অনুসন্ধান ডেস্ক ::

সম্প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর কপিরাইট রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত সচিব) এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র সহকারী সচিব মহোদয়ের হাতে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) প্রকাশিত গ্রন্থ ‘বাংলার আধ্যাত্মিক রত্ন সম্ভার-২০ জন মহান আউলিয়ার জীবন ও সাধনা’ সৌজন্য উপহার হিসেবে তুলে দেন বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের (BPF) এর সভাপতি বিশিষ্ট লেখকড.  সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ।

এ সময় তিনি গ্রন্থটির প্রকাশনার উদ্দেশ্য, বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মহান আউলিয়াদের জীবনাদর্শ তুলে ধরার গুরুত্ব সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। কপিরাইট রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার গ্রন্থটি গ্রহণ করে এর প্রকাশনা উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং লেখকের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

কপিরাইট রেজিস্ট্রারকে ‘বাংলার আধ্যাত্মিক রত্ন সম্ভার’ গ্রন্থ উপহার বিপিএফ’র সভাপতির

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিশিষ্ট লেখক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ জাতীয় মাসিক পত্রিকা অগ্নিবার্তা-এর সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা, সিনিয়র সাংবাদিক সমাজ বিশ্লেষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ এবং দৈনিক আমাদের কণ্ঠ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক মো. ইউসুফ আলী’র সঙ্গে ৪ আগষ্ট সন্ধ্যায় সালিমাবাদ ভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।

সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সমসাময়িক সামাজিক, সাংস্কৃতিক, গণমাধ্যম এবং জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের হাতে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) প্রকাশিত তাঁর রচিত গ্রন্থ “বাংলার আধ্যাত্মিক রত্নসম্ভার” তুলে দেন।
গ্রন্থটিতে বাংলার ২০ জন মহান আউলিয়ার জীবন, কর্ম, সাধনা এবং সমাজে তাঁদের অবদানের ওপর তথ্যবহুল ও গবেষণাধর্মী আলোচনা স্থান পেয়েছে।

বইটি ইতোমধ্যে পাঠকমহলে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ গ্রন্থটির বিষয়বস্তু ও প্রকাশনার প্রশংসা করেন এবং আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, ইতিহাস ও মূল্যবোধভিত্তিক এ ধরনের প্রকাশনা সমাজে ইতিবাচক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

শেষে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও মতবিনিময় হয়। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষ হয়।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর শেরেবাংলা নগর ও তেজগাঁও থানা কমিটি এবং এফএমজি ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের সামনে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বিশিষ্ট লেখক ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক গিলবার্ট গমেজ শিশির, শেরেবাংলা নগর থানা কমিটির সভাপতি মো. মেহেদী হাসান মুন্না, সহ-সভাপতি মো. শাহজাহান বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক সিসিলিয়া হিরা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মৌ গমেজ, অর্থ সম্পাদক বিজলী গমেজসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় ড. আজাদ বলেন, “স্বেচ্ছায় রক্তদান মানবতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেবা। একজন সুস্থ মানুষের স্বেচ্ছায় দেওয়া এক ব্যাগ রক্ত একজন অসুস্থ মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। সমাজে নিরাপদ রক্তের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে তরুণ সমাজকে আরও বেশি স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন’র উদ্যোগে রাজধানীতে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি

কৃষি ডেস্ক ::
বর্তমান বিশ্বে নিরাপদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও কার্যকর খাদ্যের (Functional Food) চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের কাছে প্রাকৃতিক পুষ্টির উৎস, ভেষজ উপাদান এবং উদ্ভিজ্জ তেলের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে পেরিলা (Perilla frutescens) একটি সম্ভাবনাময় উচ্চমূল্যের (High Value Crop) ফসল হিসেবে বিশ্বব্যাপী কৃষি ও খাদ্যশিল্পে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে।
পূর্ব এশিয়ার জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ভিয়েতনামে শত শত বছর ধরে পেরিলা শাক, মসলা, ভেষজ উদ্ভিদ এবং তেলবীজ ফসল হিসেবে চাষ হয়ে আসছে। বর্তমানে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও উদ্ভিজ্জ তেলের উৎস হিসেবে এর চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশের জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ এবং উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্যের ক্রমবর্ধমান বাজার বিবেচনায় পেরিলা একটি সম্ভাবনাময় নতুন অর্থকরী ফসল হিসেবে কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
🔳পেরিলা কি?
পেরিলা পুদিনা (Lamiaceae) পরিবারের একটি সুগন্ধি একবর্ষজীবী (Annual Herb) উদ্ভিদ। এর পাতা, কচি ডগা, বীজ এবং বীজ থেকে উৎপাদিত তেল-সবকিছুরই রয়েছে বাণিজ্যিক মূল্য।
পেরিলার সবুজ ও বেগুনি রঙের বিভিন্ন জাত পাওয়া যায়। এর সুগন্ধযুক্ত পাতা সালাদ, স্যুপ, ভর্তা, চা, বিভিন্ন রান্না এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে এর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে একটি উন্নতমানের স্বাস্থ্যকর ভোজ্য তেল হিসেবে পরিচিত।
🔳পুষ্টিগুণে অনন্য পেরিলা
 পেরিলা মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের সমৃদ্ধ উৎস। এতে রয়েছে-
★ উচ্চমাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (Alpha-Linolenic Acid-ALA)
★ শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Rosmarinic Acid, Flavonoids ও Polyphenols)
★ ভিটামিন A, C ও K
★ ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও জিঙ্ক
★ খাদ্য আঁশ (Dietary Fiber)
★ উচ্চমানের উদ্ভিজ্জ প্রোটিন (বিশেষ করে বীজে)
এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কোষ সুরক্ষা এবং সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
 
🔳সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা
গবেষণালব্ধ তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য তালিকায় পেরিলা অন্তর্ভুক্ত করলে-
★ হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
★ শরীরের প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
★ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।
★ পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে।
★ ত্বক ও চুলের পুষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
★ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাধ্যমে কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
তবে পেরিলা একটি পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান; এটি কোনো রোগের বিকল্প চিকিৎসা নয়।
 
🔳বাংলাদেশে পেরিলা চাষের সম্ভাবনা
 বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া, উর্বর মাটি এবং দীর্ঘ উৎপাদন মৌসুম পেরিলা চাষের জন্য উপযোগী। পর্যাপ্ত সূর্যালোক, সুনিষ্কাশিত জমি এবং সুষম সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক উৎপাদন সম্ভব।
পেরিলা একটি স্বল্পমেয়াদি ও উচ্চমূল্যের ফসল, যা মাঠ ফসল, বসতবাড়ির আঙিনা, ছাদবাগান এবং সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থাপনায় চাষ করা যায়। এটি কৃষকের ফসল বহুমুখীকরণ (Crop Diversification), পুষ্টি নিরাপত্তা এবং আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
 
🔳চাষাবাদ ব্যবস্থাপনা
জীবনকাল:
পেরিলা একটি একবর্ষজীবী (Annual) ফসল। জাত, আবহাওয়া ও পরিচর্যার ওপর নির্ভর করে এর মোট জীবনকাল সাধারণত ৯০-১২০ দিন।
রোপণের ৪৫-৬০ দিনের মধ্যে কচি পাতা ও ডগা সংগ্রহ করা যায়।
৯০-১২০ দিনের মধ্যে বীজ পরিপক্ব হয় এবং সংগ্রহ উপযোগী হয়।
মাটি নির্বাচন:
উর্বর, ঝুরঝুরে, জৈব পদার্থসমৃদ্ধ এবং সুনিষ্কাশিত দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি পেরিলা চাষের জন্য উপযোগী। মাটির pH ৫.৫-৭.০ হলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
বপন ও রোপণ সময়:
বাংলাদেশের পরিবেশে সাধারণত-
ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল
আগস্ট-সেপ্টেম্বর
সময়ে বপন করা যেতে পারে।
রোপণ দূরত্ব:
সারি থেকে সারি: ৪৫-৬০ সেন্টিমিটার
গাছ থেকে গাছ: ২৫-৩০ সেন্টিমিটার
🔳শতাংশ প্রতি সার ব্যবস্থাপনা
প্রতি ১ শতাংশ জমিতে  সার প্রয়োগ-
পচা গোবর/কম্পোস্ট: ৪০-৫০ কেজি
ইউরিয়া: ৪০০-৫০০ গ্রাম
টিএসপি: ৩০০-৩৫০ গ্রাম
এমওপি (পটাশ): ২০০-২৫০ গ্রাম
জিপসাম: ১৫০-২০০ গ্রাম
জিংক সালফেট: ২০-২৫ গ্রাম (প্রয়োজনে)
বোরিক অ্যাসিড/বোরন সার: ১০-১৫ গ্রাম (প্রয়োজনে)
🔳সার প্রয়োগ পদ্ধতি
 জমি তৈরির সময় গোবর, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম, জিংক ও বোরন সার  মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়ার অর্ধেক জমি তৈরির সময় এবং বাকি অর্ধেক রোপণের ২৫-৩০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করা ভালো।
🔳পরিচর্যা
নিয়মিত আগাছা দমন করতে হবে।
প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিতে হবে।
মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ করতে হবে।
রোগ ও পোকা দমনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা  অনুসরণ করতে হবে।
🔳ফসল সংগ্রহ
 পাতা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ৪৫–৬০ দিনের মধ্যে সংগ্রহ শুরু করা যায়। বীজ উৎপাদনের জন্য গাছের ফুল ও বীজ পরিপক্ব হওয়ার পর ৯০–১২০ দিনের মধ্যে সংগ্রহ করতে হয়।
 
🔳অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
 বর্তমানে স্বাস্থ্যকর খাদ্য, ভেষজ পণ্য এবং উদ্ভিজ্জ তেলের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। পেরিলা বীজ ও তেলের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় এটি কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রক্রিয়াজাতকরণ, মূল্য সংযোজন (Value Addition), তেল উৎপাদন এবং রপ্তানিমুখী বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমে পেরিলা বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
🔳ভবিষ্যৎ করণীয়
 বাংলাদেশে পেরিলার বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে প্রয়োজন
স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী উচ্চফলনশীল জাত নির্বাচন ও উদ্ভাবন।
মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী প্লট স্থাপন।
পেরিলা তেল ও মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনে উদ্যোক্তা তৈরি।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে কার্যকর বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর  ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ।
পেরিলা শুধু একটি সুগন্ধি ভেষজ উদ্ভিদ নয়; এটি পুষ্টি নিরাপত্তা, কৃষি বহুমুখীকরণ এবং উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য উৎপাদনের একটি সম্ভাবনাময় ফসল।
যথাযথ গবেষণা, মানসম্মত বীজ উৎপাদন, কৃষক প্রশিক্ষণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা গেলে পেরিলাকে বাংলাদেশে একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। নিরাপদ খাদ্য, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানিমুখী কৃষি উন্নয়নে পেরিলা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
লেখক: ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
★সভাপতি: বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক: বাংলাদেশ বেতার
★EX. সিনিয়র শিক্ষক ও পরীক্ষক: কৃষি শিক্ষা,
    কৃষিতে বারো মাস গ্রন্থ সহ বহু গ্রন্থের লেখক
★উপদেষ্টা: দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ।

পেরিলা: সম্ভাবনাময়  অর্থকরী নতুন ফসল

ডেস্ক প্রতিবেদন ::

১৬ বছর আগে ফরিদপুরে জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা থেকে প্রায় কোটি টাকা লুট হয়। এ ঘটনায় চুরির অভিযোগে করা মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত বছর খালাস পান ব্যাংকটির তৎকালীন নিরাপত্তাপ্রহরী পরেশ চন্দ্র দাস। তবে এই মামলায় হাইকোর্টে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগেই তিনি মারা যান।

একই ঘটনায় মানি স্যুটের (অর্থ উদ্ধারের জন্য দেওয়ানি মামলা) পরিপ্রেক্ষিতে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা প্রথম আপিল খারিজ করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট। বিবাদীদের (পরেশের পরিবার) প্রতি হয়রানি–ভোগান্তির জন্য হাইকোর্ট আপিলকারীকে (জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ) ক্ষতিপূরণমূলক খরচবাবদ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে নির্দেশ দেন। আর পুরো এই অর্থ পরেশের পরিবারের সদস্যের অনুকূলে পরিশোধ করতে বলা হয়।

নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে জনতা ব্যাংকের ফরিদপুর করপোরেট শাখার ভল্ট থেকে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯০ টাকা চুরি বা লুট হয়। তখন নিরাপত্তাপ্রহরী পরেশের বয়স ছিল ৫০ বছর। ঘটনার পরদিন ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এই মামলায় পরেশকে গ্রেপ্তার করা হয়, পরে তিনি জামিন পান।

চুরির অভিযোগে করা ফৌজদারি এই মামলা বিচারাধীন অবস্থায় জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা উদ্ধারের জন্য ২০১৩ সালের ৪ আগস্ট ফরিদপুরের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মানি স্যুট করেন। তিন বছর পর ২০১৬ সালের ২৯ জুন আদালত তা খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আদালত ১০ হাজার টাকা খরচা আরোপ করেন জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি।

বিচারিক আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে হাইকোর্টে আপিল (প্রথম আপিল) করে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এই আপিল খারিজ করে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩ ফেব্রুয়ারি রায় দেনহাইকোর্টের রায়ে ১০ হাজার টাকা খরচা আরোপের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণমূলক খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, চাঞ্চল্যকর এই মামলায় ৯৪ লাখের বেশি অর্থ লুটের অভিযোগ করা হয়। ব্যাংকের ভল্ট খোলার বিষয়ে কোনো অর্থপূর্ণ তদন্ত না করে কেবল ১ নম্বর বিবাদীসহ (পরেশ) দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ভল্টটি কীভাবে খোলা হয়েছিল, তা নির্ণয়ে পুলিশ কার্যকর কোনো তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি দুর্ভাগ্যজনক যে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুট হওয়া সত্ত্বেও প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ অন্যান্য ব্যক্তির ভূমিকা যথাযথভাবে তদন্ত না করে শুধু ১ নম্বর বিবাদীকে (পরেশ) জড়িত করেছে। বিশেষ করে ভল্টের চাবি যাঁদের হেফাজতে ছিল এবং পিকনিক থেকে ফিরে ঘটনার দিন ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে যাঁরা আবার ব্যাংকে প্রবেশ করেছিলেন, তাঁদের বিষয়ে। এতে এমন যুক্তিসংগত আশঙ্কা তৈরি হয় যে প্রকৃত অপরাধীদের আড়ালের উদ্দেশ্য ছিল।

প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থ

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, কর্তৃপক্ষ এই আপিল শুধু ১ নম্বর বিবাদীকে (পরেশ) অপরাধী হিসেবে প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে করেছে, যেখানে অন্যদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা উপেক্ষা করা হয়েছে। এ ধরনের আচরণ আদালতের কার্যপ্রণালির অপব্যবহারের শামিল। ফলে খরচাসহ আপিলটি (জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা) খারিজ করা হলো।

আদালতে পরেশের পরিবারের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। গত সোমবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হয়রানি ও ভোগান্তির জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ পরেশের পরিবারকে সব মিলিয়ে ৬০ হাজার টাকা দিতে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। চুরি বা লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারের জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা চলে না বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে এসেছে। চুরি বা লুটের অভিযোগে অর্থ উদ্ধারে মূল মামলাটি ভ্রান্ত ধারণাপ্রসূত ও গ্রহণযোগ্য নয় রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে আপিলটি খারিজ করা হয়েছে। যাঁদের হেফাজতে ভল্টের চাবি ছিল, তাঁদের ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলায় আসামি বা পক্ষ করা হয়নি। শুধু একজন নিরাপত্তাপ্রহরীকে জড়ানো হয়েছে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য। তাই জনতা ব্যাংকের এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া দরকার।

আদালতে জনতা ব্যাংকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. আরিফ বিল্লাহ ও মো. জামিল আনোয়ার। আইনজীবী আরিফ বিল্লাহ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি এখনো হাতে আসেনি। অনুলিপি পাওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চুরির অভিযোগে করা এই মামলায় ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রায় দেন। রায়ে পরেশকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি দিয়েছিলেন পরেশ। জবানবন্দির ভাষ্য, ২০১০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি ব্যাংকে ঘুমিয়ে থাকেন। গভীর রাতে আসামিরা এসে তাঁর গলায় ছোরা ধরে তাঁকে চুপ থাকতে বলেন। আসামিদের মধ্যে তপু ও জাহিদ ছিলেন। তাঁরা ব্যাংকের সামনে এসে ঘোরাঘুরি করতেন। তাঁরা তাঁকে চা–চটপটি খাওয়াতেন। তাঁরা বলতেন, ব্যাংকে একটি হিসাব খুলবেন। তারপর ঘটনার দিন তাঁরা আসেন। তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা দেন। এই টাকা তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার করতে বলেন। পুলিশ তা উদ্ধার করে।

অবশ্য নথিপত্রে দেখা যায়, মামলা তদন্তের পর পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে জাহিদের নাম আসেনি। তপু ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রায়ে খালাস পান।

ফৌজদারী মামলায়ও খালাস

বিচারিক আদালতের রায়ের পর দায়রা আদালতে আপিল করেন পরেশ। ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের দায়রা আদালত রায় দেন। রায়ে পরেশের সাজা কমে দুই বছরের কারাদণ্ড হয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন আবেদন করেন পরেশ। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ে পরেশকে দায়রা আদালতের দোষীসাব্যস্ত করা ও সাজা বাতিল ঘোষণা করা হয়। ফলে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পান তিনি। হাইকোর্টের রায় ঘোষণার আগে ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই মারা যান পরেশ।

পরেশের মৃত্যুর পর অর্থ উদ্ধার মামলায় জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা প্রথম আপিলে বিবাদী হিসেবে তাঁর স্ত্রী রিতা রানী দাস, ছেলে প্রণব কুমার দাস ও মেয়ে লিপি রানী দাস ২০২৫ সালের ২৬ মে পক্ষভুক্ত হন।

আইনি প্রক্রিয়ায় ১৬ বছর কেটে গেছে বলে উল্লেখ করেন পরেশের ছেলে প্রণব কুমার দাস। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে বাবাসহ আমাদের আমাদের পরিবারকে অনেক ভোগান্তি ও হয়রানি পোহাতে হয়েছে। সামাজিকভাবেও হেয় হতে হয়েছে। আইনি লড়াই চলার মধ্যেই বাবা মারা যান। প্রকৃত অপরাধীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। বাবা নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। তবে তিনি রায়টা দেখে যেতে পারেননি, যা আমাদের কষ্ট দেয়।’

ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন পরেশের চাকরির প্রায় দুই যুগ হয়েছিল বলে জানান প্রণব কুমার দাস। তিনি বলেন, ‘বাবা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর চাকরি–পরবর্তী প্রাপ্য সুবিধা আমাদের পরিবারকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে, এটাই প্রত্যাশা।’

 

ভল্ট থেকে কোটি টাকা লুটের মামলায় নির্দোষ পরেশ : রায় দেখে যেতে পারেন নি জীবদ্দশায় 

ডেস্ক প্রতিবেদন ::

জাতীয় ম্যাগাজিন ‘মাসিক অগ্নিবার্তা’র গৌরবময় ৩২ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২৫ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি., শনিবার, সকাল ১১:০০ টায় অগ্নিবার্তা কার্যালয়ে এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, কবি, সাংবাদিক, কৃষিবিদ, সমাজসেবকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের সাবেক প্রধান ও বিশিষ্ট কবি প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল, প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট লেখক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ এবং অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অগ্নিবার্তা পত্রিকার সম্পাদক জনাব গোলাম মোস্তফা।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক মো. জিন্নাতুল ইসলাম (জিন্নাহ), বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজ্বী ইব্রাহীম খলিল সবুজ, লায়ন মো. মোস্তাফিজুল আজম মামুন, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. ফরিদুজ্জামান খান, জনাব সানোয়ার হোসাইন, জনাব আবুল কালাম আজাদ, জনাব আশরাফ সরকারসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথি ড. মোস্তফা দুলাল তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি দায়িত্বশীল গণমাধ্যম কেবল তথ্য পরিবেশনের মাধ্যম নয়, বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার অন্যতম হাতিয়ার। ‘মাসিক অগ্নিবার্তা’ দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে সত্য, ন্যায় ও জনস্বার্থের পক্ষে নিরলসভাবে কাজ করে একটি বিশ্বাসযোগ্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তিনি ভবিষ্যতে আরও আধুনিক, তথ্যসমৃদ্ধ ও জনবান্ধব প্রকাশনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।।

প্রধান আলোচক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের চ্যালেঞ্জ যেমন বেড়েছে, তেমনি এর দায়িত্বও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বস্তুনিষ্ঠতা, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার সমন্বয়ে একটি গণমাধ্যমই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। ‘মাসিক অগ্নিবার্তা’ এই ক্ষেত্রে একটি অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাতুল ইসলাম (জিন্নাহ) তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি গণমাধ্যমের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে তার সাহসী অবস্থান ও জনমানুষের প্রতি দায়বদ্ধতায়। ‘মাসিক অগ্নিবার্তা’ দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ইতিহাস ও সত্যকে লালন করে আসছে, যা নতুন প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি এই ধারাবাহিকতা আরও বেগবান করার আহ্বান জানান।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজ্বী ইব্রাহীম খলিল সবুজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি সুস্থ ও সচেতন সমাজ গঠনে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা অপরিহার্য। ‘মাসিক অগ্নিবার্তা’ গত ৩২ বছরে সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে। তিনি পত্রিকাটির উত্তরোত্তর উন্নতি ও দেশ-জাতির কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

সভাপতি গোলাম মোস্তফা তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘মাসিক অগ্নিবার্তা’র ৩২ বছরের এই পথচলা ছিল সংগ্রাম, প্রতিশ্রুতি ও সফলতার এক ধারাবাহিক ইতিহাস। পাঠক, লেখক ও শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক সহযোগিতা এবং আস্থাই এ অগ্রযাত্রার মূল শক্তি। তিনি আগামী দিনে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী কনটেন্টের মাধ্যমে পত্রিকাটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন জনাব মো. শহিদুল আলম সরকার। সভা সঞ্চালনা করেন এডভোকেট তানিয়া সুলতানা।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

জাতীয় ম্যাগাজিন ‘মাসিক অগ্নিবার্তা’র ৩২ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত


নগর সংবাদ দাতা,২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ::
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) একটি অরাজনৈতিক, কল্যাণমুখী পেশাজীবী সংগঠন। সংগঠনটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করার লক্ষ্যে আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগর ৩১ সদস্য বিশিষ্ট থানা কমিটি অনুমোদন প্রদান করা হয়।
অনুমোদন প্রদান করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট লেখক ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি এ সময় নবগঠিত কমিটির সদস্যদের প্রতি সংগঠনের আদর্শ, নীতি ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাংবাদিক গিলবার্ট গমেজ শিশির এবং কেন্রীয় দপ্তর সম্পাদক, কৃষিবিদ হাসান রুহী। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ নবগঠিত কমিটির সফলতা কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও, উক্ত কমিটির নেতৃবৃন্দকে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে বাসায় ছাদ কৃষিতে আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়, যা নগর জীবনে সবুজায়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) দেশের পেশাজীবীদের অধিকার রক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন’র শেরে বাংলা নগর থানা কমিটি অনুমোদন ও ছাদ কৃষিতে উৎসাহ সৃষ্টির জন্য বীজ বিতরণ

