কৃষি ডেস্ক ::
বর্তমান বিশ্বে নিরাপদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও কার্যকর খাদ্যের (Functional Food) চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের কাছে প্রাকৃতিক পুষ্টির উৎস, ভেষজ উপাদান এবং উদ্ভিজ্জ তেলের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে পেরিলা (Perilla frutescens) একটি সম্ভাবনাময় উচ্চমূল্যের (High Value Crop) ফসল হিসেবে বিশ্বব্যাপী কৃষি ও খাদ্যশিল্পে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে।
পূর্ব এশিয়ার জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ভিয়েতনামে শত শত বছর ধরে পেরিলা শাক, মসলা, ভেষজ উদ্ভিদ এবং তেলবীজ ফসল হিসেবে চাষ হয়ে আসছে। বর্তমানে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও উদ্ভিজ্জ তেলের উৎস হিসেবে এর চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশের জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ এবং উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্যের ক্রমবর্ধমান বাজার বিবেচনায় পেরিলা একটি সম্ভাবনাময় নতুন অর্থকরী ফসল হিসেবে কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
🔳পেরিলা কি?
পেরিলা পুদিনা (Lamiaceae) পরিবারের একটি সুগন্ধি একবর্ষজীবী (Annual Herb) উদ্ভিদ। এর পাতা, কচি ডগা, বীজ এবং বীজ থেকে উৎপাদিত তেল-সবকিছুরই রয়েছে বাণিজ্যিক মূল্য।
পেরিলার সবুজ ও বেগুনি রঙের বিভিন্ন জাত পাওয়া যায়। এর সুগন্ধযুক্ত পাতা সালাদ, স্যুপ, ভর্তা, চা, বিভিন্ন রান্না এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে এর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে একটি উন্নতমানের স্বাস্থ্যকর ভোজ্য তেল হিসেবে পরিচিত।
🔳পুষ্টিগুণে অনন্য পেরিলা
 পেরিলা মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের সমৃদ্ধ উৎস। এতে রয়েছে-
★ উচ্চমাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (Alpha-Linolenic Acid-ALA)
★ শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Rosmarinic Acid, Flavonoids ও Polyphenols)
★ ভিটামিন A, C ও K
★ ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও জিঙ্ক
★ খাদ্য আঁশ (Dietary Fiber)
★ উচ্চমানের উদ্ভিজ্জ প্রোটিন (বিশেষ করে বীজে)
এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কোষ সুরক্ষা এবং সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
 
🔳সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা
গবেষণালব্ধ তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য তালিকায় পেরিলা অন্তর্ভুক্ত করলে-
★ হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
★ শরীরের প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
★ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।
★ পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে।
★ ত্বক ও চুলের পুষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
★ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাধ্যমে কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
তবে পেরিলা একটি পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান; এটি কোনো রোগের বিকল্প চিকিৎসা নয়।
 
🔳বাংলাদেশে পেরিলা চাষের সম্ভাবনা
 বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া, উর্বর মাটি এবং দীর্ঘ উৎপাদন মৌসুম পেরিলা চাষের জন্য উপযোগী। পর্যাপ্ত সূর্যালোক, সুনিষ্কাশিত জমি এবং সুষম সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক উৎপাদন সম্ভব।
পেরিলা একটি স্বল্পমেয়াদি ও উচ্চমূল্যের ফসল, যা মাঠ ফসল, বসতবাড়ির আঙিনা, ছাদবাগান এবং সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থাপনায় চাষ করা যায়। এটি কৃষকের ফসল বহুমুখীকরণ (Crop Diversification), পুষ্টি নিরাপত্তা এবং আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
 
🔳চাষাবাদ ব্যবস্থাপনা
জীবনকাল:
পেরিলা একটি একবর্ষজীবী (Annual) ফসল। জাত, আবহাওয়া ও পরিচর্যার ওপর নির্ভর করে এর মোট জীবনকাল সাধারণত ৯০-১২০ দিন।
রোপণের ৪৫-৬০ দিনের মধ্যে কচি পাতা ও ডগা সংগ্রহ করা যায়।
৯০-১২০ দিনের মধ্যে বীজ পরিপক্ব হয় এবং সংগ্রহ উপযোগী হয়।
মাটি নির্বাচন:
উর্বর, ঝুরঝুরে, জৈব পদার্থসমৃদ্ধ এবং সুনিষ্কাশিত দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি পেরিলা চাষের জন্য উপযোগী। মাটির pH ৫.৫-৭.০ হলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
বপন ও রোপণ সময়:
বাংলাদেশের পরিবেশে সাধারণত-
ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল
আগস্ট-সেপ্টেম্বর
সময়ে বপন করা যেতে পারে।
রোপণ দূরত্ব:
সারি থেকে সারি: ৪৫-৬০ সেন্টিমিটার
গাছ থেকে গাছ: ২৫-৩০ সেন্টিমিটার
🔳শতাংশ প্রতি সার ব্যবস্থাপনা
প্রতি ১ শতাংশ জমিতে  সার প্রয়োগ-
পচা গোবর/কম্পোস্ট: ৪০-৫০ কেজি
ইউরিয়া: ৪০০-৫০০ গ্রাম
টিএসপি: ৩০০-৩৫০ গ্রাম
এমওপি (পটাশ): ২০০-২৫০ গ্রাম
জিপসাম: ১৫০-২০০ গ্রাম
জিংক সালফেট: ২০-২৫ গ্রাম (প্রয়োজনে)
বোরিক অ্যাসিড/বোরন সার: ১০-১৫ গ্রাম (প্রয়োজনে)
🔳সার প্রয়োগ পদ্ধতি
 জমি তৈরির সময় গোবর, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম, জিংক ও বোরন সার  মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়ার অর্ধেক জমি তৈরির সময় এবং বাকি অর্ধেক রোপণের ২৫-৩০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করা ভালো।
🔳পরিচর্যা
নিয়মিত আগাছা দমন করতে হবে।
প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিতে হবে।
মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ করতে হবে।
রোগ ও পোকা দমনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা  অনুসরণ করতে হবে।
🔳ফসল সংগ্রহ
 পাতা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ৪৫–৬০ দিনের মধ্যে সংগ্রহ শুরু করা যায়। বীজ উৎপাদনের জন্য গাছের ফুল ও বীজ পরিপক্ব হওয়ার পর ৯০–১২০ দিনের মধ্যে সংগ্রহ করতে হয়।
 
🔳অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
 বর্তমানে স্বাস্থ্যকর খাদ্য, ভেষজ পণ্য এবং উদ্ভিজ্জ তেলের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। পেরিলা বীজ ও তেলের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় এটি কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রক্রিয়াজাতকরণ, মূল্য সংযোজন (Value Addition), তেল উৎপাদন এবং রপ্তানিমুখী বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমে পেরিলা বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
🔳ভবিষ্যৎ করণীয়
 বাংলাদেশে পেরিলার বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে প্রয়োজন
স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী উচ্চফলনশীল জাত নির্বাচন ও উদ্ভাবন।
মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী প্লট স্থাপন।
পেরিলা তেল ও মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনে উদ্যোক্তা তৈরি।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে কার্যকর বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর  ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ।
পেরিলা শুধু একটি সুগন্ধি ভেষজ উদ্ভিদ নয়; এটি পুষ্টি নিরাপত্তা, কৃষি বহুমুখীকরণ এবং উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য উৎপাদনের একটি সম্ভাবনাময় ফসল।
যথাযথ গবেষণা, মানসম্মত বীজ উৎপাদন, কৃষক প্রশিক্ষণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা গেলে পেরিলাকে বাংলাদেশে একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। নিরাপদ খাদ্য, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানিমুখী কৃষি উন্নয়নে পেরিলা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
লেখক: ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
★সভাপতি: বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক: বাংলাদেশ বেতার
★EX. সিনিয়র শিক্ষক ও পরীক্ষক: কৃষি শিক্ষা,
    কৃষিতে বারো মাস গ্রন্থ সহ বহু গ্রন্থের লেখক
★উপদেষ্টা: দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ।

পেরিলা: সম্ভাবনাময়  অর্থকরী নতুন ফসল

কৃষি ডেস্ক ::
বর্তমান কৃষিতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য জৈব সারের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত চায়ের পাতা সাধারণত বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হলেও এটি আসলে একটি মূল্যবান জৈব সম্পদ। ব্যবহৃত চা-পাতায় প্রচুর জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ফসফরাসসহ বিভিন্ন অণুপুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়ের বর্জ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার করলে এটি মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক গুণাগুণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
🔳 চায়ের বর্জ্য জৈব সারের প্রধান উপকারিতা
১. মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধি করে
চায়ের বর্জ্যে থাকা জৈব উপাদান মাটির অর্গানিক ম্যাটার বৃদ্ধি করে। ফলে মাটির গঠন উন্নত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে মাটির উৎপাদনশীলতা বজায় থাকে।
২. মাটির উর্বরতা ও পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করে
চায়ের বর্জ্যে নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও বিভিন্ন অণুপুষ্টি উপাদান থাকে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও ফলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৩. পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে
বেলে বা হালকা মাটিতে চায়ের বর্জ্য মিশিয়ে দিলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ফলে সেচের প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমে।
৪. মাটির উপকারী অণুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি করে
জৈব পদার্থ মাটির উপকারী ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও কেঁচোর কার্যক্রম বৃদ্ধি করে। এর ফলে মাটিতে পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা বাড়ে।
৫. শিকড়ের বৃদ্ধি ও গাছের স্বাস্থ্য উন্নত করে
চায়ের বর্জ্য মাটিকে ঝুরঝুরে রাখে, ফলে শিকড় সহজে বিস্তার লাভ করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।
৬. রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরতা কমায়
নিয়মিত জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে রাসায়নিক সারের আংশিক বিকল্প হিসেবে কাজ করে, যা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা করে।
৭. পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে
চায়ের বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত হয় এবং পরিবেশ দূষণ কমে। এটি টেকসই কৃষি ব্যবস্থার একটি কার্যকর উপাদান।
🔳 কোন কোন ফসলে ব্যবহার করা যায়?
 সবজি ফসল (টমেটো, বেগুন, মরিচ, বাঁধাকপি ইত্যাদি)
 ফলদ গাছ (আম, পেয়ারা, লেবু, ডালিম, পেঁপে)
 ফুলের গাছ (গোলাপ, গাঁদা, জবা)
 ছাদবাগান ও টবের গাছ
 নার্সারির চারা উৎপাদনে
🔳ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি
 ব্যবহৃত চা-পাতা থেকে দুধ ও চিনির অংশ পরিষ্কার করে নিতে হবে।
 ২–৩ দিন রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।
 প্রতি টব বা গাছের গোড়ায় অল্প পরিমাণে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।
কম্পোস্ট তৈরির উপাদান হিসেবেও চায়ের বর্জ্য ব্যবহার করা যায়।
 অন্যান্য জৈব সারের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।
🔳 ব্যবহারে সতর্কতা
অতিরিক্ত পরিমাণে প্রয়োগ করা যাবে না।
ভেজা অবস্থায় দীর্ঘদিন জমিয়ে রাখলে ছত্রাক জন্মাতে পারে।
দুধ ও চিনি মিশ্রিত চা-পাতা সরাসরি ব্যবহার করা উচিত নয়।
মাটির অম্লতা বেশি হলে সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করা উত্তম।
চায়ের বর্জ্য কোনো ফেলনা বস্তু নয়; বরং এটি কৃষি ও বাগান ব্যবস্থাপনায় একটি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব জৈব সার। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে চায়ের বর্জ্যের যথাযথ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।  তাই আসুন, দৈনন্দিন জীবনের এই সাধারণ বর্জ্যকে মূল্যবান কৃষি সম্পদে পরিণত করি এবং সবুজ ও নিরাপদ কৃষি গড়ে তুলতে সচেষ্ট হই।
লেখক: 
★সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক,বাংলাদেশ বেতার
★সাবেক সিনিয়র শিক্ষক ও পরীক্ষক (কৃষি শিক্ষা)
★উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ

কৃষিতে এক সম্ভাবনাময় সম্পদ : চায়ের বর্জ্য থেকে জৈব সার

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
টানা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ভোলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের দুর্যোগে জেলায় প্রায় ২১ কোটি টাকার রবি শস্যের ক্ষতি হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুগডাল, চিনাবাদাম ও সয়াবিন। আকস্মিক এই ক্ষতিতে জেলার শত শত কৃষক এখন চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে জেলার অধিকাংশ এলাকায় মুগ, চিনাবাদাম ও সয়াবিন ঘরে তোলার মৌসূম চলছিল। ঠিক এমন সময় টানা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ফসলি জমিতে পানি জমে যায়। অনেক জমিতে কয়েকদিন ধরে পানি আটকে থাকায় ক্ষেতের ফসল পচে নষ্ট হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে নিচু ও জলাবদ্ধ এলাকায় ক্ষতির মাত্রা বেশি।

ভোলা সদর উপজেলার চরসাসাইয়া ইউনিয়নের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, ৬০ শতাংশ জমিতে সয়াবিন ও ১২ শতাংশ জমিতে মুগডালের আবাদ করেছিলাম। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পুরো জমি পানির নিচে চলে গেছে। এখন ফসল তোলার আর কোনো সুযোগ নেই। প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

একই উপজেলার আলীনগর এলাকার কৃষক পারভেজ জানান, লাভের আশায় ধারদেনা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি আবাদ করেছিলেন। কিন্তু এখন পুরো ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, মাঠে যা ছিল সবই শেষ। সব মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন কিভাবে ঋণ পরিশোধ করব, সেই চিন্তায় আছি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জমিতে দীর্ঘ সময় পানি আটকে রয়েছে। খাল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। বাপ্তা এলাকার কৃষক মো: মাসুদ বলেন, এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে জমি ডুবে গেছে। যদি পানি নামার ব্যবস্থা থাকত তাহলে এত ক্ষতি হতো না।

আলীনগর এলাকার কৃষক রিপন বলেন, জমির সঙ্গে খালের সংযোগ থাকলে পানি দ্রুত নেমে যেত। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। কৃষকদের কথা শুধু বলা হয়, বাস্তবে তেমন সহযোগিতা পাওয়া যায় না।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, চলতি মৌসূমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু মৌসূমের শেষ সময়ে এসে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। অনেক কৃষকই এখন নতুন করে আবাদ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা করছেন।

এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভোলার উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. শামীম আহমেদ বলেন, গত ২৮ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত টানা বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলায় ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এক কোটি ৬২ লাখ টাকার মুগডাল, ১৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার চিনাবাদাম এবং দুই কোটি ৭৮ লাখ টাকার সয়াবিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঝড়-বৃষ্টিতে ভোলায় রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি : দিশেহারা কৃষক


নগর সংবাদ দাতা,২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ::
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) একটি অরাজনৈতিক, কল্যাণমুখী পেশাজীবী সংগঠন। সংগঠনটির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও তৃণমূল পর্যায়ে বিস্তৃত করার লক্ষ্যে আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগর ৩১ সদস্য বিশিষ্ট থানা কমিটি অনুমোদন প্রদান করা হয়।
অনুমোদন প্রদান করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বিশিষ্ট লেখক ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি এ সময় নবগঠিত কমিটির সদস্যদের প্রতি সংগঠনের আদর্শ, নীতি ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, সাংবাদিক গিলবার্ট গমেজ শিশির এবং কেন্রীয় দপ্তর সম্পাদক, কৃষিবিদ হাসান রুহী। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ নবগঠিত কমিটির সফলতা কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও, উক্ত কমিটির নেতৃবৃন্দকে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে বাসায় ছাদ কৃষিতে আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়, যা নগর জীবনে সবুজায়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) দেশের পেশাজীবীদের অধিকার রক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন’র শেরে বাংলা নগর থানা কমিটি অনুমোদন ও ছাদ কৃষিতে উৎসাহ সৃষ্টির জন্য বীজ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা সদর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে খাল খনন ও সংস্কারের অভাবে পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় বর্ষায় জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসূমে তীব্র সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলার ৭৩টি খাল খনন, পুনঃখনন ও সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। প্রস্তাবনা কার্যকর হলে ফসলের উৎপাদন বাড়বে কয়েকগুন।

কৃষি বিভাগ ভোলা পৌরসভাসহ রাজাপুর, ইলিশা, পশ্চিম ইলিশা, বাপ্তা, ধনিয়া, শিবপুর, আলীনগর, চরসামাইয়া, ভেলুমিয়া ও সংলগ্ন চরাঞ্চলের খালগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। প্রস্তাবিত কাজের আওতায় মোট ১৩ হাজার ৮৫০ মিটার খাল পুন:খননের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, খালগুলোকে অতি জরুরি, জরুরি ও কম জরুরি-এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি খালকে অতি জরুরি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে দ্রুত কাজ শুরু না হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ৩৯টি খাল জরুরি এবং ১৪টি খাল কম জরুরি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

অতি জরুরি খাল :
পৌর বাপ্তা মৌজার আবহাওয়া অফিস রোড সংলগ্ন খাল, ভোলা পৌরসভার ভোলা পৌর খাল, ছোট আলগির পৌরসভার খাল, চরপোটকার সুন্দর খালির খাল, শাহামাদারের তেরো বোয়ালিয়া খাল, কানাইনগরের আন্দির খাল, শুক্কুর মোল্লা খাল, রুহিতার রুহিতা খাল, আলীনগরের মাদ্রাসা বাজার খাল, ভোলার খালের শাখা, বড় চরসামাইয়ার কয়াল বাড়ি খাল, সেকমার সেকমা খাল, ছিফলীর আগারপোল খাল, চর চন্দ্র প্রসাদের গোয়ালিয়া খাল, দারোগা খাল, পশ্চিম চরকালীর শেরে বাংলা খাল, চররমেশের চরকালী খাল, কোড়ালিয়ার গাড়িগাটা খাল, দক্ষিণ বালিয়ার কেড়ামুনিয়া খাল এবং দক্ষিণ বালিয়ার বটতলা জোড় খাল।

জরুরি খাল :
চর মনসা মৌজার টাঙ্গির খাল, দক্ষিণ রাজাপুরের জোড়া খাল, গুপ্তমুন্সির নবকুমার খাল, এছাকের খাল, গুপ্তমুন্সির খাল, কুমারিয়ার খাল, গজারিয়ার খাল, দক্ষিণ চরপাতার সদর চর খাল, কচ্ছপিয়া খাল, দক্ষিণ চরের আনন্দ দুর্গা খাল, পশ্চিম চরপাতার টাঙ্গির খাল, বাইলা খালি খাল, পশ্চিম পাঙ্গাশিয়ার বোয়াল খালি খাল, টাঙ্গির খাল, পাঙ্গাশিয়ার খন্তা খালি খাল, চরপোটকার আউত্তা খালির খাল, বাপ্তার চাচড়া খাল, চৌদ্দঘর খাল, মধ্য বাপ্তার মুছাকান্দি খাল, সুদরোকান্দি খাল, শাহামাদারের গারিয়াল খাল, ধনিয়ার চেউয়াখালির খাল, নবীপুরের নবীপুর হেতনার খাল, রতনপুরের ভোলা খাল, কালিকীর্ত্তির কালিকীর্ত্তি খাল, শিবপুরের শিবপুর খাল, রতনপুরের রতনপুর খাল, চন্দ্রপ্রসাদের জরঝুরিয়া খাল, নাপ্তার খাল, দারোগা খাল, কুঞ্জপট্টির বাওয়ালী খাল, চর ভেদুরিয়ার হাজির হাট খাল, গজারিয়ার শেকমা গজারিয়া খাল, উত্তর দিঘলদীর রাঢ়ির হাট বাজার খাল, কোড়ালিয়ার বাজার খোলা খাল, কোড়ালিয়ার মন্টু মোল্লা খাল, শান্তির হাট খাল এবং দক্ষিণ বালিয়ার নতুন হাট খাল।

কম জরুরি খাল :
চর মনসা মৌজার টাঙ্গির খাল, কন্দকপুরের জোড়া খাল, মেদুয়ার টাঙ্গির খাল, চর মনসার মেদুয়া খাল, চর ইলিশার নবকুমার খাল, চর আনন্দের পাটোয়ারীর খাল, দরোগার খাল, পণ্ডিতের খাল, কুঞ্জপট্টির আবদুল্লাহ খাল, চর ভেদুরিয়ার ব্যাংকের হাট খাল, কাঁটাবুনিয়া খাল, হেতনার খাল, চর চটকিমারার চটকিমারা খাল এবং দক্ষিণ বালিয়ার মাতাব্বর বাড়ি খাল।

চিহ্নিত খালগুলোর দৈর্ঘ্য সর্বনিম্ন ৫০ মিটার থেকে সর্বোচ্চ ৬৫০ মিটার পর্যন্ত। দীর্ঘদিন অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক খাল ভরাট হয়ে গেছে, কোথাও কোথাও পানিপ্রবাহ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়েছে।

কৃষি বিভাগের মতে, এসব খাল পুনঃখনন করা হলে বৃহৎ এলাকা সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। এতে বোরো ও আমন মৌসূমে ফসল উৎপাদন বাড়বে এবং একই সঙ্গে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা কমে বসতভিটা ও গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষা পাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত খালগুলোর অধিকাংশই অতি জরুরি তালিকায় থাকায় দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। সময়মতো উদ্যোগ না নিলে আসন্ন মৌসুমে কৃষকদের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে।

স্থানীয় কৃষকেরা জানান, খালগুলো সচল থাকলে সেচ ব্যয় কমবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু বছরের পর বছর খালগুলোর অযত্ন ও ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে কৃষিকাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, কৃষকদের সমস্যার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে ধাপে ধাপে খাল সংস্কার ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভোলা সদরে ৭৩টি খাল পুনঃখননের প্রস্তাব॥ সেচ সুবিধায় উৎপাদন বাড়বে কয়েকগুন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা, ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার ::
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের সহায়তায় ভোলার তজুমদ্দিনে ৩ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে আউস প্রবেদনার বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে সম্প্রতি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আউস প্রনোদনা কার্যক্রমেরর উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইব্রাহিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সেলিম, বিট কর্মকর্তা পলাশ চক্রবর্তীসহ কৃষি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৩ হাজার কৃষকের মাঝে উচ্চ ফলনশীল জাতের ৫কেজি করে মোট ১৫ হাজার কেজি আউস ধানের বীজ, ১০ কেজি করে এমপি ও ১০কেজি করে ডিএপি মোট ৬০ হাজার কেজি সার বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ইব্রাহিম বলেন, কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও সঠিকভাবে সার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। আউস ধান উৎপাদনের খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকরা আউস ধান চাষ করতে চায় না তাই আউস চাষ বাড়াতে প্রনোদনার বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিনামূল্যে বীজ ও সার পাওয়ায় তাদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং চাষাবাদে আগ্রহ আরও বাড়বে।

উল্লেখ্য, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষকদের আর্থিকভাবে সহায়তা দিতে সরকার প্রতি বছর বিভিন্ন মৌসুমে এ ধরনের প্রণোদনা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে।

তজুমদ্দিনে ৩ হাজার কৃষকের মাঝে আউস ধানের বীজ ও সার বিতরণ

ডেস্ক রিপোর্ট::

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে রাজধানীর মালিবাগস্থ হোসাফ টাওয়ারে অবস্হিত অভিজাত রাজবাড়ি কুইজিন চাইনিজে “অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বনাম মানবিক উন্নয়ন” শীর্ষক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

একইসঙ্গে নগর জীবনে সবুজায়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল ছাদবাগানীদের মাঝে উন্নত জাতের সবজি বীজ ও বিভিন্ন ধরনের জৈব সার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ও বিশিষ্ট লেখক সরকার ড. মো. আবুল কালাম আজাদ।

অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন ঢাকা প্রেস ক্লাব ট্রাস্ট সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মফিজ উদ্দিন খান।

প্রধান আলোচক ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কবি

প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে মানবিক উন্নয়নের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উদ্বোধক আলতাফ মাহমুদ বলেন, প্রকৃত উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয় যখন তা মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিফলিত হয়। তিনি গ্রামীণ ঐতিহ্য, কৃষি ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে একীভূত করে টেকসই সমাজ গঠনের আহ্বান জানান এবং ছাদবাগানকে নগর জীবনে সম্ভাবনাময় সবুজ বিপ্লব হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রধান অতিথি মো. মফিজ উদ্দিন খান বলেন, কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়, বরং মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই প্রকৃত অগ্রগতি। তিনি সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল বলেন, উন্নয়নের সূচক যদি শুধু অর্থনৈতিক পরিমাপে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মানবিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নৈতিকতার বিকাশকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি নগর কৃষি ও ছাদবাগানকে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যেও টেকসই উন্নয়ন, স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার, পরিবেশ সচেতনতা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, নগর জীবনে ছাদবাগান এখন শুধু শখ নয়, বরং পরিবেশ রক্ষা, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ ও অর্থনৈতিক সাশ্রয়ের একটি বাস্তবসম্মত উদ্যোগ।

সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন মানবিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সকল স্তরে পৌঁছে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। তিনি পরিবেশবান্ধব নগর গঠনে ছাদবাগানকে কার্যকর ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-রিজিয়া বেগম, মোসা: শাহ্ নওআজ আবেদীন,শামসুল করিম, আমির হোসেন, মিয়া মো. মুজিবুল হক, মো. শহিদুল্লাহ ভুঁইয়া, সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ, সাংবাদিক এফ রহমান রুপক, হাজ্বী তারিকুল ইসলাম তরু, সাংবাদিক মো. শফিউর রহমান কাজী, এম এ করিম খাঁন, রাশেদুল হাসান, সৈয়দ মোশাররফ হোসেন পাপ্পু, মো. আসিফ হাওলাদার ইলিয়াস, এডভোকেট মনিদ্রনাথ, মো. মাকসেছুল ইসলাম নয়ন, মুরসালিনা আক্তার ডালিয়া, খন্দকার আবিদ আহমেদ, সাংবাদিক মো. আব্দুল মাবুদ জীবন, মো. সানোয়ার হোসাইন, মানবাধিকার কর্মী ও লেখক প্রসপারিনা সরকার, সাংবাদিক গিলবার্ট গমেজ শিশির, কৃষিবিদ মো. হাসান রুহি এবং বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ হাফেজ মাওলানা মুফতী মুর্তজা ইবনে মোস্তফা সালেহী সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জনাব জামাল আহমেদ।

আলোচনা শেষে ২০২৬ সালের SSC পরীক্ষার্থীদের সাফল্য কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মানবিক উন্নয়নের সমন্বয়ে টেকসই সমাজ গঠনের আহ্বান পেশাজীবীদের

কৃষি ডেস্ক ::

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর উদ্যোগে নগর এলাকায় সবুজায়ন সম্প্রসারণ ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি কার্যকর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় বাসা-বাড়ির ছাদ ও বারান্দায় সবজি চাষাবাদে উৎসাহিত করতে আগ্রহীদের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ প্রদান করা হয়।

উক্ত কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনে’র সভাপতি ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ।

তিনি বলেন, সীমিত পরিসরে হলেও ছাদ ও বারান্দায় সবজি চাষের মাধ্যমে পরিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ নগরবাসীর মাঝে কৃষিমুখী সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

ছাদ ও বারান্দায় সবজি চাষে বীজ বিতরণ কার্যক্রম

কৃষি ডেস্ক::
জমি থেকে দ্রুত অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করতে হবে এবং ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। শিলার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত গাছে পচন রোধে প্রোপিকোনাজল বা ট্রাইসাইক্লাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক এবং ইউরিয়া সারের পরিবর্তে পটাশ সার ব্যবহার করা উত্তম।
পদক্ষেপসমূহ:
পানি নিষ্কাশন: জমিতে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি ও শিলা দ্রুত সরিয়ে ফেলুন।
ছত্রাকনাশক স্প্রে: 
শিলার আঘাতে ক্ষত সৃষ্টি হলে ছত্রাকজনিত রোগ (যেমন- ব্লাস্ট বা খোলা পচা) হতে পারে। তাই ট্রাইসাইক্লাজল (যেমন- ট্রুপার বা জিল) বা কার্বেন্ডাজিম (যেমন- অটোস্টিন) গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ১-২ গ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
গাছের পরিচর্যা:
যদি গাছ ভেঙে না পড়ে, তবে পটাশ (এমওপি) সার হালকা উপরি প্রয়োগ করলে গাছের ক্ষত সারতে ও শীষ শক্ত হতে সাহায্য করে।
ইউরিয়া সার বর্জন:
শিলাবৃষ্টির পর জমিতে অতিরিক্ত ইউরিয়া সার দেবেন না, এতে রোগবালাই বৃদ্ধি পেতে পারে।
জমির আগাছা পরিষ্কার: 
শিলাবৃষ্টির পর জমিতে শামা বা অন্যান্য ঘাস থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে।
লেখক:
সভাপতি: বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন।
কৃষি লেখক ও কথক: বাংলাদেশ বেতার।
উপদেষ্টা,দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ।
প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক ও পরীক্ষক: কৃষি শিক্ষা।
★কৃষিতে বারো মাস গ্রন্থ সহ বহু গ্রন্থের লেখক

ধানের কাইচ থোড় (Boots) অবস্থায় শিলাবৃষ্টি হলে করনীয়