সৌন্দর্য উপভোগ করতে সমুদ্রসৈকতের পাশে বন বিভাগের মাধ্যমে প্রায় ৫০ হাজার ঝাউ গাছ লাগানো হয়েছে। সেগুলো এখন বড় হয়েছে। সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের জন্য ২১টি বেঞ্চ দিয়েছি। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আরও কিছু পরিকল্পনা করেছি। যা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পারবো।’
সমুদ্রসৈকতে যা দেখবেন :
তারুয়া সমুদ্রসৈকতে সাগরের ডেউ, হিমেল বাতাস, পরিযায়ী পাখির কলকাকলি, ঝাউবন, ম্যানগ্রোভ বন, লাল কাঁকড়া, হরিণ, জেলেদের ইলিশ শিকারের দৃশ্য।
যেভাবে যাবেন :
ঢাকার সদরঘাট থেকে ভোলা সদরের ইলিশা কিংবা চরফ্যাশনের বেতুয়ার লঞ্চে উঠবেন। ইলিশার লঞ্চে এলে সিএনজিতে করে ভোলা বাসস্ট্যান্ড যাবেন। সেখান থেকে সরাসরি কিংবা লোকাল বাসে অথবা সিএনজিতে চরফ্যাশন যাবেন। চরফ্যাশন থেকে মোটরসাইকেল কিংবা বাসে চলে যাবেন দক্ষিণ আইচা বাজারে। সেখান থেকে অটোরিকশা বা মোটরসাইকেলে করে মাত্র ১০-২০ টাকায় চর কচ্ছপিয়া ঘাটে যাবেন। এরপর স্পীড বোট, ট্রলার অথবা লঞ্চে চলে যাবেন ঢালচর। ঢালচর নেমে মোটরসাইকেলে মাত্র ৪০ টাকায় তারুয়া সমুদ্রসৈকতে যাবেন। এ ছাড়া চরফ্যাশনের বেতুয়া থেকে অটোরিকশা বা মোটরসাইকেলে শহরে যেতে হবে। সেখান থেকে যে কোনো বাহনে যাওয়া যাবে তারুয়া সমুদ্রসৈকতে।
থাকা-খাওয়া :
তারুয়া সমুদ্রসৈকতের সাথে আছে সেভেন স্টার নামে একটি হোটেল। হোটেলে সিঙ্গেল রুম ৫০০ টাকা ও ডাবল রুম ১ হাজার টাকা। সিঙ্গেল তাঁবু ৫০০ টাকা ও সপরিবার তাঁবু ১ হাজার টাকা। খাওয়ার খরচ কম। তারুয়া সমুদ্রসৈকত ছাড়াও আনন্দ বাজার ও মাঝের চর বাজারে বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট আছে। সেখানে কম খরচে নদী ও সাগরের তাজা মাছ খেতে পারবেন।

ষ্টাফ রিপোর্টার ::
নানান আয়োজনে বরিশাল সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সাগর কন্যা কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে ১ নভেম্বর বেলা ১১ টায় অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ বাদল হাওলাদার এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন হাওলাদার এর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজি মাসুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব তালুকদার, সদস্য জাফরান হারুন, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার, সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির, ঝালকাঠি শাখার সভাপতি এস এম রাজ্জাক পিন্টু, পটুয়াখালী শাখার সভাপতি মোস্তাফিজ মোস্তাক, ভোলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান, মঠবাড়িয়া শাখার সভাপতি নাছির উদ্দীন প্রমুখ। অনুষ্ঠানের মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, কেক কাটা, সাংবাদিক সহায়তা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
চেয়ারম্যান
অধ্যক্ষ(অব:) প্রফেসর ড.গোকুল চন্দ্র বিশ্বাস
উপদেষ্টা সম্পাদক
মো. আ. রাজ্জাক ভূইয়া (বীর মুক্তিযোদ্ধা)
উপদেষ্টা
ড.বাহাউদ্দিন গোলাপ, রাম কৃষ্ণ নাথ
পৃষ্ঠপোষক
বিশ্বজিৎ ঘোষ (বিশু)
আইন উপদেষ্টা
এ্যাড. মোঃ মিজানুর রহমান
ঢাকা জেলা বার এ্যাসোসিয়েশন
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
সুগন্ধা মজুমদার
নির্বাহী সম্পাদক
মো. মাসুদুর রহমান চাকলা
মোবাইল:০১৭৩৫৩১৩২০৫
বার্তা সম্পাদক
আপন মন্ডল
মোবাইল: ০১৭৫৩৫৪৭০৭৪
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
ড. সরকার মোঃ আবুল কালাম আজাদ
মোবাইল: ০১৭২০২৫৬৪৫৭
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ পি.সি মজুমদার শিশির
বার্তা কক্ষ ও যোগাযোগ
মোবাইলঃ ০১৭১৫৮৫১৪৯১
Sarkar Villa, House # 47- 48, Block # D, Road # 23, Pallabi, Dhaka -1216
ই-মেইল: atvnews.press@gmail.com
ওয়েব: https://anusandhantv24.com/

