ইসলামাবাদে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্ট, বাবাকে পিটিয়ে হাড় ভেঙ্গে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা

সায়মন সরওয়ার কায়েম, কক্সবাজার
  • আপডেট সময় : Friday, May 8, 2020
  • 647 বার দেখা হয়েছে

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা ও তার বাবাকে পিটিয়ে হাড় ভেঙে দিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। ৭ মে (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটেছে ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড টেকপাড়া গ্রামে।

আহতরা হলেন, একই এলাকার আহমদ নবীর ছেলের নুরুল আমিন (৩০) ও তার বাবা আহমদ নবী(৫৫)। এ ঘটনায় মামলা মোকাদ্দমা করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। এ নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীন ভুগছে আহতদের পরিবার।

আহতদের স্বজনরা জানান, গত ৩ দিন আগে আহমদ নবীদের বাড়িতে ধান কাটার জন্য কয়েকজন শ্রমিক বাড়িতে আনে। ধান কাটার এক পর্যায়ে একই এলাকার মৃত নুরুল আমিনের ছেলে মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি তাদের ধান কাটার জন্য ওই শ্রমিকদের অগ্রীম নিয়োগ দিতে তাদের সাথে কথাবার্তা বলেন। আহমদ নবীদের ধান কাটা শেষ হলে, মিজানের বাড়ির ধান কাটার কথা হয় শ্রমিকদের। এমন কি তাদেরকে অগ্রীম টাকাও দেয় মিজান। এমন সময়ে ওই শ্রমিকরা কৌশলে আহমদ নবীর বাড়ি থেকে চলে যায়। তাদের চলে যাওয়ার পিছনে আহত ব্যবসায়ী নুরুল আমিনের যোগসাজশ রয়েছে মনে করে মিজানুর রহমান। ঘটনার দিন সকালে এলাকায় তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তাকে গালিগালাজ করে। তাৎক্ষণিক সে গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে উপর্যপুরী মারধর করে বাড়িতে চলে যায়। পরে ২য় দফায় মিজানের নেতৃত্বে তার ভাই আয়াতুল্লাহ, মালেক, একরাম, খালেকসহ আরো কয়েকজন চিহ্নিত দুর্বৃত্ত এসে হত্যার উদ্দ্যেশে লোহার রড, হাতুড়ি, কিরিচ দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে ফেলে রাখে। পরে তার শোর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে আসলে তার বাবা আহমদ নবীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে আহত করে। নুরুল আমিনের আরেক ভাই রুহুল আমিনকেও মারধর করে ওই সন্ত্রাসীরা। পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নুর ছিদ্দিক এগিয়ে আসলে সটকে পড়ে হামলাকারীরা।

স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত নুরুল আমিন ও তার বাবাকে উদ্ধার করে ঈদগাঁওয়ে দু’টি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে আসলে নুরুল আমিনের অবস্থা আশংকা জনক অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। নদরুল আমিন বর্তমানে সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আহমদ নবীকে ঈদগাঁও একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মিজানুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে উল্টো এ প্রতিবেদককে হুমকি দিয়ে এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে সংবাদ না করলে দেখে নেওয়া হুংকার দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওই এলাকার বাসিন্দা নুর ছিদ্দিক জানান, ঘটনা হয়েছে সত্য, তবে কি কারণে, কেন ঘটনা হয়েছে কোন পক্ষ তাকে অবগত করেনি। ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, খবর পেয়েছি, আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। মামলা বা অভিযোগ করলে তদন্ত পূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