ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা: কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম বিএসসি। এলাকায় তিনি একজন বিশিষ্ঠ সংগঠক হিসেবেও পরিচিত। প্রতিষ্ঠা করেছেন পরিবেশ রক্ষা পরিষদ। তিনি সোনাহাট স্থলবন্দর লোড-আনলোড হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। সোনাহাট এসকেএস কিন্ডারগার্টেন স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। অন্যায়-অবিচার, দুর্নীতি, চাঁদাবাজী, মাদক, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একনিষ্ঠ প্রতিবাদী তিনি।
সম্প্রতি এক অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি পড়েছেন চরম বিপদে। করোনাতঙ্ক ভুলে গিয়ে ভুগছেন মাদকের গড ফাদার, নির্মম ভূমিদস্যু, বালুদস্যু সন্ত্রাসী মিজুআতঙ্কে।
সোনাহাট স্থলবন্দর এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসের কারনে বাংলাদেশ-ভারত উভয় রাষ্ট্রে লকডাউনের সুযোগে গত ২ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) থেকে স্থানীয় বিজিবি কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে এলাকার চিহ্নিত মাদকের গড ফাদার, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু, বালুদস্যু ভুরুঙ্গামারীর বানুরকুটি গ্রামের মোঃ আলিমুদ্দীনের ছেলে মোঃ মিজানুর রহমান মিজু ও মোঃ রঞ্জু মিয়া সোনাহাট স্থলবন্দরের ওয়্যার হাউজ সংলগ্ন বানুরকুটি গ্রামের কিছু অংশে ভারত থেকে প্রবাহিত তোস্সা নদীর জিরো পয়েন্টে ১০০৯ নং আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার সংলগ্ন স্থানে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। এ কারনে ব্যাপক ভূমিধ্বস, পরিবেশ বিপর্যয় ও সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশংকা দেখা দেয়। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমূহে অবগত করা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন না করায় অবশেষে স্থানীয় জনগনের প্রতিবাদের মুখে ভূমি ও বালুদস্যুরা তাদের অবৈধ ড্রেজার প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। অবশেষে এরই জের গিয়ে পড়েছে স্কুল শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম বিএসসির ওপর। দূষ্কৃতিকারীদের সন্দেহ, ওই শিক্ষকের নেতৃত্ব ছাড়া এলাকার অসহায় দরীদ্র সহজ সরল জনগনের সাহস হতো না তাদের এসব অকর্মের প্রতিবাদ করা। তারা প্রতিনিয়ত ওই শিক্ষককে মারধরের হুমকি দিচ্ছেন। তাদের ভয়ে তিনি আতংকে রয়েছেন। এ অবস্থায় মিজানুর রহমান মিজু তার পোষ্য সন্ত্রাসীদের ওই শিক্ষকের বাড়িতে পাঠিয়ে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন এবং তাকে যে বা যারা মারধোর করবে তাকে পুরস্কৃত করার ঘোষনা দিয়ে বেড়াচ্ছেন এলাকায়।
নিরুপায় হয়ে স্কুল শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। থানার ওসি এসআই মুক্তা সরকারের ওপর তদন্তের দায়িত্ব দেন।
এসআই মুক্তা সরকার অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ না নেয়ায় অভিযোগকারী ও এলাকাবাসীর সন্দেহ, ইতোমধ্যেই তদন্ত কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে নিয়েছেন প্রতিপক্ষ। এসআই মুক্তা সরকার দীর্ঘদিন যাবৎ একই থানায় চাকরি করার সুবাদে অর্থের বিনিময়ে সন্ত্রাসী মিজানুর রহমান মিজু গংদের অন্যতম সহযোগীতে পরিণত হয়েছেন বলে ধারনা করছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগকারী শিক্ষক এবং এলাকাবাসী এ ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সুবিচার নিশ্চিত করার দাবী জানাচ্ছেন



আপনার মতামত কমেন্টস করুন