শিরোনাম :
মনপুরা-তজুমদ্দিন: বন্ধ সি-ট্রাক, ‘ডেঞ্জার জোনে’ যাতায়াতে ভরসা ট্রলার ভল্ট থেকে কোটি টাকা লুটের মামলায় নির্দোষ পরেশ : রায় দেখে যেতে পারেন নি জীবদ্দশায়  বরিশাল নগরীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত ভোলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত ভোলায় বিদ্যুতের তামাশায় অতিষ্ঠ জনজীবন : ওজোপাডিকো নিরব, ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন ভোলায় জেলেদের সরকারি খাদ্য প্রণোদনায় অনিয়মের অভিযোগ নৌপথে ভিড় বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের ৪ বছর ধরে বিদ্যুৎ নেই দৌলতখানের মদনপুরে বরিশাল নগরীতে সড়ক বিভাগের জায়গায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ  ভোলায় ৭০’র ভয়াবহ বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় নিয়ে নির্মিত হচ্ছে প্রামান্যচিত্র “অস্তিত্বের লড়াই”

আন্তর্জাতিক

রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
নগরীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত। পালিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা ও দোয়া-মিলাদ মাহফিল। বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪ র্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়ন ও আউটসোর্সিং কর্মচারীদের যৌথ উদ্যোগে রোববার বাদ জোহর শেবাচিম হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুফতি মাওঃ হাফেজ আসাদুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আউটসোর্সিং কর্মচারীদের প্রাণ ও শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ৪ র্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়ন এর সভাপতি রাব্বি আল মামুন ফয়সাল, মোঃ সোয়েব, মোঃ আলী,মোঃ শরীফ,মোঃ রাকিব,মোঃ রাসেল প্রমুখ। দোয়া অনুষ্ঠানে তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

বরিশাল নগরীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। জিয়াউর রহমান মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভোলা জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) সকালে জেলা বিএনপির সকল অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা কাল ব্যাচ ধারন করে। পরে একটি শোক বের হয় শহরে শোক র‌্যালি বের হয়। শোক র‌্যালিটি জেলা বিএনপির কার্যলয় থেকে বেড় হয়ে শহর প্রদক্ষিন করেন জেলা বিএনপির কার্যলয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব রাইসুল আলম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হায়দার আলী লেলিন,ভোলা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ ট্রুম্যান, হুমায়ুন কবির সোপান, তরিকুল ইসলাম কায়েদ, নির্বাহী সদস্য আমিনুল ইসলাম, ইয়ারুল আলম লিটন, ‎সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসিফ আলতাফ ও সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন, ভোলা জেলা যুব দলের সভাপতি জামাল উদ্দিন লিটন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর কাদের সেলিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মাসুদ, সদস্য সচিব মুনতাসীর আলম রবিন চৌধুরী, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শহিদুল আলম মানিক, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন তালুকদার এবং জেলা কৃষক দলের সভাপতি আব্দুর রহমান সেন্টু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল রাসেল, সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ রুবেলসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আবদুল লতিফ টিটু,সদস্য সচিব মো. বেলাল হোসেন সহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরাসহ দলের বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে হত্যার শিকার হন তিনি।

ভোলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
আগামী ৮ মে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের ৪৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা বুধবার সন্ধ্যা ৭ টার সময় আমির কুটির রোজ ইন হোটেল হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের জেলা সভাপতি রিয়াজ হাসান এর সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম রাসেল এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন এজিপি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. আঃ বারেক, মহানগর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি অধ্যাপিকা ফারজানা তিথি, সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ছাত্র নেতা কামরুল আলম মামুন, সদস্য মাহবুব সহ প্রমুখ। বক্তারা মানবতার সেবার লক্ষ্যে শেষ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক নেতৃবৃন্দের উপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল সেই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন এর কতটুকু অগ্রসর হয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। স্বাধীনতার ঘোষক সেক্টর কমান্ডার বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজীবন স্মৃতি সংরক্ষণ ও তাহার সুচিতে ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের তাগিদে ১৯৮২ সালের ৫ই মে তৎকালীন স্পিকার মরহুম মির্জা গোলাম হাফিজ প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তাদের স্মরণে আগামী ৫ই মে ৪৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল জেলা ও মহানগরের উদ্যোগে আগামী ৮ই মে শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত বরিশাল নগরীর গির্জা মহল্লায় অবস্থিত আচমত আলী খান ইনস্টিটিউট (একে স্কুল ) প্রাঙ্গনে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে অসহায় দুঃস্থ গরিব চিকিৎসা বঞ্চিত পরিবারের জন্য ।।

উক্ত ক্যাম্পে অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবক শিক্ষক কর্মচারীসহ সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকিবে ।

এতে উপস্থিত থাকবেন ডক্টর শিহাব উদ্দিন অর্থপেডিক্স ডক্টর মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম আবির ডায়াবেটিস ডঃ রেজাওনুর রহমান রায়হান, ডঃ মোঃ তানভীর হোসেন ডাক্তার শরিফ উদ্দিন রায়হান ডক্টর শেখ মোস্তফা আলী সংগঠনের সম্মানিত নেতৃবৃন্দদের সমন্বয়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করিবেন । শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন ও সংরক্ষণ আমাদের মূল উদ্দেশ্য সকল রোগীদের প্রতি থাকবে তাদের আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ।।

নগরীতে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :: 

গ্রেপ্তারের দীর্ঘ প্রায় নয় মাস পর রাজনৈতিক মামলায় জামিন পেয়েছেন বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ। একই সঙ্গে জামিন দেয়া হয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনসহ দু’জনকে।

মঙ্গলবার দুপুরে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেন।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন-মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও বরিশাল সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুন ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন।

বরিশাল সদর থানার সরকারি নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বুধবার জেবুন্নেছা আফরোজসহ তিনজনকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

এর আগে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ২০২৫ সালের ১৭ মে ঢাকার বাসা থেকে সাবেক এমপি জেবুন্নেছা আফরোজকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে বরিশালের অন্তত ৬টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই থেকেই বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন জেবুন্নেছা আফরোজ।

বরিশালে জামিন পেলেন ৩ আওয়ামীলীগ নেতা

অন্যান্য সংবাদ

ঢাকা

চট্টগ্রাম

কক্সবাজার প্রতিনিধি::

কক্সবাজারের মহেশখালীতে দীর্ঘ ২ যুগ পর রাস্তা সংস্কার কার্যক্রম শুরুতে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
হোয়ানক ইউনিয়ন পানিরছড়া এলাকায় ৩ টি চলমান রাস্তা

সংস্কারের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। যেখানে ড্রেন হওয়ার কথা সেখানে হচ্ছে না ড্রেন, আর যেখানে আরসিসি ঢালাই দরকার সেখানে তা হচ্ছে না, বলে প্রশ্ন জনমনে। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে জেনেও না জানার ভাণ করছে ।

এলাকাবাসীর অনুরোধ, মহেশখালী ইউএনও যেন বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করেন, তা না হলে একটি সংকট তৈরি হতে পারে।

মোহাম্মদ হোচেন জানান, এই অনিয়মের পেছনে একমাত্র দায়ী ৯ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার কালা চান সহ কিছু অসৎ লোক, তারা রাস্তার কাজে কোন কারণ ছাড়া বাঁধা সৃষ্টি করে যাচ্ছে এসব চামচাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক

রুবেল জানান আরো কিছু দিন পরে পোস্ট দিলে ভালো হতো। কাজ প্রায় শেষের দিকে এতদিন কোথায় ছিলো সমাজের সচেতন মহল?? ব্যাপক দুর্নীতি অনিয়ম হলে কাজ বন্ধ করে দাও। সবার সাথে পরামর্শ করে সঠিকভাবে কাজ হচ্ছে কিনা তদারকি কর। ফেসবুকে বুকে পোস্ট দিয়ে বসে থাকলে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা মেরে দিবে।

আরমান আলী জানান, যদি ড্রেইন না দেয় রাস্তা এক বর্ষার পরে মাটির নিচে চলে যাবে! এটা তদন্ত করার জন্য ইউ এনও বরাবর কেউ অভিযোগ করেন। যদি রাস্তার টেন্ডারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংযুক্ত থাকে তাহলে অবশ্যই দিতে হবে আর যদি ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংযুক্ত না থাকে তাহলে তাদের ওপর কোন অভিযোগ নেই।

আলমগীর জানান, এ বিষয়ে আমরা চাই যে জায়গায় ড্রেন দরকার সে জায়গায় ড্রেন আর যে জায়গায় আরসিসি ঢালাই দরকার সেখানে তা হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ বৃহত্তর পানিরছড়া এলাকায় বর্ষাকালে প্রায় ৭৫ % রাস্তার উপর দিয়ে পানি চলাচল করে তা সকলে জানে।
ইতিমধ্যে ইউএনও মহোদয়কে মৌখিকভাবে জানিয়েছি উনি নিজে তদারকি করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

মহেশখালীতে দীর্ঘ ৩০ বছর পর রাস্তা সংস্কার কার্যক্রম : শুরুতেই অনিয়ম ও দুর্নীতি

অনুসন্ধান ডেস্ক :: 
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বৃহস্পতিবার (২৮ আগষ্ট) জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার চন্দ্রনাথ ধামের ভৈরব মন্দির ও ব্যাসকুন্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় সাথে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সান্তু বিপিএম (বার)।
পরিদর্শনকালে উল্লিখিত এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। সামগ্রিক বিষয়ে জেলা প্রশাসক মন্তব্য করেন, “চট্টগ্রাম সমগ্র বাংলাদেশে বিভিন্ন সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির এক মিলনমেলা। কোন প্রকার মিথ্যা প্রচারণা বা উস্কানিতে এই সম্প্রীতি কেউ যেন বিনষ্ট না করতে পারে সে ব্যাপারে প্রশাসন, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। আমরা চাই ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এখানে একটি সুন্দর ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকুক।”
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারবৃন্দ, সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং মাঠ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক’র সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধাম পরিদর্শন

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজন নিহতের ঘটনায় উল্টো পথে আসা হানিফ পরিবহনের সেই বাসটিকে জব্দ করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার খাদঘর মানামা হোটেলের সামনের মাঠ থেকে বাসটি জব্দ করা হয়।

ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।ওসি জানান, শুক্রবার দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাসটিকে শনাক্ত করা হয়। সিসিটিভিতে দেখা যাচ্ছিল, হানিফ পরিবহনের ঢাকা মেট্টো-ব-১২-২১৯৭ নম্বরের বাসটি উল্টো পথে চলাচল করার কারণেই সিমেন্ট বোঝাই কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারের ওপর উল্টে পড়ে, তারপর ওই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাসটি জব্দ হলেও চালক বা হেলপার কাউকে পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর বাসটিকে খাদঘর এলাকায় রেখে আত্মগোপনে চলে যান চালক এবং হেলপার। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ইউটার্নে সিমেন্টবোঝাই একটি কাভার্ড ভ্যান প্রাইভেট কারের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চারজন নিহত হন।

নিহতরা হলেন, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মোহাম্মদ ওমর আলী (৮০), তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৫), বড় ছেলে ব্যাংক এশিয়ার কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম (৫০) ও ছোট ছেলে আবুল কাশেম (৪৫)। প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন বড় ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল হাশেম। একই দুর্ঘটনায় লরির নিচে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রীও আহত হন। আহতরা ঢাকা ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহত ওমর আলীর ভাই আবুল কালাম বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহন বাসের অজ্ঞাতনামা চালকদের আসামি করা হয়েছে।

কুমিল্লার সড়ক দুর্ঘটনায় হানিফ পরিবহনের বাস জব্দ 

কক্সবাজার প্রতিনিধি ::
কক্সবাজারের চকরিয়া থানা হাজতে যুবক দুর্জয় চৌধুরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার ওসিকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন, এর আগে এ ঘটনায় থানার তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছিল। আজ শনিবার ওসি শফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “তৌহিদুল আনোয়ারকে চকরিয়া থানার নতুন ওসির দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শফিকুল ইসলামকে কক্সবাজার পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ করা হয়েছে।”
শুক্রবার সকালে চকরিয়া থানা হাজত থেকে দুর্জয় চৌধুরী নামে এক যুবককে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবার হত্যার অভিযোগ করলেও পুলিশের দাবি, দুর্জয় আত্মহত্যা করেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের ক্ষোভের মধ্যে শুক্রবার দুপুরে থানার এএসআই মোহাম্মদ হানিফ মিয়া, কনস্টেবল মহি উদ্দিন ও ইশরাক হোসেনকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
দুর্জয় চাকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দু পাড়ার কমল চৌধুরীর ছেলে। চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটরের দায়িত্বে ছিলেন দুর্জয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে দুর্জয়ের বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক তাকে থানায় হস্তান্তর করেন। তার বিরুদ্ধে ২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মামলা করেন। ভোরে চকরিয়া থানা হাজতের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে পুলিশের দাবি করা আত্মহত্যাকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন দুর্জয় চৌধুরীর বাবা কমল চৌধুরী।
শনিবার সকালে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে কমল চৌধুরী বলেন, “কোনো মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়া আমার ছেলেকে থানায় রাখা হয়েছে।”
তিনি এ ঘটনার জন্য স্কুলের দুজন শিক্ষককে দায়ী করে বলেন, “আমার ছেলের ব্যাগ ও ল্যাপটপ খুঁজে পাচ্ছি না। হয়তো ল্যাপটপে থাকা কোনো তথ্যের কারণেই প্রাণ হারিয়েছে দুর্জয়।”

চকরিয়া থানা হাজতে দুর্জয় চৌধুরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ওসি প্রত্যাহার : দুর্জয়ের ল্যাপটব উধাও

