শিরোনাম :
নির্মাণের ৩৮ বছরেও সংস্কার হয়নি ভোলা বাস টার্মিনাল পরিত্যক্ত ভবন-টিনশেডে পাঠদান : ঝুঁকিতে তজুমদ্দিনের ৭৬ শিক্ষার্থী ভোলা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কার্যালয়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ভোলায় এসএসসিতে পাসের হার ৫৩.৭১ শতাংশ : ফলাফলে মেয়েরা এগিয়ে ১৮ ফুট পর্যন্ত ঢেউ, ৩ নম্বর সংকেত : সমুদ্রে না যাওয়ার আহ্বান কোস্ট গার্ডের চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক কপিরাইট রেজিস্ট্রারকে ‘বাংলার আধ্যাত্মিক রত্ন সম্ভার’ গ্রন্থ উপহার বিপিএফ’র সভাপতির সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় বোরহানউদ্দিনে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ : ৫ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৩ হেল্পস্টার চ্যারিটি অর্গানাইজেশন’র উদ্যোগে কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পরিত্যক্ত ভবন-টিনশেডে পাঠদান : ঝুঁকিতে তজুমদ্দিনের ৭৬ শিক্ষার্থী

প্রতিম গাঙ্গুলী
  • আপডেট সময় : Saturday, August 15, 2026
  • 7 বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়নের ৯৯ নম্বর বড় রামরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ টিনশেড কক্ষে চলছে পাঠদান। ছোট ও অপ্রতুল শ্রেণিকক্ষ, পর্যাপ্ত শৌচাগার ও সুপেয় পানির সংকটসহ নানা অব্যবস্থাপনায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। এতে বিদ্যালয়ের ৭৬ শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মানসম্মত শিক্ষা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯২ সালে তৎকালীন বড় মলনচড়া ইউনিয়নে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। মেঘনা নদীর ভাঙনের কারণে ২০০৩ সালে এটি শম্ভুপুর ইউনিয়নের কোড়ালমারা ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। ২০২০ সালে বিদ্যালয়ের মূল ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকেই বিকল্প হিসেবে টিনশেড কক্ষে পাঠদান চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে তিনটি ছোট টিনশেড শ্রেণিকক্ষ এবং একটি ছোট অফিসকক্ষ রয়েছে। শ্রেণিকক্ষগুলো এতটাই কাছাকাছি যে একটি কক্ষে পাঠদানের শব্দ পাশের কক্ষেও পৌঁছে যায়। ফলে একাধিক শ্রেণিতে একই সময়ে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। টিনশেড ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও নেই টিউবওয়েল। পর্যাপ্ত শৌচাগার সুবিধাও নেই। পানি পান ও প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটাতে শিক্ষার্থীদের পাশের বাড়িতে যেতে হয়।

বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশও সীমিত। পর্যাপ্ত শিক্ষাসামগ্রী ও খেলাধুলার উপকরণ নেই। বিদ্যালয়ের সামনে নিয়মিত সমাবেশ হলেও শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।

শিক্ষার্থীরা জানায়, আশপাশের বিদ্যালয়গুলোর তুলনায় তাদের বিদ্যালয়ের পরিবেশ অনেকটাই অপ্রতুল। বিশেষ করে গরমের সময় টিনের ছাদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে। এতে ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়।

অভিভাবকেরা বলেন, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তবে এলাকায় বিকল্প বিদ্যালয় বা সুবিধাজনক ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই সন্তানদের সেখানে পাঠাতে হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তহমিনা মুক্তা বলেন, ‘মূল পাকা ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় টিনশেডে পাঠদান করাতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে এবং কখনো জলাবদ্ধতাও তৈরি হয়। গরমের সময় টিনের ছাদ খুব দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় শিশুদের ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, টিনশেড হওয়ায় নিরাপত্তা সমস্যাও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে টিন কেটে চোরেরা বিদ্যালয়ে ঢুকে ফ্যান, বাতি ও আসবাবপত্র নিয়ে গেছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। ছয়টি শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন চারজন। এর মধ্যে একজন শিক্ষক বর্তমানে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে রয়েছেন। শিশু শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ৭৬ জন।

শম্ভুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন হাওলাদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টিনশেড কক্ষে পাঠদান চলছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।

তজুমদ্দিন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিয়াজ আলম বলেন, তিনি এ উপজেলায় সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন। বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পিইডিপি-৫ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও অস্থায়ী টিনশেডের বদলে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে বিদ্যালয়টিতে নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার পাশাপাশি শিক্ষার মানও উন্নত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ভোলায় এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। জেলায় মোট ১৪ হাজার ১৯৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭ হাজার ৬২৫ জন।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের দিক থেকে এবারও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৩ হাজার ৪৫৯ জন এবং ছাত্রী ৪ হাজার ১৫৬ জন। অর্থাৎ মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।

জেলায় এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৪০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ১৫৭ জন এবং ছাত্রী ১৮৩ জন। জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় মোট ২২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ফল প্রকাশের পর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তবে সামগ্রিক পাসের হার প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হতাশাও দেখা গেছে। বিশেষ করে গত বছরের তুলনায় এবারের ফলাফলে ভোলায় পাসের হার কমেছে, ফলে সার্বিক ফলাফল নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে ভাবনার জায়গা তৈরি হয়েছে।

ফলাফলের পরিসংখ্যান বলছে, সংখ্যার বিচারে শুধু পাসের হারেই নয়, জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে। ফলে জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষায় মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্যের বিষয়টি এবারও স্পষ্ট হয়েছে।

তবে জেলার সামগ্রিক পাসের হার ৫৩ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমে আসায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নে বিদ্যালয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ, দুর্বলতার কারণ চিহ্নিতকরণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলায় এসএসসিতে পাসের হার ৫৩.৭১ শতাংশ : ফলাফলে মেয়েরা এগিয়ে

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

সম্প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর কপিরাইট রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত সচিব) এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র সহকারী সচিব মহোদয়ের হাতে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) প্রকাশিত গ্রন্থ ‘বাংলার আধ্যাত্মিক রত্ন সম্ভার-২০ জন মহান আউলিয়ার জীবন ও সাধনা’ সৌজন্য উপহার হিসেবে তুলে দেন বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের (BPF) এর সভাপতি বিশিষ্ট লেখকড.  সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ।

এ সময় তিনি গ্রন্থটির প্রকাশনার উদ্দেশ্য, বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মহান আউলিয়াদের জীবনাদর্শ তুলে ধরার গুরুত্ব সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। কপিরাইট রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার গ্রন্থটি গ্রহণ করে এর প্রকাশনা উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং লেখকের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

কপিরাইট রেজিস্ট্রারকে ‘বাংলার আধ্যাত্মিক রত্ন সম্ভার’ গ্রন্থ উপহার বিপিএফ’র সভাপতির

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিশিষ্ট লেখক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ জাতীয় মাসিক পত্রিকা অগ্নিবার্তা-এর সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা, সিনিয়র সাংবাদিক সমাজ বিশ্লেষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ এবং দৈনিক আমাদের কণ্ঠ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক মো. ইউসুফ আলী’র সঙ্গে ৪ আগষ্ট সন্ধ্যায় সালিমাবাদ ভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।

সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সমসাময়িক সামাজিক, সাংস্কৃতিক, গণমাধ্যম এবং জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের হাতে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) প্রকাশিত তাঁর রচিত গ্রন্থ “বাংলার আধ্যাত্মিক রত্নসম্ভার” তুলে দেন।
গ্রন্থটিতে বাংলার ২০ জন মহান আউলিয়ার জীবন, কর্ম, সাধনা এবং সমাজে তাঁদের অবদানের ওপর তথ্যবহুল ও গবেষণাধর্মী আলোচনা স্থান পেয়েছে।

বইটি ইতোমধ্যে পাঠকমহলে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ গ্রন্থটির বিষয়বস্তু ও প্রকাশনার প্রশংসা করেন এবং আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, ইতিহাস ও মূল্যবোধভিত্তিক এ ধরনের প্রকাশনা সমাজে ইতিবাচক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

শেষে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও মতবিনিময় হয়। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষ হয়।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। বাকি দুই অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কাচিয়া ইউনিয়নের পদ্মামনসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার পরিচয় আইনি কারণে প্রকাশ করা হলো না।

মামলার বাদী ভুক্তভোগীর ভাই। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাতায়াতের পথে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত ২৬ জুলাই দুপুরে স্কুলের টিফিন বিরতির সময় বাড়িতে খাবার খেতে যাওয়ার পথে জরুরি কথা বলার কথা বলে একজন অভিযুক্ত তাকে পাশের একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়।

এজাহারে আরও বলা হয়, সেখানে আগে থেকেই আরও চারজন অবস্থান করছিল। ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনাকালে একজন তার মুখ চেপে ধরে এবং অন্যরা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের একজন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায় ওই শিক্ষার্থী। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা করা হয়।

মামলায় ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী পাঁচ কিশোরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা সবাই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের পদ্মামনসা এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, মামলার পর অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে। অপর দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বোরহানউদ্দিন থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তরা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত শিশু আইন অনুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

বোরহানউদ্দিনে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ : ৫ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৩

স্টাফ রিপোর্টার ::
বরিশালে বিভিন্ন স্থানে হেল্পস্টার চ্যারিটি অর্গানাইজেশন এর উদ্যোগে কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬ আগষ্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টার সময় বরিশালের সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাঙ্গার পার, তালতলী বাজার ও একই দিন বিকাল ৫ টার সময় নগরীর পলাশপুরের ৭ নং রোডের মেহেদি মেডিকেলের সম্মুখে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। হেল্পস্টার ই ইউ এর আর্থিক সহযোগিতায় বরিশালের জর্ডন রোডে একমাত্র আল-আকসা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ০ থেকে ২১ বছর পর্যন্ত রোগীদের নিরাময়যোগ্য অপারেশন ও চিকিৎসা সম্পুর্ন বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। সচেতনতা মুলক সভায় বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করেন সিনিয়র প্রতিনিধি মেঘ লাল রায়। অনুষ্ঠানে অপর প্রতিনিধি মোঃ আনোয়ার হোসেন আনুর সার্বিক পরিচালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালী মডেল থানার এস আই রুমা, সমাজসেবিকা শামীমা নাসরিন পুতুল, পল্লী চিকিৎসক মেরাজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

হেল্পস্টার চ্যারিটি অর্গানাইজেশন’র উদ্যোগে কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত