ডেস্ক প্রতিবেদন ::

১৬ বছর আগে ফরিদপুরে জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা থেকে প্রায় কোটি টাকা লুট হয়। এ ঘটনায় চুরির অভিযোগে করা মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত বছর খালাস পান ব্যাংকটির তৎকালীন নিরাপত্তাপ্রহরী পরেশ চন্দ্র দাস। তবে এই মামলায় হাইকোর্টে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগেই তিনি মারা যান।

একই ঘটনায় মানি স্যুটের (অর্থ উদ্ধারের জন্য দেওয়ানি মামলা) পরিপ্রেক্ষিতে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা প্রথম আপিল খারিজ করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট। বিবাদীদের (পরেশের পরিবার) প্রতি হয়রানি–ভোগান্তির জন্য হাইকোর্ট আপিলকারীকে (জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ) ক্ষতিপূরণমূলক খরচবাবদ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে নির্দেশ দেন। আর পুরো এই অর্থ পরেশের পরিবারের সদস্যের অনুকূলে পরিশোধ করতে বলা হয়।

নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে জনতা ব্যাংকের ফরিদপুর করপোরেট শাখার ভল্ট থেকে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯০ টাকা চুরি বা লুট হয়। তখন নিরাপত্তাপ্রহরী পরেশের বয়স ছিল ৫০ বছর। ঘটনার পরদিন ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এই মামলায় পরেশকে গ্রেপ্তার করা হয়, পরে তিনি জামিন পান।

চুরির অভিযোগে করা ফৌজদারি এই মামলা বিচারাধীন অবস্থায় জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা উদ্ধারের জন্য ২০১৩ সালের ৪ আগস্ট ফরিদপুরের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মানি স্যুট করেন। তিন বছর পর ২০১৬ সালের ২৯ জুন আদালত তা খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আদালত ১০ হাজার টাকা খরচা আরোপ করেন জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি।

বিচারিক আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে হাইকোর্টে আপিল (প্রথম আপিল) করে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এই আপিল খারিজ করে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩ ফেব্রুয়ারি রায় দেনহাইকোর্টের রায়ে ১০ হাজার টাকা খরচা আরোপের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণমূলক খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, চাঞ্চল্যকর এই মামলায় ৯৪ লাখের বেশি অর্থ লুটের অভিযোগ করা হয়। ব্যাংকের ভল্ট খোলার বিষয়ে কোনো অর্থপূর্ণ তদন্ত না করে কেবল ১ নম্বর বিবাদীসহ (পরেশ) দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ভল্টটি কীভাবে খোলা হয়েছিল, তা নির্ণয়ে পুলিশ কার্যকর কোনো তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি দুর্ভাগ্যজনক যে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুট হওয়া সত্ত্বেও প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ অন্যান্য ব্যক্তির ভূমিকা যথাযথভাবে তদন্ত না করে শুধু ১ নম্বর বিবাদীকে (পরেশ) জড়িত করেছে। বিশেষ করে ভল্টের চাবি যাঁদের হেফাজতে ছিল এবং পিকনিক থেকে ফিরে ঘটনার দিন ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে যাঁরা আবার ব্যাংকে প্রবেশ করেছিলেন, তাঁদের বিষয়ে। এতে এমন যুক্তিসংগত আশঙ্কা তৈরি হয় যে প্রকৃত অপরাধীদের আড়ালের উদ্দেশ্য ছিল।

প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থ

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, কর্তৃপক্ষ এই আপিল শুধু ১ নম্বর বিবাদীকে (পরেশ) অপরাধী হিসেবে প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে করেছে, যেখানে অন্যদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা উপেক্ষা করা হয়েছে। এ ধরনের আচরণ আদালতের কার্যপ্রণালির অপব্যবহারের শামিল। ফলে খরচাসহ আপিলটি (জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা) খারিজ করা হলো।

আদালতে পরেশের পরিবারের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। গত সোমবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হয়রানি ও ভোগান্তির জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ পরেশের পরিবারকে সব মিলিয়ে ৬০ হাজার টাকা দিতে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। চুরি বা লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারের জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা চলে না বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে এসেছে। চুরি বা লুটের অভিযোগে অর্থ উদ্ধারে মূল মামলাটি ভ্রান্ত ধারণাপ্রসূত ও গ্রহণযোগ্য নয় রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে আপিলটি খারিজ করা হয়েছে। যাঁদের হেফাজতে ভল্টের চাবি ছিল, তাঁদের ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলায় আসামি বা পক্ষ করা হয়নি। শুধু একজন নিরাপত্তাপ্রহরীকে জড়ানো হয়েছে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য। তাই জনতা ব্যাংকের এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া দরকার।

