শিরোনাম :
নির্মাণের ৩৮ বছরেও সংস্কার হয়নি ভোলা বাস টার্মিনাল পরিত্যক্ত ভবন-টিনশেডে পাঠদান : ঝুঁকিতে তজুমদ্দিনের ৭৬ শিক্ষার্থী ভোলা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কার্যালয়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ভোলায় এসএসসিতে পাসের হার ৫৩.৭১ শতাংশ : ফলাফলে মেয়েরা এগিয়ে ১৮ ফুট পর্যন্ত ঢেউ, ৩ নম্বর সংকেত : সমুদ্রে না যাওয়ার আহ্বান কোস্ট গার্ডের চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করল বাংলাদেশ ব্যাংক কপিরাইট রেজিস্ট্রারকে ‘বাংলার আধ্যাত্মিক রত্ন সম্ভার’ গ্রন্থ উপহার বিপিএফ’র সভাপতির সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় বোরহানউদ্দিনে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ : ৫ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৩ হেল্পস্টার চ্যারিটি অর্গানাইজেশন’র উদ্যোগে কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

নির্মাণের ৩৮ বছরেও সংস্কার হয়নি ভোলা বাস টার্মিনাল

প্রতিম গাঙ্গুলী
  • আপডেট সময় : Sunday, August 16, 2026
  • 6 বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

নির্মাণের ৩৮ বছর পেরিয়ে গেলেও সংস্কারের মুখ দেখেনি ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনাল। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বাস টার্মিনালটি এখন জরাজীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টার্মিনালের ভেতরের সড়ক জুড়ে বড় বড় খানাখন্দ। বৃষ্টি হলে সেসব গর্তে পানি ও কাদা জমে সৃষ্টি হয় চরম দুর্ভোগ। নেই যাত্রী ছাউনি, পাবলিক টয়লেট কিংবা বাস শ্রমিকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা।

অথচ প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার যাত্রী এই টার্মিনাল ব্যবহার করেন। পাঁচটি রুটে চলাচল করে শতাধিক বাস। বিকল্প কোনো বাস টার্মিনাল না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এই জরাজীর্ণ টার্মিনাল ব্যবহার করছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনালটি নির্মাণ করা হয়। ১৯৯৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এখান থেকে বাস চলাচল শুরু হয়। এরপর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও টার্মিনালটির উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, টার্মিনালের ভেতরের সড়ক ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে পুরো টার্মিনাল কাদায় পরিণত হয়। কাদা ও পানির কারণে হেঁটে চলাচল করাই কঠিন হয়ে পড়ে। বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীদের কাপড়চোপড় নষ্ট হচ্ছে।

টার্মিনালের চারপাশের বাউন্ডারি দেয়ালও বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। কোথাও কোথাও দেয়ালের অবস্থা এতটাই নাজুক যে যেকোনো সময় ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে যাওয়ায় রাতের বেলায় বাসের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন মালিক ও শ্রমিকরা। তাঁদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় বাসের যন্ত্রাংশ এবং তেল-মবিল চুরির ঘটনাও ঘটছে।

টার্মিনালে নেই কোনো যাত্রী ছাউনি। ফলে টিকিট কাটার পরও যাত্রীদের সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। রোদ-বৃষ্টি কিংবা ঝড় কোনো পরিস্থিতিতেই তাদের আশ্রয় নেয়ার ব্যবস্থা নেই।

যাত্রী মো: আ: রহিম, বাদশা মিয়া, ছেলামত ও মো: আরিফুর রহমান বলেন, ভোলা সদর থেকে অন্য উপজেলায় যাতায়াত করতে হলে এই টার্মিনাল দিয়েই যেতে হয়। কিন্তু টিকিট কাটার পর রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এখানে কোনো যাত্রী ছাউনি নেই। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় যাই হোক, যাত্রীদের আশ্রয় নেয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই।

তারা আরো বলেন, ‘সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক। কখন কোন বাস এসে ধাক্কা দেয়, সেই আতঙ্কের মধ্যেই থাকতে হয়। এখানে ভালো খাবারের হোটেলও নেই। আমরা চাই দ্রুত টার্মিনালটি আধুনিক বাস টার্মিনালে রূপান্তর করা হোক।

নারী যাত্রী কুলছুম বেগম, আছিয়া ও উম্মে ছালমা আক্তার বলেন, এই টার্মিনালে নারীদের জন্য কোনো নিরাপত্তা বা সুযোগ-সুবিধা নেই। শিশুদের নিয়ে রাস্তয় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানে কোনো পাবলিক টয়লেট নেই। এতে নারী যাত্রীদের চরম সমস্যায় পড়তে হয়।

তারা দ্রুত টার্মিনালে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক আধুনিক টয়লেট নির্মাণ এবং যাত্রী ছাউনি করার দাবি জানায়।

বাসচালক মো: সুমন, মো: ইলিয়াস ও মো: শামিম হোসেন জানান, টার্মিনালের ভাঙা সড়ক ও বড় বড় খানাখন্দের কারণে বাস প্রবেশ ও বের করতে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

তারা বলেন, যেকোনো সময় বাস উল্টে যেতে পারে। গর্তে চাকা পড়লে বাসের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে মালিকদেরও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে।

বাস স্টাফ মতিন মিয়া বলেন, ‘নাজিউর রহমান (সংসদ সদস্য) থাকার সময় টার্মিনালটি তৈরি হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত বড় কোনো সংস্কার হয়নি।

আরেক বাস স্টাফ শহিদুল বলেন, ‘সারাদিন যাত্রী পরিবহন করে এখানে বিশ্রাম নেয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। গোসল করার জন্যও কোনো বাথরুম নেই। যাত্রীদের জন্যও কোনো টয়লেট নেই।’

স্থানীয়রা জানায়, অন্যান্য সময়ের চেয়ে বর্ষা মৌসুমে টার্মিনালের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বৃষ্টি হলেই পানি ও কাদায় টার্মিনাল একাকার হয়ে যায়। ফলে যাত্রীদের কাদা মাড়িয়ে বাসে উঠতে হয়।

এতে একদিকে যেমন যাত্রীদের পোশাক নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পিচ্ছিল সড়কে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার আশঙ্কাও থাকছে।

ভোলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বাচ্চু মোল্লা বলেন, ‘বাস মালিক সমিতির পক্ষ থেকে একাধিকবার ভোলা পৌরসভাকে টার্মিনালটি সংস্কার ও পুনর্র্নিমাণের জন্য তাগাদা দেয়া হয়েছে। কিন্তু এতদিনেও দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘এই বর্ষা মৌসুমেও টার্মিনালটির বেহাল অবস্থা আরো প্রকট হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র এটি। তাই দ্রুত টার্মিনালটি আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন।’

ভোলা পৌর প্রশাসক বেল্লাল হোসেন বলেন, ‘আধুনিক বাস টার্মিনাল তৈরির লক্ষ্যে লিখিত প্রস্তাব প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে সেটি মন্ত্রণালয় পর্যায়ে রয়েছে। ভোলা পৌরসভা, মাননীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে আমাদের কাজ অব্যাহত আছে। আমরা খুবই আশাবাদী, দ্রুত এর সংস্কারের কাজ শুরু হবে।’

ভোলা জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগের প্রধান কেন্দ্র বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস টার্মিনাল। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি দীর্ঘদিন সংস্কারহীন থাকায় জনদুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, শুধু খানাখন্দ মেরামত নয় পুরো টার্মিনালটি আধুনিকভাবে পুন:নির্মাণ করতে হবে। যাত্রী ছাউনি, নারী-পুরুষের পৃথক পাবলিক টয়লেট, বাস শ্রমিকদের বিশ্রাম ও গোসলের ব্যবস্থা, নিরাপত্তা দেয়াল এবং পর্যাপ্ত আলোকসজ্জাসহ আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

তাদের প্রত্যাশা, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দ্রুত পাওয়া গেলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন ভোলার হাজার হাজার যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিক।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ভোলায় এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। জেলায় মোট ১৪ হাজার ১৯৬ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৭ হাজার ৬২৫ জন।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের দিক থেকে এবারও ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৩ হাজার ৪৫৯ জন এবং ছাত্রী ৪ হাজার ১৫৬ জন। অর্থাৎ মোট উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি।

জেলায় এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৪০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ১৫৭ জন এবং ছাত্রী ১৮৩ জন। জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে।

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ভোলায় মোট ২২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ফল প্রকাশের পর জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তবে সামগ্রিক পাসের হার প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়ায় কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হতাশাও দেখা গেছে। বিশেষ করে গত বছরের তুলনায় এবারের ফলাফলে ভোলায় পাসের হার কমেছে, ফলে সার্বিক ফলাফল নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে ভাবনার জায়গা তৈরি হয়েছে।

ফলাফলের পরিসংখ্যান বলছে, সংখ্যার বিচারে শুধু পাসের হারেই নয়, জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে। ফলে জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষায় মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্যের বিষয়টি এবারও স্পষ্ট হয়েছে।

তবে জেলার সামগ্রিক পাসের হার ৫৩ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমে আসায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নে বিদ্যালয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ, দুর্বলতার কারণ চিহ্নিতকরণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলায় এসএসসিতে পাসের হার ৫৩.৭১ শতাংশ : ফলাফলে মেয়েরা এগিয়ে

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

সম্প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর কপিরাইট রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত সচিব) এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র সহকারী সচিব মহোদয়ের হাতে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) প্রকাশিত গ্রন্থ ‘বাংলার আধ্যাত্মিক রত্ন সম্ভার-২০ জন মহান আউলিয়ার জীবন ও সাধনা’ সৌজন্য উপহার হিসেবে তুলে দেন বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের (BPF) এর সভাপতি বিশিষ্ট লেখকড.  সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ।

এ সময় তিনি গ্রন্থটির প্রকাশনার উদ্দেশ্য, বাংলার আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মহান আউলিয়াদের জীবনাদর্শ তুলে ধরার গুরুত্ব সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। কপিরাইট রেজিস্ট্রার ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার গ্রন্থটি গ্রহণ করে এর প্রকাশনা উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং লেখকের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

কপিরাইট রেজিস্ট্রারকে ‘বাংলার আধ্যাত্মিক রত্ন সম্ভার’ গ্রন্থ উপহার বিপিএফ’র সভাপতির

অনুসন্ধান ডেস্ক ::

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিশিষ্ট লেখক সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ জাতীয় মাসিক পত্রিকা অগ্নিবার্তা-এর সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা, সিনিয়র সাংবাদিক সমাজ বিশ্লেষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নাহ এবং দৈনিক আমাদের কণ্ঠ পত্রিকার বার্তা সম্পাদক সিনিয়র সাংবাদিক মো. ইউসুফ আলী’র সঙ্গে ৪ আগষ্ট সন্ধ্যায় সালিমাবাদ ভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।

সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সমসাময়িক সামাজিক, সাংস্কৃতিক, গণমাধ্যম এবং জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের হাতে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) প্রকাশিত তাঁর রচিত গ্রন্থ “বাংলার আধ্যাত্মিক রত্নসম্ভার” তুলে দেন।
গ্রন্থটিতে বাংলার ২০ জন মহান আউলিয়ার জীবন, কর্ম, সাধনা এবং সমাজে তাঁদের অবদানের ওপর তথ্যবহুল ও গবেষণাধর্মী আলোচনা স্থান পেয়েছে।

বইটি ইতোমধ্যে পাঠকমহলে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ গ্রন্থটির বিষয়বস্তু ও প্রকাশনার প্রশংসা করেন এবং আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, ইতিহাস ও মূল্যবোধভিত্তিক এ ধরনের প্রকাশনা সমাজে ইতিবাচক চেতনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।

শেষে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও মতবিনিময় হয়। পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষ হয়।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের সভাপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। বাকি দুই অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কাচিয়া ইউনিয়নের পদ্মামনসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার পরিচয় আইনি কারণে প্রকাশ করা হলো না।

মামলার বাদী ভুক্তভোগীর ভাই। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে যাতায়াতের পথে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও বিভিন্ন ধরনের কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। গত ২৬ জুলাই দুপুরে স্কুলের টিফিন বিরতির সময় বাড়িতে খাবার খেতে যাওয়ার পথে জরুরি কথা বলার কথা বলে একজন অভিযুক্ত তাকে পাশের একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়।

এজাহারে আরও বলা হয়, সেখানে আগে থেকেই আরও চারজন অবস্থান করছিল। ভুক্তভোগী চিৎকার করার চেষ্টা করলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনাকালে একজন তার মুখ চেপে ধরে এবং অন্যরা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের একজন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায় ওই শিক্ষার্থী। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা করা হয়।

মামলায় ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী পাঁচ কিশোরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা সবাই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের পদ্মামনসা এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানায়, মামলার পর অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে। অপর দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বোরহানউদ্দিন থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্তরা সবাই অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত শিশু আইন অনুযায়ী বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

বোরহানউদ্দিনে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ : ৫ কিশোরের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ৩

স্টাফ রিপোর্টার ::
বরিশালে বিভিন্ন স্থানে হেল্পস্টার চ্যারিটি অর্গানাইজেশন এর উদ্যোগে কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৬ আগষ্ট বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টার সময় বরিশালের সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের ভাঙ্গার পার, তালতলী বাজার ও একই দিন বিকাল ৫ টার সময় নগরীর পলাশপুরের ৭ নং রোডের মেহেদি মেডিকেলের সম্মুখে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। হেল্পস্টার ই ইউ এর আর্থিক সহযোগিতায় বরিশালের জর্ডন রোডে একমাত্র আল-আকসা হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ০ থেকে ২১ বছর পর্যন্ত রোগীদের নিরাময়যোগ্য অপারেশন ও চিকিৎসা সম্পুর্ন বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। সচেতনতা মুলক সভায় বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করেন সিনিয়র প্রতিনিধি মেঘ লাল রায়। অনুষ্ঠানে অপর প্রতিনিধি মোঃ আনোয়ার হোসেন আনুর সার্বিক পরিচালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালী মডেল থানার এস আই রুমা, সমাজসেবিকা শামীমা নাসরিন পুতুল, পল্লী চিকিৎসক মেরাজসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

হেল্পস্টার চ্যারিটি অর্গানাইজেশন’র উদ্যোগে কমিউনিটি স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত