শিরোনাম :
নির্মল সেন: এক নির্মোহ বিপ্লবীর মহাকাব্য ও গণমানুষের দণ্ডায়মান বিবেক ঝালকাঠিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে পৃথকভাবে দু’স্পটে দেড় লাখ টাকা জরিমানা লালমোহনে ২শ’ ৪১ কোটি টাকার আমন ধান উৎপাদন দৌলতখানে ডিমের পুষ্টিগুণ বিষয়ক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত বোরো মৌসুমে জমিতে লাইন বা সারি করে ধান রোপণের গুরুত্ব তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত ভোলার চরাঞ্চলের মানুষ বোরহানউদ্দিনে আনসার বাহিনীর ব্যতিক্রমী মেডিকেল ক্যাম্প বরিশাল নগরীতে জাসাসের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও কোরআন বিতরন ঝালকাঠিতে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ কারবারি আটক ইসলামী আন্দোলনসহ ২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, বৈধ ৫ প্রার্থী

আন্তর্জাতিক

রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেন, আশাকরি এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে এগিয়ে যাবে দেশ। এই নির্চাবনের জন্য মানুষ দীর্ঘদিন অপক্ষো করে আছে। বিগত ১৬ বছর বাংলার মানুষ ভোট দিতে পারে নাই। ১৬ বছর আগে যে তরুণ যুবক হয়ে ভোটার হয়েছিল, সে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে স্বৈরশাসকের কারণে। মাফিয়া নেত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তাই মানুষ স্বস্থির নি:শ্বাস ফেলেছে এবং প্রত্যেক ভোটার আশান্বিত যে, এবার তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে। শনিবার (৩ জানুয়ারী) দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভোলা-৩ আসনের মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠান শেষে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, আমার অনেকগুলো নির্বাচন করার অভিজ্ঞাতা হয়েছে। এটি আমার জন্য ১০ম নির্বাচন। প্রথম ৬টিতে বিজয়ী হয়েছিলাম। পরেরগুলোতে নিজেরও ভোট দিতে পারিনি এবং ঘর থেকে বের হতে পারিনি। আক্রমনের শিকার হয়েছিলাম। আর ২টি নির্বাচন আমাদের দল থেকে বয়কটও করেছি। আমাদের এই নির্বাচনটির উপর দেশেবাসির মানুষ অনেক আস্থা রেখেছে, দীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করে আছে। আশা করি বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশন আমাদেরকে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারবেন।
বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশেরর সবচাইতে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তি, আমাদের দেশের একমাত্র অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়া লোকান্তরিত হয়েছেন। তার জানাযায় যে পরিমাণে লোকের সমাগম হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন কোন নজির নেই। এমন জন সমাগম বাংলাদেশের মানুষ কখনোই দেখেনি এবং দেশের জনগণ তাকে যেভাবে শ্রদ্ধার সাথে বিদায় দিয়েছে এ জন্য আমরা অত্যান্ত গর্বিত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ৪ বার জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আশা করি এবারও জনগণ আমাদের উপর আস্থা রাখবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই বিগত ১৬ বছর আমরা সংগ্রাম করেছি। বিএনপির বহু নেতা-কর্মী গুম হয়েছে, নিহত হয়েছে।
মেজর হাফিজ বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার বিভিন্নভাবে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে। যার জ্বলন্ত উদাহরণ হচ্ছে আয়না ঘর। এটি একটি ভয়াবহ নির্যাচনের গোপন কক্ষ। এখানকার অভিজ্ঞতা আমাদের অনেক নেতা-কর্মী দেখেছে। আমি নিজেও ৫ বার জেল হাজতে গিয়েছি। দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর গণতন্ত্রের সংগ্রামে যারা অংশগ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ছাত্র এবং তাদের অভিভাবকগণ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যারা এতে অংশগ্রহণ করে মাফিয়াকে বিদায় করেছে বাংলাদেশ থেকে, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের ত্যাগের ফলইে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পেয়েছে। আমরা আশা করি যে স্বপ্ন ধারন করে আমরা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সমৃদ্ধ ও সাম্যের একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা ত্যাগ স্বীকার করেছি, জীবন বিপন্ন করেছি। আশা করি সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়িত হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ১১৭ ভোলা-৩ আসেনর প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। দাখিলকৃত ৬টি মনোনয়ন পত্রের মধ্যে ১টি বাতিল করা হয় এবং বাকি ৫টি দাখিলকৃত মনোনয়ন পত্রের কাগজ-পত্র ঠিক থাকায় সেগুলো বৈধ ঘোষণা করা হয়। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ডা. শামীম রহমান এ ঘোষণা দেন।
ভোলা-৩ আসন ৬ জন প্রার্থী (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে কামাল উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদ থেকে মো: আবু তৈয়ব, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোঃ রহমত উল্যাহ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি থেকে মোঃ নিজামুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মোসলেহ উদ্দিন) মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছিলেন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ রহমত উল্যাহ তার মনোনয়ন পত্রটি বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সমর্থন সুচক ১% ভোটারের যে তালিকায় জমা দিয়েছেন, তাতে তদন্ত করে ১০ জনের মধ্য ৮ জনকে পাওয়া যায়নি। সেখানে তারা স্বাক্ষর করেননি বলে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে বলেছেন। এই তদন্তের উপর ভিত্তি করে তার মনোনয়ন পত্রটি বাতিল করা হয়। এছাড়া বাকি ৫টি মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় দলীয় নেতা-কর্মী এবং জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে এগিয়ে যাবে দেশ —– মেজর হাফিজ

ডেস্ক রিপোর্ট ::

আজ সোমবার(২২ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বাংলাদেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার, নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব রক্ষায় “মাইনরিটি ঐক্যজোট (MINORITY UNITY COALITION)” নামে সংখ্যালঘুূদের একটি সম্মিলিত সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত একমাত্র সংখ্যালঘু রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)’র নেতৃত্বে আয়োজিত “রাজনৈতিক জোট গঠন” ঐক্যমত স্টেজে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্টির স্থায়ী কমিটির সদস্য বরেণ্য রাজনীতিক বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী বীরেন্দ্র নাথ অধিকারী। আয়োজক হিসেবে সার্বিক তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালণ করেন বিএমজেপি’র সভাপতি শ্রী সুকৃতি কুমার মন্ডল।
ভবতোষ মুখার্জি সুবী’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই সভায়ে বক্তব্য রাখেন সর্ব শ্রী সুকৃতি কুমার মন্ডল, সুমন কুমার রায়(সনাতন পার্টি), নিউটন অধিকারী (বাংলাদেশ মতুয়া গণজাগরণ মঞ্চ), স্বপন কুমার বেপারী (অনুভব বাংলাদেশ), চানমোহন রবিদাস(বাংলাদেশ রবিদাস ফোরাম), শান্তির রঞ্জন মন্ডল(ভক্ত সংঘ), শ্যামল কান্তি নাগ(বিশ্ব হিন্দু ফেডারেশন), জগদীশ চন্দ্র বর্মন(জাতীয় হিন্দু সংহতি), সলোমন আই রোজারিও(বাংলাদেশ খৃষ্টান এসোসিয়েশন), মাদল দেব বর্মন(বাংলাদেশ স্বস্তিসেবক) প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

ঐক্যজোটের ওই মঞ্চে সংখ্যালঘুদের ৭৪ টি সংগঠনের মধ্যে ৪৫ টি একাত্মতা ঘোষণা করে জোটে একিভূত হয় এবং অবশিষ্ট ২৯ টি ধর্মীয় আদর্শ ও রীতি-নীতির বাধ্যবাধকতার কারণে সরাসরি রাজনৈতিক প্লাটফর্মে যোগদান না করলেও ঐক্যমতে সংহতি প্রকাশ করে।
এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ  মাইনরিটি জনতা পার্টি(বিএমজেপি), বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ৩টি গ্রুপ, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ, বাংলাদেশ মতুয়া মহাসংঘ, বাংলাদেশ মতুয়া মিশন, অনুভব বহুমুখী সমবায় সমিতি, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের ৩টি গ্রুপ, বাংলাদেশ সনাতন পার্টি, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ(ইস্কন), সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতন পরিষদ, বাংলাদেশ খ্রিস্টান এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সংখ্যালঘু অধিকার
পার্টি, বাংলাদেশ হিন্দু লীগ, আইনজীবী ঐক্য পরিষদ, ওয়ার্ল্ড বুদ্ধিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, জাগো হিন্দু পরিষদ, বাংলাদেশ হিন্দু মহাসংঘ, পূর্ণ ব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরি গুরুচাঁদ মতুয়া মন্দির,রমনা, সৎসঙ্গ বাংলাদেশ, রবিদাস ফোরাম, ঢাকেশ্বরী মাতৃসেবা সংঘ, মাইনরিটি রাইটস বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ঋষি পঞ্চায়েত ফোরাম, বাংলাদেশ রবিদাস উন্নয়ন পরিষদ, আনন্দ মার্গ, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উৎসব উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি, বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ সনাতন কল্যাণ জোট, বিশ্ব হিন্দু ফেডারেল বাংলাদেশ, শারদাঞ্জলী ফোরাম বাংলাদেশ, সনাতন সম্প্রীতি পরিষদ বাংলাদেশ, শ্রী কৃষ্ণ ভক্ত সেবা সংঘ, বাংলাদেশ হিন্দু ঐক্য ফোরাম, ভক্ত সংঘ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ অবধূত সংঘ, বিশ্ব আনন্দযোগ সংঘ, বিশ্ব হিন্দু ফেডারেশন, ভক্ত সংঘ সোসাইটি বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সংহতি, সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, উত্তরবঙ্গ আদিবাসী ফোরাম, আশির্বাদ(মানবাধিকার সংগঠন), স্বজন(সাংবাদিক সংগঠন), বাংলাদেশ হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন, শ্রীশ্রী প্রনব মঠ, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ, ইন্টারন্যাশনাল মতুয়া মিশন, বাংলাদেশ হিন্দু ল ইয়ার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ মাইনরিটি সংগ্রাম পরিষদ, শঙ্খনিধি উদ্ধার কমিটি, হিন্দু কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ সেবাশ্রম, বাংলাদেশ ভূমিবল পার্টি, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘ, ব্রাহ্মণ সংসদ, শ্রীশ্রী জগবন্ধু মহাপ্রকাশ মঠ, ভক্ত সেবা সংঘ, বাংলাদেশ কৃষ্ণ ভাবনামৃত সেবা সংঘ, মহাপ্রভুর তরুন সংঘ, বাংলাদেশ মতুয়া গনজাগরণ মঞ্চ, বাংলাদেশ স্বস্তিসেবক সৎসঙ্গ, গৌরাঙ্গ সংঘ বাংলাদেশ, শ্রীকৃষ্ণ সেবাসংঘ বাংলাদেশ, জাতীয়তাবাদী হিন্দু ছাত্র ফোরাম, শ্রী গুরু সংঘ বাংলাদেশ এবং ব্রহ্ম সনাতনী পরিষদ মহাতীর্থ সংঘ বাংলাদেশ।
এ মঞ্চ থেকেই সুকৃতি কুমার মণ্ডলকে সভাপতি এবং রবীন্দ্রনাথ বর্মনকে সদস্য সচিব করে আপতত: ৩১ সদস্য বিশিষ্ট (আংশিক) ঐক্যজোট কমিটি ঘোষণা করা হয়।
স্বপন কুমার বেপারী বলেন, দেশের ২ টি নিকৃষ্টতর পৈশাচিক হত্যাকান্ড বিশ্বজিৎ হত্যা এবং দিপু চন্দ্র দাস হত্যার মধ্য দিয়েই সংগঠনগুলোর মেলবন্ধন ঘটে যা ইতিহাস বদলে দিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে নবগঠিত এ ঐক্যজোট।

গোটা বিশ্বজুড়ে দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হলেও সরকার প্রধান কিংবা সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি দিপু দাসের পরিবারের সাথে যোগাযোগ কিংবা ন্যূনতম অনুভূতিও প্রকাশ না করায় এ নৃশংস ঘটনার বিষয়ে সরকারের নিরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতৃবৃন্দ। অপরদিকে, দিপু দাস কর্মরত ছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানটির ষড়যন্ত্রের জাল উন্মোচন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছেন তাঁরা।

বক্তব্যে নেতারা বলেন, বিগত বছরগুলোতে সব রাজনৈতিক দলই সংখ্যালঘুদেরকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে। তাদের সুরক্ষা ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণে আদৌ গুরুত্ব দেয়নি। তাই সংখ্যালঘুরা আর ভুলেও অন্য কোনো দলের তাঁবেদারি করবে না। নিজেদের মেরুদন্ত শক্ত করে দাঁড়াতেই আজ এ ঐক্যের ডাক।
প্রবঞ্চনার রাজনীতির গ্যাড়াকল থেকে বেরিয়ে আসতেই তাদের এ চেতনার উন্মেষ! জোটের নেতৃবৃন্দ অবশ্য দেশের প্রায় দের কোটি সংখ্যালঘু ভোটারদের পূঁজি করে সরকার গঠনে এ জোটকে এখন ট্রামকার্ড হিসেবে দেখছে। তবে এ জোটের বিরুদ্ধে কোনো সনাতনী ব্যক্তিগত, ধর্মীয় কিংবা সামাজিক সংঠনের আড়ালে সংখ্যালঘুদের স্বার্থ পরিপন্থী কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে তাকে বেঈমান ও দালাল হিসেবে চিহ্নিত করে তা প্রতিহত করতে জনগণ সমুচিত ব্যবস্থা নিলে এ জোট পাশে থাকবে বলেও নেতৃবৃন্দ ঘোষণা দেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবে মাইনরিটি ঐক্যজোটের ঘোষণা : জাতীয় নির্বাচনে খেলবে গোলকিপার হয়ে!

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুরে হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার হত্যার বিচারের দাবিতে সারা দেশে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ ছাত্র-জনতারা। শুক্রবার ভোলা, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
ভোলা : ওসমান হাদিকে হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের অতিদ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ সাজার দাবিতে ভোলায় কফিন মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে প্রতীকী কফিন কাঁধে নিয়ে ভোলা শহরের কালিনাথ রায়ের বাজারের হাটখোলা জামে মসজিদ চত্বর থেকে ভোলাবাসীর আয়োজনে মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি বরিশাল দালান হয়ে বাংলাস্কুল মোড় ঘুরে নতুন বাজারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এতে যোগ দেন স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, জুলাই যোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সমাবেশে ভোলা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক, শফিউর রহমান কিরণ, বাচ্চু মোল্লা, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম, সদস্য ইয়ারুল আলম লিটন, জামায়াতে ইসলামী প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন, জমিয়াতুল মোদাররেছিন ভোলা জেলা সেক্রেটারি মোবাশ্বিরুল হক নাঈম, ইসলামী আন্দোলনের ভোলা জেলা উত্তরের সেক্রেটারী মাওলানা তরিকুল ইসলাম তারেক, জুলাই যোদ্ধা রাহিম ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য প্রদান করেন।
সাভার : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে প্রতিবাদী জনতা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর সাভার এলাকার প্রতিবাদী জনতা এ কর্মসূচি পালন করেন। সাভার মডেল মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে শহীদ ইয়ামিন চত্বরে এসে বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
কুড়িগ্রাম : ওসমান হাদিকে হত্যার প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে বিক্ষোভ ও ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেছেন সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা। শুক্রবার বাদ জুমা উপজেলা মডেল মসজিদ থেকে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ শেষে শাপলা চত্বরে মিলিত হয়। সেখানে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কুড়িগ্রাম-রংপুর মহাসড়ক ব্লকেড করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আন্দোলনকারীরা।
এ সময় তারা ‘লীগ ধর জেলে ভর’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’, ‘ওসমান হাদির রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’, ইত্যাদি নানা স্লোগানে প্রকম্পিত করে শাপলা চত্বরে এলাকা। ব্লকেড কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কুড়িগ্রাম জেলা শাখার আহ্বায়ক লোকমান হোসেন লিমন, সদস্য সচিব খন্দকার আল ইমরান, সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ নাহিদ, জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক জাহিদ হাসান, সদস্য সচিব সাদিকুর রহমান প্রমুখ।
রংপুর : হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রংপুরে শোক র‌্যালি ও সমাবেশ করে শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে ‘আপামর বিপ্লবী ছাত্রজনতা, রংপুর’ ব্যানারে নগরীর জুলাই চত্বর থেকে শোক র‌্যালিটি বের হয়। র‌্যালিটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে ডিসির মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে জুলাই চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মেহেরপুর : শরীফ ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে মেহেরপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জুলাই ঐক্য। শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর জেলা মডেল মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজ মোড়ের জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
রাজশাহী : হাদিকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ এবং হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে রাজশাহী নগরীর জিরো পয়েন্টে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজশাহী মহানগরের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরো পয়েন্টে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম : হাদিকে হত্যার প্রতিবাদ ও খুনিদের বিচারের দাবিতে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বস্তরের ছাত্র জনতা। সর্বদলীয় জুলাই ঐক্রের ব্যানারে এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বেলা তিনটার দিকে ভূরুঙ্গামারী বাস স্ট্যান্ড থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাস স্টান্ডে এসে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পথসভায় বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম-১ (ভূরুঙ্গামারী -নাগেশ্বরী) আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মাহফুজ কিরন, ইসলামী আন্দোলনের নেতা মাওলানা মনিরুজ্জামান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রোকনুজ্জামানও জুলাই যোদ্ধা মফিজুল হক প্রমুখ।
রূপগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বৈষম্যবিরতি ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ওসমান হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে ছাত্র-জনতা রূপগঞ্জ থানার সামনে ডেমরা-কালীগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা মাথায় কালো কাপড় বেঁধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানান।
পটিয়া, চট্টগ্রাম : ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে মাথা নত না করা জুলাই আন্দোলনের অগ্রসৈনিক শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং এই হত্যাকা-ের মূল হোতা কুখ্যাত সন্ত্রাসী ফয়সাল করীমকে গ্রেপ্তার করে ফাঁসিতে ঝুলানোর দাবিতে চট্টগ্রামের পটিয়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

হাদি হত্যাকান্ডে ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় একটি নারী হোস্টেল থেকে এনসিপির ধানমণ্ডি শাখার নারী নেত্রী জান্নাত আরা রুমী’র (৩২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে জিগাতলার জান্নাত নারী হোস্টেলের পঞ্চম তলা ভবনের একটি কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজারীবাগ থানার উপপরিদর্শক এসআই মো. কামরুজ্জামান জানান, সকালে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ দেখতে পাই। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হবে।
তিনি আরও জানান, মৃতার বাবার নাম মো. জাকির হোসেন। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জান্নাত আরা রুমী এনসিপির ধানমণ্ডি শাখার নারী নেত্রী ছিলেন।
এদিকে, হাজারীবাগ থানার ওসি (অপারেশন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলেই মনে হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

মায়ের বয়সী নারীকে ধানমন্ডি ৩২ এর রাস্তায় হেনস্তা করা এনসিপি নেত্রী রুমির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

অন্যান্য সংবাদ

ঢাকা

চট্টগ্রাম

কক্সবাজার প্রতিনিধি::

কক্সবাজারের মহেশখালীতে দীর্ঘ ২ যুগ পর রাস্তা সংস্কার কার্যক্রম শুরুতে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
হোয়ানক ইউনিয়ন পানিরছড়া এলাকায় ৩ টি চলমান রাস্তা

সংস্কারের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। যেখানে ড্রেন হওয়ার কথা সেখানে হচ্ছে না ড্রেন, আর যেখানে আরসিসি ঢালাই দরকার সেখানে তা হচ্ছে না, বলে প্রশ্ন জনমনে। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে জেনেও না জানার ভাণ করছে ।

এলাকাবাসীর অনুরোধ, মহেশখালী ইউএনও যেন বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করেন, তা না হলে একটি সংকট তৈরি হতে পারে।

মোহাম্মদ হোচেন জানান, এই অনিয়মের পেছনে একমাত্র দায়ী ৯ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার কালা চান সহ কিছু অসৎ লোক, তারা রাস্তার কাজে কোন কারণ ছাড়া বাঁধা সৃষ্টি করে যাচ্ছে এসব চামচাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক

রুবেল জানান আরো কিছু দিন পরে পোস্ট দিলে ভালো হতো। কাজ প্রায় শেষের দিকে এতদিন কোথায় ছিলো সমাজের সচেতন মহল?? ব্যাপক দুর্নীতি অনিয়ম হলে কাজ বন্ধ করে দাও। সবার সাথে পরামর্শ করে সঠিকভাবে কাজ হচ্ছে কিনা তদারকি কর। ফেসবুকে বুকে পোস্ট দিয়ে বসে থাকলে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা মেরে দিবে।

আরমান আলী জানান, যদি ড্রেইন না দেয় রাস্তা এক বর্ষার পরে মাটির নিচে চলে যাবে! এটা তদন্ত করার জন্য ইউ এনও বরাবর কেউ অভিযোগ করেন। যদি রাস্তার টেন্ডারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংযুক্ত থাকে তাহলে অবশ্যই দিতে হবে আর যদি ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংযুক্ত না থাকে তাহলে তাদের ওপর কোন অভিযোগ নেই।

আলমগীর জানান, এ বিষয়ে আমরা চাই যে জায়গায় ড্রেন দরকার সে জায়গায় ড্রেন আর যে জায়গায় আরসিসি ঢালাই দরকার সেখানে তা হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ বৃহত্তর পানিরছড়া এলাকায় বর্ষাকালে প্রায় ৭৫ % রাস্তার উপর দিয়ে পানি চলাচল করে তা সকলে জানে।
ইতিমধ্যে ইউএনও মহোদয়কে মৌখিকভাবে জানিয়েছি উনি নিজে তদারকি করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

মহেশখালীতে দীর্ঘ ৩০ বছর পর রাস্তা সংস্কার কার্যক্রম : শুরুতেই অনিয়ম ও দুর্নীতি

অনুসন্ধান ডেস্ক :: 
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বৃহস্পতিবার (২৮ আগষ্ট) জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার চন্দ্রনাথ ধামের ভৈরব মন্দির ও ব্যাসকুন্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় সাথে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সান্তু বিপিএম (বার)।
পরিদর্শনকালে উল্লিখিত এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। সামগ্রিক বিষয়ে জেলা প্রশাসক মন্তব্য করেন, “চট্টগ্রাম সমগ্র বাংলাদেশে বিভিন্ন সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির এক মিলনমেলা। কোন প্রকার মিথ্যা প্রচারণা বা উস্কানিতে এই সম্প্রীতি কেউ যেন বিনষ্ট না করতে পারে সে ব্যাপারে প্রশাসন, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। আমরা চাই ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এখানে একটি সুন্দর ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকুক।”
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারবৃন্দ, সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং মাঠ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক’র সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধাম পরিদর্শন

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজন নিহতের ঘটনায় উল্টো পথে আসা হানিফ পরিবহনের সেই বাসটিকে জব্দ করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার খাদঘর মানামা হোটেলের সামনের মাঠ থেকে বাসটি জব্দ করা হয়।

ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।ওসি জানান, শুক্রবার দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাসটিকে শনাক্ত করা হয়। সিসিটিভিতে দেখা যাচ্ছিল, হানিফ পরিবহনের ঢাকা মেট্টো-ব-১২-২১৯৭ নম্বরের বাসটি উল্টো পথে চলাচল করার কারণেই সিমেন্ট বোঝাই কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারের ওপর উল্টে পড়ে, তারপর ওই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাসটি জব্দ হলেও চালক বা হেলপার কাউকে পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর বাসটিকে খাদঘর এলাকায় রেখে আত্মগোপনে চলে যান চালক এবং হেলপার। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ইউটার্নে সিমেন্টবোঝাই একটি কাভার্ড ভ্যান প্রাইভেট কারের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চারজন নিহত হন।

নিহতরা হলেন, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মোহাম্মদ ওমর আলী (৮০), তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৫), বড় ছেলে ব্যাংক এশিয়ার কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম (৫০) ও ছোট ছেলে আবুল কাশেম (৪৫)। প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন বড় ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল হাশেম। একই দুর্ঘটনায় লরির নিচে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রীও আহত হন। আহতরা ঢাকা ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহত ওমর আলীর ভাই আবুল কালাম বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহন বাসের অজ্ঞাতনামা চালকদের আসামি করা হয়েছে।

কুমিল্লার সড়ক দুর্ঘটনায় হানিফ পরিবহনের বাস জব্দ 

কক্সবাজার প্রতিনিধি ::
কক্সবাজারের চকরিয়া থানা হাজতে যুবক দুর্জয় চৌধুরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার ওসিকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন, এর আগে এ ঘটনায় থানার তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছিল। আজ শনিবার ওসি শফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “তৌহিদুল আনোয়ারকে চকরিয়া থানার নতুন ওসির দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শফিকুল ইসলামকে কক্সবাজার পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ করা হয়েছে।”
শুক্রবার সকালে চকরিয়া থানা হাজত থেকে দুর্জয় চৌধুরী নামে এক যুবককে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবার হত্যার অভিযোগ করলেও পুলিশের দাবি, দুর্জয় আত্মহত্যা করেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের ক্ষোভের মধ্যে শুক্রবার দুপুরে থানার এএসআই মোহাম্মদ হানিফ মিয়া, কনস্টেবল মহি উদ্দিন ও ইশরাক হোসেনকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
দুর্জয় চাকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দু পাড়ার কমল চৌধুরীর ছেলে। চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটরের দায়িত্বে ছিলেন দুর্জয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে দুর্জয়ের বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক তাকে থানায় হস্তান্তর করেন। তার বিরুদ্ধে ২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মামলা করেন। ভোরে চকরিয়া থানা হাজতের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে পুলিশের দাবি করা আত্মহত্যাকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন দুর্জয় চৌধুরীর বাবা কমল চৌধুরী।
শনিবার সকালে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে কমল চৌধুরী বলেন, “কোনো মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়া আমার ছেলেকে থানায় রাখা হয়েছে।”
তিনি এ ঘটনার জন্য স্কুলের দুজন শিক্ষককে দায়ী করে বলেন, “আমার ছেলের ব্যাগ ও ল্যাপটপ খুঁজে পাচ্ছি না। হয়তো ল্যাপটপে থাকা কোনো তথ্যের কারণেই প্রাণ হারিয়েছে দুর্জয়।”

চকরিয়া থানা হাজতে দুর্জয় চৌধুরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ওসি প্রত্যাহার : দুর্জয়ের ল্যাপটব উধাও

ডেস্ক রিপোর্ট ::
কুমিল্লায় প্রাইভেট কারের ওপর সিমেন্ট বোঝাই কাভার্ড ভ্যান উল্টে একই পরিবারের ৪ জন নিহতের পর এবার বিপজ্জনক সেই ইউটার্ন বন্ধ হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড সংলগ্ন উত্তর রামপুর এলাকার ইউটার্নটি বন্ধ করার প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। শনিবার (২৩ আগষ্ট) বেলা ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ২৩ বীরের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসানসহ হাইওয়ে পুলিশ ও সওজ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানায়।
সওজ কুমিল্লার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আদনান ইবনে হাসান সমকালকে বলেন, এ ইউটার্নটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। আজ সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশসহ আমরা আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রোববার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রশাসনের আরও একটি সভা হবে। সেখানে ইউটার্নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তবে আপাতত আজ রাত থেকে ইউটার্নটি বন্ধ রাখা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সকল যানবাহন পাশের সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের পাশের দয়াপুর এলাকা দিয়ে ইউটার্ন করবে।
এই সওজ কর্মকর্তা আরও বলেন, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার ইউলুপের কাজ চলমান আছে। তা চালু না হওয়া পর্যন্ত ইউটার্নগুলোতে যানবাহন চালকদের সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা অতিক্রম করতে হবে।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে মহাসড়কের পদুয়ারবাজার সংলগ্ন উত্তর রামপুর এলাকায় ইউটার্ন অতিক্রম করার সময় সিমেন্ট বোঝাই কাভার্ড ভ্যান উল্টে চাপা পড়ে প্রাইভেট কারের যাত্রী একই পরিবারের চার জনের মৃত্যু হয়। এরা হলেন, জেলার বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মোহাম্মদ ওমর আলী (৮০), তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৫), তাদের বড় ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল হাশেম (৫০) এবং ছোট ছেলে আবুল কাশেম (৪৫)। প্রাইভেটকারটি চালাচ্ছিলেন আবুল হাশেম।
এদিকে এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহত ওমর আলীর ভাই আবুল কালাম বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহন বাসের অজ্ঞাতনামা চালকদের আসামি করা হয়েছে।
ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার এসআই আনিসুর রহমান আজ শনিবার সমকালকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে দুর্ঘটনার জন্য কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহনের বাসের চালকই দায়ী। মামলার অভিযোগেও তাদের কথা বলা হয়েছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত : উম্মত্ত চালকদের নিয়ন্ত্রন করার দায়িত্ব কার?

অন্যান্য সংবাদ

বরিশাল

নির্মল সেন: এক নির্মোহ বিপ্লবীর মহাকাব্য ও গণমানুষের দণ্ডায়মান বিবেক

ইতিহাসের মহাকাব্যে এমন কিছু চরিত্রের উদয় হয়, যাঁরা সময়ের স্রোতে গা ভাসাতে নয়, বরং স্রোতের গতিপথ বদলে দিতে আসেন। যখন কোনো পরাক্রমশালী নক্ষত্র নিজ কক্ষপথের আভিজাত্য ত্যাগ করে ধূলিকণার মিছিলে মিশে যায়, তখনই জন্ম নেয় নির্মল সেনের মতো এক একটি নির্মোহ উপাখ্যান। ১৯৩০ সালের ৩ আগস্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার দিঘীরপাড় গ্রামে যখন তাঁর জন্ম, তখন বাংলার আকাশ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বারুদে তপ্ত। শৈশব থেকেই প্রথাগত সচ্ছলতার মোহ ত্যাগ করে মেহনতী মানুষের আর্তনাদকে নিজের কণ্ঠে ধারণ করার যে ব্রত তিনি গ্রহণ করেছিলেন, তা কোনো সাময়িক আবেগ ছিল না; বরং তা ছিল এক আজন্ম দার্শনিক অঙ্গীকার। ১৯৪৪ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে যখন তিনি ‘বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দল’ (RSP)-এ যোগ দেন, তখন থেকেই ক্ষমতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে শোষিতের অধিকারকে ‘পরম সত্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুরু করেন। দেশভাগের সেই দহনকালেও যখন অনেকেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মোহে শেকড় বিচ্ছিন্ন হচ্ছিলেন, নির্মল সেন তখন এই বাংলার মাটিকে আঁকড়ে ধরে প্রমাণ করেছিলেন যে, বিপ্লবীর কাছে মানচিত্রের চেয়েও তার ওপর বসবাসরত মানুষের মর্যাদা অনেক বড়।

​নির্মল সেনের দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের অন্যতম অগ্নিঝরা অধ্যায় ছিল ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন। তাঁর বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সমসাময়িক রাজনৈতিক নথিপত্রে দেখা যায়, রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথ যখন উত্তাল, তখন তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে সরকারের বিশেষ নজরদারিতে ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের সময় লিফলেট বিলি এবং গোপন সাংগঠনিক সভার সাথে যুক্ত থাকার দায়ে ১৯৫২ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বসেও তিনি বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বাধিকারের স্বপ্ন বুনেছিলেন। তাঁর এই রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পরিক্রমায় তিনি মোট ছয়বার কারাবরণ করেন। এর মধ্যে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের আন্দোলন চলাকালীন তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রায় এক বছর তিনি বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করেন। তাঁর কারাজীবনের এই প্রতিটি মুহূর্ত ছিল স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে এক একটি দালিলিক প্রতিবাদ, যা তাঁকে জনমানুষের অকুতোভয় নেতায় পরিণত করেছিল।

​তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায় হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। ২৫ শে মার্চের কালরাত্রির নৃশংসতার পরেই তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তৎকালীন আরএসপি নেতা হিসেবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার সীমান্তবর্তী শরণার্থী শিবিরে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি অনন্য সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করেন। ‘মুক্তিযুদ্ধ সংহতি সমিতি’র মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সপক্ষে জনমত গঠনে তাঁর অবদান ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ। কোলকাতার ডেকাস লেনের অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের রসদ সমন্বয় এবং আকাশবাণী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তাঁর ক্ষুরধার লেখনী রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয়ে সাহসের সঞ্চার করত। যুদ্ধের সময় চরম অর্থকষ্টে থাকলেও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত এক পয়সাও তিনি নিজের স্বার্থে ব্যয় করেননি, বরং সামান্য শুকনো মুড়ি খেয়ে কাটিয়েছেন দিন। তিনি কেবল একটি ভৌগোলিক মানচিত্রের জন্য লড়াই করেননি, বরং সেই স্বাধীনতার ভেতর দিয়ে একটি শোষণমুক্ত সাম্যবাদী ও মানবিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন।

​স্বাধীনতার পর তাঁর সংগ্রাম থেমে থাকেনি; বরং তা এক নতুন মাত্রা লাভ করে। আশির দশকে সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন বামপন্থী শক্তির অন্যতম মেরুদণ্ড। এছাড়া ভূমিহীন কৃষকদের অধিকার আদায় এবং শ্রমজীবী মানুষের রুটি-রুজির লড়াইয়ে তিনি রাজপথ থেকে শুরু করে নিজের লেখনীতে অবিরত সোচ্চার ছিলেন। সাংবাদিকতাকে নির্মল সেন কেবল পেশা নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী দার্শনিক হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ‘দৈনিক বাংলা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও ক্ষমতার মোহ তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে তাঁর লেখা ঐতিহাসিক কলাম—‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’—ছিল আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ‘সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট’ বা সামাজিক চুক্তির এক নতুন ভাষ্য। রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের এই গভীর দাবিটি রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতাকে এক নিদারুণ সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল।

​নির্মল সেনের রচিত গ্রন্থাবলী তাঁর প্রখর বুদ্ধিবৃত্তিক সততা ও নান্দনিক জীবনবোধের আয়না। তাঁর আত্মজীবনী ‘আমার জবানবন্দী’ কেবল এক ব্যক্তির কাহিনী নয়, বরং এটি বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নির্মোহ ব্যবচ্ছেদ। ‘লেনিন থেকে ক্রুশ্চেভ’ গ্রন্থে তিনি সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের বিবর্তনকে যে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করেছেন, তা বিরল। তাঁর ‘মানুষের সমাজ’ ও ‘রুশ-জাপান যুদ্ধ’ গ্রন্থগুলোতে ফুটে ওঠে তাঁর গভীর তাত্ত্বিক প্রজ্ঞা এবং ইতিহাসের অলিগলি চেনার অদ্ভুত ক্ষমতা। তাঁর গদ্য শৈলী ছিল অত্যন্ত ঝরঝরে কিন্তু এর অন্তরালে থাকত তীক্ষ্ণ শ্লেষ আর গভীর দর্শন। তিনি শব্দের কারুকার্যে এক ধরণের ‘নান্দনিক বাস্তববাদ’ তৈরি করতেন; যেখানে জীবনের রূঢ় সত্যগুলো কেবল শুষ্ক তথ্য হয়ে থাকে না, বরং সাহিত্যের সুষমায় তা পাঠকের হৃদয়ে এক গভীর মানবিক হাহাকার হয়ে ধরা দেয়। তিনি জানতেন কীভাবে ইতিহাসের কাঠখোট্টা দলিলকে মানুষের রক্ত-মাংসের গল্পের সাথে মিলিয়ে দিতে হয়। তাঁর প্রতিটি গ্রন্থই তাই কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং আগামী প্রজন্মের বিপ্লবীদের জন্য এক একটি গবেষণাধর্মী ম্যানিফেস্টো।