আদালতে জনতা ব্যাংকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. আরিফ বিল্লাহ ও মো. জামিল আনোয়ার। আইনজীবী আরিফ বিল্লাহ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি এখনো হাতে আসেনি। অনুলিপি পাওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চুরির অভিযোগে করা এই মামলায় ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রায় দেন। রায়ে পরেশকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি দিয়েছিলেন পরেশ। জবানবন্দির ভাষ্য, ২০১০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি ব্যাংকে ঘুমিয়ে থাকেন। গভীর রাতে আসামিরা এসে তাঁর গলায় ছোরা ধরে তাঁকে চুপ থাকতে বলেন। আসামিদের মধ্যে তপু ও জাহিদ ছিলেন। তাঁরা ব্যাংকের সামনে এসে ঘোরাঘুরি করতেন। তাঁরা তাঁকে চা–চটপটি খাওয়াতেন। তাঁরা বলতেন, ব্যাংকে একটি হিসাব খুলবেন। তারপর ঘটনার দিন তাঁরা আসেন। তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা দেন। এই টাকা তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার করতে বলেন। পুলিশ তা উদ্ধার করে।

অবশ্য নথিপত্রে দেখা যায়, মামলা তদন্তের পর পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে জাহিদের নাম আসেনি। তপু ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রায়ে খালাস পান।

ফৌজদারী মামলায়ও খালাস

বিচারিক আদালতের রায়ের পর দায়রা আদালতে আপিল করেন পরেশ। ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের দায়রা আদালত রায় দেন। রায়ে পরেশের সাজা কমে দুই বছরের কারাদণ্ড হয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন আবেদন করেন পরেশ। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ে পরেশকে দায়রা আদালতের দোষীসাব্যস্ত করা ও সাজা বাতিল ঘোষণা করা হয়। ফলে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পান তিনি। হাইকোর্টের রায় ঘোষণার আগে ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই মারা যান পরেশ।

পরেশের মৃত্যুর পর অর্থ উদ্ধার মামলায় জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা প্রথম আপিলে বিবাদী হিসেবে তাঁর স্ত্রী রিতা রানী দাস, ছেলে প্রণব কুমার দাস ও মেয়ে লিপি রানী দাস ২০২৫ সালের ২৬ মে পক্ষভুক্ত হন।

আইনি প্রক্রিয়ায় ১৬ বছর কেটে গেছে বলে উল্লেখ করেন পরেশের ছেলে প্রণব কুমার দাস। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে বাবাসহ আমাদের আমাদের পরিবারকে অনেক ভোগান্তি ও হয়রানি পোহাতে হয়েছে। সামাজিকভাবেও হেয় হতে হয়েছে। আইনি লড়াই চলার মধ্যেই বাবা মারা যান। প্রকৃত অপরাধীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। বাবা নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। তবে তিনি রায়টা দেখে যেতে পারেননি, যা আমাদের কষ্ট দেয়।’

ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন পরেশের চাকরির প্রায় দুই যুগ হয়েছিল বলে জানান প্রণব কুমার দাস। তিনি বলেন, ‘বাবা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর চাকরি–পরবর্তী প্রাপ্য সুবিধা আমাদের পরিবারকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে, এটাই প্রত্যাশা।’

 

ভল্ট থেকে কোটি টাকা লুটের মামলায় নির্দোষ পরেশ : রায় দেখে যেতে পারেন নি জীবদ্দশায় 

ডেস্ক প্রতিবেদন ::

জাতীয় ম্যাগাজিন ‘মাসিক অগ্নিবার্তা’র গৌরবময় ৩২ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২৫ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি., শনিবার, সকাল ১১:০০ টায় অগ্নিবার্তা কার্যালয়ে এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কবি, সাংবাদিক, কৃষিবিদ, সমাজসেবকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সাবেক প্রধান ও বিশিষ্ট কবি প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল, প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অগ্নিবার্তা পত্রিকার সম্পাদক জনাব গোলাম মোস্তফা।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মো. জিন্নাতুল ইসলাম (জিন্নাহ), বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজ্বী ইব্রাহীম খলিল সবুজ, লায়ন মো. মোস্তাফিজুল আজম মামুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. ফরিদুজ্জামান খান, জনাব সানোয়ার হোসাইন, জনাব আবুল কালাম আজাদ, জনাব আশরাফ সরকারসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথি ড. মোস্তফা দুলাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যম কেবল তথ্য পরিবেশনের মাধ্যম নয়, বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার অন্যতম হাতিয়ার। ‘মাসিক অগ্নিবার্তা’ দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থের পক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে একটি বিশ্বাসযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি ভবিষ্যতে আরও আধুনিক, তথ্যসমৃদ্ধ ও জনবান্ধব প্রকাশনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।।

প্রধান আলোচক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ যেমন বেড়েছে, তেমনি এর দায়িত্বও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বস্তুনিষ্ঠতা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে একটি গণমাধ্যমই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। ‘মাসিক অগ্নিবার্তা’ এই ক্ষেত্রে একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাতুল ইসলাম (জিন্নাহ) তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি গণমাধ্যমের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে তার সাহসী অবস্থান ও জনমানুষের প্রতি দায়বদ্ধতায়। ‘মাসিক অগ্নিবার্তা’ দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও সত্যকে লালন করে আসছে, যা নতুন প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি এই ধারাবাহিকতা আরও বেগবান করার আহ্বান জানান।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজ্বী ইব্রাহীম খলিল সবুজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি সুস্থ ও সচেতন সমাজ গঠনে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা অপরিহার্য। ‘মাসিক অগ্নিবার্তা’ গত ৩২ বছরে সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। তিনি পত্রিকাটির উত্তরোত্তর উন্নতি ও দেশ-জাতির কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সভাপতি গোলাম মোস্তফা তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘মাসিক অগ্নিবার্তা’র ৩২ বছরের এই পথচলা ছিল সংগ্রাম, প্রতিশ্রুতি ও সফলতার এক ধারাবাহিক ইতিহাস। পাঠক, লেখক ও শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং আস্থাই এ অগ্রযাত্রার মূল শক্তি। তিনি আগামী দিনে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী কনটেন্টের মাধ্যমে পত্রিকাটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন জনাব মো. শহিদুল আলম সরকার। সভা সঞ্চালনা করেন এডভোকেট তানিয়া সুলতানা।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

জাতীয় ম্যাগাজিন ‘মাসিক অগ্নিবার্তা’র ৩২ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত


নগর সংবাদ দাতা,২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ::
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) একটি অরাজনৈতিক, কল্যাণমুখী পেশাজীবী সংগঠন। সংগঠনটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করার লক্ষ্যে আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগর ৩১ সদস্য বিশিষ্ট থানা কমিটি অনুমোদন প্রদান করা হয়।
অনুমোদন প্রদান করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট লেখক ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি এ সময় নবগঠিত কমিটির সদস্যদের প্রতি সংগঠনের আদর্শ, নীতি ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাংবাদিক গিলবার্ট গমেজ শিশির এবং কেন্রীয় দপ্তর সম্পাদক, কৃষিবিদ হাসান রুহী। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ নবগঠিত কমিটির সফলতা কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও, উক্ত কমিটির নেতৃবৃন্দকে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে বাসায় ছাদ কৃষিতে আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়, যা নগর জীবনে সবুজায়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) দেশের পেশাজীবীদের অধিকার রক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন’র শেরে বাংলা নগর থানা কমিটি অনুমোদন ও ছাদ কৃষিতে উৎসাহ সৃষ্টির জন্য বীজ বিতরণ

ডেস্ক রিপোর্ট::

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে রাজধানীর মালিবাগস্থ হোসাফ টাওয়ারে অবস্হিত অভিজাত রাজবাড়ি কুইজিন চাইনিজে “অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বনাম মানবিক উন্নয়ন” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

একইসঙ্গে নগর জীবনে সবুজায়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল ছাদবাগানীদের মাঝে উন্নত জাতের সবজি বীজ ও বিভিন্ন ধরনের জৈব সার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও বিশিষ্ট লেখক সরকার ড. মো. আবুল কালাম আজাদ।

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন ঢাকা প্রেস ক্লাব ট্রাস্ট সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন খান।

প্রধান আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি

প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মানবিক উন্নয়নের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উদ্বোধক আলতাফ মাহমুদ বলেন, প্রকৃত উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয় যখন তা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিফলিত হয়। তিনি গ্রামীণ ঐতিহ্য, কৃষি ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে একীভূত করে টেকসই সমাজ গঠনের আহ্বান জানান এবং ছাদবাগানকে নগর জীবনে সম্ভাবনাময় সবুজ বিপ্লব হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথি মো. মফিজ উদ্দিন খান বলেন, কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, বরং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই প্রকৃত অগ্রগতি। তিনি সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল বলেন, উন্নয়নের সূচক যদি শুধু অর্থনৈতিক পরিমাপে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মানবিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নৈতিকতার বিকাশকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি নগর কৃষি ও ছাদবাগানকে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যেও টেকসই উন্নয়ন, স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার, পরিবেশ সচেতনতা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, নগর জীবনে ছাদবাগান এখন শুধু শখ নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের একটি বাস্তবসম্মত উদ্যোগ।

সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন মানবিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সকল স্তরে পৌঁছে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। তিনি পরিবেশবান্ধব নগর গঠনে ছাদবাগানকে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-রিজিয়া বেগম, মোসা: শাহ্ নওআজ আবেদীন,শামসুল করিম, আমির হোসেন, মিয়া মো. মুজিবুল হক, মো. শহিদুল্লাহ ভুঁইয়া, সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ, সাংবাদিক এফ রহমান রুপক, হাজ্বী তারিকুল ইসলাম তরু, সাংবাদিক মো. শফিউর রহমান কাজী, এম এ করিম খাঁন, রাশেদুল হাসান, সৈয়দ মোশাররফ হোসেন পাপ্পু, মো. আসিফ হাওলাদার ইলিয়াস, এডভোকেট মনিদ্রনাথ, মো. মাকসেছুল ইসলাম নয়ন, মুরসালিনা আক্তার ডালিয়া, খন্দকার আবিদ আহমেদ, সাংবাদিক মো. আব্দুল মাবুদ জীবন, মো. সানোয়ার হোসাইন, মানবাধিকার কর্মী ও লেখক প্রসপারিনা সরকার, সাংবাদিক গিলবার্ট গমেজ শিশির, কৃষিবিদ মো. হাসান রুহি এবং বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ হাফেজ মাওলানা মুফতী মুর্তজা ইবনে মোস্তফা সালেহী সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জনাব জামাল আহমেদ।

আলোচনা শেষে ২০২৬ সালের SSC পরীক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবিক উন্নয়নের সমন্বয়ে টেকসই সমাজ গঠনের আহ্বান পেশাজীবীদের

কৃষি ডেস্ক ::

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর উদ্যোগে নগর এলাকায় সবুজায়ন সম্প্রসারণ ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি কার্যকর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় বাসা-বাড়ির ছাদ ও বারান্দায় সবজি চাষাবাদে উৎসাহিত করতে আগ্রহীদের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ প্রদান করা হয়।

উক্ত কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনে’র সভাপতি ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ।

তিনি বলেন, সীমিত পরিসরে হলেও ছাদ ও বারান্দায় সবজি চাষের মাধ্যমে পরিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ নগরবাসীর মাঝে কৃষিমুখী সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

ছাদ ও বারান্দায় সবজি চাষে বীজ বিতরণ কার্যক্রম

 
কৃষি ডেস্ক ::
🔳 মালসা/পাত্র নির্বাচন:
ধারণক্ষমতা: ৫০-৮০ লিটার (ড্রাম/বড় টব)
নিচে ৩-৫টি ছিদ্র থাকতে হবে (ড্রেনেজের জন্য)
প্লাস্টিক ড্রাম/সিমেন্ট টব/মাটির বড় পাত্র ব্যবহারযোগ্য
 
🔳 মাটি প্রস্তুতি:
বেলে দোঁআশ মাটি – ৫০%
পচা গোবর/কম্পোস্ট – ৩০%
বালি – ১০%
ভার্মি কম্পোস্ট – ১০%
সাথে: হাড়ের গুঁড়া ৫০-১০০ গ্রাম + ছাই ৫০ গ্রাম
🔳 চারা রোপণ:
রোগমুক্ত সাকার/টিস্যু কালচার চারা নিন
এক পাত্রে ১টি গাছ
উপরে ২-৩ ইঞ্চি ফাঁকা রাখুন
 
🔳 সেচ ব্যবস্থা:
মাটি আর্দ্র রাখুন, পানি জমে থাকা যাবে না
গরমে প্রতিদিন, শীতে ২-৩ দিনে একবার
🔳 আলো ও অবস্থান:
প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা রোদ
ঝড়ো বাতাস থেকে সুরক্ষা, প্রয়োজনে খুঁটি দিন
🔳 সার প্রয়োগ (মাসভিত্তিক):
১ম মাস:
২-৩ কেজি জৈব সার (আগে মাটিতে মিশানো)
২য়-৩য় মাস:
প্রতি ১৫ দিনে তরল জৈব সার ১–২ লিটার
ইউরিয়া ২০–৩০ গ্রাম + টিএসপি ২০ গ্রাম
৪র্থ-৫ম মাস:
প্রতি ২০ দিনে: ইউরিয়া ৩০–৪০ গ্রাম + এমওপি ২০–৩০ গ্রাম
ছাই ১ মুঠো
৬ষ্ঠ-৭ম মাস:
ইউরিয়া ৩০ গ্রাম + এমওপি ৩০–৪০ গ্রাম (প্রতি ২০–২৫ দিনে)
🔳 মোচা আসার সময় (৭-৯ মাস):
এমওপি ৪০-৫০ গ্রাম + টিএসপি/ডিএপি ২০-৩০ গ্রাম
 
🔳 ফল বড় হওয়ার সময়:
প্রতি ১৫-২০ দিনে তরল জৈব সার + ছাই ১-২ মুঠো
🔳 পরিচর্যা:
শুকনো পাতা কেটে ফেলুন
অতিরিক্ত চারা রেখে দেবেন না (১-২টি রাখুন)
পোকা দমনে নিম তেল স্প্রে (মাসে ১ বার)
 
🔳 ফলন:
৮-১২ মাসে ফল আসে
ভালো যত্নে ১টি গাছে ১টি থোকা পাওয়া সম্ভব
সার গাছের গোড়া থেকে ৩-৪ ইঞ্চি দূরে দিন
একবারে বেশি সার নয়-ভাগে ভাগে দিন
পানি দেওয়ার পর সার দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়
ভারী হলে মালসার নিচে স্ট্যান্ড/চাকা ব্যবহার করুন
 অল্প জায়গায় সঠিক পরিচর্যায় মালসায় কলা চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
লেখক
★সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ
★প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক ও পরীক্ষক (কৃষি শিক্ষা)
★কৃষিতে বারো মাস গ্রন্থ সহ বহু গ্রন্থের লেখক

   মালসায় কলা চাষ 

কৃষি ডেস্ক ::     
বাংলাদেশের কৃষি আজ বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে। সীমিত জমি, বাড়তি উৎপাদন ব্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষকদের বিকল্প ও লাভজনক চাষপদ্ধতির দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। এই বাস্তবতায় ধানের জমিতে মাছ চাষ একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
এই পদ্ধতিতে একই জমিতে ধান ও মাছ একসঙ্গে চাষ করা হয়। ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, কৃষকের আয় বাড়ে এবং পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়।
ধানের জমিতে মাছ চাষের জন্য নিচু বা মাঝারি উঁচু জমি সবচেয়ে উপযোগী, যেখানে  ৪-৫  মাস পানি ধরে রাখা যায়। জমির চারদিকে ১ থেকে ১.৫ ফুট উঁচু বাঁধ তৈরি করতে হয়। পাশাপাশি জমির এক পাশে বা চার কোণে মোট জমির ৫-১০ শতাংশ জায়গা নিয়ে নালা বা গর্ত রাখতে হয়, যা মাছের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।
ধান নির্বাচনের ক্ষেত্রে পানিসহিষ্ণু ও দীর্ঘমেয়াদি জাত বেশি উপযোগী। BR11, BRRI dhan 49, BRRI dhan 52 ছাড়াও উপযোগী দেশি জাত ব্যবহার করা যায়। মাছের ক্ষেত্রে দেশি ও চাষযোগ্য মাছের মিশ্রচাষে ভালো ফলন পাওয়া যায়। টেংরা, পুঁটি, মলা, কৈ, শিংয়ের পাশাপাশি রুই, কাতলা, মৃগেল বা তেলাপিয়া চাষ করা যেতে পারে।
ধান রোপণের ১৫-২০ দিন পর মাছের পোনা ছাড়তে হয়। প্রতি শতাংশ জমিতে গড়ে ২০-৩০টি পোনা ছাড়া নিরাপদ। পোনার ওজন ৫-১০ গ্রাম হলে বেঁচে থাকার হার বেশি হয়। ধানের জমিতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের খাদ্য তৈরি হয় বলে অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন কম পড়ে। প্রয়োজনে অল্প পরিমাণ ভুসি বা খৈল দেওয়া যেতে পারে।
পানি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। ধানের জন্য ৪-৬ ইঞ্চি পানি যথেষ্ট। অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে সংযমী হতে হবে, কারণ এগুলো মাছের জন্য ক্ষতিকর। সম্ভব হলে জৈব ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করাই উত্তম।
ধান কাটার সময় আংশিকভাবে মাছ সংগ্রহ করা যায় এবং ধান কাটার পর সম্পূর্ণ মাছ আহরণ সম্ভব। এতে একই জমি থেকে দুটি ফসল পাওয়া যায়, যা কৃষকের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।
সবশেষে বলা যায়, ধানের জমিতে মাছ চাষ একটি লাভজনক, পরিবেশবান্ধব ও পুষ্টিসমৃদ্ধ কৃষি পদ্ধতি। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার মাধ্যমে এই সমন্বিত চাষব্যবস্থা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
লেখক:
★বসভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন(BPF)।
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার।
★ উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ, অগ্নিবার্তা।
★ প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক(কৃষি শিক্ষা)।
★ কৃষি বিষয়ক বহু গ্রন্থের লেখক

কৃষকের মুখে হাসি- ধানের জমিতে মাছ চাষ : দ্বিগুণ ফসল, দ্বিগুণ সম্ভাবনা

ডেস্ক রিপোর্ট ::
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আজ ১৩ মার্চ (শুক্রবার)  বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) এর উদ্যোগে রাজধানীর পুরান ঢাকার একটি এতিমখানার  শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩ শতাধিক ব্যক্তির মধ্যে চিকেন পোলাও ও খেজুর সমন্বয়ে প্রস্তুতকৃত ইফতার প্যাকেট বিতরণ করা হয়।
এই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিপিএফ’র কেন্দ্রীয় সভাপতি বিশিষ্ট লেখক আলহাজ্ব ড. সরকার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাস মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার শিক্ষা দেয়। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, বিপিএফ একটি অরাজনৈতিক কল্যাণমুখী পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন’র উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ইফতার বিতরণ

কৃষি ডেস্ক ::

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর উদ্যোগে “সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা, রাজধানীতে ছাদ কৃষির জন্য উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ, ইফতার ও দোয়া মাহফিল রবিবার (০৮ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ-এর ভিআইপি সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)’র সভাপতি আলহাজ্ব ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)’র সাবেক পরিচালক মিজানুর রহমান গ্রামসি। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ, কবি ও কথাসাহিত্যিক প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমেদ।

