লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি []
লক্ষ্মীপুরের রামগতির চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের চিহিৃত ভূমিদস্যু, অগ্নিসংযোগকারী, মামলাবাজ মিজানের ত্রাসের রাজত্বে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।
নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, অদৃশ্য শক্তির কারণে তার এ সকল অপকর্মের বিরুদ্ধে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে, ইউনিয়ন পরিষদ, থানায় অভিযোগ করেও প্রতিকার পাচ্ছেনা ভূক্তভোগীরা। ভূমিদস্যু মিজান চর আলগী ইউনিয়নের কামাল উদ্দিনের ছেলে আলতাফ, মোমিন উল্যার ছেলে আ: হাই, ফজল হক মেম্বারের ছেলে সোহরাব, জাহের মাঝি, নুর ইসলাম, গিয়াস উদ্দিন, রহমান সহ ১৫/২০ জনের অপরাধী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে। যাদের কাজ মূলত মানুষের জমি দখল, অন্যের যায়গায় জোর করে বাড়ী নির্মাণ, চুরি, ডাকাতি, লুন্ঠন, মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানী করা।
স্থানীয়রা জানায়, গত ৭/৮ বছর আগে এ এলাকায় এসে বসতি শুরু করে মিজান। এরপর থেকে রুহুল আমিন হাওলাদারের ছেলে মিজান এলাকায় চুরি, ডাকাতি, ভূমি জবরদখল, রাতের অন্ধকারে মানুষের বাড়ী ঘরে অগ্নিসংযোগ, ডাকাতি, হামলা, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করতে শুরু করে এলাকার সাধারণ মানুষকে।
ভূক্তভোগীরা জানায়, গত কিছুদিন আগে জোরদার মিজান তার বাহিনী সহ রিয়াজের বিধবা স্ত্রীকে তার বসত ভিটা থেকে উচ্ছেদের মানসে রাতের অন্ধকারে তার ঘরে প্রবেশ করে তাকে বেদম মারধর করে এবং ঘর দুয়ার ভাংচুর করে ব্যাপক তান্ডব চালায়। তার ঘরে অগ্নিসংযোগ করে চলে যাবার সময় তার একটি গরু ও দুটি ছাগল নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বৃদ্ধা বাদী হয়ে মিজান সহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করলেও এ দাগী অপরাধীরা ক্ষমতার জোরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পরোয়ানা থাকার পরও অদৃশ্য কারণে তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে না।
সন্ত্রাসী মিজান একই এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে বাবুলের কাছ থেকে বাড়ী করার জন্য জমি দিবে মর্মে মুচলেকা দিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা নেয়। বছর তিনেক হলেও যা অদ্যবধি ফেরৎ দেয় নাই মিজান উল্টো তাদের নানান ধরনের হুমকি ধমকি সে দেয় ।
তার নির্যাতনের শিকার আরেক ভূক্তভোগী নুর ইসলামের ছেলে আবদুল্যাহ ১০ গন্ডা জমি কিনে বসবাস করছিলেন তারা। সে জমির দিকে লুলুপ দৃষ্টি পড়ে মিজান গংদের। এক পর্যায়ে তাদের উচ্ছেদের লক্ষ্যে বাড়ী ঘরে হামলা ও বেশ কয়েকটি মিথ্যা মামলায় জড়ায় তাদের।
মনির উদ্দিনের স্ত্রী রাশেদা বেগম তার ভোগ দখলীয় বৈধ জমির দুইবার নামজারী হয়েছে তাই এই জমির মালিক তারা নয় এই বলে সে তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করতে নানান ধরনের নির্যাতন শুরু করে। বর্তমানে তার জ্বালায় তারা অতিষ্ঠ বলে জানায়।
একই এলাকার আলী আহাম্মদের ছেলে নুরুল আমিন জানায়,তার ভোগ দখলীয় বৈধ মৌরশী সম্পত্তি নানান ছুতোয় মামলাবাজ মিজান দখল করতে চায়।
মিজানের নির্যাতনের সবচেয়ে বড় শিকার এলাকার প্রতিবাদী যুবক গিয়াস উদ্দিন কোম্পানী। তার বৈধ সম্পত্তি ভোগ দখল করার জন্য গত ১২ এপ্রিল বুধবার দুপুরে বাড়ীর সামনে মসজিদে নামাজ পড়ে বের হবার পর মিজান তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে হামলা চালায় গিয়াসের উপর। এ সময় তাকে বেদম মারধর করে তারা। একই দিন গভীর রাতে মিজান তার অন্যতম সহযোগী আলতাফ, সোহরাব, জাহের মাঝি সহ আরো ৭/৮ জন সহ ধারালো ছেনি দিয়ে দরজা কেটে ঘরে ঢুকে গিয়াস ও তার স্ত্রী রৌশনারাকে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এক পর্যায়ে তাদের হাত পা বেঁধে ঘরের আলমিরা থেকে ৭লক্ষ টাকা ও ৭ ভরি স্বর্ণ লুটে নিয়ে যায় তারা। পার্শ্ববর্তী ঘরের জামাল উদ্দিনের ছেলে সোহেল, অজিউল্যার ছেলে বেলাল সহ বাড়ীর আশপাশের লোকজন গিয়াসের পরিবারের লোকজনের শোরচিৎকার শুনে ছুটে এসে তারা ৯৯৯ এ কল করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গিয়াস ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কপ্লেক্সের ৩১ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় রৌশনারা বাদী হয়ে মিজান ও তার সঙ্গীয়দের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করে।
দস্যু মিজানের এহেন অপকর্মের বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন হাওলাদার বলেন, আসলে ছেলেটা এ ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত। আমরা পরিষদে কয়েকবার তার এসব কর্মকান্ডের শালিশ করেছি কিন্তু সে আদালতে গিয়ে মানুষের নামে মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করে।
এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ মো: আলমগীর হোসেন জানান, কেউ অপরাধ বা অন্যায়, জুলুম করে পার পাবার সুযোগ নেই। যত বড় ক্ষমতাশালী হোকনা কেন তাকে আইনের আওতায় আসতে হবে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। এলাকায় শান্তি শৃংখলা রক্সায় আমাদের নজরদারী রয়েছে।
সচেতন সমাজ, উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত করে চিহিৃত ভূমিদস্যু, অগ্নিসংযোগকারী, মামলাবাজ মিজানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করে।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন