শিরোনাম :
ভোলা সহ ১৬ পাসপোর্ট অফিসে ‘অদৃশ্য’ রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং : ব্যয়ের হিসাব থাকলেও মিলেনি বাস্তব প্রমাণ ভোলায় আধুনিকায়নকৃত ১০ শয্যার পুলিশ লাইন্স হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন ভোলাসহ ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু! কৃষিতে এক সম্ভাবনাময় সম্পদ : চায়ের বর্জ্য থেকে জৈব সার ভোলায় ৪ বছর ধরে জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ, অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিপাকে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন রাজনীতির বরপুত্র : ভোলাবাসীর অভিভাবক শিশু বিভাগ ও হাম রোগীদের সামলাচ্ছেন এক চিকিৎসক ॥ রোগীদের নানা অভিযোগ মনপুরা-তজুমদ্দিন: বন্ধ সি-ট্রাক, ‘ডেঞ্জার জোনে’ যাতায়াতে ভরসা ট্রলার ভল্ট থেকে কোটি টাকা লুটের মামলায় নির্দোষ পরেশ : রায় দেখে যেতে পারেন নি জীবদ্দশায় 

আন্তর্জাতিক

রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

বাবা-মা’র কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় সায়িত হয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মঙ্গলবার (২জুন) বিকাল ৪টা ১০ মিনিটের সময় তার গ্রামের বাড়ি ভোলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া এলাকায় তৃতীয় নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশেই সমাহিত করা হয়।


এর আগে দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন ভোলার খলিফাপট্টি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মহিউদ্দিন। জানাজায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম নবী আলমগীর, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ দল মত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং হাজারো মানুষের ঢল নামে। শেষবারের মতো তাকে এক নজর দেখা ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ভোলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও ভোলার সর্বস্তরের মানুষ।
জানাযা নামাজের পূর্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনারের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠককে। জেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ‘গার্ড অব অনার’ প্রদর্শন করেন।

ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর ও সদস্য সচিব রাইসুল আলম, জেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদক হারুন অর রশিদ টুমেনসহ নেতারা জানাজাস্থলে এসে মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় জানাজার আগে তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহীন ও আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুর রহমান বাহালুল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইউনুছ, সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র সালাউদ্দিন লিংকন বলেন, তোফায়েল আহমেদ একক রাজনীতি দলের নেতা নন। তিনি ভোলাবাসীর অভিভাবক ছিলেন। জানাজায় আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পাটি, জামায়াতে ইসলামসহ সব দলের সব পেশার মানুষ অংশ নেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানান।

এর আাগে আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে মরদেহ নিয়ে আসা হয় ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে। সেখান থেকে ফ্রিজিং ভ্যানে মরদেহটি নেওয়া হয় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। এ সময় তোফায়েল আহমেদকে বহনকারী হেলিকপ্টার ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা হেলিপ্যাডে ভিড় জমান।
বর্ণাঢ্য জীবন :
বাংলাদেশের রাজনীতি ও আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রনায়কের নাম তোফায়েল আহমেদ। দ্বীপজেলা ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামের ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মৌলভী আজহার আলী ব্যবসায়ী ও মা গৃহিণী ফাতেমা খানম।
১৯৬৪ সালে সদর উপজেলার ধনিয়ার বাসিন্দা মফিজুল হক তালুকদারের বড় মেয়ে আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তার বিবাহিত জীবন শুরু হয়। তোফায়েল আহমেদ এক কন্যার জনক।
রাজনীতির বরপুত্রখ্যাত তোফায়েল আহমেদ ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৬২ সালে আইএসসি ও ১৯৬৪ সালে বিএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি উত্তীর্ণ হন।
কলেজজীবনেই ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের শুরু। ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক পদে এবং কলেজের অশ্বিনী কুমার হলের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ইকবাল (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) হল ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, ১৯৬৫ সালে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের সহসভাপতি এবং ১৯৬৬-৬৭ সালে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপির দায়িত্ব পালনকালে চারটি ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন তোফায়েল আহমেদ। এরপর শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফাকে ১১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করে ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৬ সালের ৮ মে থেকে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৩৩ মাস কারাগারে আটক শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তির জন্য তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ সারা বাংলায় তৃণমূল পর্যন্ত গণ-আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবসহ সব রাজবন্দির মুক্তির পর ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে তিনি বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭০-এর ৭ জুন শেখ মুজিবের নির্দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বস্তুত এরপর সংগ্রামী জননেতা তোফায়েল আহমেদ জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের একজন বলিষ্ঠ সংগঠকে পরিণত হন।
১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোলার দৌলতখাঁন-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। তিনি ছিলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার অধিনায়কের একজন। বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা এলাকার সমন্বয়ে গঠিত মুজিব বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার সংগ্রামে তোফায়েল আহমেদের অংশগ্রহণ ছিল।
১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাকে রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ দেন। ১৯৭৩ সালে নিজ জেলা ভোলা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে দেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ঘোষণার পর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ৬ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ মাস তিনি কারান্তরালে ছিলেন। ১৯৭৮ সালে কুষ্টিয়া কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ৯৬ সালের সংসদ নির্বাচ

তোফায়েল আহমেদ ছিলেন রাজনীতির বরপুত্র : ভোলাবাসীর অভিভাবক

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
নগরীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত। পালিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা ও দোয়া-মিলাদ মাহফিল। বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৪ র্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়ন ও আউটসোর্সিং কর্মচারীদের যৌথ উদ্যোগে রোববার বাদ জোহর শেবাচিম হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টার জামে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মুফতি মাওঃ হাফেজ আসাদুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আউটসোর্সিং কর্মচারীদের প্রাণ ও শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ৪ র্থ শ্রেণি কর্মচারী ইউনিয়ন এর সভাপতি রাব্বি আল মামুন ফয়সাল, মোঃ সোয়েব, মোঃ আলী,মোঃ শরীফ,মোঃ রাকিব,মোঃ রাসেল প্রমুখ। দোয়া অনুষ্ঠানে তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু এবং উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।

বরিশাল নগরীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত হয়েছে। জিয়াউর রহমান মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভোলা জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) সকালে জেলা বিএনপির সকল অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরা কাল ব্যাচ ধারন করে। পরে একটি শোক বের হয় শহরে শোক র‌্যালি বের হয়। শোক র‌্যালিটি জেলা বিএনপির কার্যলয় থেকে বেড় হয়ে শহর প্রদক্ষিন করেন জেলা বিএনপির কার্যলয়ের সামনে এসে শেষ হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা বিএনপির আহবায়ক গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব রাইসুল আলম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হায়দার আলী লেলিন,ভোলা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ ট্রুম্যান, হুমায়ুন কবির সোপান, তরিকুল ইসলাম কায়েদ, নির্বাহী সদস্য আমিনুল ইসলাম, ইয়ারুল আলম লিটন, ‎সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসিফ আলতাফ ও সদস্য সচিব হেলাল উদ্দিন, ভোলা জেলা যুব দলের সভাপতি জামাল উদ্দিন লিটন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুর কাদের সেলিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মাসুদ, সদস্য সচিব মুনতাসীর আলম রবিন চৌধুরী, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শহিদুল আলম মানিক, সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন তালুকদার এবং জেলা কৃষক দলের সভাপতি আব্দুর রহমান সেন্টু, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল রাসেল, সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ রুবেলসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আবদুল লতিফ টিটু,সদস্য সচিব মো. বেলাল হোসেন সহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা কর্মীরাসহ দলের বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে হত্যার শিকার হন তিনি।

ভোলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
আগামী ৮ মে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের ৪৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা বুধবার সন্ধ্যা ৭ টার সময় আমির কুটির রোজ ইন হোটেল হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের জেলা সভাপতি রিয়াজ হাসান এর সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম রাসেল এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন এজিপি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. আঃ বারেক, মহানগর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি অধ্যাপিকা ফারজানা তিথি, সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ছাত্র নেতা কামরুল আলম মামুন, সদস্য মাহবুব সহ প্রমুখ। বক্তারা মানবতার সেবার লক্ষ্যে শেষ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক নেতৃবৃন্দের উপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল সেই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন এর কতটুকু অগ্রসর হয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। স্বাধীনতার ঘোষক সেক্টর কমান্ডার বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজীবন স্মৃতি সংরক্ষণ ও তাহার সুচিতে ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের তাগিদে ১৯৮২ সালের ৫ই মে তৎকালীন স্পিকার মরহুম মির্জা গোলাম হাফিজ প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তাদের স্মরণে আগামী ৫ই মে ৪৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল জেলা ও মহানগরের উদ্যোগে আগামী ৮ই মে শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত বরিশাল নগরীর গির্জা মহল্লায় অবস্থিত আচমত আলী খান ইনস্টিটিউট (একে স্কুল ) প্রাঙ্গনে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে অসহায় দুঃস্থ গরিব চিকিৎসা বঞ্চিত পরিবারের জন্য ।।

উক্ত ক্যাম্পে অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবক শিক্ষক কর্মচারীসহ সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকিবে ।

এতে উপস্থিত থাকবেন ডক্টর শিহাব উদ্দিন অর্থপেডিক্স ডক্টর মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম আবির ডায়াবেটিস ডঃ রেজাওনুর রহমান রায়হান, ডঃ মোঃ তানভীর হোসেন ডাক্তার শরিফ উদ্দিন রায়হান ডক্টর শেখ মোস্তফা আলী সংগঠনের সম্মানিত নেতৃবৃন্দদের সমন্বয়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করিবেন । শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন ও সংরক্ষণ আমাদের মূল উদ্দেশ্য সকল রোগীদের প্রতি থাকবে তাদের আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ।।

নগরীতে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

অন্যান্য সংবাদ

ঢাকা

চট্টগ্রাম

কক্সবাজার প্রতিনিধি::

কক্সবাজারের মহেশখালীতে দীর্ঘ ২ যুগ পর রাস্তা সংস্কার কার্যক্রম শুরুতে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
হোয়ানক ইউনিয়ন পানিরছড়া এলাকায় ৩ টি চলমান রাস্তা

সংস্কারের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। যেখানে ড্রেন হওয়ার কথা সেখানে হচ্ছে না ড্রেন, আর যেখানে আরসিসি ঢালাই দরকার সেখানে তা হচ্ছে না, বলে প্রশ্ন জনমনে। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসের কর্মকর্তারা এ বিষয়ে জেনেও না জানার ভাণ করছে ।

এলাকাবাসীর অনুরোধ, মহেশখালী ইউএনও যেন বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করেন, তা না হলে একটি সংকট তৈরি হতে পারে।

মোহাম্মদ হোচেন জানান, এই অনিয়মের পেছনে একমাত্র দায়ী ৯ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার কালা চান সহ কিছু অসৎ লোক, তারা রাস্তার কাজে কোন কারণ ছাড়া বাঁধা সৃষ্টি করে যাচ্ছে এসব চামচাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক

রুবেল জানান আরো কিছু দিন পরে পোস্ট দিলে ভালো হতো। কাজ প্রায় শেষের দিকে এতদিন কোথায় ছিলো সমাজের সচেতন মহল?? ব্যাপক দুর্নীতি অনিয়ম হলে কাজ বন্ধ করে দাও। সবার সাথে পরামর্শ করে সঠিকভাবে কাজ হচ্ছে কিনা তদারকি কর। ফেসবুকে বুকে পোস্ট দিয়ে বসে থাকলে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা মেরে দিবে।

আরমান আলী জানান, যদি ড্রেইন না দেয় রাস্তা এক বর্ষার পরে মাটির নিচে চলে যাবে! এটা তদন্ত করার জন্য ইউ এনও বরাবর কেউ অভিযোগ করেন। যদি রাস্তার টেন্ডারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংযুক্ত থাকে তাহলে অবশ্যই দিতে হবে আর যদি ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংযুক্ত না থাকে তাহলে তাদের ওপর কোন অভিযোগ নেই।

আলমগীর জানান, এ বিষয়ে আমরা চাই যে জায়গায় ড্রেন দরকার সে জায়গায় ড্রেন আর যে জায়গায় আরসিসি ঢালাই দরকার সেখানে তা হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ বৃহত্তর পানিরছড়া এলাকায় বর্ষাকালে প্রায় ৭৫ % রাস্তার উপর দিয়ে পানি চলাচল করে তা সকলে জানে।
ইতিমধ্যে ইউএনও মহোদয়কে মৌখিকভাবে জানিয়েছি উনি নিজে তদারকি করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

মহেশখালীতে দীর্ঘ ৩০ বছর পর রাস্তা সংস্কার কার্যক্রম : শুরুতেই অনিয়ম ও দুর্নীতি

অনুসন্ধান ডেস্ক :: 
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বৃহস্পতিবার (২৮ আগষ্ট) জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার চন্দ্রনাথ ধামের ভৈরব মন্দির ও ব্যাসকুন্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় সাথে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সান্তু বিপিএম (বার)।
পরিদর্শনকালে উল্লিখিত এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়। সামগ্রিক বিষয়ে জেলা প্রশাসক মন্তব্য করেন, “চট্টগ্রাম সমগ্র বাংলাদেশে বিভিন্ন সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির এক মিলনমেলা। কোন প্রকার মিথ্যা প্রচারণা বা উস্কানিতে এই সম্প্রীতি কেউ যেন বিনষ্ট না করতে পারে সে ব্যাপারে প্রশাসন, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী এবং সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। আমরা চাই ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে এখানে একটি সুন্দর ও পর্যটকবান্ধব পরিবেশ বজায় থাকুক।”
এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারবৃন্দ, সীতাকুন্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং মাঠ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক’র সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ ধাম পরিদর্শন

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজন নিহতের ঘটনায় উল্টো পথে আসা হানিফ পরিবহনের সেই বাসটিকে জব্দ করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার খাদঘর মানামা হোটেলের সামনের মাঠ থেকে বাসটি জব্দ করা হয়।

ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।ওসি জানান, শুক্রবার দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাসটিকে শনাক্ত করা হয়। সিসিটিভিতে দেখা যাচ্ছিল, হানিফ পরিবহনের ঢাকা মেট্টো-ব-১২-২১৯৭ নম্বরের বাসটি উল্টো পথে চলাচল করার কারণেই সিমেন্ট বোঝাই কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারের ওপর উল্টে পড়ে, তারপর ওই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাসটি জব্দ হলেও চালক বা হেলপার কাউকে পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর বাসটিকে খাদঘর এলাকায় রেখে আত্মগোপনে চলে যান চালক এবং হেলপার। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ইউটার্নে সিমেন্টবোঝাই একটি কাভার্ড ভ্যান প্রাইভেট কারের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই একই পরিবারের চারজন নিহত হন।

নিহতরা হলেন, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মোহাম্মদ ওমর আলী (৮০), তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৫), বড় ছেলে ব্যাংক এশিয়ার কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম (৫০) ও ছোট ছেলে আবুল কাশেম (৪৫)। প্রাইভেট কারটি চালাচ্ছিলেন বড় ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল হাশেম। একই দুর্ঘটনায় লরির নিচে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশার তিন যাত্রীও আহত হন। আহতরা ঢাকা ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহত ওমর আলীর ভাই আবুল কালাম বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহন বাসের অজ্ঞাতনামা চালকদের আসামি করা হয়েছে।

কুমিল্লার সড়ক দুর্ঘটনায় হানিফ পরিবহনের বাস জব্দ 

কক্সবাজার প্রতিনিধি ::
কক্সবাজারের চকরিয়া থানা হাজতে যুবক দুর্জয় চৌধুরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় এবার ওসিকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন, এর আগে এ ঘটনায় থানার তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছিল। আজ শনিবার ওসি শফিকুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “তৌহিদুল আনোয়ারকে চকরিয়া থানার নতুন ওসির দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শফিকুল ইসলামকে কক্সবাজার পুলিশ কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ করা হয়েছে।”
শুক্রবার সকালে চকরিয়া থানা হাজত থেকে দুর্জয় চৌধুরী নামে এক যুবককে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবার হত্যার অভিযোগ করলেও পুলিশের দাবি, দুর্জয় আত্মহত্যা করেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের ক্ষোভের মধ্যে শুক্রবার দুপুরে থানার এএসআই মোহাম্মদ হানিফ মিয়া, কনস্টেবল মহি উদ্দিন ও ইশরাক হোসেনকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।
দুর্জয় চাকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হিন্দু পাড়ার কমল চৌধুরীর ছেলে। চকরিয়া সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার অপারেটরের দায়িত্বে ছিলেন দুর্জয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে দুর্জয়ের বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক তাকে থানায় হস্তান্তর করেন। তার বিরুদ্ধে ২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মামলা করেন। ভোরে চকরিয়া থানা হাজতের ভেতরে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে পুলিশের দাবি করা আত্মহত্যাকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন দুর্জয় চৌধুরীর বাবা কমল চৌধুরী।
শনিবার সকালে কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে কমল চৌধুরী বলেন, “কোনো মামলা বা ওয়ারেন্ট ছাড়া আমার ছেলেকে থানায় রাখা হয়েছে।”
তিনি এ ঘটনার জন্য স্কুলের দুজন শিক্ষককে দায়ী করে বলেন, “আমার ছেলের ব্যাগ ও ল্যাপটপ খুঁজে পাচ্ছি না। হয়তো ল্যাপটপে থাকা কোনো তথ্যের কারণেই প্রাণ হারিয়েছে দুর্জয়।”

চকরিয়া থানা হাজতে দুর্জয় চৌধুরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ওসি প্রত্যাহার : দুর্জয়ের ল্যাপটব উধাও

ডেস্ক রিপোর্ট ::
কুমিল্লায় প্রাইভেট কারের ওপর সিমেন্ট বোঝাই কাভার্ড ভ্যান উল্টে একই পরিবারের ৪ জন নিহতের পর এবার বিপজ্জনক সেই ইউটার্ন বন্ধ হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড সংলগ্ন উত্তর রামপুর এলাকার ইউটার্নটি বন্ধ করার প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। শনিবার (২৩ আগষ্ট) বেলা ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ২৩ বীরের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসানসহ হাইওয়ে পুলিশ ও সওজ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানায়।
সওজ কুমিল্লার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আদনান ইবনে হাসান সমকালকে বলেন, এ ইউটার্নটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। আজ সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশসহ আমরা আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রোববার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রশাসনের আরও একটি সভা হবে। সেখানে ইউটার্নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তবে আপাতত আজ রাত থেকে ইউটার্নটি বন্ধ রাখা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সকল যানবাহন পাশের সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের পাশের দয়াপুর এলাকা দিয়ে ইউটার্ন করবে।
এই সওজ কর্মকর্তা আরও বলেন, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার ইউলুপের কাজ চলমান আছে। তা চালু না হওয়া পর্যন্ত ইউটার্নগুলোতে যানবাহন চালকদের সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা অতিক্রম করতে হবে।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে মহাসড়কের পদুয়ারবাজার সংলগ্ন উত্তর রামপুর এলাকায় ইউটার্ন অতিক্রম করার সময় সিমেন্ট বোঝাই কাভার্ড ভ্যান উল্টে চাপা পড়ে প্রাইভেট কারের যাত্রী একই পরিবারের চার জনের মৃত্যু হয়। এরা হলেন, জেলার বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মোহাম্মদ ওমর আলী (৮০), তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৫), তাদের বড় ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল হাশেম (৫০) এবং ছোট ছেলে আবুল কাশেম (৪৫)। প্রাইভেটকারটি চালাচ্ছিলেন আবুল হাশেম।
এদিকে এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহত ওমর আলীর ভাই আবুল কালাম বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহন বাসের অজ্ঞাতনামা চালকদের আসামি করা হয়েছে।
ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার এসআই আনিসুর রহমান আজ শনিবার সমকালকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে দুর্ঘটনার জন্য কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহনের বাসের চালকই দায়ী। মামলার অভিযোগেও তাদের কথা বলা হয়েছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত : উম্মত্ত চালকদের নিয়ন্ত্রন করার দায়িত্ব কার?

অন্যান্য সংবাদ

বরিশাল

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের (রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং) ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ও ব্যয়ের তথ্য থাকলেও বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বৃক্ষরোপণ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও ভবনের নির্মাণমান নিয়েও একাধিক অনিয়ম ও দুর্বলতার তথ্য উঠে এসেছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে আধুনিক পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করতে ‘১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট (সংশোধিত ১৬টি) অফিস নির্মাণ (২য় সংশোধন)’ প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। পরে তা বাড়িয়ে প্রায় ১০৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যয় হয় ৯৭ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুর, জামালপুর, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ভোলা, শরীয়তপুর, সুনামগঞ্জ, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা, নেত্রকোনা, নওগাঁ, মাদারীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও রাজবাড়ীতে মোট ১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় গাজীপুরের কার্যালয় পরবর্তী পর্যায়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।

আইএমইডির মূল্যায়নে দেখা গেছে, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর অংশ হিসেবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ১৫ লাখ ১ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদনে (পিসিআর) এ খাতে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্যও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সরেজমিন পরিদর্শনে কোনো কার্যালয়েই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি।

একইভাবে, বনায়নের জন্য ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ এবং ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য থাকলেও অধিকাংশ কার্যালয় প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণের প্রমাণ মেলেনি। এ কারণে ব্যয়ের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে আইএমইডি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পটি ২০২১ সালে শেষ হলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো বাহ্যিক অডিট সম্পন্ন হয়নি। দ্রুত পূর্ণাঙ্গ অডিট সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। জামালপুর, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মাগুরা, বাগেরহাট, নেত্রকোনা ও নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল রয়েছে। সাতক্ষীরা কার্যালয়ে মেরামতের কাজ চলছে। শরীয়তপুর কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল থাকলেও স্টোরেজ ব্যাটারি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ভোলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সৌর প্যানেলের একটি অংশ নষ্ট অবস্থায় রয়েছে।

নির্মাণমান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমইডি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ভবনের মান সন্তোষজনক নয়। ভবনের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টার খসে পড়েছে, বাইরের রঙ নষ্ট হয়েছে এবং দেয়ালে শেওলা জমেছে। বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় ভবনটি ঝুঁকির মধ্যেও রয়েছে।

এ ছাড়া মাদারীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বজ্রনিরোধক দণ্ড ভবনের সর্বোচ্চ স্থানে স্থাপন না করায় বজ্রপাতের সময় ভবন ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাগেরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর না হওয়ায় প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকাজও ব্যাহত হচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াতেও প্রশাসনিক অস্থিরতার চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। ২০১৬ সালের ৩০ জুন একনেকে অনুমোদনের পর ১৭ জুলাই প্রথম প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হলেও বাস্তবায়নকালে মোট ছয়বার প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন করা হয়।

আইএমইডি সুপারিশ করেছে, অচল সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা দ্রুত সচল করে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। বাগেরহাট কার্যালয় দ্রুত হস্তান্তর, মাদারীপুরে বজ্রনিরোধক দণ্ড পুনঃস্থাপন এবং ভোলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নিম্নমানের নির্মাণকাজ দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও বনায়ন খাতে দেখানো ব্যয়ের বাস্তবতা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ই-পাসপোর্ট আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই আরও সহজ ও নির্ভুল করতে ই-পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক ডাটাবেজকে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বায়োমেট্রিক ডাটাবেজের সঙ্গে সমন্বয়ের সুপারিশ করেছে আইএমইডি।

এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অর্থ) এটিএম আবু আসাদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তার কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। বিস্তারিত জেনে পরে মন্তব্য করবেন। তবে তার দাবি, দেশের বিভিন্ন জেলার পাসপোর্ট অফিস অন্য অনেক সরকারি কার্যালয়ের তুলনায় বেশি পরিচ্ছন্ন এবং সেখানে তুলনামূলক বেশি গাছপালা রয়েছে।

ভোলা সহ ১৬ পাসপোর্ট অফিসে ‘অদৃশ্য’ রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং : ব্যয়ের হিসাব থাকলেও মিলেনি বাস্তব প্রমাণ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভোলা জেলা পুলিশ লাইন্সে ১০ শয্যার আধুনিকায়নকৃত হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় জমকালো এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার। লাল ফিতা কেটে, নামফলক উন্মোচন এবং বিশেষ দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

এ সময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আহসানুজ্জামান, ভোলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম, লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ। ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, ডিআইও শেখ মোনায়েম হোসেন এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হকসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উদ্বোধন শেষে পুলিশ সুপার হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ, শয্যা এবং চিকিৎসা সেবার সুযোগ-সুবিধাগুলো ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বরতদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওছার বলেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এই হাসপাতালটিকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। আমরা আশা করি, এই আধুনিকায়নের ফলে এখন থেকে আরও উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।

আধুনিক চিকিৎসা সামগ্রী ও উন্নত পরিবেশ সম্বলিত এই ১০ শয্যার হাসপাতালটি পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা সেবায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোলায় আধুনিকায়নকৃত ১০ শয্যার পুলিশ লাইন্স হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।

এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেত, জিজেইউএস এর উপ পরিচালক গোপাল চন্দ্র শীল সহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভোলাসহ ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু!

ভোলাসহ ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু!

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।

এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেত, জিজেইউএস এর উপ পরিচালক গোপাল চন্দ্র শীল সহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলায় দীর্ঘ চার বছর ধরে জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জেলার অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত এই বৃত্তি না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোলা জেলা পরিষদ থেকে প্রতিবছর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হতো। এই সহায়তা অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বহন করত। তবে সর্বশেষ প্রায় চার বছর আগে এই বৃত্তি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে নতুন কোনো বিজ্ঞপ্তি বা বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম চালু হয়নি।

এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা জেলা পরিষদের বৃত্তির অপেক্ষায় থাকলেও কোনো ধরনের ঘোষণা বা কার্যক্রম দেখা যায়নি। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

ভোলা সরকারি কলেজ ও ভোলা সরকারি মহিলা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বৃত্তির জন্য আমরা প্রতিবছর আশায় থাকতাম। কিন্তু গত চার বছর ধরে কোনো খবর নেই। এই সহায়তা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকা উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত এই কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পিন্টু বেপারী বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং পূর্ববর্তী চার বছরে বৃত্তি কার্যক্রম কেন বন্ধ ছিল সে বিষয়ে পূর্ববর্তী প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাতে পারবেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং দ্রুত বৃত্তি কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভোলায় ৪ বছর ধরে জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ, অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিপাকে

অন্যান্য সংবাদ

খুলনা

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

পুকুর থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত বিথীকা সাধু (৫০) সাতক্ষীরা শহরের বউবাজার এলাকার মৃত. বিশ্বনাথ সাধুর স্ত্রী। তিনি বউবাজারের একজন মুদি দোকানী।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, বিথীকা সাধুর সাতক্ষীরা শহরের বউবাজারে একটি মুদি দোকান রয়েছে।৷ প্রতিদিন দোকান বন্ধ করে রাত ১০টার দিকে বাড়িতে ফেরেন। কিন্তু আজ বাড়িতে ফিরতে দেরী হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশে একশো গজ দূরে পুকুরের ভিতর মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে।

পরিবারের সদস্যরা আরও জানিয়েছে, এলাকায় মাদকসেবীদের উৎপাত রয়েছে। বিথীকা সাধুর গলায় স্বর্ণের চেন ও কানে দুল ছিল। সেটি পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, মাদকসেবীরা ছিনতাইকালে তাদের চিনে ফেলায় বিথীকা সাধুকে হত্যা করা হয়েছে। ভারী বস্তু দিয়ে মাথা ও মুখ থেতলে দিয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন সাতক্ষীরা থানা পুলিশের একটি টিম। অপরাধী শনাক্ত ও ঘটনার রহস্য উন্মোচনে কাজ চলছে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

সাতক্ষীরা শহরের বউবাজার এলাকায় মুখ ও মাথা থেতলে নারীকে হত্যা

রাজশাহী

সিলেট

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের কিশোরী রীমা রানী সরকার (১৫)-কে নিখোঁজের প্রায় ২৪ দিন পর পুলিশ ও র্যাবের সহায়তায় রিমাকে সিলেট থেকে উদ্ধার করেছে শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ। এই কাজে জড়িত থাকার অভি
যোগে ভিকটিমের ধর্মান্তরিত আপন মাসিসহ তার
স্বামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী অন্যান্য সংস্থা ও এর সাথে কাজ করেন।
পুলিশের সূত্রে জানা যায়,গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুর্গাপূজার সপ্তমীর দিনে শ্রীমঙ্গল শহরের আর.কে. মিশন রোড দুর্গা মন্দিরে অঞ্জলী দিতে গিয়ে নিখোঁজ হয় রীমা রানী সরকার। এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা মতিলাল বিশ্বাস বাদী হয়ে কমলগঞ্জ উপজেলার কাঠালকান্দি গ্রামের বদরুল আলম (২৫)সহ তিনজনের বিরুদ্ধে শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৩০ ধারায় মামলা (নং–০৮, তারিখ: ০৫/১০/২০২৫) রুজু করা হয়। অপহরণের পর থেকেই বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি এবং সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি এর দিকনির্দেশনায়, মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোঃ এম.কে.এইচ. জাহাঙ্গীর হোসেন, পিপিএম-সেবা’র সার্বিক তত্ত্বাবধানে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করেন।
ঘটনা ক্রমে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি টিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৮ ও ১১ অক্টোবর মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামী বদরুল আলম (২৫) ও শহিদ মিয়া (৩২)-কে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভিকটিম সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না পাওয়ায় তদন্ত আরও প্রসারিত করা হয়। পরবর্তী তদন্তে ভিকটিমের খালা প্রিয়াংকা সরকারের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তার কল রেকর্ড বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভিকটিমের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
সেই সূত্র ধরে সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা থানার ধরাধরপুর এলাকায় শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগম ও তার স্বামী মোবারক মিয়া ভিকটিমকে তাদের ভাড়া বাসায় আটক করে রেখেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে আরও প্রকাশ পায় যে, শিল্পী সরকার (ওরফে শিল্পী বেগম) ভিকটিমের আপন খালা (তিনি ধর্মান্তরিত মুসলিম)। প্রায় দুই বছর আগে তিনি মোবারক মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে ধর্মান্তরিত হয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পুলিশের দাবি,ঘটনার দিন তিনি পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী মন্দির সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করে অঞ্জলী শেষে ফেরার পথে কিশোরী রীমাকে প্রলোভন দেখিয়ে সিলেটের ধরাধরপুর এলাকায় নিয়ে যায় এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখে। এমনকি ঘটনার পর ভিকটিমের মা জড়িত শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগমের সাথে যোগাযোগ করে ভিকটিমের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। গতকাল (২৪ অক্টোবর) তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ভিকটিম রীমা রানী সরকারকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত শিল্পী সরকার ওরফে শিল্পী বেগম ও তার স্বামী মোবারক মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রসঙ্গত রিমা রানী সরকারের ঘটনাটি নিখোঁজ নাকি আত্মগোপন না অপহরণ এ বিষয়ে শহর জুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়, অনেকেই অপহরণ দাবি করে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অপ্রাপ্তবয়স্ক কিসোর কিশোরীকে যদি কেহ ফুসলিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে গোপন করার চেষ্টা করে তাহলে সেটি অপহরণ হিসেবেই গণ্য হয়। প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটি আরও তদন্তের দাবি সাধারণ জনগণের। এর পিছনে মূল রহস্য কি এবং কেন শুধুমাত্র একটি বিষয়কেই হাইলাইট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কে ভাইরাল করা হয়েছে,যেহেতু শ্রীমঙ্গল থানায় এরূপ আরো হাফ ডজনের ও অধিক নিখোঁজ ও অপহরণ অভিযোগ এই মাস দুয়েকের মধ্যেই হয়েছে। এছাড়া পূর্ব যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের ব্যাপারে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় নেটিজেনরা।বিস্তারিত পরবর্তী সংবাদে নজর রাখুন।
 #শ্রীমঙ্গলের রীমা সিলেট থেকে উদ্ধার:ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আপন খালা ও তার স্বামীকে গ্রেফতার
#সংগ্রহ #শ্রীমঙ্গল

শ্রীমঙ্গলের রীমা রানী সিলেট থেকে উদ্ধার : ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ধর্মান্তরিত আপন মাসী গ্রেফতার

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে সাত বছরের শিশু ছোঁয়া মনিকে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শিশুটিকে আছড়ে হত্যা করার দায়ে তার ফুপাতো ভাই মো. মনিরুল ইসলাম জিহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে রায়গঞ্জ আমলি আদালতের বিচারক মো. ওমর ফারুকের কাছে জিহাদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক রতন জানান, শনিবার সকালে গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে জিহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জিহাদ জানায়, বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে সে তার মামাতো বোন ছোঁয়া মনিকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ছোঁয়া মনি বিষয়টি বাবা-মাকে জানিয়ে দেবে বলায়, জিহাদ তাকে প্রতিবেশীর পরিত্যক্ত টয়লেটের ওয়ালের সঙ্গে আছড়ে হত্যা করে। এরপর সে মরদেহ টয়লেটের ভেতরে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এসআই নাজমুল বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর জিহাদ অন্যদের সঙ্গে শিশুটিকে খোঁজার ভান করে। এমনকি মসজিদে মাইকিংও করে। পরে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর পেয়ে সে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে জিহাদের রক্তমাখা গেঞ্জি ও লুঙ্গি উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে প্রতিবেশীর একটি ভাঙা ও পরিত্যক্ত টয়লেটের ভেতর থেকে ছোঁয়া মনির রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির দাদি মোছা. ফিরোজা বেগম অজ্ঞাতনামা আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর গোয়েন্দা পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয়।

