শিরোনাম :
বরিশাল নগরীতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম কোনাপাড়ায় উঠান বৈঠক : বিষমুক্ত সবজি চাষে উদ্বুদ্ধকরণ মেথি শাক চাষে পুষ্টি ও বাড়তি আয় ভবন আছে, হোস্টেল আছে-নেই শুধু ম্যাটসের শিক্ষা কার্যক্রম মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে হামলা, আহত ৫ : থানায় মামলা কৃষিপণ্য পরিবহনে চাই নিরাপদ সড়ক জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাব  ভোলা জেনারেল হাসপাতাল : ২৫০ শয্যার হাসপাতালে জনবল ১০০ শয্যার বিসিসির ১১ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জনমত জরিপ : রানা পাল এগিয়ে ক্লু লেস ও চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন : পুরস্কৃত হলেন ঝালকাঠির ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান, মাদক উদ্ধার ওয়ারেন্ট তামিল করায় পুরস্কৃত হয়েছেন এএসআই বাপ্পি দে

বসতবাড়ির আঙ্গীনায় বেডে সবজি চাষ 

আলহাজ্ব ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
  • আপডেট সময় : Saturday, November 1, 2025
  • 639 বার দেখা হয়েছে
কৃষি ডেস্ক ::
বর্তমানে শহর হোক বা গ্রাম-সব জায়গাতেই জমির অভাব
দেখা যাচ্ছে। কিন্তু একটু উদ্যোগ নিলেই বসতবাড়ির আঙ্গীনায় ফাঁকা জায়গায় ছোট ছোট বেড করে সবজি চাষ করে পরিবারে পুষ্টি যোগানো সম্ভব। এতে বাজারের বিষযুক্ত সবজি কেনা লাগে না, আবার সময়ও বাঁচে।
 কেন বেডে সবজি চাষ করবেন?
১️. অল্প জায়গায় ভালো ফলন: 
সামান্য জায়গাতেই বেশি গাছ লাগানো যায়, কারণ বেডে মাটি নরম থাকে, শিকড় সহজে বাড়ে।
২️. পানি জমে না:
বেড উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি নিচে নেমে যায়, গাছ পঁচে না।
৩️. পরিচর্যা সহজ: 
সার, পানি, আগাছা তোলা- সবকিছু হাতের কাছেই করা যায়।
৪️. জৈব সার ব্যবহার সুবিধাজনক: 
গোবর, কম্পোস্ট বা তরল সার সহজে মিশিয়ে দেওয়া যায়।
৫️. নিজের উৎপাদন, নিরাপদ খাবার: বাজারের রাসায়নিক ছাড়া নিজের উৎপাদিত সবজি সবচেয়ে নিরাপদ।
সবজি চাষে বেড তৈরির নিয়ম:
★ জায়গাটা আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন।
★ প্রত্যেক বেডের প্রস্থ ১ মিটার, দৈর্ঘ্য ৩–৪ মিটার, উচ্চতা ২০–২৫ সেমি রাখলে ভালো হয়।
★ দুই বেডের মাঝে ৩০ সেমি ড্রেন রাখুন যাতে পানি জমে না।
★ মাটি খুঁড়ে তাতে পঁচা গোবর সার ৫-৭ কেজি, ছাই ১ কেজি, টিএসপি ৫০ গ্রাম ও ডিএপি ২৫ গ্রাম মিশিয়ে নিন (প্রতি বেডে)।
★ চাইলে নারিকেল ছোঁবড়া, খড় বা শুকনো পাতা দিয়ে মালচিং করে দিন-এতে মাটি আর্দ্র থাকে ও আগাছা কমে।
 কোন মৌসুমে কোন সবজি চাষাবাদ করবেন?
গ্রীষ্মকাল (মার্চ-অগাস্ট): 
লাউ, করলা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, বরবটি, বেগুন।
শরৎ-শীতকাল (সেপ্টেম্বর-ফেব্রুয়ারি): টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শাক, গাজর, বিট, মুলা, পেঁয়াজপাতা ইত্যাদি।
বর্ষাকাল: 
কচু, পুইশাক, কলমিশাক, লালশাক বা ধনে পাতা চাষ করা যায়।
বেড পরিচর্যা ও সার ব্যবস্থাপনা:
সেচ: মাটি শুকিয়ে গেলে সকালে বা বিকেলে পানি দিন। অতিরিক্ত পানি দেবেন না।
সার: প্রতি ১৫ দিনে একবার তরল জৈব সার (গোবর, ছাই ও গুর মিশ্রণ) দিন।
আগাছা: প্রতি ৭–১০ দিনে আগাছা পরিষ্কার করুন।
পোকামাকড় দমন:
নিমপাতা, সজিনার পাতা বা মরিচ-রসুন বালাইনাশক ব্যবহার করুন। রাসায়নিক কীটনাশক এড়িয়ে চলুন।
ফলন ও লাভ:
একটা ছোট ৫-৬টা বেডে নিয়মিত চাষ করলে
👉 পরিবারের সবজির চাহিদা প্রায় পুরোটা মেটে,
👉 অতিরিক্ত সবজি বিক্রি করেও সামান্য আয় হয়,
👉 আবার বাড়ির পরিবেশ সবুজ ও ঠান্ডা থাকে।
বসতবাড়ির সামনে থাকা ছোট্ট জায়গাটুকু যদি কাজে লাগানো যায়, তাহলে নিজের হাতে উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজি দিয়ে পরিবারকে পুষ্টি দেওয়া সম্ভব। এতে বাজারের উপর নির্ভরতা কমে, অর্থ সাশ্রয় হয়, আর মনের প্রশান্তিও পাওয়া যায়।
লেখক:
আলহাজ্ব ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
★ সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★ উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি
★ সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী,ঢাকা।
নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