শিরোনাম :
ভোলার মনপুরায় জেলের জালে দুই কেজির ‘রাজা ইলিশ’ এ্যাজলা-জলজ সবুজ সোনা : কৃষি, প্রাণিখাদ্য ও পুষ্টির সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক সম্পদ ভোলায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি বোরহানউদ্দিনে গাঁজা সহ জয়নাল পাটোয়ারী আটক লালমোহনে অবৈধ বালু উত্তোলনব : ড্রেজার মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা চান্দিনায় সংখ্যালঘু নারীকে পিটিয়ে হত্যা চরফ্যাশনে ২ হাজার কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড নির্মাণের ৩৮ বছরেও সংস্কার হয়নি ভোলা বাস টার্মিনাল পরিত্যক্ত ভবন-টিনশেডে পাঠদান : ঝুঁকিতে তজুমদ্দিনের ৭৬ শিক্ষার্থী ভোলা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কার্যালয়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কৃষকের রবি মৌসুম  

মোকসেদুল ইসলাম নয়ন
  • আপডেট সময় : Monday, October 6, 2025
  • 422 বার দেখা হয়েছে
আলহাজ্ব ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ 
বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় রবি মৌসুম (অক্টোবর–মার্চ) একটি  গুরুত্বপূর্ণ সময়। বর্ষা পরবর্তী এই মৌসুমে আবহাওয়া থাকে শুষ্ক, তাপমাত্রা মাঝারি (১৫–২৫°সে) এবং সূর্যালোক পর্যাপ্ত—যা অধিকাংশ উচ্চফলনশীল ফসলের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
মৌসুমের সময়কাল ও বৈশিষ্ট্য:
সময়কাল :   অক্টোবর–মার্চ
প্রকৃতি :   শুষ্ক ও ঠান্ডা মৌসুম
বৃষ্টিপাত :  অল্প বা প্রায় অনুপস্থিত
সেচ নির্ভরতা : উচ্চমাত্রায়
উপযোগী অঞ্চল: দেশের প্রায় সব কৃষি অঞ্চল
রবি মৌসুমের প্রধান প্রধান ফসল:
এই মৌসুমে বাংলাদেশের কৃষকরা বহুবিধ ফসল চাষ করে থাকেন, যেমন-বোরো ধান, গম, আলু, সরিষা, মসুর, খেসারি, পেঁয়াজ, রসুন ও বিভিন্ন শাকসবজি (বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, লাউ ইত্যাদি)।
এর মধ্যে বোরো ধান সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফসল, যা দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৬০ ভাগ অবদান রাখে।
 কৃষি-প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
 আবহাওয়ার অনুকূলতা ও সেচ ব্যবস্থাপনা:
রবি মৌসুমে বৃষ্টিপাত সীমিত থাকায় সেচ নিয়ন্ত্রিতভাবে দেওয়া যায়, যা উৎপাদনশীলতা বাড়ায়।
ফসল বৈচিত্র্য ও মাটির উর্বরতা:
ধান–গম–ডাল–তেলবীজ পর্যায়ক্রমিক চাষ (Crop Rotation) মাটির পুষ্টি ভারসাম্য বজায় রাখে।
খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি: 
বোরো ধান জাতীয় খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে, আর ডাল ও সবজি জাতীয় ফসল জনগণের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়ক।
অর্থনৈতিক অবদান: 
রবি মৌসুমের ফসলের বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি, ফলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি ও গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা নিশ্চিত হয়।
কৃষকের করণীয় দিক:
রবি মৌসুমের সফল ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের কিছু করণীয় পদক্ষেপ অনুসরণ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
 মাটি পরীক্ষা ও জমি প্রস্তুতি-
আগাম মাটি পরীক্ষা করে পিএইচ মান অনুযায়ী সার প্রয়োগ ও জমি গভীরভাবে চাষ করা।
উন্নত ও উচ্চফলনশীল জাত নির্বাচন-
স্থানীয় পরিবেশ ও পানির সহজলভ্যতা বিবেচনা করে বোরো, গম ও তেলবীজের উপযোগী জাত নির্বাচন।
সময়সূচিত বপন ও রোপণ-
 নির্ধারিত সময়ে চারা রোপণ করলে ফসলের বৃদ্ধি ও ফলন উভয়ই বাড়ে।
সেচ ও সার ব্যবস্থাপনা-
আধুনিক সেচ প্রযুক্তি (Alternate Wetting and Drying) ব্যবহার এবং জৈব ও রাসায়নিক সার সুষমভাবে প্রয়োগ।
রোগ-পোকার দমন-
আইপিএম (Integrated Pest Management) পদ্ধতি অনুসরণ করে রোগ-পোকার আক্রমণ কমানো।
ফসল পর্যায় পরিবর্তন-
একই জমিতে একজাতীয় ফসল বারবার না চাষ করে বৈচিত্র্য বজায় রাখা।
সংরক্ষণ ও বিপণন-
উৎপাদিত ফসল যথাযথভাবে শুকিয়ে ও সংরক্ষণ করে বাজারজাত করা।
রবি মৌসুম বাংলাদেশের কৃষির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি ভারসাম্যের মূলভিত্তি। কৃষকরা যদি সময়োপযোগী প্রযুক্তি, সঠিক জাত নির্বাচন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করেন, তবে রবি মৌসুম বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনে আরও বৃহৎ সাফল্যের দ্বার উন্মোচন করবে।
লেখক:  
> সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী
> কৃষি লেখক ও কথক: বাংলাদেশ বেতার
> উপদেষ্টা,দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, সংবাদ প্রতিক্ষণ
> সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবি ফেডারেশন
নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