শিরোনাম :
ভোলায় এসএসসিতে পাসের হার ৫৩.৭১ শতাংশ : ফলাফলে মেয়েরা এগিয়ে ১৮ ফুট পর্যন্ত ঢেউ, ৩ নম্বর সংকেত : সমুদ্রে না যাওয়ার আহ্বান কোস্ট গার্ডের চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক কপিরাইট রেজিস্ট্রারকে ‘বাংলার আধ্যাত্মিক রত্ন সম্ভার’ গ্রন্থ উপহার বিপিএফ’র সভাপতির সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় বোরহানউদ্দিনে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ : ৫ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৩ হেল্পস্টার চ্যারিটি অর্গানাইজেশন’র উদ্যোগে কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মনপুরায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ সড়কে ধ্বস! বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন’র উদ্যোগে রাজধানীতে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পেরিলা: সম্ভাবনাময়  অর্থকরী নতুন ফসল

আন্তর্জাতিক

রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

বাবা-মা’র কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় সায়িত হয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মঙ্গলবার (২জুন) বিকাল ৪টা ১০ মিনিটের সময় তার গ্রামের বাড়ি ভোলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া এলাকায় তৃতীয় নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশেই সমাহিত করা হয়।


এর আগে দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন ভোলার খলিফাপট্টি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মহিউদ্দিন। জানাজায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম নবী আলমগীর, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ দল মত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং হাজারো মানুষের ঢল নামে। শেষবারের মতো তাকে এক নজর দেখা ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ভোলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও ভোলার সর্বস্তরের মানুষ।
জানাযা নামাজের পূর্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনারের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠককে। জেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ‘গার্ড অব অনার’ প্রদর্শন করেন।

ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর ও সদস্য সচিব রাইসুল আলম, জেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদক হারুন অর রশিদ টুমেনসহ নেতারা জানাজাস্থলে এসে মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় জানাজার আগে তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহীন ও আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুর রহমান বাহালুল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইউনুছ, সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র সালাউদ্দিন লিংকন বলেন, তোফায়েল আহমেদ একক রাজনীতি দলের নেতা নন। তিনি ভোলাবাসীর অভিভাবক ছিলেন। জানাজায় আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পাটি, জামায়াতে ইসলামসহ সব দলের সব পেশার মানুষ অংশ নেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানান।

এর আাগে আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে মরদেহ নিয়ে আসা হয় ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে। সেখান থেকে ফ্রিজিং ভ্যানে মরদেহটি নেওয়া হয় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। এ সময় তোফায়েল আহমেদকে বহনকারী হেলিকপ্টার ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা হেলিপ্যাডে ভিড় জমান।
বর্ণাঢ্য জীবন :
বাংলাদেশের রাজনীতি ও আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রনায়কের নাম তোফায়েল আহমেদ। দ্বীপজেলা ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামের ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মৌলভী আজহার আলী ব্যবসায়ী ও মা গৃহিণী ফাতেমা খানম।
১৯৬৪ সালে সদর উপজেলার ধনিয়ার বাসিন্দা মফিজুল হক তালুকদারের বড় মেয়ে আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তার বিবাহিত জীবন শুরু হয়। তোফায়েল আহমেদ এক কন্যার জনক।
রাজনীতির বরপুত্রখ্যাত তোফায়েল আহমেদ ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৬২ সালে আইএসসি ও ১৯৬৪ সালে বিএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি উত্তীর্ণ হন।
কলেজজীবনেই ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের শুরু। ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক পদে এবং কলেজের অশ্বিনী কুমার হলের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ইকবাল (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) হল ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, ১৯৬৫ সালে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের সহসভাপতি এবং ১৯৬৬-৬৭ সালে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপির দায়িত্ব পালনকালে চারটি ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন তোফায়েল আহমেদ। এরপর শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফাকে ১১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করে ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৬ সালের ৮ মে থেকে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৩৩ মাস কারাগারে আটক শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তির জন্য তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ সারা বাংলায় তৃণমূল পর্যন্ত গণ-আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবসহ সব রাজবন্দির মুক্তির পর ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে তিনি বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭০-এর ৭ জুন শেখ মুজিবের নির্দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বস্তুত এরপর সংগ্রামী জননেতা তোফায়েল আহমেদ জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের একজন বলিষ্ঠ সংগঠকে পরিণত হন।
১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোলার দৌলতখাঁন-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। তিনি ছিলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার অধিনায়কের একজন। বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা এলাকার সমন্বয়ে গঠিত মুজিব বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার সংগ্রামে তোফায়েল আহমেদের অংশগ্রহণ ছিল।
১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাকে রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ দেন। ১৯৭৩ সালে নিজ জেলা ভোলা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে দেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ঘোষণার পর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ৬ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ মাস তিনি কারান্তরালে ছিলেন। ১৯৭৮ সালে কুষ্টিয়া কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ৯৬ সালের সংসদ নির্বাচ

তোফায়েল আহমেদ ছিলেন রাজনীতির বরপুত্র : ভোলাবাসীর অভিভাবক

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
নগরীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত। পালিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা ও দোয়া-মিলাদ মাহফিল। বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪ র্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়ন ও আউটসোর্সিং কর্মচারীদের যৌথ উদ্যোগে রোববার বাদ জোহর শেবাচিম হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুফতি মাওঃ হাফেজ আসাদুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আউটসোর্সিং কর্মচারীদের প্রাণ ও শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ৪ র্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়ন এর সভাপতি রাব্বি আল মামুন ফয়সাল, মোঃ সোয়েব, মোঃ আলী,মোঃ শরীফ,মোঃ রাকিব,মোঃ রাসেল প্রমুখ। দোয়া অনুষ্ঠানে তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

বরিশাল নগরীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। জিয়াউর রহমান মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভোলা জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) সকালে জেলা বিএনপির সকল অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা কাল ব্যাচ ধারন করে। পরে একটি শোক বের হয় শহরে শোক র‌্যালি বের হয়। শোক র‌্যালিটি জেলা বিএনপির কার্যলয় থেকে বেড় হয়ে শহর প্রদক্ষিন করেন জেলা বিএনপির কার্যলয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব রাইসুল আলম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হায়দার আলী লেলিন,ভোলা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ ট্রুম্যান, হুমায়ুন কবির সোপান, তরিকুল ইসলাম কায়েদ, নির্বাহী সদস্য আমিনুল ইসলাম, ইয়ারুল আলম লিটন, ‎সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসিফ আলতাফ ও সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন, ভোলা জেলা যুব দলের সভাপতি জামাল উদ্দিন লিটন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর কাদের সেলিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মাসুদ, সদস্য সচিব মুনতাসীর আলম রবিন চৌধুরী, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শহিদুল আলম মানিক, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন তালুকদার এবং জেলা কৃষক দলের সভাপতি আব্দুর রহমান সেন্টু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল রাসেল, সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ রুবেলসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আবদুল লতিফ টিটু,সদস্য সচিব মো. বেলাল হোসেন সহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরাসহ দলের বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে হত্যার শিকার হন তিনি।

ভোলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
আগামী ৮ মে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের ৪৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা বুধবার সন্ধ্যা ৭ টার সময় আমির কুটির রোজ ইন হোটেল হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের জেলা সভাপতি রিয়াজ হাসান এর সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম রাসেল এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন এজিপি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. আঃ বারেক, মহানগর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি অধ্যাপিকা ফারজানা তিথি, সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ছাত্র নেতা কামরুল আলম মামুন, সদস্য মাহবুব সহ প্রমুখ। বক্তারা মানবতার সেবার লক্ষ্যে শেষ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক নেতৃবৃন্দের উপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল সেই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন এর কতটুকু অগ্রসর হয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। স্বাধীনতার ঘোষক সেক্টর কমান্ডার বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজীবন স্মৃতি সংরক্ষণ ও তাহার সুচিতে ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের তাগিদে ১৯৮২ সালের ৫ই মে তৎকালীন স্পিকার মরহুম মির্জা গোলাম হাফিজ প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তাদের স্মরণে আগামী ৫ই মে ৪৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল জেলা ও মহানগরের উদ্যোগে আগামী ৮ই মে শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত বরিশাল নগরীর গির্জা মহল্লায় অবস্থিত আচমত আলী খান ইনস্টিটিউট (একে স্কুল ) প্রাঙ্গনে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে অসহায় দুঃস্থ গরিব চিকিৎসা বঞ্চিত পরিবারের জন্য ।।

উক্ত ক্যাম্পে অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবক শিক্ষক কর্মচারীসহ সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকিবে ।

এতে উপস্থিত থাকবেন ডক্টর শিহাব উদ্দিন অর্থপেডিক্স ডক্টর মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম আবির ডায়াবেটিস ডঃ রেজাওনুর রহমান রায়হান, ডঃ মোঃ তানভীর হোসেন ডাক্তার শরিফ উদ্দিন রায়হান ডক্টর শেখ মোস্তফা আলী সংগঠনের সম্মানিত নেতৃবৃন্দদের সমন্বয়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করিবেন । শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন ও সংরক্ষণ আমাদের মূল উদ্দেশ্য সকল রোগীদের প্রতি থাকবে তাদের আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ।।