​নির্মল সেনের জীবনদর্শন ছিল আধুনিক ভোগবাদী রাজনীতির বিপরীতে এক নির্মোহ প্রাচীর। ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি আমৃত্যু ঢাকা প্রেস ক্লাবের ছোট্ট এক কক্ষে সাধারণ জীবনযাপন করে প্রমাণ করেছেন যে, মানুষের ভালোবাসা ও আদর্শের চেয়ে বড় কোনো সিংহাসন পৃথিবীতে নেই। তাঁর সেই ছোট্ট কক্ষে একটি সাধারণ তক্তপোশ আর বইয়ের স্তূপ ছাড়া আর কিছুই ছিল না—এই দৃশ্যটিই ছিল ক্ষমতার মদমত্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে তাঁর মৌন কিন্তু বজ্রকঠিন প্রতিবাদ। তাঁর এই নিস্পৃহ জীবনবোধ তাঁকে বিশ্ববরেণ্য সাংবাদিক জর্জ অরওয়েল বা অ্যালবার্ট কামুর মতো নির্ভীক বুদ্ধিজীবীদের কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়। বর্তমানের এই ডিজিটাল যুগে যখন সাংবাদিকতা করপোরেট স্বার্থের কাছে জিম্মি, তখন তাঁর সেই ‘গণমানুষের মুক্তি সংগ্রাম’ আমাদের নতুন করে পথ দেখায়। তিনি ছিলেন এই বদ্বীপের এক দার্শনিক স্থপতি, যিনি শব্দ আর সংগ্রামের ইটের ওপর গেঁথেছিলেন এক মুক্ত মানচিত্রের স্বপ্ন।

​২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারি এই হিমালয়প্রতিম ব্যক্তিত্বের মহাপ্রয়াণ ঘটলেও তাঁর সত্তা মিশে আছে এই জনপদের প্রতিটি ধূলিকণায়। নির্মল সেন কেবল একজন মানুষ ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি জীবন্ত মানদণ্ড—যাঁর নির্মোহ জীবন বারেবারে আমাদের ক্ষুদ্রতাকে উপহাস করে যায়। তিনি প্রস্থান করেননি, বরং তাঁর সংগ্রামী দর্শন আজ এক প্রবহমান নদীর মতো মেহনতী মানুষের প্রতিটি মিছিলে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। মহাকালের বিশালতায় নশ্বর দেহের বিলয় ঘটলেও, মানুষের মুক্তির মিছিলে তিনি এক অবিনাশী ধ্রুবতারা। যতক্ষণ পৃথিবীতে বৈষম্য থাকবে, যতক্ষণ মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই জারি থাকবে, ততক্ষণ নির্মল সেন বেঁচে থাকবেন প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের অকুতোভয় অস্তিত্বে—এক চিরকালীন আলোকবর্তিকা হয়ে।

লেখক: (ডেপুটি রেজিস্ট্রার, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়)

নির্মল সেন: এক নির্মোহ বিপ্লবীর মহাকাব্য ও গণমানুষের দণ্ডায়মান বিবেক


নিজস্ব প্রতিনিধি ::
ঝালকাঠিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে আলাদাভাবে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভাম্যমান আদালত। জানা গেছে, বিভিন্ন সুত্রে ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মোঃ মমিন উদ্দিন জানতে পারেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের আগরবাড়ি ও বিনয়কাঠি ইউনিয়নের উত্তর মানপাশা গ্রামে অবৈধভাবে কৃষিজ জমিতে ড্রেজার এর পাইপের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছে একদল ভুমিখেকো। তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসক সদর উপজেলার ইউএনওকে অবহিত করলে ইনএনও এসি ল্যান্ডকে সরেজমিনে পাঠান। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বালু উত্তোলন এর অভিযোগে আগরবাড়িতে ৮০ হাজার টাকা ও উত্তর মানপাশায় ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ ঘটনায় এলাকায় কৃষকদের মাঝে ব্যপক খুশির জোয়ার বইছে। কারন বালু উত্তোলনকারিরা এলাকার প্রতাপশালী হওয়ায় তারা কোন প্রতিবাদ করতে পারেনি। স্থানীয় কৃষকরা জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং এসি ল্যান্ডকে অভিনন্দন জানান ও তাঁদের জন্য দোয়া করেন।
সোমবার দুপুরে এ অভিযানে বিনয়কাঠি ইউনিয়নের মানপাশা নামক স্থানে কৃষিজমি থেকে বালু উত্তোলনের অপরাধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানে সদর এসি ল্যান্ড সদর নেতৃত্ব দেন।

ঝালকাঠিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে পৃথকভাবে দু’স্পটে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার লালমোহন উপজেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টিপাতের কারণে কিছুটা বিপাকে পড়লেও তা কাটিয়ে ওঠেন কৃষকরা। যার ফলে মৌসুম শেষে আশানুরূপ ফলন পেয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। এই উপজেলায় আমন মৌসুমে ২৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকার ধান উৎপাদন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, লালমোহনে এবারের আমন মৌসুমে ২৩ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে উফশী জাতের ধান আবাদ হয়েছে ২২ হাজার ১৪৬ হেক্টর জমিতে। স্থানীয় জাতের ধান আবাদ হয়েছে ৯৫০ হেক্টর জমিতে এবং ৯ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ হয়। এসব জমিতে আমন মৌসুমে ১ লাখ ৭ হাজার ৫২০ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হয়। প্রতি মন গড়ে ৯০০ টাকা বাজার দরে মোট ২৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকার ধান উৎপাদন হয় এই আমন মৌসুমে।
কালমা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চরছকিনা এলাকার কৃষক মো. বাবুল জানান, এ বছরের আমন মৌসুমে ২০ শতাংশ জমিতে ব্রি-ধান ১০৩ এবং ১০০ শতাংশ জমিতে ব্রি-ধান-১১ ও ব্রি-ধান-৫২ আবাদ করেছি। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টিপাতের কারণে ধানের চারা নিয়ে অনেক বিপাকে পড়তে হয়েছে। তবে জমিতে চারা রোপণের পর আর তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। যার জন্য ফলন ভালো পেয়েছি। ক্ষেত থেকে ধান কাটা পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, লাভ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো।
লালমোহন ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ফুলবাগিচা এলাকার কৃষক মো. আব্দুল লতিফ জানান, এবারের আমন মৌসুমে ২০০ শতাংশ জমিতে ধানের আবাদ করেছি। জমির সব ধান এরইমধ্যে কাটা হয়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আশানুরূপ ফলন পেয়েছি। ২০০ শতাংশ জমি থেকে ধান পেয়েছি দেড়শত মন। বাজারে প্রতি মন ধান বিক্রি করেছি ৯২০ টাকায়।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু হাসনাইন বলেন, মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলা নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন কৃষকরা। যার ফলে এই উপজেলায় কিছুটা দেরিতে ধানের আবাদ হয়েছে। দেরিতে ধানের আবাদ হলেও কৃষকরা তাদের জমি থেকে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন। এরমাধ্যমে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এই উপজেলায় অধিক গড় ফলন অর্জন সম্ভব হয়েছে। পুরো আমন মৌসুমে আমাদের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যায় তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে পাশে ছিলেন। এছাড়া কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন কৃষি উপকরণও দেওয়া হয়েছে।

লালমোহনে ২শ’ ৪১ কোটি টাকার আমন ধান উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
“ডিমে আছে প্রোটিন, খেতে হবে প্রতিদিন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলায় ডিমের পুষ্টিগুণ বিষয়ক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার ১০৪ নম্বর নলগোড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে এ আয়োজন করা হয়। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কৃষি ইউনিটভুক্ত প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহিন মাহামুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জিজেইউএস-এর উপপরিচালক ডা. অরুণ কুমার সিংহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জিজেইউএস শাখা ইনচার্জ রতনা রানি সিংহ।
ক্যাম্পেইনে ডিমের পুষ্টিগুণ, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ডিমের গুরুত্ব এবং নিয়মিত ডিম গ্রহণের উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে র‌্যালি, কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, ডিম একটি সহজলভ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য, যা অপুষ্টি দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা আরও বলেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুষ্টি বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে সহায়ক হবে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকলকে পুষ্টিকর ডিম খাওয়ানো হয়।

দৌলতখানে ডিমের পুষ্টিগুণ বিষয়ক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

কৃষি ডেস্ক :: 

কুশি উৎপাদন বৃদ্ধি:

★নির্দিষ্ট দূরত্বে রোপণের ফলে প্রতিটি গাছ পর্যাপ্ত আলো ও পুষ্টি পায়।
★গবেষণায় দেখা গেছে, লাইন রোপণে কুশির সংখ্যা ২০-২৫% পর্যন্ত বেশি হয়।

ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি:

গাছের সমান বৃদ্ধি ও ভালো শীষ গঠনের কারণে
প্রচলিত ছিটানো রোপণের তুলনায় ফলন ১০–১৫% পর্যন্ত বেশি পাওয়া যায়

সার ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি:

সার সরাসরি গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা যায়
ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের অপচয় ১৫-২০% কমে

সেচ ব্যবস্থাপনা সহজ ও পানি সাশ্রয়:

সমান দূরত্ব থাকায় জমিতে পানি নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়
বোরো মৌসুমে লাইন রোপণে ২০–২৫% পর্যন্ত পানি সাশ্রয় সম্ভব

আগাছা দমন সহজ ও খরচ কম:

সারি ধরে নিড়ানি ও পাওয়ার উইডার চালানো যায়
আগাছা দমনে শ্রম ও খরচ ৩০-৪০%

রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হ্রাস:

গাছের মাঝে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করায়
ব্লাস্ট, শীথ ব্লাইট ও পাতা ঝলসানো রোগের ঝুঁকি কমে

যান্ত্রিক চাষে উপযোগিতা:

রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, পাওয়ার উইডার ব্যবহারে সুবিধা
শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদ্ধতি

উৎপাদন খরচ হ্রাস ও লাভ বৃদ্ধি:

সার, পানি ও শ্রম সাশ্রয়ের ফলে
প্রতি হেক্টরে উৎপাদন খরচ গড়ে ৫-৮ হাজার টাকা কমে

বোরো ধানের জন্য সুপারিশকৃত রোপণ দূরত্ব:
সারি থেকে সারি : ২০-২৫ সেমি
গাছ থেকে গাছ : ১৫-২০ সেমি
প্রতি গোড়ায় চারা : ২-৩টি

বোরো মৌসুমে লাইন করে ধান রোপণ একটি বৈজ্ঞানিক, লাভজনক ও টেকসই চাষ পদ্ধতি, যা ফলন বৃদ্ধি, খরচ কমানো এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

লেখক:

★সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★উপদেষ্টা, গ্রামীণ কৃষি,নাগরিক কন্ঠ,সংবাদ প্রতিক্ষণ

★সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী,ঢাকা

বোরো মৌসুমে জমিতে লাইন বা সারি করে ধান রোপণের গুরুত্ব

অন্যান্য সংবাদ

রাজশাহী

সিলেট

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের কিশোরী রীমা রানী সরকার (১৫)-কে নিখোঁজের প্রায় ২৪ দিন পর পুলিশ ও র্যাবের সহায়তায় রিমাকে সিলেট থেকে উদ্ধার করেছে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ। এই কাজে জড়িত থাকার অভি
যোগে ভিকটিমের ধর্মান্তরিত আপন মাসিসহ তার
স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী অন্যান্য সংস্থা ও এর সাথে কাজ করেন।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়,গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুর্গাপূজার সপ্তমীর দিনে শ্রীমঙ্গল শহরের আর.কে. মিশন রোড দুর্গা মন্দিরে অঞ্জলী দিতে গিয়ে নিখোঁজ হয় রীমা রানী সরকার। এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা মতিলাল বিশ্বাস বাদী হয়ে কমলগঞ্জ উপজেলার কাঠালকান্দি গ্রামের বদরুল আলম (২৫)সহ তিনজনের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৩০ ধারায় মামলা (নং–০৮, তারিখ: ০৫/১০/২০২৫) রুজু করা হয়। অপহরণের পর থেকেই বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি এবং সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি এর দিকনির্দেশনায়, মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোঃ এম.কে.এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন, পিপিএম-সেবা’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেন।
ঘটনা ক্রমে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি টিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৮ ও ১১ অক্টোবর মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামী বদরুল আলম (২৫) ও শহিদ মিয়া (৩২)-কে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভিকটিম সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় তদন্ত আরও প্রসারিত করা হয়। পরবর্তী তদন্তে ভিকটিমের খালা প্রিয়াংকা সরকারের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তার কল রেকর্ড বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভিকটিমের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
সেই সূত্র ধরে সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানার ধরাধরপুর এলাকায় শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগম ও তার স্বামী মোবারক মিয়া ভিকটিমকে তাদের ভাড়া বাসায় আটক করে রেখেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে আরও প্রকাশ পায় যে, শিল্পী সরকার (ওরফে শিল্পী বেগম) ভিকটিমের আপন খালা (তিনি ধর্মান্তরিত মুসলিম)। প্রায় দুই বছর আগে তিনি মোবারক মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে ধর্মান্তরিত হয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পুলিশের দাবি,ঘটনার দিন তিনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করে অঞ্জলী শেষে ফেরার পথে কিশোরী রীমাকে প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের ধরাধরপুর এলাকায় নিয়ে যায় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখে। এমনকি ঘটনার পর ভিকটিমের মা জড়িত শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগমের সাথে যোগাযোগ করে ভিকটিমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। গতকাল (২৪ অক্টোবর) তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ভিকটিম রীমা রানী সরকারকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগম ও তার স্বামী মোবারক মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রসঙ্গত রিমা রানী সরকারের ঘটনাটি নিখোঁজ নাকি আত্মগোপন না অপহরণ এ বিষয়ে শহর জুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়, অনেকেই অপহরণ দাবি করে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক কিসোর কিশোরীকে যদি কেহ ফুসলিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে গোপন করার চেষ্টা করে তাহলে সেটি অপহরণ হিসেবেই গণ্য হয়। প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটি আরও তদন্তের দাবি সাধারণ জনগণের। এর পিছনে মূল রহস্য কি এবং কেন শুধুমাত্র একটি বিষয়কেই হাইলাইট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কে ভাইরাল করা হয়েছে,যেহেতু শ্রীমঙ্গল থানায় এরূপ আরো হাফ ডজনের ও অধিক নিখোঁজ ও অপহরণ অভিযোগ এই মাস দুয়েকের মধ্যেই হয়েছে। এছাড়া পূর্ব যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের ব্যাপারে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় নেটিজেনরা।বিস্তারিত পরবর্তী সংবাদে নজর রাখুন।
 #শ্রীমঙ্গলের রীমা সিলেট থেকে উদ্ধার:ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আপন খালা ও তার স্বামীকে গ্রেফতার
#সংগ্রহ #শ্রীমঙ্গল

শ্রীমঙ্গলের রীমা রানী সিলেট থেকে উদ্ধার : ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ধর্মান্তরিত আপন মাসী গ্রেফতার

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সাত বছরের শিশু ছোঁয়া মনিকে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শিশুটিকে আছড়ে হত্যা করার দায়ে তার ফুপাতো ভাই মো. মনিরুল ইসলাম জিহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে রায়গঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক মো. ওমর ফারুকের কাছে জিহাদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক রতন জানান, শনিবার সকালে গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে জিহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জিহাদ জানায়, বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে সে তার মামাতো বোন ছোঁয়া মনিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ছোঁয়া মনি বিষয়টি বাবা-মাকে জানিয়ে দেবে বলায়, জিহাদ তাকে প্রতিবেশীর পরিত্যক্ত টয়লেটের ওয়ালের সঙ্গে আছড়ে হত্যা করে। এরপর সে মরদেহ টয়লেটের ভেতরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এসআই নাজমুল বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর জিহাদ অন্যদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ভান করে। এমনকি মসজিদে মাইকিংও করে। পরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর পেয়ে সে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে জিহাদের রক্তমাখা গেঞ্জি ও লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে প্রতিবেশীর একটি ভাঙা ও পরিত্যক্ত টয়লেটের ভেতর থেকে ছোঁয়া মনির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির দাদি মোছা. ফিরোজা বেগম অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর গোয়েন্দা পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়।

 

সিরাজগঞ্জে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশু ছোঁয়াকে হত্যা করে ফুপাতো ভাই

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং স্থানীয় পুলিশি সূত্রে ব্যাপকভাবে আলোচনা হয়েছে, সুনামগঞ্জের এক কিশোরী নিখোঁজ থাকার ঘটনায়। দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান ও সামাজিক সমন্বয়মূলক প্রচেষ্টার পর অবশেষে ওই কিশোরীর খোঁজ পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিশোরী স্বধর্মের একটিছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। তবে স্থানীয়রা এবং পরিবার সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর বয়স মাত্র ১৫ বছর, যা আইনগতভাবে তাকে নাবালিকা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করে। এত অল্প বয়সে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সামাজিক ও আইনগতভাবে উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

স্থানীয় পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কিশোরীর নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করেছি এবং তার পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এটি কেবল পরিবারের নয়, সমাজেরও একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।”

পুলিশ এবং সমাজকর্মীরা কিশোরী এবং তার পরিবারের সঙ্গে মানসিক সহায়তা এবং পরামর্শ প্রদান করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নাবালিকা কিশোরীদের এমন পরিস্থিতি সামাজিক শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবের প্রতিফলন, যা নিয়মিত মনিটরিং এবং পরিবারিক সহায়তার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।

অবশেষে খোঁজ মিলেছে নিখোঁজ কিশোরীর : প্রেমের টানে স্বধর্মের ছেলেকে বিয়ে!

ডেস্ক রিপোর্ট ::

স্নেহা চক্রবর্তী। সুনামগঞ্জ সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি-দুই পরীক্ষাতেই জিপিএ ৫। শত প্রতিকূলতার মাঝেও দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে গিয়েছিল মেয়েটি। স্বপ্ন ছিলো বড় হয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চলতি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয় সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে।
আজ ছিল তার জীবনের একটি নতুন সূচনার দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ক্লাস। গতকাল সকালে বাবার হাত ধরে প্রথমবার পা রাখে স্বপ্নের প্রাঙ্গণে। বাবা বিপুল চক্রবর্তী, শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। চোখে আনন্দের অশ্রু আর গর্ব ভরে মেয়েকে নিয়ে যান ভর্তি করাতে। মেয়ে ভর্তি হলো, ভর্তির কাজ শেষে বিকেলের দিকে বাবার বুক জড়িয়ে ধরে বাড়ির পথে রওনা দেয় স্নেহা। বাবা নিজে তাকে তুলে দেন সিএনজিচালিত অটোরিকশায়। কে জানত, সেই শেষ বিদায়টা হবে এতটা চিরন্তন, এতই নির্মম! পথেই বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে থেমে যায় একটি সম্ভাবনাময় প্রাণ। স্নেহা আর বাড়ি ফিরে আসেনি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মা জ্যোতি চক্রবর্তী আর ছোট ভাই সূর্য চক্রবর্তী ছুটে যান হাসপাতালে। মেয়ের নিথর শরীর দেখে ছটফট করতে করতে জ্ঞান হারান মা। ছোট ভাই সূর্য যেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না, শুধু বড় বোন স্নেহার লাশের দিকে তাকিয়ে থাকে! এটা তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। একে একে পরিবারের নিকটজনরা হাসপাতালে আসতে থাকে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তখন কেবল কান্না আর আহাজারি! একটি পরিবার ভেঙে চুরমার হয়ে গেল মুহূর্তে।
একটি স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস এভাবেই নিরবে লেখা হলো আজ। স্নেহা চক্রবর্তী আর নেই। থেকে গেলো তার অসমাপ্ত স্বপ্ন, বাবার চোখের জল, মায়ের বুকভাঙা কান্না আর ভাইয়ের অজস্র প্রশ্ন,”দিদিগো, তুমি কোথায় গেলে?”
আমরা স্নেহার আত্মার শান্তি কামনা করছি, অনন্তলোকে ভালো থাকুক মেয়েটি। ওঁ দিব্যান্ লোকান্ স গচ্ছতু।।

স্বপ্নার স্বপ্নীল স্বপ্ন ভেঙ্গে চূড়মার : একটি পরিবার ধ্বংসস্তূপে পরিনত

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
সিলেট মহানগরের শামীমাবাদে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।  পুলিশের বিরুদ্ধেও অসহযোগীতার অভিযোগ করেছে ওই পরিবার।
 রোববার (৩ আগস্ট) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন শামীমাবাদ এলাকার ১৮৩ নং বাসার বাসিন্দা ও এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার গীতা রানী হালদারের মেয়ে পুজা মন্ডল।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান তার বাবা তপুন কুমার মন্ডল কাজল প্রবাসে থাকেন। মা গীতা রানী স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে শামীমাবাদের বাসায় থাকেন। ২০১৩ সালে শামীমাবাদ এলাকায় ৪ শতক জায়গা ক্রয় করে সেখানে বাসা নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন গীতা রানী। বাসা নির্মাণের সময় এবং পরবর্তীতে কোনো ঝামেলার শিকার হননি। তবে চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করে একটি চক্র তাদেরকে হয়রানি শুরু করে। তার বাসার লাগোয়া প্লটের মালিক সোহেল বেগ এবং তার সহযোগী রজব আলী, আব্দুল মুমিন, ইমরান আহমদ, শাহান আহমদ, কামরান আহমদ, আঙ্গুর মিয়া, ফকির আলী, রাসেল আহমদ, সুমান আহমদ ও রাব্বিসহ আরও বেশ কয়েকজন এই উৎপাত শুরু করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সোহেল বেগের দাবি তার জায়গায় গীতা রানীদের বাসা। কিন্তু এর সপক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সোহেল বেগ। তারপরও গীতা রানী বলেন, প্রবাসী স্বামী দেশে আসলে এ বিষয়ে দুপক্ষ আলোচনায় বসবেন। সোহেল তার কথায় কর্ণপাত না করে গীতা রানীকে নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন এবং ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পূজা মন্ডলের অভিযোগ, মূলত চাঁদা আদায় করাই এই চক্রের আসল উদ্দেশ্য।
গীতা রানীর মেয়ে বক্তব্যে আরও বলেন, চাঁদা না দেয়ায় গত ২৮ জুলাই মধ্যরাতে সোহেল বেগ তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তার বাউন্ডারি দেওয়াল গুড়িয়ে দেন এবং বাসায় হামলা ও ভাঙচুর চালান। বাসার সিসিটিভি ক্যামেরাও ভাঙচুর করেন। এসময় গীতা রানী হাসপাতালে ডিউটিতে ছিলেন, বাসায় ছিলেন তার দুই ছেলে-মেয়ে। তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ যাওয়ার আগে হামলাকারীরা গীতা রানীর ছেলে-মেয়ে ও তাকে প্রাণে হত্যা করার হুমকি দিয়ে যায়।
 এ ঘটনার পর গীতা রানী সিলেট কোতোয়ালি থানায় এজাহার দায়ের করলেও পুলিশ মামলা রেকর্ড করেন নি। পরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ দিলেও মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ। পুলিশের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে অবশেষে বাধ্য হয়ে গীতা রানী আদালতের দ্বারস্থ হয়ে দুটি মামলার আবেদন করেছেন।

সিলেটে সংখ্যালঘু পরিবারকে হয়রানী : সহযোগিতা করেনি পুলিশ

অন্যান্য সংবাদ

রংপুর

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার হামিন্দপুর কামারপাড়া এলাকায় আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে তৈরি করা প্রতিমায় আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রতিমার বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে হামিন্দপুর সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও এর আগেই প্রতিমাগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মন্দির নিয়ে ক্যাশিয়ার কার্তিক চন্দ্রের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত শনিবার দুপুরে তিনি মন্দিরের প্রধান দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। বাধ্য হয়ে মন্দিরের দক্ষিণ পাশে খোলা আকাশের নিচে পূজার প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন কারিগররা। গত ৫/৬ দিনে তারা বাঁশ ও খড় দিয়ে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশসহ প্রতিমার নানা সরঞ্জাম তৈরি করেন। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা হঠাৎ প্রতিমাগুলোতে আগুন দিলে মুহূর্তেই সব পুড়ে যায়।
মন্দির কমিটির সাবেক সভাপতি অনুকূল চন্দ্র রনু বলেন, ‘মন্দির নিয়ে সামাজিক বিরোধের কারণে আমরা ৮-১০টি পরিবার মন্দিরের পাশে ছাপরা ঘর তুলে পূজার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিই। সে অনুযায়ী প্রতিমা তৈরির কাজ চলছিল। কিন্তু শত্রুতার আগুনে সব পুড়ে গেছে। পরিকল্পিতভাবে প্রতিমায় আগুন দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কার্তিক চন্দ্রের সম্পৃক্ততা আছে।’
মন্দিরের পাশের বাসিন্দা টুলু বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বিরোধ এর আগেও কয়েকবার বসে সমাধান হয়েছিল। কিন্তু কার্তিক চন্দ্র জোরপূর্বক মন্দিরে সমাজের লোকজনের প্রবেশে বাধা দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। প্রতিমা পুড়ে যাওয়ায় এবার দুর্গাপূজা নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানাই।’
এদিকে, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজউদ্দীন খন্দকার এবং সাদুল্লাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাত চন্দ্র অধিকারী। তারা প্রতিমাগুলো দেখে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলেন।
এ বিষয়ে ওসি তাজউদ্দীন খন্দকার বলেন, ‘রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা প্রতিমায় আগুন দিয়েছে। গুরুত্ব  সহকারে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া বিরোধ সমাধানে উভয়পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে।’
সাদুল্লাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাত চন্দ্র অধিকারী বলেন, ‘এই মন্দির নিয়ে কার্তিক চন্দ্রের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি আমরা এর আগেও থানায় বসে সমাধান করেছি। কিন্তু আবারও দ্বন্দ্ব চলছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য বসার কথা ছিল। তার আগেই প্রতিমায় আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুতই উভয়কে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করবো।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে বারবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি মন্দিরের ক্যাশিয়ার কার্তিক চন্দ্রকে। রাতে তার বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও কোনও সাড়া মেলেনি।
[তথ্যসূত্র: সনাতন টিভি]

মন্দির কমিটির অন্তর্দ্বন্দের শিকার স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় : গাইবান্ধায় রাতের আঁধারে দূর্গা প্রতিমায় দুর্বৃত্তের আগুন

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ১০ মাস ধরে আটকে রেখে ১২ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে সৎ বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা সহায়তা করেছে বলে জানা গেছে। তাদের দুজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম। এর আগে শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগীর মামা বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

আসামিরা হলেন, উপজেলার নিতাই পানিয়ালপুকুর গাংবের এলাকার আসাদুল মিস্ত্রির ছেলে রশিদুল ইসলাম (৪০) ও তার স্ত্রী আঁখি আক্তার নাসরিন (২৮)।

মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর মা চার বছর আগে প্রথম স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে দুই সন্তানসহ রশিদুল ইসলামকে বিয়ে করেন। তাকে বিয়ে করার পর রশিদুলের প্রথম স্ত্রী থাকার কারণে নাসরিনকে সন্তানসহ উপজেলা ব্র্যাক অফিসের পাশে ভাড়া বাসায় রাখতেন। পরে রশিদুল তার স্ত্রী নাসরিনের ১২ বছরের মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে সে রাজি না হওয়ার কারণে তার মাসহ তাকে মারধর করেন। পরে জোরপূর্বক ১০ মাস ধরে ভুক্তভোগীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে আসছে। এতে ভুক্তভোগী দুই মাসের গর্ভবতী হলে তার গর্ভপাত করাতে ওষুধ সেবন করালে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর আবারও ধর্ষণ করেন রশিদুল ইসলাম।

শুক্রবার ভুক্তভোগীর মামার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। এসময় ভুক্তভোগী তার মামাকে সবকিছু খুলে বললে তিনি থানায় এসে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করেন।

ভুক্তভোগীর মামা ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার ভাগ্নিকে ১০ মাস ধরে আটকে রেখে তার মায়ের সহায়তায় সৎ বাবা ধর্ষণ করে আসছে। ৫ মাস আগে সে গর্ভধারণ করলে তাকে ওষুধ সেবন করিয়ে গর্ভপাত করা হয়। আমরা চাই দোষীরা যেন বিচারের মুখোমুখি হয়।

কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, মায়ের সহায়তায় সৎ বাবা এক শিশুকে ১০ মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

সৎ বাবার ধর্ষণের শিকার কিশোরী : সহযোগিতা করেছে মা! 

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
❝ রংপুরের তারাগঞ্জ বাজার। ফুটপাতে ছোট্ট কাঠের চৌকিতে বসে জুতা সেলাই করছে ১৪ বছরের জয় রবিদাস। পাশে যন্ত্রপাতি, সামনে কয়েক জোড়া জুতা। এখানেই বারো বছর ধরে বসতেন তার বাবা রূপলাল রবিদাস। গত ৯ আগস্ট মব সন্ত্রাসে বাবার মৃত্যুর পর সেই শূন্য আসনে বসতে হয়েছে ছেলেকে।
জয় ছিল তারাগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। বাবাকে হারিয়ে সেই স্বপ্ন থেমে গেছে তার। সংসারের ভার কাঁধে নিয়ে বাধ্য হয়ে নামতে হয়েছে পৈতৃক পেশায়।
শুক্রবার সকালে জয়কে দেখা যায় বাজারের ফুটপাতে বসে জুতা সেলাই করতে।
জয়ের মা মালতি রানী রবিদাস বলেন, ‘সংসারে আর
কোনো পুরুষ নেই, জয়-ই এখন ভরসা। কতটুকু আয় করতে পারবে জানি না, তবে সেই আয়ে আমাদের কোনোভাবে বাঁচতে হবে। ছেলেটাকে স্কুলে পাঠাতে না পেরে বুক ফেটে যাচ্ছে। কিছু মানুষ আমাদের সুখ-শান্তি চিরদিনের জন্য কেড়ে নিয়েছে।’
রূপলালের বড় মেয়ে নুপুর রবিদাস বলেন, ‘বাবা বেঁচে থাকলে ছোট ভাইকে স্কুল ছেড়ে ফুটপাতে জুতা সেলাইয়ের কাজ করতে হতো না। ছোট ভাইয়ের রোজগারে সংসার চলছে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় দুঃখ। যদি উপায় থাকতো তাহলে জয়কে কাজ করতে যেতে দিতাম না।’ ❞
❝ গত ৯ আগস্ট রাতে রূপলাল রবিদাস (৪৮) ও তার ভাগ্নিজামাই প্রদীপ লাল রবিদাস (৪৭) ব্যাটারিচালিত ভ্যানে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তারাগঞ্জের সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলায় তাদের ভ্যানচোর সন্দেহে আটক করে স্থানীয়রা। কিছু সময়ের মধ্যেই মব গড়ে ওঠে এবং পিটিয়ে হত্যা করা হয় দুজনকে।❞
মহাজন ভালো আছেন। তার মেধাবী ছাত্ররা এখন কোটিপতি। হাঁস খায় পাঁচ তারকা হোটেলে। চলাচলের জন্য বিমান হেলিকপ্টার আছে। বিশ্রামের জন্য চীন আমেরিকা কক্সবাজারের পাঁচ তারকা হোটল আছে। আর জনগণ ভাতের অভাবে ফুটপাতে নেমে এসেছে।
[সৌজন্য: স্টার বাংলা]

মহাজনের মবের মুল্লুকে জয়ের পরাজয়! 

অনুসন্ধান ডেস্ক::
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ইউএনও’র নির্দেশে বলিদ্বারা দূর্গাপূজা মন্দিরের জায়গা দখলের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ( ৩১ জুলাই) উপজেলা পরিষদ চত্বরে পূজারিরা এ বিক্ষোভ করেছেন।
মন্দির কমিটি সূত্রে জানা যায়, বলিদ্বারা বাজার সংলগ্ন ১৬ শতাংশ জমির ওপর দূর্গাপূজা মন্দির রয়েছে। সেখানে বিগত সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূর্জা অর্চনা করে আসছেন। ওই জমির ওপর হঠাৎ ললুপ দৃষ্ঠি পড়ে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহি অফিসার সাফিউল মাজলুবিন রহমানের। তিনি গত বুধবার মন্দিরে উপস্থিত হয়ে ২ ঘন্টার মধ্যে সফিকুল নামের এক জনকে মন্দিরের জায়গা ছেড়ে দিতে বলেন। নতুবা মন্দিরের লোককে এরেস্ট করে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন।
এঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ফুঁসে উঠলে বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে ইউএন’ও বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় ইউএনও পূর্জা কমিটির লোকজনকে শান্ত হতে বলেন এবং বিকেলের মধ্যেই জমি সার্ভে করার কথা ঘোষণা দেন।
এ প্রসঙ্গে পূর্জা কমিটির সভাপতি সেবুলাল রায় বলেন, ‘বলিদ্বারা এলাকার রহমান আলী’র ছেলে সফিকুল ইসলামের মন্দিরের পিছনে বাড়ি করার কথা। এজন্য ইউএনও মন্দিরে এসে লোকজন দিয়ে বেড়া খুলে দেন এবং পূজা অর্চনার কাজে ব্যবহৃত কলা গাছ গুলো কেটে দেন। যা মোটেও কাম্য নয়। পরদিন এজন্য আমরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করি’।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শাফিউল মাজলুবিন রহমান মুঠোফোনে বলেন, সরেজমিনে গিয়ে মন্দিরের ১৬ শতাংশ মেপে দেয়া হয়েছে। এসময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ছিল, ওসি ছিল, আমি ছিলাম। সেখানে আর রাস্তা বের হবে না মনে হয়।
[তথ্যসূত্র: সনাতন টিভি]

ঠাকুরগাঁও ইউএনও’র নির্দেশে মন্দিরের জায়গা দখল : পূজারিদের বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট ::
হিন্দুদের বাড়িতে হামলার বিষয়ে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে গালমন্দ ও হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই দুই সাংবাদিক হলেন, প্রথম আলোর রংপুরের নিজস্ব প্রতিবেদক জহির রায়হান ও কালবেলার রংপুর প্রতিনিধি রেজওয়ান রনি।
রেজওয়ান রনি বলেন, ‘হামলার ঘটনার অনুসন্ধানে নেমে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা জানতে পারি, রোববার সকাল থেকে কিশোরগঞ্জের মাগুরা ইউনিয়নে মাইকিং করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। দুপুর ২টার দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকশ মানুষ ঘটনাস্থলের এক কিলোমিটার দূরে বাংলাবাজারে জড়ো হন। ওই দিন কিশোরগঞ্জ থানা থেকে বাংলাবাজারে চার-পাঁচ পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। উত্তেজিত জনতা বালাপাড়ায় হিন্দুপল্লির দিকে এগোলে তারা বাঁধা দেননি, বরং পেছনে ছিলেন।’
রনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কথা বলতে থানায় গেলে ওসি আশরাফুল ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের গালাগাল করেন। তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন এসআই মহসীন। কিন্তু ওসি তাঁকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ওদের ধরেন। ফাজলামো করলে পিটিয়ে সোজা করে দেব। এরপর আমাদের থানা থেকে সরিয়ে নেন এসআই।’
এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক বলেন, ওসি আশরাফুলকে প্রত্যাহার করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা না করলে সাংবাদিকরা আন্দোলনে যাবেন।
তথ্যসূত্র: সমকাল

গঙ্গাচড়া হিন্দু পল্লীতে হামলার বিষয়ে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে হুমকি : ওসি প্রদীপ’র ভূমিকায় আশরাফুল

অন্যান্য সংবাদ

নির্মল সেন: এক নির্মোহ বিপ্লবীর মহাকাব্য ও গণমানুষের দণ্ডায়মান বিবেক

ইতিহাসের মহাকাব্যে এমন কিছু চরিত্রের উদয় হয়, যাঁরা সময়ের স্রোতে গা ভাসাতে নয়, বরং স্রোতের গতিপথ বদলে দিতে আসেন। যখন কোনো পরাক্রমশালী নক্ষত্র নিজ কক্ষপথের আভিজাত্য ত্যাগ করে ধূলিকণার মিছিলে মিশে যায়, তখনই জন্ম নেয় নির্মল সেনের মতো এক একটি নির্মোহ উপাখ্যান। ১৯৩০ সালের ৩ আগস্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার দিঘীরপাড় গ্রামে যখন তাঁর জন্ম, তখন বাংলার আকাশ ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বারুদে তপ্ত। শৈশব থেকেই প্রথাগত সচ্ছলতার মোহ ত্যাগ করে মেহনতী মানুষের আর্তনাদকে নিজের কণ্ঠে ধারণ করার যে ব্রত তিনি গ্রহণ করেছিলেন, তা কোনো সাময়িক আবেগ ছিল না; বরং তা ছিল এক আজন্ম দার্শনিক অঙ্গীকার। ১৯৪৪ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে যখন তিনি ‘বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক দল’ (RSP)-এ যোগ দেন, তখন থেকেই ক্ষমতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে শোষিতের অধিকারকে ‘পরম সত্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুরু করেন। দেশভাগের সেই দহনকালেও যখন অনেকেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মোহে শেকড় বিচ্ছিন্ন হচ্ছিলেন, নির্মল সেন তখন এই বাংলার মাটিকে আঁকড়ে ধরে প্রমাণ করেছিলেন যে, বিপ্লবীর কাছে মানচিত্রের চেয়েও তার ওপর বসবাসরত মানুষের মর্যাদা অনেক বড়।

