কৃষি ডেস্ক ::
🔳 মালসা/পাত্র নির্বাচন:
ধারণক্ষমতা: ৫০-৮০ লিটার (ড্রাম/বড় টব)
নিচে ৩-৫টি ছিদ্র থাকতে হবে (ড্রেনেজের জন্য)
প্লাস্টিক ড্রাম/সিমেন্ট টব/মাটির বড় পাত্র ব্যবহারযোগ্য
 
🔳 মাটি প্রস্তুতি:
বেলে দোঁআশ মাটি – ৫০%
পচা গোবর/কম্পোস্ট – ৩০%
বালি – ১০%
ভার্মি কম্পোস্ট – ১০%
সাথে: হাড়ের গুঁড়া ৫০-১০০ গ্রাম + ছাই ৫০ গ্রাম
🔳 চারা রোপণ:
রোগমুক্ত সাকার/টিস্যু কালচার চারা নিন
এক পাত্রে ১টি গাছ
উপরে ২-৩ ইঞ্চি ফাঁকা রাখুন
 
🔳 সেচ ব্যবস্থা:
মাটি আর্দ্র রাখুন, পানি জমে থাকা যাবে না
গরমে প্রতিদিন, শীতে ২-৩ দিনে একবার
🔳 আলো ও অবস্থান:
প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা রোদ
ঝড়ো বাতাস থেকে সুরক্ষা, প্রয়োজনে খুঁটি দিন
🔳 সার প্রয়োগ (মাসভিত্তিক):
১ম মাস:
২-৩ কেজি জৈব সার (আগে মাটিতে মিশানো)
২য়-৩য় মাস:
প্রতি ১৫ দিনে তরল জৈব সার ১–২ লিটার
ইউরিয়া ২০–৩০ গ্রাম + টিএসপি ২০ গ্রাম
৪র্থ-৫ম মাস:
প্রতি ২০ দিনে: ইউরিয়া ৩০–৪০ গ্রাম + এমওপি ২০–৩০ গ্রাম
ছাই ১ মুঠো
৬ষ্ঠ-৭ম মাস:
ইউরিয়া ৩০ গ্রাম + এমওপি ৩০–৪০ গ্রাম (প্রতি ২০–২৫ দিনে)
🔳 মোচা আসার সময় (৭-৯ মাস):
এমওপি ৪০-৫০ গ্রাম + টিএসপি/ডিএপি ২০-৩০ গ্রাম
 
🔳 ফল বড় হওয়ার সময়:
প্রতি ১৫-২০ দিনে তরল জৈব সার + ছাই ১-২ মুঠো
🔳 পরিচর্যা:
শুকনো পাতা কেটে ফেলুন
অতিরিক্ত চারা রেখে দেবেন না (১-২টি রাখুন)
পোকা দমনে নিম তেল স্প্রে (মাসে ১ বার)
 
🔳 ফলন:
৮-১২ মাসে ফল আসে
ভালো যত্নে ১টি গাছে ১টি থোকা পাওয়া সম্ভব
সার গাছের গোড়া থেকে ৩-৪ ইঞ্চি দূরে দিন
একবারে বেশি সার নয়-ভাগে ভাগে দিন
পানি দেওয়ার পর সার দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়
ভারী হলে মালসার নিচে স্ট্যান্ড/চাকা ব্যবহার করুন
 অল্প জায়গায় সঠিক পরিচর্যায় মালসায় কলা চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
লেখক
★সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ
★প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক ও পরীক্ষক (কৃষি শিক্ষা)
★কৃষিতে বারো মাস গ্রন্থ সহ বহু গ্রন্থের লেখক

