কৃষি ডেস্ক ::

বাংলাদেশে শীতকালীন সবজি বাজারে এখন ব্রকলির ভালো চাহিদা তৈরি হয়েছে। আগে শুধু বড় শহরের

সুপারশপে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন দেশের বিভিন্ন স্থানে হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে সাধারণ ক্রেতার ঘরেও ব্রকলির ব্যবহার বাড়ছে। ফলন ভালো, পরিচর্যা সহজ আর বাজারদর তুলনামূলক বেশি। সব মিলিয়ে ব্রকলি এখন কৃষকের জন্য লাভজনক এক নতুন ফসল হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে।

🔳 উপযুক্ত সময় ও জমি নির্বাচন:

ব্রকলি মূলত শীতকালীন সবজি। কার্তিক থেকে পৌষ-এই সময় চাষ করলে ফলন সবচেয়ে ভালো হয়। দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ জমি উপযোগী এবং জমিতে পানি দাঁড়িয়ে থাকা একদম চলবে না। মাটির pH ৬–৭ হলে গাছ দ্রুত বাড়ে ও ফুল বড় হয়।

🔳 জাত ও চারা উৎপাদন:

উন্নত জাতের মধ্যে-Green Magic, Premium Crop, Lucky, Calabrese-চাষ করলে ফলন ভালো হয়।
২৫–৩০ দিনের সবল চারা রোপণ করতে হবে।
রোপণের আগে বীজতলায় হালকা সেচ দিলে চারা শক্ত হয়।

🔳 জমি তৈরি ও রোপণ:

উঁচু জমিতে ১ মিটার চওড়া বেড তৈরি করা ভালো। লাইন থেকে লাইন ১৮-২০ ইঞ্চি, গাছ থেকে গাছ ১৫-১৬ ইঞ্চি দূরত্ব রাখতে হবে।

সন্ধ্যায় চারা রোপণ করলে স্ট্রেস কমে।

🔳 সার ব্যবস্থাপনা (শতকে):

গোবর/কম্পোস্ট: ৮-১০ কেজি, ইউরিয়া: ৩০০ গ্রাম, টিএসপি: ২৫০গ্রাম, এমওপি: ২০০ গ্রাম

টপ ড্রেসিং:

২০-২৫ দিন পরে ½ ইউরিয়া

ফুল আসার সময় বাকি ইউরিয়া + এমওপি

ক্যালসিয়াম–বোরন স্প্রে করলে ফুল শক্ত, ঘন ও বড় হয়

🔳 সেচ ও আগাছা দমন :

৭-১০ দিন পরপর সেচ দিতে হবে, তবে সেচ দিতে হবে বেডের পাশে নালায়, গোড়ায় নয়।

আগাছা নিয়ন্ত্রণের জন্য ২-৩ বার নিড়ানি যথেষ্ট।

মালচ দিলে পানি কম লাগে এবং আগাছাও কমে।

🔳 রোগ-পোকা দমন:

শুঁয়োপোকা দমনে ফেরোমন ট্র্যাপ বা BT স্প্রে ভালো কাজ করে।

পাতায় দাগ বা ডাউনি মিলডিউ হলে কপার অক্সিক্লোরাইড/ম্যানকোজেব ব্যবহার করা যায়।

এফিড বা মাকড়সা পোকার জন্য সাবান পানি স্প্রে কার্যকর।

জমিতে ট্রাইকোডার্মা ব্যবহার করলে মাটিবাহিত রোগ কম হয়।

ফসল তোলার ১০-১২ দিন আগে কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা যাবে না।

🔳 ফুল গঠন ও সংগ্রহ:

রোপণের ৬৫-৮০ দিনের মধ্যে ফুল সংগ্রহ করা যায়।
ফুলের মাথা ঘন, শক্ত এবং গাঢ় সবুজ হলে তুলতে হবে।
বেশি সময় রেখে দিলে ফুল ঢিলা হয়ে যায়, দামও কমে যায়।

🔳 উৎপাদন :

প্রতি শতকে ৩০-৪০ কেজি
প্রতি বিঘায় ১২-১৬ মণ

🔳 বাজারজাতকরণ:

ছায়ায় রাখলে ব্রকলি দীর্ঘসময় সতেজ থাকে।

প্রয়োজনে পানির স্প্রে করা যায়।

দূরপাল্লায় পাঠানোর সময় বরফসহ প্যাকেজিং করলে নষ্ট হয় না।

আগে থেকেই সুপারশপ-রেস্তোরাঁর সাথে যোগাযোগ করা লাভজনক।

🔳 চাষাবাদের সতর্কতা:

জমিতে পানি জমতে দেওয়া যাবে না

অতিরিক্ত ইউরিয়া দিলে ফুল ঢিলা হয়।

অপরিপক্ব (২০ দিনের কম) চারা রোপণ নয়।

রোদ-হিমালয়ের প্রভাব বেশি হলে ছায়া জাল ব্যবহার করা যেতে পারে।

একটানা কয়েক বছর একই জমিতে ব্রকলি-ফুলকপি চাষ করলে রোগ বাড়ে। ফসল পরিবর্তন জরুরি।

🔳 বাণিজ্যিক খরচ-লাভ (১ বিঘা জমি):

খরচ খাত (টাকা)

বীজ : ২০০০ টাকা
জমি তৈরি : ৪০০০টাকা
সার-কীটনাশক : ৮০০০টাকা
শ্রমিক : ৭০০০টাকা
সেচ : ২০০০টাকা
পরিবহন/প্যাকেজিং : ২০০০টাকা
মোট খরচ : ২৫০০০টাকা

আয়

বিঘায় উৎপাদন  : প্রায় ১৪ মণ (৫৬০ কেজি)

গড় পাইকারি দাম : ৭০-৮০ টাকা/কেজি

৭৫×৫৬০ = ৪২,০০০ টাকা

নিট লাভ

৪২,০০০-২৫,০০০ = ১৭,০০০ টাকা (৬৫-৭৫ দিনের মধ্যে)
সঠিক পরিচর্যায় লাভ আরও বাড়তে পারে।

স্বল্প জমিতে বেশি উৎপাদন, সহজ পরিচর্যা এবং বাজারে ভালো দামের কারণে ব্রকলি এখন কৃষকের জন্য শীতকালীন লাভজনক ফসল। উন্নত জাত, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশন ভালো রাখা-এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলেই ব্রকলি চাষ থেকে ভালো আয় করা সম্ভব।

লেখক:
★ সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★ উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি
★ সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী,ঢাকা।

শীতকালীন মাঠে লাভের নতুন সম্ভাবনা ব্রকলি চাষ

কৃষি ডেস্ক ::
বাংলাদেশে রবি মৌসুম এখন তরমুজ চাষের জন্য এক সম্ভাবনাময় ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক সময় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়া, পর্যাপ্ত সূর্যালোক এবং রোগবালাই কম থাকার কারণে এই মৌসুমে তরমুজের বৃদ্ধি দ্রুত হয়, ফলের আকার বড় হয় এবং উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম পড়ে। দক্ষিণাঞ্চল, চরাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় রবি মৌসুমের হাইব্রিড তরমুজ স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি সারা দেশে ব্যাপক চাহিদা তৈরি করেছে।
এই চাষাবাদ শুধু কৃষকের আয় বৃদ্ধি নয়; বরং স্থানীয় শ্রমশক্তির কর্মসংস্থান, পরিবহন খাতের সক্রিয়তা, পাইকারি ও খুচরা বাজারে নতুন সম্ভাবনা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্থায়ী অবদান রাখছে। সঠিক জমি নির্বাচন, পরিকল্পিত সার ব্যবস্থাপনা, উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক সেচব্যবস্থা ব্যবহার করলে রবি মৌসুমে তরমুজ চাষ কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক বিনিয়োগে পরিণত হতে পারে।
 
🔳উপযুক্ত জমি নির্বাচন:
বেলে-দোআঁশ বা দোআঁশ মাটি উত্তম।
পানি যেন না জমে—এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পর্যাপ্ত রোদ পাওয়া যায় এমন জমি নির্বাচন করুন।
আগাছা ও খড়কুটোমুক্ত জমি তরমুজের দ্রুত বৃদ্ধিতে সহায়ক।
 
🔳 বপন/রোপণের সময়:
আদর্শ সময়:   নভেম্বর–ডিসেম্বর।
শুরুর ডিসেম্বরের মধ্যেই চারা স্থাপন করলে ফলন বেশি হয়।
🔳 জমি প্রস্তুতি:
প্রতি বিঘায় ২০–২৫ কেজি ভালো মানের পচা গোবর/কম্পোস্ট।
গর্ত পদ্ধতি সবচেয়ে কার্যকর:
গর্ত ১–১.৫ ফুট গভীর ও ৩–৪ ফুট দূরত্বে।
গর্তের মাটিতে সার মিশিয়ে ৫–৭ দিন আগে প্রস্তুত করলে মাটির উর্বরতা বাড়ে।
🔳 রবি মৌসুমে লাভজনক তরমুজের জাতসমূহ:
(ফলন, বাজারদর, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও চাহিদার ভিত্তিতে)
 
★হাইব্রিড তরমুজ (সর্বাধিক লাভজনক)
১) Black Beauty F1 (ব্ল্যাক বিউটি)
অতিমিষ্ট (ব্রিক্স ১২–১৪)
ছত্রাক রোগ সহনীয়
রবি মৌসুমের জন্য খুব জনপ্রিয়
বাজারে চাহিদা বেশি
২) Black Dragon F1
অভিনব কালো খোসা
ওজন ৩–৫ কেজি
আগাম ফল দেয়, তাই লাভ বেশি
৩) BK 555 / BK Gold 555
রবি মৌসুমে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়
ফলন বেশি, বাজারদর ভালো পায়
৪) Sweet Wonder F1
শাঁস লাল, মিষ্টি, পরিবহণ সহনীয়
পাইকারি বাজারে মূল্য স্থিতিশীল
৫) Fairy F1 / Red Queen F1
মাঝারি আকারের, মজবুত খোসা
দূরপাল্লায় পরিবহণে কম নষ্ট হয়
বাণিজ্যিক চাষের জন্য সেরা
৬) Yellow Dragon F1 (হলুদ শাঁস)
রবি মৌসুমে বিশেষ চাহিদা থাকে
উচ্চ দামের কারণে বেশি লাভজনক
৭) Seedless Hybrid সিরিজ
শহরাঞ্চলে দাম বেশি
কম প্রতিযোগিতা, ফলে লাভ বেশি
 
🔳 উন্নত/বারি জাত (বিশ্বস্ত ফলন, কম খরচ):
১) বারি তরমুজ-৩
মাঝারি আকার
ছত্রাক রোগ কম হয়
রবি মৌসুমে ফলন স্থিতিশীল
২) বারি তরমুজ-৪
খরার সহনশীল
ফলন বেশি, কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয়
৩) বারি তরমুজ-৫
আগাম জাত; রবি মৌসুমে দ্রুত বাজারজাত করা যায়
মিষ্টতা ভালো
৪) Crimson Sweet (উন্নত বিদেশি জাত)
বাজারে চাহিদাসম্পন্ন
পরিবহণ সহনশীল
৫) Sugar Baby
ছোট আকার, আগাম ফসল
রবি মৌসুমে দামের পার্থক্য বেশি পাওয়া যায়
🔳 রবি মৌসুমে সবচেয়ে হাই লাভ দেয় যেসব জাত:
👉 Black Beauty F1
👉 BK 555 / BK Gold 555
👉 Black Dragon F1
👉 Sweet Wonder F1
👉 Yellow Dragon F1
👉 বারি তরমুজ-৩
🔳 সঠিক সার প্রয়োগ:
১. প্রাথমিক সার (বেসাল ডোজ) — প্রতি বিঘায়
ইউরিয়া: ২০–২৫ কেজি
টিএসপি: ১২–১৫ কেজি
এমওপি: ১৫–২০ কেজি
জিপসাম: ৫ কেজি
দস্তা: ১ কেজি (মাটিতে দস্তার ঘাটতি থাকলে)
২. টপ ড্রেসিং (গাছ বড় হওয়ার পর)
৩০–৩৫ দিনে:
ইউরিয়া: ৮–১০ কেজি
এমওপি: ৮–১০ কেজি
🔳ফল ধরার সময়:
ইউরিয়া: ৫–৭ কেজি (পাতলা করে সেচ লাইনে)
নোট: অতিরিক্ত নাইট্রোজেন দিলে লতা বেশি বাড়ে, ফল ছোট হয়।
🔳 মালচিং ব্যবহার:
কালো প্লাস্টিক মালচিং বা খড় বিছিয়ে দিলে—
আগাছা কমে
মাটির আর্দ্রতা থাকে
ফল মাটির সংস্পর্শে নষ্ট হয় না
 
🔳 সেচ ব্যবস্থাপনা:
ড্রিপ/ফিতা সেচ ব্যবস্থাপনা সবচেয়ে কার্যকর।
বীজ অঙ্কুরোদ্গম, শাখা বৃদ্ধির সময় এবং ফল বড় হওয়ার সময় যথাযথ সেচ দেওয়া জরুরি।
অতিরিক্ত পানি শিকড় পচা ও ফল ফাটার কারণ হতে পারে।
🔳 পরাগায়ন উন্নয়ন:
সকালে মৌমাছির চলাচল বাড়াতে আশেপাশে ফুলগাছ রাখুন।
প্রাকৃতিক পরাগায়ন কম হলে হাতে পরাগায়ন করা যেতে পারে।
🔳 লতা ও ফল ব্যবস্থাপনা:
অতিরিক্ত লতা ছাঁটাই করুন।
প্রতি গাছে ২–৩টি স্বাস্থ্যবান ফল রাখলে ফল বড় ও সুগঠিত হয়।
নিয়মিত ফল উল্টে দিলে একদিকে দাগ পড়ে না।
🔳 রোগবালাই ও পোকামাকড় দমন:
সাধারণ রোগ: ডাউনি মিলডিউ, পাউডারি মিলডিউ, ফল পচা।
প্রতিরোধ:
অনুমোদিত ছত্রাকনাশক
আলো ফাঁদ, বিটল ট্র্যাপ
নিয়মিত লতা পর্যবেক্ষণ
বাগানে বাতাস চলাচল বাড়াতে গাছের ঘনত্ব কম রাখুন।
🔳তরমুজ চাষের উপকারিতা:
স্বল্প সময়ে বেশি লাভ: ৬৫–৮০ দিনে ফসল সংগ্রহ করা যায়।
চাষের খরচ কম: সার, সেচ ও পরিচর্যা কম লাগে।
লবণাক্ত জমিতে উপযোগী: দক্ষিণাঞ্চলে খুব ভালো ফলন দেয়।
বাজারে উচ্চ চাহিদা: রবি মৌসুমে লাভ বেশি পাওয়া যায়।
জমির সঠিক ব্যবহার: পতিত জমি কাজে লাগে, বছরে দু’বার ফলন পাওয়া সম্ভব।
শ্রম কম লাগে: ব্যবস্থাপনা সহজ।
পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ: পরিবারে পুষ্টি যোগায়।
🔳ফল সংগ্রহ:
বপনের ৬৫–৭৫ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করা যায়।
ডাঁটার পাশে শুকনো ভাব, চকচকে খোসা এবং টোকা দিলে গভীর শব্দ—এটাই পাকভাবের লক্ষণ।
চরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে রবি মৌসুমের হাইব্রিড তরমুজ অত্যন্ত লাভজনক।
মাটির ঢিবি করে চাষ করলে পানি জমে না এবং শিকড় সুরক্ষিত থাকে।
বাগান নিয়মিত মনিটরিং করলে রোগবালাই দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
লেখক:
★ সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★ উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি
★ সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী,ঢাকা।

রবি মৌসুমে তরমুজ চাষ 

কৃষি ডেস্ক ::
অগ্রহায়ণ মাস কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। এ মাসেই রবি মৌসুমের চাষাবাদ, বোরো মৌসুমের প্রস্তুতি এবং শীতকালীন সবজির পরিচর্যা একসঙ্গে চলতে থাকে। সঠিক পরিকল্পনা ও সময়মতো কাজ করলে কৃষকের উৎপাদন বাড়ে, খরচ কমে এবং সর্বোপরি কৃষি অর্থনীতি শক্তিশালী হয়।
ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী কৃষক ভাইদের জন্য নিম্নোক্ত করণীয় গুলো তুলে ধরা হলো—
✅ ১) বোরো মৌসুমের প্রস্তুতি
উন্নত, রোগমুক্ত ও নির্ভরযোগ্য বীজ নির্বাচন করা।
উঁচু ও পানি নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত স্থানে বীজতলা তৈরি করা।
বীজ শোধন করে পোকামাকড় প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ।
বীজতলা পরিচর্যা, আগাছা দমন ও প্রয়োজনীয় সেচ নিশ্চিত করা।
প্রধান জমিতে প্রথম চাষ দিয়ে শুকনো মাটিকে ঝুরঝুরে রাখা।
সেচ পাম্প/টিউবওয়েল আগেভাগে মেরামত ও পরীক্ষা করা।
✅ ২) রবি মৌসুমের ফসল চাষ
এ মৌসুমে দেশব্যাপী বিপুল পরিমাণ ফসল আবাদ হয়। সময়মতো বপন ও পরিচর্যা জরুরি।
চাষযোগ্য ফসল:
গম, ভুট্টা, সরিষা, মসুর, পেঁয়াজ, রসুন, চিনাবাদাম, সূর্যমুখী, আলু ইত্যাদি।
করণীয়:
গভীর চাষ ও জমি সমতল করা।
জৈবসার/গোবর এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার প্রয়োগ।
বীজ বপনের পর হালকা সেচ ও আর্দ্রতা বজায় রাখা।
আগাছা পরিষ্কার করে রোগ-পোকার লক্ষণ পর্যবেক্ষণ।
✅ ৩) শীতকালীন সবজি চাষ ও পরিচর্যা
অগ্রহায়ণ শীতকালীন সবজির জন্য সর্বোত্তম সময়।
বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, বেগুন, মুলা, লাউ, শিম, শসা ইত্যাদির চারা রোপণ ও পরিচর্যা।
মাচা তৈরির কাজ সম্পন্ন করা (লাউ, শসা, শিম)।
রোগ-পোকার আক্রমণ কমাতে আইপিএম পদ্ধতি, ফেরোমন ট্র্যাপ, আলো ফাঁদ ব্যবহার।
পানি জমে না থাকার জন্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
ফল ধরার সময় সামান্য বোরন দিলে ফলন বৃদ্ধি পায়।
✅ ৪) আমন ধান কাটা, মাড়াই ও সংরক্ষণ
সময়মতো ধান কেটে রোদে ভালোভাবে শুকানো।
আর্দ্রতা ১২–১৪% এ নামিয়ে নিরাপদে সংরক্ষণ।
গোলা/বস্তায় সংরক্ষণের আগে প্রাকৃতিক দম-নাশক ব্যবহার করা।
বাজারমূল্য যাচাই করে ধান বিক্রির পরিকল্পনা গ্রহণ।
✅ ৫) সার, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা
আগাম সার সংগ্রহ করে রাখা যাতে সংকটে না পড়তে হয়।
সঠিক ডোজ অনুযায়ী ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি প্রয়োগ।
খাল-ডোবা পরিষ্কার করে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা।
পানি সাশ্রয়ে ড্রিপ সেচ বা মালচিং ব্যবহার করা যেতে পারে।
 
✅ ৬) রোগ, পোকার দমন ও আগাছা ব্যবস্থাপনা
সবজি ও রবি ফসলে নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন করা।
ফলছিদ্রকারী পোকা, এফিড, ভাইরাসজনিত রোগ দ্রুত শনাক্ত করতে হবে।
রাসায়নিক ব্যবহার করার আগে জৈব ও বিকল্প পদ্ধতি প্রয়োগ করা উত্তম।
আগাছা জন্মানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করা।
✅ ৭) পরিবেশবান্ধব কৃষি উদ্যোগ
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন টেকসই কৃষিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।
কম্পোস্ট সার ও জৈবসার তৈরি ও ব্যবহার।
মাটির উর্বরতা বজায় রাখতে সবুজ সার আবাদ।
অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার কমানো।
✅ ৮) পশুপালন ও খামার ব্যবস্থাপনা
শীতের আগমন livestock ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
গরু-ছাগলকে ঠান্ডা থেকে রক্ষায় খড়/তুস বিছানো।
শীতজনিত রোগ প্রতিরোধে হাঁস-মুরগির টিকাদান।
আমন মৌসুমে পাওয়া খড় সংগ্রহ করে গোয়ালে সংরক্ষণ।
পশুখাদ্যে খনিজ ও লবণ ব্লক ব্যবহার।
লেখক:
★ সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★ উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি
★ সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী,ঢাকা।

অগ্রহায়ণ মাসে কৃষক পর্যায়ে করণীয়  

নগর প্রতিবদক ::
রবি মৌসুমে চাষাবাদে উৎসাহ ও কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (বিপিএফ)-এর পক্ষ থেকে কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি বিশিষ্ট লেখক আলহাজ্ব ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ এসব বীজ কৃষকদের হাতে তুলে দেন।
এ সময় তিনি বলেন, “দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও মানসম্মত বীজের ব্যবহার অপরিহার্য। কৃষকরা যদি রবি মৌসুমে উন্নত জাতের ফসল উৎপাদনে মনোযোগী হন, তবে দেশের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হবে।”
অনুষ্ঠানে স্থানীয় কৃষকেরা বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সংগঠনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন দীর্ঘদিন ধরে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে কাজ করে আসছে-যার ধারাবাহিকতায় এ বীজ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

রবি মৌসুমে কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন 

নগর সংবাদদাতা,ঢাকা ::
নগর কৃষি সম্প্রসারণ ও নাগরিকদের চাষাবাদে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (বিপিএফ)-এর সভাপতি আলহাজ্ব ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ আজ শনিবার(১ নভেম্বর) দুপুরে ডিপিডিসি কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠনের নেতা করিম খান-এর হাতে উন্নত
জাতের সবজি বীজ তুলে দেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে নগরবাসীর মধ্যে ছাদ কৃষি ও পারিবারিক পুষ্টি বাগান গড়ে তোলার আগ্রহ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শহরের সীমিত জায়গায় টেকসই সবজি উৎপাদনের এ কার্যক্রম পরিবেশ সংরক্ষণ ও খাদ্যনিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিপিএফ গত দু’ মাস ধরে ‘সবুজ অভিযান’ কর্মসূচির আওতায় কৃষক-কৃষাণী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং রাজধানীর ছাদবাগানপ্রেমীদের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করছে।
সবুজ অভিযানে-শহর থেকে গ্রাম, ছাদ থেকে উঠান-টেকসই কৃষির এই উদ্যোগে এগিয়ে চলেছে বিপিএফ।

সবুজ অভিযানে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন

কৃষি ডেস্ক ::
বর্তমানে শহর হোক বা গ্রাম-সব জায়গাতেই জমির অভাব
দেখা যাচ্ছে। কিন্তু একটু উদ্যোগ নিলেই বসতবাড়ির আঙ্গীনায় ফাঁকা জায়গায় ছোট ছোট বেড করে সবজি চাষ করে পরিবারে পুষ্টি যোগানো সম্ভব। এতে বাজারের বিষযুক্ত সবজি কেনা লাগে না, আবার সময়ও বাঁচে।
 কেন বেডে সবজি চাষ করবেন?
১️. অল্প জায়গায় ভালো ফলন: 
সামান্য জায়গাতেই বেশি গাছ লাগানো যায়, কারণ বেডে মাটি নরম থাকে, শিকড় সহজে বাড়ে।
২️. পানি জমে না:
বেড উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি নিচে নেমে যায়, গাছ পঁচে না।
৩️. পরিচর্যা সহজ: 
সার, পানি, আগাছা তোলা- সবকিছু হাতের কাছেই করা যায়।
৪️. জৈব সার ব্যবহার সুবিধাজনক: 
গোবর, কম্পোস্ট বা তরল সার সহজে মিশিয়ে দেওয়া যায়।
৫️. নিজের উৎপাদন, নিরাপদ খাবার: বাজারের রাসায়নিক ছাড়া নিজের উৎপাদিত সবজি সবচেয়ে নিরাপদ।
সবজি চাষে বেড তৈরির নিয়ম:
★ জায়গাটা আগে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিন।
★ প্রত্যেক বেডের প্রস্থ ১ মিটার, দৈর্ঘ্য ৩–৪ মিটার, উচ্চতা ২০–২৫ সেমি রাখলে ভালো হয়।
★ দুই বেডের মাঝে ৩০ সেমি ড্রেন রাখুন যাতে পানি জমে না।
★ মাটি খুঁড়ে তাতে পঁচা গোবর সার ৫-৭ কেজি, ছাই ১ কেজি, টিএসপি ৫০ গ্রাম ও ডিএপি ২৫ গ্রাম মিশিয়ে নিন (প্রতি বেডে)।
★ চাইলে নারিকেল ছোঁবড়া, খড় বা শুকনো পাতা দিয়ে মালচিং করে দিন-এতে মাটি আর্দ্র থাকে ও আগাছা কমে।
 কোন মৌসুমে কোন সবজি চাষাবাদ করবেন?
গ্রীষ্মকাল (মার্চ-অগাস্ট): 
লাউ, করলা, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়স, বরবটি, বেগুন।
শরৎ-শীতকাল (সেপ্টেম্বর-ফেব্রুয়ারি): টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, শাক, গাজর, বিট, মুলা, পেঁয়াজপাতা ইত্যাদি।
বর্ষাকাল: 
কচু, পুইশাক, কলমিশাক, লালশাক বা ধনে পাতা চাষ করা যায়।
বেড পরিচর্যা ও সার ব্যবস্থাপনা:
সেচ: মাটি শুকিয়ে গেলে সকালে বা বিকেলে পানি দিন। অতিরিক্ত পানি দেবেন না।
সার: প্রতি ১৫ দিনে একবার তরল জৈব সার (গোবর, ছাই ও গুর মিশ্রণ) দিন।
আগাছা: প্রতি ৭–১০ দিনে আগাছা পরিষ্কার করুন।
পোকামাকড় দমন:
নিমপাতা, সজিনার পাতা বা মরিচ-রসুন বালাইনাশক ব্যবহার করুন। রাসায়নিক কীটনাশক এড়িয়ে চলুন।
ফলন ও লাভ:
একটা ছোট ৫-৬টা বেডে নিয়মিত চাষ করলে
👉 পরিবারের সবজির চাহিদা প্রায় পুরোটা মেটে,
👉 অতিরিক্ত সবজি বিক্রি করেও সামান্য আয় হয়,
👉 আবার বাড়ির পরিবেশ সবুজ ও ঠান্ডা থাকে।
বসতবাড়ির সামনে থাকা ছোট্ট জায়গাটুকু যদি কাজে লাগানো যায়, তাহলে নিজের হাতে উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজি দিয়ে পরিবারকে পুষ্টি দেওয়া সম্ভব। এতে বাজারের উপর নির্ভরতা কমে, অর্থ সাশ্রয় হয়, আর মনের প্রশান্তিও পাওয়া যায়।
লেখক:
আলহাজ্ব ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
★ সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★ উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি
★ সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী,ঢাকা।

বসতবাড়ির আঙ্গীনায় বেডে সবজি চাষ 

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
গাঙ্গেয় অববাহিকার বুকে জেগে ওঠা দেশের একমাত্র দ্বীপজেলা ভোলা। চারদিকে নদী-বেষ্টিত এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা নদী ও পলিমাটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে। এখানকার খাবার, ঐতিহ্য আর উৎসবের সঙ্গে শীতকালে হাঁসের মাংস যেন খাবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে মেঘনা পাড়ের বেড়িবাঁধের পাশে এক তরুণ গড়ে তুলেছেন হাঁসের খামার।

শীত এলেই ভোলার ঘরে ঘরে হাঁসের মাংস রান্নার ধুম পড়ে যায়। অতিথি আপ্যায়ন হোক বা পিকনিকের আয়োজন হাঁসের মাংস আর মহিষের টক দই এখানকার ঐতিহ্যবাহী খাবারের তালিকায় শীর্ষে। এই মৌসুমকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় হাঁস বিক্রি করে ভালো আয় করছেন বহু খামারি ও তরুণ উদ্যোক্তা। জেলার বাইরে থেকেও আনা হয় হাঁস।

তেমনই এক সফল তরুণ ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের রামদাশপুর গ্রামের বেড়িবাঁধের পাড়ের যুবক মিজান হোসেন। বয়স মাত্র ২৫ বছর। শীত মৌসুমকে সামনে রেখে তিনি খুলনা থেকে একদিন বয়সী খাকি ক্যাম্বেল জাতের এক হাজার হাঁস কিনেছিলেন, প্রতি হাঁস ৩৫ টাকায়। গত আড়াই মাস ধরে তিনি নিয়মিতভাবে বেড়িবাঁধের পাশে খামারে ও নদীতে এসব হাঁসের পরিচর্যা করে যাচ্ছেন।

মিজান জানান, তাঁর খামারে বর্তমানে এক হাজার হাঁস রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০ কেজি গম খাওয়াতে হয় হাঁসগুলোকে। ইতোমধ্যে কিছু হাঁস বিক্রিও করেছেন তিনি। বর্তমানে প্রতিটি হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা করে। এভাবে বিক্রি করতে পারলে সব খরচ বাদে অন্তত এক লাখ টাকার মতো লাভ হবে বলে আশা করছেন মিজান।

হাঁস পালনের প্রাথমিক পুঁজি সংগ্রহে সহায়তা করেছে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর ইলিশা শাখা। মিজান এখন পর্যন্ত সংস্থাটি থেকে দুই দফায় ঋণ নিয়েছেনÍপ্রথমবার ২০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয়বার ৩০ হাজার টাকা।

মিজান বলেন, “স্থানীয় বাজারে হাঁসের চাহিদা সবসময়ই থাকে, বিশেষ করে শীতকালে তা আরও বেড়ে যায়। তাই আসন্ন শীত মৌসুমই আমার মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে খামারটি আরও বড় করার ইচ্ছা আছে।”

মিজানের সাফল্যের গল্প ইতিমধ্যে তাঁর গ্রামের অন্যান্য তরুণদের মধ্যেও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তাঁর দেখাদেখি আশপাশের আরও অনেক যুবক এখন হাঁস পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। কেউ কেউ ছোট পরিসরে হাঁস কিনে খামার শুরু করেছেন।

রামদাশপুর গ্রামের তরুণ কমরুল ইসলাম বলেন, “আগে ভাবতাম হাঁস পালন খুব ঝামেলার কাজ। কিন্তু মিজান ভাইকে দেখে বুঝেছি, নিয়ম মেনে করলে এটি বেশ লাভজনক। এখন আমি নিজেও হাঁস খামার দেওয়ার পরিকল্পনা করছি।”

একই গ্রামের কামাল মাঝি বলেন, “মিজান এখন আমাদের জন্য উদাহরণ। তাঁর মতো আমরা যদি একটু উদ্যোগী হই, তাহলে নিজের পায়ে দাঁড়ানো কঠিন কিছু নয়।”

ভোলা সদর উপজেলা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শাহিন মাহমুদ বলেন, “ভোলা বিভিন্ন উপজেলায় অনেক যুবক এখন হাঁস পালনে আগ্রহী হচ্ছেন। এতে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বেকার তরুণদের জন্য এটি একটি লাভজনক বিকল্প পেশা হিসেবে গড়ে উঠছে।”

স্থানীয় পর্যায়ে হাঁস পালন এখন কেবল ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা নয়, বরং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সম্ভাবনাময় আয়ের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

শীতকে সামনে রেখে হাঁস পালনে ব্যস্ত ভোলার মেঘনা পাড়ের যুবক মিজান

কৃষি ডেস্ক::
শীতকালে টমেটো 🍅 চাষ বাংলাদেশের কৃষকদের অন্যতম লাভজনক মৌসুমি ফসল। তবে ভালো ফলন পেতে হলে শুরু থেকেই জমি প্রস্তুতি, পরিচর্যা ও রোগ-পোকা দমনে সচেতনতা জরুরি। নিচে ধাপে ধাপে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো—
⃣ ভূমি নির্বাচন ও জমি প্রস্তুতি:
মাটি:  দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী।
পিএইচ মান:  ৬.০–৬.৮ হলে ফলন সর্বোত্তম হয়।
জমি প্রস্তুতি:  আগাছা পরিষ্কার করে ২–৩ বার চাষ দিন, যাতে মাটি ঝুরঝুরে হয়।
সার প্রয়োগ (প্রতি বিঘা):
পচা গোবর: ২০–২৫ মণ
ইউরিয়া: ৭–৮ কেজি
টিএসপি: ১০–১২ কেজি
এমওপি: ৬–৭ কেজি
 
⃣ চারা রোপণ ও দূরত্ব:
সময়সূচি:  অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত রোপণ উপযুক্ত সময়।
দূরত্ব:   সারি ও সারির মধ্যে ২৪–৩০ ইঞ্চি এবং গাছের মধ্যে ১৮–২০ ইঞ্চি ফাঁক রাখুন।
সেচ:  রোপণের পর প্রথম ৫–৭ দিন হালকা সেচ দিন, যাতে চারা সহজে মাটি ধরতে পারে।
⃣ সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা: 
★ সপ্তাহে ২–৩ বার হালকা সেচ দিন।
★ ফুল আসার সময় থেকে প্রতি ২–৩ দিন পর পর নিয়মিত পানি দিন।
★ অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে ফল ও শিকড় পচে যেতে পারে, তাই মাটি অতিরিক্ত ভেজা রাখবেন না।
 
⃣ সার ব্যবস্থাপনা (ফসল চলাকালীন):
★ ফুল ফোটার পর প্রতি ১০–১৫ দিন অন্তর টপ ড্রেসিং হিসেবে ইউরিয়া ১–১.৫ কেজি প্রতি বিঘা পানিতে মিশিয়ে দিন।
★ ক্যালসিয়াম নাইট্রেট প্রয়োগ করলে ফলের ঝরা ও দাগ কমে।
 
⃣ গাছের ট্রেলিস ও ডাল ছাঁটাই:
★ গাছকে খুঁটি বা মাচার সাহায্যে ওপরে উঠতে সহায়তা করুন।
★ নিচের পুরোনো ও আক্রান্ত পাতাগুলো নিয়মিত ছাঁটাই করুন।
★ দুর্বল ডাল কেটে শক্ত ডাল রাখতে হবে, এতে ফলন বৃদ্ধি পায়।
⃣ রোগ-পোকা দমন:
রোগ:  ব্লাইট, পাতা দাগ ও মিলডিউ জাতীয় রোগ দমনে ম্যানকোজেব 75WP বা কপার অক্সিক্লোরাইড প্রতি ৭–১০ দিন অন্তর স্প্রে করুন।
পোকা:  থ্রিপস, এফিড ও লিফ-ফিডিং পোকা দমনে স্পিনোসাড 45SC বা ইমামেকটিন বেনজোয়েট ব্যবহার করা যেতে পারে।
টিপস:  রোগ দেখা দেওয়ার আগে প্রতিরোধমূলক স্প্রে করুন।
⃣ ফসল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ:
★ ফুল আসার ৬–৭ দিন পর ফল গঠিত হয়।
★ফলের রঙ হালকা লাল হলে সকালে বা বিকেলে সংগ্রহ করুন।
★ বিক্রির আগে ভালো ও আকারে সমান ফল আলাদা করুন।
✅ মনে রাখতে হবে: 
★ হালকা মালচিং (পলিথিন বা খড়) দিলে মাটির উষ্ণতা বজায় থাকে ও ফলন বৃদ্ধি পায়।
★ ফসল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন, রোগের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা মাত্র ব্যবস্থা নিন।
★ জমি পরিষ্কার ও নিষ্কাশনব্যবস্থা ঠিক রাখুন।
সতর্ক: পরিচর্যা, সঠিক সেচ ও সময়মতো সার প্রয়োগই শীতকালীন টমেটো চাষে অধিক ফলনের মূল চাবিকাঠি।
লেখক:
আলহাজ্ব ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
★ সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★ উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি
★ সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী,ঢাকা।

শীতকালীন টমেটো চাষ : অধিক ফলনে করনীয়

কৃষি ডেস্ক ::
বাংলাদেশের কৃষি নির্ভর অর্থনীতিতে ধানই প্রধান খাদ্যশস্য। কিন্তু এই ফসলের অন্যতম বড় শত্রু হলো
ইঁদুর। মাঠ পর্যায়ের তথ্যমতে, প্রতিবছর দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৮–১০ শতাংশ ইঁদুরের কারণে নষ্ট
হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কৃষকেরা রাসায়নিক বিষ ব্যবহার
করে ইঁদুর দমন করেন। এতে কিছুটা তাৎক্ষণিক ফল মিললেও দীর্ঘমেয়াদে ফসল, পাখি, গবাদিপশু ও মাটির ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এভাবে কৃষি ও পরিবেশ উভয়ই ঝুঁকির মুখে পড়ে।
এই বাস্তবতায় এখন প্রয়োজন এমন একটি পদ্ধতি, যা হবে নিরাপদ, টেকসই ও সাশ্রয়ী। ঠিক এখানেই আসে সজিনার পাতার জৈব সমাধান।
🌿 কেন সজিনার পাতা ?
সজিনা (Moringa oleifera) বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনে অতি পরিচিত একটি গাছ। এর পাতা শুধু পুষ্টিকর খাদ্য নয়, এতে রয়েছে প্রাকৃতিকভাবে অ্যালকালয়েড, ট্যানিন, ফ্ল্যাভোনয়েড ও তীব্র গন্ধযুক্ত যৌগ।
এই যৌগগুলো ইঁদুরের জন্য অত্যন্ত বিরক্তিকর ও অসহনীয়; ফলে তারা সেই এলাকা ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যায়। অর্থাৎ, এটি সরাসরি হত্যা নয়-বরং প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা, যা ইঁদুরকে দূরে রাখে অথচ পরিবেশের কোনো ক্ষতি করে না।
🌿 জমিতে সজিনা পাতার ব্যবহারবিধি:
১.  প্রতি বিঘা জমির জন্য ২-৩ কেজি তাজা সজিনার পাতা সংগ্রহ করুন।
২.  পাতাগুলো ভালোভাবে পিষে ১০ লিটার পানিতে মিশান।
৩.  ইচ্ছা করলে ২০০ গ্রাম নিমপাতা বা মরিচ বাটা যোগ করে কার্যকারিতা বাড়ানো যায়।
৪. মিশ্রণটি ছেঁকে স্প্রে বোতলে নিন এবং বিকেলবেলা বা সূর্যাস্তের আগে জমির আইল ও ইঁদুরের গর্তের আশেপাশে স্প্রে করুন।
৫. প্রতি ৫-৭ দিন অন্তর প্রয়োগ পুনরাবৃত্তি করুন যতক্ষণ না ইঁদুরের চলাচল বন্ধ হয়।
🌿  প্রাপ্ত ফলাফল:
★ ইঁদুরের চলাচল ধীরে ধীরে কমে যায়।
★ ধানের ক্ষতি ৫০-৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায়।
★ জমিতে কোনো রাসায়নিক অবশিষ্ট থাকে না।
★ ফসল ও মাটির প্রাকৃতিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ থাকে।
🌿 মাঠ সচেতন কৃষকের জন্য বার্তা:
বর্তমান বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা শুধু উৎপাদন নয়, বরং বিষমুক্ত উৎপাদন নিশ্চিত করাও জরুরি। তাই কৃষকদের এখন সচেতন হতে হবে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চায়।
সজিনার পাতা দিয়ে ইঁদুর দমন একটি পরীক্ষিত জৈব পদ্ধতি, যা সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। রাসায়নিকের বিকল্প হিসেবে এটি হতে পারে “সবুজ কৃষি বিপ্লবের নতুন পথ।”
ইঁদুর দমনে সজিনার পাতা ব্যবহারের প্রচলন যত বাড়বে, ততই কৃষকরা রাসায়নিক নির্ভরতা থেকে মুক্ত হবেন। এতে পরিবেশ রক্ষা পাবে, উৎপাদন ব্যয় কমবে, আর খাদ্য হবে আরও নিরাপদ।
লেখক:
আলহাজ্ব ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
★ সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★ উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি
★ সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী,ঢাকা।

ধানের জমিতে ইঁদুর দমনে সজিনা পাতা : পরিবেশবান্ধব জৈব সমাধান  

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
প্রবাদ আছে’ ‘ধান, সুপারি, ইলিশের গোলা’ এই তিনে ভোলা।’দেশের একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলায় ধান, ইলিশ ও সুপারির প্রাচুর্য বহু পুরনো ঐতিহ্য। কিন্তু ধান ও ইলিশ উৎপাদনে সরকারের সক্রিয় তদারকি থাকলেও, জেলার অন্যতম অর্থকরী ফসল সুপারির ক্ষেত্রে নেই কোনো সরকারি নজরদারি বা সহায়তা। এতে হতাশ চাষীরা সরকারের সহযোগিতা ও প্রণোদনা কামনা করেছেন।

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরে ভোলায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৯৬ হাজার মেট্রিক টন কাঁচা-পাকা সুপারি উৎপাদন হয়েছে। যাঁর বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। প্রতি হেক্টরে গড়ে ৭ থেকে ৮ মেট্রিক টন কাঁচা সুপারি ফলন হয়। শুকানোর পর যা ৫ মেট্রিক টনে দাঁড়ায়।

তবে চাষীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের প্রচেষ্টায় এ ফসল বাণিজ্যিক পর্যায়ে নিয়ে এলেও কৃষি বিভাগের কোনো তদারকি, প্রশিক্ষণ বা গবেষণা কার্যক্রম নেই। ফলে রোগবালাই, উৎপাদন হ্রাস ও বিপণন সমস্যায় ভুগছেন তারা।

ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের চাষি জাকির হাওলাদার বলেন, “আমার দেড় একর জমিতে ১৫০০টি সুপারি গাছ আছে। এ বছর পাতার রোগে শতাধিক গাছ মারা গেছে। কৃষি অফিসে গিয়েও কোনো সহায়তা পাইনি। প্রতিবছর প্রায় ৩০ লাখ টাকার সুপারি বিক্রি করি, তবুও আমাদের খোঁজ নেয় না কেউ।”

দৌলতখানের চাষি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা অভিজ্ঞতা থেকে চাষ করি। ফলন বাড়ানো বা রোগ দমন নিয়ে কেউ আসে না। সরকারি সহযোগিতা পেলে উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব।”

চাষীরা জানায়, ভোলায় স্থানীয়ভাবে ‘গা’ ও ‘ভি’ হিসেবে সুপারি বিক্রি হয়। ৩২০ পিস সুপারি= ১ ভি, আর ১০ পিস= ১ গা। এ বছর প্রতি ‘ভি’ সুপারি সাইজ অনুযায়ী ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্য ফসলের তুলনায় সুপারি অনেক লাভজনক
যেখানে ধান বা সবজি থেকে শতাংশপ্রতি আয় হয় ১-১.৫ হাজার টাকা, সেখানে সুপারিতে আয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। একটি গাছ থেকে ২৫-৩৫ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়।

ভোলা সদর ও দৌলতখানের বাগানগুলোতে এখন চাষীরা ব্যস্ত মৌসুমে সময় পার করছেন। প্রতিটি বাগানে উৎসবের আমেজ। দিন-রাত পরিশ্রম করে শ্রমিকরা গাছে উঠে সুপারি পারছেন। প্রতি গাছ থেকে নামানো এক “ছরা” সুপারির জন্য শ্রমিকরা ৭ টাকা পারিশ্রমিক পান।

কৃষি বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোলার জলবায়ু ও মাটি সুপারি চাষের জন্য উপযোগী। সরকারি পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনা পেলে এ খাত থেকে অর্থনীতিতে আরও বিপুল রাজস্ব যোগ হতে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক বলেন, “ভোলার সুপারির স্বাদ ও মান দেশের মধ্যে অনন্য। চাষীরা যদি কৃষি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, আমরা কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ভোলায় বর্তমানে ৬ কোটি ৪২ লাখেরও বেশি সুপারি গাছ রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি।

ভোলায় বছরে ২৩০০ কোটি টাকার সুপারি উৎপাদন : নেই কৃষি বিভাগের তদারকি