শিরোনাম :
ভোলার মনপুরায় জেলের জালে দুই কেজির ‘রাজা ইলিশ’ এ্যাজলা-জলজ সবুজ সোনা : কৃষি, প্রাণিখাদ্য ও পুষ্টির সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সম্পদ ভোলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বোরহানউদ্দিনে গাঁজা সহ জয়নাল পাটোয়ারী আটক লালমোহনে অবৈধ বালু উত্তোলনব : ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা চান্দিনায় সংখ্যালঘু নারীকে পিটিয়ে হত্যা চরফ্যাশনে ২ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড নির্মাণের ৩৮ বছরেও সংস্কার হয়নি ভোলা বাস টার্মিনাল পরিত্যক্ত ভবন-টিনশেডে পাঠদান : ঝুঁকিতে তজুমদ্দিনের ৭৬ শিক্ষার্থী ভোলা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কার্যালয়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

হোমিও গবেষণায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ডা. জাবির আলী মীর’র সুপারিশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত

সম্পাদক:
  • আপডেট সময় : Saturday, June 13, 2020
  • 2801 বার দেখা হয়েছে

পি.সি মজুমদার শিশির:

নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসামতে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ডা. জাবির আলী মীর‘র গবেষণালব্ধ ফলাফলের  সুপারিশই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিলাভ করেছে।

প্রত্যন্ত পল্লী এলাকার একজন অতি সাধারন মানের হোমিও চিকিৎসক হিসেবে তার আবিস্কৃত ঔষধের গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে হয়ত দেশের মানুষের মাঝে নানা প্রশ্নের অবতারণা হয়েছিল। কটুক্তিও উঠেছিল নানাভাবে।

 

করোনাভাইরাস প্রতিরোধক ও প্রতিকারক হিসেবে ডা. জাবির

আলী মীর’র গবেষণালব্ধ পরীক্ষিত ফলাফলের সুপারিশ অনুযায়ী ACONITE NAP.3x এবং ARSENICUM ALB-30/200 ঔষধ দু’টির বিষয়ে, অনুসন্ধান টিভিনিউজ এর মোল্লাহাট প্রতিনিধি জিয়ারুল ইসলামের পাঠানো একটি সংবাদ গত ১১ ফেব্রুয়ারিতে   প্রকাশিত হয়েছিল। প্রিয় পাঠক সাধারনের উদ্দেশ্যে সেটি পূণ: নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:

বাগেরহাটে হোমিও চিকিৎসায় করোনো ভাইরাসের ঔষধ আবিস্কার!

জিয়ারুল ইসলাম,মোল্লাহাট(বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
  •  আপডেট সময় : Tuesday, February 11, 2020
  •  252 বার দেখা হয়েছে

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ডাঃ জাবির আলী মীর এ সময়ের সবচে’ আলোচিত ‘করোনো ভাইরাস (কভিট-১৯)’ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে হোমিও ঔষধ সেবন শতভাগ কার্যকরী বলে দাবী করেন। একমাত্র হোমিও প্যাথিক ঔষধের প্রয়োগ করে করোনো ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে তিনি জানান। দু’ধাপে তার সুপারিশকৃত ঔষধ প্রয়োগে এ ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকা যায় বলে তার দাবী। ভাইরাসে আক্রান্ত রোগিকে ১ম ধাপে একোনাইট ন্যাপ 3xএবং ২য় ধাপে  অবস্থাভেদে আর্সেনিকাম এ্যালবাম-৩০ অথবা ২০০ শক্তি ঔষধ প্রয়োগ করে এবং তার সাথে কিছু নিবিড় পরিচর্যা করলে করোনো ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে তার মুঠোফোনে (০১৭৫৮১২০২২৯) স্বীকার করেন।

 

ওই সংবাদটি প্রকাশের পর পাঠকদের মধ্যে একজন নজরকাড়া ভাষায় কটাক্ষ করে মন্তব্যে লিখেছিলেন-করোনা রয়েছে চীনে, বাংলাদেশে তো এখনো আসেইনি, তাহলে উনি কী ভাবে এ দেশে বসে ঔষধের সন্ধান পেলেন? উনাকে চীনে পাঠিয়ে দেয়া হোক। কেউবা বলেছেন তাকে পাবনা পাঠাতে। আরও কতজন কত কী বলেছেন!

তখনো এটি কেবল চীনদেশের মহামারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। অন্য কোন দেশে এটি এতো মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়বে তা হয়তো অলীক কল্পনাই ছিল বহিরাষ্ট্রের কাছে। তেমনটি ভেবে হয়তো বাংলাদেশের মানুষও এত গুরুত্ব দেয়নি  মহামারী এ ভাইরাস ও এটির প্রতিরোধ কিংবা প্রতিকারের বিষয় নিয়ে।

সময়ের চাকায় ঘুরতে ঘুরতে ইটালী, আমেরিকা, ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া, স্পেন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানী, তাইওয়ান, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড, আইসল্যান্ডসহ উন্নত বিশ্বে হানা দিয়ে নীরবে সর্বশান্ত করে এ মহামারী যখন বাংলাদেশে লন্ডভন্ড করতে শুরু করেছে, তখন সব মহলেরই টনক নড়েছে। তখনই এর প্রতিরোধক ও প্রতিকারক উদ্ভাবনের জন্য গোটা বিশ্ব জল্পনা-কল্পনা, গবেষণা নিয়ে মহাব্যস্ত। বিশ্বখ্যাত সেরা ধনী বিলগেটস তো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মাঠে ছেড়েই দিয়েছেন; অথচ আজ অব্দি সফল কোনো প্রতিরোধক বা প্রতিকারক উদ্ভাবিত হয়নি যা করোনাভাইরাসকে সমূলে নির্মূল করতে সক্ষম।

এ সন্ধিক্ষনে, অবশেষে বাংলার নিভৃত পল্লীর সেই হোমিও চিকিৎসক ডা. জাবির আলী মীর এর দেয়া তথ্য ও সুপারিশই সঠিক বলে প্রমানিত হয়েছে। স্বীকৃত হয়েছে আন্তর্জাতিকভাবেও। ‘ভারতের কেন্দ্রীয় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ’ চিঠিপত্র চালাচালি করে সেই সুপারিশই করেছে।
তুমুল হৈচৈ পড়ে গেছে সেটি নিয়ে গোটা ভারতজুড়ে। ওই ঔষধটিতে নাকি সংকটও দেখা দিয়েছে কোথাও কোথাও।করোনাভাইরাস মহামারীর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ওই সুপারিশ   ZEE-বাংলা সহ ভারতীয় ও এদেশীয়  অনেক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে ইতোমধ্যেই। এমন তথ্যও রয়েছে যে, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসামতে সুপারিশকৃত ওই ঔষধ এখন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
অবশেষে বাংলাদেশেও মিলেছে ওই সুপারিশটির স্বীকৃতি। ‘সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ ইন হোমিওপ্যাথি (ক্যাশ)’ -বাংলাদেশ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রতিরোধক হিসেবে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ আর্সেনিকাম অ্যালবাম-২০০ সুপারিশ করেছে। রাজধানীর ১/১ কমলাপুর বাজার সড়কের রহমান ম্যানশনে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গত ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত ক্যাশ-বাংলাদেশ’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের এক জরুরি আলোচনা সভায় উপস্থিত হোমিওপ্যাথিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতে এই অনুমোদন দেয়া হয়। চিকিৎসকরা অভিমত দেন যে, ওষুধটি ২০ দিন অন্তর পরপর ৩ দিন নিয়মিত খালিপেটে এক মাত্রা সেবন করলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং মানুষের শরীরে এন্টিবডির সৃষ্টি হয়।
ওই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্যাশের সভাপতি ডা: এম.এ কাদের, সাধারণ সম্পাদক ডা: মো: আব্দুল মজিদ, সহসভাপতি ডা: মো: কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, ডা: মো: জাহাঙ্গীর, ডা: মো: আশরাফুর রহমান, ডা: সাইদুর রহমান কামাল, যুগ্ম সচিব ডা: তারেকুজ্জামান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: আতাহার আলী, ডা: মো: লুতফর রহমান, ডা: লিটন কান্তি ভৌমিক, ডা: আনোয়ার এইচ বিশ্বাস, ডা: আয়েশা সিদ্দিকা, ডা: কামরুন্নাহার মুন্নি, ডা: আবু তাহের, ডা: আ.ন.ম কামরুল হক প্রমুখ। (সূত্রঃ নয়াদিগন্ত)।
ডা.জাবির আলী মীর জানান, তিনি স্কুলে পড়েন তখন একটি হোমিও চিকিৎসার বই হাতে পান। ওই বইটি পড়েই তিনি হোমিও চিকিৎসার প্রতি আকৃষ্ট হন। তখন থেকেই তার এ বিষয়ে ঘাটাঘাটি এবং হোমিও চিকিৎসার ওপর নজরদারি ও চর্চ্চা শুরু। তিনি কলেজ জীবনের শুরুতেই ১৯৯৫ সাল থেকে তার  মামা ডা. মানছুরুল আলমের সাথে ঢাকা গুলশানের নর্দা বাজারের বিছমিল্লাহ হোমিও হল-এ প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পেশায় প্রাকটিস শুরু করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে থাকেন। অভিজ্ঞতার আলোকে চিকিৎসা পেশা চালালেও প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই এমন অনুভূতি থেকেই হোমিও ডিগ্রি অর্জনের আগ্রহ সৃষ্টি বলে জানান এই চিকিৎসক। বর্তমানে  তিনি নিজ গ্রাম, বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার গাংনীর স্থানীয় গাংনী বাজারে বিছমিল্লাহ হোমিও হলে নিয়মিত চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত থেকে গোপালগঞ্জ হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চতুর্থ বর্ষে (চূড়ান্ত পর্বে) অধ্যায়ন করছেন। পাশাপশি হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রচুর গবেষণামূলককার্যক্রমও চালাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
করোনাভাইরাস চিকিৎসায় হোমিও ঔষধের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাইলে, করোনাভাইরাস(কভিট-১৯) প্রতিরোধক ও প্রতিকারক হিসেবে এর শতভাগ কার্যকারীতা সম্পর্কে বিশ্বে সর্বপ্রথম দাবিদার ডা. জাবির আলী মীর জানান, সুপারিশকৃত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সেবন করলে মানবদেহে ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রমনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শক্তি গড়ে ওঠে, ফলে
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভবনা থাকে না। তিনি  দু’টি ঔষধের নাম বলেন, তার একটি হলো- ACONITE NAP. 3x শক্তি। ফুঁসফুঁস প্রদাহ, সর্দি, কাঁশি, হাঁচি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হামজ্বর, হাঁপানী, বসন্ত, জাতবসন্ত, জলবসন্ত সহ কালবৈশাখী ঝড়ের মতো যে সমস্ত ভাইরাসঘটিত রোগগুলো আকষ্মিকভাবে আক্রমণ করে এ সবের লক্ষন প্রকাশ পেলে, এটি প্রতিকারক হিসেবে রুগীকে প্রাথমিক ভাবে প্রতিদিন খাবার অন্তত: আধা ঘন্টা আগে দিনে ৩ বার (মুমূর্ষু অবস্থায় হলে ২ ঘন্টা অন্তর) আক্রান্তের তীব্রতা অনুযায়ী ৫-৭ ফোঁটা ঔষধ আধাকাপ নরমাল জলসহ ৭ দিন খেতে হবে। এবং অপর ঔষধটি হলো-  ARSENICUM ALB-30 শক্তি (তীব্রতা বেশী হলে ২০০ শক্তি ব্যবহার্য)। এটি রোগীর দ্বিতীয় ধাপের চিকিৎসায়
ব্যবহৃত হয়। প্রথম ধাপের চিকিৎসায় প্রকাশিত লক্ষণ কমে আসলে দ্বীতীয়টি আধা কাপ পানিতে ৫ ফোঁটা মিশিয়ে দিনে ২ বার সকাল ও রাতে খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে সেবন করতে হবে। এভাবে ৭ দিন সেবন করলে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত সুস্থ্য হয়ে
উঠবে। এবং তার সাথে রুগীকে কিছু দিন নিবিড় পরিচর্যায় থাকতে হবে। তবে সুস্থ্য ব্যক্তি দ্বিতীয় ঔষধটি প্রতিরোধক হিসেবে, আধা কাপ নরমাল জলের সাথে ৫ ফোঁটা ঔষধ ২০ দিন অন্তর, পরপর ৩ দিন খালি পেটে দুই মাত্রা করে খেলে শরীরে ভাইরাস প্রতিরোধক শক্তি (এন্টিবডি) তৈরি হয়; ফলে করোনাসহ অন্যান্য ভাইরাসের আক্রমণ থেকে মুক্ত থাকা যায়। তবে, ARSENIC ALB. 30 / 200 ব্যবহারকালীন সময়ে কফি কিংবা অন্য কোনো নেশাজাতীয়দ্রব্য এবং এ ঔষধের এন্টিডোজের কোনো ঔষধ ব্যবহারে বারণ রয়েছে, কারণ তা এর কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় বা বাঁধাগ্রস্ত করে।
ডা. জাবির আলী  মীর এর দেয়া তথ্যমতে, আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে মহামারী রোগে প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় সফলতার দৃষ্টান্ত রয়েছে তার কিছু চিত্র সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১. ১৭৯৯ ও ১৮০১ সালে মহামারী আকারে দেখা দেয়া স্কারলেট ফিভার হোমিওপ্যাথি ঔষধ বেলেডোনা-৩০ প্রয়োগ করে ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যান অন্যান্য চিকিৎসা ব্যবস্থার চেয়ে রোগীর মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন।
২. ১৮১৩ সালে জার্মানীর টাইফাস ফিভার মহামারীতে প্রচলিত চিকিৎসা ধারায় মৃত্যুর হার ছিল যেখানে ৩০% সেখানে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল ২%।
৩. ১৮৩১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কলেরা মহামারীতে প্রচলিত চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ৪০% থাকলেও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল মাত্র ১০%।
৪. ১৮৫৪ সালে যুক্তরাজ্যের লন্ডনের কলেরা মহামারীতে প্রচলিত চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল ৫৯.২% আর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল মাত্র ৯%।
৫. ১৮৫৫ সালে আফ্রিকার রিও-র কলেরা মহামারীতে প্রচলিত চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল ৪০% থেকে ৬০% আর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল মাত্র ২%।
৬. ১৮৬২ থেকে ১৮৬৪ সালের নিউইয়র্ক ডিপথেরিয়ার সংক্রমণে প্রচলিত চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল ৮৩.৬% আর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল মাত্র ১৬.৪%।
৭. ১৮৭৮ সালে আমেরিকার ইউলো ফিভার মহামারীতে প্রচলিত চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল ১৫.৫% আর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল মাত্র ৬%।
৮. ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু মহামারীতে প্রচলিত চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল মাত্র ২৮.২% আর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় মৃত্যুর হার ছিল ১.০৫%।
★ এছাড়া ১৯৭৪ সালে ব্রাজিলের ম্যানিনজাইটিস, ১৯৭১ সালের ভারতের জাপানিজ এনসেফালাইটিস, ২০০৭ সালে কিউবার ল্যাপটোস্পাইরোসিস এবং ২০০৯ সালে ভারতের সোয়ান ফ্লু ইত্যাদি রোগ মহামারী (Epidemic) আকারে দখা দেবার ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে হোমিওপ্যাথির সফলতা ছিল শীর্ষে। মৃত্যুর হার ছিল না বললেই চলে।
★ স্মরণকালের ডেঙ্গু জ্বর ও চিকনগুনিয়া জ্বর রোগের প্রার্দুভাবেও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার সাফল্য রয়েছে প্রশংনীয়।
★ ১৯৯৫ সালে কিউবাতে কেরাটোকঞ্জাকটিভকইটিস রোগে ও ২০০৭ সালে ভারতের কেরালাতে চিকনগুনিয়া রোগে হোমিওপ্যাথি ঔষধ প্রয়োগ করে সফলতা পাওয়া গেছে উল্লেখযোগ্য হারে। (তথ্যগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহিত)
ডা. জাবির আলী মীর বলেন, এতো সফলতার পরও আমাদের দেশের সরকার বা রাজনৈতিক দলের  নেতারা কেন হোমিওপ্যাথিক ঔষধের ব্যবহার করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করছেন না, তা বুঝে উঠতে পারছি না। নাকি হোমিওপ্যাথিক ঔষধের প্রয়োগ করলে দেশের প্রচলিত চিকিৎসা সম্পর্কে মানুষের ধারনা পাল্টে যাবে? তারা প্রচলিত চিকিৎসার পরিবর্তে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহন শুরু করবে, যার ফলে বড় বড় ঔষধ কোম্পানির লোকসান হবে? নাকি এর পিছনে অন্য কোন রহস্যজনক কারন লুকিয়ে রয়েছে? ডাঃ জাবির আলী মীরদের মতো পল্লী চিকিৎসকেরা কি কখনো তাদের প্রতিভা সকলের মাঝে তুলে ধরতে পারবে না?
অনেকটা আক্ষেপের সূরে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রমন নিয়ে যখন চীনে তুমুল হৈচৈ শুরু হয়েছে তখনই আমার ধারনা হয়েছিল- এ পরস্থিতি থেকে বাঁচতে চীন থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ যখন নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবে তখন এ ভাইরাস নি:সন্দেহে ছড়িয়ে পড়বে এবং তা বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক ও মহামারীতে রূপ নিলেও তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এ আশঙ্কা থেকেই আমি ১০০ টিরও অধিক ঔষধের কার্যকারীতা নিয়ে analysis করে অবশেষে এ দু’টি ঔষধ চূড়ান্তভাবে সনাক্ত করে মানবদেহে প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধিকরনে ট্রায়াল হিসেবে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রয়োগ এবং ব্যবহারে উৎসাহিত করি। অত:পর বাংলাদেশেও এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে যখন প্রকম্পিত, তখন  করোনা পজেটিভ রোগীদের মধ্যেও নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রতিকারক হিসেবে তা প্রয়োগ করে শতভাগ সফলতা নিশ্চিত হই।
মিডিয়ায় প্রকাশের পর দেশের বিভিন্ন যায়গার মানুষের মাঝে ব্যাপক সাড়া মিলেছে এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে আমার সুপারিশকৃত ঔষধই এখন ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হচ্ছে  অথচ আমি অবমূল্যায়িত, অবহেলিত! আমি কী তাহলে ভুল দেশে বাস করছি! এতেও আমার কোনও দু:খ নেই, দেশের অগনিত মানুষসহ বিশ্ববাসী আজ আমার দেয়া সুপারিশ গ্রহন করে সুফল পাচ্ছে এটাই আমার সফলতা, স্বার্থকতা এবং বড় প্রাপ্তি ! আমি চাই বিশ্ববাসী সুস্থ্য থাকুক।
হোমিওপ্যাথি শাস্ত্রমতে, করোনাভাইরাসের চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে চাইলে দীর্ঘবছরের অভিজ্ঞ খ্যাতিমান হোমিও চিকিৎসক ও ‘হোমিওপ্যাথিক প্রতিষেধক’ বইয়ের লেখক, দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ (অব:) প্রফেসর ড. গোকুল চন্দ্র বিশ্বাস ( বিসিএস-শিক্ষা, প্রাণীবিজ্ঞান, পিএইচডি) তাঁর মুঠোফোনে (০১৭১৬৭৩১৭৫৩) বলেন, এ্যালোপেথিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের যখন এতোটা উৎকর্ষ সাধিত হয়নি, তখন বিশ্বব্যাপি হোমিও শাস্ত্রানুযায়ী অনেকটাই চিকিৎসা নির্ভর ছিল মানুুষ। অতি সূক্ষমাত্রায় কার্যকরী, এ পদ্ধতিতে চিকিৎসার প্রতি মানুষের আস্থাও ছিল অনেক গভীর। এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের
কল্যাণে অধিকাংশ মানুষই এখন সেদিকে ঝুঁকে পড়েছে। এ কথা সত্য যে, ঝড়ের বেগে আকষ্মিকভাবে ইনফ্লুয়েঞ্জা (ভাইরাসঘটিত রোগ) আক্রমণকারী এসব ছোঁয়াছে জাতীয় রোগের প্রতিরোধক কিংবা প্রতিকারক হিসেবে এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে সফল ঔষধ আবিস্কারে দীর্ঘ সময়, এমন কী বছরের পর বছর লেগে যায়। সেক্ষত্রে হোমিও চিকিৎসাবিজ্ঞান একধাপ এগিয়ে রয়েছে। হোমিও চিকিৎসা পদ্ধতিতে বহু আগেই এর প্রতিরোধ ও প্রতিকারে ঔষধ আবিস্কার হয়েছে; যার সফল প্রয়োগ চলে আসছে যুগ যুগ ধরে।

আকষ্মিকভাবে ইনফ্লুয়েঞ্জা (ভাইরাসঘটিত রোগ) আক্রমণ করে, দেহে এমন সব ছোঁয়াচে বৈশিষ্ট্যের ভাইরাস প্রতিরোধক ক্ষমতা অর্জণের ক্ষেত্রে যেমন হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞানে শতভাগ সফল কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম তেমনি প্রতিকারেও তা অব্যর্থ। কিন্তু যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতায় কখনোই কোনো দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসেননি; ফলে হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা নিজ দায়িত্বে আর অগ্রণী ভূমিকা নিতে তেমনটা আগ্রহী হননি। এ কারণেই বর্তমান জরুরি পরিস্থিতিতেও প্রচারণা তেমনটা নেই।

ড. বিশ্বাস জানান, ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রমণকারি করোনাভাইরাস (কভিট-১৯) নিয়ন্ত্রণে  হোমিও শাস্ত্র অনুযায়ী অন্তত: চল্লিশটি ঔষধ আবিস্কৃত রয়েছে। তবে তিনি তার লেখা বইয়ের মাত্র চারটির সুপারিশ করেছেন। সেগুলো হলো- ARSENIC ALB-200, INFLUENZINUM-200, BAPTISIA-200, EUPATORIUM PERFO-200
অপরদিকে, ঢাকা মিরপুর এলাকায় বঙ্গবন্ধু পেশাজীবি লীগ আমরা পল্লবী বাসী নামে দু’টি সংগঠনের উদ্যোগে করোনাভাইরাস প্রতিরোধক হিসেবে ১ হাজার মানুষের মাঝে বিনামূল্যে ARSENIC ALB-30 বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু পেশাজীবি লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ড. সরকার মো: আবুল কালাম আজাদ। ওই কর্মসূচিতে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড’র চেয়ারম্যান ডা: দিলীপ কুমার রায়, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ডের রেজিস্টার-কাম-সচিব ডা.মো: জাহাঙ্গীর আল, অধ্যাপক ডা. মো: সামছুজ্জোহা আলম এবং বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ফাউন্ডেশন’র মহাসচিব ডা. মো: রফিকুল ইসলাম উপস্থিত থাকবেন বলেও জানিয়েছেন ড. আজাদ।
নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