​নির্মল সেনের দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের অন্যতম অগ্নিঝরা অধ্যায় ছিল ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন। তাঁর বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সমসাময়িক রাজনৈতিক নথিপত্রে দেখা যায়, রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথ যখন উত্তাল, তখন তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কারণে সরকারের বিশেষ নজরদারিতে ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের সময় লিফলেট বিলি এবং গোপন সাংগঠনিক সভার সাথে যুক্ত থাকার দায়ে ১৯৫২ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বসেও তিনি বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বাধিকারের স্বপ্ন বুনেছিলেন। তাঁর এই রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পরিক্রমায় তিনি মোট ছয়বার কারাবরণ করেন। এর মধ্যে ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের আন্দোলন চলাকালীন তাঁকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রায় এক বছর তিনি বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করেন। তাঁর কারাজীবনের এই প্রতিটি মুহূর্ত ছিল স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে এক একটি দালিলিক প্রতিবাদ, যা তাঁকে জনমানুষের অকুতোভয় নেতায় পরিণত করেছিল।

​তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠতম অধ্যায় হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। ২৫ শে মার্চের কালরাত্রির নৃশংসতার পরেই তিনি সশস্ত্র প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তৎকালীন আরএসপি নেতা হিসেবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার সীমান্তবর্তী শরণার্থী শিবিরে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তিনি অনন্য সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করেন। ‘মুক্তিযুদ্ধ সংহতি সমিতি’র মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সপক্ষে জনমত গঠনে তাঁর অবদান ইতিহাসের স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ। কোলকাতার ডেকাস লেনের অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের রসদ সমন্বয় এবং আকাশবাণী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তাঁর ক্ষুরধার লেখনী রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয়ে সাহসের সঞ্চার করত। যুদ্ধের সময় চরম অর্থকষ্টে থাকলেও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দকৃত এক পয়সাও তিনি নিজের স্বার্থে ব্যয় করেননি, বরং সামান্য শুকনো মুড়ি খেয়ে কাটিয়েছেন দিন। তিনি কেবল একটি ভৌগোলিক মানচিত্রের জন্য লড়াই করেননি, বরং সেই স্বাধীনতার ভেতর দিয়ে একটি শোষণমুক্ত সাম্যবাদী ও মানবিক সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন।

​স্বাধীনতার পর তাঁর সংগ্রাম থেমে থাকেনি; বরং তা এক নতুন মাত্রা লাভ করে। আশির দশকে সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন বামপন্থী শক্তির অন্যতম মেরুদণ্ড। এছাড়া ভূমিহীন কৃষকদের অধিকার আদায় এবং শ্রমজীবী মানুষের রুটি-রুজির লড়াইয়ে তিনি রাজপথ থেকে শুরু করে নিজের লেখনীতে অবিরত সোচ্চার ছিলেন। সাংবাদিকতাকে নির্মল সেন কেবল পেশা নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী দার্শনিক হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ‘দৈনিক বাংলা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও ক্ষমতার মোহ তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে তাঁর লেখা ঐতিহাসিক কলাম—‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’—ছিল আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ‘সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট’ বা সামাজিক চুক্তির এক নতুন ভাষ্য। রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের এই গভীর দাবিটি রাষ্ট্রযন্ত্রের ব্যর্থতাকে এক নিদারুণ সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছিল।

​নির্মল সেনের রচিত গ্রন্থাবলী তাঁর প্রখর বুদ্ধিবৃত্তিক সততা ও নান্দনিক জীবনবোধের আয়না। তাঁর আত্মজীবনী ‘আমার জবানবন্দী’ কেবল এক ব্যক্তির কাহিনী নয়, বরং এটি বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নির্মোহ ব্যবচ্ছেদ। ‘লেনিন থেকে ক্রুশ্চেভ’ গ্রন্থে তিনি সমাজতান্ত্রিক বিশ্বের বিবর্তনকে যে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করেছেন, তা বিরল। তাঁর ‘মানুষের সমাজ’ ও ‘রুশ-জাপান যুদ্ধ’ গ্রন্থগুলোতে ফুটে ওঠে তাঁর গভীর তাত্ত্বিক প্রজ্ঞা এবং ইতিহাসের অলিগলি চেনার অদ্ভুত ক্ষমতা। তাঁর গদ্য শৈলী ছিল অত্যন্ত ঝরঝরে কিন্তু এর অন্তরালে থাকত তীক্ষ্ণ শ্লেষ আর গভীর দর্শন। তিনি শব্দের কারুকার্যে এক ধরণের ‘নান্দনিক বাস্তববাদ’ তৈরি করতেন; যেখানে জীবনের রূঢ় সত্যগুলো কেবল শুষ্ক তথ্য হয়ে থাকে না, বরং সাহিত্যের সুষমায় তা পাঠকের হৃদয়ে এক গভীর মানবিক হাহাকার হয়ে ধরা দেয়। তিনি জানতেন কীভাবে ইতিহাসের কাঠখোট্টা দলিলকে মানুষের রক্ত-মাংসের গল্পের সাথে মিলিয়ে দিতে হয়। তাঁর প্রতিটি গ্রন্থই তাই কেবল পড়ার জন্য নয়, বরং আগামী প্রজন্মের বিপ্লবীদের জন্য এক একটি গবেষণাধর্মী ম্যানিফেস্টো।

​নির্মল সেনের জীবনদর্শন ছিল আধুনিক ভোগবাদী রাজনীতির বিপরীতে এক নির্মোহ প্রাচীর। ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি আমৃত্যু ঢাকা প্রেস ক্লাবের ছোট্ট এক কক্ষে সাধারণ জীবনযাপন করে প্রমাণ করেছেন যে, মানুষের ভালোবাসা ও আদর্শের চেয়ে বড় কোনো সিংহাসন পৃথিবীতে নেই। তাঁর সেই ছোট্ট কক্ষে একটি সাধারণ তক্তপোশ আর বইয়ের স্তূপ ছাড়া আর কিছুই ছিল না—এই দৃশ্যটিই ছিল ক্ষমতার মদমত্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে তাঁর মৌন কিন্তু বজ্রকঠিন প্রতিবাদ। তাঁর এই নিস্পৃহ জীবনবোধ তাঁকে বিশ্ববরেণ্য সাংবাদিক জর্জ অরওয়েল বা অ্যালবার্ট কামুর মতো নির্ভীক বুদ্ধিজীবীদের কাতারে দাঁড় করিয়ে দেয়। বর্তমানের এই ডিজিটাল যুগে যখন সাংবাদিকতা করপোরেট স্বার্থের কাছে জিম্মি, তখন তাঁর সেই ‘গণমানুষের মুক্তি সংগ্রাম’ আমাদের নতুন করে পথ দেখায়। তিনি ছিলেন এই বদ্বীপের এক দার্শনিক স্থপতি, যিনি শব্দ আর সংগ্রামের ইটের ওপর গেঁথেছিলেন এক মুক্ত মানচিত্রের স্বপ্ন।

​২০১৩ সালের ৮ জানুয়ারি এই হিমালয়প্রতিম ব্যক্তিত্বের মহাপ্রয়াণ ঘটলেও তাঁর সত্তা মিশে আছে এই জনপদের প্রতিটি ধূলিকণায়। নির্মল সেন কেবল একজন মানুষ ছিলেন না; তিনি ছিলেন একটি জীবন্ত মানদণ্ড—যাঁর নির্মোহ জীবন বারেবারে আমাদের ক্ষুদ্রতাকে উপহাস করে যায়। তিনি প্রস্থান করেননি, বরং তাঁর সংগ্রামী দর্শন আজ এক প্রবহমান নদীর মতো মেহনতী মানুষের প্রতিটি মিছিলে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। মহাকালের বিশালতায় নশ্বর দেহের বিলয় ঘটলেও, মানুষের মুক্তির মিছিলে তিনি এক অবিনাশী ধ্রুবতারা। যতক্ষণ পৃথিবীতে বৈষম্য থাকবে, যতক্ষণ মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই জারি থাকবে, ততক্ষণ নির্মল সেন বেঁচে থাকবেন প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের অকুতোভয় অস্তিত্বে—এক চিরকালীন আলোকবর্তিকা হয়ে।

লেখক: (ডেপুটি রেজিস্ট্রার, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়)

নির্মল সেন: এক নির্মোহ বিপ্লবীর মহাকাব্য ও গণমানুষের দণ্ডায়মান বিবেক


নিজস্ব প্রতিনিধি ::
ঝালকাঠিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে আলাদাভাবে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভাম্যমান আদালত। জানা গেছে, বিভিন্ন সুত্রে ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মোঃ মমিন উদ্দিন জানতে পারেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের আগরবাড়ি ও বিনয়কাঠি ইউনিয়নের উত্তর মানপাশা গ্রামে অবৈধভাবে কৃষিজ জমিতে ড্রেজার এর পাইপের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছে একদল ভুমিখেকো। তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসক সদর উপজেলার ইউএনওকে অবহিত করলে ইনএনও এসি ল্যান্ডকে সরেজমিনে পাঠান। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বালু উত্তোলন এর অভিযোগে আগরবাড়িতে ৮০ হাজার টাকা ও উত্তর মানপাশায় ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ ঘটনায় এলাকায় কৃষকদের মাঝে ব্যপক খুশির জোয়ার বইছে। কারন বালু উত্তোলনকারিরা এলাকার প্রতাপশালী হওয়ায় তারা কোন প্রতিবাদ করতে পারেনি। স্থানীয় কৃষকরা জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং এসি ল্যান্ডকে অভিনন্দন জানান ও তাঁদের জন্য দোয়া করেন।
সোমবার দুপুরে এ অভিযানে বিনয়কাঠি ইউনিয়নের মানপাশা নামক স্থানে কৃষিজমি থেকে বালু উত্তোলনের অপরাধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানে সদর এসি ল্যান্ড সদর নেতৃত্ব দেন।

ঝালকাঠিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে পৃথকভাবে দু’স্পটে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার লালমোহন উপজেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টিপাতের কারণে কিছুটা বিপাকে পড়লেও তা কাটিয়ে ওঠেন কৃষকরা। যার ফলে মৌসুম শেষে আশানুরূপ ফলন পেয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। এই উপজেলায় আমন মৌসুমে ২৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকার ধান উৎপাদন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, লালমোহনে এবারের আমন মৌসুমে ২৩ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে উফশী জাতের ধান আবাদ হয়েছে ২২ হাজার ১৪৬ হেক্টর জমিতে। স্থানীয় জাতের ধান আবাদ হয়েছে ৯৫০ হেক্টর জমিতে এবং ৯ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ হয়। এসব জমিতে আমন মৌসুমে ১ লাখ ৭ হাজার ৫২০ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হয়। প্রতি মন গড়ে ৯০০ টাকা বাজার দরে মোট ২৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকার ধান উৎপাদন হয় এই আমন মৌসুমে।
কালমা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চরছকিনা এলাকার কৃষক মো. বাবুল জানান, এ বছরের আমন মৌসুমে ২০ শতাংশ জমিতে ব্রি-ধান ১০৩ এবং ১০০ শতাংশ জমিতে ব্রি-ধান-১১ ও ব্রি-ধান-৫২ আবাদ করেছি। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টিপাতের কারণে ধানের চারা নিয়ে অনেক বিপাকে পড়তে হয়েছে। তবে জমিতে চারা রোপণের পর আর তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। যার জন্য ফলন ভালো পেয়েছি। ক্ষেত থেকে ধান কাটা পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, লাভ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো।
লালমোহন ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ফুলবাগিচা এলাকার কৃষক মো. আব্দুল লতিফ জানান, এবারের আমন মৌসুমে ২০০ শতাংশ জমিতে ধানের আবাদ করেছি। জমির সব ধান এরইমধ্যে কাটা হয়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আশানুরূপ ফলন পেয়েছি। ২০০ শতাংশ জমি থেকে ধান পেয়েছি দেড়শত মন। বাজারে প্রতি মন ধান বিক্রি করেছি ৯২০ টাকায়।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু হাসনাইন বলেন, মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলা নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন কৃষকরা। যার ফলে এই উপজেলায় কিছুটা দেরিতে ধানের আবাদ হয়েছে। দেরিতে ধানের আবাদ হলেও কৃষকরা তাদের জমি থেকে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন। এরমাধ্যমে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এই উপজেলায় অধিক গড় ফলন অর্জন সম্ভব হয়েছে। পুরো আমন মৌসুমে আমাদের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যায় তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে পাশে ছিলেন। এছাড়া কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন কৃষি উপকরণও দেওয়া হয়েছে।

লালমোহনে ২শ’ ৪১ কোটি টাকার আমন ধান উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
“ডিমে আছে প্রোটিন, খেতে হবে প্রতিদিন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলায় ডিমের পুষ্টিগুণ বিষয়ক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার ১০৪ নম্বর নলগোড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হলরুমে এ আয়োজন করা হয়। পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) কৃষি ইউনিটভুক্ত প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস) এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা সদর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহিন মাহামুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জিজেইউএস-এর উপপরিচালক ডা. অরুণ কুমার সিংহ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন জিজেইউএস শাখা ইনচার্জ রতনা রানি সিংহ।
ক্যাম্পেইনে ডিমের পুষ্টিগুণ, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ডিমের গুরুত্ব এবং নিয়মিত ডিম গ্রহণের উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে র‌্যালি, কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, ডিম একটি সহজলভ্য ও পুষ্টিকর খাদ্য, যা অপুষ্টি দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা আরও বলেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুষ্টি বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা তৈরিতে সহায়ক হবে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সকলকে পুষ্টিকর ডিম খাওয়ানো হয়।

দৌলতখানে ডিমের পুষ্টিগুণ বিষয়ক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

কৃষি ডেস্ক :: 

কুশি উৎপাদন বৃদ্ধি:

★নির্দিষ্ট দূরত্বে রোপণের ফলে প্রতিটি গাছ পর্যাপ্ত আলো ও পুষ্টি পায়।
★গবেষণায় দেখা গেছে, লাইন রোপণে কুশির সংখ্যা ২০-২৫% পর্যন্ত বেশি হয়।

ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি:

গাছের সমান বৃদ্ধি ও ভালো শীষ গঠনের কারণে
প্রচলিত ছিটানো রোপণের তুলনায় ফলন ১০–১৫% পর্যন্ত বেশি পাওয়া যায়

সার ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি:

সার সরাসরি গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা যায়
ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের অপচয় ১৫-২০% কমে

সেচ ব্যবস্থাপনা সহজ ও পানি সাশ্রয়:

সমান দূরত্ব থাকায় জমিতে পানি নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়
বোরো মৌসুমে লাইন রোপণে ২০–২৫% পর্যন্ত পানি সাশ্রয় সম্ভব

আগাছা দমন সহজ ও খরচ কম:

সারি ধরে নিড়ানি ও পাওয়ার উইডার চালানো যায়
আগাছা দমনে শ্রম ও খরচ ৩০-৪০%

রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হ্রাস:

গাছের মাঝে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করায়
ব্লাস্ট, শীথ ব্লাইট ও পাতা ঝলসানো রোগের ঝুঁকি কমে

যান্ত্রিক চাষে উপযোগিতা:

রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, পাওয়ার উইডার ব্যবহারে সুবিধা
শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদ্ধতি

উৎপাদন খরচ হ্রাস ও লাভ বৃদ্ধি:

সার, পানি ও শ্রম সাশ্রয়ের ফলে
প্রতি হেক্টরে উৎপাদন খরচ গড়ে ৫-৮ হাজার টাকা কমে

বোরো ধানের জন্য সুপারিশকৃত রোপণ দূরত্ব:
সারি থেকে সারি : ২০-২৫ সেমি
গাছ থেকে গাছ : ১৫-২০ সেমি
প্রতি গোড়ায় চারা : ২-৩টি

বোরো মৌসুমে লাইন করে ধান রোপণ একটি বৈজ্ঞানিক, লাভজনক ও টেকসই চাষ পদ্ধতি, যা ফলন বৃদ্ধি, খরচ কমানো এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

লেখক:

★সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★উপদেষ্টা, গ্রামীণ কৃষি,নাগরিক কন্ঠ,সংবাদ প্রতিক্ষণ

★সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী,ঢাকা

বোরো মৌসুমে জমিতে লাইন বা সারি করে ধান রোপণের গুরুত্ব

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধারা ক্রমেই বদলে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমে ভোলা জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ঘন কুয়াশা, সূর্যহীন দিন ও হিমেল বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে উপকূলীয় এই জেলার জনজীবন। গত কয়েক দিন ধরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। নির্বাচনকালীন পরিবেশ বিরাজ করলেও শহর ও গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারে আগের মতো ভিড় নেই। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, জেলে ও হতদরিদ্র মানুষ। বিশেষ করে ভোলার চরাঞ্চল ও বেড়িবাঁধসংলগ্ন নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি ভয়াবহ। ভোলা সদর, চরফ্যাশন, মনপুরা, তজুমদ্দিন, দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন চরে বসবাসরত লক্ষাধিক নিম্নআয়ের মানুষ শীত মোকাবিলায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ।
ভোলা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, কোল্ড অ্যালার্জি ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত কয়েক দিনে কয়েক শ মানুষ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি।
চরাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও করুণ। ঢালচর, চরকুকরি-মুকরি, চর মাদ্রাজ, চর নিজাম, চর শাহজালাল ও চর কলাতলীসহ বিভিন্ন এলাকার ঝুপড়ি ঘরে উত্তরের হিমেল বাতাস সরাসরি ঢুকে পড়ছে। ভোলা সদর উপজেলার চরকালীর বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, দিন আনি দিন খাই। পুরোনো একটা সোয়েটার আর পাতলা কাঁথা দিয়েই কোনো রকমে রাত পার করি।


তজুমদ্দিন উপজেলার চর নাসরিনের বাসিন্দা বৃদ্ধা আয়শা খাতুন বলেন, শীত এলে অনেক জায়গায় কম্বল দেওয়া হয়। কিন্তু চরের মানুষ সব সময়ই অবহেলিত। এখন ভোটের সময় হলেও আমাদের খোঁজ নিতে কেউ আসে না।

ভোলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সোমবার ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ মো. আজিম উদ্দিন বলেন, এ বছর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১৩ হাজার পিস শীতবস্ত্র বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চরাঞ্চলের বাসিন্দারা দ্রুত পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র, চিকিৎসাসেবা ও জরুরি সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তীব্র শীতে এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত ভোলার চরাঞ্চলের মানুষ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য ও সদস্যাদের জন্য বোরহানউদ্দিনে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে। বোরহানউদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ৬, ৭ ও ৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য এই মেডিকেল ক্যাম্পে চোখের চিকিৎসা, চোখের ছানি অপারেশন, দাঁতের চিকিৎসাসহ অন্যান্য সাধারণ রোগের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।বোরহানউদ্দিন উপজেলা আনসার বিডিপি কর্মকর্তা প্রবীর কুমার রায়ের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বরিশাল রেঞ্জ কমান্ডার মোঃ আব্দুস সামাদ, বিভিএম, পিভিএমএস।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভোলা জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ রাশেদ বিন মামুন। এ সময় বক্তারা বলেন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা দেশের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এছাড়াও সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৫০০ কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে এসব কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

বোরহানউদ্দিনে আনসার বাহিনীর ব্যতিক্রমী মেডিকেল ক্যাম্প

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপার্সন ও তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত নগরীর ১৩ নং ওয়ার্ডের ডেঙ্গু সরদার রোডের সরদার বাড়ি জামে মসজিদে মঙ্লবার (৬ জানুয়ারী) জোহরবাদ অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মোনাজাতে মহানগর জাসাস এর সভাপতি মীর আদনান তুহিন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির নেতা সৈয়দ আহসান কবির হাসান, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এইচ এম তসলিম উদ্দিন,সিনিয়র সহ সভাপতি সালাউদ্দিন নাহিদ সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ বেলায়েত হোসেন, অপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রুহুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আসলাম বাচ্চু, ১২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব আজাদ তালুকদার, যুগ্ম আহবায়ক সবুজ দুরানী, সেচ্ছাসেবক দলের নেতা খান মোঃ আনোয়ার, ১৩ ন্য ওয়ার্ড বিএনপির নেতা যথাক্রমে ফেরদৌস খান মুনীর, হাসিব আহমেদ অপু, অ্যাড আঃ বারেক, মীর তানভীর আহমেদ প্রমুখ। দোয়া মোনাজাতের আগে কোমল মতি শিক্ষার্থীদের মাঝে পবিত্র কোরআন শরীফ বিতন করা হয়।

বরিশাল নগরীতে জাসাসের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও কোরআন বিতরন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
ঝালকাঠিতে ইয়াবাসহ কারবারি ডালিম মৃধা (৫০) কে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। ৬ জানুয়ারী বেলা সাড়ে ১২ টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এস আই হারুনার রশিদ এর নেতৃত্বে একটি টিম ঝালকাঠি পৌরসভাধীন ০৯নং ওয়ার্ডস্থ পুরাতন কলাবাগান যমুনা তেলের ডিপোর সামনে থেকে ১০ পিচ ইয়াবাসহ আটক করে। আটককৃত ডালিম মৃধা একই এলাকার মৃতঃ আশ্রাব আলী মৃধার

ছেলে। ডালিম মৃধার বিরুদ্ধে মাদক আইনে ঝালকাঠি থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে ডিবি অফিসার ইনচার্জ মোঃ তৌহিদ নিশ্চিত করেছেন। জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করায় মাদক নির্মূলে জেলা গোয়েন্দা বিভাগের অফিসার ইনচার্জ মোঃ তৌহিদ জেলা জুড়ে মাদক নির্মূলে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে জেলায় একের পর এক মাদক কারবারিকে আটক করে আইনের আওতায় আনছেন। অফিসার ইনচার্জ মোঃ তৌহিদ এর সাফ কথা মাদক কারবারি কারাগারের বাহিরে থাকতে পারবে না যতদিন তিনি ডিবিতে তিনি থাকবেন।

ঝালকাঠিতে ডিবির অভিযানে ইয়াবাসহ কারবারি আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ দিনে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীদের মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে ভোলার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সংসদীয় ভোলা-৪ (১১৮) আসনে ২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল এবং ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান এ ঘোষণা দেন।
এ আসনে যে সকল প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে তারা হলেন- বাংলাদেশ জাতায়ীতাবাদী দল (বিএনপি) নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোঃ মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (জাপা) মোঃ মিজানুর রহমান, আম জনতার দলের জামাল উদ্দিন রুমি, জাতীয়তাবাদ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আবুল কালাম। এ সময় দলীয় প্রার্থী এবং প্রার্থীর পক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।
যে কারণে মনোনয়ন বাতি হলো : জেলা রিটার্নিং অফিসার ডা. শামীম রহমান ভোলা-৪ আসনে সম্পদের বিবরণে আয়কর রিটার্ণের গড়মিল থাকায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবুল মোকাররম মো: কামাল উদ্দিন এবং সমর্থকদের ভোটার তালিকায় ত্রুটি থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলামের প্রার্থীতা বাতিল করেন।
উল্লেখ্য, এ আসনে বিভিন্ন দলের ৭ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন পত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে ২ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। বাকি ৫ জন প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

ইসলামী আন্দোলনসহ ২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, বৈধ ৫ প্রার্থী

খুঁজুন

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

অন্যান্য সংবাদ

খেলাধুলা

অন্যান্য সংবাদ

বিনোদন

অন্যান্য সংবাদ

লাইফস্টাইল

অন্যান্য সংবাদ

শিক্ষা