উদ্বোধক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আরও বেগবান করতে পেশাজীবী সমাজকে দায়িত্বশীল ও নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রধান অতিথি মিজানুর রহমান গ্রামসি বলেন, একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেশের উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক অগ্রগতিতে পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল বলেন, টেকসই উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে পেশাজীবীদের গবেষণা, সৃজনশীল চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ অতিথি- জীবন বীমা কর্পোরেশনের পরামর্শক(অব: অতিরিক্ত সচিব) শ্রী অসিত কুমার মুকুটমণি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পেশাজীবীদের দক্ষতা, সততা ও দায়বদ্ধতার সমন্বয়ই একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়নে পেশাজীবীদের নৈতিক নেতৃত্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, নৈতিকতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন কাজ করে যাচ্ছে।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে  উপস্থিত ছিলেন গোলাম মোস্তফা, সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদক, জাতীয় ম্যাগাজিন অগ্নিবার্তা, মাহফুজুর রহমান খান, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও সমাজ বিশ্লেষক; বীর মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ, সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক; এবং মুফতি মাওলানা মূর্তাজা ইবনে মোস্তফা সালেহী, বিশিষ্ট ইসলামী আলোচক (বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও বাংলাদেশ বেতার) এফ রহমান রূপক, সভাপতি, বাংলাদেশ মডেল প্রেস ক্লাব; মো: ইমাম হোসেন, সহ সম্পাদক, দৈনিক সকালের সময়,  মো. মফিজ উদ্দিন খাঁন, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিজিএ, ঢাকা,  মোহাম্মদ আব্দুল মা’বুদ জীবন, সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ,  মো. আব্দুল করিম খাঁন, সাধারণ সম্পাদক, ডিপিডিসি প্রকৌশলী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদ, মো. সানোয়ার হোসাইন, উপদেষ্টা, ঢাকা দক্ষিণ সাংবাদিক ফোরাম, লায়ন মোস্তাফিজুল আজম মামুন, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী, খোন্দকার আবিদ আহম্মেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি, পদ্মা সমিতি, মো. শাফিউর রহমান কাজী, সহ-সম্পাদক, দৈনিক ঘোষণা এবং জনাব মানস কুমার আচার্য অপু, বিশিষ্ট বীমা উন্নয়ন কর্মী।

আলোচনা সভা শেষে উপস্থি সকলকে ছাদে চাষাবাদের জন্য উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া এবং ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা : রাজধানীতে ছাদ কৃষির জন্য সবজি বীজ বিতরণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

কৃষি ডেস্ক ::

রমজান মাস আত্মসংযম ও ইবাদতের মাস। এই পবিত্র মাসে দেশের কৃষক সমাজ রোজা রেখেই মাঠে-ঘাটে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যান, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে রোজার কারণে দীর্ঘ সময় না খেয়ে কৃষি কাজ করলে শারীরিক দুর্বলতা ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই রমজান মাসে কৃষি কাজের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

রমজানে কৃষি কাজের সময়সূচি সঠিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সাহরির পর ভোরের সময় ভারী কৃষি কাজ সম্পন্ন করা তুলনামূলক নিরাপদ। দুপুরের প্রচণ্ড রোদে কাজ এড়িয়ে চলা এবং বিকেলে হালকা কাজ করাই উত্তম। এতে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে।
সাহরি ও ইফতারে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানিশূন্যতা এড়াতে ডাবের পানি, শরবত ও লবণ-চিনি মিশ্রিত পানি উপকারী। পাশাপাশি সাহরিতে ভাত বা রুটি, ডাল, ডিম, শাকসবজি জাতীয় পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে সারাদিন কাজ করার শক্তি পাওয়া যায়। ইফতারে ভাজাপোড়া কম এবং ফলমূল ও সহজপাচ্য খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কৃষি কাজে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করাও জরুরি। সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ সকাল বা সন্ধ্যায় করা উচিত। কীটনাশক ব্যবহারের সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে। এ ছাড়া যেখানে সম্ভব সেখানে পাওয়ার টিলার, স্প্রে মেশিনসহ যান্ত্রিক কৃষি উপকরণ ব্যবহার করলে শ্রম ও শক্তি সাশ্রয় হয়।
ফসলভিত্তিক ব্যবস্থাপনাও রমজানে গুরুত্বপূর্ণ।

বোরো ধানে সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। সবজি ক্ষেতে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত সেচ দিতে হবে এবং ফলের বাগানে মালচিং ব্যবহার করলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা সম্ভব হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কৃষকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা। হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরা, মাথা ঢেকে কাজ করা এবং দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা অনুভব করলে তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কাজ ভাগ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

রমজানে সুস্থ কৃষকই সফল কৃষির মূল শক্তি। কৃষক সুস্থ থাকলে কৃষি টেকসই হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক:
 সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
★সভাপতি: বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন(BPF)।
★কৃষি লেখক ও কথক: বাংলাদেশ বেতার।
★উপদেষ্টা: দৈনিক গ্রামীণ কৃষি,দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ,  অগ্নিবার্তা।
★EX. সিনিয়র শিক্ষক (কৃষি শিক্ষা)।
★কৃষি বিষয়ক বহু গ্রন্থের লেখক

রমজানে কৃষক ভাইদের করণীয় : কৃষি কাজ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা