কক্সবাজার প্রতিনিধি: ঈদগাঁওয়ে করোনা মহামারী ছুটিতে ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জ অফিসকে ম্যানেজ করে ঘর নির্মাণের মহোৎসব চলছে। কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ঈদগাঁও ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জ অফিসের আওতাধীন শিয়া পাড়ায় বনবিভাগকে ম্যানেজ করে পাহাড় কাটা ও জবর দখল করে বাড়ি- ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কক্সবাজার সদরে ঈদগাঁও শিয়া পাড়ায় এলাকায় পাহাড় কেটে দিনে দিনে ঘর তৈরির কাজ চলছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সরকার ইতোমধ্যে সরকারি বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু করোনা মহামারীতে সরকারী এই ছুটিকে কাজে লাগিয়ে দিনে রাতে কাজ করে সরকারী জায়গায় পাহাড় কেটে বাসস্থান তৈরি করছে কিছু দুর্বৃত্ত।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদগাঁও ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জ অফিসের আওতাধীন শিয়া পাড়ায় এলাকায় পাহাড় কেটে বসতি তৈরির কাজ চলছে ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জ অফিসকে ম্যানেজ করে। কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের সরকারি কর্মকর্তাদের নজরে না আসাতে রাত দিন চলছে এই পাহাড় ধ্বংসের কাজ। জানা যায়, সম্প্রতি বন মামলায় জামিনে এসে ঈদগাঁও ইউনিয়নের দরগাহ পাড়ার মৃত আব্দু শুক্কুরের পুত্র নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে এসব দখলবাঁজির ঘটনা ঘটছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে, অভিযুক্ত নাসির নানা ভাষায় অশোভন আচারণ করেন এবং সময় হলে দেখে নিবে বলেও হুশিয়ারি দেন সাংবাদিকদের। অবৈধভাবে পাহাড় কাটার শাস্তি হিসেবে দুই বছরের জেল বা ২ লাখ টাকা জরিমানা এবং দ্বিতীয়বার অপরাধ করার শাস্তি ১০ বছরের জেল বা অনধিক ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে। আইনে উভয় ক্ষেত্রে জেল ও জরিমানা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ এভাবে পাহাড় কাটা ও ঘর নির্মাণ চলমান থাকলে পরিবেশ বিপর্যয় ও পাহাড় ধ্বসের সম্মুখীন হবেন তারা। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, গত ১ মার্চ অবৈধভাবে পাহাড় কাটা ও ঘর নির্মাণ ভেঙে দেওয়ার নাটক করেছিল কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ঈদগাঁও ভোমরিয়াঘোনা রেঞ্জ অফিসের কিছু কর্মকর্তা।
ওই এলাকার নুর কবিরের পুত্র হামিদ ও ঈদগাঁও ইউনিয়নের দরগাহ পাড়ার মৃত আব্দু শুক্কুরের পুত্র নাসির উদ্দিন এর নেতৃত্বে শিয়া পাড়ায় পাহাড় কেটে কয়েকদিন পর পর দু’একটি ঘর নির্মাণ করছে বনবিভাগের নাকের ডগায়। এসব বাড়ি তৈরিতে অবৈধ দখলদারদের থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি চক্র। আর সে টাকার ভাগ বিট অফিসের ভিলিজার থেকে শুরু করে রেঞ্জার পর্যন্ত যায়। এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। শুধু তাই নয় তাদের নেতুত্বে ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত অবৈধভাবে বনের মাদার ট্রিসহ অন্যান্য কাঠের ব্যবসা করে। পাহাড় কেটে ঘর-বাড়ি নির্মাণে দেখা দিয়েছে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা। ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশের, বিলুপ্ত হচ্ছে পাহাড় ও বন্যপ্রাণী। কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ঈদগাঁও ভোমরিয়া ঘোনার লেঞ্জার হাফিজুর রহমান ও বিট অফিসার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা ও ঘর নির্মাণে প্রথমে একবার ভেঙে দিয়ে ছিলাম। ঘর নির্মাণ ও পাহাড় কেটে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তারা।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন