কৃষি ডেস্ক ::
বাংলাদেশের কৃষি আজ বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে। সীমিত জমি, বাড়তি উৎপাদন ব্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষকদের বিকল্প ও লাভজনক চাষপদ্ধতির দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। এই বাস্তবতায় ধানের জমিতে মাছ চাষ একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
এই পদ্ধতিতে একই জমিতে ধান ও মাছ একসঙ্গে চাষ করা হয়। ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, কৃষকের আয় বাড়ে এবং পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়।
ধানের জমিতে মাছ চাষের জন্য নিচু বা মাঝারি উঁচু জমি সবচেয়ে উপযোগী, যেখানে ৪-৫ মাস পানি ধরে রাখা যায়। জমির চারদিকে ১ থেকে ১.৫ ফুট উঁচু বাঁধ তৈরি করতে হয়। পাশাপাশি জমির এক পাশে বা চার কোণে মোট জমির ৫-১০ শতাংশ জায়গা নিয়ে নালা বা গর্ত রাখতে হয়, যা মাছের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।
ধান নির্বাচনের ক্ষেত্রে পানিসহিষ্ণু ও দীর্ঘমেয়াদি জাত বেশি উপযোগী। BR11, BRRI dhan 49, BRRI dhan 52 ছাড়াও উপযোগী দেশি জাত ব্যবহার করা যায়। মাছের ক্ষেত্রে দেশি ও চাষযোগ্য মাছের মিশ্রচাষে ভালো ফলন পাওয়া যায়। টেংরা, পুঁটি, মলা, কৈ, শিংয়ের পাশাপাশি রুই, কাতলা, মৃগেল বা তেলাপিয়া চাষ করা যেতে পারে।
ধান রোপণের ১৫-২০ দিন পর মাছের পোনা ছাড়তে হয়। প্রতি শতাংশ জমিতে গড়ে ২০-৩০টি পোনা ছাড়া নিরাপদ। পোনার ওজন ৫-১০ গ্রাম হলে বেঁচে থাকার হার বেশি হয়। ধানের জমিতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের খাদ্য তৈরি হয় বলে অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন কম পড়ে। প্রয়োজনে অল্প পরিমাণ ভুসি বা খৈল দেওয়া যেতে পারে।
পানি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। ধানের জন্য ৪-৬ ইঞ্চি পানি যথেষ্ট। অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে সংযমী হতে হবে, কারণ এগুলো মাছের জন্য ক্ষতিকর। সম্ভব হলে জৈব ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করাই উত্তম।
ধান কাটার সময় আংশিকভাবে মাছ সংগ্রহ করা যায় এবং ধান কাটার পর সম্পূর্ণ মাছ আহরণ সম্ভব। এতে একই জমি থেকে দুটি ফসল পাওয়া যায়, যা কৃষকের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।
সবশেষে বলা যায়, ধানের জমিতে মাছ চাষ একটি লাভজনক, পরিবেশবান্ধব ও পুষ্টিসমৃদ্ধ কৃষি পদ্ধতি। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার মাধ্যমে এই সমন্বিত চাষব্যবস্থা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
লেখক:
★বসভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন(BPF)।
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার।
★ উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ, অগ্নিবার্তা।
★ প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক(কৃষি শিক্ষা)।
★ কৃষি বিষয়ক বহু গ্রন্থের লেখক
আপনার মতামত কমেন্টস করুন