শিরোনাম :
ভোলা সহ ১৬ পাসপোর্ট অফিসে ‘অদৃশ্য’ রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং : ব্যয়ের হিসাব থাকলেও মিলেনি বাস্তব প্রমাণ ভোলায় আধুনিকায়নকৃত ১০ শয্যার পুলিশ লাইন্স হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন ভোলাসহ ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু! কৃষিতে এক সম্ভাবনাময় সম্পদ : চায়ের বর্জ্য থেকে জৈব সার ভোলায় ৪ বছর ধরে জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ, অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিপাকে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন রাজনীতির বরপুত্র : ভোলাবাসীর অভিভাবক শিশু বিভাগ ও হাম রোগীদের সামলাচ্ছেন এক চিকিৎসক ॥ রোগীদের নানা অভিযোগ মনপুরা-তজুমদ্দিন: বন্ধ সি-ট্রাক, ‘ডেঞ্জার জোনে’ যাতায়াতে ভরসা ট্রলার ভল্ট থেকে কোটি টাকা লুটের মামলায় নির্দোষ পরেশ : রায় দেখে যেতে পারেন নি জীবদ্দশায় 

কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের চারজন নিহত : উম্মত্ত চালকদের নিয়ন্ত্রন করার দায়িত্ব কার?

শিশির মজুমদার
  • আপডেট সময় : Saturday, August 23, 2025
  • 313 বার দেখা হয়েছে
ডেস্ক রিপোর্ট ::
কুমিল্লায় প্রাইভেট কারের ওপর সিমেন্ট বোঝাই কাভার্ড ভ্যান উল্টে একই পরিবারের ৪ জন নিহতের পর এবার বিপজ্জনক সেই ইউটার্ন বন্ধ হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড সংলগ্ন উত্তর রামপুর এলাকার ইউটার্নটি বন্ধ করার প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। শনিবার (২৩ আগষ্ট) বেলা ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ২৩ বীরের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসানসহ হাইওয়ে পুলিশ ও সওজ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানায়।
সওজ কুমিল্লার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আদনান ইবনে হাসান সমকালকে বলেন, এ ইউটার্নটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। আজ সেনাবাহিনী, হাইওয়ে পুলিশসহ আমরা আজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। রোববার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রশাসনের আরও একটি সভা হবে। সেখানে ইউটার্নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তবে আপাতত আজ রাত থেকে ইউটার্নটি বন্ধ রাখা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সকল যানবাহন পাশের সদর দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের পাশের দয়াপুর এলাকা দিয়ে ইউটার্ন করবে।
এই সওজ কর্মকর্তা আরও বলেন, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার ইউলুপের কাজ চলমান আছে। তা চালু না হওয়া পর্যন্ত ইউটার্নগুলোতে যানবাহন চালকদের সতর্কতার সঙ্গে রাস্তা অতিক্রম করতে হবে।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে মহাসড়কের পদুয়ারবাজার সংলগ্ন উত্তর রামপুর এলাকায় ইউটার্ন অতিক্রম করার সময় সিমেন্ট বোঝাই কাভার্ড ভ্যান উল্টে চাপা পড়ে প্রাইভেট কারের যাত্রী একই পরিবারের চার জনের মৃত্যু হয়। এরা হলেন, জেলার বরুড়া উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মোহাম্মদ ওমর আলী (৮০), তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৫), তাদের বড় ছেলে ব্যাংক কর্মকর্তা আবুল হাশেম (৫০) এবং ছোট ছেলে আবুল কাশেম (৪৫)। প্রাইভেটকারটি চালাচ্ছিলেন আবুল হাশেম।
এদিকে এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহত ওমর আলীর ভাই আবুল কালাম বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করেছেন। মামলায় কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহন বাসের অজ্ঞাতনামা চালকদের আসামি করা হয়েছে।
ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার এসআই আনিসুর রহমান আজ শনিবার সমকালকে বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে দুর্ঘটনার জন্য কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহনের বাসের চালকই দায়ী। মামলার অভিযোগেও তাদের কথা বলা হয়েছে। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।
নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের (রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং) ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ও ব্যয়ের তথ্য থাকলেও বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বৃক্ষরোপণ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও ভবনের নির্মাণমান নিয়েও একাধিক অনিয়ম ও দুর্বলতার তথ্য উঠে এসেছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে আধুনিক পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করতে ‘১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট (সংশোধিত ১৬টি) অফিস নির্মাণ (২য় সংশোধন)’ প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। পরে তা বাড়িয়ে প্রায় ১০৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যয় হয় ৯৭ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুর, জামালপুর, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ভোলা, শরীয়তপুর, সুনামগঞ্জ, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা, নেত্রকোনা, নওগাঁ, মাদারীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও রাজবাড়ীতে মোট ১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় গাজীপুরের কার্যালয় পরবর্তী পর্যায়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।

আইএমইডির মূল্যায়নে দেখা গেছে, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর অংশ হিসেবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ১৫ লাখ ১ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদনে (পিসিআর) এ খাতে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্যও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সরেজমিন পরিদর্শনে কোনো কার্যালয়েই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি।

একইভাবে, বনায়নের জন্য ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ এবং ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য থাকলেও অধিকাংশ কার্যালয় প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণের প্রমাণ মেলেনি। এ কারণে ব্যয়ের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে আইএমইডি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পটি ২০২১ সালে শেষ হলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো বাহ্যিক অডিট সম্পন্ন হয়নি। দ্রুত পূর্ণাঙ্গ অডিট সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। জামালপুর, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মাগুরা, বাগেরহাট, নেত্রকোনা ও নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল রয়েছে। সাতক্ষীরা কার্যালয়ে মেরামতের কাজ চলছে। শরীয়তপুর কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল থাকলেও স্টোরেজ ব্যাটারি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ভোলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সৌর প্যানেলের একটি অংশ নষ্ট অবস্থায় রয়েছে।

নির্মাণমান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমইডি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ভবনের মান সন্তোষজনক নয়। ভবনের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টার খসে পড়েছে, বাইরের রঙ নষ্ট হয়েছে এবং দেয়ালে শেওলা জমেছে। বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় ভবনটি ঝুঁকির মধ্যেও রয়েছে।

এ ছাড়া মাদারীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বজ্রনিরোধক দণ্ড ভবনের সর্বোচ্চ স্থানে স্থাপন না করায় বজ্রপাতের সময় ভবন ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাগেরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর না হওয়ায় প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকাজও ব্যাহত হচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াতেও প্রশাসনিক অস্থিরতার চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। ২০১৬ সালের ৩০ জুন একনেকে অনুমোদনের পর ১৭ জুলাই প্রথম প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হলেও বাস্তবায়নকালে মোট ছয়বার প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন করা হয়।

আইএমইডি সুপারিশ করেছে, অচল সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা দ্রুত সচল করে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। বাগেরহাট কার্যালয় দ্রুত হস্তান্তর, মাদারীপুরে বজ্রনিরোধক দণ্ড পুনঃস্থাপন এবং ভোলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নিম্নমানের নির্মাণকাজ দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও বনায়ন খাতে দেখানো ব্যয়ের বাস্তবতা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ই-পাসপোর্ট আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই আরও সহজ ও নির্ভুল করতে ই-পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক ডাটাবেজকে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বায়োমেট্রিক ডাটাবেজের সঙ্গে সমন্বয়ের সুপারিশ করেছে আইএমইডি।

এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অর্থ) এটিএম আবু আসাদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তার কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। বিস্তারিত জেনে পরে মন্তব্য করবেন। তবে তার দাবি, দেশের বিভিন্ন জেলার পাসপোর্ট অফিস অন্য অনেক সরকারি কার্যালয়ের তুলনায় বেশি পরিচ্ছন্ন এবং সেখানে তুলনামূলক বেশি গাছপালা রয়েছে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলা সহ ১৬ পাসপোর্ট অফিসে ‘অদৃশ্য’ রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং : ব্যয়ের হিসাব থাকলেও মিলেনি বাস্তব প্রমাণ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভোলা জেলা পুলিশ লাইন্সে ১০ শয্যার আধুনিকায়নকৃত হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় জমকালো এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার। লাল ফিতা কেটে, নামফলক উন্মোচন এবং বিশেষ দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

এ সময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আহসানুজ্জামান, ভোলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম, লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ। ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, ডিআইও শেখ মোনায়েম হোসেন এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হকসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উদ্বোধন শেষে পুলিশ সুপার হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ, শয্যা এবং চিকিৎসা সেবার সুযোগ-সুবিধাগুলো ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বরতদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওছার বলেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এই হাসপাতালটিকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। আমরা আশা করি, এই আধুনিকায়নের ফলে এখন থেকে আরও উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।

আধুনিক চিকিৎসা সামগ্রী ও উন্নত পরিবেশ সম্বলিত এই ১০ শয্যার হাসপাতালটি পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা সেবায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলায় আধুনিকায়নকৃত ১০ শয্যার পুলিশ লাইন্স হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।

এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেত, জিজেইউএস এর উপ পরিচালক গোপাল চন্দ্র শীল সহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলাসহ ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু!

ভোলাসহ ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু!

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।

এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেত, জিজেইউএস এর উপ পরিচালক গোপাল চন্দ্র শীল সহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

কৃষি ডেস্ক ::
বর্তমান কৃষিতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য জৈব সারের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত চায়ের পাতা সাধারণত বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হলেও এটি আসলে একটি মূল্যবান জৈব সম্পদ। ব্যবহৃত চা-পাতায় প্রচুর জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ফসফরাসসহ বিভিন্ন অণুপুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়ের বর্জ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার করলে এটি মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক গুণাগুণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
🔳 চায়ের বর্জ্য জৈব সারের প্রধান উপকারিতা
১. মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধি করে
চায়ের বর্জ্যে থাকা জৈব উপাদান মাটির অর্গানিক ম্যাটার বৃদ্ধি করে। ফলে মাটির গঠন উন্নত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে মাটির উৎপাদনশীলতা বজায় থাকে।
২. মাটির উর্বরতা ও পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করে
চায়ের বর্জ্যে নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও বিভিন্ন অণুপুষ্টি উপাদান থাকে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও ফলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৩. পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে
বেলে বা হালকা মাটিতে চায়ের বর্জ্য মিশিয়ে দিলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ফলে সেচের প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমে।
৪. মাটির উপকারী অণুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি করে
জৈব পদার্থ মাটির উপকারী ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও কেঁচোর কার্যক্রম বৃদ্ধি করে। এর ফলে মাটিতে পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা বাড়ে।
৫. শিকড়ের বৃদ্ধি ও গাছের স্বাস্থ্য উন্নত করে
চায়ের বর্জ্য মাটিকে ঝুরঝুরে রাখে, ফলে শিকড় সহজে বিস্তার লাভ করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।
৬. রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরতা কমায়
নিয়মিত জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে রাসায়নিক সারের আংশিক বিকল্প হিসেবে কাজ করে, যা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা করে।
৭. পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে
চায়ের বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত হয় এবং পরিবেশ দূষণ কমে। এটি টেকসই কৃষি ব্যবস্থার একটি কার্যকর উপাদান।
🔳 কোন কোন ফসলে ব্যবহার করা যায়?
 সবজি ফসল (টমেটো, বেগুন, মরিচ, বাঁধাকপি ইত্যাদি)
 ফলদ গাছ (আম, পেয়ারা, লেবু, ডালিম, পেঁপে)
 ফুলের গাছ (গোলাপ, গাঁদা, জবা)
 ছাদবাগান ও টবের গাছ
 নার্সারির চারা উৎপাদনে
🔳ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি
 ব্যবহৃত চা-পাতা থেকে দুধ ও চিনির অংশ পরিষ্কার করে নিতে হবে।
 ২–৩ দিন রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।
 প্রতি টব বা গাছের গোড়ায় অল্প পরিমাণে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।
কম্পোস্ট তৈরির উপাদান হিসেবেও চায়ের বর্জ্য ব্যবহার করা যায়।
 অন্যান্য জৈব সারের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।
🔳 ব্যবহারে সতর্কতা
অতিরিক্ত পরিমাণে প্রয়োগ করা যাবে না।
ভেজা অবস্থায় দীর্ঘদিন জমিয়ে রাখলে ছত্রাক জন্মাতে পারে।
দুধ ও চিনি মিশ্রিত চা-পাতা সরাসরি ব্যবহার করা উচিত নয়।
মাটির অম্লতা বেশি হলে সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করা উত্তম।
চায়ের বর্জ্য কোনো ফেলনা বস্তু নয়; বরং এটি কৃষি ও বাগান ব্যবস্থাপনায় একটি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব জৈব সার। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে চায়ের বর্জ্যের যথাযথ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।  তাই আসুন, দৈনন্দিন জীবনের এই সাধারণ বর্জ্যকে মূল্যবান কৃষি সম্পদে পরিণত করি এবং সবুজ ও নিরাপদ কৃষি গড়ে তুলতে সচেষ্ট হই।
লেখক: 
★সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক,বাংলাদেশ বেতার
★সাবেক সিনিয়র শিক্ষক ও পরীক্ষক (কৃষি শিক্ষা)
★উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

কৃষিতে এক সম্ভাবনাময় সম্পদ : চায়ের বর্জ্য থেকে জৈব সার

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলায় দীর্ঘ চার বছর ধরে জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জেলার অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত এই বৃত্তি না পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভোলা জেলা পরিষদ থেকে প্রতিবছর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হতো। এই সহায়তা অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বহন করত। তবে সর্বশেষ প্রায় চার বছর আগে এই বৃত্তি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে নতুন কোনো বিজ্ঞপ্তি বা বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম চালু হয়নি।

এ বিষয়ে একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা জেলা পরিষদের বৃত্তির অপেক্ষায় থাকলেও কোনো ধরনের ঘোষণা বা কার্যক্রম দেখা যায়নি। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

ভোলা সরকারি কলেজ ও ভোলা সরকারি মহিলা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বৃত্তির জন্য আমরা প্রতিবছর আশায় থাকতাম। কিন্তু গত চার বছর ধরে কোনো খবর নেই। এই সহায়তা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম বন্ধ থাকা উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত এই কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে ভোলা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পিন্টু বেপারী বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং পূর্ববর্তী চার বছরে বৃত্তি কার্যক্রম কেন বন্ধ ছিল সে বিষয়ে পূর্ববর্তী প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাতে পারবেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং দ্রুত বৃত্তি কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলায় ৪ বছর ধরে জেলা পরিষদের শিক্ষাবৃত্তি বন্ধ, অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীরা বিপাকে

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

বাবা-মা’র কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় সায়িত হয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের মহানায়ক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। মঙ্গলবার (২জুন) বিকাল ৪টা ১০ মিনিটের সময় তার গ্রামের বাড়ি ভোলার সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া এলাকায় তৃতীয় নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশেই সমাহিত করা হয়।


এর আগে দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন ভোলার খলিফাপট্টি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. মহিউদ্দিন। জানাজায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম নবী আলমগীর, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলমসহ দল মত নির্বিশেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং হাজারো মানুষের ঢল নামে। শেষবারের মতো তাকে এক নজর দেখা ও শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ভোলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও ভোলার সর্বস্তরের মানুষ।
জানাযা নামাজের পূর্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনারের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানানো হয় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠককে। জেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুজ্জামান ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি ‘গার্ড অব অনার’ প্রদর্শন করেন।

ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর ও সদস্য সচিব রাইসুল আলম, জেলা বিএনপির সাবেক সম্পাদক হারুন অর রশিদ টুমেনসহ নেতারা জানাজাস্থলে এসে মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় জানাজার আগে তোফায়েল আহমেদের জামাতা ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহীন ও আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুর রহমান বাহালুল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইউনুছ, সাবেক পৌর প্যানেল মেয়র সালাউদ্দিন লিংকন বলেন, তোফায়েল আহমেদ একক রাজনীতি দলের নেতা নন। তিনি ভোলাবাসীর অভিভাবক ছিলেন। জানাজায় আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পাটি, জামায়াতে ইসলামসহ সব দলের সব পেশার মানুষ অংশ নেওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানান।

এর আাগে আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে মরদেহ নিয়ে আসা হয় ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে। সেখান থেকে ফ্রিজিং ভ্যানে মরদেহটি নেওয়া হয় ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। এ সময় তোফায়েল আহমেদকে বহনকারী হেলিকপ্টার ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা হেলিপ্যাডে ভিড় জমান।
বর্ণাঢ্য জীবন :
বাংলাদেশের রাজনীতি ও আন্দোলন-সংগ্রামের অগ্রনায়কের নাম তোফায়েল আহমেদ। দ্বীপজেলা ভোলার কোড়ালিয়া গ্রামের ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মৌলভী আজহার আলী ব্যবসায়ী ও মা গৃহিণী ফাতেমা খানম।
১৯৬৪ সালে সদর উপজেলার ধনিয়ার বাসিন্দা মফিজুল হক তালুকদারের বড় মেয়ে আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে তার বিবাহিত জীবন শুরু হয়। তোফায়েল আহমেদ এক কন্যার জনক।
রাজনীতির বরপুত্রখ্যাত তোফায়েল আহমেদ ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ থেকে ১৯৬২ সালে আইএসসি ও ১৯৬৪ সালে বিএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকাবিজ্ঞানে এমএসসি উত্তীর্ণ হন।
কলেজজীবনেই ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের শুরু। ব্রজমোহন কলেজ ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক পদে এবং কলেজের অশ্বিনী কুমার হলের সহসভাপতি নির্বাচিত হন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে ইকবাল (বর্তমানে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল) হল ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক, ১৯৬৫ সালে মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের সহসভাপতি এবং ১৯৬৬-৬৭ সালে ইকবাল হল ছাত্র সংসদের সহসভাপতি নির্বাচিত হন।
১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ডাকসুর ভিপির দায়িত্ব পালনকালে চারটি ছাত্রসংগঠনের সমন্বয়ে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ গঠন করেন তোফায়েল আহমেদ। এরপর শেখ মুজিবুর রহমানের ৬ দফাকে ১১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করে ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেন। ১৯৬৬ সালের ৮ মে থেকে ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৩৩ মাস কারাগারে আটক শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সব রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তির জন্য তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদ সারা বাংলায় তৃণমূল পর্যন্ত গণ-আন্দোলন গড়ে তোলে। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শেখ মুজিবসহ সব রাজবন্দির মুক্তির পর ২৩ ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে তিনি বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে শেখ মুজিবকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
তোফায়েল আহমেদ ১৯৬৯ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭০-এর ৭ জুন শেখ মুজিবের নির্দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বস্তুত এরপর সংগ্রামী জননেতা তোফায়েল আহমেদ জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের একজন বলিষ্ঠ সংগঠকে পরিণত হন।
১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনে ভোলার দৌলতখাঁন-তজুমদ্দিন-মনপুরা আসন থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তোফায়েল আহমেদ। তিনি ছিলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুজিব বাহিনীর অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার অধিনায়কের একজন। বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া ও পাবনা এলাকার সমন্বয়ে গঠিত মুজিব বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার সংগ্রামে তোফায়েল আহমেদের অংশগ্রহণ ছিল।
১৯৭২ সালের ১৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাকে রাজনৈতিক সচিব নিয়োগ দেন। ১৯৭৩ সালে নিজ জেলা ভোলা থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৫ সালে দেশে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকার ঘোষণার পর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতির বিশেষ সহকারী নিযুক্ত হন।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর ৬ সেপ্টেম্বর তোফায়েল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ ৩৩ মাস তিনি কারান্তরালে ছিলেন। ১৯৭৮ সালে কুষ্টিয়া কারাগারে অন্তরীণ থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ৯৬ সালের সংসদ নির্বাচ

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

তোফায়েল আহমেদ ছিলেন রাজনীতির বরপুত্র : ভোলাবাসীর অভিভাবক

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর এলাকা থেকে নয় মাস বয়সী সন্তান তাহসিফকে নিয়ে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এসেছেন মুক্তা বেগম। হাম রোগে আক্রান্ত শিশুটিকে গত ২৬ মে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তবে ভর্তি হওয়ার পরও নিয়মিত চিকিৎসক পাননি বলে অভিযোগ তার। মুক্তা বেগম বলেন, একদিন ডাক্তার এসে কিছুক্ষণ দেখে গেছেন, কিন্তু পরে আর নিয়মিত দেখা পাইনি। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেন ভোলার ওয়েস্টার্ণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. হাসান। তিনি বলেন, ঈদের দুই দিন আগে অসুস্থ সন্তানকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। কয়েক দিনে মাত্র একবার চিকিৎসকের দেখা পেয়েছেন, সেটিও খুব অল্প সময়ের জন্য। তার দাবি, শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি অধিকাংশ রোগীর স্বজন একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, দ্বীপজেলা ভোলার সবচেয়ে বড় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বহির্বিভাগ ও বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীর চাপ থাকে। তবে হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে অপরিচ্ছন্নতা, ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের চিত্রও চোখে পড়ে। বিশেষ করে টয়লেটগুলোর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা।

ভেদুরিয়া টেকেরহাট এলাকা থেকে আসা রোগীর স্বজন নয়ন তারা বলেন, হাম ওয়ার্ডের টয়লেট শত শত রোগী ও স্বজনরা ব্যবহার করলেও নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। দুর্গন্ধে সেখানে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। অন্যদিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার মনিরাম এলাকা থেকে আসা মাহামুদুল্লাহ রিয়াদ অভিযোগ করেন, হাসপাতালে নিরাপদ খাবার পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে সামর্থ্যবানরা বাইরে থেকে পানি কিনে আনছেন, আর অনেকে বাধ্য হয়ে বাথরুমের ট্যাপের পানি পান করছেন। তবে হাসপাতাল কম্পাউন্ডে একটি টিউবওয়েল দেখা গেছে। যা শিশু ওয়ার্ড থেকে ৩তলা নীচে। রোগীদের পানি সংগ্রহে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা: সালাউদ্দিন আহমেদ শিশু ওয়ার্ডে শিশুদের চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত হাম রোগী ভর্তি থাকায় একটি শয্যায় চার থেকে পাঁচজন শিশুকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অনেক শিশুকে ওয়ার্ডের বারান্দা মেঝে ও সিড়িতে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন রোগীর স্বজনরা। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের কিছু ফ্যান বন্ধ এবং কিছু ফ্যান অত্যন্ত ধীর গতিতে চলছে। পর্যাপ্ত বাতাস না থাকায় ওয়ার্ড গুলোর মধ্যে ভ্যাপশা গরম অনুভব করা গেছে। ফ্যান থাকা সত্বেও অনেক রোগীর স্বজনকে হাত পাখা দিয়ে বাতাস করতে দেখা গেছে।
হাসপাতালে বর্তমানে শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কার্যত একজন চিকিৎসকের ওপরই পুরো বিভাগের দায়িত্ব রয়েছে। হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সালাউদ্দীন জানান, বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগী মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ শিশুকে চিকিৎসাসেবা দিতে হয়। পাশাপাশি হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাও একই সঙ্গে চালিয়ে যেতে হচ্ছে। যা একার পক্ষে কখনোই সম্ভব নয়। তবুও আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো বলেন, রোগীদেরও সচেতন হওয়া জরুরি। একজন অসুস্থ্য শিশুর সাথে তার পরিবারের সুস্থ্য শিশুরাও থাকছে। এতে করে সুস্থ্য শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) আরাফাতুর রহমান নিজেদের অসহায়ত্ব তুলে ধরে জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৫০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন, যার বড় অংশই শিশু। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। ২৫ শয্যার শিশু ইউনিটে ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় অনেক শিশুকে বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, একেকটি বেডে চার থেকে পাঁচটি শিশুকে রাখতে হচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সরা এত রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। জরুরি বিভাগে এক মুহূর্তের জন্যও সেবা বন্ধ রাখা যায় না, অথচ প্রয়োজনীয় জনবল নেই। আরএমও আরও জানান, জনবল সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নিয়মিত চিঠি চালাচালি হচ্ছে, এখন পর্যন্ত কার্যকর সমাধান হয়নি। এর জন্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ১০০ শয্যার হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনো পুরোনো ১০০ শয্যার জনবল দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে কার্যক্রম। প্রায় সাত বছরেও নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়ায় চিকিৎসাসেবায় চাপ বেড়েছে।
হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তাসহ মোট ১৭৯টি পদের মধ্যে বর্তমানে একচতুর্থাংশ পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্ট, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, মেডিকেল অফিসার, অ্যানেসথেটিস্ট, রেডিওলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট ও ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে খালি। পাশাপাশি নার্সিং ও মিডওয়াইফারিসহ গুরুত্বপূর্ণ বহু পদেও জনবল সংকট রয়েছে।
রোগীর স্বজনদের দাবি, শিশু বিভাগে দ্রুত পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগ, হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়ন, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় চিকিৎসাসেবা আরও ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

শিশু বিভাগ ও হাম রোগীদের সামলাচ্ছেন এক চিকিৎসক ॥ রোগীদের নানা অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় যাতায়াতের একমাত্র সি-ট্রাকটি প্রায় দুই মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন শত শত যাত্রী। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা। দুই মাস ধরে এ অবস্থা চলতে থাকলেও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উত্তাল মেঘনা নদী পাড়ি দিয়ে মনপুরা টু তজুমদ্দিন এবং তজুমদ্দিন টু মনপুরা রুটে চলাচল করতো একমাত্র সি-ট্রাক ‘এসটি ইলিশা’। কিন্তু প্রায় দুই মাস আগে ইঞ্জিন বিকল হয়ে বন্ধ হয়ে যায় সি-ট্রাকটি। এরমধ্যে পরিবর্তন হয় ইজারাদার। নতুন ইজারাদার নিয়োগ হলেও আজও চালু হয়নি সি-ট্রাকটি। ফলে প্রতিদিনই অবৈধ ট্রলার দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মনপুরা উপজেলা থেকে তজুমদ্দিন এবং তজুমদ্দিন থেকে মনপুরা যাতায়াত করছেন শত শত যাত্রী।

মনপুরা-তজুমদ্দিন রুটটি ডেঞ্জার জোন হওয়ায় চলতি মৌসুমে প্রতিদিনই ভয় ও আতঙ্ক সঙ্গী হচ্ছে যাত্রীদের। যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।

ওই রুটের যাত্রী মো. করিম ও বিশ্বজিৎ কুমার জানান, তারা প্রতিনিয়ত মনপুরা থেকে তজুমদ্দিন এবং তজুমদ্দিন থেকে মনপুরা যাতায়াত করেন। সি-ট্রাক থাকাকালীন তারা নিরাপদে যাতায়াত

করতেন। কিন্তু দুই মাস ধরে সি-ট্রাক বন্ধ রয়েছে। এর পরিবর্তে কয়েকটি ট্রলার চলে। ট্রলারে চলাচল করা জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। নদীতে প্রচুর স্রোত থাকে। ঝড়ের বিষয়টিতো রয়েছেই।

‘নদীর যে স্রোত তাকে মনে হয় সাগর পাড়ি দিয়ে মনপুরা যাচ্ছি। সি-ট্রাক থাকলে ঝুঁকিটা কম থাকে। কিন্তু ট্রলারে এই নদী পাড়ি দেওয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ। দুই মাস ধরে সি-ট্রাক বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির কোনো ভূমিকা নেই। এতে বোঝা যায় বিআইডব্লিউটিসি তাদের দায়িত্ব পালন করছে না’।

ক্ষোভ প্রকাশ করে এই দুই যাত্রী বলেন, “তজুমদ্দিন ও মনপুরা নৌ-রুটটি ‘ডেঞ্জার জোন’। অথচ বিআইডব্লিউটিসি দুই মাসের মধ্যে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তারা কি কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সি-ট্রাক চালু করবেন?”

মনপুরার একটি কলেজের প্রভাষক খালেদা রোকসানা। তার বাড়ি খুলনায়। সব সময় তজুমদ্দিন ঘাট হয়ে মনপুরা যান। মনপুরা যেতে বড় নদী ও উত্তাল নদী পাড়ি দিয়ে যেতে হয়।

রোকসানা আক্তার বলেন, ‘নদীর যে স্রোত তাকে মনে হয় সাগর পাড়ি দিয়ে মনপুরা যাচ্ছি। সি-ট্রাক থাকলে ঝুঁকিটা কম থাকে। কিন্তু ট্রলারে এই নদী পাড়ি দেওয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ। দুই মাস ধরে সি-ট্রাক বন্ধ রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির কোনো ভূমিকা নেই। এতে বোঝা যায় বিআইডব্লিউটিসি তাদের দায়িত্ব পালন করছে না।’

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিসি কি তাদের ইচ্ছামতো এটি চালু করবে, নাকি এই রুটে দুর্ঘটনায় কয়েকটি মৃত্যু হলে তারপর সি-ট্রাক চালু হবে? ‘তাদের উচিত এটি পরিষ্কার করা।’

যাত্রী মিজানুর রহমান ও মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘এটি চরম অবহেলা যে দুই মাস ধরে সি-ট্রাক চলাচল বন্ধ আছে। অথচ বিআইডব্লিউটিসি কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এটা পরিষ্কার বিআইডব্লিউটিসি মনপুরা ও তজুমদ্দিন রুটের যাত্রীদের সঙ্গে চরম স্বেচ্ছাচারিতা করছে।’

“মনপুরা উপজেলায় নিরাপদ যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সি-ট্রাক। কিন্তু এভাবে যদি দিনের পর দিন বন্ধ থাকে, তাহলে যাত্রীরা কীভাবে নিরাপদে যাতায়াত করবেন? এই রুট তো ‘ডেঞ্জার জোন’। এখন ট্রলারে যাতায়াত করতে নিয়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে অনেক যাত্রীর প্রাণহানি হবে। তখন এর দায়ভার কে নেবে?”

‘সি-ট্রাকে সময় লাগতো দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। আর ট্রলারে সময় লাগে ৩-৪ ঘণ্টা। এতে আমাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে’ ‘যোগ করেন এই দুই যাত্রী।

ভোলা সদরে বাড়ি জামাল উদ্দিন ও হারুন মিয়ার। তারা দুজনই আদালাভাবে দুটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। এজন্য প্রতিনিয়ত তাদের মনপুরা যেতে হয়।

তারা বলেন, “মনপুরা উপজেলায় নিরাপদ যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সি-ট্রাক। কিন্তু এভাবে যদি দিনের পর দিন বন্ধ থাকে, তাহলে যাত্রীরা কীভাবে নিরাপদে যাতায়াত করবেন? এই রুট তো ‘ডেঞ্জার জোন’। এখন ট্রলারে যাতায়াত করতে নিয়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে অনেক যাত্রীর প্রাণহানি হবে। তখন এর দায়ভার কে নেবে?”

ভোলার চরফ্যাশনে বাড়ি আনোয়ারা বেগমের। তার মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন মনপুরায়। মেয়ে অসুস্থ শুনে মনপুরার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন। চরফ্যাশন থেকেও মনপুরা যাওয়া যায়। কিন্তু সেখানে কোনো নিরাপদ নৌযান না থাকায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা তজুমদ্দিন এসেছেন সি-ট্রাকে করে যাওয়ার জন্য। কিন্তু এখানে এসে দেখেন সি-ট্রাকটি বন্ধ রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে ট্রলারে করে যেতে হবে। তবে যাত্রাপথে তার ভয় নদীর ঢেউ।

মালেকা বেগম বলেন, ‘মনপুরা থেকে ট্রলারে করে তজুমদ্দিন ঘাটে এসেছি। তবে পুরো যাত্রাপথে আতঙ্কে ছিলাম। বড় বড় ঢেউয়ে ট্রলার কাঁপছিল। মনে হচ্ছিল এই বুঝি ডুবে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে ও মেয়ে নিয়ে মনপুরা থেকে এসেছি। জীবনে আর কখনো ট্রলারে যাতায়াত করবো না। যদি সি-ট্রাক বন্ধ থাকে, তারপরও আর ট্রলার দিয়ে যাত্রা নয়। আমাদের জীবনের মূল্য আছে।’

যাত্রী নুর ইসলাম ও ইব্রাহীম জানান, মনপুরা-তজুমদ্দিন রুটে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক যাত্রী যাতায়াত করেন। অথচ কারো কারণ ছাড়াই মাঝে মধ্যে সি-ট্রাক বন্ধ থাকে। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির যেন কোনো মাথাব্যথা নেই।

অবৈধ ট্রলার চলাচলের বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ভোলা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালক নির্মল কুমার রায় জানান, মনপুরা-তজুমদ্দিন রুটটি ‘ডেঞ্জার জোন’। বর্তমানে ডেঞ্জার জোন চললে। সেখানে সি-ট্রাক বন্ধ থাকায় ট্রলার চলছে কি-না সে বিষয়ে জানা নেই। বিষয়টির খোজখবর নেওয়া হবে। যদি ট্রলার চলে থাকে তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে এতদিন কেন খোঁজখবর নেননি-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাকে কেউ জানাননি।

বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান বলেন, আগের ইজাদারের মেয়াদ শেষ হয় এপ্রিল মাসের শেষের দিকে। এর আগে সি-ট্রাকটি নষ্ট হয়ে যায়। পরে

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

মনপুরা-তজুমদ্দিন: বন্ধ সি-ট্রাক, ‘ডেঞ্জার জোনে’ যাতায়াতে ভরসা ট্রলার

ডেস্ক প্রতিবেদন ::

১৬ বছর আগে ফরিদপুরে জনতা ব্যাংকের করপোরেট শাখা থেকে প্রায় কোটি টাকা লুট হয়। এ ঘটনায় চুরির অভিযোগে করা মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত বছর খালাস পান ব্যাংকটির তৎকালীন নিরাপত্তাপ্রহরী পরেশ চন্দ্র দাস। তবে এই মামলায় হাইকোর্টে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগেই তিনি মারা যান।

একই ঘটনায় মানি স্যুটের (অর্থ উদ্ধারের জন্য দেওয়ানি মামলা) পরিপ্রেক্ষিতে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা প্রথম আপিল খারিজ করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট। বিবাদীদের (পরেশের পরিবার) প্রতি হয়রানি–ভোগান্তির জন্য হাইকোর্ট আপিলকারীকে (জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ) ক্ষতিপূরণমূলক খরচবাবদ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে নির্দেশ দেন। আর পুরো এই অর্থ পরেশের পরিবারের সদস্যের অনুকূলে পরিশোধ করতে বলা হয়।

নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে জনতা ব্যাংকের ফরিদপুর করপোরেট শাখার ভল্ট থেকে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার ৫৯০ টাকা চুরি বা লুট হয়। তখন নিরাপত্তাপ্রহরী পরেশের বয়স ছিল ৫০ বছর। ঘটনার পরদিন ব্যাংকটির শাখা ব্যবস্থাপক ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এই মামলায় পরেশকে গ্রেপ্তার করা হয়, পরে তিনি জামিন পান।

চুরির অভিযোগে করা ফৌজদারি এই মামলা বিচারাধীন অবস্থায় জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ টাকা উদ্ধারের জন্য ২০১৩ সালের ৪ আগস্ট ফরিদপুরের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মানি স্যুট করেন। তিন বছর পর ২০১৬ সালের ২৯ জুন আদালত তা খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আদালত ১০ হাজার টাকা খরচা আরোপ করেন জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি।

বিচারিক আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে হাইকোর্টে আপিল (প্রথম আপিল) করে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এই আপিল খারিজ করে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ৩ ফেব্রুয়ারি রায় দেনহাইকোর্টের রায়ে ১০ হাজার টাকা খরচা আরোপের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণমূলক খরচ বাবদ আরও ৫০ হাজার টাকা জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে পরিশোধ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, চাঞ্চল্যকর এই মামলায় ৯৪ লাখের বেশি অর্থ লুটের অভিযোগ করা হয়। ব্যাংকের ভল্ট খোলার বিষয়ে কোনো অর্থপূর্ণ তদন্ত না করে কেবল ১ নম্বর বিবাদীসহ (পরেশ) দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। ভল্টটি কীভাবে খোলা হয়েছিল, তা নির্ণয়ে পুলিশ কার্যকর কোনো তদন্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। এটি দুর্ভাগ্যজনক যে ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুট হওয়া সত্ত্বেও প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, কর্তৃপক্ষ অন্যান্য ব্যক্তির ভূমিকা যথাযথভাবে তদন্ত না করে শুধু ১ নম্বর বিবাদীকে (পরেশ) জড়িত করেছে। বিশেষ করে ভল্টের চাবি যাঁদের হেফাজতে ছিল এবং পিকনিক থেকে ফিরে ঘটনার দিন ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে যাঁরা আবার ব্যাংকে প্রবেশ করেছিলেন, তাঁদের বিষয়ে। এতে এমন যুক্তিসংগত আশঙ্কা তৈরি হয় যে প্রকৃত অপরাধীদের আড়ালের উদ্দেশ্য ছিল।

