নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ভোলায় এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। জেলায় মোট ১৪ হাজার ১৯৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭ হাজার ৬২৫ জন।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের দিক থেকে এবারও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৩ হাজার ৪৫৯ জন এবং ছাত্রী ৪ হাজার ১৫৬ জন। অর্থাৎ মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।

জেলায় এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৪০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ১৫৭ জন এবং ছাত্রী ১৮৩ জন। জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় মোট ২২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ফল প্রকাশের পর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তবে সামগ্রিক পাসের হার প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হতাশাও দেখা গেছে। বিশেষ করে গত বছরের তুলনায় এবারের ফলাফলে ভোলায় পাসের হার কমেছে, ফলে সার্বিক ফলাফল নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে ভাবনার জায়গা তৈরি হয়েছে।

ফলাফলের পরিসংখ্যান বলছে, সংখ্যার বিচারে শুধু পাসের হারেই নয়, জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে। ফলে জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষায় মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্যের বিষয়টি এবারও স্পষ্ট হয়েছে।

তবে জেলার সামগ্রিক পাসের হার ৫৩ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমে আসায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নে বিদ্যালয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ, দুর্বলতার কারণ চিহ্নিতকরণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ভোলায় এসএসসিতে পাসের হার ৫৩.৭১ শতাংশ : ফলাফলে মেয়েরা এগিয়ে

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। বাকি দুই অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কাচিয়া ইউনিয়নের পদ্মামনসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার পরিচয় আইনি কারণে প্রকাশ করা হলো না।

মামলার বাদী ভুক্তভোগীর ভাই। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাতায়াতের পথে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত ২৬ জুলাই দুপুরে স্কুলের টিফিন বিরতির সময় বাড়িতে খাবার খেতে যাওয়ার পথে জরুরি কথা বলার কথা বলে একজন অভিযুক্ত তাকে পাশের একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়।

এজাহারে আরও বলা হয়, সেখানে আগে থেকেই আরও চারজন অবস্থান করছিল। ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনাকালে একজন তার মুখ চেপে ধরে এবং অন্যরা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের একজন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায় ওই শিক্ষার্থী। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা করা হয়।

মামলায় ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী পাঁচ কিশোরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা সবাই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের পদ্মামনসা এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, মামলার পর অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে। অপর দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বোরহানউদ্দিন থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তরা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত শিশু আইন অনুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

বোরহানউদ্দিনে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ : ৫ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৩