   মালসায় কলা চাষ 

কৃষি ডেস্ক ::     
বাংলাদেশের কৃষি আজ বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে। সীমিত জমি, বাড়তি উৎপাদন ব্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষকদের বিকল্প ও লাভজনক চাষপদ্ধতির দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। এই বাস্তবতায় ধানের জমিতে মাছ চাষ একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
এই পদ্ধতিতে একই জমিতে ধান ও মাছ একসঙ্গে চাষ করা হয়। ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, কৃষকের আয় বাড়ে এবং পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়।
ধানের জমিতে মাছ চাষের জন্য নিচু বা মাঝারি উঁচু জমি সবচেয়ে উপযোগী, যেখানে  ৪-৫  মাস পানি ধরে রাখা যায়। জমির চারদিকে ১ থেকে ১.৫ ফুট উঁচু বাঁধ তৈরি করতে হয়। পাশাপাশি জমির এক পাশে বা চার কোণে মোট জমির ৫-১০ শতাংশ জায়গা নিয়ে নালা বা গর্ত রাখতে হয়, যা মাছের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।
ধান নির্বাচনের ক্ষেত্রে পানিসহিষ্ণু ও দীর্ঘমেয়াদি জাত বেশি উপযোগী। BR11, BRRI dhan 49, BRRI dhan 52 ছাড়াও উপযোগী দেশি জাত ব্যবহার করা যায়। মাছের ক্ষেত্রে দেশি ও চাষযোগ্য মাছের মিশ্রচাষে ভালো ফলন পাওয়া যায়। টেংরা, পুঁটি, মলা, কৈ, শিংয়ের পাশাপাশি রুই, কাতলা, মৃগেল বা তেলাপিয়া চাষ করা যেতে পারে।
ধান রোপণের ১৫-২০ দিন পর মাছের পোনা ছাড়তে হয়। প্রতি শতাংশ জমিতে গড়ে ২০-৩০টি পোনা ছাড়া নিরাপদ। পোনার ওজন ৫-১০ গ্রাম হলে বেঁচে থাকার হার বেশি হয়। ধানের জমিতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের খাদ্য তৈরি হয় বলে অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন কম পড়ে। প্রয়োজনে অল্প পরিমাণ ভুসি বা খৈল দেওয়া যেতে পারে।
পানি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। ধানের জন্য ৪-৬ ইঞ্চি পানি যথেষ্ট। অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে সংযমী হতে হবে, কারণ এগুলো মাছের জন্য ক্ষতিকর। সম্ভব হলে জৈব ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করাই উত্তম।
ধান কাটার সময় আংশিকভাবে মাছ সংগ্রহ করা যায় এবং ধান কাটার পর সম্পূর্ণ মাছ আহরণ সম্ভব। এতে একই জমি থেকে দুটি ফসল পাওয়া যায়, যা কৃষকের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।
সবশেষে বলা যায়, ধানের জমিতে মাছ চাষ একটি লাভজনক, পরিবেশবান্ধব ও পুষ্টিসমৃদ্ধ কৃষি পদ্ধতি। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার মাধ্যমে এই সমন্বিত চাষব্যবস্থা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
লেখক:
★বসভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন(BPF)।
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার।
★ উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ, অগ্নিবার্তা।
★ প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক(কৃষি শিক্ষা)।
★ কৃষি বিষয়ক বহু গ্রন্থের লেখক

কৃষকের মুখে হাসি- ধানের জমিতে মাছ চাষ : দ্বিগুণ ফসল, দ্বিগুণ সম্ভাবনা

ডেস্ক রিপোর্ট ::
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আজ ১৩ মার্চ (শুক্রবার)  বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) এর উদ্যোগে রাজধানীর পুরান ঢাকার একটি এতিমখানার  শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩ শতাধিক ব্যক্তির মধ্যে চিকেন পোলাও ও খেজুর সমন্বয়ে প্রস্তুতকৃত ইফতার প্যাকেট বিতরণ করা হয়।
এই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিপিএফ’র কেন্দ্রীয় সভাপতি বিশিষ্ট লেখক আলহাজ্ব ড. সরকার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাস মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার শিক্ষা দেয়। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, বিপিএফ একটি অরাজনৈতিক কল্যাণমুখী পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন’র উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ইফতার বিতরণ

কৃষি ডেস্ক ::

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর উদ্যোগে “সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা, রাজধানীতে ছাদ কৃষির জন্য উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ, ইফতার ও দোয়া মাহফিল রবিবার (০৮ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ-এর ভিআইপি সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)’র সভাপতি আলহাজ্ব ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)’র সাবেক পরিচালক মিজানুর রহমান গ্রামসি। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ, কবি ও কথাসাহিত্যিক প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জামাল আহমেদ।

উদ্বোধক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে আরও বেগবান করতে পেশাজীবী সমাজকে দায়িত্বশীল ও নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

প্রধান অতিথি মিজানুর রহমান গ্রামসি বলেন, একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেশের উন্নয়ন, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক অগ্রগতিতে পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. মোস্তফা দুলাল বলেন, টেকসই উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে পেশাজীবীদের গবেষণা, সৃজনশীল চিন্তা ও মানবিক মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বিশেষ অতিথি- জীবন বীমা কর্পোরেশনের পরামর্শক(অব: অতিরিক্ত সচিব) শ্রী অসিত কুমার মুকুটমণি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পেশাজীবীদের দক্ষতা, সততা ও দায়বদ্ধতার সমন্বয়ই একটি সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের উন্নয়নে পেশাজীবীদের নৈতিক নেতৃত্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে পেশাজীবীদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভাপতির বক্তব্যে সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, নৈতিকতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন কাজ করে যাচ্ছে।

এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে  উপস্থিত ছিলেন গোলাম মোস্তফা, সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদক, জাতীয় ম্যাগাজিন অগ্নিবার্তা, মাহফুজুর রহমান খান, বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও সমাজ বিশ্লেষক; বীর মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ, সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক; এবং মুফতি মাওলানা মূর্তাজা ইবনে মোস্তফা সালেহী, বিশিষ্ট ইসলামী আলোচক (বিটিভি, বিটিভি ওয়ার্ল্ড ও বাংলাদেশ বেতার) এফ রহমান রূপক, সভাপতি, বাংলাদেশ মডেল প্রেস ক্লাব; মো: ইমাম হোসেন, সহ সম্পাদক, দৈনিক সকালের সময়,  মো. মফিজ উদ্দিন খাঁন, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন, সিজিএ, ঢাকা,  মোহাম্মদ আব্দুল মা’বুদ জীবন, সম্পাদক, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ,  মো. আব্দুল করিম খাঁন, সাধারণ সম্পাদক, ডিপিডিসি প্রকৌশলী কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিষদ, মো. সানোয়ার হোসাইন, উপদেষ্টা, ঢাকা দক্ষিণ সাংবাদিক ফোরাম, লায়ন মোস্তাফিজুল আজম মামুন, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী, খোন্দকার আবিদ আহম্মেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি, পদ্মা সমিতি, মো. শাফিউর রহমান কাজী, সহ-সম্পাদক, দৈনিক ঘোষণা এবং জনাব মানস কুমার আচার্য অপু, বিশিষ্ট বীমা উন্নয়ন কর্মী।

আলোচনা সভা শেষে উপস্থি সকলকে ছাদে চাষাবাদের জন্য উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ, দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া এবং ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

সমৃদ্ধ ও টেকসই বাংলাদেশ গঠনে পেশাজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা শীর্ষক আলোচনা সভা : রাজধানীতে ছাদ কৃষির জন্য সবজি বীজ বিতরণ ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

কৃষি ডেস্ক ::

রমজান মাস আত্মসংযম ও ইবাদতের মাস। এই পবিত্র মাসে দেশের কৃষক সমাজ রোজা রেখেই মাঠে-ঘাটে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যান, যা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে রোজার কারণে দীর্ঘ সময় না খেয়ে কৃষি কাজ করলে শারীরিক দুর্বলতা ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই রমজান মাসে কৃষি কাজের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।

