নিজস্ব প্রতিনিধি ::
দক্ষিণ বঙ্গের একমাত্র চিকিৎসার জন্য ভরসার অন্যতম আশ্রয়স্থল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। সেই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার বদলে চিকিৎসা নিতে আসা লোকদের নানান বিড়ম্বনা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরতে হয় হাসপাতালের নানান অব্যবস্থাপনা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারনে। সবচেয়ে বেশী অব্যবস্থাপনা চোখে পড়ে শেবাচিম হাসপাতালের পিসিসিইউ বিভাগে। শেবাচিম হাসপাতালের বর্ধিত দোতলায় পিসিসিইউ বিভাগের নার্স নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন এখানে শয্যা সংখ্যা মাত্র ১১ কিন্তু প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকর ১০০ জনের মতো রোগী চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ভর্তি হন। এ বিভাগে স্ট্রোক জনিত রোগীদের ভর্তি করা হয়। অথচ এখানে মেঝেতে, খাটে হাটার পথে রোগীদের কোন রকম চিকিৎসা দেওয়া হয় যা অপ্রতুল। পিসিসিইউ বিভাগে দীর্ঘদিন এসি বন্ধ থাকায় রোগীদের কষ্ট সীমাহীন। এতে করে রোগীরা গরমে আরো অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর কোলে আলিঙ্গন করে। মঙ্গলবার রাতে পিসিসিইউতে গেলে ১ ঘন্টার ব্যবধানে তিন জনের মৃত্যুর খবর জানান রোগীর স্বজনরা। তাই জরুরি ভিত্তিতে পিসিসিইউ বিভাগে এসি চালু ও শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে চিকিৎসা সেবা শতভাগ নিশ্চিতের দাবী জানান ভুক্তভোগীরা। এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মুনির জানান, দ্রুত বিষয়টি সমাধান করা হবে।

বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পিসিসিইউতে এসি চলে না দীর্ঘদিন : রোগি ঠাসাঠাসি গরমে অসহায়

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

ভোলার সিভিল সার্জন ডাঃ মনিরুল ইসলাম বলেছেন, টাইফয়েড টিকা গ্রহণের পর অন্যান্য টিকার মতোই সামান্য প্রতিক্রিয়া হতে পারে। যেমন-টিকা দেওয়ার স্থানে লালচে ভাব, হালকা ব্যথা, মৃদু জ্বর বা ক্লান্তি। এগুলো অল্প সময়েই সেরে যায়, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সিভিল সার্জনের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ডাঃ মনিরুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুরাই টাইফয়েড জ্বরে বেশি আক্রান্ত হয়। ২০২১ সালে প্রায় ৮ হাজার মানুষ টাইফয়েডে মারা যায়, যার মধ্যে ৬৮ শতাংশই শিশু। বর্তমানে টাইফয়েডের প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের অনেকগুলো আর কার্যকর নয়, ফলে ওষুধ-প্রতিরোধী টাইফয়েডের ঝুঁকি বাড়ছে। এ অবস্থায় টিকা গ্রহণে সংক্রমণ কমবে, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারও হ্রাস পাবে।

তিনি আরো বলেন, আগামী ১২ অক্টোবর থেকে সারাদেশে মাসব্যাপী ‘টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫’ শুরু হবে। এই ধারাবাহিকতায় ভোলা জেলায় মোট ৩ হাজার ৯ শত ৬০টি কেন্দ্রে প্রায় ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৭ শত ৭৮ শিশুকে এক ডোজ কার্যকর টাইফয়েড টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হবে। যার মধ্যে ২ হাজার ৬শত ৮৭টি স্কুলের ৪ লাখ ২৭ হাজার ৮ শত ৫৮ জন শিশু-কিশোর এবং যারা স্কুলগামী নয় এমন কমিউনিটির ২ লাখ ৫০ হাজার ৯ শত ২০ জনকে এই টিকা দেওয়া হবে। এই টিকাদান কর্মসূচি ১৮ কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। প্রথম ১০দিন স্কুল ক্যাম্পেইন এবং পরবর্তী ৮ দিন কমিউনিটির বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্রে আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীগণ টিকা দিবেন। ইতোমধ্যে আমরা ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৬ শত ৪০টি টিকার ডোজ হাতে পেয়েছি বাকি টিকার ডোজগুলো খুব শিগগিরই পেয়ে যাবো।

টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে বিভিন্ন দপ্তর, স্কুল, মাদ্রাসা ও এনজিও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থায় সুবিধাবঞ্চিত, বেদে, এতিমখানা ও পথশিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হবে। তবে ৯ মাসের কম বা ১৫ বছরের বেশি বয়সের কাউকে এই টিকা দেওয়া হবে না। যেসব বাচ্চারা অসুস্থ বা জ্বরে আক্রান্ত থাকবে তাদেরকে টিকা দেওয়া হবে না, তবে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়া হবে। এছাড়াও কোন গর্ভবতী এবং দুগ্ধদানকারী মাকে এই টিকা দেওয়া হবে না।

ডা. মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, ইপিআই ব্যবস্থায় দেওয়া এই টাইফয়েড টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত ও নিরাপদ। এটি কনজুগেট ভ্যাকসিন হওয়ায় আরও কার্যকর এবং পরীক্ষামূলক নয়। সরকার দেশের শিশুদের নিরাপদ টিকা প্রদানে সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। সামান্যতম ঝুঁকি থাকলে সরকার কখনো সেই টিকা প্রয়োগ করত না। তিনি জানান, টিকা নেওয়ার সময় কিছু কিশোর-কিশোরীর অজ্ঞান হয়ে পড়া বা অসুস্থতার বিষয়টি ‘ম্যাস সাইকোজেনিক ইলনেস’ যা মানসিক ভীতি বা গুজবজনিত প্রতিক্রিয়া। এর সঙ্গে টিকার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরও যোগ করেন, এই টিকায় শরীয়তবিরোধী কোনো উপাদান নেই। এটি সৌদি হালাল সেন্টার কর্তৃক হালাল সনদপ্রাপ্ত এবং এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ।

সংবাদ সম্মেলনে দৈনিক আজকের ভোলার সম্পাদক শওকাত হোসেন, ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শরীফ আহমেদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডাঃ মোহাম্মদ খায়েম ফারুকীসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, VaxEPI.gov.bd ওয়েবসাইটে ১৭ সংখ্যার জন্মনিবন্ধন নম্বর দিয়ে সহজেই টাইফয়েড টিকার জন্য নিবন্ধন করা যাবে। যাদের জন্মনিবন্ধন নেই তাদেরও ম্যানুয়ালি নিবন্ধনের মাধ্যমে (বিশেষ ব্যবস্থায়) টিকা দেওয়া হবে।

ভোলায় টাইফয়েড টিকা পাবে ৬ লাখ ৭৮ হাজার শিশু

দুধ মানুষের পরিপূর্ণ খাদ্য। এতে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে যা শরীরের বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধে অপরিহার্য। কিন্তু বর্তমানে বাজারে বিক্রিত অনেক দুধেই পানি, স্টার্চ, ডিটারজেন্ট, ইউরিয়া, ফরমালিনসহ নানা ভেজাল উপাদান মেশানো হচ্ছে। এতে দুধের পুষ্টিমান নষ্ট হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, লিভার, স্নায়ুতন্ত্র এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ে।
ঘরে বসেই দুধের ভেজাল শনাক্তের কিছু নির্ভরযোগ্য ও পরীক্ষিত উপায়-
 ১. দুধে পানি মেশানো চেনার সহজ কৌশল
পদ্ধতি:  এক ফোঁটা দুধ কাচের পাত্রে ফেলুন ও সামান্য কাত করুন।
ফলাফল:
যদি ফোঁটা দ্রুত গড়িয়ে যায় বা ছড়িয়ে পড়ে – তাতে পানি মেশানো আছে।
খাঁটি দুধ ঘন ও আঠালো, সহজে গড়ায় না।
বৈজ্ঞানিক কারণ- খাঁটি দুধে প্রোটিন ও ফ্যাট কণার ঘনত্ব বেশি থাকে, যা তার সান্দ্রতা ধরে রাখে।
 ২. দুধে ডিটারজেন্ট বা সাবানজাতীয় পদার্থ শনাক্তকরণ:
পদ্ধতি-
এক চা চামচ দুধের সঙ্গে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে ঝাঁকান।
ফলাফল:
অতিরিক্ত ফেনা তৈরি হয়ে যদি দীর্ঘক্ষণ স্থির থাকে, তবে ডিটারজেন্ট বা সাবান মেশানো আছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি: পাকস্থলীর ঝিল্লি ক্ষতিগ্রস্ত করে, গ্যাস্ট্রিক, আলসার ও ত্বকজনিত সমস্যা সৃষ্টি করে।
 ৩. দুধে স্টার্চ (আলু/আটা/চালগুঁড়া) মেশানো চেনা:
পদ্ধতি-
 দুধে কয়েক ফোঁটা আয়োডিন সলিউশন দিন।
ফলাফল: নীলচে-বেগুনি রঙ ধারণ করলে বুঝবেন তাতে স্টার্চ রয়েছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি: অতিরিক্ত স্টার্চ হজমে সমস্যা, গ্যাস ও রক্তে শর্করা বৃদ্ধি করে।
বৈজ্ঞানিক কারণ: আয়োডিন স্টার্চের সঙ্গে বিক্রিয়া করে নীল রঙ উৎপন্ন করে।
 ৪. দুধে ইউরিয়া বা ক্ষতিকর রাসায়নিক শনাক্তকরণ:
পদ্ধতি:
 দুধে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস বা ভিনেগার দিন।
ফলাফল:
দুধ না ফাটলে বুঝবেন ইউরিয়া বা রাসায়নিক সংরক্ষণকারী মেশানো আছে।
কারণ: ইউরিয়া প্রোটিনের জমাট বাঁধা রোধ করে, ফলে দুধ ফাটে না।
স্বাস্থ্যঝুঁকি: কিডনি বিকলতা, লিভার সমস্যা ও হরমোন ভারসাম্য নষ্ট করে।
 ৫. দুধে চিনি বা গ্লুকোজ মেশানো শনাক্ত
পদ্ধতি:
 এক ফোঁটা দুধে আয়োডিন টিঞ্চার দিন।
ফলাফল: নীলচে রঙ ধারণ করলে তাতে গ্লুকোজ বা চিনি মেশানো আছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি: ডায়াবেটিস ও স্থূলতা বৃদ্ধি করে।
 ৬. দুধে সিন্থেটিক বা কৃত্রিম দুধ চেনার উপায়:
পদ্ধতি:
সামান্য দুধ গরম করুন।
ফলাফল:
পেট্রোল, প্লাস্টিক বা রাসায়নিকের মতো গন্ধ পেলে বুঝবেন এটি সিন্থেটিক দুধ।
বৈজ্ঞানিক কারণ: কৃত্রিম দুধে স্যাপোনিন, বোরিক অ্যাসিড, ডিটারজেন্ট ও ইউরিয়া মিশিয়ে ঘনত্ব তৈরি করা হয়।
স্বাস্থ্যঝুঁকি: দীর্ঘমেয়াদে লিভার বিকলতা, ক্যানসার ও শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
 ৭. দুধে  রঙ, ঘনত্ব ও স্বাদ পর্যবেক্ষণ:
খাঁটি দুধ হালকা ক্রিমি-হলদেটে ও ঘন।
ভেজাল দুধ সাদা, পাতলা ও চকচকে।
মুখে নিলে সাবান বা তেতো স্বাদ পাওয়া গেলে ভেজাল সন্দেহ করুন।
 ৮.  দুধে ফরমালিন বা সংরক্ষণকারী পদার্থ শনাক্ত
পদ্ধতি:
 দুধ কিছুক্ষণ রোদে রেখে দিন।
ফলাফল: দুধ দীর্ঘ সময়েও টক না হলে বা ফাটলে দেরি হলে তাতে ফরমালিন মেশানো আছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি: ফরমালিন ক্যানসার, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করে।
জনস্বাস্থ্য দৃষ্টিকোণ:
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুসারে, ভেজাল দুধে থাকা রাসায়নিক উপাদানসমূহ—
শিশুদের বুদ্ধিবিকাশ ও শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে,
প্রাপ্তবয়স্কদের কিডনি, লিভার ও হরমোনজনিত রোগ বাড়ায়,
দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসার ও বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি তৈরি করে।
 সতর্কতা ও প্রতিরোধ:
১. দুধ অবশ্যই সিদ্ধ করে পান করুন।
২. বিশ্বস্ত উৎস বা ব্র্যান্ড থেকে দুধ সংগ্রহ করুন।
৩.মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ ও প্যাকেটের সিল যাচাই করুন।
৪. প্রয়োজনবোধে স্থানীয় খাদ্য পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করুন।
৫.শিশুর জন্য দুধ ব্যবহারে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করুন।
খাঁটি দুধ শরীরের পুষ্টির আধার, কিন্তু ভেজাল দুধ ধীরে ধীরে বিষে পরিণত হয়। সচেতনতা ও সতর্কতা বজায় রাখাই একমাত্র সুরক্ষা।
লেখক:আলহাজ্ব ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ:: 
★ সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★ কৃষি লেখক ও কথক: বাংলাদেশ বেতার
★ উপদেষ্টা,  দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ

ভেজাল তরল দুধ শনাক্তের ঘরোয়া পদ্ধতি

 

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

চিকিৎসক ও নার্স সংকটে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ভোলার দৌলতখান উপজেলার বাসিন্দারা। হাসপাতালের বেডে ২-৩ দিন ভর্তি থাকলেও অনেক সময় মেলে না সুচিকিৎসা। এমনকি নেই বিশেষজ্ঞ কোনো চিকিৎসক। কয়েকটি বাদে অন্যান্য পরীক্ষাও এখানে করা হয় না। ফলে চিকিৎসা নিতে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

উপজেলাবাসীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ১৯৬৮ সালের দিকে স্থাপিত হয় দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। বর্তমানে এর শয্যা সংখ্যা ৫০টি। প্রায় আড়াই লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার ভরসা দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্স। কিন্তু বর্তমান চিকিৎসা ও নার্স সংকটে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ১৯ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও কর্মরত মাত্র দু’জন। মেডিকেল অফিসার ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ মোট চিকিৎসক তিনজন। এরমধ্যে একজন আসেন পার্শ্ববর্তী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে। ৩৪ জনের জায়গায় নার্স রয়েছেন মাত্র ১৩ জন। এ ছাড়াও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে নেই কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

মালা বেগম নামের একজন রোগীর স্বজন জানান, তার আট মাসের সন্তান জ্বর ও ঠান্ডায় আক্রান্ত হওয়ায় দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। কিন্তু এখানে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ নেই। মেডিকেল অফিসার আছে, তাকে দেখিয়েছেন। তিনি ওষুধ লিখে দিয়েছেন। এতে ভালো না হলে ভোলা সদর গিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞ দেখাতে হবে।

ফাতেমা বেগম নামের আরেকজন বলেন, ‘তিন দিন আগে নাতিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার দেখাইছি। শিশু ডাক্তার নাই, তাই যারা আছে তাদের দেখিয়ে ঔষধ খাইয়েছি। কিন্তু ভালো হয়নি। তাই আবারও নিয়ে আসছি। এখনো যদি ভালো না হয়, তাহলে ভোলায় গিয়ে বড় ডাক্তার দেখাবো।’

ছেলে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করিয়েছেন মিনারা বেগম। গত ছয় দিন ধরে তিনি ছেলেকে নিয়ে এখানে রয়েছেন। ছয় দিনের মধ্যে দুটি বেডে চিকিৎসক এসে দেখে গেছেন। বাকি চার দিন চিকিৎসকের দেখা পাননি।

মিনারা বেগম বলেন, ‘এখানে ডাক্তার বেডে রোগী দেখতে আসে না। জরুরি কিছু হলে নিচে গিয়ে দেখাতে হয়।’

শফিক নামের একজন রোগী জানান, তিনি দুদিন আগে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক বেডে এসে তাকে দেখেননি। অথচ এখানে নাকি ২-৩ জন চিকিৎসক আছেন।

ক্ষোভ প্রকাশ করে শফিক বলেন, ‘ভর্তি হলেও রোগীরা চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। নার্সও ঠিকমতো আসেন না। যে কারণে বাড়ির মতই রোগীরা পড়ে আছেন।’

রোগী কহিনুর বেগম জানান, দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে করানো হয়। তাই বাধ্য হয়ে বাইরে গিয়ে বেশি টাকা দিয়ে এক্স-রে করতে হয়।

কয়েকটি রক্তের পরীক্ষা ছাড়া আর কিছু হয় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোগী জাহাঙ্গীর মাঝি। তিনি বলেন, ‘আমাদের সব বাইরে গিয়ে করতে হয়। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের পক্ষে এত টাকা খরচ করে বাইরে পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না। ডাক্তার আমাকে তিনটি পরীক্ষা দিয়েছে। টাকার অভাবে একটা করছি।’

কথা হয় দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা নাজমা বেগম ও ফারজানা বেগমের সঙ্গে। তারা বলেন, ‘এখানে কানের কোনো ডাক্তার নেই। ফলে ভোলা সদরে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে হবে। এতে অনেক টাকা খরচ হবে। এখানে থাকলেতো এত টাকা খরচ হতো না।’

এ বিষয়ে ভোলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসক সংকট দূর করতে আমরা চেষ্টা করছি। আশা করি, সামনের মাসে এই সংকট কেটে যাবে। জনবল সংকটের কারণে এক্স-রেসহ অন্যান্য পরীক্ষা করানো হচ্ছে না। এই বিষয়টিও সমাধানের চেষ্টা চলছে।

দৌলতখানে আড়াই লাখ মানুষের সেবায় চিকিৎসক মাত্র দু’জন! স্বাস্থ্যখাতে হয়রাণীর অপর নাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলায় মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং পুষ্টি বিষয়ক ৫ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (৩১ আগস্ট) নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফাই কলেজের হলরুমে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)’র পিপিইপিপি-ইইউ প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। প্রধান অতিথি হিসেবে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন জেলা সিভিল সার্জন ডা: মু: মনিরুল ইসলাম। গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক (কর্মসূচী এন্ড লিগ্যাল) এডভোকেট বিথী ইসলাম এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পিকেএসএফ’র সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার (প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা) শেখ সুলতান মোহাম্মদ হেজবুল্লাহ, নার্সিং ইন্সটিটিউটের ইনচার্জ নন্দা রাণী দাস, নার্সিং এন্ড মিডওয়াইফাই কলেজের ইন্সট্রাক্টর মো: আফজাল হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন কারিগরি কর্মকর্তা (পুষ্টি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা) মো: মিঠুন মন্ডল। প্রশিক্ষণে গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা, এফডিএ, কোডেক, ওয়েফ ফাউন্ডেশনের ২৫ সিএনএইচপি অংশ গ্রহণ করেন।

ভোলায় মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা এবং পুষ্টি বিষয়ক ৫ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্বোধন