ডেস্ক রিপোর্ট ::
কুমিল্লায় প্রাইভেট কারের ওপর সিমেন্ট বোঝাই কাভার্ড ভ্যান উল্টে একই পরিবারের ৪ জন নিহতের পর এবার বিপজ্জনক সেই ইউটার্ন বন্ধ হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড সংলগ্ন উত্তর রামপুর এলাকার ইউটার্নটি বন্ধ করার প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। শনিবার (২৩ আগষ্ট) বেলা ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ২৩ বীরের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসানসহ হাইওয়ে পুলিশ ও সওজ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানায়।
সওজ কুমিল্লার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আদনান ইবনে হাসান সমকালকে বলেন, এ ইউটার্নটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। আজ সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশসহ আমরা আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রোববার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রশাসনের আরও একটি সভা হবে। সেখানে ইউটার্নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তবে আপাতত আজ রাত থেকে ইউটার্নটি বন্ধ রাখা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সকল যানবাহন পাশের সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের পাশের দয়াপুর এলাকা দিয়ে ইউটার্ন করবে।
এই সওজ কর্মকর্তা আরও বলেন, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার ইউলুপের কাজ চলমান আছে। তা চালু না হওয়া পর্যন্ত ইউটার্নগুলোতে যানবাহন চালকদের সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা অতিক্রম করতে হবে।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে মহাসড়কের পদুয়ারবাজার সংলগ্ন উত্তর রামপুর এলাকায় ইউটার্ন অতিক্রম করার সময় সিমেন্ট বোঝাই কাভার্ড ভ্যান উল্টে চাপা পড়ে প্রাইভেট কারের যাত্রী একই পরিবারের চার জনের মৃত্যু হয়। এরা হলেন, জেলার বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মোহাম্মদ ওমর আলী (৮০), তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৫), তাদের বড় ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল হাশেম (৫০) এবং ছোট ছেলে আবুল কাশেম (৪৫)। প্রাইভেটকারটি চালাচ্ছিলেন আবুল হাশেম।
এদিকে এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহত ওমর আলীর ভাই আবুল কালাম বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহন বাসের অজ্ঞাতনামা চালকদের আসামি করা হয়েছে।
ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার এসআই আনিসুর রহমান আজ শনিবার সমকালকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে দুর্ঘটনার জন্য কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহনের বাসের চালকই দায়ী। মামলার অভিযোগেও তাদের কথা বলা হয়েছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত : উম্মত্ত চালকদের নিয়ন্ত্রন করার দায়িত্ব কার?

অন্যান্য সংবাদ

বরিশাল

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় যাতায়াতের একমাত্র সি-ট্রাকটি প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন শত শত যাত্রী। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা। দুই মাস ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে মনপুরা টু তজুমদ্দিন এবং তজুমদ্দিন টু মনপুরা রুটে চলাচল করতো একমাত্র সি-ট্রাক ‘এসটি ইলিশা’। কিন্তু প্রায় দুই মাস আগে ইঞ্জিন বিকল হয়ে বন্ধ হয়ে যায় সি-ট্রাকটি। এরমধ্যে পরিবর্তন হয় ইজারাদার। নতুন ইজারাদার নিয়োগ হলেও আজও চালু হয়নি সি-ট্রাকটি। ফলে প্রতিদিনই অবৈধ ট্রলার দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মনপুরা উপজেলা থেকে তজুমদ্দিন এবং তজুমদ্দিন থেকে মনপুরা যাতায়াত করছেন শত শত যাত্রী।

মনপুরা-তজুমদ্দিন রুটটি ডেঞ্জার জোন হওয়ায় চলতি মৌসুমে প্রতিদিনই ভয় ও আতঙ্ক সঙ্গী হচ্ছে যাত্রীদের। যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।

ওই রুটের যাত্রী মো. করিম ও বিশ্বজিৎ কুমার জানান, তারা প্রতিনিয়ত মনপুরা থেকে তজুমদ্দিন এবং তজুমদ্দিন থেকে মনপুরা যাতায়াত করেন। সি-ট্রাক থাকাকালীন তারা নিরাপদে যাতায়াত

করতেন। কিন্তু দুই মাস ধরে সি-ট্রাক বন্ধ রয়েছে। এর পরিবর্তে কয়েকটি ট্রলার চলে। ট্রলারে চলাচল করা জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। নদীতে প্রচুর স্রোত থাকে। ঝড়ের বিষয়টিতো রয়েছেই।

‘নদীর যে স্রোত তাকে মনে হয় সাগর পাড়ি দিয়ে মনপুরা যাচ্ছি। সি-ট্রাক থাকলে ঝুঁকিটা কম থাকে। কিন্তু ট্রলারে এই নদী পাড়ি দেওয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ। দুই মাস ধরে সি-ট্রাক বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির কোনো ভূমিকা নেই। এতে বোঝা যায় বিআইডব্লিউটিসি তাদের দায়িত্ব পালন করছে না’।

ক্ষোভ প্রকাশ করে এই দুই যাত্রী বলেন, “তজুমদ্দিন ও মনপুরা নৌ-রুটটি ‘ডেঞ্জার জোন’। অথচ বিআইডব্লিউটিসি দুই মাসের মধ্যে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তারা কি কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সি-ট্রাক চালু করবেন?”

মনপুরার একটি কলেজের প্রভাষক খালেদা রোকসানা। তার বাড়ি খুলনায়। সব সময় তজুমদ্দিন ঘাট হয়ে মনপুরা যান। মনপুরা যেতে বড় নদী ও উত্তাল নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হয়।

রোকসানা আক্তার বলেন, ‘নদীর যে স্রোত তাকে মনে হয় সাগর পাড়ি দিয়ে মনপুরা যাচ্ছি। সি-ট্রাক থাকলে ঝুঁকিটা কম থাকে। কিন্তু ট্রলারে এই নদী পাড়ি দেওয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ। দুই মাস ধরে সি-ট্রাক বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির কোনো ভূমিকা নেই। এতে বোঝা যায় বিআইডব্লিউটিসি তাদের দায়িত্ব পালন করছে না।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিসি কি তাদের ইচ্ছামতো এটি চালু করবে, নাকি এই রুটে দুর্ঘটনায় কয়েকটি মৃত্যু হলে তারপর সি-ট্রাক চালু হবে? ‘তাদের উচিত এটি পরিষ্কার করা।’

যাত্রী মিজানুর রহমান ও মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘এটি চরম অবহেলা যে দুই মাস ধরে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ আছে। অথচ বিআইডব্লিউটিসি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এটা পরিষ্কার বিআইডব্লিউটিসি মনপুরা ও তজুমদ্দিন রুটের যাত্রীদের সঙ্গে চরম স্বেচ্ছাচারিতা করছে।’

“মনপুরা উপজেলায় নিরাপদ যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সি-ট্রাক। কিন্তু এভাবে যদি দিনের পর দিন বন্ধ থাকে, তাহলে যাত্রীরা কীভাবে নিরাপদে যাতায়াত করবেন? এই রুট তো ‘ডেঞ্জার জোন’। এখন ট্রলারে যাতায়াত করতে নিয়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে অনেক যাত্রীর প্রাণহানি হবে। তখন এর দায়ভার কে নেবে?”

‘সি-ট্রাকে সময় লাগতো দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। আর ট্রলারে সময় লাগে ৩-৪ ঘণ্টা। এতে আমাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে’ ‘যোগ করেন এই দুই যাত্রী।

ভোলা সদরে বাড়ি জামাল উদ্দিন ও হারুন মিয়ার। তারা দুজনই আদালাভাবে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এজন্য প্রতিনিয়ত তাদের মনপুরা যেতে হয়।

তারা বলেন, “মনপুরা উপজেলায় নিরাপদ যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সি-ট্রাক। কিন্তু এভাবে যদি দিনের পর দিন বন্ধ থাকে, তাহলে যাত্রীরা কীভাবে নিরাপদে যাতায়াত করবেন? এই রুট তো ‘ডেঞ্জার জোন’। এখন ট্রলারে যাতায়াত করতে নিয়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে অনেক যাত্রীর প্রাণহানি হবে। তখন এর দায়ভার কে নেবে?”

ভোলার চরফ্যাশনে বাড়ি আনোয়ারা বেগমের। তার মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন মনপুরায়। মেয়ে অসুস্থ শুনে মনপুরার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন। চরফ্যাশন থেকেও মনপুরা যাওয়া যায়। কিন্তু সেখানে কোনো নিরাপদ নৌযান না থাকায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা তজুমদ্দিন এসেছেন সি-ট্রাকে করে যাওয়ার জন্য। কিন্তু এখানে এসে দেখেন সি-ট্রাকটি বন্ধ রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে ট্রলারে করে যেতে হবে। তবে যাত্রাপথে তার ভয় নদীর ঢেউ।

মালেকা বেগম বলেন, ‘মনপুরা থেকে ট্রলারে করে তজুমদ্দিন ঘাটে এসেছি। তবে পুরো যাত্রাপথে আতঙ্কে ছিলাম। বড় বড় ঢেউয়ে ট্রলার কাঁপছিল। মনে হচ্ছিল এই বুঝি ডুবে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ও মেয়ে নিয়ে মনপুরা থেকে এসেছি। জীবনে আর কখনো ট্রলারে যাতায়াত করবো না। যদি সি-ট্রাক বন্ধ থাকে, তারপরও আর ট্রলার দিয়ে যাত্রা নয়। আমাদের জীবনের মূল্য আছে।’

যাত্রী নুর ইসলাম ও ইব্রাহীম জানান, মনপুরা-তজুমদ্দিন রুটে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক যাত্রী যাতায়াত করেন। অথচ কারো কারণ ছাড়াই মাঝে মধ্যে সি-ট্রাক বন্ধ থাকে। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির যেন কোনো মাথাব্যথা নেই।

অবৈধ ট্রলার চলাচলের বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ভোলা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় জানান, মনপুরা-তজুমদ্দিন রুটটি ‘ডেঞ্জার জোন’। বর্তমানে ডেঞ্জার জোন চললে। সেখানে সি-ট্রাক বন্ধ থাকায় ট্রলার চলছে কি-না সে বিষয়ে জানা নেই। বিষয়টির খোজখবর নেওয়া হবে। যদি ট্রলার চলে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এতদিন কেন খোঁজখবর নেননি-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাকে কেউ জানাননি।

বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান বলেন, আগের ইজাদারের মেয়াদ শেষ হয় এপ্রিল মাসের শেষের দিকে। এর আগে সি-ট্রাকটি নষ্ট হয়ে যায়। পরে

মনপুরা-তজুমদ্দিন: বন্ধ সি-ট্রাক, ‘ডেঞ্জার জোনে’ যাতায়াতে ভরসা ট্রলার

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
নগরীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত। পালিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা ও দোয়া-মিলাদ মাহফিল। বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪ র্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়ন ও আউটসোর্সিং কর্মচারীদের যৌথ উদ্যোগে রোববার বাদ জোহর শেবাচিম হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুফতি মাওঃ হাফেজ আসাদুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আউটসোর্সিং কর্মচারীদের প্রাণ ও শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ৪ র্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়ন এর সভাপতি রাব্বি আল মামুন ফয়সাল, মোঃ সোয়েব, মোঃ আলী,মোঃ শরীফ,মোঃ রাকিব,মোঃ রাসেল প্রমুখ। দোয়া অনুষ্ঠানে তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

বরিশাল নগরীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
একদিকে গরম আর অন্যদিকে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের তামাশায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ভোলাবাসী। কারণে-অকারণে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকা ও ওজোপাডিকো’র খামখেয়ালিপনা এবং জবাবদিহি না থাকায় দিনে দিনে বিদ্যুতের চরম অব্যবস্থপনার সৃষ্টি হয়েছে বলে বলছেন গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ না থাকলেও রয়েছে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিল। প্রচন্ড গরমের মধ্যেই বিদ্যুৎ বন্ধ করে চলে সংরক্ষণ ও নানা মেরামতের কাজের অযুহাত। নোটিশ দিয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখলেও প্রতিনিয়ত ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ফুসে উঠছে গ্রাহকরা ও ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ভোলার বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনকারী মিল-কারখানায় উৎপাদনে নেমে এসেছে ধ্বস। এ দায় কার ?

জেলায় চাহিদার চেয়ে কয়েকগুন বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। দিনে ও রাতে বিদ্যুতের এমন অবস্থায় বিপর্যস্ত জনজীবন। তবে সবচেয়ে বেশী সমস্যায় পড়ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার মালিকরা।
ভোলা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক এবং বিসিক শিল্প নগরীর খাঁন ফ্লাওয়ার মিলসের মালিক জামাল খাঁন বলেন, বর্তমানে বিদ্যুতর তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে, যার ফলে আমাদের উৎপাদন বিঘ্ন হচ্ছে। ভোলার ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী জহির ও মিজান বলেন, আমাদের ব্যবসা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে অস্বাভাবিক লোডশেডিং। যার ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা দুস্কর হয়ে পড়েছে।
অভিযানের নামে কোন নোটিশ প্রদান ছাড়াই আবাসিক গ্রাহকদের বাণিজ্যিক হারে বিল ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। অথচ গ্রাহক প্রতি মাসে বিল পরিশোধ করে আসছে। নোটিশ ছাড়াই কেটে দেয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগ। এমন হাজারো অভিযোগের মধ্যেও বিদ্যুৎ বিলকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে গ্রাহকদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে ওজোপাডিকো’র কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলার মধ্যে ৬ উপজেলায় ৫ লাখের অধিক গ্রাহক ওজোপাপিকো ও পল্লি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। এ জেলায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা ওজোপাডিকোর ২২-৩০ মেগাওয়াট এবং পল্লিবিদ্যুতের ৭০-৯০ মেগাওয়াট। এ চাহিদার বিপরীতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্ট থেকে উৎপাদন হচ্ছে ২২৫ মেগাওয়াট। যা জাতীয় গ্রীডে সরবরাহ করা হচ্ছে, সেই গ্রীড থেকে পুনরায় ভোলায় সরবরাহ হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুতের সমিতির আওতায় পুরো জেলায় ৪ লাখ ৩৮ হাজার গ্রাহক থাকলেও চাহিদা অনুযায়ি বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে না। জাতীয় গ্রীড থেকে পর্যপ্ত সরবরাহ না হওয়ার ফলে বাধ্য হয়েই কয়েক ঘন্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম শাহ মোঃ রাজ্জাকুর রহমান বলেন, চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম পেলে আমাদের বাধ্য হয়ে লোডশেডিং রাখতে হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী চরফ্যাশন লোডশেডিং। এদিকে বিদ্যুৎ সমস্যার দ্রুত সমাধান চান ভোলাবাসী।
জানা গেছে, গত এক মাসের বেশী সময় ধরে কখনও ৩৪ ডিগ্রী কখনও বা ৩৫ ডিগ্রী তাপমাত্রা উঠা নামা করায় প্রচন্ড তাপদাহ বিরাজ করছে উপকূলীয় জেলায় ভোলায়। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। এরমধ্যে আবার বিদ্যুতের লোডশেডিংয় ভোগান্তির মাত্রা যেন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট বড় ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নয়, চরম দুর্ভোগে পড়েছে শ্রমজীবি মানুষগুলো। বিপাকে পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীরাও।
ভোলায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন (ওজোপাডিকো) কোম্পানি লিমিটেড এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইউসুফ দায়সারা বক্তব্য দিয়ে বলেন, আমাদের পিকআওয়ারে চাহিদা ৩০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু জাতীয় গ্রীড থেকে সরবরাহ হচ্ছে গড়ে ১৭-১৮ মেগাওয়াট, যার ফলে গড়ে ৩/৪ ঘন্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

ভোলায় বিদ্যুতের তামাশায় অতিষ্ঠ জনজীবন : ওজোপাডিকো নিরব, ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা সদর উপজেলায় জেলেদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত “খাদ্য কর্মসূচি” প্রণোদনা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত পেশাজীবী জেলেরা বঞ্চিত হলেও তালিকায় স্থান পেয়েছে অপেশাদার ও তুলনামূলক সচ্ছল ব্যক্তিরা।

গত ১লা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৬০ দিনের মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ দেয়। ভোলা সদর উপজেলায় প্রায় ২৪০০ জেলের জন্য জনপ্রতি ১২ কেজি আটা, ৮ কেজি ডাল, ১০ লিটার তেল, ১৬ কেজি আলু, ৪ কেজি চিনি ও ৪ কেজি লবণ বরাদ্দ ছিল।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পুরো জেলায় প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার জেলে এই সহায়তার আওতায় আসার কথা। গত ২৪ এপ্রিল সকালে ভোলা সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, মৎস্য অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিজেদের আত্মীয়-স্বজনসহ অপ্রকৃত জেলেদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাদের মধ্যে এই খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

ভোলা সদরের রাজাপুর, পূর্ব ইলিশা, ধনিয়া, শিবপুর, ভেদুরিয়া ও ভেলুমিয়া ইউনিয়নের বহু প্রকৃত জেলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অথচ তারা এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শিবপুর ইউনিয়নের হতদরিদ্র জেলে মো. জামাল মাঝি, মো. আমানউল্লাহ মাঝি, মো. আজিজুল মাঝি ও মো. হারুন মাঝি (প্রতিবন্ধী)সহ অনেকেই জানান, তালিকা প্রণয়নের সময় তাদের জেলে কার্ড সংগ্রহ করা হলেও চূড়ান্ত তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

অন্যদিকে, তালিকায় স্থান পাওয়া অনেকেই জেলে পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। অভিযোগ রয়েছে, মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী মো. ইউসুফের সহায়তায় তার আপন দুই চাচা ‘রাজমিস্ত্রী আ. রব ও ব্যবসায়ী মো. আবদুল মালেক’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে খাদ্য সহায়তা গ্রহণ করেছেন।

অথচ “অফিস সহকারী” ইউসুফ জানায়, তার দুই চাচার নাম কীভাবে তালিকায় আসছে এটা সে জানেনা এবং তারা কোন পেশায় নিয়োজিত সেটাও সে জানেনা।

এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে অভিযোগ করেন, মৎস্য অফিসের স্টাফ মো. জাফর তার শ্বশুর, ভায়রা ভাই, পিতা এবং নিজের নাম একাধিক এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অর্ধশতাধিক অপেশাদার জেলেদের মালামাল সংগ্রহ করিয়ে দেয়। এসমস্ত ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীও এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এবং যেসমস্ত জেলেদের নাম তালিকায় টিকেছে সেগুলোর অনলাইনের কাজ করবে বলে তাদের অধিকাংশের কাছ থেকে ২০০,৩০০ এবং ৫’শ টাকা করে নিয়েছে এই জাফর।

এই জাফরের বিরুদ্ধে এরপূর্বেও একগাদা অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত বহু লোকের জেলে কার্ড পাইয়ে দেওয়া। নিষিদ্ধকালীন সময়ে টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে নদীতে মাছ শিকার সুযোগ করে দেয়। এতো এতো অভিযোগ থাকার পরও তার বিরুদ্ধে মৎস্য অফিসের দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, তার খুঁটির জোড় কোথায়?

অভিযোগের বিষয়ে রিভারগার্ড মো.জাফর টাকা নেওয়ার ব্যাপারটি অস্বীকার করে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।

এবিষয়ে সদর উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্য ও জেলে সমিতির সভাপতি মো. গিয়াসউদ্দিন বলেন, আমরা সর্বপ্রথম প্রকৃত জেলেদের একটা খসড়া তালিকা করি কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এই তালিকা নেওয়ার সময় আমাদের সাথে কোনো পরামর্শ না করে মৎস্য অফিসের স্টাফ জাফর, মামুন এবং এরশাদরা মিলে অধিকাংশ অপেশাদার জেলেদের নাম নিয়ে চুড়ান্ত তালিকা প্রনয়ণ করে। বিশেষ করে শিবপুর ইউনিয়নে ২৭০ টি নামের জন্য জাফর ২’শ,৩’শ, ৫শ এবং ১ হাজার টাকা করে নিয়ে চাকুরীজীবি,ব্যবসায়ী,শিক্ষক এবং কাঠমিস্ত্রীসহ অন্য পেশার মানুষের নাম নিয়েছে।

এদিকে হাজারো প্রকৃত জেলেদের ভাগ্যে প্রণোদনার এই মালামাল জোটেনি অথচ চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। তাদের এই দুরবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বেদে সম্প্রদায়ের একজন মহিলা জেলে সেদিন বুক ফুপিয়ে কেঁদে কেঁদে বলে, ঐ স্যার (মৎস্য অফিসার) আমারে মালামাল দিব কইয়া দিল না! আমার স্বামীর অসুখ আইজ অনেকদিন, আমার নায়ে কোনো খায়ন নাই। আল্লায় ঐ স্যারের বিচার করুক।

এরকম শতশত পেশাদার নিরীহ জেলেদের অভিযোগ, মৎস্য অফিসের স্টাফরা তাদের আত্মীয় স্বজন,বন্ধু-বান্ধব এবং তাদের বিভিন্ন ব্যবসায়ীক সুযোগ সুবিধার্থে এসমস্ত মালামাল বন্টন করেছেন।

এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ভূঁইয়া বলেন, “আমরা তড়িঘড়ি করে তালিকা প্রস্তুত করার সময় অনাকাক্সিক্ষতভাবে কিছু অপেশাদার জেলের নাম যুক্ত হয়েছে। এ জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।”

তিনি আরও বলেন, চুড়ান্ত তালিকা আসার পর বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতারা তাকে প্রভাবিত করে একাধিক নাম বাদ দিতে বাধ্য করেছে এবং তাদের নিজেদের নেতাকর্মীদের নাম অর্ন্তভুক্ত করে শতাধিক নামের মালামাল নিয়েছেন। এবং জাফরের টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ¯পষ্ট প্রমাণ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব। তার নামে যে জেলে কার্ড রয়েছে এটা আমার জানা নেই যদি থাকে তাহলে আমরা সেটা বাতিল করবো।

সুশীল সমাজ বলেন, মৎস্য অফিসের মাধ্যমে সঠিক তদন্তের অভাবে এধরণের গোলমাল হয়েছে। তাদের উচিত ছিল সরেজমিনে গিয়ে প্রকৃত নিরীহ পেশাদার জেলেদের তালিকা প্রস্তুত করা। ভবিষ্যতে এরকমটা হলে প্রকল্পের কাঙ্খিত ফলাফল আসবে না।

ভোলায় জেলেদের সরকারি খাদ্য প্রণোদনায় অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ঈদুল আজহায় নৌপথে ঘরমুখী মানুষের ভিড় বাড়ছে। রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ১৭২টি লঞ্চে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসে লঞ্চ সংখ্যা দ্বিগুণ বাড়িয়ে রোববার থেকে যাত্রী পরিবহনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ভাড়া কমিয়ে নির্বিঘ্নে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করছেন লঞ্চ মালিকরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের ঈদে যাত্রীচাপ সামাল দিতে বেশ আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে করতে সদরঘাট টার্মিনালে ১৭২টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়। এই টার্মিনাল থেকে দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার সাধারণ সময়ে যেখানে ৫০ থেকে ৫৫টি লঞ্চ চলাচল করে, সেখানে ঈদের সময় অতিরিক্ত লঞ্চ যুক্ত করা হয়েছে।

রোববার সরেজমিন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঈদে সরকারি ছুটি শুরুর আগের দিন সকাল থেকেই সেখানে যাত্রীরা আসতে শুরু করেন। বিভিন্ন লঞ্চে করে তারা নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার পর যাত্রীদের আনাগোনাও বাড়ছিল। আজ সোমবার থেকে এই ভিড় আরও বাড়বে। ঈদের আগের দিন ২৭ মে পর্যন্ত ঘরমুখী মানুষের ভিড় থাকবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে সন্ধ্যায় সপরিবারে লঞ্চযোগে ভোলার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন গুলিস্তানের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মনোয়ার হোসেন। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ভোলার ইলিশাগামী ‘এমভি টিপু-৬’ লঞ্চে উঠেছেন তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। লঞ্চেই সদরঘাট হয়ে ইলিশা পর্যন্ত যাবেন তারা।

ঢাকা-বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচলকারী পারাবত-২ লঞ্চের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমন বলেন, যাত্রীদের সুবিধার্থে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও ভাড়া কম নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কেবিন ভাড়া অনেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি সিঙ্গেল কেবিনের সরকার নির্ধারিত ভাড়া এক হাজার ৭১৬ টাকা হলেও তা এক হাজার ২০০ টাকায় দেওয়া হচ্ছে। ডেক ও ডাবল কেবিনের ভাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে।

এদিকে ঘরমুখী মানুষের সর্বাত্মক সুবিধা নিশ্চিতে সতর্ক দেখা গেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও। গত ঈদুল ফিতরে দুটি অনাকাক্সিক্ষত লঞ্চ দুর্ঘটনার কারণে এবার কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছিল- চলন্ত বা নোঙর করা লঞ্চে নৌকা কিংবা ট্রলার থেকে যাত্রী ওঠানামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। লঞ্চের পেছন বা পাশ দিয়ে এবং নদীর মাঝপথে ট্রলার বা নৌকা ভিড়ানোও যাবে না। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

এদিকে, নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পন্টুনের আশপাশ থেকে নৌকা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি পন্টুন এলাকায় নৌপুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। সদরঘাটের ১ থেকে ২৫ নম্বর পন্টুন পর্যন্ত নৌপুলিশের চারটি টহল টিম দায়িত্ব পালন করছেন। নৌকা যাতে টহল ভেঙে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এ ছাড়া হকারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত, ফ্রি কুলি সেবা চালু এবং ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই যাত্রী পূর্ণ হলে লঞ্চ ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কোনো লঞ্চ চলাচল করতে পারবে না।

বিআইডব্লিউটির ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ন পরিচালক মোবারক হোসেন জানান, গত ঈদের মতো এবারের ঈদেও ঘরমুখী যাত্রীদের নির্বিঘœ যাত্রা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের নির্দশনাগুলো বাস্তবায়নে সদরঘাটে সকল অংশীদারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারা। এখান থেকে নৌপথের বিদ্যমান ৩৮টি রুটেই লঞ্চ চালানোর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রাকে ঘিরে ১৭৫টি লঞ্চের সময়সীমা ঠিক করা হয়েছে।

শুরু হলো বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসও

রোববার থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা লঞ্চঘাট (ল্যান্ডিং স্টেশন) এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল কাঞ্চন ব্রিজ সংলগ্ন শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকেই বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস শুরু হয়। এই বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ঈদুল ফিতরে এই দুটি নতুন ঘাট থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু হয়েছিল। যাত্রী চাহিদা থাকায় এবারও সেটা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া গত ঈদুল ফিতরে বছিলা ঘাট থেকে ছয়টি নৌপথে ছয়টি লঞ্চ দিয়ে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস পরিচালনা করা হলেও এবার ১২টি লঞ্চ দিয়ে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে শিমুলিয়া ঘাট থেকে আগের মতোই দুটি লঞ্চ ও একটি ফেরি চলাচল করবে। এ ছাড়া বছিলা লঞ্চঘাট থেকে কেবল ঈদের সময় নয়, সারাবছরই দুইটি লঞ্চের চলাচল অব্যাহত রাখার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

সরেজমিন বছিলা লঞ্চঘাট ঘুরে যাত্রীদের পাশাপাশি এলাকার মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেল। গত ঈদুল ফিতরের মতো এবারও বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস শুরুর প্রথমদিনে যাত্রীর ভিড় তেমন একটা ছিল না। লঞ্চঘাটের পন্টুনে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসের লঞ্চগুলো নোঙর করে যাত্রীদের ওঠানো হচ্ছিল। প্রবেশমুখে কন্ট্রোল রুম এবং যাত্রী বিশ্রামাগারকে ঘিরেও নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর স্টাফদের মোতায়েন করা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর শুল্ক আদায়কারী কর্মকর্তা ইনসানুর রহমান জানান, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের ওপর চাপ কমাতেই ঈদুল ফিতরে বছিলায় নতুন এই ঘাট চালু করা হয়েছিল। এবারও সেই সুবিধা অব্যাহত রাখা হয়েছে। মোহাম্মদপুর, বছিলা, ধানমন্ডি, গাবতলী, আশুলিয়া ও সাভার এলাকার যাত্রীরা সদরঘাট না গিয়ে এই ঘাট দিয়ে নৌপথে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন।

নৌপথে ভিড় বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের

অন্যান্য সংবাদ

খুলনা

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

পুকুর থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিথীকা সাধু (৫০) সাতক্ষীরা শহরের বউবাজার এলাকার মৃত. বিশ্বনাথ সাধুর স্ত্রী। তিনি বউবাজারের একজন মুদি দোকানী।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, বিথীকা সাধুর সাতক্ষীরা শহরের বউবাজারে একটি মুদি দোকান রয়েছে।৷ প্রতিদিন দোকান বন্ধ করে রাত ১০টার দিকে বাড়িতে ফেরেন। কিন্তু আজ বাড়িতে ফিরতে দেরী হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশে একশো গজ দূরে পুকুরের ভিতর মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানিয়েছে, এলাকায় মাদকসেবীদের উৎপাত রয়েছে। বিথীকা সাধুর গলায় স্বর্ণের চেন ও কানে দুল ছিল। সেটি পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মাদকসেবীরা ছিনতাইকালে তাদের চিনে ফেলায় বিথীকা সাধুকে হত্যা করা হয়েছে। ভারী বস্তু দিয়ে মাথা ও মুখ থেতলে দিয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন সাতক্ষীরা থানা পুলিশের একটি টিম। অপরাধী শনাক্ত ও ঘটনার রহস্য উন্মোচনে কাজ চলছে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

সাতক্ষীরা শহরের বউবাজার এলাকায় মুখ ও মাথা থেতলে নারীকে হত্যা

রাজশাহী

সিলেট

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের কিশোরী রীমা রানী সরকার (১৫)-কে নিখোঁজের প্রায় ২৪ দিন পর পুলিশ ও র্যাবের সহায়তায় রিমাকে সিলেট থেকে উদ্ধার করেছে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ। এই কাজে জড়িত থাকার অভি
যোগে ভিকটিমের ধর্মান্তরিত আপন মাসিসহ তার
স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী অন্যান্য সংস্থা ও এর সাথে কাজ করেন।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়,গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুর্গাপূজার সপ্তমীর দিনে শ্রীমঙ্গল শহরের আর.কে. মিশন রোড দুর্গা মন্দিরে অঞ্জলী দিতে গিয়ে নিখোঁজ হয় রীমা রানী সরকার। এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা মতিলাল বিশ্বাস বাদী হয়ে কমলগঞ্জ উপজেলার কাঠালকান্দি গ্রামের বদরুল আলম (২৫)সহ তিনজনের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৩০ ধারায় মামলা (নং–০৮, তারিখ: ০৫/১০/২০২৫) রুজু করা হয়। অপহরণের পর থেকেই বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি এবং সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি এর দিকনির্দেশনায়, মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোঃ এম.কে.এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন, পিপিএম-সেবা’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেন।
ঘটনা ক্রমে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি টিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৮ ও ১১ অক্টোবর মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামী বদরুল আলম (২৫) ও শহিদ মিয়া (৩২)-কে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভিকটিম সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় তদন্ত আরও প্রসারিত করা হয়। পরবর্তী তদন্তে ভিকটিমের খালা প্রিয়াংকা সরকারের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তার কল রেকর্ড বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভিকটিমের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
সেই সূত্র ধরে সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানার ধরাধরপুর এলাকায় শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগম ও তার স্বামী মোবারক মিয়া ভিকটিমকে তাদের ভাড়া বাসায় আটক করে রেখেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে আরও প্রকাশ পায় যে, শিল্পী সরকার (ওরফে শিল্পী বেগম) ভিকটিমের আপন খালা (তিনি ধর্মান্তরিত মুসলিম)। প্রায় দুই বছর আগে তিনি মোবারক মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে ধর্মান্তরিত হয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পুলিশের দাবি,ঘটনার দিন তিনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করে অঞ্জলী শেষে ফেরার পথে কিশোরী রীমাকে প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের ধরাধরপুর এলাকায় নিয়ে যায় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখে। এমনকি ঘটনার পর ভিকটিমের মা জড়িত শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগমের সাথে যোগাযোগ করে ভিকটিমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। গতকাল (২৪ অক্টোবর) তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ভিকটিম রীমা রানী সরকারকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগম ও তার স্বামী মোবারক মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রসঙ্গত রিমা রানী সরকারের ঘটনাটি নিখোঁজ নাকি আত্মগোপন না অপহরণ এ বিষয়ে শহর জুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়, অনেকেই অপহরণ দাবি করে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক কিসোর কিশোরীকে যদি কেহ ফুসলিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে গোপন করার চেষ্টা করে তাহলে সেটি অপহরণ হিসেবেই গণ্য হয়। প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটি আরও তদন্তের দাবি সাধারণ জনগণের। এর পিছনে মূল রহস্য কি এবং কেন শুধুমাত্র একটি বিষয়কেই হাইলাইট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কে ভাইরাল করা হয়েছে,যেহেতু শ্রীমঙ্গল থানায় এরূপ আরো হাফ ডজনের ও অধিক নিখোঁজ ও অপহরণ অভিযোগ এই মাস দুয়েকের মধ্যেই হয়েছে। এছাড়া পূর্ব যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের ব্যাপারে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় নেটিজেনরা।বিস্তারিত পরবর্তী সংবাদে নজর রাখুন।
 #শ্রীমঙ্গলের রীমা সিলেট থেকে উদ্ধার:ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আপন খালা ও তার স্বামীকে গ্রেফতার
#সংগ্রহ #শ্রীমঙ্গল

শ্রীমঙ্গলের রীমা রানী সিলেট থেকে উদ্ধার : ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ধর্মান্তরিত আপন মাসী গ্রেফতার

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সাত বছরের শিশু ছোঁয়া মনিকে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শিশুটিকে আছড়ে হত্যা করার দায়ে তার ফুপাতো ভাই মো. মনিরুল ইসলাম জিহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে রায়গঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক মো. ওমর ফারুকের কাছে জিহাদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক রতন জানান, শনিবার সকালে গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে জিহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জিহাদ জানায়, বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে সে তার মামাতো বোন ছোঁয়া মনিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ছোঁয়া মনি বিষয়টি বাবা-মাকে জানিয়ে দেবে বলায়, জিহাদ তাকে প্রতিবেশীর পরিত্যক্ত টয়লেটের ওয়ালের সঙ্গে আছড়ে হত্যা করে। এরপর সে মরদেহ টয়লেটের ভেতরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এসআই নাজমুল বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর জিহাদ অন্যদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ভান করে। এমনকি মসজিদে মাইকিংও করে। পরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর পেয়ে সে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে জিহাদের রক্তমাখা গেঞ্জি ও লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে প্রতিবেশীর একটি ভাঙা ও পরিত্যক্ত টয়লেটের ভেতর থেকে ছোঁয়া মনির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির দাদি মোছা. ফিরোজা বেগম অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর গোয়েন্দা পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়।

 

সিরাজগঞ্জে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশু ছোঁয়াকে হত্যা করে ফুপাতো ভাই

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং স্থানীয় পুলিশি সূত্রে ব্যাপকভাবে আলোচনা হয়েছে, সুনামগঞ্জের এক কিশোরী নিখোঁজ থাকার ঘটনায়। দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান ও সামাজিক সমন্বয়মূলক প্রচেষ্টার পর অবশেষে ওই কিশোরীর খোঁজ পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিশোরী স্বধর্মের একটিছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। তবে স্থানীয়রা এবং পরিবার সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর বয়স মাত্র ১৫ বছর, যা আইনগতভাবে তাকে নাবালিকা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করে। এত অল্প বয়সে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সামাজিক ও আইনগতভাবে উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

স্থানীয় পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কিশোরীর নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করেছি এবং তার পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এটি কেবল পরিবারের নয়, সমাজেরও একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।”

পুলিশ এবং সমাজকর্মীরা কিশোরী এবং তার পরিবারের সঙ্গে মানসিক সহায়তা এবং পরামর্শ প্রদান করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নাবালিকা কিশোরীদের এমন পরিস্থিতি সামাজিক শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবের প্রতিফলন, যা নিয়মিত মনিটরিং এবং পরিবারিক সহায়তার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।

অবশেষে খোঁজ মিলেছে নিখোঁজ কিশোরীর : প্রেমের টানে স্বধর্মের ছেলেকে বিয়ে!

ডেস্ক রিপোর্ট ::

স্নেহা চক্রবর্তী। সুনামগঞ্জ সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি-দুই পরীক্ষাতেই জিপিএ ৫। শত প্রতিকূলতার মাঝেও দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে গিয়েছিল মেয়েটি। স্বপ্ন ছিলো বড় হয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চলতি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয় সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে।
আজ ছিল তার জীবনের একটি নতুন সূচনার দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ক্লাস। গতকাল সকালে বাবার হাত ধরে প্রথমবার পা রাখে স্বপ্নের প্রাঙ্গণে। বাবা বিপুল চক্রবর্তী, শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। চোখে আনন্দের অশ্রু আর গর্ব ভরে মেয়েকে নিয়ে যান ভর্তি করাতে। মেয়ে ভর্তি হলো, ভর্তির কাজ শেষে বিকেলের দিকে বাবার বুক জড়িয়ে ধরে বাড়ির পথে রওনা দেয় স্নেহা। বাবা নিজে তাকে তুলে দেন সিএনজিচালিত অটোরিকশায়। কে জানত, সেই শেষ বিদায়টা হবে এতটা চিরন্তন, এতই নির্মম! পথেই বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে থেমে যায় একটি সম্ভাবনাময় প্রাণ। স্নেহা আর বাড়ি ফিরে আসেনি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মা জ্যোতি চক্রবর্তী আর ছোট ভাই সূর্য চক্রবর্তী ছুটে যান হাসপাতালে। মেয়ের নিথর শরীর দেখে ছটফট করতে করতে জ্ঞান হারান মা। ছোট ভাই সূর্য যেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না, শুধু বড় বোন স্নেহার লাশের দিকে তাকিয়ে থাকে! এটা তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। একে একে পরিবারের নিকটজনরা হাসপাতালে আসতে থাকে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তখন কেবল কান্না আর আহাজারি! একটি পরিবার ভেঙে চুরমার হয়ে গেল মুহূর্তে।
একটি স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস এভাবেই নিরবে লেখা হলো আজ। স্নেহা চক্রবর্তী আর নেই। থেকে গেলো তার অসমাপ্ত স্বপ্ন, বাবার চোখের জল, মায়ের বুকভাঙা কান্না আর ভাইয়ের অজস্র প্রশ্ন,”দিদিগো, তুমি কোথায় গেলে?”
আমরা স্নেহার আত্মার শান্তি কামনা করছি, অনন্তলোকে ভালো থাকুক মেয়েটি। ওঁ দিব্যান্ লোকান্ স গচ্ছতু।।

স্বপ্নার স্বপ্নীল স্বপ্ন ভেঙ্গে চূড়মার : একটি পরিবার ধ্বংসস্তূপে পরিনত

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
সিলেট মহানগরের শামীমাবাদে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।  পুলিশের বিরুদ্ধেও অসহযোগীতার অভিযোগ করেছে ওই পরিবার।
 রোববার (৩ আগস্ট) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন শামীমাবাদ এলাকার ১৮৩ নং বাসার বাসিন্দা ও এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার গীতা রানী হালদারের মেয়ে পুজা মন্ডল।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান তার বাবা তপুন কুমার মন্ডল কাজল প্রবাসে থাকেন। মা গীতা রানী স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে শামীমাবাদের বাসায় থাকেন। ২০১৩ সালে শামীমাবাদ এলাকায় ৪ শতক জায়গা ক্রয় করে সেখানে বাসা নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন গীতা রানী। বাসা নির্মাণের সময় এবং পরবর্তীতে কোনো ঝামেলার শিকার হননি। তবে চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করে একটি চক্র তাদেরকে হয়রানি শুরু করে। তার বাসার লাগোয়া প্লটের মালিক সোহেল বেগ এবং তার সহযোগী রজব আলী, আব্দুল মুমিন, ইমরান আহমদ, শাহান আহমদ, কামরান আহমদ, আঙ্গুর মিয়া, ফকির আলী, রাসেল আহমদ, সুমান আহমদ ও রাব্বিসহ আরও বেশ কয়েকজন এই উৎপাত শুরু করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সোহেল বেগের দাবি তার জায়গায় গীতা রানীদের বাসা। কিন্তু এর সপক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সোহেল বেগ। তারপরও গীতা রানী বলেন, প্রবাসী স্বামী দেশে আসলে এ বিষয়ে দুপক্ষ আলোচনায় বসবেন। সোহেল তার কথায় কর্ণপাত না করে গীতা রানীকে নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন এবং ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পূজা মন্ডলের অভিযোগ, মূলত চাঁদা আদায় করাই এই চক্রের আসল উদ্দেশ্য।
গীতা রানীর মেয়ে বক্তব্যে আরও বলেন, চাঁদা না দেয়ায় গত ২৮ জুলাই মধ্যরাতে সোহেল বেগ তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তার বাউন্ডারি দেওয়াল গুড়িয়ে দেন এবং বাসায় হামলা ও ভাঙচুর চালান। বাসার সিসিটিভি ক্যামেরাও ভাঙচুর করেন। এসময় গীতা রানী হাসপাতালে ডিউটিতে ছিলেন, বাসায় ছিলেন তার দুই ছেলে-মেয়ে। তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ যাওয়ার আগে হামলাকারীরা গীতা রানীর ছেলে-মেয়ে ও তাকে প্রাণে হত্যা করার হুমকি দিয়ে যায়।
 এ ঘটনার পর গীতা রানী সিলেট কোতোয়ালি থানায় এজাহার দায়ের করলেও পুলিশ মামলা রেকর্ড করেন নি। পরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ দিলেও মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ। পুলিশের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে অবশেষে বাধ্য হয়ে গীতা রানী আদালতের দ্বারস্থ হয়ে দুটি মামলার আবেদন করেছেন।

সিলেটে সংখ্যালঘু পরিবারকে হয়রানী : সহযোগিতা করেনি পুলিশ

অন্যান্য সংবাদ

রংপুর

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার হামিন্দপুর কামারপাড়া এলাকায় আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে তৈরি করা প্রতিমায় আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রতিমার বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে হামিন্দপুর সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও এর আগেই প্রতিমাগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মন্দির নিয়ে ক্যাশিয়ার কার্তিক চন্দ্রের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত শনিবার দুপুরে তিনি মন্দিরের প্রধান দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। বাধ্য হয়ে মন্দিরের দক্ষিণ পাশে খোলা আকাশের নিচে পূজার প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন কারিগররা। গত ৫/৬ দিনে তারা বাঁশ ও খড় দিয়ে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশসহ প্রতিমার নানা সরঞ্জাম তৈরি করেন। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা হঠাৎ প্রতিমাগুলোতে আগুন দিলে মুহূর্তেই সব পুড়ে যায়।
মন্দির কমিটির সাবেক সভাপতি অনুকূল চন্দ্র রনু বলেন, ‘মন্দির নিয়ে সামাজিক বিরোধের কারণে আমরা ৮-১০টি পরিবার মন্দিরের পাশে ছাপরা ঘর তুলে পূজার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিই। সে অনুযায়ী প্রতিমা তৈরির কাজ চলছিল। কিন্তু শত্রুতার আগুনে সব পুড়ে গেছে। পরিকল্পিতভাবে প্রতিমায় আগুন দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কার্তিক চন্দ্রের সম্পৃক্ততা আছে।’
মন্দিরের পাশের বাসিন্দা টুলু বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বিরোধ এর আগেও কয়েকবার বসে সমাধান হয়েছিল। কিন্তু কার্তিক চন্দ্র জোরপূর্বক মন্দিরে সমাজের লোকজনের প্রবেশে বাধা দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। প্রতিমা পুড়ে যাওয়ায় এবার দুর্গাপূজা নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানাই।’
এদিকে, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজউদ্দীন খন্দকার এবং সাদুল্লাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাত চন্দ্র অধিকারী। তারা প্রতিমাগুলো দেখে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলেন।
এ বিষয়ে ওসি তাজউদ্দীন খন্দকার বলেন, ‘রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা প্রতিমায় আগুন দিয়েছে। গুরুত্ব  সহকারে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া বিরোধ সমাধানে উভয়পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে।’
সাদুল্লাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাত চন্দ্র অধিকারী বলেন, ‘এই মন্দির নিয়ে কার্তিক চন্দ্রের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি আমরা এর আগেও থানায় বসে সমাধান করেছি। কিন্তু আবারও দ্বন্দ্ব চলছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য বসার কথা ছিল। তার আগেই প্রতিমায় আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুতই উভয়কে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করবো।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে বারবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি মন্দিরের ক্যাশিয়ার কার্তিক চন্দ্রকে। রাতে তার বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও কোনও সাড়া মেলেনি।
[তথ্যসূত্র: সনাতন টিভি]

মন্দির কমিটির অন্তর্দ্বন্দের শিকার স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় : গাইবান্ধায় রাতের আঁধারে দূর্গা প্রতিমায় দুর্বৃত্তের আগুন

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ১০ মাস ধরে আটকে রেখে ১২ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে সৎ বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা সহায়তা করেছে বলে জানা গেছে। তাদের দুজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম। এর আগে শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগীর মামা বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

আসামিরা হলেন, উপজেলার নিতাই পানিয়ালপুকুর গাংবের এলাকার আসাদুল মিস্ত্রির ছেলে রশিদুল ইসলাম (৪০) ও তার স্ত্রী আঁখি আক্তার নাসরিন (২৮)।

মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর মা চার বছর আগে প্রথম স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে দুই সন্তানসহ রশিদুল ইসলামকে বিয়ে করেন। তাকে বিয়ে করার পর রশিদুলের প্রথম স্ত্রী থাকার কারণে নাসরিনকে সন্তানসহ উপজেলা ব্র্যাক অফিসের পাশে ভাড়া বাসায় রাখতেন। পরে রশিদুল তার স্ত্রী নাসরিনের ১২ বছরের মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে সে রাজি না হওয়ার কারণে তার মাসহ তাকে মারধর করেন। পরে জোরপূর্বক ১০ মাস ধরে ভুক্তভোগীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে আসছে। এতে ভুক্তভোগী দুই মাসের গর্ভবতী হলে তার গর্ভপাত করাতে ওষুধ সেবন করালে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর আবারও ধর্ষণ করেন রশিদুল ইসলাম।

শুক্রবার ভুক্তভোগীর মামার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। এসময় ভুক্তভোগী তার মামাকে সবকিছু খুলে বললে তিনি থানায় এসে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করেন।

ভুক্তভোগীর মামা ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার ভাগ্নিকে ১০ মাস ধরে আটকে রেখে তার মায়ের সহায়তায় সৎ বাবা ধর্ষণ করে আসছে। ৫ মাস আগে সে গর্ভধারণ করলে তাকে ওষুধ সেবন করিয়ে গর্ভপাত করা হয়। আমরা চাই দোষীরা যেন বিচারের মুখোমুখি হয়।

কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, মায়ের সহায়তায় সৎ বাবা এক শিশুকে ১০ মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

সৎ বাবার ধর্ষণের শিকার কিশোরী : সহযোগিতা করেছে মা! 

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
❝ রংপুরের তারাগঞ্জ বাজার। ফুটপাতে ছোট্ট কাঠের চৌকিতে বসে জুতা সেলাই করছে ১৪ বছরের জয় রবিদাস। পাশে যন্ত্রপাতি, সামনে কয়েক জোড়া জুতা। এখানেই বারো বছর ধরে বসতেন তার বাবা রূপলাল রবিদাস। গত ৯ আগস্ট মব সন্ত্রাসে বাবার মৃত্যুর পর সেই শূন্য আসনে বসতে হয়েছে ছেলেকে।
জয় ছিল তারাগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। বাবাকে হারিয়ে সেই স্বপ্ন থেমে গেছে তার। সংসারের ভার কাঁধে নিয়ে বাধ্য হয়ে নামতে হয়েছে পৈতৃক পেশায়।
শুক্রবার সকালে জয়কে দেখা যায় বাজারের ফুটপাতে বসে জুতা সেলাই করতে।
জয়ের মা মালতি রানী রবিদাস বলেন, ‘সংসারে আর
কোনো পুরুষ নেই, জয়-ই এখন ভরসা। কতটুকু আয় করতে পারবে জানি না, তবে সেই আয়ে আমাদের কোনোভাবে বাঁচতে হবে। ছেলেটাকে স্কুলে পাঠাতে না পেরে বুক ফেটে যাচ্ছে। কিছু মানুষ আমাদের সুখ-শান্তি চিরদিনের জন্য কেড়ে নিয়েছে।’
রূপলালের বড় মেয়ে নুপুর রবিদাস বলেন, ‘বাবা বেঁচে থাকলে ছোট ভাইকে স্কুল ছেড়ে ফুটপাতে জুতা সেলাইয়ের কাজ করতে হতো না। ছোট ভাইয়ের রোজগারে সংসার চলছে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় দুঃখ। যদি উপায় থাকতো তাহলে জয়কে কাজ করতে যেতে দিতাম না।’ ❞
❝ গত ৯ আগস্ট রাতে রূপলাল রবিদাস (৪৮) ও তার ভাগ্নিজামাই প্রদীপ লাল রবিদাস (৪৭) ব্যাটারিচালিত ভ্যানে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তারাগঞ্জের সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলায় তাদের ভ্যানচোর সন্দেহে আটক করে স্থানীয়রা। কিছু সময়ের মধ্যেই মব গড়ে ওঠে এবং পিটিয়ে হত্যা করা হয় দুজনকে।❞
মহাজন ভালো আছেন। তার মেধাবী ছাত্ররা এখন কোটিপতি। হাঁস খায় পাঁচ তারকা হোটেলে। চলাচলের জন্য বিমান হেলিকপ্টার আছে। বিশ্রামের জন্য চীন আমেরিকা কক্সবাজারের পাঁচ তারকা হোটল আছে। আর জনগণ ভাতের অভাবে ফুটপাতে নেমে এসেছে।
[সৌজন্য: স্টার বাংলা]

মহাজনের মবের মুল্লুকে জয়ের পরাজয়! 

অনুসন্ধান ডেস্ক::
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ইউএনও’র নির্দেশে বলিদ্বারা দূর্গাপূজা মন্দিরের জায়গা দখলের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ( ৩১ জুলাই) উপজেলা পরিষদ চত্বরে পূজারিরা এ বিক্ষোভ করেছেন।
মন্দির কমিটি সূত্রে জানা যায়, বলিদ্বারা বাজার সংলগ্ন ১৬ শতাংশ জমির ওপর দূর্গাপূজা মন্দির রয়েছে। সেখানে বিগত সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূর্জা অর্চনা করে আসছেন। ওই জমির ওপর হঠাৎ ললুপ দৃষ্ঠি পড়ে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহি অফিসার সাফিউল মাজলুবিন রহমানের। তিনি গত বুধবার মন্দিরে উপস্থিত হয়ে ২ ঘন্টার মধ্যে সফিকুল নামের এক জনকে মন্দিরের জায়গা ছেড়ে দিতে বলেন। নতুবা মন্দিরের লোককে এরেস্ট করে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন।
এঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ফুঁসে উঠলে বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে ইউএন’ও বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় ইউএনও পূর্জা কমিটির লোকজনকে শান্ত হতে বলেন এবং বিকেলের মধ্যেই জমি সার্ভে করার কথা ঘোষণা দেন।
এ প্রসঙ্গে পূর্জা কমিটির সভাপতি সেবুলাল রায় বলেন, ‘বলিদ্বারা এলাকার রহমান আলী’র ছেলে সফিকুল ইসলামের মন্দিরের পিছনে বাড়ি করার কথা। এজন্য ইউএনও মন্দিরে এসে লোকজন দিয়ে বেড়া খুলে দেন এবং পূজা অর্চনার কাজে ব্যবহৃত কলা গাছ গুলো কেটে দেন। যা মোটেও কাম্য নয়। পরদিন এজন্য আমরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করি’।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শাফিউল মাজলুবিন রহমান মুঠোফোনে বলেন, সরেজমিনে গিয়ে মন্দিরের ১৬ শতাংশ মেপে দেয়া হয়েছে। এসময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ছিল, ওসি ছিল, আমি ছিলাম। সেখানে আর রাস্তা বের হবে না মনে হয়।
[তথ্যসূত্র: সনাতন টিভি]

ঠাকুরগাঁও ইউএনও’র নির্দেশে মন্দিরের জায়গা দখল : পূজারিদের বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট ::
হিন্দুদের বাড়িতে হামলার বিষয়ে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে গালমন্দ ও হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই দুই সাংবাদিক হলেন, প্রথম আলোর রংপুরের নিজস্ব প্রতিবেদক জহির রায়হান ও কালবেলার রংপুর প্রতিনিধি রেজওয়ান রনি।
রেজওয়ান রনি বলেন, ‘হামলার ঘটনার অনুসন্ধানে নেমে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা জানতে পারি, রোববার সকাল থেকে কিশোরগঞ্জের মাগুরা ইউনিয়নে মাইকিং করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। দুপুর ২টার দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকশ মানুষ ঘটনাস্থলের এক কিলোমিটার দূরে বাংলাবাজারে জড়ো হন। ওই দিন কিশোরগঞ্জ থানা থেকে বাংলাবাজারে চার-পাঁচ পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। উত্তেজিত জনতা বালাপাড়ায় হিন্দুপল্লির দিকে এগোলে তারা বাঁধা দেননি, বরং পেছনে ছিলেন।’
রনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কথা বলতে থানায় গেলে ওসি আশরাফুল ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের গালাগাল করেন। তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন এসআই মহসীন। কিন্তু ওসি তাঁকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ওদের ধরেন। ফাজলামো করলে পিটিয়ে সোজা করে দেব। এরপর আমাদের থানা থেকে সরিয়ে নেন এসআই।’
এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক বলেন, ওসি আশরাফুলকে প্রত্যাহার করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা না করলে সাংবাদিকরা আন্দোলনে যাবেন।
তথ্যসূত্র: সমকাল

গঙ্গাচড়া হিন্দু পল্লীতে হামলার বিষয়ে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে হুমকি : ওসি প্রদীপ’র ভূমিকায় আশরাফুল

অন্যান্য সংবাদ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় যাতায়াতের একমাত্র সি-ট্রাকটি প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন শত শত যাত্রী। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা। দুই মাস ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে মনপুরা টু তজুমদ্দিন এবং তজুমদ্দিন টু মনপুরা রুটে চলাচল করতো একমাত্র সি-ট্রাক ‘এসটি ইলিশা’। কিন্তু প্রায় দুই মাস আগে ইঞ্জিন বিকল হয়ে বন্ধ হয়ে যায় সি-ট্রাকটি। এরমধ্যে পরিবর্তন হয় ইজারাদার। নতুন ইজারাদার নিয়োগ হলেও আজও চালু হয়নি সি-ট্রাকটি। ফলে প্রতিদিনই অবৈধ ট্রলার দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মনপুরা উপজেলা থেকে তজুমদ্দিন এবং তজুমদ্দিন থেকে মনপুরা যাতায়াত করছেন শত শত যাত্রী।

মনপুরা-তজুমদ্দিন রুটটি ডেঞ্জার জোন হওয়ায় চলতি মৌসুমে প্রতিদিনই ভয় ও আতঙ্ক সঙ্গী হচ্ছে যাত্রীদের। যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।

ওই রুটের যাত্রী মো. করিম ও বিশ্বজিৎ কুমার জানান, তারা প্রতিনিয়ত মনপুরা থেকে তজুমদ্দিন এবং তজুমদ্দিন থেকে মনপুরা যাতায়াত করেন। সি-ট্রাক থাকাকালীন তারা নিরাপদে যাতায়াত

করতেন। কিন্তু দুই মাস ধরে সি-ট্রাক বন্ধ রয়েছে। এর পরিবর্তে কয়েকটি ট্রলার চলে। ট্রলারে চলাচল করা জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। নদীতে প্রচুর স্রোত থাকে। ঝড়ের বিষয়টিতো রয়েছেই।

‘নদীর যে স্রোত তাকে মনে হয় সাগর পাড়ি দিয়ে মনপুরা যাচ্ছি। সি-ট্রাক থাকলে ঝুঁকিটা কম থাকে। কিন্তু ট্রলারে এই নদী পাড়ি দেওয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ। দুই মাস ধরে সি-ট্রাক বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির কোনো ভূমিকা নেই। এতে বোঝা যায় বিআইডব্লিউটিসি তাদের দায়িত্ব পালন করছে না’।

ক্ষোভ প্রকাশ করে এই দুই যাত্রী বলেন, “তজুমদ্দিন ও মনপুরা নৌ-রুটটি ‘ডেঞ্জার জোন’। অথচ বিআইডব্লিউটিসি দুই মাসের মধ্যে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তারা কি কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সি-ট্রাক চালু করবেন?”

মনপুরার একটি কলেজের প্রভাষক খালেদা রোকসানা। তার বাড়ি খুলনায়। সব সময় তজুমদ্দিন ঘাট হয়ে মনপুরা যান। মনপুরা যেতে বড় নদী ও উত্তাল নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হয়।

রোকসানা আক্তার বলেন, ‘নদীর যে স্রোত তাকে মনে হয় সাগর পাড়ি দিয়ে মনপুরা যাচ্ছি। সি-ট্রাক থাকলে ঝুঁকিটা কম থাকে। কিন্তু ট্রলারে এই নদী পাড়ি দেওয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ। দুই মাস ধরে সি-ট্রাক বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির কোনো ভূমিকা নেই। এতে বোঝা যায় বিআইডব্লিউটিসি তাদের দায়িত্ব পালন করছে না।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিসি কি তাদের ইচ্ছামতো এটি চালু করবে, নাকি এই রুটে দুর্ঘটনায় কয়েকটি মৃত্যু হলে তারপর সি-ট্রাক চালু হবে? ‘তাদের উচিত এটি পরিষ্কার করা।’

যাত্রী মিজানুর রহমান ও মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘এটি চরম অবহেলা যে দুই মাস ধরে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ আছে। অথচ বিআইডব্লিউটিসি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এটা পরিষ্কার বিআইডব্লিউটিসি মনপুরা ও তজুমদ্দিন রুটের যাত্রীদের সঙ্গে চরম স্বেচ্ছাচারিতা করছে।’

“মনপুরা উপজেলায় নিরাপদ যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সি-ট্রাক। কিন্তু এভাবে যদি দিনের পর দিন বন্ধ থাকে, তাহলে যাত্রীরা কীভাবে নিরাপদে যাতায়াত করবেন? এই রুট তো ‘ডেঞ্জার জোন’। এখন ট্রলারে যাতায়াত করতে নিয়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে অনেক যাত্রীর প্রাণহানি হবে। তখন এর দায়ভার কে নেবে?”

‘সি-ট্রাকে সময় লাগতো দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। আর ট্রলারে সময় লাগে ৩-৪ ঘণ্টা। এতে আমাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে’ ‘যোগ করেন এই দুই যাত্রী।

ভোলা সদরে বাড়ি জামাল উদ্দিন ও হারুন মিয়ার। তারা দুজনই আদালাভাবে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এজন্য প্রতিনিয়ত তাদের মনপুরা যেতে হয়।

তারা বলেন, “মনপুরা উপজেলায় নিরাপদ যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সি-ট্রাক। কিন্তু এভাবে যদি দিনের পর দিন বন্ধ থাকে, তাহলে যাত্রীরা কীভাবে নিরাপদে যাতায়াত করবেন? এই রুট তো ‘ডেঞ্জার জোন’। এখন ট্রলারে যাতায়াত করতে নিয়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে অনেক যাত্রীর প্রাণহানি হবে। তখন এর দায়ভার কে নেবে?”

ভোলার চরফ্যাশনে বাড়ি আনোয়ারা বেগমের। তার মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন মনপুরায়। মেয়ে অসুস্থ শুনে মনপুরার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন। চরফ্যাশন থেকেও মনপুরা যাওয়া যায়। কিন্তু সেখানে কোনো নিরাপদ নৌযান না থাকায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা তজুমদ্দিন এসেছেন সি-ট্রাকে করে যাওয়ার জন্য। কিন্তু এখানে এসে দেখেন সি-ট্রাকটি বন্ধ রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে ট্রলারে করে যেতে হবে। তবে যাত্রাপথে তার ভয় নদীর ঢেউ।

মালেকা বেগম বলেন, ‘মনপুরা থেকে ট্রলারে করে তজুমদ্দিন ঘাটে এসেছি। তবে পুরো যাত্রাপথে আতঙ্কে ছিলাম। বড় বড় ঢেউয়ে ট্রলার কাঁপছিল। মনে হচ্ছিল এই বুঝি ডুবে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ও মেয়ে নিয়ে মনপুরা থেকে এসেছি। জীবনে আর কখনো ট্রলারে যাতায়াত করবো না। যদি সি-ট্রাক বন্ধ থাকে, তারপরও আর ট্রলার দিয়ে যাত্রা নয়। আমাদের জীবনের মূল্য আছে।’

যাত্রী নুর ইসলাম ও ইব্রাহীম জানান, মনপুরা-তজুমদ্দিন রুটে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক যাত্রী যাতায়াত করেন। অথচ কারো কারণ ছাড়াই মাঝে মধ্যে সি-ট্রাক বন্ধ থাকে। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির যেন কোনো মাথাব্যথা নেই।

অবৈধ ট্রলার চলাচলের বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ভোলা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় জানান, মনপুরা-তজুমদ্দিন রুটটি ‘ডেঞ্জার জোন’। বর্তমানে ডেঞ্জার জোন চললে। সেখানে সি-ট্রাক বন্ধ থাকায় ট্রলার চলছে কি-না সে বিষয়ে জানা নেই। বিষয়টির খোজখবর নেওয়া হবে। যদি ট্রলার চলে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এতদিন কেন খোঁজখবর নেননি-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাকে কেউ জানাননি।

বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান বলেন, আগের ইজাদারের মেয়াদ শেষ হয় এপ্রিল মাসের শেষের দিকে। এর আগে সি-ট্রাকটি নষ্ট হয়ে যায়। পরে

মনপুরা-তজুমদ্দিন: বন্ধ সি-ট্রাক, ‘ডেঞ্জার জোনে’ যাতায়াতে ভরসা ট্রলার

ডেস্ক প্রতিবেদন ::

১৬ বছর আগে ফরিদপুরে জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা থেকে প্রায় কোটি টাকা লুট হয়। এ ঘটনায় চুরির অভিযোগে করা মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত বছর খালাস পান ব্যাংকটির তৎকালীন নিরাপত্তাপ্রহরী পরেশ চন্দ্র দাস। তবে এই মামলায় হাইকোর্টে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগেই তিনি মারা যান।

একই ঘটনায় মানি স্যুটের (অর্থ উদ্ধারের জন্য দেওয়ানি মামলা) পরিপ্রেক্ষিতে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা প্রথম আপিল খারিজ করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট। বিবাদীদের (পরেশের পরিবার) প্রতি হয়রানি–ভোগান্তির জন্য হাইকোর্ট আপিলকারীকে (জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ) ক্ষতিপূরণমূলক খরচবাবদ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে নির্দেশ দেন। আর পুরো এই অর্থ পরেশের পরিবারের সদস্যের অনুকূলে পরিশোধ করতে বলা হয়।

নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে জনতা ব্যাংকের ফরিদপুর করপোরেট শাখার ভল্ট থেকে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯০ টাকা চুরি বা লুট হয়। তখন নিরাপত্তাপ্রহরী পরেশের বয়স ছিল ৫০ বছর। ঘটনার পরদিন ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এই মামলায় পরেশকে গ্রেপ্তার করা হয়, পরে তিনি জামিন পান।

চুরির অভিযোগে করা ফৌজদারি এই মামলা বিচারাধীন অবস্থায় জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা উদ্ধারের জন্য ২০১৩ সালের ৪ আগস্ট ফরিদপুরের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মানি স্যুট করেন। তিন বছর পর ২০১৬ সালের ২৯ জুন আদালত তা খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আদালত ১০ হাজার টাকা খরচা আরোপ করেন জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি।

বিচারিক আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে হাইকোর্টে আপিল (প্রথম আপিল) করে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এই আপিল খারিজ করে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩ ফেব্রুয়ারি রায় দেনহাইকোর্টের রায়ে ১০ হাজার টাকা খরচা আরোপের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণমূলক খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, চাঞ্চল্যকর এই মামলায় ৯৪ লাখের বেশি অর্থ লুটের অভিযোগ করা হয়। ব্যাংকের ভল্ট খোলার বিষয়ে কোনো অর্থপূর্ণ তদন্ত না করে কেবল ১ নম্বর বিবাদীসহ (পরেশ) দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ভল্টটি কীভাবে খোলা হয়েছিল, তা নির্ণয়ে পুলিশ কার্যকর কোনো তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি দুর্ভাগ্যজনক যে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুট হওয়া সত্ত্বেও প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ অন্যান্য ব্যক্তির ভূমিকা যথাযথভাবে তদন্ত না করে শুধু ১ নম্বর বিবাদীকে (পরেশ) জড়িত করেছে। বিশেষ করে ভল্টের চাবি যাঁদের হেফাজতে ছিল এবং পিকনিক থেকে ফিরে ঘটনার দিন ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে যাঁরা আবার ব্যাংকে প্রবেশ করেছিলেন, তাঁদের বিষয়ে। এতে এমন যুক্তিসংগত আশঙ্কা তৈরি হয় যে প্রকৃত অপরাধীদের আড়ালের উদ্দেশ্য ছিল।

প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থ

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, কর্তৃপক্ষ এই আপিল শুধু ১ নম্বর বিবাদীকে (পরেশ) অপরাধী হিসেবে প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে করেছে, যেখানে অন্যদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা উপেক্ষা করা হয়েছে। এ ধরনের আচরণ আদালতের কার্যপ্রণালির অপব্যবহারের শামিল। ফলে খরচাসহ আপিলটি (জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা) খারিজ করা হলো।

আদালতে পরেশের পরিবারের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। গত সোমবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হয়রানি ও ভোগান্তির জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ পরেশের পরিবারকে সব মিলিয়ে ৬০ হাজার টাকা দিতে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। চুরি বা লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারের জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা চলে না বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে এসেছে। চুরি বা লুটের অভিযোগে অর্থ উদ্ধারে মূল মামলাটি ভ্রান্ত ধারণাপ্রসূত ও গ্রহণযোগ্য নয় রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে আপিলটি খারিজ করা হয়েছে। যাঁদের হেফাজতে ভল্টের চাবি ছিল, তাঁদের ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলায় আসামি বা পক্ষ করা হয়নি। শুধু একজন নিরাপত্তাপ্রহরীকে জড়ানো হয়েছে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য। তাই জনতা ব্যাংকের এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া দরকার।

আদালতে জনতা ব্যাংকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. আরিফ বিল্লাহ ও মো. জামিল আনোয়ার। আইনজীবী আরিফ বিল্লাহ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি এখনো হাতে আসেনি। অনুলিপি পাওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চুরির অভিযোগে করা এই মামলায় ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রায় দেন। রায়ে পরেশকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি দিয়েছিলেন পরেশ। জবানবন্দির ভাষ্য, ২০১০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি ব্যাংকে ঘুমিয়ে থাকেন। গভীর রাতে আসামিরা এসে তাঁর গলায় ছোরা ধরে তাঁকে চুপ থাকতে বলেন। আসামিদের মধ্যে তপু ও জাহিদ ছিলেন। তাঁরা ব্যাংকের সামনে এসে ঘোরাঘুরি করতেন। তাঁরা তাঁকে চা–চটপটি খাওয়াতেন। তাঁরা বলতেন, ব্যাংকে একটি হিসাব খুলবেন। তারপর ঘটনার দিন তাঁরা আসেন। তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা দেন। এই টাকা তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার করতে বলেন। পুলিশ তা উদ্ধার করে।

অবশ্য নথিপত্রে দেখা যায়, মামলা তদন্তের পর পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে জাহিদের নাম আসেনি। তপু ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রায়ে খালাস পান।

ফৌজদারী মামলায়ও খালাস

বিচারিক আদালতের রায়ের পর দায়রা আদালতে আপিল করেন পরেশ। ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের দায়রা আদালত রায় দেন। রায়ে পরেশের সাজা কমে দুই বছরের কারাদণ্ড হয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন আবেদন করেন পরেশ। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ে পরেশকে দায়রা আদালতের দোষীসাব্যস্ত করা ও সাজা বাতিল ঘোষণা করা হয়। ফলে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পান তিনি। হাইকোর্টের রায় ঘোষণার আগে ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই মারা যান পরেশ।

পরেশের মৃত্যুর পর অর্থ উদ্ধার মামলায় জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা প্রথম আপিলে বিবাদী হিসেবে তাঁর স্ত্রী রিতা রানী দাস, ছেলে প্রণব কুমার দাস ও মেয়ে লিপি রানী দাস ২০২৫ সালের ২৬ মে পক্ষভুক্ত হন।

আইনি প্রক্রিয়ায় ১৬ বছর কেটে গেছে বলে উল্লেখ করেন পরেশের ছেলে প্রণব কুমার দাস। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে বাবাসহ আমাদের আমাদের পরিবারকে অনেক ভোগান্তি ও হয়রানি পোহাতে হয়েছে। সামাজিকভাবেও হেয় হতে হয়েছে। আইনি লড়াই চলার মধ্যেই বাবা মারা যান। প্রকৃত অপরাধীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। বাবা নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। তবে তিনি রায়টা দেখে যেতে পারেননি, যা আমাদের কষ্ট দেয়।’

ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন পরেশের চাকরির প্রায় দুই যুগ হয়েছিল বলে জানান প্রণব কুমার দাস। তিনি বলেন, ‘বাবা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর চাকরি–পরবর্তী প্রাপ্য সুবিধা আমাদের পরিবারকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে, এটাই প্রত্যাশা।’

 

ভল্ট থেকে কোটি টাকা লুটের মামলায় নির্দোষ পরেশ : রায় দেখে যেতে পারেন নি জীবদ্দশায় 

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
নগরীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত। পালিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা ও দোয়া-মিলাদ মাহফিল। বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪ র্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়ন ও আউটসোর্সিং কর্মচারীদের যৌথ উদ্যোগে রোববার বাদ জোহর শেবাচিম হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুফতি মাওঃ হাফেজ আসাদুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আউটসোর্সিং কর্মচারীদের প্রাণ ও শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ৪ র্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়ন এর সভাপতি রাব্বি আল মামুন ফয়সাল, মোঃ সোয়েব, মোঃ আলী,মোঃ শরীফ,মোঃ রাকিব,মোঃ রাসেল প্রমুখ। দোয়া অনুষ্ঠানে তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

বরিশাল নগরীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। জিয়াউর রহমান মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভোলা জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) সকালে জেলা বিএনপির সকল অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা কাল ব্যাচ ধারন করে। পরে একটি শোক বের হয় শহরে শোক র‌্যালি বের হয়। শোক র‌্যালিটি জেলা বিএনপির কার্যলয় থেকে বেড় হয়ে শহর প্রদক্ষিন করেন জেলা বিএনপির কার্যলয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব রাইসুল আলম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হায়দার আলী লেলিন,ভোলা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ ট্রুম্যান, হুমায়ুন কবির সোপান, তরিকুল ইসলাম কায়েদ, নির্বাহী সদস্য আমিনুল ইসলাম, ইয়ারুল আলম লিটন, ‎সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসিফ আলতাফ ও সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন, ভোলা জেলা যুব দলের সভাপতি জামাল উদ্দিন লিটন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর কাদের সেলিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মাসুদ, সদস্য সচিব মুনতাসীর আলম রবিন চৌধুরী, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শহিদুল আলম মানিক, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন তালুকদার এবং জেলা কৃষক দলের সভাপতি আব্দুর রহমান সেন্টু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল রাসেল, সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ রুবেলসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আবদুল লতিফ টিটু,সদস্য সচিব মো. বেলাল হোসেন সহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরাসহ দলের বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে হত্যার শিকার হন তিনি।

ভোলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
একদিকে গরম আর অন্যদিকে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের তামাশায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে ভোলাবাসী। কারণে-অকারণে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকা ও ওজোপাডিকো’র খামখেয়ালিপনা এবং জবাবদিহি না থাকায় দিনে দিনে বিদ্যুতের চরম অব্যবস্থপনার সৃষ্টি হয়েছে বলে বলছেন গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ না থাকলেও রয়েছে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিল। প্রচন্ড গরমের মধ্যেই বিদ্যুৎ বন্ধ করে চলে সংরক্ষণ ও নানা মেরামতের কাজের অযুহাত। নোটিশ দিয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখলেও প্রতিনিয়ত ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ফুসে উঠছে গ্রাহকরা ও ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ভোলার বিভিন্ন খাদ্য উৎপাদনকারী মিল-কারখানায় উৎপাদনে নেমে এসেছে ধ্বস। এ দায় কার ?

জেলায় চাহিদার চেয়ে কয়েকগুন বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। দিনে ও রাতে বিদ্যুতের এমন অবস্থায় বিপর্যস্ত জনজীবন। তবে সবচেয়ে বেশী সমস্যায় পড়ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার মালিকরা।
ভোলা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক এবং বিসিক শিল্প নগরীর খাঁন ফ্লাওয়ার মিলসের মালিক জামাল খাঁন বলেন, বর্তমানে বিদ্যুতর তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে, যার ফলে আমাদের উৎপাদন বিঘ্ন হচ্ছে। ভোলার ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী জহির ও মিজান বলেন, আমাদের ব্যবসা বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে অস্বাভাবিক লোডশেডিং। যার ফলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা দুস্কর হয়ে পড়েছে।
অভিযানের নামে কোন নোটিশ প্রদান ছাড়াই আবাসিক গ্রাহকদের বাণিজ্যিক হারে বিল ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। অথচ গ্রাহক প্রতি মাসে বিল পরিশোধ করে আসছে। নোটিশ ছাড়াই কেটে দেয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগ। এমন হাজারো অভিযোগের মধ্যেও বিদ্যুৎ বিলকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে গ্রাহকদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে ওজোপাডিকো’র কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, জেলার সাত উপজেলার মধ্যে ৬ উপজেলায় ৫ লাখের অধিক গ্রাহক ওজোপাপিকো ও পল্লি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। এ জেলায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা ওজোপাডিকোর ২২-৩০ মেগাওয়াট এবং পল্লিবিদ্যুতের ৭০-৯০ মেগাওয়াট। এ চাহিদার বিপরীতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্ট থেকে উৎপাদন হচ্ছে ২২৫ মেগাওয়াট। যা জাতীয় গ্রীডে সরবরাহ করা হচ্ছে, সেই গ্রীড থেকে পুনরায় ভোলায় সরবরাহ হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুতের সমিতির আওতায় পুরো জেলায় ৪ লাখ ৩৮ হাজার গ্রাহক থাকলেও চাহিদা অনুযায়ি বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে না। জাতীয় গ্রীড থেকে পর্যপ্ত সরবরাহ না হওয়ার ফলে বাধ্য হয়েই কয়েক ঘন্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম শাহ মোঃ রাজ্জাকুর রহমান বলেন, চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম পেলে আমাদের বাধ্য হয়ে লোডশেডিং রাখতে হচ্ছে, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী চরফ্যাশন লোডশেডিং। এদিকে বিদ্যুৎ সমস্যার দ্রুত সমাধান চান ভোলাবাসী।
জানা গেছে, গত এক মাসের বেশী সময় ধরে কখনও ৩৪ ডিগ্রী কখনও বা ৩৫ ডিগ্রী তাপমাত্রা উঠা নামা করায় প্রচন্ড তাপদাহ বিরাজ করছে উপকূলীয় জেলায় ভোলায়। এতে জনজীবনে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। এরমধ্যে আবার বিদ্যুতের লোডশেডিংয় ভোগান্তির মাত্রা যেন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ছোট বড় ব্যবসায়ীরা। শুধু তাই নয়, চরম দুর্ভোগে পড়েছে শ্রমজীবি মানুষগুলো। বিপাকে পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ীরাও।
ভোলায় বিদ্যুৎ সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন (ওজোপাডিকো) কোম্পানি লিমিটেড এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইউসুফ দায়সারা বক্তব্য দিয়ে বলেন, আমাদের পিকআওয়ারে চাহিদা ৩০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু জাতীয় গ্রীড থেকে সরবরাহ হচ্ছে গড়ে ১৭-১৮ মেগাওয়াট, যার ফলে গড়ে ৩/৪ ঘন্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

ভোলায় বিদ্যুতের তামাশায় অতিষ্ঠ জনজীবন : ওজোপাডিকো নিরব, ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা সদর উপজেলায় জেলেদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত “খাদ্য কর্মসূচি” প্রণোদনা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত পেশাজীবী জেলেরা বঞ্চিত হলেও তালিকায় স্থান পেয়েছে অপেশাদার ও তুলনামূলক সচ্ছল ব্যক্তিরা।

গত ১লা মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৬০ দিনের মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা চলাকালে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ দেয়। ভোলা সদর উপজেলায় প্রায় ২৪০০ জেলের জন্য জনপ্রতি ১২ কেজি আটা, ৮ কেজি ডাল, ১০ লিটার তেল, ১৬ কেজি আলু, ৪ কেজি চিনি ও ৪ কেজি লবণ বরাদ্দ ছিল।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পুরো জেলায় প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার জেলে এই সহায়তার আওতায় আসার কথা। গত ২৪ এপ্রিল সকালে ভোলা সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, মৎস্য অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিজেদের আত্মীয়-স্বজনসহ অপ্রকৃত জেলেদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাদের মধ্যে এই খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

ভোলা সদরের রাজাপুর, পূর্ব ইলিশা, ধনিয়া, শিবপুর, ভেদুরিয়া ও ভেলুমিয়া ইউনিয়নের বহু প্রকৃত জেলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অথচ তারা এই সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। শিবপুর ইউনিয়নের হতদরিদ্র জেলে মো. জামাল মাঝি, মো. আমানউল্লাহ মাঝি, মো. আজিজুল মাঝি ও মো. হারুন মাঝি (প্রতিবন্ধী)সহ অনেকেই জানান, তালিকা প্রণয়নের সময় তাদের জেলে কার্ড সংগ্রহ করা হলেও চূড়ান্ত তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

অন্যদিকে, তালিকায় স্থান পাওয়া অনেকেই জেলে পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। অভিযোগ রয়েছে, মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী মো. ইউসুফের সহায়তায় তার আপন দুই চাচা ‘রাজমিস্ত্রী আ. রব ও ব্যবসায়ী মো. আবদুল মালেক’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে খাদ্য সহায়তা গ্রহণ করেছেন।

অথচ “অফিস সহকারী” ইউসুফ জানায়, তার দুই চাচার নাম কীভাবে তালিকায় আসছে এটা সে জানেনা এবং তারা কোন পেশায় নিয়োজিত সেটাও সে জানেনা।

এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে অভিযোগ করেন, মৎস্য অফিসের স্টাফ মো. জাফর তার শ্বশুর, ভায়রা ভাই, পিতা এবং নিজের নাম একাধিক এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অর্ধশতাধিক অপেশাদার জেলেদের মালামাল সংগ্রহ করিয়ে দেয়। এসমস্ত ঘটনার একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীও এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এবং যেসমস্ত জেলেদের নাম তালিকায় টিকেছে সেগুলোর অনলাইনের কাজ করবে বলে তাদের অধিকাংশের কাছ থেকে ২০০,৩০০ এবং ৫’শ টাকা করে নিয়েছে এই জাফর।

এই জাফরের বিরুদ্ধে এরপূর্বেও একগাদা অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত বহু লোকের জেলে কার্ড পাইয়ে দেওয়া। নিষিদ্ধকালীন সময়ে টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীকে নদীতে মাছ শিকার সুযোগ করে দেয়। এতো এতো অভিযোগ থাকার পরও তার বিরুদ্ধে মৎস্য অফিসের দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, তার খুঁটির জোড় কোথায়?

অভিযোগের বিষয়ে রিভারগার্ড মো.জাফর টাকা নেওয়ার ব্যাপারটি অস্বীকার করে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন।

এবিষয়ে সদর উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্য ও জেলে সমিতির সভাপতি মো. গিয়াসউদ্দিন বলেন, আমরা সর্বপ্রথম প্রকৃত জেলেদের একটা খসড়া তালিকা করি কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো এই তালিকা নেওয়ার সময় আমাদের সাথে কোনো পরামর্শ না করে মৎস্য অফিসের স্টাফ জাফর, মামুন এবং এরশাদরা মিলে অধিকাংশ অপেশাদার জেলেদের নাম নিয়ে চুড়ান্ত তালিকা প্রনয়ণ করে। বিশেষ করে শিবপুর ইউনিয়নে ২৭০ টি নামের জন্য জাফর ২’শ,৩’শ, ৫শ এবং ১ হাজার টাকা করে নিয়ে চাকুরীজীবি,ব্যবসায়ী,শিক্ষক এবং কাঠমিস্ত্রীসহ অন্য পেশার মানুষের নাম নিয়েছে।

এদিকে হাজারো প্রকৃত জেলেদের ভাগ্যে প্রণোদনার এই মালামাল জোটেনি অথচ চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছেন তারা। তাদের এই দুরবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবগত কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বেদে সম্প্রদায়ের একজন মহিলা জেলে সেদিন বুক ফুপিয়ে কেঁদে কেঁদে বলে, ঐ স্যার (মৎস্য অফিসার) আমারে মালামাল দিব কইয়া দিল না! আমার স্বামীর অসুখ আইজ অনেকদিন, আমার নায়ে কোনো খায়ন নাই। আল্লায় ঐ স্যারের বিচার করুক।

এরকম শতশত পেশাদার নিরীহ জেলেদের অভিযোগ, মৎস্য অফিসের স্টাফরা তাদের আত্মীয় স্বজন,বন্ধু-বান্ধব এবং তাদের বিভিন্ন ব্যবসায়ীক সুযোগ সুবিধার্থে এসমস্ত মালামাল বন্টন করেছেন।

এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ভূঁইয়া বলেন, “আমরা তড়িঘড়ি করে তালিকা প্রস্তুত করার সময় অনাকাক্সিক্ষতভাবে কিছু অপেশাদার জেলের নাম যুক্ত হয়েছে। এ জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।”

তিনি আরও বলেন, চুড়ান্ত তালিকা আসার পর বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে নেতারা তাকে প্রভাবিত করে একাধিক নাম বাদ দিতে বাধ্য করেছে এবং তাদের নিজেদের নেতাকর্মীদের নাম অর্ন্তভুক্ত করে শতাধিক নামের মালামাল নিয়েছেন। এবং জাফরের টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ¯পষ্ট প্রমাণ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিব। তার নামে যে জেলে কার্ড রয়েছে এটা আমার জানা নেই যদি থাকে তাহলে আমরা সেটা বাতিল করবো।

সুশীল সমাজ বলেন, মৎস্য অফিসের মাধ্যমে সঠিক তদন্তের অভাবে এধরণের গোলমাল হয়েছে। তাদের উচিত ছিল সরেজমিনে গিয়ে প্রকৃত নিরীহ পেশাদার জেলেদের তালিকা প্রস্তুত করা। ভবিষ্যতে এরকমটা হলে প্রকল্পের কাঙ্খিত ফলাফল আসবে না।

ভোলায় জেলেদের সরকারি খাদ্য প্রণোদনায় অনিয়মের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ঈদুল আজহায় নৌপথে ঘরমুখী মানুষের ভিড় বাড়ছে। রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ১৭২টি লঞ্চে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসে লঞ্চ সংখ্যা দ্বিগুণ বাড়িয়ে রোববার থেকে যাত্রী পরিবহনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ভাড়া কমিয়ে নির্বিঘ্নে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করছেন লঞ্চ মালিকরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের ঈদে যাত্রীচাপ সামাল দিতে বেশ আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে করতে সদরঘাট টার্মিনালে ১৭২টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়। এই টার্মিনাল থেকে দক্ষিণবঙ্গের ২১টি জেলার সাধারণ সময়ে যেখানে ৫০ থেকে ৫৫টি লঞ্চ চলাচল করে, সেখানে ঈদের সময় অতিরিক্ত লঞ্চ যুক্ত করা হয়েছে।

রোববার সরেজমিন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঈদে সরকারি ছুটি শুরুর আগের দিন সকাল থেকেই সেখানে যাত্রীরা আসতে শুরু করেন। বিভিন্ন লঞ্চে করে তারা নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার পর যাত্রীদের আনাগোনাও বাড়ছিল। আজ সোমবার থেকে এই ভিড় আরও বাড়বে। ঈদের আগের দিন ২৭ মে পর্যন্ত ঘরমুখী মানুষের ভিড় থাকবে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।

স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে সন্ধ্যায় সপরিবারে লঞ্চযোগে ভোলার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন গুলিস্তানের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মনোয়ার হোসেন। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ভোলার ইলিশাগামী ‘এমভি টিপু-৬’ লঞ্চে উঠেছেন তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। লঞ্চেই সদরঘাট হয়ে ইলিশা পর্যন্ত যাবেন তারা।

ঢাকা-বরিশাল-ঢাকা রুটে চলাচলকারী পারাবত-২ লঞ্চের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমন বলেন, যাত্রীদের সুবিধার্থে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও ভাড়া কম নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কেবিন ভাড়া অনেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটি সিঙ্গেল কেবিনের সরকার নির্ধারিত ভাড়া এক হাজার ৭১৬ টাকা হলেও তা এক হাজার ২০০ টাকায় দেওয়া হচ্ছে। ডেক ও ডাবল কেবিনের ভাড়াও উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে।

এদিকে ঘরমুখী মানুষের সর্বাত্মক সুবিধা নিশ্চিতে সতর্ক দেখা গেছে বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও। গত ঈদুল ফিতরে দুটি অনাকাক্সিক্ষত লঞ্চ দুর্ঘটনার কারণে এবার কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছিল- চলন্ত বা নোঙর করা লঞ্চে নৌকা কিংবা ট্রলার থেকে যাত্রী ওঠানামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। লঞ্চের পেছন বা পাশ দিয়ে এবং নদীর মাঝপথে ট্রলার বা নৌকা ভিড়ানোও যাবে না। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

এদিকে, নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পন্টুনের আশপাশ থেকে নৌকা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি পন্টুন এলাকায় নৌপুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। সদরঘাটের ১ থেকে ২৫ নম্বর পন্টুন পর্যন্ত নৌপুলিশের চারটি টহল টিম দায়িত্ব পালন করছেন। নৌকা যাতে টহল ভেঙে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এ ছাড়া হকারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত, ফ্রি কুলি সেবা চালু এবং ওয়াচ টাওয়ার থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই যাত্রী পূর্ণ হলে লঞ্চ ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কোনো লঞ্চ চলাচল করতে পারবে না।

বিআইডব্লিউটির ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ন পরিচালক মোবারক হোসেন জানান, গত ঈদের মতো এবারের ঈদেও ঘরমুখী যাত্রীদের নির্বিঘœ যাত্রা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়ের নির্দশনাগুলো বাস্তবায়নে সদরঘাটে সকল অংশীদারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তারা। এখান থেকে নৌপথের বিদ্যমান ৩৮টি রুটেই লঞ্চ চালানোর সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবারের ঈদযাত্রাকে ঘিরে ১৭৫টি লঞ্চের সময়সীমা ঠিক করা হয়েছে।

শুরু হলো বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসও

রোববার থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলা লঞ্চঘাট (ল্যান্ডিং স্টেশন) এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল কাঞ্চন ব্রিজ সংলগ্ন শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকেই বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস শুরু হয়। এই বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ঈদুল ফিতরে এই দুটি নতুন ঘাট থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালু হয়েছিল। যাত্রী চাহিদা থাকায় এবারও সেটা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া গত ঈদুল ফিতরে বছিলা ঘাট থেকে ছয়টি নৌপথে ছয়টি লঞ্চ দিয়ে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস পরিচালনা করা হলেও এবার ১২টি লঞ্চ দিয়ে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে শিমুলিয়া ঘাট থেকে আগের মতোই দুটি লঞ্চ ও একটি ফেরি চলাচল করবে। এ ছাড়া বছিলা লঞ্চঘাট থেকে কেবল ঈদের সময় নয়, সারাবছরই দুইটি লঞ্চের চলাচল অব্যাহত রাখার পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

সরেজমিন বছিলা লঞ্চঘাট ঘুরে যাত্রীদের পাশাপাশি এলাকার মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেল। গত ঈদুল ফিতরের মতো এবারও বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস শুরুর প্রথমদিনে যাত্রীর ভিড় তেমন একটা ছিল না। লঞ্চঘাটের পন্টুনে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসের লঞ্চগুলো নোঙর করে যাত্রীদের ওঠানো হচ্ছিল। প্রবেশমুখে কন্ট্রোল রুম এবং যাত্রী বিশ্রামাগারকে ঘিরেও নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর স্টাফদের মোতায়েন করা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর শুল্ক আদায়কারী কর্মকর্তা ইনসানুর রহমান জানান, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের ওপর চাপ কমাতেই ঈদুল ফিতরে বছিলায় নতুন এই ঘাট চালু করা হয়েছিল। এবারও সেই সুবিধা অব্যাহত রাখা হয়েছে। মোহাম্মদপুর, বছিলা, ধানমন্ডি, গাবতলী, আশুলিয়া ও সাভার এলাকার যাত্রীরা সদরঘাট না গিয়ে এই ঘাট দিয়ে নৌপথে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন।

নৌপথে ভিড় বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
চার বছর ধরে বিদ্যুৎ নেই ভোলার দৌলতখানের মদনপুর চরে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ভোলা সদরের তুলাতুলি থেকে তিনটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয় ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

কিন্তু মেঘনায় চলাচলকারী বড় নৌযানের অপরিকল্পিত নোঙরের কারণে ছয় মাসের মধ্যেই তিনটি কেবল ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর চার বছর কেটে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। বর্তমানে নজরদারির অভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ লাইনের তার ট্রান্সফরমারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চুরি হয়ে যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার পর চরের শত শত গ্রাহক টিভি ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কিনেন; যা বিদ্যুতের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ আনতে গিয়ে খরচ করতে হয়েছে গ্রাহকপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। বর্তমানে বিদ্যুৎ না পেয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে গ্রাহকরা।

উপজেলার মদনপুর চরের বাসিন্দা ভুট্টু মাঝি জানান, টানা চার বছর ধরে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে তারা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। নিম্নমানের সংযোগের কারণে বাসাবাড়ির ফ্যান, লাইট, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে গ্রাহকদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলার মদনপুর চরের ব্যবসায়ী মো. নাছির জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তার দোকানের ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক্যাল পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

মদনপুর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হেলাল জানান, এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে একাধিকবার গিয়েও কোনো ফলাফল পাননি। তিনি বিষয়টি ভোলা জেলা প্রশাসকের সহায়তা কামনা করেন।

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শাহ মোহাম্মদ রাজ্জাক রহমান জানান, এ বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। ভোলার দুই চরে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রকল্পে ব্যয় হয় প্রায় ১০ কোটি টাকা।

৪ বছর ধরে বিদ্যুৎ নেই দৌলতখানের মদনপুরে

নিজস্ব প্রতিবেদক ::
বরিশালের নগরীর দপদপিয়া ব্রীজ দক্ষিণ দিকে এ্যাংকর সিমেন্ট এর আগে সড়ক বিভাগের জায়গায় যুবদল নেতা শাহিন হাওলাদার এর বিরুদ্ধে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটিকে কাজে লাগিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৪-২৫ নং ওয়ার্ড এর মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া দপদপিয়া খেয়াঘাট রাস্তার গ্যাস্টার বাইন সড়কের মুখে বনিক বাজারের প্রোপ্রাইটর শাহিন হাওলাদার ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক পরিচয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তা দখল করে দোকান ঘর উত্তোলন করছেন। তবে শাহীন হাওলাদারের দাবী নতুন স্থাপনা নির্মাণের স্থলে আগে তার একখানা ঘর ছিল যা ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে দোকান ঘর নির্মাণ করছেন। তিনি আরো জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের এ রাস্তাটি দপদপিয়া খেয়াঘাট এর দিকে চলে যাওয়ায় বেশী যানবাহন চলাচল করে না। তিনি একা নন, সড়কের পাশে পাশাপাশি অনেকেই দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। সরকার চাইলে তিনি তার স্থাপনা সরিয়ে নেয়ারও ইঙ্গিত দেন। তবে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অনেক পুরোনো বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে জানতে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য নেয়ার জন্য ফোন দেয়া হলে তিনি রোববার বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

বরিশাল নগরীতে সড়ক বিভাগের জায়গায় যুবদল নেতার বিরুদ্ধে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ 

 

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা নিয়ে নির্মিত হচ্ছে নতুন প্রামাণ্যচিত্র ‘অস্তিত্বের লড়াই’। ১৯৭০ সালে ভোলায় ঘটে যাওয়া ভয়াল প্রাকৃতিক দুর্যোগকে কেন্দ্র করে এটি নির্মাণ করেছেন ‘প্রেমের তাজমহল’খ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক গাজী মাহবুব। সম্প্রতি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) দৃশ্যধারণের কাজ শেষ হয়েছে।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়ের তুমুল জনপ্রিয় নায়িকা পূর্ণিমা। অভিনয় আর সৌন্দর্য গুণে দীর্ঘ সময় দর্শকদের হৃদয়ে রাজত্ব করেছেন। যদিও গত কয়েক বছর ধরে অভিনয়ে অনেকটাই অনিয়মিত এই অভিনেত্রী। মাঝে কয়েকটি সিনেমায় কাজ করলেও সেগুলোর মুক্তির খবর নেই। নাটকেও দেখা যায়নি দীর্ঘকাল। হঠাৎ সচেতনতামূলক একটি প্রামাণ্যচিত্রে অংশ নিয়ে আলোচনায় পূর্ণিমা।
জানা গেছে, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মানবসুর উন্নয়ন সংস্থার (মাউস) উদ্যোগে নির্মিত হয়েছে প্রামাণ্যচিত্রটি। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভুর গ্রন্থণা ও পরিকল্পনায় নির্মিত কাজটির নাম রাখা হয়েছে ‘অস্তিত্বের লড়াই’।
প্রামাণ্যচিত্রে কাজের বিষয়ে পূর্ণিমা বলেন, কাজটির ভাবনা আমার খুব ভালো লেগেছে। মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ববোধ থেকেই এতে যুক্ত হয়েছি। আমি সবসময় ভালো ও ইতিবাচক কাজের সঙ্গে থাকতে চাই।
নির্মাতা গাজী মাহবুব জানান, প্রামাণ্যচিত্রটিতে উঠে আসবে ১৯৭০ সালের ভয়াবহ বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মর্মান্তিক স্মৃতি। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বর্তমান বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি এবং এ থেকে উত্তরণের করণীয় বিষয়গুলোও তুলে ধরা হবে।
মানবসুর উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে ‘জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রামাণ্যচিত্রটি প্রদর্শন করা হবে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিদের দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়া হবে। পরবর্তীতে এটি অনলাইনেও প্রকাশ করা হবে বলেও জানান গাজী মাহবুব।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য সংস্থাটির ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন নির্বাহী কর্মকর্তা সোহরাব লাভু। প্রামাণ্যচিত্রটিতে পূর্ণিমার পাশাপাশি আরো অংশ নিয়েছেন কাজী হায়াৎ, শিবা শানু, তানহা তাসনিয়া, শিরিন শিলা, মৌ খান, জয় চৌধুরী প্রমুখ।

ভোলায় ৭০’র ভয়াবহ বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় নিয়ে নির্মিত হচ্ছে প্রামান্যচিত্র “অস্তিত্বের লড়াই”

খুঁজুন

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

অন্যান্য সংবাদ

খেলাধুলা

অন্যান্য সংবাদ

বিনোদন

অন্যান্য সংবাদ

লাইফস্টাইল

অন্যান্য সংবাদ

শিক্ষা