ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পৌর শহরের জগথা মৌজায় প্রায় ২শ কোটি টাকার সরকারি ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সম্পত্তি ৪৮ বছর ধরে বেদখল রয়েছে। কর্তৃপক্ষের গড়িমশির কারণে ঐ সম্পত্তি উদ্ধার হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ সঠিক নয় দাবী উপজেলা প্রশাসনের।
জানা যায়, পীরগঞ্জ সরকারি কলেজের উত্তরে জগথা মৌজায় অলিম্পিয়া অটোমেটিক রাইস মিলের ভিতরে ৪৪৭ নং খতিয়ানে ৫৯৭নং দাগে ১৪.৯৯ একর জমির মধ্যে ৭.৯৯ একর জমি ভাকুড়া গ্রামের মৃত জমির উদ্দিন এর পুত্র ফজলার রহমানের নামে এবং ২৭নং এস.এ খতিয়ানে ৬০৩ ও ৬১১নং দাগে বিশ্বনাথ রাইস মিল নামে ৩.৮০ একর জমি এস.এ খতিয়ানে নাম রয়েছে। বিশ্বনাথ রাইস মিলের মালিক বিশ্বনাথ মারোয়ারী ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় মিল ও পিতলের ব্রয়লার ফেলে রেখে দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে উক্ত মিল ও ৩.৮০ একর জমি দিনাজপুর জেলার বাসুনিয়া পট্টির জনৈক গোপী কৃষাণ দাগা তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন শর্ত সাপেক্ষে ভাড়া নেয়। এরপর মিল সংলগ্ন ফজলার রহমানের ব্যক্তি নামীয় ২১নং এস,এ খতিয়ানের ৬.৫১ একর জমি প্রতারণা মূলক ভাবে ১৯৫৫ সালে গোপী কৃষাণ দাগা কতিপয় সরকারী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে অধিগ্রহণ করান। পরবর্তীতে গোপী কৃষাণ দাগা ভাড়ার শর্ত ভঙ্গ করে মিল ও জমি দিনাজপুরের জনৈক আজিজুল হক চৌধুরী এর নিকট দলিল মুলে বিক্রয় করেন। আজিজুল হক চৌধুরী উক্ত জমি ১৯৭৭-৭৮ইং অর্থ বছরে সরকারি কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে ঐ মিল ও জমি তার নামে খারিজ করে নেন। পরবর্তীতে বিশ্বনাথ রাইস মিলের নাম পরিবর্তন করে দি অলিম্পিয়া অটোমেটিক রাইস মিল নাম করণ করা হয়। ওই মিলের ভিতরে ২১নং এস,এ খতিয়ানের ৫৯৭নং দাগে অধিগ্রহন করা ৬.৫১ একর জমির রেকর্ডীয় মালিক মরহুম ফজলার রহমানের ছেলে সিরাজুল ইসলাম ওয়ারিশ সূত্রে মালিকানা দাবী করে গত ২০০৭ ২৫ ফেব্রুয়ারি পীরগঞ্জ ভূমি অফিসে আবেদন করেন। দীর্ঘ শুনানি ও উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে আজিজুল হক চৌধুরীর নাম খারিজটি বে-আইনী পন্থায় ও আইন সিদ্ধ না হওয়ায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) পীরগঞ্জ গত ২০০৮ সালের ৭ জানুয়ারী আজিজুল হক চৌধুরীর নামে দেওয়া উক্ত মিলের জমির খারিজটি বাতিল করে দেন। পরে তদ্বির করে আজিজুল হক চৌধুরীর লোকজন জেলা প্রশাসন থেকে তার নামে আবারো খারিজ বহাল রাখার চেষ্টা করলেও ২০১৩ সালে তা আবারো বাতিল হয়। তখন থেকেই ঐ রাইস মিলের ভিতরে থাকা ১০.৩১ একর জমির বর্তমান মালিক গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ও ফজলার রহমান। যার মূল্য প্রায় ২শ কোটি টাকা। বর্তমানে উক্ত মিল ও সরকারি সম্পত্তিতে অলিম্পিয়া অটোমেটিক রাইস মিল রয়েছে। দিনাজপুর জেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রেজা হুমায়ুন ফারুক চৌধুরী উক্ত মিল পরিচালনা করছেন। মিল চাতাল ও রাসায়নিক সারের গুদাম ছাড়াও ঐ সম্পত্তির সিংহ ভাগ জমিতে বাণিজ্যিক ভাবে বিশাল লিচু ও আম বাগান করে বছরে প্রায় কোটি টাকা মুনাফা করেন রেজা হুমায়ুন ফারুক চৌধুরী। যার উদ্ধারে সরকারী কোন উদ্যোগ নেই।
এ ব্যাপারে রেজা হুমায়ুন ফারুক চৌধুরী জানান, মিল ও জমির কাগজ পত্র তাদের নামে সঠিক আছে। কতিপয় সরকারি কর্মকর্তা বে-আইনী ভাবে তাদের খারিজটি বাতিল করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেজাউল করিম জানান, আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন