নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার লালমোহন উপজেলায় কোয়েল পাখির খামার করে ভাগ্য বদলেছে মো. শাহাবুদ্দিন নামে এক যুবকের। পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ভাঙাপুল এলাকায় নিজ বাড়ির আঙিনায় ১২ শতাংশ জমিতে যুবকের ওই কোয়েল পাখির খামার। শখেরবশে ২০১৭ সালে মাত্র ৭০০ পিস কোয়েল পাখি দিয়ে শুরু করা যুবক মো. শাহাবুদ্দিনের খামারে বর্তমানে সাড়ে ৪ হাজার ছোট-বড় কোয়েল পাখি রয়েছে। বর্তমানে ওই খামার থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৬০০ ডিম সংগ্রহ করছেন তিনি। পিস হিসাবে বিক্রি করেন কোয়েল পাখিও। লালমোহন উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন গিয়ে খামার এসব ডিম এবং কোয়েল পাখি কিনে নেন।

যুবক মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, ২০১৭ সালে শখেরবশে খুলনা থেকে ৭০০ পিস কোয়েল পাখি কিনে এনে বাড়ির আঙিনায় খামার শুরু করি। এরপর পাখির সংখ্যা বাড়াতে থাকি। প্রায় ৮ বছরের মাথায় এখন খামারে কোয়েল পাখির সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪ হাজার। বর্তমানে খামার থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ৬০০ ডিম সংগ্রহ করছি। এসব ডিম পাইকারি প্রতি পিস ২ টাকা ৮০ পয়সায় বিক্রি করি। এতে করে মাসে অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার ডিম বিক্রি করতে পারি।

তিনি বলেন, এছাড়া খামার থেকে বিক্রি করি কোয়েল পাখিও। ১ দিন বয়সী কোয়েল পাখি প্রতি পিস ১০ টাকা, আর ৩০ দিন বয়সী প্রতি পিসের দাম ৫০ টাকা। মাসে গড়ে খামার থেকে অন্তত ৮ হাজার পিস কোয়েল পাখি বিক্রি করতে পারি। বাজার মূল্য অনুযায়ী মাসে ৭০ হাজার টাকার কোয়েল পাখি বিক্রি করি। বর্তমানে প্রতি মাসে ২ লাখ টাকার মতো ডিম এবং কোয়েল বিক্রি করছি। লালমোহন উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে খামার থেকে এসব ডিম এবং কোয়েল পাখি কিনে নেন।

যুবক মো. শাহাবুদ্দিন আরো বলেন, এই খামারের পেছনে অনেক খরচও রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য, ওষুধ এবং বিদ্যুৎ বিল। এসব বাবৎ প্রতি মাসে এক লাখ টাকার মতো এই কোয়েল পাখির খামারের পেছনে খরচ হয়। সব মিলিয়ে এখন খামার থেকে আলহামদুলিল্লাহ প্রতি মাসে ১ লাখ টাকার মতো আয় হচ্ছে। সামনে খামারে কোয়েল পাখির সংখ্যা আরো বাড়াবো।

লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও ভেটেরিনারী সার্জন ডা. মো. গোলাম মোস্তফা জানান, খুব স্বল্প বিনিয়োগে কোয়েল পাখি চাষ করে সমৃদ্ধ হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। লালমোহনে যেসব কোয়েল পাখির খামারি রয়েছে, তার তথ্য আমাদের কাছে আছে। খামারিরা আমাদের কাছে আসলে যেকোনো পরামর্শ এবং চিকিৎসা দিয়ে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। এছাড়া সরকারি যেসব ওষুধ সরবরাহ রয়েছে তা যদি ওই খামারিদের প্রয়োজন হয় তাও দিয়ে তাদের সহযোগিতা করবো।

ভোলায় কোয়েল পাখির খামারে যুবকের ভাগ্য বদল

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে যেখানে জীবনের কোলাহল আর গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়া। সেই ভোলা জেলার তজুমদ্দিন স্লুইজ লঞ্চ ঘাটে এক দৃঢ়চেতা মানুষের দেখা মেলে। তিনি সঞ্জয় দাস। চাঁদপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের এই বাসিন্দা দীর্ঘ ৩৫টি বছর ধরে বাদাম ভেজে বিক্রি করে চলেছেন। যাঁর জীবনের একটাই উদ্দেশ্য-সংসারের চাকা সচল রাখা।

প্রতিটি দিন তাঁর শুরু হয় এক নতুন সংগ্রামের অঙ্গীকার নিয়ে। কাকভোরে বাদাম কেনা, এরপর সেগুলোকে যত্ন করে ভেজে বিক্রি করার প্রস্তুতি। রোজ দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত লঞ্চ ঘাটের ভিড়ে তাঁর কণ্ঠস্বর শোনা যায়-“গরম বাদাম, গরম বাদাম!” সময়ের কাঁটা ধরে প্রতিদিন ৮ ঘণ্টা করে এভাবে তাঁর জীবন কেটে যায় ঘাটে। সঞ্জয় দাসের সংসারটা ছোট হলেও ভালোবাসায় ভরা। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। তাদের মুখের হাসি আর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার স্বপ্নই তাঁকে এই কঠিন পরিশ্রমের প্রেরণা যোগায়।

আসলে, বাদাম বিক্রি করাটা আমার কাছে শুধু একটা কাজ নয়, এটা আমার বেঁচে থাকার অবলম্বন। এই সামান্য বাদামের লাভেই আমার ছেলে-মেয়েরা স্বপ্ন দেখে আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন সঞ্জয় দাস। দৈনিক গড়ে ৮০০ টাকা বিক্রি করে যা লাভ থাকে। তা দিয়েই তিনি টেনেটুনে সংসার চালান। এই সীমিত আয়ের প্রতিটি পয়সা আসে তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম আর নিষ্ঠার ফসল হিসেবে। রোদ-বৃষ্টি, ঝড়-ঝঞ্জা কোনো কিছুই তাঁর এই নিরন্তর ছুটে চলাকে থামাতে পারেনি। ৩৫ বছরের এই পথচলায় হয়তো বড় কোনো প্রাপ্তি নেই, নেই প্রাচুর্যের ছোঁয়া; কিন্তু আছে এক সংগ্রামী পিতার অপার মমতা, যা তাঁর পরিবারের ভিতকে মজবুত রেখেছে।

সঞ্জয় দাসদের মতো মানুষেরা নীরবে আমাদের সমাজের ভিত্তি হয়ে থাকেন। তাঁদের মতো অসংখ্য সংগ্রামী মানুষ আছেন, যাঁরা সামান্য আয় দিয়েও পরিবারকে সর্বোচ্চ ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখেন। ভোলার তজুমদ্দিনে লঞ্চ ঘাটের এই বাদাম বিক্রেতার জীবন যেন সেই কথাই আবারও মনে করিয়ে দেয়-অল্পতেই সন্তুষ্ট থেকে কীভাবে কঠিন জীবনেও হাসিমুখে লড়াই করা যায়।

বাদামেই স্বপ্ন তজুমদ্দিনের সঞ্জয় দাসের!

 

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
দ্বীপজেলা ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় শশিভূষণ থানার এওয়াজপুর ইউনিয়নে ৩নম্বর ওয়ার্ডের বাসতলা এলাকায়

৯০ বছরের বৃদ্ধা ফজলেতুন নেসা আজ আশ্রয় নিয়েছেন গোয়াল ঘরে। তিন ছেলে ও দুই মেয়ে থাকার পরও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের থাকার জায়গা হারিয়েছেন এই অসহায় মা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী খলিল মোকাম্মেল মারা যান। মৃত্যুর পর ফজলেতুন নেসার নামে থাকা প্রায় ৩ শতাংশ জমি তিনি ভালোবাসার টানে তিন ছেলের নামে দলিল করে দেন। কিন্তু সেই দলিলের পর থেকেই শুরু হয় তার দুঃখের জীবন। একে একে ছেলেদের ঘর থেকে ঠাঁই হারিয়ে এখন তিনি গরু রাখার গোয়াল ঘরে বসবাস করছেন।

প্রতিবেশীরা জানান, “বৃদ্ধা ফজলেতুন নেসা এখন চলাফেরাও করতে পারেন না। রাতে ঠান্ডায় কাঁপেন, দিনে রোদে পুড়েন। অথচ তারই পেটের পাঁচ সন্তান পাশের ঘরে সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করছে।”

স্থানীয় আরিফ নামের এক যুবক জানান, “আমরা অনেকবার ছেলেদের অনুরোধ করেছি মাকে অন্তত মানবিকভাবে একটু জায়গা দিতে। কিন্তু তারা কেউই শুনতে চান না। এখন গ্রামের মানুষই মাঝে মাঝে খাবার দিয়ে সাহায্য করে।”

এওয়াজপুর ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু ফয়েজ বলেন, “এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। এভাবে মা যদি ছেলেমেয়ের ঘরে ঠাঁই না পান, তাহলে সমাজে মানবিকতা কোথায় টিকবে? আমরা বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি, প্রয়োজনে সমাজসেবা অফিসেও জানানো হবে।”

বর্তমানে গোয়াল ঘরের এক কোণে পুরোনো কাপড় দিয়ে ঘেরা জায়গায় বসবাস করছেন বৃদ্ধা ফজলেতুন নেসা। মাথার ওপর টিন ফুটো, নিচে ভেজা মাটি। তবু সন্তানের মুখ চেয়ে চুপচাপ সহ্য করছেন জীবনের শেষ প্রহর।

স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন-যেন অসহায় এই মায়ের জন্য একটি মানবিক আশ্রয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

এ যেন এক নিদারুণ ‘সামাজিক বাস্তবতা’ যেখানে সন্তান সফল, ঘরবাড়ি সমৃদ্ধ; অথচ জন্মদাত্রী মা আশ্রয় নিয়েছেন গরুর গোয়ালে। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এখন সময় এসেছে সমাজে মানবিকতার নতুন আলো জ্বালানোর।

চরফ্যাশনে ৯০ বছরের বৃদ্ধা মায়ের পাঁচ সন্তান : আশ্রয় গোয়াল ঘরে!

ডেস্ক প্রতিবেদন ::
অসতি নারী
মাসুদ চাকলা
শহরের ব্যস্ততম মোড়ে একফালি ভাঙা ফুটপাত। দিনে সেটি মানুষের পদচারণায় ভরা। সকাল শুরু হয় রিকশার ঘণ্টি, ফেরিওয়ালার হাঁক, গাড়ির হর্ন আর পথচারীদের ভিড়ে। শহর নিজের ছন্দে বেঁচে থাকে। কিন্তু রাত নামলেই বদলে যায় দৃশ্যপট। ফুটপাতটা নীরব হয়ে পড়ে, হাওয়ায় ভেসে বেড়ায় ধুলো, দূরের ল্যাম্পপোস্টের আলো কুয়াশার মতো ঝাপসা হয়। আর এক কোণে সঙ্কুচিত হয়ে থাকে এক অচেনা ছায়া।
সে একসময়ের হয়তো সুন্দরী যুবতী। হয়তো কোনোদিন ভালোবাসা পেয়েছিল, কারো হাত ধরেছিল। হয়তো কোনোদিন তারও একটি ঘর ছিল। সে হাসতো, স্বপ্ন দেখতো, শাড়ির আঁচলে মা ডেকে দৌড়ে যেত গ্রামের সরু পথ ধরে। কিন্তু আজ চুল এলোমেলো, শরীরের কাপড় ছেঁড়া আর ময়লা, চোখদুটো ফাঁকা। লোকে তাকে ডাকে “পাগলি”, কেউ বলে “পাগোল।”
হয়তো পাগোল বা পাগলি বলি। জন্ম থেকে এমনটি নয়। একজন নারী সমাজে কতো অবহেলিত, উপেক্ষিত, তিরস্কৃত। নারীরা বারবার হোচট খায় আমাদের এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজে। আবার কিছু উল্টাটাও হয়ে থাকে। তবে তার সংখ্যা ততো নয়। একজন পাগলি বা পাগোল যাই বলি না কেন, সমাজের সব চেয়ে অবহেলিত এক জীব। হয়তো তার জীবনের সবটুকুই কাটে কোন এক ফুটপাতে বা রাস্তার ধারের টং ঘরে।
তার নাম কেউ জানে না। হয়তো তার নাম ছিল রূপা বা সেলিনা। একসময় হয়তো বাবা তাকে কোলে নিয়ে মেলায় গিয়েছিল। হয়তো কারো সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল, তারপর কোনো এক পুরুষের প্রতারণায়, গৃহহিংসায় বা দারিদ্র্যের দংশনে, অথবা ধর্ষণের শিকার হয়ে সে ছিটকে পড়েছিল সমাজের গণ্ডি থেকে। দিনকে দিন হারিয়ে যায় তার মানসিক স্থিতি। শেষে একদিন শহর তাকে গিলে খায়।
দিনের বেলায় পথচারীরা তাকে এড়িয়ে যায়। রিকশাওয়ালারা গালি দেয়, কেউবা কৌতুক করে। বাচ্চারা দূর থেকে পাথর ছুঁড়ে হাসে, কুকুর ঘেউ ঘেউ করে। সন্ধ্যা নামলেই শহরের বাতি জ্বলে ওঠে, আর পাগলির জীবন নেমে যায় অন্ধকারে।
কারণ রাত মানেই ভয়। শহরের আলো ম্লান হলে, নর্দমার পোকা যেমন বের হয়, তেমনি বের হয় মানুষরূপী জানোয়াররা। পুরুষ নামের কিছু কিট, কিছু নরপিশাচ, তার দিকে এগিয়ে আসে। তারা হাসে, ফিসফিস করে।
—“ওই, পাগলি… চুপচাপ থাকবি, নইলে খবর আছে!”
পাগলি আতঙ্কে কেঁপে ওঠে।
—“কেউ… কেউ নাই? আমারে বাঁচাও!”
কিন্তু শহর ঘুমিয়ে থাকে। অন্ধকারে শুরু হয় নিঃশব্দ পশুত্বের উৎসব। কেউ শোনে না তার চিৎকার। ফুটপাতে ঝরে পড়ে অশ্রু, হাওয়া বয়ে নিয়ে যায় অমানবিকতার গন্ধ।
দিন যায়, মাস গড়ায়। তার শরীর শুকিয়ে যায়, চোখে খিদে আর ভয়ের ছাপ। আর একদিন ভোরে, বৃষ্টির ফোঁটায় ভেজা শহরের ফুটপাতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। চায়ের দোকানদার চিৎকার করে ওঠে,
—“এই রে! পাগলির বাচ্চা হইছে!”
রাস্তার ধারে, ময়লার ডাস্টবিনের পাশে, ঠাণ্ডা কংক্রিটের উপর ভূমিষ্ঠ হয় এক নবজাতক। শহর থমকে দাঁড়ায় কিছুক্ষণের জন্য। রিকশাওয়ালা কাছে এসে থুতু ফেলে বলে,
—“রে ভাই, বাচ্চা নষ্ট করে দিলেই হইতো, বাঁচলো ক্যান?”
চায়ের দোকানদার মাথা নাড়ে,
—“হ, পাপের ফল এটাই। অসতি নারী!”
পাগলি জবাব দেয় না। তার কোলের শিশুটি ঠাণ্ডায় কাঁপছে, আর সে ফিসফিস করে,
—“তুই… তুই আমাগো মতো হইস না… তুই ভালো হইস…”
কিন্তু চারপাশের মানুষের চোখে কোনো মায়া নেই। সবাই তার দিকে তাকায় যেন সে অপরাধী। শহর জানে না, কারা ছিল সেই রাতের নরপিশাচ। শহর জানে না, কারা তার জীবন শেষ করে দিয়েছে।
দুপুরের দিকে এক এনজিও কর্মী আসে। শিশুটিকে তুলে নেয় হাসপাতালে। পাগলি কাঁদতে কাঁদতে হাত বাড়ায়,
—“ওরে নিবা না… ও আমার…”
কর্মীটি নরম গলায় বলে,
—“ও বাঁচবে না তোমার সঙ্গে, মা… তোমার বাচ্চা বাঁচুক…”
ফুটপাত আবার নীরব হয়ে যায়। রিকশার ঘণ্টি, গাড়ির হর্ন, মানুষজনের ভিড়—শহর আবার নিজের ছন্দে ফিরে যায়। কিন্তু সেই ছন্দের ফাঁকে থেকে যায় এক চাপা হাহাকার।
দিন গড়ায়, বৃষ্টি নামে, রাত পেরোয়। অবশেষে বৃষ্টিভেজা এক ভোরে তাকে আর জীবিত পাওয়া গেল না। বুকে চেপে থাকা ছিল শুধু এক ছেঁড়া শাড়ি। ফুটপাতের এক কোণে, স্যাঁতসেঁতে অন্ধকারে, নিঃশব্দে শেষ হয়ে যায় এক অবহেলিত জীবন।
কেউ জানলো না, কোন হাসপাতালের কোণে বড় হলো সেই নবজাতক। কেউ খুঁজলো না তার জন্য কোনো কবর। শহর গিলে খেল তাকে, যেভাবে গিলে খায় হাজার অবহেলিত জীবনকে।
দূরে এক পথশিশু চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে ফিসফিস করে বলল—
—“মা, তুই কোথায় গেলে?”
শহরের বাতাসে ভেসে রইলো শুধু একটাই প্রশ্ন—
এই অপরাধ কার? পাগলির, না সেই সমাজের, যেটি মানুষ হয়ে পশুত্ব ঢেকে রাখে পোশাকের আড়ালে?

পান্থপথের অসতি নারীর আত্মকথন :: জাতির বিবেক অন্ধকূপের গহীনে