প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ব্যর্থ

রায়ে হাইকোর্ট বলেন, কর্তৃপক্ষ এই আপিল শুধু ১ নম্বর বিবাদীকে (পরেশ) অপরাধী হিসেবে প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে করেছে, যেখানে অন্যদের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা উপেক্ষা করা হয়েছে। এ ধরনের আচরণ আদালতের কার্যপ্রণালির অপব্যবহারের শামিল। ফলে খরচাসহ আপিলটি (জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা) খারিজ করা হলো।

আদালতে পরেশের পরিবারের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী চঞ্চল কুমার বিশ্বাস। গত সোমবার তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হয়রানি ও ভোগান্তির জন্য ক্ষতিপূরণ বাবদ পরেশের পরিবারকে সব মিলিয়ে ৬০ হাজার টাকা দিতে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। চুরি বা লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারের জন্য দেওয়ানি আদালতে মামলা চলে না বলে রায়ের পর্যবেক্ষণে এসেছে। চুরি বা লুটের অভিযোগে অর্থ উদ্ধারে মূল মামলাটি ভ্রান্ত ধারণাপ্রসূত ও গ্রহণযোগ্য নয় রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে আপিলটি খারিজ করা হয়েছে। যাঁদের হেফাজতে ভল্টের চাবি ছিল, তাঁদের ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলায় আসামি বা পক্ষ করা হয়নি। শুধু একজন নিরাপত্তাপ্রহরীকে জড়ানো হয়েছে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য। তাই জনতা ব্যাংকের এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত হওয়া দরকার।

আদালতে জনতা ব্যাংকের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. আরিফ বিল্লাহ ও মো. জামিল আনোয়ার। আইনজীবী আরিফ বিল্লাহ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি এখনো হাতে আসেনি। অনুলিপি পাওয়ার পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চুরির অভিযোগে করা এই মামলায় ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রায় দেন। রায়ে পরেশকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এ মামলায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২০১০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জবানবন্দি দিয়েছিলেন পরেশ। জবানবন্দির ভাষ্য, ২০১০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি ব্যাংকে ঘুমিয়ে থাকেন। গভীর রাতে আসামিরা এসে তাঁর গলায় ছোরা ধরে তাঁকে চুপ থাকতে বলেন। আসামিদের মধ্যে তপু ও জাহিদ ছিলেন। তাঁরা ব্যাংকের সামনে এসে ঘোরাঘুরি করতেন। তাঁরা তাঁকে চা–চটপটি খাওয়াতেন। তাঁরা বলতেন, ব্যাংকে একটি হিসাব খুলবেন। তারপর ঘটনার দিন তাঁরা আসেন। তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা দেন। এই টাকা তিনি তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার করতে বলেন। পুলিশ তা উদ্ধার করে।

অবশ্য নথিপত্রে দেখা যায়, মামলা তদন্তের পর পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে জাহিদের নাম আসেনি। তপু ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রায়ে খালাস পান।

ফৌজদারী মামলায়ও খালাস

বিচারিক আদালতের রায়ের পর দায়রা আদালতে আপিল করেন পরেশ। ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরের দায়রা আদালত রায় দেন। রায়ে পরেশের সাজা কমে দুই বছরের কারাদণ্ড হয়।

এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন আবেদন করেন পরেশ। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট।

রায়ে পরেশকে দায়রা আদালতের দোষীসাব্যস্ত করা ও সাজা বাতিল ঘোষণা করা হয়। ফলে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি পান তিনি। হাইকোর্টের রায় ঘোষণার আগে ২০২৪ সালের ২৬ জুলাই মারা যান পরেশ।

পরেশের মৃত্যুর পর অর্থ উদ্ধার মামলায় জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের করা প্রথম আপিলে বিবাদী হিসেবে তাঁর স্ত্রী রিতা রানী দাস, ছেলে প্রণব কুমার দাস ও মেয়ে লিপি রানী দাস ২০২৫ সালের ২৬ মে পক্ষভুক্ত হন।

আইনি প্রক্রিয়ায় ১৬ বছর কেটে গেছে বলে উল্লেখ করেন পরেশের ছেলে প্রণব কুমার দাস। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আইনি লড়াই চালাতে গিয়ে বাবাসহ আমাদের আমাদের পরিবারকে অনেক ভোগান্তি ও হয়রানি পোহাতে হয়েছে। সামাজিকভাবেও হেয় হতে হয়েছে। আইনি লড়াই চলার মধ্যেই বাবা মারা যান। প্রকৃত অপরাধীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন। বাবা নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। তবে তিনি রায়টা দেখে যেতে পারেননি, যা আমাদের কষ্ট দেয়।’

ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন পরেশের চাকরির প্রায় দুই যুগ হয়েছিল বলে জানান প্রণব কুমার দাস। তিনি বলেন, ‘বাবা নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর চাকরি–পরবর্তী প্রাপ্য সুবিধা আমাদের পরিবারকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে, এটাই প্রত্যাশা।’

 

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভল্ট থেকে কোটি টাকা লুটের মামলায় নির্দোষ পরেশ : রায় দেখে যেতে পারেন নি জীবদ্দশায়