অনুসন্ধান ডেস্ক : চাষাবাদ 
ছাঁদে পুঁইশাক চাষের বারো মাস
আলহাজ্ব ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ 
 (কৃষি লেখক ও কথক,বাংলাদেশ বেতার)
✅ জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে করনীয়:
★ জমি/পাত্র প্রস্তুত করুন।
★ মাটি, গোবর/কম্পোস্ট, বালু মিশিয়ে নিন।
★ বীজ ভিজিয়ে রেখে অঙ্কুরোদগম করুন।
চাইলে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে বীজ বপন শুরু করতে পারেন।
✅ মার্চ-এপ্রিল মাসে করনীয়:
★ এখনই পুঁইশাক চাষের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
★ সরাসরি বীজ বপন বা চারা রোপণ করুন।
★ গাছ বের হলে নিড়ানি দিন ও পানি সরবরাহ করুন।
★ লতা উঠলে মাচা তৈরি শুরু করুন।
✅ মে-জুন মাসে করনীয়:
★ লতা দ্রুত বাড়বে, তাই নিয়মিত ছাঁটাই করুন।
★ গরমে বেশি পানি দিন (কিন্তু পানি জমে থাকতে দেবেন না)।
★ গোবরের তরল সার বা জৈব সার দিন।
✅ জুলাই-আগস্ট মাসে করনীয়
★ বৃষ্টির কারণে পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাই ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক করুন।
★ পাতায় পোকার আক্রমণ হলে নিমপাতার রস স্প্রে করুন।
★ লতা মাচায় উঠিয়ে দিন।
✅ সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে করনীয় 
★ গাছ ঘন হয়ে যাবে, নিয়মিত ডগা কেটে ব্যবহার করুন।
★ তরল সার প্রয়োগ করুন।
★ অক্টোবর মাসেও নতুন করে বীজ বপন করা যায়।
✅ নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে করনীয়
★ পুরোনো লতা কেটে ফেলুন।
★ নতুন মাটি তৈরি করুন, কম্পোস্ট যোগ করুন।
★ চাইলে নভেম্বরেও বীজ বপন করা যায়, তবে শীতে গাছ ধীরে বাড়ে।
★ ডিসেম্বর মাসে সাধারণত গাছ বিশ্রাম অবস্থায় থাকে, তাই মাটি ও পাত্র প্রস্তুত করা ভালো।
 সারসংক্ষেপে বলা যায়
★ প্রধান মৌসুম:   মার্চ–অক্টোবর মাস
★ শীতকালীন প্রস্তুতি: নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি মাস।
লেখক: উপদেষ্টা-দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, সংবাদ প্রতিক্ষণ ও অগ্নিবার্তা)

চাষাবাদ: ছাঁদে পুৃঁইশাক চাষের বারো মাস  

সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ,Ph.D
(সভাপতি: বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন(BPF)
কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার)
🌱 জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি
★ জমি নির্বাচন ও চাষ করা।
★ গর্ত তৈরি: গর্তের আকার ৫০×৫০×৫০ সেমি।
★ গর্তে পচা গোবর/কম্পোস্ট, টিএসপি ও ছাই মিশিয়ে মাটি ভরাট।
★ উন্নত জাতের বীজ বপন বা চারা প্রস্তুত করা।
🌿 মার্চ–এপ্রিল
★ চারা ৩০–৪০ দিন বয়স হলে গর্তে রোপণ।
★ গাছের গোড়ায় খুঁটি দিয়ে সাপোর্ট দেওয়া।
★ হালকা সেচ দেওয়া।
★ রোগ-পোকার আক্রমণ আছে কিনা খেয়াল রাখা।
🌾 মে–জুন
★ বৃষ্টির কারণে গাছের গোড়ায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা।
★ অতিরিক্ত ডালপালা কেটে ফেলা।
★ টপড্রেসিং হিসেবে ইউরিয়া ও এমওপি প্রয়োগ।
★ ভাইরাস আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলা।
☔ জুলাই–আগস্ট
★ ঝড় ও বৃষ্টির সময় খুঁটি দিয়ে গাছকে শক্ত করা।
★ জমি আগাছামুক্ত রাখা।
★ পাতা কুঁকড়ে যাওয়া বা মোজাইক ভাইরাস হলে আক্রান্ত পাতা তুলে ফেলা।
★ জৈব কীটনাশক/অনুমোদিত রাসায়নিক প্রয়োগ।
🍂 সেপ্টেম্বর–অক্টোবর
★ নতুন ফুল ও ফল আসতে শুরু করবে।
★ নিয়মিত সেচ দেওয়া।
★ সার ব্যবস্থাপনা অব্যাহত রাখা।
★ ফল ঝরে পড়া রোধে গাছের গোড়ায় খড়/পাতা দিয়ে আচ্ছাদন দেওয়া।
🍐 নভেম্বর–ডিসেম্বর
★ গাছে ফল বড় হতে থাকবে।
★ রোগ-পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করা।
★ প্রথম দিকের ফল সংগ্রহ শুরু করা যায়।
★ নিয়মিত বাজারজাতকরণ করা।
👉 এভাবে সারা বছর নিয়ম মেনে কাজ করলে পেপে গাছ থেকে টানা ১৮–২৪ মাস পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।

পেঁপে চাষ : মাসভিত্তিক করণীয়