 

সিরাজগঞ্জে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশু ছোঁয়াকে হত্যা করে ফুপাতো ভাই

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং স্থানীয় পুলিশি সূত্রে ব্যাপকভাবে আলোচনা হয়েছে, সুনামগঞ্জের এক কিশোরী নিখোঁজ থাকার ঘটনায়। দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান ও সামাজিক সমন্বয়মূলক প্রচেষ্টার পর অবশেষে ওই কিশোরীর খোঁজ পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিশোরী স্বধর্মের একটিছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। তবে স্থানীয়রা এবং পরিবার সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর বয়স মাত্র ১৫ বছর, যা আইনগতভাবে তাকে নাবালিকা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করে। এত অল্প বয়সে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সামাজিক ও আইনগতভাবে উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে।

স্থানীয় পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা কিশোরীর নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করেছি এবং তার পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করছি। এটি কেবল পরিবারের নয়, সমাজেরও একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।”

পুলিশ এবং সমাজকর্মীরা কিশোরী এবং তার পরিবারের সঙ্গে মানসিক সহায়তা এবং পরামর্শ প্রদান করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নাবালিকা কিশোরীদের এমন পরিস্থিতি সামাজিক শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবের প্রতিফলন, যা নিয়মিত মনিটরিং এবং পরিবারিক সহায়তার মাধ্যমে সমাধান করা যেতে পারে।

অবশেষে খোঁজ মিলেছে নিখোঁজ কিশোরীর : প্রেমের টানে স্বধর্মের ছেলেকে বিয়ে!

ডেস্ক রিপোর্ট ::

স্নেহা চক্রবর্তী। সুনামগঞ্জ সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি-দুই পরীক্ষাতেই জিপিএ ৫। শত প্রতিকূলতার মাঝেও দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে গিয়েছিল মেয়েটি। স্বপ্ন ছিলো বড় হয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চলতি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয় সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে।
আজ ছিল তার জীবনের একটি নতুন সূচনার দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ক্লাস। গতকাল সকালে বাবার হাত ধরে প্রথমবার পা রাখে স্বপ্নের প্রাঙ্গণে। বাবা বিপুল চক্রবর্তী, শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। চোখে আনন্দের অশ্রু আর গর্ব ভরে মেয়েকে নিয়ে যান ভর্তি করাতে। মেয়ে ভর্তি হলো, ভর্তির কাজ শেষে বিকেলের দিকে বাবার বুক জড়িয়ে ধরে বাড়ির পথে রওনা দেয় স্নেহা। বাবা নিজে তাকে তুলে দেন সিএনজিচালিত অটোরিকশায়। কে জানত, সেই শেষ বিদায়টা হবে এতটা চিরন্তন, এতই নির্মম! পথেই বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে থেমে যায় একটি সম্ভাবনাময় প্রাণ। স্নেহা আর বাড়ি ফিরে আসেনি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মা জ্যোতি চক্রবর্তী আর ছোট ভাই সূর্য চক্রবর্তী ছুটে যান হাসপাতালে। মেয়ের নিথর শরীর দেখে ছটফট করতে করতে জ্ঞান হারান মা। ছোট ভাই সূর্য যেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না, শুধু বড় বোন স্নেহার লাশের দিকে তাকিয়ে থাকে! এটা তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। একে একে পরিবারের নিকটজনরা হাসপাতালে আসতে থাকে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তখন কেবল কান্না আর আহাজারি! একটি পরিবার ভেঙে চুরমার হয়ে গেল মুহূর্তে।
একটি স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস এভাবেই নিরবে লেখা হলো আজ। স্নেহা চক্রবর্তী আর নেই। থেকে গেলো তার অসমাপ্ত স্বপ্ন, বাবার চোখের জল, মায়ের বুকভাঙা কান্না আর ভাইয়ের অজস্র প্রশ্ন,”দিদিগো, তুমি কোথায় গেলে?”
আমরা স্নেহার আত্মার শান্তি কামনা করছি, অনন্তলোকে ভালো থাকুক মেয়েটি। ওঁ দিব্যান্ লোকান্ স গচ্ছতু।।

স্বপ্নার স্বপ্নীল স্বপ্ন ভেঙ্গে চূড়মার : একটি পরিবার ধ্বংসস্তূপে পরিনত

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
সিলেট মহানগরের শামীমাবাদে হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।  পুলিশের বিরুদ্ধেও অসহযোগীতার অভিযোগ করেছে ওই পরিবার।
 রোববার (৩ আগস্ট) দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন শামীমাবাদ এলাকার ১৮৩ নং বাসার বাসিন্দা ও এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার গীতা রানী হালদারের মেয়ে পুজা মন্ডল।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান তার বাবা তপুন কুমার মন্ডল কাজল প্রবাসে থাকেন। মা গীতা রানী স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে শামীমাবাদের বাসায় থাকেন। ২০১৩ সালে শামীমাবাদ এলাকায় ৪ শতক জায়গা ক্রয় করে সেখানে বাসা নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন গীতা রানী। বাসা নির্মাণের সময় এবং পরবর্তীতে কোনো ঝামেলার শিকার হননি। তবে চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করে একটি চক্র তাদেরকে হয়রানি শুরু করে। তার বাসার লাগোয়া প্লটের মালিক সোহেল বেগ এবং তার সহযোগী রজব আলী, আব্দুল মুমিন, ইমরান আহমদ, শাহান আহমদ, কামরান আহমদ, আঙ্গুর মিয়া, ফকির আলী, রাসেল আহমদ, সুমান আহমদ ও রাব্বিসহ আরও বেশ কয়েকজন এই উৎপাত শুরু করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সোহেল বেগের দাবি তার জায়গায় গীতা রানীদের বাসা। কিন্তু এর সপক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি সোহেল বেগ। তারপরও গীতা রানী বলেন, প্রবাসী স্বামী দেশে আসলে এ বিষয়ে দুপক্ষ আলোচনায় বসবেন। সোহেল তার কথায় কর্ণপাত না করে গীতা রানীকে নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন এবং ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পূজা মন্ডলের অভিযোগ, মূলত চাঁদা আদায় করাই এই চক্রের আসল উদ্দেশ্য।
গীতা রানীর মেয়ে বক্তব্যে আরও বলেন, চাঁদা না দেয়ায় গত ২৮ জুলাই মধ্যরাতে সোহেল বেগ তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তার বাউন্ডারি দেওয়াল গুড়িয়ে দেন এবং বাসায় হামলা ও ভাঙচুর চালান। বাসার সিসিটিভি ক্যামেরাও ভাঙচুর করেন। এসময় গীতা রানী হাসপাতালে ডিউটিতে ছিলেন, বাসায় ছিলেন তার দুই ছেলে-মেয়ে। তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ যাওয়ার আগে হামলাকারীরা গীতা রানীর ছেলে-মেয়ে ও তাকে প্রাণে হত্যা করার হুমকি দিয়ে যায়।
 এ ঘটনার পর গীতা রানী সিলেট কোতোয়ালি থানায় এজাহার দায়ের করলেও পুলিশ মামলা রেকর্ড করেন নি। পরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ দিলেও মামলা রেকর্ড করেনি পুলিশ। পুলিশের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা না পেয়ে অবশেষে বাধ্য হয়ে গীতা রানী আদালতের দ্বারস্থ হয়ে দুটি মামলার আবেদন করেছেন।

সিলেটে সংখ্যালঘু পরিবারকে হয়রানী : সহযোগিতা করেনি পুলিশ

অন্যান্য সংবাদ

রংপুর

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার হামিন্দপুর কামারপাড়া এলাকায় আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে তৈরি করা প্রতিমায় আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে প্রতিমার বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে হামিন্দপুর সর্বজনীন দুর্গামন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও এর আগেই প্রতিমাগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মন্দির নিয়ে ক্যাশিয়ার কার্তিক চন্দ্রের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত শনিবার দুপুরে তিনি মন্দিরের প্রধান দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। বাধ্য হয়ে মন্দিরের দক্ষিণ পাশে খোলা আকাশের নিচে পূজার প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন কারিগররা। গত ৫/৬ দিনে তারা বাঁশ ও খড় দিয়ে দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশসহ প্রতিমার নানা সরঞ্জাম তৈরি করেন। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা হঠাৎ প্রতিমাগুলোতে আগুন দিলে মুহূর্তেই সব পুড়ে যায়।
মন্দির কমিটির সাবেক সভাপতি অনুকূল চন্দ্র রনু বলেন, ‘মন্দির নিয়ে সামাজিক বিরোধের কারণে আমরা ৮-১০টি পরিবার মন্দিরের পাশে ছাপরা ঘর তুলে পূজার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিই। সে অনুযায়ী প্রতিমা তৈরির কাজ চলছিল। কিন্তু শত্রুতার আগুনে সব পুড়ে গেছে। পরিকল্পিতভাবে প্রতিমায় আগুন দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কার্তিক চন্দ্রের সম্পৃক্ততা আছে।’
মন্দিরের পাশের বাসিন্দা টুলু বলেন, ‘দীর্ঘদিনের বিরোধ এর আগেও কয়েকবার বসে সমাধান হয়েছিল। কিন্তু কার্তিক চন্দ্র জোরপূর্বক মন্দিরে সমাজের লোকজনের প্রবেশে বাধা দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। প্রতিমা পুড়ে যাওয়ায় এবার দুর্গাপূজা নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানাই।’
এদিকে, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজউদ্দীন খন্দকার এবং সাদুল্লাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাত চন্দ্র অধিকারী। তারা প্রতিমাগুলো দেখে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলেন।
এ বিষয়ে ওসি তাজউদ্দীন খন্দকার বলেন, ‘রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা প্রতিমায় আগুন দিয়েছে। গুরুত্ব  সহকারে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া বিরোধ সমাধানে উভয়পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে।’
সাদুল্লাপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাত চন্দ্র অধিকারী বলেন, ‘এই মন্দির নিয়ে কার্তিক চন্দ্রের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি আমরা এর আগেও থানায় বসে সমাধান করেছি। কিন্তু আবারও দ্বন্দ্ব চলছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য বসার কথা ছিল। তার আগেই প্রতিমায় আগুন দেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুতই উভয়কে নিয়ে বসে সমাধানের চেষ্টা করবো।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে বারবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি মন্দিরের ক্যাশিয়ার কার্তিক চন্দ্রকে। রাতে তার বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করলেও কোনও সাড়া মেলেনি।
[তথ্যসূত্র: সনাতন টিভি]

মন্দির কমিটির অন্তর্দ্বন্দের শিকার স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় : গাইবান্ধায় রাতের আঁধারে দূর্গা প্রতিমায় দুর্বৃত্তের আগুন

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ১০ মাস ধরে আটকে রেখে ১২ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে সৎ বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা সহায়তা করেছে বলে জানা গেছে। তাদের দুজনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম। এর আগে শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগীর মামা বাদী হয়ে দুইজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

আসামিরা হলেন, উপজেলার নিতাই পানিয়ালপুকুর গাংবের এলাকার আসাদুল মিস্ত্রির ছেলে রশিদুল ইসলাম (৪০) ও তার স্ত্রী আঁখি আক্তার নাসরিন (২৮)।

মামলা ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর মা চার বছর আগে প্রথম স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে দুই সন্তানসহ রশিদুল ইসলামকে বিয়ে করেন। তাকে বিয়ে করার পর রশিদুলের প্রথম স্ত্রী থাকার কারণে নাসরিনকে সন্তানসহ উপজেলা ব্র্যাক অফিসের পাশে ভাড়া বাসায় রাখতেন। পরে রশিদুল তার স্ত্রী নাসরিনের ১২ বছরের মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে সে রাজি না হওয়ার কারণে তার মাসহ তাকে মারধর করেন। পরে জোরপূর্বক ১০ মাস ধরে ভুক্তভোগীকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে আসছে। এতে ভুক্তভোগী দুই মাসের গর্ভবতী হলে তার গর্ভপাত করাতে ওষুধ সেবন করালে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর আবারও ধর্ষণ করেন রশিদুল ইসলাম।

শুক্রবার ভুক্তভোগীর মামার বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। এসময় ভুক্তভোগী তার মামাকে সবকিছু খুলে বললে তিনি থানায় এসে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে আটক করেন।

ভুক্তভোগীর মামা ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার ভাগ্নিকে ১০ মাস ধরে আটকে রেখে তার মায়ের সহায়তায় সৎ বাবা ধর্ষণ করে আসছে। ৫ মাস আগে সে গর্ভধারণ করলে তাকে ওষুধ সেবন করিয়ে গর্ভপাত করা হয়। আমরা চাই দোষীরা যেন বিচারের মুখোমুখি হয়।

কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, মায়ের সহায়তায় সৎ বাবা এক শিশুকে ১০ মাস ধরে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

 

সৎ বাবার ধর্ষণের শিকার কিশোরী : সহযোগিতা করেছে মা! 

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
❝ রংপুরের তারাগঞ্জ বাজার। ফুটপাতে ছোট্ট কাঠের চৌকিতে বসে জুতা সেলাই করছে ১৪ বছরের জয় রবিদাস। পাশে যন্ত্রপাতি, সামনে কয়েক জোড়া জুতা। এখানেই বারো বছর ধরে বসতেন তার বাবা রূপলাল রবিদাস। গত ৯ আগস্ট মব সন্ত্রাসে বাবার মৃত্যুর পর সেই শূন্য আসনে বসতে হয়েছে ছেলেকে।
জয় ছিল তারাগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার। বাবাকে হারিয়ে সেই স্বপ্ন থেমে গেছে তার। সংসারের ভার কাঁধে নিয়ে বাধ্য হয়ে নামতে হয়েছে পৈতৃক পেশায়।
শুক্রবার সকালে জয়কে দেখা যায় বাজারের ফুটপাতে বসে জুতা সেলাই করতে।
জয়ের মা মালতি রানী রবিদাস বলেন, ‘সংসারে আর
কোনো পুরুষ নেই, জয়-ই এখন ভরসা। কতটুকু আয় করতে পারবে জানি না, তবে সেই আয়ে আমাদের কোনোভাবে বাঁচতে হবে। ছেলেটাকে স্কুলে পাঠাতে না পেরে বুক ফেটে যাচ্ছে। কিছু মানুষ আমাদের সুখ-শান্তি চিরদিনের জন্য কেড়ে নিয়েছে।’
রূপলালের বড় মেয়ে নুপুর রবিদাস বলেন, ‘বাবা বেঁচে থাকলে ছোট ভাইকে স্কুল ছেড়ে ফুটপাতে জুতা সেলাইয়ের কাজ করতে হতো না। ছোট ভাইয়ের রোজগারে সংসার চলছে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় দুঃখ। যদি উপায় থাকতো তাহলে জয়কে কাজ করতে যেতে দিতাম না।’ ❞
❝ গত ৯ আগস্ট রাতে রূপলাল রবিদাস (৪৮) ও তার ভাগ্নিজামাই প্রদীপ লাল রবিদাস (৪৭) ব্যাটারিচালিত ভ্যানে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে তারাগঞ্জের সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলায় তাদের ভ্যানচোর সন্দেহে আটক করে স্থানীয়রা। কিছু সময়ের মধ্যেই মব গড়ে ওঠে এবং পিটিয়ে হত্যা করা হয় দুজনকে।❞
মহাজন ভালো আছেন। তার মেধাবী ছাত্ররা এখন কোটিপতি। হাঁস খায় পাঁচ তারকা হোটেলে। চলাচলের জন্য বিমান হেলিকপ্টার আছে। বিশ্রামের জন্য চীন আমেরিকা কক্সবাজারের পাঁচ তারকা হোটল আছে। আর জনগণ ভাতের অভাবে ফুটপাতে নেমে এসেছে।
[সৌজন্য: স্টার বাংলা]

মহাজনের মবের মুল্লুকে জয়ের পরাজয়! 

অনুসন্ধান ডেস্ক::
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ইউএনও’র নির্দেশে বলিদ্বারা দূর্গাপূজা মন্দিরের জায়গা দখলের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার ( ৩১ জুলাই) উপজেলা পরিষদ চত্বরে পূজারিরা এ বিক্ষোভ করেছেন।
মন্দির কমিটি সূত্রে জানা যায়, বলিদ্বারা বাজার সংলগ্ন ১৬ শতাংশ জমির ওপর দূর্গাপূজা মন্দির রয়েছে। সেখানে বিগত সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূর্জা অর্চনা করে আসছেন। ওই জমির ওপর হঠাৎ ললুপ দৃষ্ঠি পড়ে রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহি অফিসার সাফিউল মাজলুবিন রহমানের। তিনি গত বুধবার মন্দিরে উপস্থিত হয়ে ২ ঘন্টার মধ্যে সফিকুল নামের এক জনকে মন্দিরের জায়গা ছেড়ে দিতে বলেন। নতুবা মন্দিরের লোককে এরেস্ট করে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন।
এঘটনায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ফুঁসে উঠলে বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে ইউএন’ও বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় ইউএনও পূর্জা কমিটির লোকজনকে শান্ত হতে বলেন এবং বিকেলের মধ্যেই জমি সার্ভে করার কথা ঘোষণা দেন।
এ প্রসঙ্গে পূর্জা কমিটির সভাপতি সেবুলাল রায় বলেন, ‘বলিদ্বারা এলাকার রহমান আলী’র ছেলে সফিকুল ইসলামের মন্দিরের পিছনে বাড়ি করার কথা। এজন্য ইউএনও মন্দিরে এসে লোকজন দিয়ে বেড়া খুলে দেন এবং পূজা অর্চনার কাজে ব্যবহৃত কলা গাছ গুলো কেটে দেন। যা মোটেও কাম্য নয়। পরদিন এজন্য আমরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করি’।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা শাফিউল মাজলুবিন রহমান মুঠোফোনে বলেন, সরেজমিনে গিয়ে মন্দিরের ১৬ শতাংশ মেপে দেয়া হয়েছে। এসময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ছিল, ওসি ছিল, আমি ছিলাম। সেখানে আর রাস্তা বের হবে না মনে হয়।
[তথ্যসূত্র: সনাতন টিভি]

ঠাকুরগাঁও ইউএনও’র নির্দেশে মন্দিরের জায়গা দখল : পূজারিদের বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট ::
হিন্দুদের বাড়িতে হামলার বিষয়ে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে গালমন্দ ও হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার ওসি আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই দুই সাংবাদিক হলেন, প্রথম আলোর রংপুরের নিজস্ব প্রতিবেদক জহির রায়হান ও কালবেলার রংপুর প্রতিনিধি রেজওয়ান রনি।
রেজওয়ান রনি বলেন, ‘হামলার ঘটনার অনুসন্ধানে নেমে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে আমরা জানতে পারি, রোববার সকাল থেকে কিশোরগঞ্জের মাগুরা ইউনিয়নে মাইকিং করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। দুপুর ২টার দিকে বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েকশ মানুষ ঘটনাস্থলের এক কিলোমিটার দূরে বাংলাবাজারে জড়ো হন। ওই দিন কিশোরগঞ্জ থানা থেকে বাংলাবাজারে চার-পাঁচ পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। উত্তেজিত জনতা বালাপাড়ায় হিন্দুপল্লির দিকে এগোলে তারা বাঁধা দেননি, বরং পেছনে ছিলেন।’
রনি বলেন, ‘এ বিষয়ে কথা বলতে থানায় গেলে ওসি আশরাফুল ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের গালাগাল করেন। তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেন এসআই মহসীন। কিন্তু ওসি তাঁকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ওদের ধরেন। ফাজলামো করলে পিটিয়ে সোজা করে দেব। এরপর আমাদের থানা থেকে সরিয়ে নেন এসআই।’
এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে রংপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সালেকুজ্জামান সালেক বলেন, ওসি আশরাফুলকে প্রত্যাহার করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা না করলে সাংবাদিকরা আন্দোলনে যাবেন।
তথ্যসূত্র: সমকাল

গঙ্গাচড়া হিন্দু পল্লীতে হামলার বিষয়ে তথ্য চাওয়ায় দুই সাংবাদিককে হুমকি : ওসি প্রদীপ’র ভূমিকায় আশরাফুল

অন্যান্য সংবাদ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের (রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং) ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ও ব্যয়ের তথ্য থাকলেও বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বৃক্ষরোপণ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও ভবনের নির্মাণমান নিয়েও একাধিক অনিয়ম ও দুর্বলতার তথ্য উঠে এসেছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে আধুনিক পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করতে ‘১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট (সংশোধিত ১৬টি) অফিস নির্মাণ (২য় সংশোধন)’ প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। পরে তা বাড়িয়ে প্রায় ১০৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যয় হয় ৯৭ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুর, জামালপুর, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ভোলা, শরীয়তপুর, সুনামগঞ্জ, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা, নেত্রকোনা, নওগাঁ, মাদারীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও রাজবাড়ীতে মোট ১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় গাজীপুরের কার্যালয় পরবর্তী পর্যায়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।

আইএমইডির মূল্যায়নে দেখা গেছে, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর অংশ হিসেবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ১৫ লাখ ১ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদনে (পিসিআর) এ খাতে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্যও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সরেজমিন পরিদর্শনে কোনো কার্যালয়েই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি।

একইভাবে, বনায়নের জন্য ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ এবং ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য থাকলেও অধিকাংশ কার্যালয় প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণের প্রমাণ মেলেনি। এ কারণে ব্যয়ের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে আইএমইডি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পটি ২০২১ সালে শেষ হলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো বাহ্যিক অডিট সম্পন্ন হয়নি। দ্রুত পূর্ণাঙ্গ অডিট সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। জামালপুর, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মাগুরা, বাগেরহাট, নেত্রকোনা ও নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল রয়েছে। সাতক্ষীরা কার্যালয়ে মেরামতের কাজ চলছে। শরীয়তপুর কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল থাকলেও স্টোরেজ ব্যাটারি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ভোলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সৌর প্যানেলের একটি অংশ নষ্ট অবস্থায় রয়েছে।

নির্মাণমান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমইডি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ভবনের মান সন্তোষজনক নয়। ভবনের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টার খসে পড়েছে, বাইরের রঙ নষ্ট হয়েছে এবং দেয়ালে শেওলা জমেছে। বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় ভবনটি ঝুঁকির মধ্যেও রয়েছে।

এ ছাড়া মাদারীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বজ্রনিরোধক দণ্ড ভবনের সর্বোচ্চ স্থানে স্থাপন না করায় বজ্রপাতের সময় ভবন ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাগেরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর না হওয়ায় প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকাজও ব্যাহত হচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াতেও প্রশাসনিক অস্থিরতার চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। ২০১৬ সালের ৩০ জুন একনেকে অনুমোদনের পর ১৭ জুলাই প্রথম প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হলেও বাস্তবায়নকালে মোট ছয়বার প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন করা হয়।

আইএমইডি সুপারিশ করেছে, অচল সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা দ্রুত সচল করে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। বাগেরহাট কার্যালয় দ্রুত হস্তান্তর, মাদারীপুরে বজ্রনিরোধক দণ্ড পুনঃস্থাপন এবং ভোলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নিম্নমানের নির্মাণকাজ দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও বনায়ন খাতে দেখানো ব্যয়ের বাস্তবতা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ই-পাসপোর্ট আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই আরও সহজ ও নির্ভুল করতে ই-পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক ডাটাবেজকে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বায়োমেট্রিক ডাটাবেজের সঙ্গে সমন্বয়ের সুপারিশ করেছে আইএমইডি।

এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অর্থ) এটিএম আবু আসাদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তার কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। বিস্তারিত জেনে পরে মন্তব্য করবেন। তবে তার দাবি, দেশের বিভিন্ন জেলার পাসপোর্ট অফিস অন্য অনেক সরকারি কার্যালয়ের তুলনায় বেশি পরিচ্ছন্ন এবং সেখানে তুলনামূলক বেশি গাছপালা রয়েছে।

ভোলা সহ ১৬ পাসপোর্ট অফিসে ‘অদৃশ্য’ রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং : ব্যয়ের হিসাব থাকলেও মিলেনি বাস্তব প্রমাণ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভোলা জেলা পুলিশ লাইন্সে ১০ শয্যার আধুনিকায়নকৃত হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় জমকালো এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার। লাল ফিতা কেটে, নামফলক উন্মোচন এবং বিশেষ দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

এ সময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আহসানুজ্জামান, ভোলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম, লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ। ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, ডিআইও শেখ মোনায়েম হোসেন এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হকসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উদ্বোধন শেষে পুলিশ সুপার হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ, শয্যা এবং চিকিৎসা সেবার সুযোগ-সুবিধাগুলো ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বরতদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওছার বলেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এই হাসপাতালটিকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। আমরা আশা করি, এই আধুনিকায়নের ফলে এখন থেকে আরও উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।

আধুনিক চিকিৎসা সামগ্রী ও উন্নত পরিবেশ সম্বলিত এই ১০ শয্যার হাসপাতালটি পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা সেবায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোলায় আধুনিকায়নকৃত ১০ শয্যার পুলিশ লাইন্স হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।

এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেত, জিজেইউএস এর উপ পরিচালক গোপাল চন্দ্র শীল সহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভোলাসহ ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু!

ভোলাসহ ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু!

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।

এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেত, জিজেইউএস এর উপ পরিচালক গোপাল চন্দ্র শীল সহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কৃষি ডেস্ক ::
বর্তমান কৃষিতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য জৈব সারের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত চায়ের পাতা সাধারণত বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হলেও এটি আসলে একটি মূল্যবান জৈব সম্পদ। ব্যবহৃত চা-পাতায় প্রচুর জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ফসফরাসসহ বিভিন্ন অণুপুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়ের বর্জ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার করলে এটি মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক গুণাগুণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
🔳 চায়ের বর্জ্য জৈব সারের প্রধান উপকারিতা
১. মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধি করে
চায়ের বর্জ্যে থাকা জৈব উপাদান মাটির অর্গানিক ম্যাটার বৃদ্ধি করে। ফলে মাটির গঠন উন্নত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে মাটির উৎপাদনশীলতা বজায় থাকে।
২. মাটির উর্বরতা ও পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করে
চায়ের বর্জ্যে নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও বিভিন্ন অণুপুষ্টি উপাদান থাকে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও ফলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৩. পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে
বেলে বা হালকা মাটিতে চায়ের বর্জ্য মিশিয়ে দিলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ফলে সেচের প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমে।
৪. মাটির উপকারী অণুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি করে
জৈব পদার্থ মাটির উপকারী ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও কেঁচোর কার্যক্রম বৃদ্ধি করে। এর ফলে মাটিতে পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা বাড়ে।
৫. শিকড়ের বৃদ্ধি ও গাছের স্বাস্থ্য উন্নত করে
চায়ের বর্জ্য মাটিকে ঝুরঝুরে রাখে, ফলে শিকড় সহজে বিস্তার লাভ করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।
৬. রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরতা কমায়
নিয়মিত জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে রাসায়নিক সারের আংশিক বিকল্প হিসেবে কাজ করে, যা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা করে।
৭. পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে
চায়ের বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত হয় এবং পরিবেশ দূষণ কমে। এটি টেকসই কৃষি ব্যবস্থার একটি কার্যকর উপাদান।
🔳 কোন কোন ফসলে ব্যবহার করা যায়?
 সবজি ফসল (টমেটো, বেগুন, মরিচ, বাঁধাকপি ইত্যাদি)
 ফলদ গাছ (আম, পেয়ারা, লেবু, ডালিম, পেঁপে)
 ফুলের গাছ (গোলাপ, গাঁদা, জবা)
 ছাদবাগান ও টবের গাছ
 নার্সারির চারা উৎপাদনে
🔳ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি
 ব্যবহৃত চা-পাতা থেকে দুধ ও চিনির অংশ পরিষ্কার করে নিতে হবে।
 ২–৩ দিন রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।
 প্রতি টব বা গাছের গোড়ায় অল্প পরিমাণে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।
কম্পোস্ট তৈরির উপাদান হিসেবেও চায়ের বর্জ্য ব্যবহার করা যায়।
 অন্যান্য জৈব সারের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।
🔳 ব্যবহারে সতর্কতা
অতিরিক্ত পরিমাণে প্রয়োগ করা যাবে না।
ভেজা অবস্থায় দীর্ঘদিন জমিয়ে রাখলে ছত্রাক জন্মাতে পারে।
দুধ ও চিনি মিশ্রিত চা-পাতা সরাসরি ব্যবহার করা উচিত নয়।
মাটির অম্লতা বেশি হলে সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করা উত্তম।
চায়ের বর্জ্য কোনো ফেলনা বস্তু নয়; বরং এটি কৃষি ও বাগান ব্যবস্থাপনায় একটি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব জৈব সার। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে চায়ের বর্জ্যের যথাযথ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।  তাই আসুন, দৈনন্দিন জীবনের এই সাধারণ বর্জ্যকে মূল্যবান কৃষি সম্পদে পরিণত করি এবং সবুজ ও নিরাপদ কৃষি গড়ে তুলতে সচেষ্ট হই।
লেখক: 
★সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক,বাংলাদেশ বেতার
★সাবেক সিনিয়র শিক্ষক ও পরীক্ষক (কৃষি শিক্ষা)
★উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ

কৃষিতে এক সম্ভাবনাময় সম্পদ : চায়ের বর্জ্য থেকে জৈব সার

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলায় দীর্ঘ চার বছর ধরে জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জেলার অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত এই বৃত্তি না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোলা জেলা পরিষদ থেকে প্রতিবছর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হতো। এই সহায়তা অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বহন করত। তবে সর্বশেষ প্রায় চার বছর আগে এই বৃত্তি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে নতুন কোনো বিজ্ঞপ্তি বা বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম চালু হয়নি।

এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা জেলা পরিষদের বৃত্তির অপেক্ষায় থাকলেও কোনো ধরনের ঘোষণা বা কার্যক্রম দেখা যায়নি। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

ভোলা সরকারি কলেজ ও ভোলা সরকারি মহিলা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বৃত্তির জন্য আমরা প্রতিবছর আশায় থাকতাম। কিন্তু গত চার বছর ধরে কোনো খবর নেই। এই সহায়তা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকা উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত এই কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পিন্টু বেপারী বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং পূর্ববর্তী চার বছরে বৃত্তি কার্যক্রম কেন বন্ধ ছিল সে বিষয়ে পূর্ববর্তী প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাতে পারবেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং দ্রুত বৃত্তি কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভোলায় ৪ বছর ধরে জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ, অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিপাকে

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

বাবা-মা’র কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় সায়িত হয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মঙ্গলবার (২জুন) বিকাল ৪টা ১০ মিনিটের সময় তার গ্রামের বাড়ি ভোলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া এলাকায় তৃতীয় নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশেই সমাহিত করা হয়।


এর আগে দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন ভোলার খলিফাপট্টি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মহিউদ্দিন। জানাজায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম নবী আলমগীর, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ দল মত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং হাজারো মানুষের ঢল নামে। শেষবারের মতো তাকে এক নজর দেখা ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ভোলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও ভোলার সর্বস্তরের মানুষ।
জানাযা নামাজের পূর্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনারের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠককে। জেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ‘গার্ড অব অনার’ প্রদর্শন করেন।

ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর ও সদস্য সচিব রাইসুল আলম, জেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদক হারুন অর রশিদ টুমেনসহ নেতারা জানাজাস্থলে এসে মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় জানাজার আগে তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহীন ও আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুর রহমান বাহালুল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইউনুছ, সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র সালাউদ্দিন লিংকন বলেন, তোফায়েল আহমেদ একক রাজনীতি দলের নেতা নন। তিনি ভোলাবাসীর অভিভাবক ছিলেন। জানাজায় আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পাটি, জামায়াতে ইসলামসহ সব দলের সব পেশার মানুষ অংশ নেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানান।

এর আাগে আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে মরদেহ নিয়ে আসা হয় ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে। সেখান থেকে ফ্রিজিং ভ্যানে মরদেহটি নেওয়া হয় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। এ সময় তোফায়েল আহমেদকে বহনকারী হেলিকপ্টার ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা হেলিপ্যাডে ভিড় জমান।
বর্ণাঢ্য জীবন :
বাংলাদেশের রাজনীতি ও আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রনায়কের নাম তোফায়েল আহমেদ। দ্বীপজেলা ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামের ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মৌলভী আজহার আলী ব্যবসায়ী ও মা গৃহিণী ফাতেমা খানম।
১৯৬৪ সালে সদর উপজেলার ধনিয়ার বাসিন্দা মফিজুল হক তালুকদারের বড় মেয়ে আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তার বিবাহিত জীবন শুরু হয়। তোফায়েল আহমেদ এক কন্যার জনক।
রাজনীতির বরপুত্রখ্যাত তোফায়েল আহমেদ ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৬২ সালে আইএসসি ও ১৯৬৪ সালে বিএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি উত্তীর্ণ হন।
কলেজজীবনেই ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের শুরু। ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক পদে এবং কলেজের অশ্বিনী কুমার হলের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ইকবাল (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) হল ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, ১৯৬৫ সালে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের সহসভাপতি এবং ১৯৬৬-৬৭ সালে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপির দায়িত্ব পালনকালে চারটি ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন তোফায়েল আহমেদ। এরপর শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফাকে ১১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করে ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৬ সালের ৮ মে থেকে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৩৩ মাস কারাগারে আটক শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তির জন্য তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ সারা বাংলায় তৃণমূল পর্যন্ত গণ-আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবসহ সব রাজবন্দির মুক্তির পর ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে তিনি বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭০-এর ৭ জুন শেখ মুজিবের নির্দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বস্তুত এরপর সংগ্রামী জননেতা তোফায়েল আহমেদ জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের একজন বলিষ্ঠ সংগঠকে পরিণত হন।
১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোলার দৌলতখাঁন-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। তিনি ছিলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার অধিনায়কের একজন। বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা এলাকার সমন্বয়ে গঠিত মুজিব বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার সংগ্রামে তোফায়েল আহমেদের অংশগ্রহণ ছিল।
১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাকে রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ দেন। ১৯৭৩ সালে নিজ জেলা ভোলা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে দেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ঘোষণার পর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ৬ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ মাস তিনি কারান্তরালে ছিলেন। ১৯৭৮ সালে কুষ্টিয়া কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ৯৬ সালের সংসদ নির্বাচ

তোফায়েল আহমেদ ছিলেন রাজনীতির বরপুত্র : ভোলাবাসীর অভিভাবক

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর এলাকা থেকে নয় মাস বয়সী সন্তান তাহসিফকে নিয়ে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এসেছেন মুক্তা বেগম। হাম রোগে আক্রান্ত শিশুটিকে গত ২৬ মে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তবে ভর্তি হওয়ার পরও নিয়মিত চিকিৎসক পাননি বলে অভিযোগ তার। মুক্তা বেগম বলেন, একদিন ডাক্তার এসে কিছুক্ষণ দেখে গেছেন, কিন্তু পরে আর নিয়মিত দেখা পাইনি। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেন ভোলার ওয়েস্টার্ণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হাসান। তিনি বলেন, ঈদের দুই দিন আগে অসুস্থ সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। কয়েক দিনে মাত্র একবার চিকিৎসকের দেখা পেয়েছেন, সেটিও খুব অল্প সময়ের জন্য। তার দাবি, শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি অধিকাংশ রোগীর স্বজন একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বীপজেলা ভোলার সবচেয়ে বড় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বহির্বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীর চাপ থাকে। তবে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে অপরিচ্ছন্নতা, ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের চিত্রও চোখে পড়ে। বিশেষ করে টয়লেটগুলোর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা।

ভেদুরিয়া টেকেরহাট এলাকা থেকে আসা রোগীর স্বজন নয়ন তারা বলেন, হাম ওয়ার্ডের টয়লেট শত শত রোগী ও স্বজনরা ব্যবহার করলেও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। দুর্গন্ধে সেখানে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। অন্যদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার মনিরাম এলাকা থেকে আসা মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ অভিযোগ করেন, হাসপাতালে নিরাপদ খাবার পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে সামর্থ্যবানরা বাইরে থেকে পানি কিনে আনছেন, আর অনেকে বাধ্য হয়ে বাথরুমের ট্যাপের পানি পান করছেন। তবে হাসপাতাল কম্পাউন্ডে একটি টিউবওয়েল দেখা গেছে। যা শিশু ওয়ার্ড থেকে ৩তলা নীচে। রোগীদের পানি সংগ্রহে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: সালাউদ্দিন আহমেদ শিশু ওয়ার্ডে শিশুদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত হাম রোগী ভর্তি থাকায় একটি শয্যায় চার থেকে পাঁচজন শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অনেক শিশুকে ওয়ার্ডের বারান্দা মেঝে ও সিড়িতে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন রোগীর স্বজনরা। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের কিছু ফ্যান বন্ধ এবং কিছু ফ্যান অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। পর্যাপ্ত বাতাস না থাকায় ওয়ার্ড গুলোর মধ্যে ভ্যাপশা গরম অনুভব করা গেছে। ফ্যান থাকা সত্বেও অনেক রোগীর স্বজনকে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা গেছে।
হাসপাতালে বর্তমানে শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কার্যত একজন চিকিৎসকের ওপরই পুরো বিভাগের দায়িত্ব রয়েছে। হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সালাউদ্দীন জানান, বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগী মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ শিশুকে চিকিৎসাসেবা দিতে হয়। পাশাপাশি হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাও একই সঙ্গে চালিয়ে যেতে হচ্ছে। যা একার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। তবুও আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, রোগীদেরও সচেতন হওয়া জরুরি। একজন অসুস্থ্য শিশুর সাথে তার পরিবারের সুস্থ্য শিশুরাও থাকছে। এতে করে সুস্থ্য শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) আরাফাতুর রহমান নিজেদের অসহায়ত্ব তুলে ধরে জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৫০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যার বড় অংশই শিশু। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। ২৫ শয্যার শিশু ইউনিটে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেক শিশুকে বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, একেকটি বেডে চার থেকে পাঁচটি শিশুকে রাখতে হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সরা এত রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। জরুরি বিভাগে এক মুহূর্তের জন্যও সেবা বন্ধ রাখা যায় না, অথচ প্রয়োজনীয় জনবল নেই। আরএমও আরও জানান, জনবল সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত চিঠি চালাচালি হচ্ছে, এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধান হয়নি। এর জন্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ১০০ শয্যার হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো পুরোনো ১০০ শয্যার জনবল দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে কার্যক্রম। প্রায় সাত বছরেও নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়ায় চিকিৎসাসেবায় চাপ বেড়েছে।
হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাসহ মোট ১৭৯টি পদের মধ্যে বর্তমানে একচতুর্থাংশ পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্ট, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, মেডিকেল অফিসার, অ্যানেসথেটিস্ট, রেডিওলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট ও ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি। পাশাপাশি নার্সিং ও মিডওয়াইফারিসহ গুরুত্বপূর্ণ বহু পদেও জনবল সংকট রয়েছে।
রোগীর স্বজনদের দাবি, শিশু বিভাগে দ্রুত পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ, হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় চিকিৎসাসেবা আরও ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

শিশু বিভাগ ও হাম রোগীদের সামলাচ্ছেন এক চিকিৎসক ॥ রোগীদের নানা অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় যাতায়াতের একমাত্র সি-ট্রাকটি প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন শত শত যাত্রী। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা। দুই মাস ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে মনপুরা টু তজুমদ্দিন এবং তজুমদ্দিন টু মনপুরা রুটে চলাচল করতো একমাত্র সি-ট্রাক ‘এসটি ইলিশা’। কিন্তু প্রায় দুই মাস আগে ইঞ্জিন বিকল হয়ে বন্ধ হয়ে যায় সি-ট্রাকটি। এরমধ্যে পরিবর্তন হয় ইজারাদার। নতুন ইজারাদার নিয়োগ হলেও আজও চালু হয়নি সি-ট্রাকটি। ফলে প্রতিদিনই অবৈধ ট্রলার দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মনপুরা উপজেলা থেকে তজুমদ্দিন এবং তজুমদ্দিন থেকে মনপুরা যাতায়াত করছেন শত শত যাত্রী।

মনপুরা-তজুমদ্দিন রুটটি ডেঞ্জার জোন হওয়ায় চলতি মৌসুমে প্রতিদিনই ভয় ও আতঙ্ক সঙ্গী হচ্ছে যাত্রীদের। যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।

ওই রুটের যাত্রী মো. করিম ও বিশ্বজিৎ কুমার জানান, তারা প্রতিনিয়ত মনপুরা থেকে তজুমদ্দিন এবং তজুমদ্দিন থেকে মনপুরা যাতায়াত করেন। সি-ট্রাক থাকাকালীন তারা নিরাপদে যাতায়াত

করতেন। কিন্তু দুই মাস ধরে সি-ট্রাক বন্ধ রয়েছে। এর পরিবর্তে কয়েকটি ট্রলার চলে। ট্রলারে চলাচল করা জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। নদীতে প্রচুর স্রোত থাকে। ঝড়ের বিষয়টিতো রয়েছেই।

‘নদীর যে স্রোত তাকে মনে হয় সাগর পাড়ি দিয়ে মনপুরা যাচ্ছি। সি-ট্রাক থাকলে ঝুঁকিটা কম থাকে। কিন্তু ট্রলারে এই নদী পাড়ি দেওয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ। দুই মাস ধরে সি-ট্রাক বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির কোনো ভূমিকা নেই। এতে বোঝা যায় বিআইডব্লিউটিসি তাদের দায়িত্ব পালন করছে না’।

ক্ষোভ প্রকাশ করে এই দুই যাত্রী বলেন, “তজুমদ্দিন ও মনপুরা নৌ-রুটটি ‘ডেঞ্জার জোন’। অথচ বিআইডব্লিউটিসি দুই মাসের মধ্যে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তারা কি কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সি-ট্রাক চালু করবেন?”

মনপুরার একটি কলেজের প্রভাষক খালেদা রোকসানা। তার বাড়ি খুলনায়। সব সময় তজুমদ্দিন ঘাট হয়ে মনপুরা যান। মনপুরা যেতে বড় নদী ও উত্তাল নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হয়।

রোকসানা আক্তার বলেন, ‘নদীর যে স্রোত তাকে মনে হয় সাগর পাড়ি দিয়ে মনপুরা যাচ্ছি। সি-ট্রাক থাকলে ঝুঁকিটা কম থাকে। কিন্তু ট্রলারে এই নদী পাড়ি দেওয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ। দুই মাস ধরে সি-ট্রাক বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির কোনো ভূমিকা নেই। এতে বোঝা যায় বিআইডব্লিউটিসি তাদের দায়িত্ব পালন করছে না।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিসি কি তাদের ইচ্ছামতো এটি চালু করবে, নাকি এই রুটে দুর্ঘটনায় কয়েকটি মৃত্যু হলে তারপর সি-ট্রাক চালু হবে? ‘তাদের উচিত এটি পরিষ্কার করা।’

যাত্রী মিজানুর রহমান ও মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘এটি চরম অবহেলা যে দুই মাস ধরে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ আছে। অথচ বিআইডব্লিউটিসি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এটা পরিষ্কার বিআইডব্লিউটিসি মনপুরা ও তজুমদ্দিন রুটের যাত্রীদের সঙ্গে চরম স্বেচ্ছাচারিতা করছে।’

“মনপুরা উপজেলায় নিরাপদ যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সি-ট্রাক। কিন্তু এভাবে যদি দিনের পর দিন বন্ধ থাকে, তাহলে যাত্রীরা কীভাবে নিরাপদে যাতায়াত করবেন? এই রুট তো ‘ডেঞ্জার জোন’। এখন ট্রলারে যাতায়াত করতে নিয়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে অনেক যাত্রীর প্রাণহানি হবে। তখন এর দায়ভার কে নেবে?”

‘সি-ট্রাকে সময় লাগতো দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। আর ট্রলারে সময় লাগে ৩-৪ ঘণ্টা। এতে আমাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে’ ‘যোগ করেন এই দুই যাত্রী।

ভোলা সদরে বাড়ি জামাল উদ্দিন ও হারুন মিয়ার। তারা দুজনই আদালাভাবে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এজন্য প্রতিনিয়ত তাদের মনপুরা যেতে হয়।

তারা বলেন, “মনপুরা উপজেলায় নিরাপদ যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সি-ট্রাক। কিন্তু এভাবে যদি দিনের পর দিন বন্ধ থাকে, তাহলে যাত্রীরা কীভাবে নিরাপদে যাতায়াত করবেন? এই রুট তো ‘ডেঞ্জার জোন’। এখন ট্রলারে যাতায়াত করতে নিয়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে অনেক যাত্রীর প্রাণহানি হবে। তখন এর দায়ভার কে নেবে?”

ভোলার চরফ্যাশনে বাড়ি আনোয়ারা বেগমের। তার মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন মনপুরায়। মেয়ে অসুস্থ শুনে মনপুরার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন। চরফ্যাশন থেকেও মনপুরা যাওয়া যায়। কিন্তু সেখানে কোনো নিরাপদ নৌযান না থাকায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা তজুমদ্দিন এসেছেন সি-ট্রাকে করে যাওয়ার জন্য। কিন্তু এখানে এসে দেখেন সি-ট্রাকটি বন্ধ রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে ট্রলারে করে যেতে হবে। তবে যাত্রাপথে তার ভয় নদীর ঢেউ।

মালেকা বেগম বলেন, ‘মনপুরা থেকে ট্রলারে করে তজুমদ্দিন ঘাটে এসেছি। তবে পুরো যাত্রাপথে আতঙ্কে ছিলাম। বড় বড় ঢেউয়ে ট্রলার কাঁপছিল। মনে হচ্ছিল এই বুঝি ডুবে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ও মেয়ে নিয়ে মনপুরা থেকে এসেছি। জীবনে আর কখনো ট্রলারে যাতায়াত করবো না। যদি সি-ট্রাক বন্ধ থাকে, তারপরও আর ট্রলার দিয়ে যাত্রা নয়। আমাদের জীবনের মূল্য আছে।’

যাত্রী নুর ইসলাম ও ইব্রাহীম জানান, মনপুরা-তজুমদ্দিন রুটে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক যাত্রী যাতায়াত করেন। অথচ কারো কারণ ছাড়াই মাঝে মধ্যে সি-ট্রাক বন্ধ থাকে। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির যেন কোনো মাথাব্যথা নেই।

অবৈধ ট্রলার চলাচলের বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ভোলা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় জানান, মনপুরা-তজুমদ্দিন রুটটি ‘ডেঞ্জার জোন’। বর্তমানে ডেঞ্জার জোন চললে। সেখানে সি-ট্রাক বন্ধ থাকায় ট্রলার চলছে কি-না সে বিষয়ে জানা নেই। বিষয়টির খোজখবর নেওয়া হবে। যদি ট্রলার চলে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এতদিন কেন খোঁজখবর নেননি-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাকে কেউ জানাননি।

বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান বলেন, আগের ইজাদারের মেয়াদ শেষ হয় এপ্রিল মাসের শেষের দিকে। এর আগে সি-ট্রাকটি নষ্ট হয়ে যায়। পরে

মনপুরা-তজুমদ্দিন: বন্ধ সি-ট্রাক, ‘ডেঞ্জার জোনে’ যাতায়াতে ভরসা ট্রলার

ডেস্ক প্রতিবেদন ::

১৬ বছর আগে ফরিদপুরে জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা থেকে প্রায় কোটি টাকা লুট হয়। এ ঘটনায় চুরির অভিযোগে করা মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত বছর খালাস পান ব্যাংকটির তৎকালীন নিরাপত্তাপ্রহরী পরেশ চন্দ্র দাস। তবে এই মামলায় হাইকোর্টে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগেই তিনি মারা যান।

একই ঘটনায় মানি স্যুটের (অর্থ উদ্ধারের জন্য দেওয়ানি মামলা) পরিপ্রেক্ষিতে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা প্রথম আপিল খারিজ করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট। বিবাদীদের (পরেশের পরিবার) প্রতি হয়রানি–ভোগান্তির জন্য হাইকোর্ট আপিলকারীকে (জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ) ক্ষতিপূরণমূলক খরচবাবদ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে নির্দেশ দেন। আর পুরো এই অর্থ পরেশের পরিবারের সদস্যের অনুকূলে পরিশোধ করতে বলা হয়।

নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে জনতা ব্যাংকের ফরিদপুর করপোরেট শাখার ভল্ট থেকে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯০ টাকা চুরি বা লুট হয়। তখন নিরাপত্তাপ্রহরী পরেশের বয়স ছিল ৫০ বছর। ঘটনার পরদিন ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এই মামলায় পরেশকে গ্রেপ্তার করা হয়, পরে তিনি জামিন পান।

চুরির অভিযোগে করা ফৌজদারি এই মামলা বিচারাধীন অবস্থায় জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা উদ্ধারের জন্য ২০১৩ সালের ৪ আগস্ট ফরিদপুরের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মানি স্যুট করেন। তিন বছর পর ২০১৬ সালের ২৯ জুন আদালত তা খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আদালত ১০ হাজার টাকা খরচা আরোপ করেন জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি।

বিচারিক আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে হাইকোর্টে আপিল (প্রথম আপিল) করে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এই আপিল খারিজ করে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩ ফেব্রুয়ারি রায় দেনহাইকোর্টের রায়ে ১০ হাজার টাকা খরচা আরোপের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণমূলক খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, চাঞ্চল্যকর এই মামলায় ৯৪ লাখের বেশি অর্থ লুটের অভিযোগ করা হয়। ব্যাংকের ভল্ট খোলার বিষয়ে কোনো অর্থপূর্ণ তদন্ত না করে কেবল ১ নম্বর বিবাদীসহ (পরেশ) দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ভল্টটি কীভাবে খোলা হয়েছিল, তা নির্ণয়ে পুলিশ কার্যকর কোনো তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি দুর্ভাগ্যজনক যে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুট হওয়া সত্ত্বেও প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ অন্যান্য ব্যক্তির ভূমিকা যথাযথভাবে তদন্ত না করে শুধু ১ নম্বর বিবাদীকে (পরেশ) জড়িত করেছে। বিশেষ করে ভল্টের চাবি যাঁদের হেফাজতে ছিল এবং পিকনিক থেকে ফিরে ঘটনার দিন ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে যাঁরা আবার ব্যাংকে প্রবেশ করেছিলেন, তাঁদের বিষয়ে। এতে এমন যুক্তিসংগত আশঙ্কা তৈরি হয় যে প্রকৃত অপরাধীদের আড়ালের উদ্দেশ্য ছিল।

প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থ

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, কর্তৃপক্ষ এই আপিল শুধু ১ নম্বর বিবাদীকে (পরেশ) অপরাধী হিসেবে প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে করেছে, যেখানে অন্যদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা উপেক্ষা করা হয়েছে। এ ধরনের আচরণ আদালতের কার্যপ্রণালির অপব্যবহারের শামিল। ফলে খরচাসহ আপিলটি (জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা) খারিজ করা হলো।

আদালতে পরেশের পরিবারের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। গত সোমবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হয়রানি ও ভোগান্তির জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ পরেশের পরিবারকে সব মিলিয়ে ৬০ হাজার টাকা দিতে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। চুরি বা লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারের জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা চলে না বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে এসেছে। চুরি বা লুটের অভিযোগে অর্থ উদ্ধারে মূল মামলাটি ভ্রান্ত ধারণাপ্রসূত ও গ্রহণযোগ্য নয় রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে আপিলটি খারিজ করা হয়েছে। যাঁদের হেফাজতে ভল্টের চাবি ছিল, তাঁদের ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলায় আসামি বা পক্ষ করা হয়নি। শুধু একজন নিরাপত্তাপ্রহরীকে জড়ানো হয়েছে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য। তাই জনতা ব্যাংকের এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া দরকার।

আদালতে জনতা ব্যাংকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. আরিফ বিল্লাহ ও মো. জামিল আনোয়ার। আইনজীবী আরিফ বিল্লাহ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি এখনো হাতে আসেনি। অনুলিপি পাওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চুরির অভিযোগে করা এই মামলায় ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রায় দেন। রায়ে পরেশকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি দিয়েছিলেন পরেশ। জবানবন্দির ভাষ্য, ২০১০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি ব্যাংকে ঘুমিয়ে থাকেন। গভীর রাতে আসামিরা এসে তাঁর গলায় ছোরা ধরে তাঁকে চুপ থাকতে বলেন। আসামিদের মধ্যে তপু ও জাহিদ ছিলেন। তাঁরা ব্যাংকের সামনে এসে ঘোরাঘুরি করতেন। তাঁরা তাঁকে চা–চটপটি খাওয়াতেন। তাঁরা বলতেন, ব্যাংকে একটি হিসাব খুলবেন। তারপর ঘটনার দিন তাঁরা আসেন। তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা দেন। এই টাকা তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার করতে বলেন। পুলিশ তা উদ্ধার করে।

অবশ্য নথিপত্রে দেখা যায়, মামলা তদন্তের পর পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে জাহিদের নাম আসেনি। তপু ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রায়ে খালাস পান।

ফৌজদারী মামলায়ও খালাস

বিচারিক আদালতের রায়ের পর দায়রা আদালতে আপিল করেন পরেশ। ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের দায়রা আদালত রায় দেন। রায়ে পরেশের সাজা কমে দুই বছরের কারাদণ্ড হয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন আবেদন করেন পরেশ। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ে পরেশকে দায়রা আদালতের দোষীসাব্যস্ত করা ও সাজা বাতিল ঘোষণা করা হয়। ফলে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পান তিনি। হাইকোর্টের রায় ঘোষণার আগে ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই মারা যান পরেশ।

পরেশের মৃত্যুর পর অর্থ উদ্ধার মামলায় জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা প্রথম আপিলে বিবাদী হিসেবে তাঁর স্ত্রী রিতা রানী দাস, ছেলে প্রণব কুমার দাস ও মেয়ে লিপি রানী দাস ২০২৫ সালের ২৬ মে পক্ষভুক্ত হন।

আইনি প্রক্রিয়ায় ১৬ বছর কেটে গেছে বলে উল্লেখ করেন পরেশের ছেলে প্রণব কুমার দাস। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে বাবাসহ আমাদের আমাদের পরিবারকে অনেক ভোগান্তি ও হয়রানি পোহাতে হয়েছে। সামাজিকভাবেও হেয় হতে হয়েছে। আইনি লড়াই চলার মধ্যেই বাবা মারা যান। প্রকৃত অপরাধীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। বাবা নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। তবে তিনি রায়টা দেখে যেতে পারেননি, যা আমাদের কষ্ট দেয়।’

ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন পরেশের চাকরির প্রায় দুই যুগ হয়েছিল বলে জানান প্রণব কুমার দাস। তিনি বলেন, ‘বাবা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর চাকরি–পরবর্তী প্রাপ্য সুবিধা আমাদের পরিবারকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে, এটাই প্রত্যাশা।’

 

ভল্ট থেকে কোটি টাকা লুটের মামলায় নির্দোষ পরেশ : রায় দেখে যেতে পারেন নি জীবদ্দশায় 

খুঁজুন

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

অন্যান্য সংবাদ

খেলাধুলা

অন্যান্য সংবাদ

বিনোদন

অন্যান্য সংবাদ

লাইফস্টাইল

অন্যান্য সংবাদ

শিক্ষা