বিশেষ সংবাদদাতা:
রূপসী রাণী দে নামে এক গৃহবধূ পাষন্ড স্বামী, শশুর, শাশুড়ী ও ননদের পাশবিক নির্যাতনে অবশেষে জীবন দিয়েছেন। বিয়ের চার মাসের মাথায়ই ১৮ বছরের টগবগে যুবতী এই গৃহবধূ তার সোনালী স্বপ্নের জাল বিন্যাস্তের শুরুতেই যৌতুক নামের রাক্ষুসে থাবায় পরিবারের সদস্যের অমানুষিক অত্যাচারের বলি হন।
রুপসী রানী দে কক্সবাজার সদর থানার বিজিবি ঘৃত পল্লীর বাসিন্দা কালি শংকর দে এবং সবিতা বালা দে’র মেয়ে। গত ৩০ জুন রূপসীর সাথে একই থানার খরুশকুল ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের পূর্ব হিন্দু পাড়া নিবাসী ভরত চন্দ্র দে এবং ঝর্নাবালা দে’র ছেলে সজিব কান্তি দে’র সনাতন ধর্মীয় রীতি ণীতি অনুযায়ী সামাজিকভাবে বিয়ে হয়।
কিন্তু ঘুনাক্ষরেও কনেপক্ষ জানতে পারেনি যে, পাত্র সজিব ছিল মাদকাসক্ত। বিয়ের পর সজিবের আসল চরিত্র রূপসীর কাছে ধরা পড়ে। মাদকাসক্ত অবস্থায় প্রায়ই সজিব রূপসীর ওপর ঝাপিয়ে পড়ে অকথ্য নির্যাতন করত। রূপসী তার সোনালী স্বপ্ন আখড়ে ধরে সংসারটিকে টিকিয়ে রাখতে নীরবে নির্যাতন সহ্য করে আসছিল। মাদকাসক্ত স্বামী সজিব প্রায়ই নেশা করে এসে মাদকাসক্ত অবস্থায় স্ত্রীকে মারধর করে যৌতুকের জন্য চাপ দিত। কিন্তু রূপসীর পক্ষে তার গরীব পিতার নিকট থেকে সে আবদার মেটানো সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে সজিব, তার ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, দুই বোন ও তাদের স্বামী আর শাশুড়ি মিলে গত ০৯ নভেম্বর (সোমবার) রূপসীকে প্রচন্ড মারধর করতে থাকে। অমানুষিক নিযার্তন সহ্য করতে না পেরে এক পর্যায়ে রূপসী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে, অত্যাচারীরা মিলে নাটক সাজিয়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রূপসীর বাবার বাড়িতে খবর দিয়ে বলে, আপনাদের মেয়ে আত্মাহত্যা করেছে। এ খবর পেয়ে রূপসীর বাবার বাড়ির লোকজন আসতে আসতে তার শশুর বাড়ির লোকজন সবাই পালিয়ে যায়। রূপসীর বাবার বাড়ির লোকজন ঘরে এসে মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় বাশেঁর আড়ার সাথে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। পরে উপস্থিত পার্শ্ববর্তী লোকজনের সহায়তায় তাকে বাচাঁনোর জন্য তাড়াতাড়ি করে রশি কেটে নিচে নামানো হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক বিলম্ব হয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশে সংবাদ দেয়া হলে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ গিয়ে নারী পুলিশ ও লোকজনের সহায়তায় লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেয়। রূপসীর পরিবার গরীব হওয়ায় কারো কাছ থেকে সাহায্য ও আইনের সহায়তা পাচ্ছেন না। হতভাগ্য এ পরিবারটি প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও মানবাধিকার কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছেন।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন