অবশেষে ভূমিদস্যু ও মাদক সম্রাট সন্ত্রাসী মিজুর মিথ্যা মামলা থেকে বেকসুর খালাস পেলেন ৯০ বছরের বৃদ্ধ ময়াজ্বিন হাসর উদ্দিন ও তাঁর পরিবার। বাকী থাকলো চাঁদাবাজি মামলা সহ আরো দুইটি মিথ্যা মামলা!
ঘটনার বিবরনে জানা গেছে, সহজ সরল বৃদ্ধ অসুস্থ্য মুয়াজ্বিন তাঁর পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত বানুরকুটি মৌজার সিএস খতিয়ান নং ৩৫৮, এসএ খতিয়ান নং ৫১৩, ডিপি খতিয়ান নং ৭১১ ও ৭৮৮, দাগ নং ৩৫০, ৩৫১ এ একাত্তর শতাংশ জমি নাম খরিজ করে বংশ পরম্পরায় ব্রিটিশ আমল থেকে নির্বিঘ্নে ভোগ দখল করে আসছেন। ঘটনার সূত্রপাতের পূর্ব থেকেই হাসর উদ্দিনের উক্ত জমিতে রয়েছে তাঁদের বাড়ি ও বাগান।
বিগত ২০১৭ সালের ২১ এপ্রিল শুক্রবার তিনি তাঁর বাড়ী মেরামত করতে থাকাবস্থায় অকস্মাৎ এলাকার চিহ্নিত ওই ভূমিদস্যু, মাদক সম্রাট, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, সোনাহাট ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারন সম্পাদক, কুড়িগ্রাম জেলা ট্রাক, ট্যাংক, কভার্ডভ্যান, ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি নং- রাজ-২৪৮৬) এর সোনাহাট স্থলবন্দর উপ-কমিটির সভাপতি মুর্খ মিজানুর রহমান মিজু(৪৮) ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী বাস্তবায়নাধীন ৪ লেনের জাতীয় মহা সড়ক সংযুক্ত ওই মূল্যবান জমিটি জবর দখলের উদ্দেশ্যে বাড়ি মেরামতে বাঁধা প্রদান এবং জমি দখলের চেষ্টা করেন। এ অবস্থায় বৃদ্ধ মুয়াজ্বিন হাসর উদ্দিন ভূরুঙ্গামারী থানায় যোগাযোগ করলে থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাপস চন্দ্র পাল স্বয়ং ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে মিজু ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী, মিজুর ছোট ভাই জাতীয় শ্রমিক লীগ, সোনাহাট ইউনিয়ন শাখার সাধারন সম্পাদক, ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ ভ্যান পোড়ানোর নাশকতা ও রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার অন্যতম আসামী রঞ্জু মিয়া(৪২) তার শ্যালো ইঞ্জিন চালিত বড় ট্রলি দিয়ে মুহুর্তেই হাসর উদ্দিনের বাড়ি ঘর ভেঙ্গে দিয়ে হাসর উদ্দিনের জমি দখল করে নেন। গুরুতর জখম হন হাসর উদ্দিন ও তাঁর পরিবারের বেশ কয়েকজন।
অথচ পরে রাত সাড়ে ৯ টায় ভূমিদস্যু মিজানুর রহমান মিজু নিজেই বাদী হয়ে মাদক মামলার আসামী বড় ভাই মাদক ব্যবসায়ী আমিনুরের মাধ্যমে বৃদ্ধ মুয়াজ্বিন হাসর উদ্দিন সহ ৬ জনকে আসামী করে ভূরুঙ্গামারী থানায় পেনাল ১৮৬০, ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩৫৪/৩৮০/৪২৭/৩০৭/৫০৬/১১৪ পেনাল কোড এ জামিন অযোগ্য ধারা সহ মোট ১৩ টি ধারার অপরাধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর জিআর-৭৯/১৭(ভূরু)।
ওই মামলাটি সহ মিজু কর্তৃক পরে দায়েরকৃত আরো দুইটি মিথ্যা মামলায় হাসর উদ্দিনের দুই ছেলে জেল হাজত খাটেন প্রায় ৩ মাসের মতো।
জিআর নং- ৭৯/১৭(ভূরু) মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন এসআই জালাল উদ্দিন। তিনি এক সময়ের ছিঁচকে চোর কোটিপতি মিজুর কালো অর্থের কাছে হার মেনে ৪ জনকে অভিযুক্ত করে বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ওই তদন্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ভূয়া দাতা সাজিয়ে দলিল নং ৮৯৭/১৭ মূলে বাদী মিজানুর রহমান মিজু কর্তৃক ক্রয়কৃত জমি জবর দখল করার উদ্দেশ্যে ঘটনার দিন দুপুর ২ টার দিকে বৃদ্ধ অসুস্থ্য হাসর উদ্দিন সহ ৪ জন মিলে একাধারে অনধিকার প্রবেশের হুকুম, মারপিট, শ্লীলতাহানী, ১ নং বিবাদী বৃদ্ধ হাসর উদ্দিন কর্তৃক বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে বেকি দ্বারা কোপ, আবারো ১ নং বিবাদী বৃদ্ধ হাসর উদ্দিন কর্তৃক মিজুর ভাতিজা একাধিক মাদক মামলা, চাঁদাবাজি, হিন্দু সংখ্যালঘু নির্যাতন, নারী শিশু নির্যাতন ও সন্ত্রাসী মামলার আসামী সুজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোপ, আবারো ১ নং বিবাদী বৃদ্ধ মুয়াজ্বিন হাসর উদ্দিন কর্তৃক মিজুর ছোট ভাই পতিতা ও মাদক সরবরাহকারী আঃ রাজ্জাককে মাথায় কোপ এবং আবারো ১ নং বিবাদী বৃদ্ধ মুয়াজ্বিন হাসর উদ্দিন কর্তৃক বাদীর ছোট বোন রোজিনা বেগমের তলপেটে লাথি মেরে ৪ মাসের গর্ভের সন্তান হত্যা করেন! এজাহারে ১ নং বিবাদী ৯০ বছরের বৃদ্ধ অসুস্থ্য হাসর উদ্দিনের বিরুদ্ধে ৫ টি ধারার অপরাধ দেখানো হয়। পাশাপাশি সুকেস ও আসবাব পত্র ভাংচুর করে ক্ষতি ২৫,০০০ টাকা, ২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি ও ৫ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা জোর পূর্বক ডাকাতির ঘটনা দেখানো হয়।

এদিকে বিবাদী হাসর উদ্দিন গং বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল আদালতে জামিন আবেদন করলে মামলার বাদী মিজানুর রহমান মিজু বিবাদী পক্ষের উকিল মুহুরী ম্যানেজ করে কৌশলে ২ নং বিবাদী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজত নিশ্চিত করেন। ১ নং বিবাদী হাসর উদ্দিন পলাতক থাকেন মাসাধিক কাল। অচল হয়ে পড়ে তাঁর সংসার। সাধের মহা মূল্যবান জমি হয়ে যায় বেদখল!
পক্ষান্তরে, প্রকৃত ঘটনার বিচার চেয়ে ভূক্তভোগী হাসর উদ্দিনের পরিবার ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাঁদের মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন! দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার চেয়ে অবশেষে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি শাহজাহান সিরাজ এর জোর তদবিরে ঘটনার ১৪ দিন পর ভূরুঙ্গামারী থানা হাসর উদ্দিনের ছেলে মোঃ হককে বাদী করে ভূমিদস্যু, মাদক সম্রাট, সন্ত্রাসী মিজু সহ ৭ জন এবং আরো অজ্ঞাত নামা ২০/২৫ জনকে বিবাদী করে পেনাল কোড- ১৮৬০; ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/৪২৭/৫০৬/১১৪ ধারার অপরাধে মামলা নং ৮৬/১৭(ভূরু) দায়ের করেন। ভূরুঙ্গামারী থানার তৎকালীন ওসি তাপস চন্দ্র পাল এই মামলাটিরও তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেন বিতর্কিত সেই এসআই জালাল উদ্দিনকেই!

পরে ভূমিদস্যু মিজুর কুট-কৌশল ও অর্থের বিনিময়ে বাদী ফজলুল হকের মামলাটির দুর্বল তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল আদালতে নারাজি দিলে বিজ্ঞ আদালত জেলা গোয়েন্দা শাখার(ডিবি) ওপর পূনঃ তদন্তের দায়িত্ব দেন। জেলা ডিবি এর এসআই মোঃ আনিছুর রহমান পূনঃ তদন্ত সম্পন্ন করেন। কিন্তু তিনিও প্রায় পূর্বের ন্যায় প্রতিবেদন দিলে মামলাটি বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল আদালত গত বছরের ১৬ জুন সোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে বদলী করে দেন। মামলাটি সোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে কোন কার্যক্রম ছাড়াই গত প্রায় দেড় বছর যাবত স্থবির অবস্থায় পড়ে রয়েছে!
ইতোমধ্যে চতুর ভূৃমিদস্যু মিজু বৃদ্ধ মুয়াজ্বিন হাসর উদ্দিন ও তাঁর পরিবার, তাঁদের সহায়তাকারী এবং মিজু বাহিনীর অপকর্মের সংবাদ প্রকাশকারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিআর নং- ৯০/১৭ ও সিআর-১৭০/১৭ দুটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি কুুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার, ভূরুঙ্গামারী সার্কেল এএসপি, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ নামে-বেনামে বিভিন্ন দপ্তরে ভূমিদস্যুতা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, হুন্ডি, দেহ ব্যবসাসহ মিজানুর রহমান মিজু ও তাঁর পরিবার যে সকল অপকর্মে লিপ্ত, সেই সব অপকর্মের অভিযোগেই জড়াবার চেষ্টা করতে থাকেন তার অত্যাচার নির্যাতনের শিকার অসহায় হাসর উদ্দিন ও তাঁর পরিবারকে। চেষ্টা চলতে থাকে মাদক দিয়ে ফাঁসানোরও!
এদিকে ভূমিদস্যু মিজুর দায়ের করা জিআর ৭৯/১৭(ভূরু) নং মিথ্যা মামলাটি আশংকাজনকভাবে দ্রুত বিচার ফাইলে ন্যাস্ত হয়। বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিলন চন্দ্র পাল গত বছরের ২০ নভেম্বর এবং ১৯ ডিসেম্বর বাদী পক্ষের স্বাক্ষ্য গ্রহন করেন। কিন্তু বিবাদী পক্ষের কৌশুলী অনুপস্থিত থাকার কারনে স্বাক্ষ্য হয়ে যায় এক তরফা! যা পুরোপুরি নির্দোষ বিবাদী গনের অপরাধকে প্রমানিত করে। দিশেহারা হাসর উদ্দিন কয়েকজন সৎ পরামর্শ দাতার পরামর্শে বিজ্ঞ আদালতে পূন: স্বাক্ষ্যের আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত পুন:রায় গত ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি, ১৫ মার্চ, ২৮ সেপ্টেম্বর ও ১৩ অক্টোবর পূন: স্বাক্ষ্য গ্রহন করেন। বাদী পক্ষ তথ্য রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন এড. লাবনী আক্তার, পিপি। বিবাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এড. নাজমুল ইসলাম, এপিপি
কিন্তু এবার পূন: স্বাক্ষ্য গ্রহনের সময়ে বিজ্ঞ এড. নাজমুল ইসলাম এপিপি এর কৌশলী জেরায় মামলার বাদী ভূমিদস্যু মিজু ও তাঁর স্বাক্ষীগণ মিথ্যা স্বাক্ষ্য প্রদানে তালগোল পাকিয়ে ফেলে! এজাহারে বর্ণিত তথ্য, পূর্বের স্বাক্ষ্য এবং পূন: স্বাক্ষ্যের মধ্যে ব্যাপক অমিল পাওয়া যায়। ইতিমধ্যে বিবাদী হাসর উদ্দিন গং ভূমিদস্যু, মাদক সম্রাট, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী মিজানুর রহমান মিজু ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনীর বিভিন্ন অপকর্মের আলামত কৌশুলীর মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করেন।
স্বাক্ষ্য গ্রহন শেষে বিজ্ঞ বিচারক ১৯ অক্টোবর ধার্য্য তারিখে রায় ঘোষনার তারিখ নির্ধারন করেন গত বুধবার (২৫ নভেম্বর) ।
সমস্ত স্বাক্ষ্য প্রমান, তথ্য পর্যালোচনান্তে বিজ্ঞ বিচারক মিলন চন্দ্র পাল গত ২৫ নভেম্বর (বুধবার) বেলা দের টায় ৯০ বছরের বৃদ্ধ মুয়াজ্বিন হাসর উদ্দিন, তাঁর ৩ পুত্র গাজিপুরে কর্মরত মিল শ্রমিক মোঃ আঃ করিম, কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন শ্রমিক মোঃ ফজলুল হক ও ক্ষুূ্দ্র মুূদি দোকানী মোঃ নজরুল ইসলামকে নির্দোষ প্রমানে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
অসহায় হাসর উদ্দিন গং ভূমিদস্যু মিজুর মিথ্যা মামলা হতে বেকসুর খালাস পাওয়ায় এলাকার সকল শ্রেণী পেশার মানুষ সন্তোষ ও স্বস্তি প্রকাশ করেন।
এ যাবত মিজু কর্তৃক মিথ্যা মামলা, মিথ্যা অভিযোগ, হামলা, হুমকি, ভয় ভীতি, জমি দখল সহ যাবতীয় অত্যাচারে কী পরিমান ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে, জানতে চাইলে হাসর উদ্দিনের কনিষ্ঠ পুত্র নজরুল ইসলাম বলেন, “মিজু ও তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা যে ক্ষতি হয়েছে, তা নিরুপণ করা নিতান্তই দূরুহ! তবে আর্থিক মূল্যে তা ৬৫ লক্ষ টাকার উর্ধ্বে।
বৃদ্ধ মুয়াজ্বিন হাসর উদ্দিনের নিকট এই মামলাটি থেকে বেকসুর খালাসের অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদকের দুই হাত জড়িয়ে ধরে হুহু করে কেঁদে উঠে বলেন, “বাবা, হামার গুলাক এই শয়তানের হাত থেকি বাঁচান বাবা”!
আপনার মতামত কমেন্টস করুন