নগরীতে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

অন্যান্য সংবাদ

ঢাকা

চট্টগ্রাম

কক্সবাজার প্রতিনিধি::

কক্সবাজারের মহেশখালীতে দীর্ঘ ২ যুগ পর রাস্তা সংস্কার কার্যক্রম শুরুতে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
হোয়ানক ইউনিয়ন পানিরছড়া এলাকায় ৩ টি চলমান রাস্তা

সংস্কারের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। যেখানে ড্রেন হওয়ার কথা সেখানে হচ্ছে না ড্রেন, আর যেখানে আরসিসি ঢালাই দরকার সেখানে তা হচ্ছে না, বলে প্রশ্ন জনমনে। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে জেনেও না জানার ভাণ করছে ।

এলাকাবাসীর অনুরোধ, মহেশখালী ইউএনও যেন বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করেন, তা না হলে একটি সংকট তৈরি হতে পারে।

মোহাম্মদ হোচেন জানান, এই অনিয়মের পেছনে একমাত্র দায়ী ৯ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার কালা চান সহ কিছু অসৎ লোক, তারা রাস্তার কাজে কোন কারণ ছাড়া বাঁধা সৃষ্টি করে যাচ্ছে এসব চামচাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক

রুবেল জানান আরো কিছু দিন পরে পোস্ট দিলে ভালো হতো। কাজ প্রায় শেষের দিকে এতদিন কোথায় ছিলো সমাজের সচেতন মহল?? ব্যাপক দুর্নীতি অনিয়ম হলে কাজ বন্ধ করে দাও। সবার সাথে পরামর্শ করে সঠিকভাবে কাজ হচ্ছে কিনা তদারকি কর। ফেসবুকে বুকে পোস্ট দিয়ে বসে থাকলে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা মেরে দিবে।

আরমান আলী জানান, যদি ড্রেইন না দেয় রাস্তা এক বর্ষার পরে মাটির নিচে চলে যাবে! এটা তদন্ত করার জন্য ইউ এনও বরাবর কেউ অভিযোগ করেন। যদি রাস্তার টেন্ডারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংযুক্ত থাকে তাহলে অবশ্যই দিতে হবে আর যদি ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংযুক্ত না থাকে তাহলে তাদের ওপর কোন অভিযোগ নেই।

আলমগীর জানান, এ বিষয়ে আমরা চাই যে জায়গায় ড্রেন দরকার সে জায়গায় ড্রেন আর যে জায়গায় আরসিসি ঢালাই দরকার সেখানে তা হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ বৃহত্তর পানিরছড়া এলাকায় বর্ষাকালে প্রায় ৭৫ % রাস্তার উপর দিয়ে পানি চলাচল করে তা সকলে জানে।
ইতিমধ্যে ইউএনও মহোদয়কে মৌখিকভাবে জানিয়েছি উনি নিজে তদারকি করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

মহেশখালীতে দীর্ঘ ৩০ বছর পর রাস্তা সংস্কার কার্যক্রম : শুরুতেই অনিয়ম ও দুর্নীতি

অনুসন্ধান ডেস্ক :: 
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বৃহস্পতিবার (২৮ আগষ্ট) জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার চন্দ্রনাথ ধামের ভৈরব মন্দির ও ব্যাসকুন্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় সাথে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সান্তু বিপিএম (বার)।
পরিদর্শনকালে উল্লিখিত এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। সামগ্রিক বিষয়ে জেলা প্রশাসক মন্তব্য করেন, “চট্টগ্রাম সমগ্র বাংলাদেশে বিভিন্ন সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির এক মিলনমেলা। কোন প্রকার মিথ্যা প্রচারণা বা উস্কানিতে এই সম্প্রীতি কেউ যেন বিনষ্ট না করতে পারে সে ব্যাপারে প্রশাসন, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। আমরা চাই ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এখানে একটি সুন্দর ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকুক।”
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারবৃন্দ, সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং মাঠ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক’র সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধাম পরিদর্শন

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজন নিহতের ঘটনায় উল্টো পথে আসা হানিফ পরিবহনের সেই বাসটিকে জব্দ করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার খাদঘর মানামা হোটেলের সামনের মাঠ থেকে বাসটি জব্দ করা হয়।

ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।ওসি জানান, শুক্রবার দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাসটিকে শনাক্ত করা হয়। সিসিটিভিতে দেখা যাচ্ছিল, হানিফ পরিবহনের ঢাকা মেট্টো-ব-১২-২১৯৭ নম্বরের বাসটি উল্টো পথে চলাচল করার কারণেই সিমেন্ট বোঝাই কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারের ওপর উল্টে পড়ে, তারপর ওই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাসটি জব্দ হলেও চালক বা হেলপার কাউকে পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর বাসটিকে খাদঘর এলাকায় রেখে আত্মগোপনে চলে যান চালক এবং হেলপার। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ইউটার্নে সিমেন্টবোঝাই একটি কাভার্ড ভ্যান প্রাইভেট কারের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চারজন নিহত হন।

নিহতরা হলেন, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মোহাম্মদ ওমর আলী (৮০), তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৫), বড় ছেলে ব্যাংক এশিয়ার কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম (৫০) ও ছোট ছেলে আবুল কাশেম (৪৫)। প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন বড় ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল হাশেম। একই দুর্ঘটনায় লরির নিচে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রীও আহত হন। আহতরা ঢাকা ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহত ওমর আলীর ভাই আবুল কালাম বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহন বাসের অজ্ঞাতনামা চালকদের আসামি করা হয়েছে।

কুমিল্লার সড়ক দুর্ঘটনায় হানিফ পরিবহনের বাস জব্দ 

কক্সবাজার প্রতিনিধি ::
কক্সবাজারের চকরিয়া থানা হাজতে যুবক দুর্জয় চৌধুরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার ওসিকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন, এর আগে এ ঘটনায় থানার তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছিল। আজ শনিবার ওসি শফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “তৌহিদুল আনোয়ারকে চকরিয়া থানার নতুন ওসির দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শফিকুল ইসলামকে কক্সবাজার পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ করা হয়েছে।”
শুক্রবার সকালে চকরিয়া থানা হাজত থেকে দুর্জয় চৌধুরী নামে এক যুবককে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবার হত্যার অভিযোগ করলেও পুলিশের দাবি, দুর্জয় আত্মহত্যা করেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের ক্ষোভের মধ্যে শুক্রবার দুপুরে থানার এএসআই মোহাম্মদ হানিফ মিয়া, কনস্টেবল মহি উদ্দিন ও ইশরাক হোসেনকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
দুর্জয় চাকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দু পাড়ার কমল চৌধুরীর ছেলে। চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটরের দায়িত্বে ছিলেন দুর্জয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে দুর্জয়ের বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক তাকে থানায় হস্তান্তর করেন। তার বিরুদ্ধে ২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মামলা করেন। ভোরে চকরিয়া থানা হাজতের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে পুলিশের দাবি করা আত্মহত্যাকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন দুর্জয় চৌধুরীর বাবা কমল চৌধুরী।
শনিবার সকালে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে কমল চৌধুরী বলেন, “কোনো মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়া আমার ছেলেকে থানায় রাখা হয়েছে।”
তিনি এ ঘটনার জন্য স্কুলের দুজন শিক্ষককে দায়ী করে বলেন, “আমার ছেলের ব্যাগ ও ল্যাপটপ খুঁজে পাচ্ছি না। হয়তো ল্যাপটপে থাকা কোনো তথ্যের কারণেই প্রাণ হারিয়েছে দুর্জয়।”

চকরিয়া থানা হাজতে দুর্জয় চৌধুরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ওসি প্রত্যাহার : দুর্জয়ের ল্যাপটব উধাও

ডেস্ক রিপোর্ট ::
কুমিল্লায় প্রাইভেট কারের ওপর সিমেন্ট বোঝাই কাভার্ড ভ্যান উল্টে একই পরিবারের ৪ জন নিহতের পর এবার বিপজ্জনক সেই ইউটার্ন বন্ধ হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড সংলগ্ন উত্তর রামপুর এলাকার ইউটার্নটি বন্ধ করার প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। শনিবার (২৩ আগষ্ট) বেলা ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ২৩ বীরের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসানসহ হাইওয়ে পুলিশ ও সওজ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানায়।
সওজ কুমিল্লার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আদনান ইবনে হাসান সমকালকে বলেন, এ ইউটার্নটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। আজ সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশসহ আমরা আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রোববার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রশাসনের আরও একটি সভা হবে। সেখানে ইউটার্নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তবে আপাতত আজ রাত থেকে ইউটার্নটি বন্ধ রাখা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সকল যানবাহন পাশের সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের পাশের দয়াপুর এলাকা দিয়ে ইউটার্ন করবে।
এই সওজ কর্মকর্তা আরও বলেন, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার ইউলুপের কাজ চলমান আছে। তা চালু না হওয়া পর্যন্ত ইউটার্নগুলোতে যানবাহন চালকদের সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা অতিক্রম করতে হবে।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে মহাসড়কের পদুয়ারবাজার সংলগ্ন উত্তর রামপুর এলাকায় ইউটার্ন অতিক্রম করার সময় সিমেন্ট বোঝাই কাভার্ড ভ্যান উল্টে চাপা পড়ে প্রাইভেট কারের যাত্রী একই পরিবারের চার জনের মৃত্যু হয়। এরা হলেন, জেলার বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মোহাম্মদ ওমর আলী (৮০), তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৫), তাদের বড় ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল হাশেম (৫০) এবং ছোট ছেলে আবুল কাশেম (৪৫)। প্রাইভেটকারটি চালাচ্ছিলেন আবুল হাশেম।
এদিকে এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহত ওমর আলীর ভাই আবুল কালাম বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহন বাসের অজ্ঞাতনামা চালকদের আসামি করা হয়েছে।
ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার এসআই আনিসুর রহমান আজ শনিবার সমকালকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে দুর্ঘটনার জন্য কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহনের বাসের চালকই দায়ী। মামলার অভিযোগেও তাদের কথা বলা হয়েছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত : উম্মত্ত চালকদের নিয়ন্ত্রন করার দায়িত্ব কার?

অন্যান্য সংবাদ

বরিশাল

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ভোলায় এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। জেলায় মোট ১৪ হাজার ১৯৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭ হাজার ৬২৫ জন।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের দিক থেকে এবারও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৩ হাজার ৪৫৯ জন এবং ছাত্রী ৪ হাজার ১৫৬ জন। অর্থাৎ মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।

জেলায় এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৪০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ১৫৭ জন এবং ছাত্রী ১৮৩ জন। জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় মোট ২২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ফল প্রকাশের পর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তবে সামগ্রিক পাসের হার প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হতাশাও দেখা গেছে। বিশেষ করে গত বছরের তুলনায় এবারের ফলাফলে ভোলায় পাসের হার কমেছে, ফলে সার্বিক ফলাফল নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে ভাবনার জায়গা তৈরি হয়েছে।

ফলাফলের পরিসংখ্যান বলছে, সংখ্যার বিচারে শুধু পাসের হারেই নয়, জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে। ফলে জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষায় মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্যের বিষয়টি এবারও স্পষ্ট হয়েছে।

তবে জেলার সামগ্রিক পাসের হার ৫৩ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমে আসায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নে বিদ্যালয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ, দুর্বলতার কারণ চিহ্নিতকরণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোলায় এসএসসিতে পাসের হার ৫৩.৭১ শতাংশ : ফলাফলে মেয়েরা এগিয়ে

স্টাফ রিপোর্টার,ভোলা ::

সমুদ্রে বর্তমানে ঢেউয়ের উচ্চতা ১২ থেকে ১৮ ফুট পর্যন্ত ওঠানামা করছে। এর মধ্যে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল ও বৈরী হয়ে উঠেছে।এ পরিস্থিতিতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা এবং সমুদ্রে চলাচলের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ট্রলার বা নৌযানকে মাছ ধরা, বাণিজ্যিক কিংবা অন্য কোনো কাজে সমুদ্রে না পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে সমুদ্রে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

আবহাওয়ার এ বিরূপ পরিস্থিতি আরও ৪ থেকে ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তাই জেলে, ট্রলার ও নৌযানের মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

১৮ ফুট পর্যন্ত ঢেউ, ৩ নম্বর সংকেত : সমুদ্রে না যাওয়ার আহ্বান কোস্ট গার্ডের

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। বাকি দুই অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কাচিয়া ইউনিয়নের পদ্মামনসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার পরিচয় আইনি কারণে প্রকাশ করা হলো না।

মামলার বাদী ভুক্তভোগীর ভাই। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাতায়াতের পথে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত ২৬ জুলাই দুপুরে স্কুলের টিফিন বিরতির সময় বাড়িতে খাবার খেতে যাওয়ার পথে জরুরি কথা বলার কথা বলে একজন অভিযুক্ত তাকে পাশের একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়।

এজাহারে আরও বলা হয়, সেখানে আগে থেকেই আরও চারজন অবস্থান করছিল। ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনাকালে একজন তার মুখ চেপে ধরে এবং অন্যরা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের একজন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায় ওই শিক্ষার্থী। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা করা হয়।

মামলায় ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী পাঁচ কিশোরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা সবাই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের পদ্মামনসা এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, মামলার পর অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে। অপর দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বোরহানউদ্দিন থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তরা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত শিশু আইন অনুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বোরহানউদ্দিনে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ : ৫ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৩

স্টাফ রিপোর্টার ::
বরিশালে বিভিন্ন স্থানে হেল্পস্টার চ্যারিটি অর্গানাইজেশন এর উদ্যোগে কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬ আগষ্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টার সময় বরিশালের সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাঙ্গার পার, তালতলী বাজার ও একই দিন বিকাল ৫ টার সময় নগরীর পলাশপুরের ৭ নং রোডের মেহেদি মেডিকেলের সম্মুখে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। হেল্পস্টার ই ইউ এর আর্থিক সহযোগিতায় বরিশালের জর্ডন রোডে একমাত্র আল-আকসা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ০ থেকে ২১ বছর পর্যন্ত রোগীদের নিরাময়যোগ্য অপারেশন ও চিকিৎসা সম্পুর্ন বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। সচেতনতা মুলক সভায় বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করেন সিনিয়র প্রতিনিধি মেঘ লাল রায়। অনুষ্ঠানে অপর প্রতিনিধি মোঃ আনোয়ার হোসেন আনুর সার্বিক পরিচালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালী মডেল থানার এস আই রুমা, সমাজসেবিকা শামীমা নাসরিন পুতুল, পল্লী চিকিৎসক মেরাজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

হেল্পস্টার চ্যারিটি অর্গানাইজেশন’র উদ্যোগে কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

ভোলার মনপুরায় গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা টেকসই করার লক্ষ্যে দেড় কোটি টাকা ব্যায়ে সদ্য নির্মাণ করা হয় দুইটি হেরিং বোন (ইটের সোলিং রাস্তা) সড়ক। কিন্তু নির্মাণের মাসখানেকের মধ্যে সড়ক দুইটি বিভিন্নস্থানে ধ্বসে পড়েছে ইটের সোলিং। নিুমানের নির্মাণসামগ্রী ইট ও বালু ব্যবহারে রাস্তার এই অবস্থা হয়েছে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয়রা জানান, কাজ শুরু করার কিছুদিন পরেই রাস্তার ইটের সোলিং ধ্বসে পড়ে। সড়কে নিয়ম অনুযায়ী পর্যাপ্ত ইট ও বালু ব্যবহার করে নাই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এতে রাস্তায় বিভিন্ন অংশে রাস্তার ইট সরে গিয় গর্তে সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ পড়েছেন তারা।

এমনকি রাস্তার ব্যবহৃত ইটের ফাঁকে পা পড়ে দুর্ঘটনায় পড়েছেন পথচারীরা। তারা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাসহ গ্রামীণ সড়ক দুইটি পুনারায় মেরামতের দাবী করেন।

জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১৫ শত মিটার গ্রামীণ এইচবিবি সড়ক নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৩২ লাখ ১ শত ২৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। রাস্তা দুইটি নির্মাণে কার্যাদেশ পায় মেসার্স ভাই ভাই ট্রের্ডাস।

প্রকল্পের আওতায় ৭ং ওয়ার্ডের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের আবহাওয়া অফিসসংলগ্ন আবু তাহেরের বাড়ি থেকে পূর্বদিকে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত ১,০০০ মিটার এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গ্রামীণ টাওয়ারসংলগ্ন রহিম হাফেজের বাড়ি থেকে পশ্চিমে বেড়িবাঁধ মসজিদ পর্যন্ত ৫০০ মিটার এইচবিবি সড়ক নির্মাণ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সদ্য নির্মিত সড়ক দুটির বিভিন্ন স্থানে ইট দেবে গেছে। এমনকি রাস্তায ব্যবহৃত ইট ভেঙে পড়েছে। আবার কোথাও কোথাও ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই ব্যাপারে ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ তসলিম জানান, গ্রামীণ সড়কটিতে মাটি ভরাট করে হেরিংবোন (ইটের সোলিং) করে রাস্তা নির্মাণ করবে ঠিকাদার। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি রাস্তায় মাটির কাজ না করেই হেরিংবোনের কাজ করে। এছাড়াও রাস্তায় নিুমানের ইট ও বালু ব্যবহার করায় সড়কটি ধ্বসে পড়েছে। প্রতিদিন স্থানীয়রা এই রাস্তার বিষয়ে অভিযোগ দেন বলে জানান তিনি।

এই ব্যাপারে গ্রামীণ সড়ক দুইটি নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স-এর প্রতিনিধি জাহিদুর রহমান জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি সড়কে মাটি না ফেলে কাজ করার বিষয়টিসহ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এই ব্যাপারে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন জানন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার কারণে রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঠিকাদারকে জানানো হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে গেলে তিনি সড়কটি সম্পূর্নভাবে মেরামত করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

মনপুরায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ সড়কে ধ্বস!

অন্যান্য সংবাদ

খুলনা

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

পুকুর থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিথীকা সাধু (৫০) সাতক্ষীরা শহরের বউবাজার এলাকার মৃত. বিশ্বনাথ সাধুর স্ত্রী। তিনি বউবাজারের একজন মুদি দোকানী।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, বিথীকা সাধুর সাতক্ষীরা শহরের বউবাজারে একটি মুদি দোকান রয়েছে।৷ প্রতিদিন দোকান বন্ধ করে রাত ১০টার দিকে বাড়িতে ফেরেন। কিন্তু আজ বাড়িতে ফিরতে দেরী হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশে একশো গজ দূরে পুকুরের ভিতর মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানিয়েছে, এলাকায় মাদকসেবীদের উৎপাত রয়েছে। বিথীকা সাধুর গলায় স্বর্ণের চেন ও কানে দুল ছিল। সেটি পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মাদকসেবীরা ছিনতাইকালে তাদের চিনে ফেলায় বিথীকা সাধুকে হত্যা করা হয়েছে। ভারী বস্তু দিয়ে মাথা ও মুখ থেতলে দিয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন সাতক্ষীরা থানা পুলিশের একটি টিম। অপরাধী শনাক্ত ও ঘটনার রহস্য উন্মোচনে কাজ চলছে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

সাতক্ষীরা শহরের বউবাজার এলাকায় মুখ ও মাথা থেতলে নারীকে হত্যা

রাজশাহী

সিলেট

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের কিশোরী রীমা রানী সরকার (১৫)-কে নিখোঁজের প্রায় ২৪ দিন পর পুলিশ ও র্যাবের সহায়তায় রিমাকে সিলেট থেকে উদ্ধার করেছে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ। এই কাজে জড়িত থাকার অভি
যোগে ভিকটিমের ধর্মান্তরিত আপন মাসিসহ তার
স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী অন্যান্য সংস্থা ও এর সাথে কাজ করেন।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়,গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুর্গাপূজার সপ্তমীর দিনে শ্রীমঙ্গল শহরের আর.কে. মিশন রোড দুর্গা মন্দিরে অঞ্জলী দিতে গিয়ে নিখোঁজ হয় রীমা রানী সরকার। এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা মতিলাল বিশ্বাস বাদী হয়ে কমলগঞ্জ উপজেলার কাঠালকান্দি গ্রামের বদরুল আলম (২৫)সহ তিনজনের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৩০ ধারায় মামলা (নং–০৮, তারিখ: ০৫/১০/২০২৫) রুজু করা হয়। অপহরণের পর থেকেই বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি এবং সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি এর দিকনির্দেশনায়, মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোঃ এম.কে.এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন, পিপিএম-সেবা’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেন।
ঘটনা ক্রমে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি টিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৮ ও ১১ অক্টোবর মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামী বদরুল আলম (২৫) ও শহিদ মিয়া (৩২)-কে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভিকটিম সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় তদন্ত আরও প্রসারিত করা হয়। পরবর্তী তদন্তে ভিকটিমের খালা প্রিয়াংকা সরকারের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তার কল রেকর্ড বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভিকটিমের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
সেই সূত্র ধরে সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানার ধরাধরপুর এলাকায় শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগম ও তার স্বামী মোবারক মিয়া ভিকটিমকে তাদের ভাড়া বাসায় আটক করে রেখেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে আরও প্রকাশ পায় যে, শিল্পী সরকার (ওরফে শিল্পী বেগম) ভিকটিমের আপন খালা (তিনি ধর্মান্তরিত মুসলিম)। প্রায় দুই বছর আগে তিনি মোবারক মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে ধর্মান্তরিত হয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পুলিশের দাবি,ঘটনার দিন তিনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করে অঞ্জলী শেষে ফেরার পথে কিশোরী রীমাকে প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের ধরাধরপুর এলাকায় নিয়ে যায় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখে। এমনকি ঘটনার পর ভিকটিমের মা জড়িত শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগমের সাথে যোগাযোগ করে ভিকটিমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। গতকাল (২৪ অক্টোবর) তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ভিকটিম রীমা রানী সরকারকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগম ও তার স্বামী মোবারক মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রসঙ্গত রিমা রানী সরকারের ঘটনাটি নিখোঁজ নাকি আত্মগোপন না অপহরণ এ বিষয়ে শহর জুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়, অনেকেই অপহরণ দাবি করে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক কিসোর কিশোরীকে যদি কেহ ফুসলিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে গোপন করার চেষ্টা করে তাহলে সেটি অপহরণ হিসেবেই গণ্য হয়। প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটি আরও তদন্তের দাবি সাধারণ জনগণের। এর পিছনে মূল রহস্য কি এবং কেন শুধুমাত্র একটি বিষয়কেই হাইলাইট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কে ভাইরাল করা হয়েছে,যেহেতু শ্রীমঙ্গল থানায় এরূপ আরো হাফ ডজনের ও অধিক নিখোঁজ ও অপহরণ অভিযোগ এই মাস দুয়েকের মধ্যেই হয়েছে। এছাড়া পূর্ব যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের ব্যাপারে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় নেটিজেনরা।বিস্তারিত পরবর্তী সংবাদে নজর রাখুন।
 #শ্রীমঙ্গলের রীমা সিলেট থেকে উদ্ধার:ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আপন খালা ও তার স্বামীকে গ্রেফতার
#সংগ্রহ #শ্রীমঙ্গল

শ্রীমঙ্গলের রীমা রানী সিলেট থেকে উদ্ধার : ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ধর্মান্তরিত আপন মাসী গ্রেফতার

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সাত বছরের শিশু ছোঁয়া মনিকে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শিশুটিকে আছড়ে হত্যা করার দায়ে তার ফুপাতো ভাই মো. মনিরুল ইসলাম জিহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে রায়গঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক মো. ওমর ফারুকের কাছে জিহাদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক রতন জানান, শনিবার সকালে গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে জিহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জিহাদ জানায়, বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে সে তার মামাতো বোন ছোঁয়া মনিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ছোঁয়া মনি বিষয়টি বাবা-মাকে জানিয়ে দেবে বলায়, জিহাদ তাকে প্রতিবেশীর পরিত্যক্ত টয়লেটের ওয়ালের সঙ্গে আছড়ে হত্যা করে। এরপর সে মরদেহ টয়লেটের ভেতরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এসআই নাজমুল বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর জিহাদ অন্যদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ভান করে। এমনকি মসজিদে মাইকিংও করে। পরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর পেয়ে সে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে জিহাদের রক্তমাখা গেঞ্জি ও লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে প্রতিবেশীর একটি ভাঙা ও পরিত্যক্ত টয়লেটের ভেতর থেকে ছোঁয়া মনির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির দাদি মোছা. ফিরোজা বেগম অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর গোয়েন্দা পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়।

 

সিরাজগঞ্জে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশু ছোঁয়াকে হত্যা করে ফুপাতো ভাই

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং স্থানীয় পুলিশি সূত্রে ব্যাপকভাবে আলোচনা হয়েছে, সুনামগঞ্জের এক কিশোরী নিখোঁজ থাকার ঘটনায়। দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান ও সামাজিক সমন্বয়মূলক প্রচেষ্টার পর অবশেষে ওই কিশোরীর খোঁজ পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিশোরী স্বধর্মের একটিছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। তবে স্থানীয়রা এবং পরিবার সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর বয়স মাত্র ১৫ বছর, যা আইনগতভাবে তাকে নাবালিকা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করে। এত অল্প বয়সে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সামাজিক ও আইনগতভাবে উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

স্থানীয় পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কিশোরীর নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করেছি এবং তার পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এটি কেবল পরিবারের নয়, সমাজেরও একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।”

পুলিশ এবং সমাজকর্মীরা কিশোরী এবং তার পরিবারের সঙ্গে মানসিক সহায়তা এবং পরামর্শ প্রদান করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নাবালিকা কিশোরীদের এমন পরিস্থিতি সামাজিক শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবের প্রতিফলন, যা নিয়মিত মনিটরিং এবং পরিবারিক সহায়তার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।

অবশেষে খোঁজ মিলেছে নিখোঁজ কিশোরীর : প্রেমের টানে স্বধর্মের ছেলেকে বিয়ে!

ডেস্ক রিপোর্ট ::

স্নেহা চক্রবর্তী। সুনামগঞ্জ সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি-দুই পরীক্ষাতেই জিপিএ ৫। শত প্রতিকূলতার মাঝেও দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে গিয়েছিল মেয়েটি। স্বপ্ন ছিলো বড় হয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চলতি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয় সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে।
আজ ছিল তার জীবনের একটি নতুন সূচনার দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ক্লাস। গতকাল সকালে বাবার হাত ধরে প্রথমবার পা রাখে স্বপ্নের প্রাঙ্গণে। বাবা বিপুল চক্রবর্তী, শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। চোখে আনন্দের অশ্রু আর গর্ব ভরে মেয়েকে নিয়ে যান ভর্তি করাতে। মেয়ে ভর্তি হলো, ভর্তির কাজ শেষে বিকেলের দিকে বাবার বুক জড়িয়ে ধরে বাড়ির পথে রওনা দেয় স্নেহা। বাবা নিজে তাকে তুলে দেন সিএনজিচালিত অটোরিকশায়। কে জানত, সেই শেষ বিদায়টা হবে এতটা চিরন্তন, এতই নির্মম! পথেই বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে থেমে যায় একটি সম্ভাবনাময় প্রাণ। স্নেহা আর বাড়ি ফিরে আসেনি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মা জ্যোতি চক্রবর্তী আর ছোট ভাই সূর্য চক্রবর্তী ছুটে যান হাসপাতালে। মেয়ের নিথর শরীর দেখে ছটফট করতে করতে জ্ঞান হারান মা। ছোট ভাই সূর্য যেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না, শুধু বড় বোন স্নেহার লাশের দিকে তাকিয়ে থাকে! এটা তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। একে একে পরিবারের নিকটজনরা হাসপাতালে আসতে থাকে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তখন কেবল কান্না আর আহাজারি! একটি পরিবার ভেঙে চুরমার হয়ে গেল মুহূর্তে।
একটি স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস এভাবেই নিরবে লেখা হলো আজ। স্নেহা চক্রবর্তী আর নেই। থেকে গেলো তার অসমাপ্ত স্বপ্ন, বাবার চোখের জল, মায়ের বুকভাঙা কান্না আর ভাইয়ের অজস্র প্রশ্ন,”দিদিগো, তুমি কোথায় গেলে?”
আমরা স্নেহার আত্মার শান্তি কামনা করছি, অনন্তলোকে ভালো থাকুক মেয়েটি। ওঁ দিব্যান্ লোকান্ স গচ্ছতু।।

স্বপ্নার স্বপ্নীল স্বপ্ন ভেঙ্গে চূড়মার : একটি পরিবার ধ্বংসস্তূপে পরিনত

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
সিলেট মহানগরের শামীমাবাদে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।  পুলিশের বিরুদ্ধেও অসহযোগীতার অভিযোগ করেছে ওই পরিবার।
 রোববার (৩ আগস্ট) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন শামীমাবাদ এলাকার ১৮৩ নং বাসার বাসিন্দা ও এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার গীতা রানী হালদারের মেয়ে পুজা মন্ডল।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান তার বাবা তপুন কুমার মন্ডল কাজল প্রবাসে থাকেন। মা গীতা রানী স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে শামীমাবাদের বাসায় থাকেন। ২০১৩ সালে শামীমাবাদ এলাকায় ৪ শতক জায়গা ক্রয় করে সেখানে বাসা নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন গীতা রানী। বাসা নির্মাণের সময় এবং পরবর্তীতে কোনো ঝামেলার শিকার হননি। তবে চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করে একটি চক্র তাদেরকে হয়রানি শুরু করে। তার বাসার লাগোয়া প্লটের মালিক সোহেল বেগ এবং তার সহযোগী রজব আলী, আব্দুল মুমিন, ইমরান আহমদ, শাহান আহমদ, কামরান আহমদ, আঙ্গুর মিয়া, ফকির আলী, রাসেল আহমদ, সুমান আহমদ ও রাব্বিসহ আরও বেশ কয়েকজন এই উৎপাত শুরু করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সোহেল বেগের দাবি তার জায়গায় গীতা রানীদের বাসা। কিন্তু এর সপক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সোহেল বেগ। তারপরও গীতা রানী বলেন, প্রবাসী স্বামী দেশে আসলে এ বিষয়ে দুপক্ষ আলোচনায় বসবেন। সোহেল তার কথায় কর্ণপাত না করে গীতা রানীকে নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন এবং ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পূজা মন্ডলের অভিযোগ, মূলত চাঁদা আদায় করাই এই চক্রের আসল উদ্দেশ্য।
গীতা রানীর মেয়ে বক্তব্যে আরও বলেন, চাঁদা না দেয়ায় গত ২৮ জুলাই মধ্যরাতে সোহেল বেগ তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তার বাউন্ডারি দেওয়াল গুড়িয়ে দেন এবং বাসায় হামলা ও ভাঙচুর চালান। বাসার সিসিটিভি ক্যামেরাও ভাঙচুর করেন। এসময় গীতা রানী হাসপাতালে ডিউটিতে ছিলেন, বাসায় ছিলেন তার দুই ছেলে-মেয়ে। তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ যাওয়ার আগে হামলাকারীরা গীতা রানীর ছেলে-মেয়ে ও তাকে প্রাণে হত্যা করার হুমকি দিয়ে যায়।
 এ ঘটনার পর গীতা রানী সিলেট কোতোয়ালি থানায় এজাহার দায়ের করলেও পুলিশ মামলা রেকর্ড করেন নি। পরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ দিলেও মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ। পুলিশের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে অবশেষে বাধ্য হয়ে গীতা রানী আদালতের দ্বারস্থ হয়ে দুটি মামলার আবেদন করেছেন।

সিলেটে সংখ্যালঘু পরিবারকে হয়রানী : সহযোগিতা করেনি পুলিশ

অন্যান্য সংবাদ

রংপুর

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার হামিন্দপুর কামারপাড়া এলাকায় আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে তৈরি করা প্রতিমায় আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রতিমার বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে হামিন্দপুর সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও এর আগেই প্রতিমাগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মন্দির নিয়ে ক্যাশিয়ার কার্তিক চন্দ্রের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত শনিবার দুপুরে তিনি মন্দিরের প্রধান দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। বাধ্য হয়ে মন্দিরের দক্ষিণ পাশে খোলা আকাশের নিচে পূজার প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন কারিগররা। গত ৫/৬ দিনে তারা বাঁশ ও খড় দিয়ে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশসহ প্রতিমার নানা সরঞ্জাম তৈরি করেন। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা হঠাৎ প্রতিমাগুলোতে আগুন দিলে মুহূর্তেই সব পুড়ে যায়।
মন্দির কমিটির সাবেক সভাপতি অনুকূল চন্দ্র রনু বলেন, ‘মন্দির নিয়ে সামাজিক বিরোধের কারণে আমরা ৮-১০টি পরিবার মন্দিরের পাশে ছাপরা ঘর তুলে পূজার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিই। সে অনুযায়ী প্রতিমা তৈরির কাজ চলছিল। কিন্তু শত্রুতার আগুনে সব পুড়ে গেছে। পরিকল্পিতভাবে প্রতিমায় আগুন দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কার্তিক চন্দ্রের সম্পৃক্ততা আছে।’
মন্দিরের পাশের বাসিন্দা টুলু বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বিরোধ এর আগেও কয়েকবার বসে সমাধান হয়েছিল। কিন্তু কার্তিক চন্দ্র জোরপূর্বক মন্দিরে সমাজের লোকজনের প্রবেশে বাধা দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। প্রতিমা পুড়ে যাওয়ায় এবার দুর্গাপূজা নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানাই।’
এদিকে, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজউদ্দীন খন্দকার এবং সাদুল্লাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাত চন্দ্র অধিকারী। তারা প্রতিমাগুলো দেখে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলেন।
এ বিষয়ে ওসি তাজউদ্দীন খন্দকার বলেন, ‘রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা প্রতিমায় আগুন দিয়েছে। গুরুত্ব  সহকারে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া বিরোধ সমাধানে উভয়পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে।’
সাদুল্লাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাত চন্দ্র অধিকারী বলেন, ‘এই মন্দির নিয়ে কার্তিক চন্দ্রের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি আমরা এর আগেও থানায় বসে সমাধান করেছি। কিন্তু আবারও দ্বন্দ্ব চলছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য বসার কথা ছিল। তার আগেই প্রতিমায় আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুতই উভয়কে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করবো।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে বারবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি মন্দিরের ক্যাশিয়ার কার্তিক চন্দ্রকে। রাতে তার বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও কোনও সাড়া মেলেনি।
[তথ্যসূত্র: সনাতন টিভি]

মন্দির কমিটির অন্তর্দ্বন্দের শিকার স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় : গাইবান্ধায় রাতের আঁধারে দূর্গা প্রতিমায় দুর্বৃত্তের আগুন

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ১০ মাস ধরে আটকে রেখে ১২ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে সৎ বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা সহায়তা করেছে বলে জানা গেছে। তাদের দুজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম। এর আগে শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগীর মামা বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

আসামিরা হলেন, উপজেলার নিতাই পানিয়ালপুকুর গাংবের এলাকার আসাদুল মিস্ত্রির ছেলে রশিদুল ইসলাম (৪০) ও তার স্ত্রী আঁখি আক্তার নাসরিন (২৮)।

মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর মা চার বছর আগে প্রথম স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে দুই সন্তানসহ রশিদুল ইসলামকে বিয়ে করেন। তাকে বিয়ে করার পর রশিদুলের প্রথম স্ত্রী থাকার কারণে নাসরিনকে সন্তানসহ উপজেলা ব্র্যাক অফিসের পাশে ভাড়া বাসায় রাখতেন। পরে রশিদুল তার স্ত্রী নাসরিনের ১২ বছরের মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে সে রাজি না হওয়ার কারণে তার মাসহ তাকে মারধর করেন। পরে জোরপূর্বক ১০ মাস ধরে ভুক্তভোগীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে আসছে। এতে ভুক্তভোগী দুই মাসের গর্ভবতী হলে তার গর্ভপাত করাতে ওষুধ সেবন করালে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর আবারও ধর্ষণ করেন রশিদুল ইসলাম।

শুক্রবার ভুক্তভোগীর মামার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। এসময় ভুক্তভোগী তার মামাকে সবকিছু খুলে বললে তিনি থানায় এসে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করেন।

ভুক্তভোগীর মামা ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার ভাগ্নিকে ১০ মাস ধরে আটকে রেখে তার মায়ের সহায়তায় সৎ বাবা ধর্ষণ করে আসছে। ৫ মাস আগে সে গর্ভধারণ করলে তাকে ওষুধ সেবন করিয়ে গর্ভপাত করা হয়। আমরা চাই দোষীরা যেন বিচারের মুখোমুখি হয়।

কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, মায়ের সহায়তায় সৎ বাবা এক শিশুকে ১০ মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

সৎ বাবার ধর্ষণের শিকার কিশোরী : সহযোগিতা করেছে মা! 

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
❝ রংপুরের তারাগঞ্জ বাজার। ফুটপাতে ছোট্ট কাঠের চৌকিতে বসে জুতা সেলাই করছে ১৪ বছরের জয় রবিদাস। পাশে যন্ত্রপাতি, সামনে কয়েক জোড়া জুতা। এখানেই বারো বছর ধরে বসতেন তার বাবা রূপলাল রবিদাস। গত ৯ আগস্ট মব সন্ত্রাসে বাবার মৃত্যুর পর সেই শূন্য আসনে বসতে হয়েছে ছেলেকে।
জয় ছিল তারাগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। বাবাকে হারিয়ে সেই স্বপ্ন থেমে গেছে তার। সংসারের ভার কাঁধে নিয়ে বাধ্য হয়ে নামতে হয়েছে পৈতৃক পেশায়।
শুক্রবার সকালে জয়কে দেখা যায় বাজারের ফুটপাতে বসে জুতা সেলাই করতে।
জয়ের মা মালতি রানী রবিদাস বলেন, ‘সংসারে আর
কোনো পুরুষ নেই, জয়-ই এখন ভরসা। কতটুকু আয় করতে পারবে জানি না, তবে সেই আয়ে আমাদের কোনোভাবে বাঁচতে হবে। ছেলেটাকে স্কুলে পাঠাতে না পেরে বুক ফেটে যাচ্ছে। কিছু মানুষ আমাদের সুখ-শান্তি চিরদিনের জন্য কেড়ে নিয়েছে।’
রূপলালের বড় মেয়ে নুপুর রবিদাস বলেন, ‘বাবা বেঁচে থাকলে ছোট ভাইকে স্কুল ছেড়ে ফুটপাতে জুতা সেলাইয়ের কাজ করতে হতো না। ছোট ভাইয়ের রোজগারে সংসার চলছে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় দুঃখ। যদি উপায় থাকতো তাহলে জয়কে কাজ করতে যেতে দিতাম না।’ ❞
❝ গত ৯ আগস্ট রাতে রূপলাল রবিদাস (৪৮) ও তার ভাগ্নিজামাই প্রদীপ লাল রবিদাস (৪৭) ব্যাটারিচালিত ভ্যানে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তারাগঞ্জের সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলায় তাদের ভ্যানচোর সন্দেহে আটক করে স্থানীয়রা। কিছু সময়ের মধ্যেই মব গড়ে ওঠে এবং পিটিয়ে হত্যা করা হয় দুজনকে।❞
মহাজন ভালো আছেন। তার মেধাবী ছাত্ররা এখন কোটিপতি। হাঁস খায় পাঁচ তারকা হোটেলে। চলাচলের জন্য বিমান হেলিকপ্টার আছে। বিশ্রামের জন্য চীন আমেরিকা কক্সবাজারের পাঁচ তারকা হোটল আছে। আর জনগণ ভাতের অভাবে ফুটপাতে নেমে এসেছে।
[সৌজন্য: স্টার বাংলা]

মহাজনের মবের মুল্লুকে জয়ের পরাজয়! 

অনুসন্ধান ডেস্ক::
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ইউএনও’র নির্দেশে বলিদ্বারা দূর্গাপূজা মন্দিরের জায়গা দখলের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ( ৩১ জুলাই) উপজেলা পরিষদ চত্বরে পূজারিরা এ বিক্ষোভ করেছেন।
মন্দির কমিটি সূত্রে জানা যায়, বলিদ্বারা বাজার সংলগ্ন ১৬ শতাংশ জমির ওপর দূর্গাপূজা মন্দির রয়েছে। সেখানে বিগত সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূর্জা অর্চনা করে আসছেন। ওই জমির ওপর হঠাৎ ললুপ দৃষ্ঠি পড়ে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহি অফিসার সাফিউল মাজলুবিন রহমানের। তিনি গত বুধবার মন্দিরে উপস্থিত হয়ে ২ ঘন্টার মধ্যে সফিকুল নামের এক জনকে মন্দিরের জায়গা ছেড়ে দিতে বলেন। নতুবা মন্দিরের লোককে এরেস্ট করে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন।
এঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ফুঁসে উঠলে বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে ইউএন’ও বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় ইউএনও পূর্জা কমিটির লোকজনকে শান্ত হতে বলেন এবং বিকেলের মধ্যেই জমি সার্ভে করার কথা ঘোষণা দেন।
এ প্রসঙ্গে পূর্জা কমিটির সভাপতি সেবুলাল রায় বলেন, ‘বলিদ্বারা এলাকার রহমান আলী’র ছেলে সফিকুল ইসলামের মন্দিরের পিছনে বাড়ি করার কথা। এজন্য ইউএনও মন্দিরে এসে লোকজন দিয়ে বেড়া খুলে দেন এবং পূজা অর্চনার কাজে ব্যবহৃত কলা গাছ গুলো কেটে দেন। যা মোটেও কাম্য নয়। পরদিন এজন্য আমরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করি’।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শাফিউল মাজলুবিন রহমান মুঠোফোনে বলেন, সরেজমিনে গিয়ে মন্দিরের ১৬ শতাংশ মেপে দেয়া হয়েছে। এসময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ছিল, ওসি ছিল, আমি ছিলাম। সেখানে আর রাস্তা বের হবে না মনে হয়।
[তথ্যসূত্র: সনাতন টিভি]

ঠাকুরগাঁও ইউএনও’র নির্দেশে মন্দিরের জায়গা দখল : পূজারিদের বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট ::
হিন্দুদের বাড়িতে হামলার বিষয়ে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে গালমন্দ ও হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই দুই সাংবাদিক হলেন, প্রথম আলোর রংপুরের নিজস্ব প্রতিবেদক জহির রায়হান ও কালবেলার রংপুর প্রতিনিধি রেজওয়ান রনি।
রেজওয়ান রনি বলেন, ‘হামলার ঘটনার অনুসন্ধানে নেমে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা জানতে পারি, রোববার সকাল থেকে কিশোরগঞ্জের মাগুরা ইউনিয়নে মাইকিং করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। দুপুর ২টার দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকশ মানুষ ঘটনাস্থলের এক কিলোমিটার দূরে বাংলাবাজারে জড়ো হন। ওই দিন কিশোরগঞ্জ থানা থেকে বাংলাবাজারে চার-পাঁচ পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। উত্তেজিত জনতা বালাপাড়ায় হিন্দুপল্লির দিকে এগোলে তারা বাঁধা দেননি, বরং পেছনে ছিলেন।’
রনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কথা বলতে থানায় গেলে ওসি আশরাফুল ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের গালাগাল করেন। তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন এসআই মহসীন। কিন্তু ওসি তাঁকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ওদের ধরেন। ফাজলামো করলে পিটিয়ে সোজা করে দেব। এরপর আমাদের থানা থেকে সরিয়ে নেন এসআই।’
এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক বলেন, ওসি আশরাফুলকে প্রত্যাহার করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা না করলে সাংবাদিকরা আন্দোলনে যাবেন।
তথ্যসূত্র: সমকাল

গঙ্গাচড়া হিন্দু পল্লীতে হামলার বিষয়ে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে হুমকি : ওসি প্রদীপ’র ভূমিকায় আশরাফুল

অন্যান্য সংবাদ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ভোলায় এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। জেলায় মোট ১৪ হাজার ১৯৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭ হাজার ৬২৫ জন।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের দিক থেকে এবারও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৩ হাজার ৪৫৯ জন এবং ছাত্রী ৪ হাজার ১৫৬ জন। অর্থাৎ মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।

জেলায় এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৪০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ১৫৭ জন এবং ছাত্রী ১৮৩ জন। জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় মোট ২২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ফল প্রকাশের পর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তবে সামগ্রিক পাসের হার প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হতাশাও দেখা গেছে। বিশেষ করে গত বছরের তুলনায় এবারের ফলাফলে ভোলায় পাসের হার কমেছে, ফলে সার্বিক ফলাফল নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে ভাবনার জায়গা তৈরি হয়েছে।

ফলাফলের পরিসংখ্যান বলছে, সংখ্যার বিচারে শুধু পাসের হারেই নয়, জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে। ফলে জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষায় মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্যের বিষয়টি এবারও স্পষ্ট হয়েছে।

তবে জেলার সামগ্রিক পাসের হার ৫৩ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমে আসায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নে বিদ্যালয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ, দুর্বলতার কারণ চিহ্নিতকরণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোলায় এসএসসিতে পাসের হার ৫৩.৭১ শতাংশ : ফলাফলে মেয়েরা এগিয়ে