ডেস্ক রিপোর্ট::

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে রাজধানীর মালিবাগস্থ হোসাফ টাওয়ারে অবস্হিত অভিজাত রাজবাড়ি কুইজিন চাইনিজে “অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বনাম মানবিক উন্নয়ন” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

একইসঙ্গে নগর জীবনে সবুজায়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল ছাদবাগানীদের মাঝে উন্নত জাতের সবজি বীজ ও বিভিন্ন ধরনের জৈব সার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও বিশিষ্ট লেখক সরকার ড. মো. আবুল কালাম আজাদ।

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন ঢাকা প্রেস ক্লাব ট্রাস্ট সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন খান।

প্রধান আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি

প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মানবিক উন্নয়নের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উদ্বোধক আলতাফ মাহমুদ বলেন, প্রকৃত উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয় যখন তা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিফলিত হয়। তিনি গ্রামীণ ঐতিহ্য, কৃষি ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে একীভূত করে টেকসই সমাজ গঠনের আহ্বান জানান এবং ছাদবাগানকে নগর জীবনে সম্ভাবনাময় সবুজ বিপ্লব হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথি মো. মফিজ উদ্দিন খান বলেন, কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, বরং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই প্রকৃত অগ্রগতি। তিনি সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল বলেন, উন্নয়নের সূচক যদি শুধু অর্থনৈতিক পরিমাপে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মানবিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নৈতিকতার বিকাশকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি নগর কৃষি ও ছাদবাগানকে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যেও টেকসই উন্নয়ন, স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার, পরিবেশ সচেতনতা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, নগর জীবনে ছাদবাগান এখন শুধু শখ নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের একটি বাস্তবসম্মত উদ্যোগ।

সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন মানবিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সকল স্তরে পৌঁছে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। তিনি পরিবেশবান্ধব নগর গঠনে ছাদবাগানকে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-রিজিয়া বেগম, মোসা: শাহ্ নওআজ আবেদীন,শামসুল করিম, আমির হোসেন, মিয়া মো. মুজিবুল হক, মো. শহিদুল্লাহ ভুঁইয়া, সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ, সাংবাদিক এফ রহমান রুপক, হাজ্বী তারিকুল ইসলাম তরু, সাংবাদিক মো. শফিউর রহমান কাজী, এম এ করিম খাঁন, রাশেদুল হাসান, সৈয়দ মোশাররফ হোসেন পাপ্পু, মো. আসিফ হাওলাদার ইলিয়াস, এডভোকেট মনিদ্রনাথ, মো. মাকসেছুল ইসলাম নয়ন, মুরসালিনা আক্তার ডালিয়া, খন্দকার আবিদ আহমেদ, সাংবাদিক মো. আব্দুল মাবুদ জীবন, মো. সানোয়ার হোসাইন, মানবাধিকার কর্মী ও লেখক প্রসপারিনা সরকার, সাংবাদিক গিলবার্ট গমেজ শিশির, কৃষিবিদ মো. হাসান রুহি এবং বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ হাফেজ মাওলানা মুফতী মুর্তজা ইবনে মোস্তফা সালেহী সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জনাব জামাল আহমেদ।

আলোচনা শেষে ২০২৬ সালের SSC পরীক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবিক উন্নয়নের সমন্বয়ে টেকসই সমাজ গঠনের আহ্বান পেশাজীবীদের

কৃষি ডেস্ক ::

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর উদ্যোগে নগর এলাকায় সবুজায়ন সম্প্রসারণ ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি কার্যকর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় বাসা-বাড়ির ছাদ ও বারান্দায় সবজি চাষাবাদে উৎসাহিত করতে আগ্রহীদের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ প্রদান করা হয়।

উক্ত কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনে’র সভাপতি ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ।

তিনি বলেন, সীমিত পরিসরে হলেও ছাদ ও বারান্দায় সবজি চাষের মাধ্যমে পরিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ নগরবাসীর মাঝে কৃষিমুখী সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

ছাদ ও বারান্দায় সবজি চাষে বীজ বিতরণ কার্যক্রম