নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভোলা জেলা পুলিশ লাইন্সে ১০ শয্যার আধুনিকায়নকৃত হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় জমকালো এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার। লাল ফিতা কেটে, নামফলক উন্মোচন এবং বিশেষ দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

এ সময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আহসানুজ্জামান, ভোলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম, লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ। ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, ডিআইও শেখ মোনায়েম হোসেন এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হকসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উদ্বোধন শেষে পুলিশ সুপার হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ, শয্যা এবং চিকিৎসা সেবার সুযোগ-সুবিধাগুলো ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বরতদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওছার বলেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এই হাসপাতালটিকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। আমরা আশা করি, এই আধুনিকায়নের ফলে এখন থেকে আরও উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।

আধুনিক চিকিৎসা সামগ্রী ও উন্নত পরিবেশ সম্বলিত এই ১০ শয্যার হাসপাতালটি পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা সেবায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোলায় আধুনিকায়নকৃত ১০ শয্যার পুলিশ লাইন্স হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর এলাকা থেকে নয় মাস বয়সী সন্তান তাহসিফকে নিয়ে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এসেছেন মুক্তা বেগম। হাম রোগে আক্রান্ত শিশুটিকে গত ২৬ মে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তবে ভর্তি হওয়ার পরও নিয়মিত চিকিৎসক পাননি বলে অভিযোগ তার। মুক্তা বেগম বলেন, একদিন ডাক্তার এসে কিছুক্ষণ দেখে গেছেন, কিন্তু পরে আর নিয়মিত দেখা পাইনি। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেন ভোলার ওয়েস্টার্ণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হাসান। তিনি বলেন, ঈদের দুই দিন আগে অসুস্থ সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। কয়েক দিনে মাত্র একবার চিকিৎসকের দেখা পেয়েছেন, সেটিও খুব অল্প সময়ের জন্য। তার দাবি, শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি অধিকাংশ রোগীর স্বজন একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বীপজেলা ভোলার সবচেয়ে বড় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বহির্বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীর চাপ থাকে। তবে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে অপরিচ্ছন্নতা, ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের চিত্রও চোখে পড়ে। বিশেষ করে টয়লেটগুলোর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা।

ভেদুরিয়া টেকেরহাট এলাকা থেকে আসা রোগীর স্বজন নয়ন তারা বলেন, হাম ওয়ার্ডের টয়লেট শত শত রোগী ও স্বজনরা ব্যবহার করলেও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। দুর্গন্ধে সেখানে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। অন্যদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার মনিরাম এলাকা থেকে আসা মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ অভিযোগ করেন, হাসপাতালে নিরাপদ খাবার পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে সামর্থ্যবানরা বাইরে থেকে পানি কিনে আনছেন, আর অনেকে বাধ্য হয়ে বাথরুমের ট্যাপের পানি পান করছেন। তবে হাসপাতাল কম্পাউন্ডে একটি টিউবওয়েল দেখা গেছে। যা শিশু ওয়ার্ড থেকে ৩তলা নীচে। রোগীদের পানি সংগ্রহে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: সালাউদ্দিন আহমেদ শিশু ওয়ার্ডে শিশুদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত হাম রোগী ভর্তি থাকায় একটি শয্যায় চার থেকে পাঁচজন শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অনেক শিশুকে ওয়ার্ডের বারান্দা মেঝে ও সিড়িতে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন রোগীর স্বজনরা। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের কিছু ফ্যান বন্ধ এবং কিছু ফ্যান অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। পর্যাপ্ত বাতাস না থাকায় ওয়ার্ড গুলোর মধ্যে ভ্যাপশা গরম অনুভব করা গেছে। ফ্যান থাকা সত্বেও অনেক রোগীর স্বজনকে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা গেছে।
হাসপাতালে বর্তমানে শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কার্যত একজন চিকিৎসকের ওপরই পুরো বিভাগের দায়িত্ব রয়েছে। হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সালাউদ্দীন জানান, বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগী মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ শিশুকে চিকিৎসাসেবা দিতে হয়। পাশাপাশি হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাও একই সঙ্গে চালিয়ে যেতে হচ্ছে। যা একার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। তবুও আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, রোগীদেরও সচেতন হওয়া জরুরি। একজন অসুস্থ্য শিশুর সাথে তার পরিবারের সুস্থ্য শিশুরাও থাকছে। এতে করে সুস্থ্য শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) আরাফাতুর রহমান নিজেদের অসহায়ত্ব তুলে ধরে জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৫০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যার বড় অংশই শিশু। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। ২৫ শয্যার শিশু ইউনিটে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেক শিশুকে বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, একেকটি বেডে চার থেকে পাঁচটি শিশুকে রাখতে হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সরা এত রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। জরুরি বিভাগে এক মুহূর্তের জন্যও সেবা বন্ধ রাখা যায় না, অথচ প্রয়োজনীয় জনবল নেই। আরএমও আরও জানান, জনবল সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত চিঠি চালাচালি হচ্ছে, এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধান হয়নি। এর জন্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ১০০ শয্যার হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো পুরোনো ১০০ শয্যার জনবল দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে কার্যক্রম। প্রায় সাত বছরেও নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়ায় চিকিৎসাসেবায় চাপ বেড়েছে।
হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাসহ মোট ১৭৯টি পদের মধ্যে বর্তমানে একচতুর্থাংশ পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্ট, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, মেডিকেল অফিসার, অ্যানেসথেটিস্ট, রেডিওলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট ও ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি। পাশাপাশি নার্সিং ও মিডওয়াইফারিসহ গুরুত্বপূর্ণ বহু পদেও জনবল সংকট রয়েছে।
রোগীর স্বজনদের দাবি, শিশু বিভাগে দ্রুত পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ, হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় চিকিৎসাসেবা আরও ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

শিশু বিভাগ ও হাম রোগীদের সামলাচ্ছেন এক চিকিৎসক ॥ রোগীদের নানা অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার লালমোহন পৌরসভা হচ্ছে প্রথম শ্রেণির। কাগজে কলমে এবং নামেই শুধু প্রথম শ্রেণি, এই পৌরসভার নাগরিকরা পাচ্ছেন না নাগরিক সেবা। বর্তমান পৌর প্রশাসক মো. শাহ আজিজ শুধু হাসি মুখে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ, কাজের কাজ কিছুই করেননি তিনি। প্রায় দেড় বছরের উপরে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থেকে তিনি গতানুগতিক কাজ ব্যতিত ভালো কিছুই দেখাতে পারেননি। নির্দিষ্ট স্থানে লালমোহন পৌরসভার ময়লা ফেলার সমস্যা দীর্ঘদিনের। ময়লা ফেলার জন্য নেই নিজস্ব ডাম্পিং। গত বছর ময়লা ফেলেছে পৌরসভার স্টেডিয়ামে। এ নিয়ে কয়েকটি সংগঠন প্রতিবাদ ও বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হলে সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করে পৌরসভার ময়লা ফেলেছে লালমোহন ডিগ্রি কলেজের সামনে ভোলা চরফ্যাশন মহাসড়কের পাশে এবং সূর্যের হাসি ক্লিনিকের সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে। এরপর লালমোহন হেলিপ্যাড সংলগ্ন ব্যস্ততম মহাসড়কের উপর ও পাশে ফেলছিলো ময়লা। এসব ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ওই এলাকাবাসী ও পথচারীরা। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় কয়েকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও টনক নড়েনি পৌর প্রশাসকের। বর্তমান পৌর প্রশাসক দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম পৌর করমেলায় বলেছিলেন ময়লা ফেলার জন্য জমি অধিগ্রহণ করে দ্রুত ডাম্পিং এর ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

লালমোহন বাজারের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়কগুলোর মধ্যে হাফিজ উদ্দিন এভিনিউ, মিঠাই পট্টি, সুটকি পট্টি, বিনোদন সিনেমা হল পট্রি, চৌরাস্তার মোড়, দত্তপাড়া, পৌর গোলচত্বর মার্কেট, হাইস্কুল মার্কেট, খাদ্যগুদাম এলাকা, থানার মোড় এবং উত্তর বাজারের রাস্তার মাঝখানে প্রতিদিনই হরেক রকমের ময়লার স্তূপ পড়ে থাকে। পৌর প্রশাসক এই ময়লা অপসারণে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসের ভবনের উত্তর পাশে। এখানে দীর্ঘদিন ধরে স্তূপ হয়ে পড়েছে ময়লা। একটি টিনের ঘরের চালার উপরও জমেছে ময়লার স্তুপ।

পৌরসভার বাসিন্দা নাইমুর হাসান বলেন, বিগত সরকারের পতনের পর আমরা আশা করেছিলাম, পৌর প্রশাসক বাজারের ময়লার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন এবং প্রতিদিন পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু ওনার অফিসের পাশেই যে পরিমাণ ময়লার স্তূপ দেখা যাচ্ছে, তা ওনার দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। এসব ময়লার স্তূপ দেখে মনে হয় ওনি একটা গিদর। ঠিকমতো কর্মচারীদের দিয়ে তাদের সঠিক কাজ করাতে পারেন না। দেড় বছর পার হয়ে গেল, ওনার হাসিমুখ ছাড়া ময়লার ব্যাপারে দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।

মাহাজনপট্টির ব্যবসায়ী ফরুক জানান, আমরা এখানকার ব্যবসায়ী সাধারণত প্রতিদিন সকাল ৮টায় দোকান খুলি। কিন্তু বাজারের সব ময়লা মহাজনপট্টি এই চার রাস্তার মোড়ে ফেলে রাখা হয়। পৌরসভার গাড়ি কখনও সকাল ১০টায়, কখনও ১১টায়, আবার কখনও দুপুরে এসে ময়লা নিয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্গন্ধের মধ্যে ব্যবসা চালাতে হয়। সবচেয়ে খারাপ হলো, শুক্রবার ও শনিবার ময়লা তোলা হয় না। রবিবার পর্যন্ত ময়লা পাহাড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন দোকানে বসাও দায় হয়ে পড়ে। ক্রেতারাও ময়লার দৃশ্য দেখে দাঁড়াতে চান না, ফলে বিক্রি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মিঠাইপট্টির ব্যবসায়ী স্বপন বলেন, অনেকবার অভিযোগ করা হয়েছে, সংবাদ হয়েছে। তবুও কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমাদেরকে কষ্ট দেয়া এবং ময়লার মধ্যে দোকানপাট করার জন্যই মনে হয় ময়লাগুলো প্রতিদিন পরিষ্কার করছে না। এই নোংরা পরিবেশেই আমাদের টিকে থাকতে হচ্ছে। এখন নতুন সরকার এসেছে, দেখার বিষয়, কোনো পরিবর্তন আসে কি না।

বাজারের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা আরও জানান, সরকারের পরিবর্তনের পর তারা আশা করেছিলেন পৌর প্রশাসন অন্তত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার রাখবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি থাকলেও কার্যকর উদ্যোগের দেখা মিলছে না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. শাহ আজিজ বলেন, আমাদের একটা গাড়ি নষ্ট ছিল, তাই মাঝে কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে অন্য কোথাও কোনো সমস্যা আছে বলে আমরা দেখছি না। নিয়মিত পৌর সভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করছে। তারপরও যদি কোনো সমস্যা থাকে, আমাদের জানালে আমরা তা সমাধান করবো।

লালমোহন পৌরসভার প্রধান সড়কগুলো যেন ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধ ও দুর্ভোগে ব্যবসায়ী এবং পথচারীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা শহরের হাবিব মেডিকেলে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে স্বজনরা মেডিকেলে হামলা চালিয়ে ভাংচুর চালায়। এ সময় রাস্তায় স্বজন ও ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা জড়ো হয়ে প্রসূতীর মৃত্যুর বিচার দাবী করে। খবর পেয়ে কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মারা যাওয়া প্রসূতির নাম ফাবিয়া। সে বাপ্তা ইউনিয়নের ৩নং ওয়াার্ডের মহাজনের পুল এলাকার পুরাতন মাতাব্বর বাড়ির মো: কালামের মেয়ে।
রোগীর স্বজনরা জানান, ফাবিয়ার প্রায় দেড় বছর পূর্বে ধনিয়া তুলাতুলি এলাকার মো: নাহিদের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। ফাবিয়া সন্তান সম্ভবা হয়ে প্রসব ব্যাথা উঠলে তাকে গতকাল সোমবার দুপুরে ভোলা শহরের হাবিব মেডিকেলে ভর্তি করে তার পরিবার। এসময় ওই মেডিকেলের ডাক্তার ফাবিয়াকে দেখে তাকে নরমাল ডেলিভারির কথা বলে। দুপুর আড়াইটার দিকে ওই মেডিকেলের নার্স তাকে একটি ইনজেকশন পুশ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফাবিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শরীর নীল হয়ে যায়। মুহুর্তের মধ্যে ফাবিয়া মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। প্রসূতীর মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ক্লিানিক এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় উত্তেজিত স্বজন ও ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা মেডিকেল ভাংচুর চালায়। এ সময় সাধারণ মানুষও রোগীর স্বজনদের সাথে এক হয়ে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে হাবিব মেডিকেলের বিরুদ্ধে বিচার দাবী করে। হাবিব মেডিকেলে প্রসূতীর মৃত্যু এবং সেখানে হামলা-ভাংচুরের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ প্রসূতির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।
হাবিব মেডিকেলে প্রসূতীর মৃত্যুর ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রসূতীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় পুলিশ হাবিব মেডিকেলের মালিক পক্ষের ডা. মিজানুর রহমান ও মো: ছাদেক মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়। ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে মামলা রুজু করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ভোলা শহরের বিভিন্ন ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় একাধিক প্রসূতীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সেই সব ঘটনায় দোষীদের শাস্তির ব্যাপারে কোন অগ্রগতি দেখেনি সাধারণ মানুষ। দিনে দিনে ক্লিনিকগুলোতে প্রসূতী মায়ের মৃত্যুর সারি দীর্ঘ হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। ইতপূর্বে গত ১৪ জানুয়ারী ভোলা শহরের মোল্লাপট্টি এলাকার বন্ধন ক্লিনিকে ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ার অভিযোগে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় আদালত সুয়োমোটো (স্বইচ্ছায়) মামলা রুজু করেছেন ভোলার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেম মোহাম্মদ নোমান স্বপ্রনোদিত হয়ে মিস কেস নং-০১/২৬ রুজু করেন।

ভোলা শহরের হাবিব মেডিকেলে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু॥ হামলা-ভাংচুর স্বজনদের

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
“ডিমে আছে প্রোটিন, খেতে হবে প্রতিদিন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলায় ডিমের পুষ্টিগুণ বিষয়ক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার ১০৪ নম্বর নলগোড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে এ আয়োজন করা হয়। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কৃষি ইউনিটভুক্ত প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহিন মাহামুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জিজেইউএস-এর উপপরিচালক ডা. অরুণ কুমার সিংহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জিজেইউএস শাখা ইনচার্জ রতনা রানি সিংহ।
ক্যাম্পেইনে ডিমের পুষ্টিগুণ, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ডিমের গুরুত্ব এবং নিয়মিত ডিম গ্রহণের উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে র‌্যালি, কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, ডিম একটি সহজলভ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য, যা অপুষ্টি দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা আরও বলেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুষ্টি বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে সহায়ক হবে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকলকে পুষ্টিকর ডিম খাওয়ানো হয়।

দৌলতখানে ডিমের পুষ্টিগুণ বিষয়ক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য ও সদস্যাদের জন্য বোরহানউদ্দিনে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে। বোরহানউদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ৬, ৭ ও ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য এই মেডিকেল ক্যাম্পে চোখের চিকিৎসা, চোখের ছানি অপারেশন, দাঁতের চিকিৎসাসহ অন্যান্য সাধারণ রোগের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।বোরহানউদ্দিন উপজেলা আনসার বিডিপি কর্মকর্তা প্রবীর কুমার রায়ের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বরিশাল রেঞ্জ কমান্ডার মোঃ আব্দুস সামাদ, বিভিএম, পিভিএমএস।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভোলা জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ রাশেদ বিন মামুন। এ সময় বক্তারা বলেন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৫০০ কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে এসব কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বোরহানউদ্দিনে আনসার বাহিনীর ব্যতিক্রমী মেডিকেল ক্যাম্প

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলায় নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে নতুন করে সংযোজন হলো জেনারেল হাসপাতাল। যেখানে চিকিৎসা বঞ্চিত গরিব অসহায় রোগীরা বিনামূল্য চিকিৎসা পাবেন এবং সকল শ্রেণীর জনগণ এখানে চিকিৎসা সেবা নিতে পারবেন। নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশন জেনারেল হাসপাতালের যাত্রা শুরু করেছেন ৩টি বিভাগ নিয়ে। সেগুলো হলো-মেডিসিন, শিশু ও গাইনি। এ ৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় ভোলা শহরের উকিলপাড়াস্থ হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে অনারম্ভর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আহমদ। নতুন ৩টি বিভাগ চালুর মধ্য দিয়ে ভোলার সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসা সুবিধা আরও সহজলভ্য হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি আরো বলেন, নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সর্বদা মানুষের সেবায় নিবেদিত। আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ চিকিৎসক টিম নিয়ে কাজ করছি। আমাদের পূর্বে চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসার কার্যক্রম এবং চোখের সকল অপারেশন কার্যক্রম চালু আছে। প্রায় বিগত ১৫ বছর যাবত আমরা এই চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছি। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে বর্তমানে আমরা মেডিসিন, শিশু ও গাইনি বিভাগ উদ্বোধনের মাধ্যমে ভোলার মানুষকে আমরা আরও উন্নত চিকিৎসা সেবা দিতে প্রস্তুত। আমাদের ভবিষ্যতে আরও বিশেষায়িত বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নতি চিকিৎসা সেবার লক্ষ্যে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। নিজাম হাসিনা ফাউন্ডেশন হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনগণের আস্থা অর্জন ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভোলার প্রথম সাংবাদিক এম এ তাহের, আজকের ভোলার সম্পাদক শওকাত হোসেন, সিনিয়র সাংবাদিক এ এ বারিসহ হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং ভোলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

ভোলায় নিজাম-হাসিনা ফাউন্ডেশনের জেনারেল হাসপাতাল উদ্বোধন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, ওমান থেকে ::

ওমানের জনস্বাস্থ্য পরামর্শ জারি করেছেন নাগরিক ও প্রবাসীদের সতর্ক বার্তা মাঙ্কিপক্স (এমপক্স) বিষয়ে জনগণকে রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সহ ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছেন দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এমপক্স একটি সংক্রামক রোগ যা সাধারণত ফ্লু-এর মতো উপসর্গ জ্বর,মাথাব্যথা,শরীরব্যথা ও ক্লান্তি দিয়ে শুরু হয়। পরবর্তীতে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে বিশেষ ধরণের ফুসকুড়ি বা দাগ দেখা দেয়, যা রোগটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই ভাইরাস প্রধানত সংক্রামিত ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসার মাধ্যমে ছড়ায়। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত পোশাক, বিছানার চাদর, তোয়ালে বা অন্যান্য জিনিসপত্র স্পর্শ করার মাধ্যমেও সংক্রমণ হতে পারে। তাই যারা যৌথভাবে বসবাস করেন বা ঘনিষ্ঠ পরিবেশে কাজ করেন, তাদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নাগরিক ও প্রবাসীদের ঘন ঘন সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া, রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং সন্দেহজনক কোনো বস্তু স্পর্শ না করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

এছাড়া যাদের মধ্যে এমপক্সের মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাদের দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে, নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে এবং ক্ষতস্থান সম্পূর্ণভাবে ঢেকে রাখতে পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। জনস্বাস্থ্য বিভাগ বলেছে, প্রাথমিক সতর্কতা ও সচেতন আচরণই এই সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে জানান দেশটি বিশেষজ্ঞরা।

ওমানে এমপক্স নামক রোগ : সতর্ক বার্তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন (বিএনএ) ও বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি (বিএমএস) ও যৌথ উদ্যোগে বরিশাল নগরীর শেবাচিম হাসপাতালের মুল ফটকের সামনে ঘন্টাকাল ব্যপি ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায় এ মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিএনএ’র সভাপতি ড. আলি আজগর, সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম তালুকদার, সহ সভাপতি শাহ আলম, ক্যাশিয়ার বিএনএ শামীমা ইয়াসমিন, রনি মোল্লা প্রমুখ। বক্তারা ৪৮ বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অগ্রগতির স্বতন্ত্র নার্সিং প্রশাসন, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে বিলুপ্ত করে ভিন্ন অধিদপ্তরে একিভূত করনের অপচেষ্টা রুখে দেওয়ার আহবান জানান। কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান সভাপতি ড. আলি আজগর।

বিএনএ ও বিএমএস’র উদ্যোগে শেবাচিম হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
জরাজীর্ণ ভবন কোথাও কোথাও খসে খসে পড়ছে পলেস্তারা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। কয়েকটি পরীক্ষা ছাড়া বেশিরভাগ পরীক্ষাই করতে হয় বাইরে থেকে। শয্যা সংকটে রোগীদের ভোগান্তির শেষ নেই। এমনই বেহাল অবস্থায় চলছে ভোলার মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

ভোলার মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন মনপুরা উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ মানুষের বসবাস। ১৯৮৬ সালের দিকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্থাপিত হয়। বর্তমানের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ২১টি চিকিৎসকের পদ থাকলে চিকিৎসক রয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ মোট তিনজন। নেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

দুদিন আগে সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন শাহনাজ বেগম। তবে এখনো সুস্থ হয়নি শিশুটি। শাহনাজ বেগম বলেন, ‘এখানে কোনো শিশু ডাক্তার নেই। যারা আছেন তারাই দেখেন। ভালো না হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে যেতে হবে।’

হাসপাতালে ১০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন আনোয়ার হোসেন। তিনি জানালেন, বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিৎসক না থাকায় কেউ তার রোগ নির্ণয় করতে পারছেন না। এজন্য আজ তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।

বেড না পেয়ে মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন আল আমিন ও জুয়েল। তারা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ থাকে মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা। ফলে কষ্টের শেষ থাকে না। মশার উৎপাত তো আছেই।

আশঙ্কার কথা জানিয়ে রোগীর স্বজন রোমান হোসেন বলেন, ছাদের পলেস্তারা খসে খসে পড়ছে। ভয়ে থাকি কখন না জানি ইটের টুকরা ও পলেস্তারা খসে পড়ে। ভবনটি সংস্কার করা জরুরি।

আরেক রোগীর স্বজন কামাল হোসেন বলেন, ‘হাসপাতালে রক্তের কয়েকটি পরীক্ষা ছাড়া কিছুই হয় না। ডাক্তাররা পরীক্ষার জন্য লিখে দিলে আমরা বাইরে থেকে করে আনি। এতে আমাদের অনেক টাকা খরচ হয়। এখানে যদি এক্স-রেসহ সব পরীক্ষা করানো হতো, তাহলে অনেক উপকার হতো।’

এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কবির সোহেল জানান, সমস্যার বিষয়ে লিখিত ও মৌখিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কিছুই সমাধান হয়নি।

ভোলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুল ইসলাম ইসলাম বলেন, খুব শিগগির মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সংকট দূর করা হবে। যন্ত্রাংশ ও জরাজীর্ণ ভবনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বেহাল চিকিৎসা ব্যবস্থা মনপুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে : মাত্র ৩ চিকিৎসকের ওপর ভর করেই চলছে চিকিৎসা!