স্টাফ রিপোর্টার,ভোলা ::

সমুদ্রে বর্তমানে ঢেউয়ের উচ্চতা ১২ থেকে ১৮ ফুট পর্যন্ত ওঠানামা করছে। এর মধ্যে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে। লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল ও বৈরী হয়ে উঠেছে।এ পরিস্থিতিতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা এবং সমুদ্রে চলাচলের ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ট্রলার বা নৌযানকে মাছ ধরা, বাণিজ্যিক কিংবা অন্য কোনো কাজে সমুদ্রে না পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে সমুদ্রে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার অভিযান পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

আবহাওয়ার এ বিরূপ পরিস্থিতি আরও ৪ থেকে ৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। তাই জেলে, ট্রলার ও নৌযানের মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

১৮ ফুট পর্যন্ত ঢেউ, ৩ নম্বর সংকেত : সমুদ্রে না যাওয়ার আহ্বান কোস্ট গার্ডের

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

সম্প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর কপিরাইট রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত সচিব) এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র সহকারী সচিব মহোদয়ের হাতে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) প্রকাশিত গ্রন্থ ‘বাংলার আধ্যাত্মিক রত্ন সম্ভার-২০ জন মহান আউলিয়ার জীবন ও সাধনা’ সৌজন্য উপহার হিসেবে তুলে দেন বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের (BPF) এর সভাপতি বিশিষ্ট লেখকড.  সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ।

এ সময় তিনি গ্রন্থটির প্রকাশনার উদ্দেশ্য, বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মহান আউলিয়াদের জীবনাদর্শ তুলে ধরার গুরুত্ব সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। কপিরাইট রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার গ্রন্থটি গ্রহণ করে এর প্রকাশনা উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং লেখকের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

কপিরাইট রেজিস্ট্রারকে ‘বাংলার আধ্যাত্মিক রত্ন সম্ভার’ গ্রন্থ উপহার বিপিএফ’র সভাপতির

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিশিষ্ট লেখক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ জাতীয় মাসিক পত্রিকা অগ্নিবার্তা-এর সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা, সিনিয়র সাংবাদিক সমাজ বিশ্লেষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ এবং দৈনিক আমাদের কণ্ঠ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক মো. ইউসুফ আলী’র সঙ্গে ৪ আগষ্ট সন্ধ্যায় সালিমাবাদ ভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।

সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সমসাময়িক সামাজিক, সাংস্কৃতিক, গণমাধ্যম এবং জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের হাতে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) প্রকাশিত তাঁর রচিত গ্রন্থ “বাংলার আধ্যাত্মিক রত্নসম্ভার” তুলে দেন।
গ্রন্থটিতে বাংলার ২০ জন মহান আউলিয়ার জীবন, কর্ম, সাধনা এবং সমাজে তাঁদের অবদানের ওপর তথ্যবহুল ও গবেষণাধর্মী আলোচনা স্থান পেয়েছে।

বইটি ইতোমধ্যে পাঠকমহলে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ গ্রন্থটির বিষয়বস্তু ও প্রকাশনার প্রশংসা করেন এবং আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, ইতিহাস ও মূল্যবোধভিত্তিক এ ধরনের প্রকাশনা সমাজে ইতিবাচক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

শেষে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও মতবিনিময় হয়। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষ হয়।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। বাকি দুই অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কাচিয়া ইউনিয়নের পদ্মামনসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার পরিচয় আইনি কারণে প্রকাশ করা হলো না।

মামলার বাদী ভুক্তভোগীর ভাই। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাতায়াতের পথে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত ২৬ জুলাই দুপুরে স্কুলের টিফিন বিরতির সময় বাড়িতে খাবার খেতে যাওয়ার পথে জরুরি কথা বলার কথা বলে একজন অভিযুক্ত তাকে পাশের একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়।

এজাহারে আরও বলা হয়, সেখানে আগে থেকেই আরও চারজন অবস্থান করছিল। ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনাকালে একজন তার মুখ চেপে ধরে এবং অন্যরা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের একজন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায় ওই শিক্ষার্থী। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা করা হয়।

মামলায় ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী পাঁচ কিশোরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা সবাই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের পদ্মামনসা এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, মামলার পর অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে। অপর দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বোরহানউদ্দিন থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তরা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত শিশু আইন অনুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বোরহানউদ্দিনে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ : ৫ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৩

স্টাফ রিপোর্টার ::
বরিশালে বিভিন্ন স্থানে হেল্পস্টার চ্যারিটি অর্গানাইজেশন এর উদ্যোগে কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬ আগষ্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টার সময় বরিশালের সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাঙ্গার পার, তালতলী বাজার ও একই দিন বিকাল ৫ টার সময় নগরীর পলাশপুরের ৭ নং রোডের মেহেদি মেডিকেলের সম্মুখে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। হেল্পস্টার ই ইউ এর আর্থিক সহযোগিতায় বরিশালের জর্ডন রোডে একমাত্র আল-আকসা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ০ থেকে ২১ বছর পর্যন্ত রোগীদের নিরাময়যোগ্য অপারেশন ও চিকিৎসা সম্পুর্ন বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। সচেতনতা মুলক সভায় বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করেন সিনিয়র প্রতিনিধি মেঘ লাল রায়। অনুষ্ঠানে অপর প্রতিনিধি মোঃ আনোয়ার হোসেন আনুর সার্বিক পরিচালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালী মডেল থানার এস আই রুমা, সমাজসেবিকা শামীমা নাসরিন পুতুল, পল্লী চিকিৎসক মেরাজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

হেল্পস্টার চ্যারিটি অর্গানাইজেশন’র উদ্যোগে কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

ভোলার মনপুরায় গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা টেকসই করার লক্ষ্যে দেড় কোটি টাকা ব্যায়ে সদ্য নির্মাণ করা হয় দুইটি হেরিং বোন (ইটের সোলিং রাস্তা) সড়ক। কিন্তু নির্মাণের মাসখানেকের মধ্যে সড়ক দুইটি বিভিন্নস্থানে ধ্বসে পড়েছে ইটের সোলিং। নিুমানের নির্মাণসামগ্রী ইট ও বালু ব্যবহারে রাস্তার এই অবস্থা হয়েছে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয়রা জানান, কাজ শুরু করার কিছুদিন পরেই রাস্তার ইটের সোলিং ধ্বসে পড়ে। সড়কে নিয়ম অনুযায়ী পর্যাপ্ত ইট ও বালু ব্যবহার করে নাই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। এতে রাস্তায় বিভিন্ন অংশে রাস্তার ইট সরে গিয় গর্তে সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলে দুর্ভোগ পড়েছেন তারা।

এমনকি রাস্তার ব্যবহৃত ইটের ফাঁকে পা পড়ে দুর্ঘটনায় পড়েছেন পথচারীরা। তারা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাসহ গ্রামীণ সড়ক দুইটি পুনারায় মেরামতের দাবী করেন।

জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ১৫ শত মিটার গ্রামীণ এইচবিবি সড়ক নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৩২ লাখ ১ শত ২৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। রাস্তা দুইটি নির্মাণে কার্যাদেশ পায় মেসার্স ভাই ভাই ট্রের্ডাস।

প্রকল্পের আওতায় ৭ং ওয়ার্ডের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের আবহাওয়া অফিসসংলগ্ন আবু তাহেরের বাড়ি থেকে পূর্বদিকে বেড়িবাঁধ পর্যন্ত ১,০০০ মিটার এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গ্রামীণ টাওয়ারসংলগ্ন রহিম হাফেজের বাড়ি থেকে পশ্চিমে বেড়িবাঁধ মসজিদ পর্যন্ত ৫০০ মিটার এইচবিবি সড়ক নির্মাণ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সদ্য নির্মিত সড়ক দুটির বিভিন্ন স্থানে ইট দেবে গেছে। এমনকি রাস্তায ব্যবহৃত ইট ভেঙে পড়েছে। আবার কোথাও কোথাও ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এই ব্যাপারে ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ তসলিম জানান, গ্রামীণ সড়কটিতে মাটি ভরাট করে হেরিংবোন (ইটের সোলিং) করে রাস্তা নির্মাণ করবে ঠিকাদার। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি রাস্তায় মাটির কাজ না করেই হেরিংবোনের কাজ করে। এছাড়াও রাস্তায় নিুমানের ইট ও বালু ব্যবহার করায় সড়কটি ধ্বসে পড়েছে। প্রতিদিন স্থানীয়রা এই রাস্তার বিষয়ে অভিযোগ দেন বলে জানান তিনি।

এই ব্যাপারে গ্রামীণ সড়ক দুইটি নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্স-এর প্রতিনিধি জাহিদুর রহমান জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি সড়কে মাটি না ফেলে কাজ করার বিষয়টিসহ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এই ব্যাপারে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাসির উদ্দীন জানন, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার কারণে রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঠিকাদারকে জানানো হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে গেলে তিনি সড়কটি সম্পূর্নভাবে মেরামত করে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

মনপুরায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ সড়কে ধ্বস!

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর শেরেবাংলা নগর ও তেজগাঁও থানা কমিটি এবং এফএমজি ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের সামনে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বিশিষ্ট লেখক ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক গিলবার্ট গমেজ শিশির, শেরেবাংলা নগর থানা কমিটির সভাপতি মো. মেহেদী হাসান মুন্না, সহ-সভাপতি মো. শাহজাহান বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক সিসিলিয়া হিরা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মৌ গমেজ, অর্থ সম্পাদক বিজলী গমেজসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় ড. আজাদ বলেন, “স্বেচ্ছায় রক্তদান মানবতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেবা। একজন সুস্থ মানুষের স্বেচ্ছায় দেওয়া এক ব্যাগ রক্ত একজন অসুস্থ মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। সমাজে নিরাপদ রক্তের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে তরুণ সমাজকে আরও বেশি স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন’র উদ্যোগে রাজধানীতে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি

কৃষি ডেস্ক ::
বর্তমান বিশ্বে নিরাপদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও কার্যকর খাদ্যের (Functional Food) চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের কাছে প্রাকৃতিক পুষ্টির উৎস, ভেষজ উপাদান এবং উদ্ভিজ্জ তেলের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে পেরিলা (Perilla frutescens) একটি সম্ভাবনাময় উচ্চমূল্যের (High Value Crop) ফসল হিসেবে বিশ্বব্যাপী কৃষি ও খাদ্যশিল্পে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে।
পূর্ব এশিয়ার জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ভিয়েতনামে শত শত বছর ধরে পেরিলা শাক, মসলা, ভেষজ উদ্ভিদ এবং তেলবীজ ফসল হিসেবে চাষ হয়ে আসছে। বর্তমানে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও উদ্ভিজ্জ তেলের উৎস হিসেবে এর চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশের জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ এবং উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্যের ক্রমবর্ধমান বাজার বিবেচনায় পেরিলা একটি সম্ভাবনাময় নতুন অর্থকরী ফসল হিসেবে কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
🔳পেরিলা কি?
পেরিলা পুদিনা (Lamiaceae) পরিবারের একটি সুগন্ধি একবর্ষজীবী (Annual Herb) উদ্ভিদ। এর পাতা, কচি ডগা, বীজ এবং বীজ থেকে উৎপাদিত তেল-সবকিছুরই রয়েছে বাণিজ্যিক মূল্য।
পেরিলার সবুজ ও বেগুনি রঙের বিভিন্ন জাত পাওয়া যায়। এর সুগন্ধযুক্ত পাতা সালাদ, স্যুপ, ভর্তা, চা, বিভিন্ন রান্না এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে এর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে একটি উন্নতমানের স্বাস্থ্যকর ভোজ্য তেল হিসেবে পরিচিত।
🔳পুষ্টিগুণে অনন্য পেরিলা
 পেরিলা মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের সমৃদ্ধ উৎস। এতে রয়েছে-
★ উচ্চমাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (Alpha-Linolenic Acid-ALA)
★ শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Rosmarinic Acid, Flavonoids ও Polyphenols)
★ ভিটামিন A, C ও K
★ ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও জিঙ্ক
★ খাদ্য আঁশ (Dietary Fiber)
★ উচ্চমানের উদ্ভিজ্জ প্রোটিন (বিশেষ করে বীজে)
এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কোষ সুরক্ষা এবং সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
 
🔳সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা
গবেষণালব্ধ তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য তালিকায় পেরিলা অন্তর্ভুক্ত করলে-
★ হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
★ শরীরের প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
★ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।
★ পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে।
★ ত্বক ও চুলের পুষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
★ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাধ্যমে কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
তবে পেরিলা একটি পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান; এটি কোনো রোগের বিকল্প চিকিৎসা নয়।
 
🔳বাংলাদেশে পেরিলা চাষের সম্ভাবনা
 বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া, উর্বর মাটি এবং দীর্ঘ উৎপাদন মৌসুম পেরিলা চাষের জন্য উপযোগী। পর্যাপ্ত সূর্যালোক, সুনিষ্কাশিত জমি এবং সুষম সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক উৎপাদন সম্ভব।
পেরিলা একটি স্বল্পমেয়াদি ও উচ্চমূল্যের ফসল, যা মাঠ ফসল, বসতবাড়ির আঙিনা, ছাদবাগান এবং সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থাপনায় চাষ করা যায়। এটি কৃষকের ফসল বহুমুখীকরণ (Crop Diversification), পুষ্টি নিরাপত্তা এবং আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
 
🔳চাষাবাদ ব্যবস্থাপনা
জীবনকাল:
পেরিলা একটি একবর্ষজীবী (Annual) ফসল। জাত, আবহাওয়া ও পরিচর্যার ওপর নির্ভর করে এর মোট জীবনকাল সাধারণত ৯০-১২০ দিন।
রোপণের ৪৫-৬০ দিনের মধ্যে কচি পাতা ও ডগা সংগ্রহ করা যায়।
৯০-১২০ দিনের মধ্যে বীজ পরিপক্ব হয় এবং সংগ্রহ উপযোগী হয়।
মাটি নির্বাচন:
উর্বর, ঝুরঝুরে, জৈব পদার্থসমৃদ্ধ এবং সুনিষ্কাশিত দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি পেরিলা চাষের জন্য উপযোগী। মাটির pH ৫.৫-৭.০ হলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
বপন ও রোপণ সময়:
বাংলাদেশের পরিবেশে সাধারণত-
ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল
আগস্ট-সেপ্টেম্বর
সময়ে বপন করা যেতে পারে।
রোপণ দূরত্ব:
সারি থেকে সারি: ৪৫-৬০ সেন্টিমিটার
গাছ থেকে গাছ: ২৫-৩০ সেন্টিমিটার
🔳শতাংশ প্রতি সার ব্যবস্থাপনা
প্রতি ১ শতাংশ জমিতে  সার প্রয়োগ-
পচা গোবর/কম্পোস্ট: ৪০-৫০ কেজি
ইউরিয়া: ৪০০-৫০০ গ্রাম
টিএসপি: ৩০০-৩৫০ গ্রাম
এমওপি (পটাশ): ২০০-২৫০ গ্রাম
জিপসাম: ১৫০-২০০ গ্রাম
জিংক সালফেট: ২০-২৫ গ্রাম (প্রয়োজনে)
বোরিক অ্যাসিড/বোরন সার: ১০-১৫ গ্রাম (প্রয়োজনে)
🔳সার প্রয়োগ পদ্ধতি
 জমি তৈরির সময় গোবর, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম, জিংক ও বোরন সার  মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়ার অর্ধেক জমি তৈরির সময় এবং বাকি অর্ধেক রোপণের ২৫-৩০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করা ভালো।
🔳পরিচর্যা
নিয়মিত আগাছা দমন করতে হবে।
প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিতে হবে।
মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ করতে হবে।
রোগ ও পোকা দমনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা  অনুসরণ করতে হবে।
🔳ফসল সংগ্রহ
 পাতা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ৪৫–৬০ দিনের মধ্যে সংগ্রহ শুরু করা যায়। বীজ উৎপাদনের জন্য গাছের ফুল ও বীজ পরিপক্ব হওয়ার পর ৯০–১২০ দিনের মধ্যে সংগ্রহ করতে হয়।
 
🔳অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
 বর্তমানে স্বাস্থ্যকর খাদ্য, ভেষজ পণ্য এবং উদ্ভিজ্জ তেলের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। পেরিলা বীজ ও তেলের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় এটি কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রক্রিয়াজাতকরণ, মূল্য সংযোজন (Value Addition), তেল উৎপাদন এবং রপ্তানিমুখী বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমে পেরিলা বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
🔳ভবিষ্যৎ করণীয়
 বাংলাদেশে পেরিলার বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে প্রয়োজন
স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী উচ্চফলনশীল জাত নির্বাচন ও উদ্ভাবন।
মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী প্লট স্থাপন।
পেরিলা তেল ও মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনে উদ্যোক্তা তৈরি।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে কার্যকর বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর  ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ।
পেরিলা শুধু একটি সুগন্ধি ভেষজ উদ্ভিদ নয়; এটি পুষ্টি নিরাপত্তা, কৃষি বহুমুখীকরণ এবং উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য উৎপাদনের একটি সম্ভাবনাময় ফসল।
যথাযথ গবেষণা, মানসম্মত বীজ উৎপাদন, কৃষক প্রশিক্ষণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা গেলে পেরিলাকে বাংলাদেশে একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। নিরাপদ খাদ্য, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানিমুখী কৃষি উন্নয়নে পেরিলা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
লেখক: ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
★সভাপতি: বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক: বাংলাদেশ বেতার
★EX. সিনিয়র শিক্ষক ও পরীক্ষক: কৃষি শিক্ষা,
    কৃষিতে বারো মাস গ্রন্থ সহ বহু গ্রন্থের লেখক
★উপদেষ্টা: দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ।

পেরিলা: সম্ভাবনাময়  অর্থকরী নতুন ফসল

খুঁজুন

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

অন্যান্য সংবাদ

খেলাধুলা

অন্যান্য সংবাদ

বিনোদন

অন্যান্য সংবাদ

লাইফস্টাইল

অন্যান্য সংবাদ

শিক্ষা