
ডেস্ক রিপোর্ট ::
স্নেহা চক্রবর্তী। সুনামগঞ্জ সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি-দুই পরীক্ষাতেই জিপিএ ৫। শত প্রতিকূলতার মাঝেও দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে গিয়েছিল মেয়েটি। স্বপ্ন ছিলো বড় হয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবে। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চলতি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয় সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে।
আজ ছিল তার জীবনের একটি নতুন সূচনার দিন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম ক্লাস। গতকাল সকালে বাবার হাত ধরে প্রথমবার পা রাখে স্বপ্নের প্রাঙ্গণে। বাবা বিপুল চক্রবর্তী, শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। চোখে আনন্দের অশ্রু আর গর্ব ভরে মেয়েকে নিয়ে যান ভর্তি করাতে। মেয়ে ভর্তি হলো, ভর্তির কাজ শেষে বিকেলের দিকে বাবার বুক জড়িয়ে ধরে বাড়ির পথে রওনা দেয় স্নেহা। বাবা নিজে তাকে তুলে দেন সিএনজিচালিত অটোরিকশায়। কে জানত, সেই শেষ বিদায়টা হবে এতটা চিরন্তন, এতই নির্মম! পথেই বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে থেমে যায় একটি সম্ভাবনাময় প্রাণ। স্নেহা আর বাড়ি ফিরে আসেনি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মা জ্যোতি চক্রবর্তী আর ছোট ভাই সূর্য চক্রবর্তী ছুটে যান হাসপাতালে। মেয়ের নিথর শরীর দেখে ছটফট করতে করতে জ্ঞান হারান মা। ছোট ভাই সূর্য যেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিল না, শুধু বড় বোন স্নেহার লাশের দিকে তাকিয়ে থাকে! এটা তার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছিল। একে একে পরিবারের নিকটজনরা হাসপাতালে আসতে থাকে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তখন কেবল কান্না আর আহাজারি! একটি পরিবার ভেঙে চুরমার হয়ে গেল মুহূর্তে।
একটি স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস এভাবেই নিরবে লেখা হলো আজ। স্নেহা চক্রবর্তী আর নেই। থেকে গেলো তার অসমাপ্ত স্বপ্ন, বাবার চোখের জল, মায়ের বুকভাঙা কান্না আর ভাইয়ের অজস্র প্রশ্ন,”দিদিগো, তুমি কোথায় গেলে?”
আমরা স্নেহার আত্মার শান্তি কামনা করছি, অনন্তলোকে ভালো থাকুক মেয়েটি। ওঁ দিব্যান্ লোকান্ স গচ্ছতু।।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন