ডেস্ক রিপোর্ট:
★★★ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণে খোলা চিঠি ★★★
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে দেশের ১৮ কোটি মানুষের শতকরা ৬০জন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত জনগনের পক্ষ থেকে জানাই অকৃত্রিম শ্রদ্ধাঞ্জলী।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,বিশ্ববরেণ্য অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র সুযোগ্য কণ্যা ও উওরসূরী হিসেবে শক্ত হাতে তাঁর আদর্শের নৌকায় বয়ে দেশকে নিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন উন্নয়নের সিঁড়িতে। এমনি সময়ে করোনাভাইরাস নামক রাসায়নিক মারনাস্ত্রের তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মুখোমুখি হয়ে আপনাকে এক কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ন হতে হচ্ছে দেশের আপামর জনতাকে সাথে নিয়ে।
প্রানপ্রিয় জননেত্রী,আপনি যে মূহুর্তে এ কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি, ঠিক তখনই কর্মহীন অভূক্ত মানুষের মাঝে দেয়ার জন্য আপনার বদান্যতায় বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী দেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা-পাতিনেতারা ভাগবাটোয়ারা করে যে যেমন পারছে লুটপাট আর গুদামজাত করছে। খাদ্যাভাবে হাহাকার করছে দেশের অগনিত কর্মহীন দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাস করা নিম্নবিত্ত সহ মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। তাই বাধ্য হয়ে তারা খাদ্য আর কাজের অন্বেষণে দলে দলে বেরিয়ে পড়ছে রাস্তাঘাট,অলিগলিতে। জীবিকার প্রয়োজনে লকডাউনের কঠোর নীতিমালাও যেন তাদের কাছে তুচ্ছে মনে হচ্ছে। ক্ষুধার যন্ত্রনায় পারছে না গৃহবন্দী থাকতে, অপরদিকে পুলিশ ও উৎসুকি লাঠিধারী পাবলিকের লাঠিপেটা খেয়ে রাস্তাঘাটে গড়াগরি করতে হচ্ছে কাজের সন্ধানে বাড়ির বাহিরে বেরোনো অভাবী মানুষগুলোকে। আর এ জন্যে দ্বায়ী মূলত: ত্রাণ আত্মসাতকারী ওইসব ণীতি-রীতি লঙ্ঘনকারী দূর্নীতিপরায়ন কথিত নেতারাই। তারা শুধু আপনার বদান্যতাকেই পদদলিত করেননি, দেশের আঠারো কোটি মানুষের সাথেও চরম বেঈমানী করেছেন।
মাদার অব হিউম্যানিটি,এ বাংলার শতভাগ মানুষ জানে, প্রশাসন ও ণীতিমালায় আপনি যতটা কঠোর; মাতৃ-মমতায় আপনি ততটাই স্নেহকাতর। আর তাই এ সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে রাতারাতি ফুলে-ফেঁপে উঠছে একদল নেতা-পাতিনেতা। আমার ব্যক্তিগত দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি- ওঁরা আ’লীগের ব্যানারে অবস্থান করলেও মূলত: বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কেউ নন। তারা আ’লীগ নেতাদের বিভিন্ন কৌশলে ম্যানেজ করে হাইব্রিড হয়ে অনেক শক্ত অবস্থানে আশ্রয় নিয়েছেন এই আদর্শের পতাকাতলে। এরাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধ্বংসের চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে।
মাননীয়প্রধানমন্ত্রী, আপনার সরকার দূর্যোগ মোকাবেলা কর্মসূচী হাতে নিয়ে প্রনোদনা খাতে ৭২ হাজার ৭শ’ ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। কিন্তু যে হারে সরকারি বরাদ্দ চুরি হচ্ছে তা যথারীতি উদ্বেগজনক। আমি স্বাধীনতাযুদ্ধ করিনি। যুদ্ধজ্ঞান তখনো হয়নি। তবুও পরিবারের সাথে পালাতে গিয়ে দেখেছি, গ্রামময় জ্বালিয়ে দেয়া অগ্নিকুন্ডের প্রজ্জ্বলিত উর্দ্ধমুখি লেলিহান শিখা। আজও মনেপ্রানে সেই স্মৃতি উদ্ভাসিত। সেই অমর স্মৃতির সাথেই মিশে আছে জাতির জনকের আদর্শ। সেই আদর্শকে লালন করেই পরগাছাদের হাতে পরাজিত হয়ে সোনার হরিণ নামক সরকারি চাকরিটাকেও অকালে বিসর্জন দিয়ে এখন আবারো কঠিন মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের মুখোমুখি হয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন অকুতোভয় সৈনিক হিসেবে গর্বের সাথে প্রস্তাব রাখছি-
১. দেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৪০% (৭ কোটি ২০ লক্ষ) সচ্ছল। তাদের মধ্যে অধিকাংশের বিভিন্ন দেশে 2nd Home রয়েছে। রয়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগ। বাকী যারা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, উর্ধতন কর্মকর্তা, যাদের ঘরে রয়েছে অন্তত ৬ মাসের খাবার মজুদ। তাদের আপতত: প্রনোদনা কিংবা সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।
২. অবশিষ্ট ৬০% মানুষ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের শ্রেনিভূক্ত। এরা বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতিতে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় দিন পার করছে। একজন সংবাদকর্মী ও তৃনমূল স্তরে অবস্থানের কারনে এটা আমার ব্যক্তিগত বাস্তব অভিজ্ঞতা। এই শ্রেণির মানুষের মধ্যে খাদ্য সহায়তা প্রদানে আমি নিম্নরূপ বিভাজনের প্রস্তাবনা উপস্থান করছি-
সরকারের প্রনোদনা ৭২,৭৫০ কোটি টাকা থেকে যদি-মাত্র ১৬,২০০কোটি টাক ১৮ কোটি জনগনের ৬০% মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির ১০কোটি ৮০লক্ষ মানুষের মাঝে এভাবে বন্টন করা হয়:
প্রতি পরিবারের সদস্য সংখ্যা গড়ে ৪ জন ধরা হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মোট পরিবারের সংখ্যা (১০,৮০,০০,০০০/৪)=২ কোটি ৭০ লক্ষ
প্রত্যেক পরিবারের ১ মাসের খোরাক বাবদ ধার্য******************************************
৮০ কেজি চাল = ৩২০০ টাকা৫ কেজি ডাল = ৩০০ টাকা৩ কেজি তেল= ২৪০ টাকা১৫ কেজি আলু= ৩০০ টাকা৩ কেজি পিয়াজ= ১২০ টাকা মাছ,সবজি,মসলাঔষধ ইত্যাদি বাবদনগদ প্রদান = ১৮৪০ টাকা ___________________________ সর্বমোট = ৬,০০০/- টাকা
২ কোটি ৭০ লক্ষ পরিবার x ৬০০০ টাকা= ১৬,২০০ কোটি টাকা খরচ হবে।[রয়ে যাবে আরো ৫৬ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা যা দিয়ে অন্য সেক্টর গুলো সামলানো যাবে।]
৩. প্রত্যেক পরিবারের ১ মাসের খোরাক দিয়ে সমস্ত বাংলাদেশ ৩০ দিনের জন্য লক ডাউন করে দেন।কোন নেতা-পাতি নেতাকে এই দায়িত্ব না দিয়ে সেনা,নৌ,পুলিশ,বর্ডার গার্ড, র্যাব এদের সহায়তায় মাননীয় মেয়র ও সংসদ সদস্যগনের মাধ্যমে ত্রাণ বিতরনের ব্যবস্থা নিন।
৩০ দিন বাংলাদেশকে গৃহবন্দি রাখেন দেশকে ৩০ বছর পিছিয়ে পড়া থেকে বাঁচান।
বিনয়াবনত-
পি.সি মজুমদার শিশির
(সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী)
সম্পাদক ও প্রকাশক
অনুসন্ধান টিভি নিউজ
মোবা: ০১৭১৫৮৫১৪৯১
web-www.atvbd.news
[বিঃদ্রঃ জনস্বার্থে শেয়ার করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর করতে সহায়তা করুন]😍

আপনার মতামত কমেন্টস করুন