রমজানে কৃষি কাজের সময়সূচি সঠিকভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। সাহরির পর ভোরের সময় ভারী কৃষি কাজ সম্পন্ন করা তুলনামূলক নিরাপদ। দুপুরের প্রচণ্ড রোদে কাজ এড়িয়ে চলা এবং বিকেলে হালকা কাজ করাই উত্তম। এতে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে।
সাহরি ও ইফতারে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানিশূন্যতা এড়াতে ডাবের পানি, শরবত ও লবণ-চিনি মিশ্রিত পানি উপকারী। পাশাপাশি সাহরিতে ভাত বা রুটি, ডাল, ডিম, শাকসবজি জাতীয় পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করলে সারাদিন কাজ করার শক্তি পাওয়া যায়। ইফতারে ভাজাপোড়া কম এবং ফলমূল ও সহজপাচ্য খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

কৃষি কাজে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করাও জরুরি। সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ সকাল বা সন্ধ্যায় করা উচিত। কীটনাশক ব্যবহারের সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে। এ ছাড়া যেখানে সম্ভব সেখানে পাওয়ার টিলার, স্প্রে মেশিনসহ যান্ত্রিক কৃষি উপকরণ ব্যবহার করলে শ্রম ও শক্তি সাশ্রয় হয়।
ফসলভিত্তিক ব্যবস্থাপনাও রমজানে গুরুত্বপূর্ণ।

বোরো ধানে সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। সবজি ক্ষেতে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত সেচ দিতে হবে এবং ফলের বাগানে মালচিং ব্যবহার করলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা সম্ভব হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কৃষকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা। হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরা, মাথা ঢেকে কাজ করা এবং দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা অনুভব করলে তাৎক্ষণিক কাজ বন্ধ করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে কাজ ভাগ করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

রমজানে সুস্থ কৃষকই সফল কৃষির মূল শক্তি। কৃষক সুস্থ থাকলে কৃষি টেকসই হবে এবং দেশ এগিয়ে যাবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক:
 সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
★সভাপতি: বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন(BPF)।
★কৃষি লেখক ও কথক: বাংলাদেশ বেতার।
★উপদেষ্টা: দৈনিক গ্রামীণ কৃষি,দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ,  অগ্নিবার্তা।
★EX. সিনিয়র শিক্ষক (কৃষি শিক্ষা)।
★কৃষি বিষয়ক বহু গ্রন্থের লেখক

রমজানে কৃষক ভাইদের করণীয় : কৃষি কাজ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা

ঢাক থেকে ভোলা প্রতিনিধি ::
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওস্থ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতে তারা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দায়িত্বকালীন বিভিন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর দায়িত্ব পালনকালে, বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়, সেনাবাহিনীর সহযোগিতার জন্য সেনাপ্রধানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের বিদায়ী সাক্ষাৎ

কৃষি ডেস্ক ::

🔳 বস্তায় আদা চাষে সম্পূর্ণ সার ও স্প্রে শিডিউল (বস্তা প্রতি):
বস্তা সাইজ: ৫০–৬০ কেজি
মাটি মিশ্রণ (ভালো ফলনের জন্য): দোআঁশ মাটি + কম্পোস্ট + বালি/কোকোপিট (ড্রেনেজ ঠিক রাখতে)
বীজ আদা: ৩–৪টি টুকরা
প্রতি টুকরা: ২৫–৩০ গ্রাম
সুস্থ, পোকামাকড়মুক্ত ও চোখসহ বীজ ব্যবহার করবেন

🔳  রোপণের দিন:
বেস সার (মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দেবেন)
পচা গোবর/কম্পোস্ট: ২–৩ কেজি
টিএসপি: ২০–২৫ গ্রাম
এমওপি (পটাশ): ১৫–২০ গ্রাম
জিপসাম: ১০ গ্রাম
বোরন: ১ গ্রাম (না থাকলে বাদ)
🔳 বীজ শোধন (রোপণের আগে বাধ্যতামূলক):
ট্রাইকোডার্মা: ৫ গ্রাম/লিটার পানি
বীজ ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রোপণ করবেন
এতে পচা রোগ ও ছত্রাকের ঝুঁকি কমে

🔳 ১৫ দিন পর করণীয়:

হালকা আগাছা পরিষ্কার
মাটি আলগা করে দিন
মালচিং ঠিক রাখুন (খড়/শুকনো পাতা)
প্রয়োজন হলে স্প্রে (পোকা থাকলে)
নিম তেল: ৫ মি.লি./লিটার পানি

🔳 ৩০ দিন পর ১ম টপ ড্রেসিং
সার (বস্তা প্রতি)
ইউরিয়া: ১০–১২ গ্রাম
এমওপি: ৮–১০ গ্রাম

সার দেওয়ার নিয়ম:
সার চারদিকে ছিটিয়ে হালকা কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে পানি দিন।

🔳  ৪৫ দিন পর :
হিলিং আপ (মাটি উঠানো)
গাছের গোড়ায় মাটি তুলে ঢিবি করে দিন
এতে গাঁট বেশি হয়, আদা মোটা হয়, ফলন বাড়ে
রোগ প্রতিরোধ স্প্রে (ঐচ্ছিক কিন্তু ভালো)
ম্যানকোজেব: ২ গ্রাম/লিটার পানি (১ বার)

🔳 ৬০ দিন পর ২য় টপ ড্রেসিং
সার (বস্তা প্রতি)
ইউরিয়া: ১০–১২ গ্রাম
এমওপি: ৮–১০ গ্রাম
পাতায় দাগ/হলদে হলে স্প্রে
ম্যানকোজেব: ২ গ্রাম/লিটার
৭ দিন পর আবার ১ বার

🔳 ৭৫ দিন পর জৈব খাবার (ফলন বাড়ায়)
যেকোনো একটি দিন
ভার্মি কম্পোস্ট: ১–২ মুঠো
অথবা
সরিষার খৈল ভিজানো পানি: ১ গ্লাস
১:১০ অনুপাতে পাতলা করে দেবেন

🔳 ৯০ দিন পর ৩য় টপ ড্রেসিং
(গাঁট মোটা করার সময়)
সার (বস্তা প্রতি)
ইউরিয়া: ৮–১০ গ্রাম (এ সময় কম দেবেন)
এমওপি: ১০–১২ গ্রাম (পটাশ একটু বেশি)

🔳এই সময় পটাশ বাড়ালে আদা মোটা, ভারী ও ঝকঝকে হয়।

🔳 ১২০ দিন পর করণীয়
পানি কমিয়ে নিয়ন্ত্রণ করুন
আগাছা পরিষ্কার
পচা/হলুদ গাছ থাকলে আলাদা করুন
যদি পচা রোগ দেখা দেয় (গোড়া নরম/দুর্গন্ধ)
রিডোমিল গোল্ড: ২ গ্রাম/লিটার পানি
গোড়ায় ড্রেঞ্চিং (বস্তায় ঢেলে দেওয়া)
৭ দিন পর আবার ১ বার

🔳 ১৫০-১৮০ দিন সবুজ আদা সংগ্রহ
এই সময় কাঁচা/সবুজ আদা তুলতে পারবেন
বাজারে সাধারণত ভালো দাম পাওয়া যায়

🔳 ২৪০-২৭০ দিন পাকা আদা সংগ্রহ
পাতা হলুদ হয়ে শুকালে আদা তুলবেন
এটি সংরক্ষণযোগ্য ও শুকানো যায়

🔳বস্তায় আদা চাষে ফলন বাড়ানোর ৫টি কৌশল
১) পানি জমতে দেবেন না (ড্রেনেজ ঠিক রাখুন)
২) মালচিং ২–৩ ইঞ্চি রাখুন
৩) ৪৫–৬০ দিনে হিলিং আপ বাধ্যতামূলক
৪) ৯০ দিনে পটাশ একটু বেশি দিন
৫) ১৫ দিন পর পর গাছ দেখে ব্যবস্থা নিন (পোকা/রোগ দ্রুত ধরতে)

লেখক:

সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ

সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
কৃষি লেখক ও কথক,বাংলাদেশ বেতার
উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ, অগ্নিবার্তা।

 

বস্তায় আদা চাষা : অধিক ফলন পেতে করনীয়

কৃষি ডেস্ক ::

পেঁচা-রাতের নীরব আকাশে উড়ে চলা এক রহস্যময় পাখি। লোককথা ও কুসংস্কারে পেঁচাকে অনেক সময় অশুভ হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। প্রকৃতি ও মানুষের কল্যাণে পেঁচার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা এখনো অনেকের অজানা।

১. কৃষকের নীরব বন্ধু পেঁচা:
পেঁচা মূলত ইঁদুর, ছুঁচো, ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ছোট সরীসৃপ খেয়ে থাকে। একটি পেঁচা বছরে প্রায় ১,০০০-৩,০০০টি ইঁদুর খেতে পারে।
ফলে ধান, গম, ভুট্টা, সবজি ও গোলা ধানের ক্ষতি কমে
কীটনাশকের ব্যবহার কমে, পরিবেশ থাকে নিরাপদ কৃষকের উৎপাদন খরচ হ্রাস পায়
এই কারণেই উন্নত দেশগুলোতে পেঁচাকে বলা হয় “প্রাকৃতিক বায়োলজিক্যাল পেস্ট কন্ট্রোল এজেন্ট”।

২. পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পেঁচা:
পেঁচা খাদ্যশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ক্ষতিকর প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে তারা প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখে।
ইঁদুর অতিবৃদ্ধি রোধ, রোগবাহক প্রাণীর বিস্তার কমানো,
বন ও কৃষি পরিবেশ রক্ষায় এদের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
পেঁচা না থাকলে ইঁদুরের আধিক্যে মানবস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে।

৩. রোগ প্রতিরোধে পরোক্ষ ভূমিকা:
ইঁদুর ও ছুঁচো বহু মারাত্মক রোগের বাহক-যেমন প্লেগ, লেপ্টোস্পাইরোসিস, সালমোনেলা ইত্যাদি।
পেঁচা এসব প্রাণী খেয়ে তাদের সংখ্যা কমিয়ে মানুষকে রোগের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে।

৪. বৈজ্ঞানিক গবেষণায় পেঁচার অবদান:
পেঁচার দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণক্ষমতা অসাধারণ।
অল্প আলোতে দেখার ক্ষমতা, নিঃশব্দে উড়ার কৌশল
এই বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে গবেষণা করে—
নাইট ভিশন প্রযুক্তি
সেন্সর ও রাডার সিস্টেম
নীরব ড্রোন ও বিমান প্রযুক্তি
উন্নয়নে পেঁচা অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

৫. অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ভূমিকা:
পেঁচা থাকলে-
ইঁদুরনাশক ও কীটনাশকের খরচ কমে, ফসল নষ্ট কম হয়,
কৃষকের আয় বৃদ্ধি পায়। এ কারণে অনেক দেশে কৃষিজমিতে কৃত্রিম পেঁচার বাসা (Owl Box) স্থাপন করা হচ্ছে।

৬. কুসংস্কার নয়, সংরক্ষণ প্রয়োজন:
দুঃখজনকভাবে আমাদের সমাজে পেঁচা নিয়ে নানা কুসংস্কার রয়েছে। ফলে অনেক জায়গায় পেঁচা নিধন বা নির্যাতনের শিকার হয়।

এটি পরিবেশ ও কৃষির জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর
পেঁচা সংরক্ষণ মানেই খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা

পেঁচা কোনো অশুভ প্রাণী নয়; বরং এটি মানুষের অজান্তেই কল্যাণে নিয়োজিত এক নীরব যোদ্ধা। কৃষি, পরিবেশ, স্বাস্থ্য ও বৈজ্ঞানিক উন্নয়নে পেঁচার অবদান অনস্বীকার্য। তাই কুসংস্কার পরিহার করে পেঁচা সংরক্ষণে আমাদের সকলের সচেতন হওয়া জরুরি।
“পেঁচা বাঁচলে-কৃষি বাঁচবে, পরিবেশ বাঁচবে, মানুষ বাঁচবে।”

লেখক:

★সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী

★সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন

★কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য: দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ, অগ্নিবার্তা।

পেঁচার অজানা তথ্য : মানুষের কল্যাণে নীরব প্রহরী

ডেস্ক রিপোর্ট::
এডভোকেট আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে আজ সোমবার(১৯ জানুয়ারি) চট্রগ্রাম আদালতে তোলা হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে আবার তাঁকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এডভোকেট আলিফ হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ছিলেন পুলিশ হেফাজতে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে। বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসে একজন হিন্দু সন্ন্যাসীকে এভাবে হত্যা মামলায়  ফাঁসিয়ে দেওয়ার মতো  ঘটনা এই প্রথম।
 আজ আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী সাহসিকতার সাথে বলেন – “আমি একজন সন্ন্যাসী-প্রাণহত্যার ভয়ে মাছ-মাংসই খাই না। অথচ আমার বিরুদ্ধে দেওয়া হলো মানুষ হত্যার মামলা !”
এ কথা শুনে বিচারক কিছুক্ষণের জন্য চুপ করে রইলেন। অবশেষে বললেন আমাকে ক্ষমা করবেন মহাপ্রভু, আমি রাষ্ট্রের আদেশের ঊর্ধ্বে নয়। একজন গৃহত্যাগী নির্লোভ সন্ন্যাসী সাধককে এভাবে নির্যাতন ও সাজা দেয়ার ঘটনাকে বিশ্বের সনাতন সম্প্রদায় কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের মধ্যে আইনজীবী সাইফুলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাঁধা এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও পাঁচটি মামলা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, সাইফুল হত্যার আসামিদের মধ্যে আওয়ামীলীগ নেতা চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এতে উল্লেখ করা হয়, আইনজীবীর ঘাড়ে বঁটি দিয়ে দুটি কোপ দেন রিপন দাস, আর কিরিচ দিয়ে কোপান চন্দন দাস। পরে রাস্তায় পড়ে থাকা সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরিহিত এই আইনজীবীকে লাঠি, বাটাম, ইট, কিরিচ ও বঁটি দিয়ে তাঁরা ১৫ থেকে ২০ জন পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেন। ঘটনার উসকানিদাতা হিসেবে চিন্ময়কে এই মামলার আসামি করা হয়। কিন্তু কখন উসকানি দিয়েছে এখনো প্রমান করতে পারেনি আদালত।
২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননায় রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এ মামলায় চিন্ময় দাসকে ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন নগরীর কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আসামিরা সবাই চিন্ময়ের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
তবে জামাল উদ্দিনের করা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নাম ছিল না। ২০২৫ সালের ৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তে সম্পৃক্ততা পাবার তথ্য উল্লেখ করে চিন্ময়কে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালত গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।
চিন্ময় বাদে বাকি আসামিরা হলেন- চন্দন দাস মেথর, রিপন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাস, আমান দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাস, ওমকার দাস, বিশাল, লালা দাস, সামীর, সোহেল দাশ রানা, শিব কুমার, বিগলাল, পলাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবীচরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাস, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস, দ্বীপ দাস ও সুকান্ত দত্ত।
মামলার ৩৯ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন এখনও পলাতক আছেন। তাদের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা আছে।

আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার শুনানীতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর

কৃষি ডেস্ক ::

সুস্থ জীবনযাপনে প্রাকৃতিক পুষ্টির নির্ভরযোগ্য সঙ্গীসুস্থ থাকা এখন আর শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি পরিবার ও সমাজের সামগ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে জড়িত।

বদলে যাওয়া জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাবার ও কর্মব্যস্ততার মাঝে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এমন বাস্তবতায় অল্প পরিমাণে বেশি পুষ্টি পাওয়ার সহজ ও প্রাকৃতিক সমাধান হতে পারে বাদাম।

পুষ্টিবিদদের মতে, নিয়মিত পরিমিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। প্রোটিন, ভালো চর্বি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদানের সমন্বয়ে বাদাম এক ধরনের ‘প্রাকৃতিক শক্তিভাণ্ডার’। গ্রামবাংলার কৃষক থেকে শুরু করে শহরের কর্মজীবী মানুষ-সবার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় বাদাম সহজেই যুক্ত করা সম্ভব।

🔳চিনাবাদাম: সাশ্রয়ী কিন্তু শক্তিশালী সহজলভ্য ও স্বল্পমূল্যের হলেও চিনাবাদামের পুষ্টিগুণ মোটেও কম নয়। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও শক্তিদায়ক উপাদান, যা শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। নিয়মিত পরিমিত চিনাবাদাম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে এবং পেশি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। ডায়াবেটিস রোগীরাও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত পরিমাণে এটি খেতে পারেন।

🔳কাঠবাদাম: স্মৃতি ও সৌন্দর্যের সহায়ক কাঠবাদামকে বলা হয় মস্তিষ্কের খাবার। এতে থাকা ভিটামিন-ই ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি ত্বক উজ্জ্বল রাখে, চুল মজবুত করে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে। হাড় ও দাঁত সুস্থ রাখতেও কাঠবাদামের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

🔳কাজুবাদাম: শক্তি ও স্নায়ুর যত্নে কাজুবাদাম শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায়। এতে থাকা আয়রন রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক। চোখ ও ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি কাজুবাদাম স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা কর্মজীবী ও পরিশ্রমী মানুষের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।

🔳আখরোট: হৃদয় ও মস্তিষ্কের বন্ধু আখরোটে রয়েছে প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আখরোট খেলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমে এবং শরীরের প্রদাহজনিত সমস্যা হ্রাস পায়। তাই মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় আখরোটের গুরুত্ব অপরিসীম।

🔳পেস্তা বাদাম: সুস্বাদু ও পুষ্টিকর পেস্তা বাদাম স্বাদে যেমন ভালো, তেমনি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণে পেস্তা বাদাম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

🔳কতটা ও কীভাবে খাবেন :
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ২০-৩০ গ্রাম বা এক মুঠো বাদাম শরীরের জন্য যথেষ্ট। কাঁচা বা সারারাত ভিজিয়ে খেলে বাদামের পুষ্টিগুণ সবচেয়ে ভালোভাবে পাওয়া যায়। অতিরিক্ত লবণযুক্ত বা অতিরিক্ত ভাজা বাদাম এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

বাদাম কোনো বিলাসী খাবার নয়; এটি সুস্থ জীবনের একটি সহজ উপাদান। অল্প পরিমাণে নিয়মিত বাদাম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে শরীর থাকে সবল, মন থাকে সতেজ এবং রোগব্যাধির ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে। তাই সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য আজ থেকেই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বাদাম রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

লেখক:

★সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন★কৃষি লেখক ও কথক,বাংলাদেশ বেতার★উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠসাধারণ★সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী, ঢাকা

প্রাকৃতিক শক্তিভান্ডার বাদাম