পি.সি মজুমদার শিশির:
নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসামতে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ডা. জাবির আলী মীর‘র গবেষণালব্ধ ফলাফলের সুপারিশই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতিলাভ করেছে।
প্রত্যন্ত পল্লী এলাকার একজন অতি সাধারন মানের হোমিও চিকিৎসক হিসেবে তার আবিস্কৃত ঔষধের গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে হয়ত দেশের মানুষের মাঝে নানা প্রশ্নের অবতারণা হয়েছিল। কটুক্তিও উঠেছিল নানাভাবে।
করোনাভাইরাস প্রতিরোধক ও প্রতিকারক হিসেবে ডা. জাবির

আলী মীর’র গবেষণালব্ধ পরীক্ষিত ফলাফলের সুপারিশ অনুযায়ী ACONITE NAP.3x এবং ARSENICUM ALB-30/200 ঔষধ দু’টির বিষয়ে, অনুসন্ধান টিভিনিউজ এর মোল্লাহাট প্রতিনিধি জিয়ারুল ইসলামের পাঠানো একটি সংবাদ গত ১১ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয়েছিল। প্রিয় পাঠক সাধারনের উদ্দেশ্যে সেটি পূণ: নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:
বাগেরহাটে হোমিও চিকিৎসায় করোনো ভাইরাসের ঔষধ আবিস্কার!
জিয়ারুল ইসলাম,মোল্লাহাট(বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
- আপডেট সময় : Tuesday, February 11, 2020
- 252 বার দেখা হয়েছে
বাগেরহাটের মোল্লাহাটে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ডাঃ জাবির আলী মীর এ সময়ের সবচে’ আলোচিত ‘করোনো ভাইরাস (কভিট-১৯)’ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে হোমিও ঔষধ সেবন শতভাগ কার্যকরী বলে দাবী করেন। একমাত্র হোমিও প্যাথিক ঔষধের প্রয়োগ করে করোনো ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব বলে তিনি জানান। দু’ধাপে তার সুপারিশকৃত ঔষধ প্রয়োগে এ ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকা যায় বলে তার দাবী। ভাইরাসে আক্রান্ত রোগিকে ১ম ধাপে একোনাইট ন্যাপ 3xএবং ২য় ধাপে অবস্থাভেদে আর্সেনিকাম এ্যালবাম-৩০ অথবা ২০০ শক্তি ঔষধ প্রয়োগ করে এবং তার সাথে কিছু নিবিড় পরিচর্যা করলে করোনো ভাইরাস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে তার মুঠোফোনে (০১৭৫৮১২০২২৯) স্বীকার করেন।
ওই সংবাদটি প্রকাশের পর পাঠকদের মধ্যে একজন নজরকাড়া ভাষায় কটাক্ষ করে মন্তব্যে লিখেছিলেন-করোনা রয়েছে চীনে, বাংলাদেশে তো এখনো আসেইনি, তাহলে উনি কী ভাবে এ দেশে বসে ঔষধের সন্ধান পেলেন? উনাকে চীনে পাঠিয়ে দেয়া হোক। কেউবা বলেছেন তাকে পাবনা পাঠাতে। আরও কতজন কত কী বলেছেন!
তখনো এটি কেবল চীনদেশের মহামারীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। অন্য কোন দেশে এটি এতো মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়বে তা হয়তো অলীক কল্পনাই ছিল বহিরাষ্ট্রের কাছে। তেমনটি ভেবে হয়তো বাংলাদেশের মানুষও এত গুরুত্ব দেয়নি মহামারী এ ভাইরাস ও এটির প্রতিরোধ কিংবা প্রতিকারের বিষয় নিয়ে।
সময়ের চাকায় ঘুরতে ঘুরতে ইটালী, আমেরিকা, ভারত, ব্রাজিল, রাশিয়া, স্পেন, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানী, তাইওয়ান, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, নরওয়ে, নিউজিল্যান্ড, আইসল্যান্ডসহ উন্নত বিশ্বে হানা দিয়ে নীরবে সর্বশান্ত করে এ মহামারী যখন বাংলাদেশে লন্ডভন্ড করতে শুরু করেছে, তখন সব মহলেরই টনক নড়েছে। তখনই এর প্রতিরোধক ও প্রতিকারক উদ্ভাবনের জন্য গোটা বিশ্ব জল্পনা-কল্পনা, গবেষণা নিয়ে মহাব্যস্ত। বিশ্বখ্যাত সেরা ধনী বিলগেটস তো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মাঠে ছেড়েই দিয়েছেন; অথচ আজ অব্দি সফল কোনো প্রতিরোধক বা প্রতিকারক উদ্ভাবিত হয়নি যা করোনাভাইরাসকে সমূলে নির্মূল করতে সক্ষম।

এ সন্ধিক্ষনে, অবশেষে বাংলার নিভৃত পল্লীর সেই হোমিও চিকিৎসক ডা. জাবির আলী মীর এর দেয়া তথ্য ও সুপারিশই সঠিক বলে প্রমানিত হয়েছে। স্বীকৃত হয়েছে আন্তর্জাতিকভাবেও। ‘ভারতের কেন্দ্রীয় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ’ চিঠিপত্র চালাচালি করে সেই সুপারিশই করেছে।
তুমুল হৈচৈ পড়ে গেছে সেটি নিয়ে গোটা ভারতজুড়ে। ওই ঔষধটিতে নাকি সংকটও দেখা দিয়েছে কোথাও কোথাও।করোনাভাইরাস মহামারীর হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ওই সুপারিশ ZEE-বাংলা সহ ভারতীয় ও এদেশীয় অনেক গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে ইতোমধ্যেই। এমন তথ্যও রয়েছে যে, হোমিওপ্যাথি চিকিৎসামতে সুপারিশকৃত ওই ঔষধ এখন বিশ্বব্যাপী সমাদৃত।
অবশেষে বাংলাদেশেও মিলেছে ওই সুপারিশটির স্বীকৃতি। ‘সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ ইন হোমিওপ্যাথি (ক্যাশ)’ -বাংলাদেশ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের প্রতিরোধক হিসেবে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ আর্সেনিকাম অ্যালবাম-২০০ সুপারিশ করেছে। রাজধানীর ১/১ কমলাপুর বাজার সড়কের রহমান ম্যানশনে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গত ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত ক্যাশ-বাংলাদেশ’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের এক জরুরি আলোচনা সভায় উপস্থিত হোমিওপ্যাথিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতে এই অনুমোদন দেয়া হয়। চিকিৎসকরা অভিমত দেন যে, ওষুধটি ২০ দিন অন্তর পরপর ৩ দিন নিয়মিত খালিপেটে এক মাত্রা সেবন করলে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং মানুষের শরীরে এন্টিবডির সৃষ্টি হয়।
ওই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ক্যাশের সভাপতি ডা: এম.এ কাদের, সাধারণ সম্পাদক ডা: মো: আব্দুল মজিদ, সহসভাপতি ডা: মো: কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, ডা: মো: জাহাঙ্গীর, ডা: মো: আশরাফুর রহমান, ডা: সাইদুর রহমান কামাল, যুগ্ম সচিব ডা: তারেকুজ্জামান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা: আতাহার আলী, ডা: মো: লুতফর রহমান, ডা: লিটন কান্তি ভৌমিক, ডা: আনোয়ার এইচ বিশ্বাস, ডা: আয়েশা সিদ্দিকা, ডা: কামরুন্নাহার মুন্নি, ডা: আবু তাহের, ডা: আ.ন.ম কামরুল হক প্রমুখ। (সূত্রঃ নয়াদিগন্ত)।
ডা.জাবির আলী মীর জানান, তিনি স্কুলে পড়েন তখন একটি হোমিও চিকিৎসার বই হাতে পান। ওই বইটি পড়েই তিনি হোমিও চিকিৎসার প্রতি আকৃষ্ট হন। তখন থেকেই তার এ বিষয়ে ঘাটাঘাটি এবং হোমিও চিকিৎসার ওপর নজরদারি ও চর্চ্চা শুরু। তিনি কলেজ জীবনের শুরুতেই ১৯৯৫ সাল থেকে তার মামা ডা. মানছুরুল আলমের সাথে ঢাকা গুলশানের নর্দা বাজারের বিছমিল্লাহ হোমিও হল-এ প্রথমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পেশায় প্রাকটিস শুরু করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে থাকেন। অভিজ্ঞতার আলোকে চিকিৎসা পেশা চালালেও প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই এমন অনুভূতি থেকেই হোমিও ডিগ্রি অর্জনের আগ্রহ সৃষ্টি বলে জানান এই চিকিৎসক। বর্তমানে তিনি নিজ গ্রাম, বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার গাংনীর স্থানীয় গাংনী বাজারে বিছমিল্লাহ হোমিও হলে নিয়মিত চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত থেকে গোপালগঞ্জ হোমিওপ্যাথি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চতুর্থ বর্ষে (চূড়ান্ত পর্বে) অধ্যায়ন করছেন। পাশাপশি হোমিও চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রচুর গবেষণামূলককার্যক্রমও চালাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

করোনাভাইরাস চিকিৎসায় হোমিও ঔষধের ব্যবহার সম্পর্কে জানতে চাইলে, করোনাভাইরাস(কভিট-১৯) প্রতিরোধক ও প্রতিকারক হিসেবে এর শতভাগ কার্যকারীতা সম্পর্কে বিশ্বে সর্বপ্রথম দাবিদার ডা. জাবির আলী মীর জানান, সুপারিশকৃত হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সেবন করলে মানবদেহে ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রমনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শক্তি গড়ে ওঠে, ফলে
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভবনা থাকে না। তিনি দু’টি ঔষধের নাম বলেন, তার একটি হলো- ACONITE NAP. 3x শক্তি। ফুঁসফুঁস প্রদাহ, সর্দি, কাঁশি, হাঁচি, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, হামজ্বর, হাঁপানী, বসন্ত, জাতবসন্ত, জলবসন্ত সহ কালবৈশাখী ঝড়ের মতো যে সমস্ত ভাইরাসঘটিত রোগগুলো আকষ্মিকভাবে আক্রমণ করে এ সবের লক্ষন প্রকাশ পেলে, এটি প্রতিকারক হিসেবে রুগীকে প্রাথমিক ভাবে প্রতিদিন খাবার অন্তত: আধা ঘন্টা আগে দিনে ৩ বার (মুমূর্ষু অবস্থায় হলে ২ ঘন্টা অন্তর) আক্রান্তের তীব্রতা অনুযায়ী ৫-৭ ফোঁটা ঔষধ আধাকাপ নরমাল জলসহ ৭ দিন খেতে হবে। এবং অপর ঔষধটি হলো- ARSENICUM ALB-30 শক্তি (তীব্রতা বেশী হলে ২০০ শক্তি ব্যবহার্য)। এটি রোগীর দ্বিতীয় ধাপের চিকিৎসায়
ব্যবহৃত হয়। প্রথম ধাপের চিকিৎসায় প্রকাশিত লক্ষণ কমে আসলে দ্বীতীয়টি আধা কাপ পানিতে ৫ ফোঁটা মিশিয়ে দিনে ২ বার সকাল ও রাতে খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে সেবন করতে হবে। এভাবে ৭ দিন সেবন করলে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত সুস্থ্য হয়ে
উঠবে। এবং তার সাথে রুগীকে কিছু দিন নিবিড় পরিচর্যায় থাকতে হবে। তবে সুস্থ্য ব্যক্তি দ্বিতীয় ঔষধটি প্রতিরোধক হিসেবে, আধা কাপ নরমাল জলের সাথে ৫ ফোঁটা ঔষধ ২০ দিন অন্তর, পরপর ৩ দিন খালি পেটে দুই মাত্রা করে খেলে শরীরে ভাইরাস প্রতিরোধক শক্তি (এন্টিবডি) তৈরি হয়; ফলে করোনাসহ অন্যান্য ভাইরাসের আক্রমণ থেকে মুক্ত থাকা যায়। তবে, ARSENIC ALB. 30 / 200 ব্যবহারকালীন সময়ে কফি কিংবা অন্য কোনো নেশাজাতীয়দ্রব্য এবং এ ঔষধের এন্টিডোজের কোনো ঔষধ ব্যবহারে বারণ রয়েছে, কারণ তা এর কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় বা বাঁধাগ্রস্ত করে।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন