
নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
গত কয়েক বছরে বাজারে পেঁয়াজের দামের অস্বাভাবিক ওঠানামা কৃষক ও ভোক্তা-উভয়ের জন্যই ভোগান্তির কারণ হয়েছে। তবে সেই পরিস্থিতিই ভোলার অনেক কৃষকের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। ফলে জেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পেঁয়াজ চাষ। চলতি মৌসূমে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পেঁয়াজের ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাঁসি ফুটেছে। বর্তমানে মাঠ থেকে পেঁয়াজ তোলা, রোদে শুকানো এবং সংরক্ষণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কেউ কেউ আবার আগামী মৌসূমের জন্য বীজ সংরক্ষণেও মনোযোগ দিচ্ছেন।।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এ বছর ভোলায় পেঁয়াজের আবাদ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২শ’ ৩৪ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮শ’ ৮ মেট্রিক টন। বিশেষ করে সদর ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের কৃষক জাকির মিজি বলেন, গত কয়েক বছরে বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় অনেক সময় কিনতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তাই ধানসহ অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি নিজের জমিতেই পেঁয়াজ চাষ শুরু করেছেন তিনি।
একই এলাকার কৃষক সেলিম বেপারী বলেন, গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতায় তারা আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ শিখেছেন। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। বর্তমানে মাঠ থেকে পেঁয়াজ তুলে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণের কাজ চলছে। পাশাপাশি আগামী মৌসুমের জন্য বীজও সংরক্ষণ করছেন।
কৃষক মাকসুদ পাটোয়ারী জানান, তিনি ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন এবং ভালো দাম পেয়েছেন। পাশাপাশি ঘরে ব্যবহারের জন্য কিছু পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রেখেছেন এবং আগামী মৌসূমে চাষের জন্য বীজও রেখে দিচ্ছেন।

সদর উপজেলার পরানগঞ্জ এলাকার কৃষক শামসুদ্দিন বলেন, এবার পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। এখন আমরা মাঠ থেকে পেঁয়াজ তুলে শুকিয়ে ঘরে তুলছি। বাজারে দাম ভালো থাকলে কৃষকেরা লাভবান হবেন। কৃষকদের মতে, পেঁয়াজ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হয়। এতে ন্যায্য দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।
গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর টেকনিক্যাল অফিসার কৃষিবিদ মুরাদ হাসান চৌধুরী জানান, পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আরএমটিপি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ শেখানো হয়েছে। ফলে অনেক কৃষক এবার প্রথমবারের মতো পেঁয়াজ চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষকদের বীজ সংরক্ষণের সুবিধার জন্য একটি বীজ সংরক্ষণাগারও স্থাপন করা হয়েছে।
ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. শামিম আহমেদ বলেন, কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ ও সংরক্ষণ বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলন বাড়াতে উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মাহিন জানান, পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের আগ্রহী করতে আমরা আরএমটিপি প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করছি। ফলে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হচ্ছে। ইতোমধ্যে চাষীদের উন্নতমানের পেঁয়াজের বীজ ও সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হয়েছে, যা ভোলায় প্রথম। আমাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ খায়রু ইসলাম মল্লিক বলেন, ভোলায় আগে পেঁয়াজ চাষ খুব কম হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ায় এ চাষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি বিভাগের আশা, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে চলতি মৌসুমে ভোলা জেলার কৃষকেরা পেঁয়াজ উৎপাদন থেকে ভালো লাভ করতে পারবেন এবং স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহও স্থিতিশীল থাকবে।


নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগীতা ও পরামর্শে মেঘনার বুকে জেঁগে উঠা নাগর পাটওয়ারীরর চরসহ বিভিন্ন চরের পতিত জমির দিগন্তজুড়ে সবুজের মাঠে তরমুজ গাছে ভরে উঠেছে ফসলে। তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চর জহির উদ্দিন, তেলিয়ার চর ও নাগর পাটওয়ারীর চরসহ ক্ষেতগুলোতে তরমুজের ব্যাপক সমারোহ। আকার বড় ও ফলন ভালো হওয়ায় ফসল তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। উপজেলার বাজারসহ নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের আড়ৎগুলোতে তরমুজ বেচাকেনা জমে উঠায় কৃষক ভালো দাম পেয়ে খুশি।

সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে আমন ধান চাষের পরে এসব হাজার হাজার একর জমি পতিত পড়ে থাকতে দেখা গেছে বিগত বছরগুলিতে। কিন্তু এবছর উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগীতা ও পরামর্শে কৃষকরা পতিত জমিতে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়। যে কারণে কৃষি অফিসার ও উপ-সহকারী অফিসারদের দিকনির্দেশনায় কৃষকরা চারা রোপনের পর হতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তরমুজ ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটান। আগাছা দমন, পানি সেচ, সার ঔষুধ প্রয়োগের পাশাপাশি রাত জেগে তরমুজের ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন তারা।
উপজেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৬০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে মোট ২৬৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে। যার মধ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের ১০টি প্রদর্শনী রয়েছে। এ বছর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তরমুজ চাষ ব্যাপকভাবে দেখা গেছে।
সরজমিনে গিয়ে সোনাপুর ইউনিয়নের চর জহির উদ্দিন, তেলিয়ার চর ও নাগর পাটওয়ারীর চর এলাকার কৃষক তছলিম মাঝি, মোঃ হান্নান ও সালাউদ্দিনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এবার আমাদের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। আশা করছি রমযান মাসে তরমুজ কাটায় ভালো দামে বিক্রি করতে পারবো। ইতিমধ্যেই কিছু ক্ষেতের তরমুজ বিক্রি শুরু হয়েছে। তারা অনেক ভালো দামে বিক্রি করায় যাতে ভালো লাভ হয়েছে। তরমুজের ফলন ভালো ও ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে আমরা চাষি অনেক খুশি।
তাদেরমতো আরো কৃষকরা জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শুরু থেকে পোকা মাকড়ের আক্রমন কম থাকায় সার-ঔষধের খরচ তুলনামূলক কম হয়েছে। তাছাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ইব্রাহিম স্যার ও নুর কবির স্যার সারাক্ষণ আমাদের খোঁজ-খবর নিতে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী তরমুজ ক্ষেতে পরিচর্যা করা ফলন ভালো হয়েছে আর এতেই আমরা অনেক সন্তুষ্ট কৃষি অফিসের প্রতি। আশা করি স্যাররা আগামী দিনেও আমাদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে তজুমদ্দিন উপজেলাকে একটি কৃষিবান্ধব উপজেলায় পরিনত করবেন। এবারের কৃষি অফিসের যথাযথ পরামর্শ প্রদান করায় উচ্চ ফলন ও মানসম্মত তরমুজ বিক্রি চাষিদের জন্য আনন্দের এক নতুন বার্তা নিয়ে এসেছে।
তজুমদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ইব্রাহিম বলেন, কৃষকরা ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভালো দাম ও অনুকূল পরিবেশ এই দুটি বিষয় খেয়াল রাখেন। এবছর দাম ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরকারি সহযোগীতা ও আমাদের পরামর্শে স্থানীয় কুষকরা তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে চাষ করেন। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজের দামে কৃষক অনেক লাভবান। যদি আরো একমাস কৃষক অনুকূল আবহাওয়া পায় তাহলে পুরো ফসল ঘরে তুলতে পারবে আর তাতে অনেক বেশী লাভবান হবেন কৃষকরা।

কৃষি ডেস্ক ::
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর উদ্যোগে “সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা, রাজধানীতে ছাদ কৃষির জন্য উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ, ইফতার ও দোয়া মাহফিল রবিবার (০৮ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ-এর ভিআইপি সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)’র সভাপতি আলহাজ্ব ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)’র সাবেক পরিচালক মিজানুর রহমান গ্রামসি। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ, কবি ও কথাসাহিত্যিক প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমেদ।
উদ্বোধক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আরও বেগবান করতে পেশাজীবী সমাজকে দায়িত্বশীল ও নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
প্রধান অতিথি মিজানুর রহমান গ্রামসি বলেন, একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেশের উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক অগ্রগতিতে পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল বলেন, টেকসই উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে পেশাজীবীদের গবেষণা, সৃজনশীল চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ অতিথি- জীবন বীমা কর্পোরেশনের পরামর্শক(অব: অতিরিক্ত সচিব) শ্রী অসিত কুমার মুকুটমণি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পেশাজীবীদের দক্ষতা, সততা ও দায়বদ্ধতার সমন্বয়ই একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়নে পেশাজীবীদের নৈতিক নেতৃত্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, নৈতিকতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন কাজ করে যাচ্ছে।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গোলাম মোস্তফা, সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদক, জাতীয় ম্যাগাজিন অগ্নিবার্তা, মাহফুজুর রহমান খান, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও সমাজ বিশ্লেষক; বীর মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ, সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক; এবং মুফতি মাওলানা মূর্তাজা ইবনে মোস্তফা সালেহী, বিশিষ্ট ইসলামী আলোচক (বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও বাংলাদেশ বেতার) এফ রহমান রূপক, সভাপতি, বাংলাদেশ মডেল প্রেস ক্লাব; মো: ইমাম হোসেন, সহ সম্পাদক, দৈনিক সকালের সময়, মো. মফিজ উদ্দিন খাঁন, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিজিএ, ঢাকা, মোহাম্মদ আব্দুল মা’বুদ জীবন, সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ, মো. আব্দুল করিম খাঁন, সাধারণ সম্পাদক, ডিপিডিসি প্রকৌশলী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদ, মো. সানোয়ার হোসাইন, উপদেষ্টা, ঢাকা দক্ষিণ সাংবাদিক ফোরাম, লায়ন মোস্তাফিজুল আজম মামুন, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী, খোন্দকার আবিদ আহম্মেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি, পদ্মা সমিতি, মো. শাফিউর রহমান কাজী, সহ-সম্পাদক, দৈনিক ঘোষণা এবং জনাব মানস কুমার আচার্য অপু, বিশিষ্ট বীমা উন্নয়ন কর্মী।
আলোচনা সভা শেষে উপস্থি সকলকে ছাদে চাষাবাদের জন্য উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া এবং ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

কৃষি ডেস্ক ::
রমজান মাস আত্মসংযম ও ইবাদতের মাস। এই পবিত্র মাসে দেশের কৃষক সমাজ রোজা রেখেই মাঠে-ঘাটে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যান, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে রোজার কারণে দীর্ঘ সময় না খেয়ে কৃষি কাজ করলে শারীরিক দুর্বলতা ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই রমজান মাসে কৃষি কাজের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
রমজানে কৃষি কাজের সময়সূচি সঠিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সাহরির পর ভোরের সময় ভারী কৃষি কাজ সম্পন্ন করা তুলনামূলক নিরাপদ। দুপুরের প্রচণ্ড রোদে কাজ এড়িয়ে চলা এবং বিকেলে হালকা কাজ করাই উত্তম। এতে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে।
সাহরি ও ইফতারে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানিশূন্যতা এড়াতে ডাবের পানি, শরবত ও লবণ-চিনি মিশ্রিত পানি উপকারী। পাশাপাশি সাহরিতে ভাত বা রুটি, ডাল, ডিম, শাকসবজি জাতীয় পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে সারাদিন কাজ করার শক্তি পাওয়া যায়। ইফতারে ভাজাপোড়া কম এবং ফলমূল ও সহজপাচ্য খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কৃষি কাজে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করাও জরুরি। সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ সকাল বা সন্ধ্যায় করা উচিত। কীটনাশক ব্যবহারের সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে। এ ছাড়া যেখানে সম্ভব সেখানে পাওয়ার টিলার, স্প্রে মেশিনসহ যান্ত্রিক কৃষি উপকরণ ব্যবহার করলে শ্রম ও শক্তি সাশ্রয় হয়।
ফসলভিত্তিক ব্যবস্থাপনাও রমজানে গুরুত্বপূর্ণ।
বোরো ধানে সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। সবজি ক্ষেতে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত সেচ দিতে হবে এবং ফলের বাগানে মালচিং ব্যবহার করলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা সম্ভব হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কৃষকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা। হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরা, মাথা ঢেকে কাজ করা এবং দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা অনুভব করলে তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কাজ ভাগ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
রমজানে সুস্থ কৃষকই সফল কৃষির মূল শক্তি। কৃষক সুস্থ থাকলে কৃষি টেকসই হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

কৃষি ডেস্ক ::
🔳 বস্তায় আদা চাষে সম্পূর্ণ সার ও স্প্রে শিডিউল (বস্তা প্রতি):
বস্তা সাইজ: ৫০–৬০ কেজি
মাটি মিশ্রণ (ভালো ফলনের জন্য): দোআঁশ মাটি + কম্পোস্ট + বালি/কোকোপিট (ড্রেনেজ ঠিক রাখতে)
বীজ আদা: ৩–৪টি টুকরা
প্রতি টুকরা: ২৫–৩০ গ্রাম
সুস্থ, পোকামাকড়মুক্ত ও চোখসহ বীজ ব্যবহার করবেন
🔳 রোপণের দিন:
বেস সার (মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দেবেন)
পচা গোবর/কম্পোস্ট: ২–৩ কেজি
টিএসপি: ২০–২৫ গ্রাম
এমওপি (পটাশ): ১৫–২০ গ্রাম
জিপসাম: ১০ গ্রাম
বোরন: ১ গ্রাম (না থাকলে বাদ)
🔳 বীজ শোধন (রোপণের আগে বাধ্যতামূলক):
ট্রাইকোডার্মা: ৫ গ্রাম/লিটার পানি
বীজ ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রোপণ করবেন
এতে পচা রোগ ও ছত্রাকের ঝুঁকি কমে
🔳 ১৫ দিন পর করণীয়:
হালকা আগাছা পরিষ্কার
মাটি আলগা করে দিন
মালচিং ঠিক রাখুন (খড়/শুকনো পাতা)
প্রয়োজন হলে স্প্রে (পোকা থাকলে)
নিম তেল: ৫ মি.লি./লিটার পানি
🔳 ৩০ দিন পর ১ম টপ ড্রেসিং
সার (বস্তা প্রতি)
ইউরিয়া: ১০–১২ গ্রাম
এমওপি: ৮–১০ গ্রাম
সার দেওয়ার নিয়ম:
সার চারদিকে ছিটিয়ে হালকা কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে পানি দিন।
🔳 ৪৫ দিন পর :
হিলিং আপ (মাটি উঠানো)
গাছের গোড়ায় মাটি তুলে ঢিবি করে দিন
এতে গাঁট বেশি হয়, আদা মোটা হয়, ফলন বাড়ে
রোগ প্রতিরোধ স্প্রে (ঐচ্ছিক কিন্তু ভালো)
ম্যানকোজেব: ২ গ্রাম/লিটার পানি (১ বার)
🔳 ৬০ দিন পর ২য় টপ ড্রেসিং
সার (বস্তা প্রতি)
ইউরিয়া: ১০–১২ গ্রাম
এমওপি: ৮–১০ গ্রাম
পাতায় দাগ/হলদে হলে স্প্রে
ম্যানকোজেব: ২ গ্রাম/লিটার
৭ দিন পর আবার ১ বার
🔳 ৭৫ দিন পর জৈব খাবার (ফলন বাড়ায়)
যেকোনো একটি দিন
ভার্মি কম্পোস্ট: ১–২ মুঠো
অথবা
সরিষার খৈল ভিজানো পানি: ১ গ্লাস
১:১০ অনুপাতে পাতলা করে দেবেন
🔳 ৯০ দিন পর ৩য় টপ ড্রেসিং
(গাঁট মোটা করার সময়)
সার (বস্তা প্রতি)
ইউরিয়া: ৮–১০ গ্রাম (এ সময় কম দেবেন)
এমওপি: ১০–১২ গ্রাম (পটাশ একটু বেশি)
🔳এই সময় পটাশ বাড়ালে আদা মোটা, ভারী ও ঝকঝকে হয়।
🔳 ১২০ দিন পর করণীয়
পানি কমিয়ে নিয়ন্ত্রণ করুন
আগাছা পরিষ্কার
পচা/হলুদ গাছ থাকলে আলাদা করুন
যদি পচা রোগ দেখা দেয় (গোড়া নরম/দুর্গন্ধ)
রিডোমিল গোল্ড: ২ গ্রাম/লিটার পানি
গোড়ায় ড্রেঞ্চিং (বস্তায় ঢেলে দেওয়া)
৭ দিন পর আবার ১ বার
🔳 ১৫০-১৮০ দিন সবুজ আদা সংগ্রহ
এই সময় কাঁচা/সবুজ আদা তুলতে পারবেন
বাজারে সাধারণত ভালো দাম পাওয়া যায়
🔳 ২৪০-২৭০ দিন পাকা আদা সংগ্রহ
পাতা হলুদ হয়ে শুকালে আদা তুলবেন
এটি সংরক্ষণযোগ্য ও শুকানো যায়
🔳বস্তায় আদা চাষে ফলন বাড়ানোর ৫টি কৌশল
১) পানি জমতে দেবেন না (ড্রেনেজ ঠিক রাখুন)
২) মালচিং ২–৩ ইঞ্চি রাখুন
৩) ৪৫–৬০ দিনে হিলিং আপ বাধ্যতামূলক
৪) ৯০ দিনে পটাশ একটু বেশি দিন
৫) ১৫ দিন পর পর গাছ দেখে ব্যবস্থা নিন (পোকা/রোগ দ্রুত ধরতে)
লেখক:
সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
কৃষি লেখক ও কথক,বাংলাদেশ বেতার
উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ, অগ্নিবার্তা।
কৃষি ডেস্ক ::
পেঁচা-রাতের নীরব আকাশে উড়ে চলা এক রহস্যময় পাখি। লোককথা ও কুসংস্কারে পেঁচাকে অনেক সময় অশুভ হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রকৃতি ও মানুষের কল্যাণে পেঁচার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা এখনো অনেকের অজানা।
১. কৃষকের নীরব বন্ধু পেঁচা:
পেঁচা মূলত ইঁদুর, ছুঁচো, ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ছোট সরীসৃপ খেয়ে থাকে। একটি পেঁচা বছরে প্রায় ১,০০০-৩,০০০টি ইঁদুর খেতে পারে।
ফলে ধান, গম, ভুট্টা, সবজি ও গোলা ধানের ক্ষতি কমে
কীটনাশকের ব্যবহার কমে, পরিবেশ থাকে নিরাপদ কৃষকের উৎপাদন খরচ হ্রাস পায়
এই কারণেই উন্নত দেশগুলোতে পেঁচাকে বলা হয় “প্রাকৃতিক বায়োলজিক্যাল পেস্ট কন্ট্রোল এজেন্ট”।
২. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পেঁচা:
পেঁচা খাদ্যশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্ষতিকর প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে তারা প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে।
ইঁদুর অতিবৃদ্ধি রোধ, রোগবাহক প্রাণীর বিস্তার কমানো,
বন ও কৃষি পরিবেশ রক্ষায় এদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
পেঁচা না থাকলে ইঁদুরের আধিক্যে মানবস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।
৩. রোগ প্রতিরোধে পরোক্ষ ভূমিকা:
ইঁদুর ও ছুঁচো বহু মারাত্মক রোগের বাহক-যেমন প্লেগ, লেপ্টোস্পাইরোসিস, সালমোনেলা ইত্যাদি।
পেঁচা এসব প্রাণী খেয়ে তাদের সংখ্যা কমিয়ে মানুষকে রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।
৪. বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পেঁচার অবদান:
পেঁচার দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণক্ষমতা অসাধারণ।
অল্প আলোতে দেখার ক্ষমতা, নিঃশব্দে উড়ার কৌশল
এই বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে গবেষণা করে—
নাইট ভিশন প্রযুক্তি
সেন্সর ও রাডার সিস্টেম
নীরব ড্রোন ও বিমান প্রযুক্তি
উন্নয়নে পেঁচা অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৫. অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ভূমিকা:
পেঁচা থাকলে-
ইঁদুরনাশক ও কীটনাশকের খরচ কমে, ফসল নষ্ট কম হয়,
কৃষকের আয় বৃদ্ধি পায়। এ কারণে অনেক দেশে কৃষিজমিতে কৃত্রিম পেঁচার বাসা (Owl Box) স্থাপন করা হচ্ছে।
৬. কুসংস্কার নয়, সংরক্ষণ প্রয়োজন:
দুঃখজনকভাবে আমাদের সমাজে পেঁচা নিয়ে নানা কুসংস্কার রয়েছে। ফলে অনেক জায়গায় পেঁচা নিধন বা নির্যাতনের শিকার হয়।
এটি পরিবেশ ও কৃষির জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর
পেঁচা সংরক্ষণ মানেই খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা
পেঁচা কোনো অশুভ প্রাণী নয়; বরং এটি মানুষের অজান্তেই কল্যাণে নিয়োজিত এক নীরব যোদ্ধা। কৃষি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও বৈজ্ঞানিক উন্নয়নে পেঁচার অবদান অনস্বীকার্য। তাই কুসংস্কার পরিহার করে পেঁচা সংরক্ষণে আমাদের সকলের সচেতন হওয়া জরুরি।
“পেঁচা বাঁচলে-কৃষি বাঁচবে, পরিবেশ বাঁচবে, মানুষ বাঁচবে।”
লেখক:
★সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী
★সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য: দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ, অগ্নিবার্তা।

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার লালমোহন উপজেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টিপাতের কারণে কিছুটা বিপাকে পড়লেও তা কাটিয়ে ওঠেন কৃষকরা। যার ফলে মৌসুম শেষে আশানুরূপ ফলন পেয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। এই উপজেলায় আমন মৌসুমে ২৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকার ধান উৎপাদন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কৃষি বিভাগ।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, লালমোহনে এবারের আমন মৌসুমে ২৩ হাজার ১০৫ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। যার মধ্যে উফশী জাতের ধান আবাদ হয়েছে ২২ হাজার ১৪৬ হেক্টর জমিতে। স্থানীয় জাতের ধান আবাদ হয়েছে ৯৫০ হেক্টর জমিতে এবং ৯ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের ধানের আবাদ হয়। এসব জমিতে আমন মৌসুমে ১ লাখ ৭ হাজার ৫২০ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হয়। প্রতি মন গড়ে ৯০০ টাকা বাজার দরে মোট ২৪১ কোটি ৯২ লাখ টাকার ধান উৎপাদন হয় এই আমন মৌসুমে।
কালমা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের চরছকিনা এলাকার কৃষক মো. বাবুল জানান, এ বছরের আমন মৌসুমে ২০ শতাংশ জমিতে ব্রি-ধান ১০৩ এবং ১০০ শতাংশ জমিতে ব্রি-ধান-১১ ও ব্রি-ধান-৫২ আবাদ করেছি। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টিপাতের কারণে ধানের চারা নিয়ে অনেক বিপাকে পড়তে হয়েছে। তবে জমিতে চারা রোপণের পর আর তেমন কোনো সমস্যা হয়নি। যার জন্য ফলন ভালো পেয়েছি। ক্ষেত থেকে ধান কাটা পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, লাভ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মতো।
লালমোহন ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের ফুলবাগিচা এলাকার কৃষক মো. আব্দুল লতিফ জানান, এবারের আমন মৌসুমে ২০০ শতাংশ জমিতে ধানের আবাদ করেছি। জমির সব ধান এরইমধ্যে কাটা হয়ে গেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আশানুরূপ ফলন পেয়েছি। ২০০ শতাংশ জমি থেকে ধান পেয়েছি দেড়শত মন। বাজারে প্রতি মন ধান বিক্রি করেছি ৯২০ টাকায়।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু হাসনাইন বলেন, মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে বীজতলা নিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন কৃষকরা। যার ফলে এই উপজেলায় কিছুটা দেরিতে ধানের আবাদ হয়েছে। দেরিতে ধানের আবাদ হলেও কৃষকরা তাদের জমি থেকে আশানুরূপ ফলন পেয়েছেন। এরমাধ্যমে জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এই উপজেলায় অধিক গড় ফলন অর্জন সম্ভব হয়েছে। পুরো আমন মৌসুমে আমাদের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন সমস্যায় তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে পাশে ছিলেন। এছাড়া কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন কৃষি উপকরণও দেওয়া হয়েছে।

কৃষি ডেস্ক ::
কুশি উৎপাদন বৃদ্ধি:
★নির্দিষ্ট দূরত্বে রোপণের ফলে প্রতিটি গাছ পর্যাপ্ত আলো ও পুষ্টি পায়।
★গবেষণায় দেখা গেছে, লাইন রোপণে কুশির সংখ্যা ২০-২৫% পর্যন্ত বেশি হয়।
ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি:
গাছের সমান বৃদ্ধি ও ভালো শীষ গঠনের কারণে
প্রচলিত ছিটানো রোপণের তুলনায় ফলন ১০–১৫% পর্যন্ত বেশি পাওয়া যায়
সার ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি:
সার সরাসরি গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা যায়
ইউরিয়া ও অন্যান্য সারের অপচয় ১৫-২০% কমে
সেচ ব্যবস্থাপনা সহজ ও পানি সাশ্রয়:
সমান দূরত্ব থাকায় জমিতে পানি নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়
বোরো মৌসুমে লাইন রোপণে ২০–২৫% পর্যন্ত পানি সাশ্রয় সম্ভব
আগাছা দমন সহজ ও খরচ কম:
সারি ধরে নিড়ানি ও পাওয়ার উইডার চালানো যায়
আগাছা দমনে শ্রম ও খরচ ৩০-৪০%
রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হ্রাস:
গাছের মাঝে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করায়
ব্লাস্ট, শীথ ব্লাইট ও পাতা ঝলসানো রোগের ঝুঁকি কমে
যান্ত্রিক চাষে উপযোগিতা:
রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, পাওয়ার উইডার ব্যবহারে সুবিধা
শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় কার্যকর পদ্ধতি
উৎপাদন খরচ হ্রাস ও লাভ বৃদ্ধি:
সার, পানি ও শ্রম সাশ্রয়ের ফলে
প্রতি হেক্টরে উৎপাদন খরচ গড়ে ৫-৮ হাজার টাকা কমে
বোরো ধানের জন্য সুপারিশকৃত রোপণ দূরত্ব:
সারি থেকে সারি : ২০-২৫ সেমি
গাছ থেকে গাছ : ১৫-২০ সেমি
প্রতি গোড়ায় চারা : ২-৩টি
বোরো মৌসুমে লাইন করে ধান রোপণ একটি বৈজ্ঞানিক, লাভজনক ও টেকসই চাষ পদ্ধতি, যা ফলন বৃদ্ধি, খরচ কমানো এবং আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লেখক:
★সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★উপদেষ্টা, গ্রামীণ কৃষি,নাগরিক কন্ঠ,সংবাদ প্রতিক্ষণ
★সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী,ঢাকা
চেয়ারম্যান
অধ্যক্ষ(অব:) প্রফেসর ড.গোকুল চন্দ্র বিশ্বাস
উপদেষ্টা সম্পাদক
মো. আ. রাজ্জাক ভূইয়া (বীর মুক্তিযোদ্ধা)
উপদেষ্টা
ড.বাহাউদ্দিন গোলাপ, রাম কৃষ্ণ নাথ
পৃষ্ঠপোষক
বিশ্বজিৎ ঘোষ (বিশু)
আইন উপদেষ্টা
এ্যাড. মোঃ মিজানুর রহমান
ঢাকা জেলা বার এ্যাসোসিয়েশন
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
সুগন্ধা মজুমদার
নির্বাহী সম্পাদক
মো. মাসুদুর রহমান চাকলা
মোবাইল:০১৭৩৫৩১৩২০৫
বার্তা সম্পাদক
আপন মন্ডল
মোবাইল: ০১৭৫৩৫৪৭০৭৪
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
ড. সরকার মোঃ আবুল কালাম আজাদ
মোবাইল: ০১৭২০২৫৬৪৫৭
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ পি.সি মজুমদার শিশির
বার্তা কক্ষ ও যোগাযোগ
মোবাইলঃ ০১৭১৫৮৫১৪৯১
Sarkar Villa, House # 47- 48, Block # D, Road # 23, Pallabi, Dhaka -1216
ই-মেইল: atvnews.press@gmail.com
ওয়েব: https://anusandhantv24.com/

