নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
টানা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ভোলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের দুর্যোগে জেলায় প্রায় ২১ কোটি টাকার রবি শস্যের ক্ষতি হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুগডাল, চিনাবাদাম ও সয়াবিন। আকস্মিক এই ক্ষতিতে জেলার শত শত কৃষক এখন চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে জেলার অধিকাংশ এলাকায় মুগ, চিনাবাদাম ও সয়াবিন ঘরে তোলার মৌসূম চলছিল। ঠিক এমন সময় টানা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ফসলি জমিতে পানি জমে যায়। অনেক জমিতে কয়েকদিন ধরে পানি আটকে থাকায় ক্ষেতের ফসল পচে নষ্ট হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে নিচু ও জলাবদ্ধ এলাকায় ক্ষতির মাত্রা বেশি।

ভোলা সদর উপজেলার চরসাসাইয়া ইউনিয়নের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, ৬০ শতাংশ জমিতে সয়াবিন ও ১২ শতাংশ জমিতে মুগডালের আবাদ করেছিলাম। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পুরো জমি পানির নিচে চলে গেছে। এখন ফসল তোলার আর কোনো সুযোগ নেই। প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

একই উপজেলার আলীনগর এলাকার কৃষক পারভেজ জানান, লাভের আশায় ধারদেনা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি আবাদ করেছিলেন। কিন্তু এখন পুরো ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, মাঠে যা ছিল সবই শেষ। সব মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন কিভাবে ঋণ পরিশোধ করব, সেই চিন্তায় আছি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জমিতে দীর্ঘ সময় পানি আটকে রয়েছে। খাল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। বাপ্তা এলাকার কৃষক মো: মাসুদ বলেন, এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে জমি ডুবে গেছে। যদি পানি নামার ব্যবস্থা থাকত তাহলে এত ক্ষতি হতো না।

আলীনগর এলাকার কৃষক রিপন বলেন, জমির সঙ্গে খালের সংযোগ থাকলে পানি দ্রুত নেমে যেত। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। কৃষকদের কথা শুধু বলা হয়, বাস্তবে তেমন সহযোগিতা পাওয়া যায় না।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, চলতি মৌসূমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু মৌসূমের শেষ সময়ে এসে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। অনেক কৃষকই এখন নতুন করে আবাদ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা করছেন।

এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভোলার উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. শামীম আহমেদ বলেন, গত ২৮ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত টানা বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলায় ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এক কোটি ৬২ লাখ টাকার মুগডাল, ১৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার চিনাবাদাম এবং দুই কোটি ৭৮ লাখ টাকার সয়াবিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঝড়-বৃষ্টিতে ভোলায় রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি : দিশেহারা কৃষক


নগর সংবাদ দাতা,২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ::
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) একটি অরাজনৈতিক, কল্যাণমুখী পেশাজীবী সংগঠন। সংগঠনটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করার লক্ষ্যে আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগর ৩১ সদস্য বিশিষ্ট থানা কমিটি অনুমোদন প্রদান করা হয়।
অনুমোদন প্রদান করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট লেখক ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি এ সময় নবগঠিত কমিটির সদস্যদের প্রতি সংগঠনের আদর্শ, নীতি ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাংবাদিক গিলবার্ট গমেজ শিশির এবং কেন্রীয় দপ্তর সম্পাদক, কৃষিবিদ হাসান রুহী। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ নবগঠিত কমিটির সফলতা কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও, উক্ত কমিটির নেতৃবৃন্দকে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে বাসায় ছাদ কৃষিতে আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়, যা নগর জীবনে সবুজায়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) দেশের পেশাজীবীদের অধিকার রক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন’র শেরে বাংলা নগর থানা কমিটি অনুমোদন ও ছাদ কৃষিতে উৎসাহ সৃষ্টির জন্য বীজ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা সদর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে খাল খনন ও সংস্কারের অভাবে পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসূমে তীব্র সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলার ৭৩টি খাল খনন, পুনঃখনন ও সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। প্রস্তাবনা কার্যকর হলে ফসলের উৎপাদন বাড়বে কয়েকগুন।

কৃষি বিভাগ ভোলা পৌরসভাসহ রাজাপুর, ইলিশা, পশ্চিম ইলিশা, বাপ্তা, ধনিয়া, শিবপুর, আলীনগর, চরসামাইয়া, ভেলুমিয়া ও সংলগ্ন চরাঞ্চলের খালগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। প্রস্তাবিত কাজের আওতায় মোট ১৩ হাজার ৮৫০ মিটার খাল পুন:খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খালগুলোকে অতি জরুরি, জরুরি ও কম জরুরি-এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি খালকে অতি জরুরি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে দ্রুত কাজ শুরু না হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ৩৯টি খাল জরুরি এবং ১৪টি খাল কম জরুরি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

অতি জরুরি খাল :
পৌর বাপ্তা মৌজার আবহাওয়া অফিস রোড সংলগ্ন খাল, ভোলা পৌরসভার ভোলা পৌর খাল, ছোট আলগির পৌরসভার খাল, চরপোটকার সুন্দর খালির খাল, শাহামাদারের তেরো বোয়ালিয়া খাল, কানাইনগরের আন্দির খাল, শুক্কুর মোল্লা খাল, রুহিতার রুহিতা খাল, আলীনগরের মাদ্রাসা বাজার খাল, ভোলার খালের শাখা, বড় চরসামাইয়ার কয়াল বাড়ি খাল, সেকমার সেকমা খাল, ছিফলীর আগারপোল খাল, চর চন্দ্র প্রসাদের গোয়ালিয়া খাল, দারোগা খাল, পশ্চিম চরকালীর শেরে বাংলা খাল, চররমেশের চরকালী খাল, কোড়ালিয়ার গাড়িগাটা খাল, দক্ষিণ বালিয়ার কেড়ামুনিয়া খাল এবং দক্ষিণ বালিয়ার বটতলা জোড় খাল।

জরুরি খাল :
চর মনসা মৌজার টাঙ্গির খাল, দক্ষিণ রাজাপুরের জোড়া খাল, গুপ্তমুন্সির নবকুমার খাল, এছাকের খাল, গুপ্তমুন্সির খাল, কুমারিয়ার খাল, গজারিয়ার খাল, দক্ষিণ চরপাতার সদর চর খাল, কচ্ছপিয়া খাল, দক্ষিণ চরের আনন্দ দুর্গা খাল, পশ্চিম চরপাতার টাঙ্গির খাল, বাইলা খালি খাল, পশ্চিম পাঙ্গাশিয়ার বোয়াল খালি খাল, টাঙ্গির খাল, পাঙ্গাশিয়ার খন্তা খালি খাল, চরপোটকার আউত্তা খালির খাল, বাপ্তার চাচড়া খাল, চৌদ্দঘর খাল, মধ্য বাপ্তার মুছাকান্দি খাল, সুদরোকান্দি খাল, শাহামাদারের গারিয়াল খাল, ধনিয়ার চেউয়াখালির খাল, নবীপুরের নবীপুর হেতনার খাল, রতনপুরের ভোলা খাল, কালিকীর্ত্তির কালিকীর্ত্তি খাল, শিবপুরের শিবপুর খাল, রতনপুরের রতনপুর খাল, চন্দ্রপ্রসাদের জরঝুরিয়া খাল, নাপ্তার খাল, দারোগা খাল, কুঞ্জপট্টির বাওয়ালী খাল, চর ভেদুরিয়ার হাজির হাট খাল, গজারিয়ার শেকমা গজারিয়া খাল, উত্তর দিঘলদীর রাঢ়ির হাট বাজার খাল, কোড়ালিয়ার বাজার খোলা খাল, কোড়ালিয়ার মন্টু মোল্লা খাল, শান্তির হাট খাল এবং দক্ষিণ বালিয়ার নতুন হাট খাল।

কম জরুরি খাল :
চর মনসা মৌজার টাঙ্গির খাল, কন্দকপুরের জোড়া খাল, মেদুয়ার টাঙ্গির খাল, চর মনসার মেদুয়া খাল, চর ইলিশার নবকুমার খাল, চর আনন্দের পাটোয়ারীর খাল, দরোগার খাল, পণ্ডিতের খাল, কুঞ্জপট্টির আবদুল্লাহ খাল, চর ভেদুরিয়ার ব্যাংকের হাট খাল, কাঁটাবুনিয়া খাল, হেতনার খাল, চর চটকিমারার চটকিমারা খাল এবং দক্ষিণ বালিয়ার মাতাব্বর বাড়ি খাল।

চিহ্নিত খালগুলোর দৈর্ঘ্য সর্বনিম্ন ৫০ মিটার থেকে সর্বোচ্চ ৬৫০ মিটার পর্যন্ত। দীর্ঘদিন অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে, কোথাও কোথাও পানিপ্রবাহ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে।

কৃষি বিভাগের মতে, এসব খাল পুনঃখনন করা হলে বৃহৎ এলাকা সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। এতে বোরো ও আমন মৌসূমে ফসল উৎপাদন বাড়বে এবং একই সঙ্গে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমে বসতভিটা ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষা পাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত খালগুলোর অধিকাংশই অতি জরুরি তালিকায় থাকায় দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। সময়মতো উদ্যোগ না নিলে আসন্ন মৌসুমে কৃষকদের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, খালগুলো সচল থাকলে সেচ ব্যয় কমবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু বছরের পর বছর খালগুলোর অযত্ন ও ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে কৃষিকাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, কৃষকদের সমস্যার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ধাপে ধাপে খাল সংস্কার ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভোলা সদরে ৭৩টি খাল পুনঃখননের প্রস্তাব॥ সেচ সুবিধায় উৎপাদন বাড়বে কয়েকগুন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা, ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ::
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের সহায়তায় ভোলার তজুমদ্দিনে ৩ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে আউস প্রবেদনার বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আউস প্রনোদনা কার্যক্রমেরর উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইব্রাহিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিম, বিট কর্মকর্তা পলাশ চক্রবর্তীসহ কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৩ হাজার কৃষকের মাঝে উচ্চ ফলনশীল জাতের ৫কেজি করে মোট ১৫ হাজার কেজি আউস ধানের বীজ, ১০ কেজি করে এমপি ও ১০কেজি করে ডিএপি মোট ৬০ হাজার কেজি সার বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইব্রাহিম বলেন, কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও সঠিকভাবে সার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। আউস ধান উৎপাদনের খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকরা আউস ধান চাষ করতে চায় না তাই আউস চাষ বাড়াতে প্রনোদনার বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিনামূল্যে বীজ ও সার পাওয়ায় তাদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং চাষাবাদে আগ্রহ আরও বাড়বে।

উল্লেখ্য, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষকদের আর্থিকভাবে সহায়তা দিতে সরকার প্রতি বছর বিভিন্ন মৌসুমে এ ধরনের প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।

তজুমদ্দিনে ৩ হাজার কৃষকের মাঝে আউস ধানের বীজ ও সার বিতরণ

ডেস্ক রিপোর্ট::

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে রাজধানীর মালিবাগস্থ হোসাফ টাওয়ারে অবস্হিত অভিজাত রাজবাড়ি কুইজিন চাইনিজে “অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বনাম মানবিক উন্নয়ন” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

একইসঙ্গে নগর জীবনে সবুজায়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল ছাদবাগানীদের মাঝে উন্নত জাতের সবজি বীজ ও বিভিন্ন ধরনের জৈব সার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও বিশিষ্ট লেখক সরকার ড. মো. আবুল কালাম আজাদ।

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন ঢাকা প্রেস ক্লাব ট্রাস্ট সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন খান।

প্রধান আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি

প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মানবিক উন্নয়নের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উদ্বোধক আলতাফ মাহমুদ বলেন, প্রকৃত উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয় যখন তা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিফলিত হয়। তিনি গ্রামীণ ঐতিহ্য, কৃষি ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে একীভূত করে টেকসই সমাজ গঠনের আহ্বান জানান এবং ছাদবাগানকে নগর জীবনে সম্ভাবনাময় সবুজ বিপ্লব হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথি মো. মফিজ উদ্দিন খান বলেন, কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, বরং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই প্রকৃত অগ্রগতি। তিনি সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল বলেন, উন্নয়নের সূচক যদি শুধু অর্থনৈতিক পরিমাপে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মানবিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নৈতিকতার বিকাশকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি নগর কৃষি ও ছাদবাগানকে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যেও টেকসই উন্নয়ন, স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার, পরিবেশ সচেতনতা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, নগর জীবনে ছাদবাগান এখন শুধু শখ নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের একটি বাস্তবসম্মত উদ্যোগ।

সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন মানবিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সকল স্তরে পৌঁছে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। তিনি পরিবেশবান্ধব নগর গঠনে ছাদবাগানকে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-রিজিয়া বেগম, মোসা: শাহ্ নওআজ আবেদীন,শামসুল করিম, আমির হোসেন, মিয়া মো. মুজিবুল হক, মো. শহিদুল্লাহ ভুঁইয়া, সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ, সাংবাদিক এফ রহমান রুপক, হাজ্বী তারিকুল ইসলাম তরু, সাংবাদিক মো. শফিউর রহমান কাজী, এম এ করিম খাঁন, রাশেদুল হাসান, সৈয়দ মোশাররফ হোসেন পাপ্পু, মো. আসিফ হাওলাদার ইলিয়াস, এডভোকেট মনিদ্রনাথ, মো. মাকসেছুল ইসলাম নয়ন, মুরসালিনা আক্তার ডালিয়া, খন্দকার আবিদ আহমেদ, সাংবাদিক মো. আব্দুল মাবুদ জীবন, মো. সানোয়ার হোসাইন, মানবাধিকার কর্মী ও লেখক প্রসপারিনা সরকার, সাংবাদিক গিলবার্ট গমেজ শিশির, কৃষিবিদ মো. হাসান রুহি এবং বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ হাফেজ মাওলানা মুফতী মুর্তজা ইবনে মোস্তফা সালেহী সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জনাব জামাল আহমেদ।

আলোচনা শেষে ২০২৬ সালের SSC পরীক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবিক উন্নয়নের সমন্বয়ে টেকসই সমাজ গঠনের আহ্বান পেশাজীবীদের

কৃষি ডেস্ক ::

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর উদ্যোগে নগর এলাকায় সবুজায়ন সম্প্রসারণ ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি কার্যকর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় বাসা-বাড়ির ছাদ ও বারান্দায় সবজি চাষাবাদে উৎসাহিত করতে আগ্রহীদের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ প্রদান করা হয়।

উক্ত কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনে’র সভাপতি ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ।

তিনি বলেন, সীমিত পরিসরে হলেও ছাদ ও বারান্দায় সবজি চাষের মাধ্যমে পরিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ নগরবাসীর মাঝে কৃষিমুখী সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

ছাদ ও বারান্দায় সবজি চাষে বীজ বিতরণ কার্যক্রম

কৃষি ডেস্ক::
জমি থেকে দ্রুত অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করতে হবে এবং ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। শিলার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত গাছে পচন রোধে প্রোপিকোনাজল বা ট্রাইসাইক্লাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক এবং ইউরিয়া সারের পরিবর্তে পটাশ সার ব্যবহার করা উত্তম।
পদক্ষেপসমূহ:
পানি নিষ্কাশন: জমিতে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি ও শিলা দ্রুত সরিয়ে ফেলুন।
ছত্রাকনাশক স্প্রে: 
শিলার আঘাতে ক্ষত সৃষ্টি হলে ছত্রাকজনিত রোগ (যেমন- ব্লাস্ট বা খোলা পচা) হতে পারে। তাই ট্রাইসাইক্লাজল (যেমন- ট্রুপার বা জিল) বা কার্বেন্ডাজিম (যেমন- অটোস্টিন) গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ১-২ গ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
গাছের পরিচর্যা:
যদি গাছ ভেঙে না পড়ে, তবে পটাশ (এমওপি) সার হালকা উপরি প্রয়োগ করলে গাছের ক্ষত সারতে ও শীষ শক্ত হতে সাহায্য করে।
ইউরিয়া সার বর্জন:
শিলাবৃষ্টির পর জমিতে অতিরিক্ত ইউরিয়া সার দেবেন না, এতে রোগবালাই বৃদ্ধি পেতে পারে।
জমির আগাছা পরিষ্কার: 
শিলাবৃষ্টির পর জমিতে শামা বা অন্যান্য ঘাস থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে।
লেখক:
সভাপতি: বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন।
কৃষি লেখক ও কথক: বাংলাদেশ বেতার।
উপদেষ্টা,দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ।
প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক ও পরীক্ষক: কৃষি শিক্ষা।
★কৃষিতে বারো মাস গ্রন্থ সহ বহু গ্রন্থের লেখক

ধানের কাইচ থোড় (Boots) অবস্থায় শিলাবৃষ্টি হলে করনীয়

 
কৃষি ডেস্ক ::
🔳 মালসা/পাত্র নির্বাচন:
ধারণক্ষমতা: ৫০-৮০ লিটার (ড্রাম/বড় টব)
নিচে ৩-৫টি ছিদ্র থাকতে হবে (ড্রেনেজের জন্য)
প্লাস্টিক ড্রাম/সিমেন্ট টব/মাটির বড় পাত্র ব্যবহারযোগ্য
 
🔳 মাটি প্রস্তুতি:
বেলে দোঁআশ মাটি – ৫০%
পচা গোবর/কম্পোস্ট – ৩০%
বালি – ১০%
ভার্মি কম্পোস্ট – ১০%
সাথে: হাড়ের গুঁড়া ৫০-১০০ গ্রাম + ছাই ৫০ গ্রাম
🔳 চারা রোপণ:
রোগমুক্ত সাকার/টিস্যু কালচার চারা নিন
এক পাত্রে ১টি গাছ
উপরে ২-৩ ইঞ্চি ফাঁকা রাখুন
 
🔳 সেচ ব্যবস্থা:
মাটি আর্দ্র রাখুন, পানি জমে থাকা যাবে না
গরমে প্রতিদিন, শীতে ২-৩ দিনে একবার
🔳 আলো ও অবস্থান:
প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা রোদ
ঝড়ো বাতাস থেকে সুরক্ষা, প্রয়োজনে খুঁটি দিন
🔳 সার প্রয়োগ (মাসভিত্তিক):
১ম মাস:
২-৩ কেজি জৈব সার (আগে মাটিতে মিশানো)
২য়-৩য় মাস:
প্রতি ১৫ দিনে তরল জৈব সার ১–২ লিটার
ইউরিয়া ২০–৩০ গ্রাম + টিএসপি ২০ গ্রাম
৪র্থ-৫ম মাস:
প্রতি ২০ দিনে: ইউরিয়া ৩০–৪০ গ্রাম + এমওপি ২০–৩০ গ্রাম
ছাই ১ মুঠো
৬ষ্ঠ-৭ম মাস:
ইউরিয়া ৩০ গ্রাম + এমওপি ৩০–৪০ গ্রাম (প্রতি ২০–২৫ দিনে)
🔳 মোচা আসার সময় (৭-৯ মাস):
এমওপি ৪০-৫০ গ্রাম + টিএসপি/ডিএপি ২০-৩০ গ্রাম
 
🔳 ফল বড় হওয়ার সময়:
প্রতি ১৫-২০ দিনে তরল জৈব সার + ছাই ১-২ মুঠো
🔳 পরিচর্যা:
শুকনো পাতা কেটে ফেলুন
অতিরিক্ত চারা রেখে দেবেন না (১-২টি রাখুন)
পোকা দমনে নিম তেল স্প্রে (মাসে ১ বার)
 
🔳 ফলন:
৮-১২ মাসে ফল আসে
ভালো যত্নে ১টি গাছে ১টি থোকা পাওয়া সম্ভব
সার গাছের গোড়া থেকে ৩-৪ ইঞ্চি দূরে দিন
একবারে বেশি সার নয়-ভাগে ভাগে দিন
পানি দেওয়ার পর সার দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়
ভারী হলে মালসার নিচে স্ট্যান্ড/চাকা ব্যবহার করুন
 অল্প জায়গায় সঠিক পরিচর্যায় মালসায় কলা চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
লেখক
★সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ
★প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক ও পরীক্ষক (কৃষি শিক্ষা)
★কৃষিতে বারো মাস গ্রন্থ সহ বহু গ্রন্থের লেখক

   মালসায় কলা চাষ 

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

গত কয়েক বছরে বাজারে পেঁয়াজের দামের অস্বাভাবিক ওঠানামা কৃষক ও ভোক্তা-উভয়ের জন্যই ভোগান্তির কারণ হয়েছে। তবে সেই পরিস্থিতিই ভোলার অনেক কৃষকের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। ফলে জেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পেঁয়াজ চাষ। চলতি মৌসূমে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পেঁয়াজের ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাঁসি ফুটেছে। বর্তমানে মাঠ থেকে পেঁয়াজ তোলা, রোদে শুকানো এবং সংরক্ষণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কেউ কেউ আবার আগামী মৌসূমের জন্য বীজ সংরক্ষণেও মনোযোগ দিচ্ছেন।।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এ বছর ভোলায় পেঁয়াজের আবাদ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২শ’ ৩৪ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮শ’ ৮ মেট্রিক টন। বিশেষ করে সদর ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে।

বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের কৃষক জাকির মিজি বলেন, গত কয়েক বছরে বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় অনেক সময় কিনতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তাই ধানসহ অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি নিজের জমিতেই পেঁয়াজ চাষ শুরু করেছেন তিনি।

একই এলাকার কৃষক সেলিম বেপারী বলেন, গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতায় তারা আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ শিখেছেন। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। বর্তমানে মাঠ থেকে পেঁয়াজ তুলে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণের কাজ চলছে। পাশাপাশি আগামী মৌসুমের জন্য বীজও সংরক্ষণ করছেন।

কৃষক মাকসুদ পাটোয়ারী জানান, তিনি ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন এবং ভালো দাম পেয়েছেন। পাশাপাশি ঘরে ব্যবহারের জন্য কিছু পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রেখেছেন এবং আগামী মৌসূমে চাষের জন্য বীজও রেখে দিচ্ছেন।

সদর উপজেলার পরানগঞ্জ এলাকার কৃষক শামসুদ্দিন বলেন, এবার পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। এখন আমরা মাঠ থেকে পেঁয়াজ তুলে শুকিয়ে ঘরে তুলছি। বাজারে দাম ভালো থাকলে কৃষকেরা লাভবান হবেন। কৃষকদের মতে, পেঁয়াজ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হয়। এতে ন্যায্য দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।

গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর টেকনিক্যাল অফিসার কৃষিবিদ মুরাদ হাসান চৌধুরী জানান, পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আরএমটিপি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ শেখানো হয়েছে। ফলে অনেক কৃষক এবার প্রথমবারের মতো পেঁয়াজ চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষকদের বীজ সংরক্ষণের সুবিধার জন্য একটি বীজ সংরক্ষণাগারও স্থাপন করা হয়েছে।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. শামিম আহমেদ বলেন, কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ ও সংরক্ষণ বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলন বাড়াতে উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মাহিন জানান, পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের আগ্রহী করতে আমরা আরএমটিপি প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করছি। ফলে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হচ্ছে। ইতোমধ্যে চাষীদের উন্নতমানের পেঁয়াজের বীজ ও সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হয়েছে, যা ভোলায় প্রথম। আমাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ খায়রু ইসলাম মল্লিক বলেন, ভোলায় আগে পেঁয়াজ চাষ খুব কম হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ায় এ চাষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের আশা, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে চলতি মৌসুমে ভোলা জেলার কৃষকেরা পেঁয়াজ উৎপাদন থেকে ভালো লাভ করতে পারবেন এবং স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহও স্থিতিশীল থাকবে।

ভোলায় জনপ্রিয় হচ্ছে পেঁয়াজ চাষ : ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাঁসি

কৃষি ডেস্ক ::     
বাংলাদেশের কৃষি আজ বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে। সীমিত জমি, বাড়তি উৎপাদন ব্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষকদের বিকল্প ও লাভজনক চাষপদ্ধতির দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। এই বাস্তবতায় ধানের জমিতে মাছ চাষ একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
এই পদ্ধতিতে একই জমিতে ধান ও মাছ একসঙ্গে চাষ করা হয়। ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, কৃষকের আয় বাড়ে এবং পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়।
ধানের জমিতে মাছ চাষের জন্য নিচু বা মাঝারি উঁচু জমি সবচেয়ে উপযোগী, যেখানে  ৪-৫  মাস পানি ধরে রাখা যায়। জমির চারদিকে ১ থেকে ১.৫ ফুট উঁচু বাঁধ তৈরি করতে হয়। পাশাপাশি জমির এক পাশে বা চার কোণে মোট জমির ৫-১০ শতাংশ জায়গা নিয়ে নালা বা গর্ত রাখতে হয়, যা মাছের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।
ধান নির্বাচনের ক্ষেত্রে পানিসহিষ্ণু ও দীর্ঘমেয়াদি জাত বেশি উপযোগী। BR11, BRRI dhan 49, BRRI dhan 52 ছাড়াও উপযোগী দেশি জাত ব্যবহার করা যায়। মাছের ক্ষেত্রে দেশি ও চাষযোগ্য মাছের মিশ্রচাষে ভালো ফলন পাওয়া যায়। টেংরা, পুঁটি, মলা, কৈ, শিংয়ের পাশাপাশি রুই, কাতলা, মৃগেল বা তেলাপিয়া চাষ করা যেতে পারে।
ধান রোপণের ১৫-২০ দিন পর মাছের পোনা ছাড়তে হয়। প্রতি শতাংশ জমিতে গড়ে ২০-৩০টি পোনা ছাড়া নিরাপদ। পোনার ওজন ৫-১০ গ্রাম হলে বেঁচে থাকার হার বেশি হয়। ধানের জমিতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের খাদ্য তৈরি হয় বলে অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন কম পড়ে। প্রয়োজনে অল্প পরিমাণ ভুসি বা খৈল দেওয়া যেতে পারে।
পানি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। ধানের জন্য ৪-৬ ইঞ্চি পানি যথেষ্ট। অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে সংযমী হতে হবে, কারণ এগুলো মাছের জন্য ক্ষতিকর। সম্ভব হলে জৈব ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করাই উত্তম।
ধান কাটার সময় আংশিকভাবে মাছ সংগ্রহ করা যায় এবং ধান কাটার পর সম্পূর্ণ মাছ আহরণ সম্ভব। এতে একই জমি থেকে দুটি ফসল পাওয়া যায়, যা কৃষকের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।
সবশেষে বলা যায়, ধানের জমিতে মাছ চাষ একটি লাভজনক, পরিবেশবান্ধব ও পুষ্টিসমৃদ্ধ কৃষি পদ্ধতি। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার মাধ্যমে এই সমন্বিত চাষব্যবস্থা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
লেখক:
★বসভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন(BPF)।
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার।
★ উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ, অগ্নিবার্তা।
★ প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক(কৃষি শিক্ষা)।
★ কৃষি বিষয়ক বহু গ্রন্থের লেখক

কৃষকের মুখে হাসি- ধানের জমিতে মাছ চাষ : দ্বিগুণ ফসল, দ্বিগুণ সম্ভাবনা