কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন থেকে জেলা শহরে যাওয়ার রেল লাইনটি এখন মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন থেকে কিশোরগঞ্জ যাওয়ার পথে ভৈরব আউটার পার হয়ে ভৈরব-লক্ষীপুরের ওপর দিয়ে যাওয়া রেল লাইনের বিভিন্ন স্থানে লাইনের সংযোগগুলোতে নাটবল্টু নেই।
ভৈরব-লক্ষীপুরের জন সাধারণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গেলে ক্যামেরায় উঠে আসে এমনই কিছু ভয়ানক তথ্যচিত্র।
ভৈরব-লক্ষীপুর স্থানীয় লোকজন আরো জানান এই লাইন দিয়ে গাড়ি গুলোতে খুবই বিপদজনক ভাবে আসা-যাওয়া করতে হয়। কিশোরগঞ্জ লাইনে মাঝেমধ্যে রেল লাইন চুত্য হওয়ার ঘটনা ঘটে, তার পরেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিচ্ছে না কোনো বিশেষ উদ্যোগ।
রেলওয়ে লাইনের এই জোড়া গুলো মেরামত হচ্ছে না কেন এই বিষয়ে জানতে চাইলে ভৈরব কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে লাইনের দায়িত্বে থাকা উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী পিডব্লিউ মোঃ আনিসুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছু জানিনা আমার কাছে এ পর্যন্ত কোন রিপোর্ট আসেনি।
তিনি আরো জানান, লাইন পরিদর্শন করে পয়েন্ট জোড়া রেল লাইনের দেখার দায়িত্বে রয়েছেন কিছু কর্মচারী উনারা রেল লাইন গুলো দেখে আমাদেরকে অবগত করলে আমরা তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করি।
জন সাধারণের অভিযোগ নাট বল্টু নেই ২০ দিনেরও বেশি হয়ে গেছে কিন্তু যারা রেল লাইনে দায়িত্ব আছেন তাদের কাছে কোন রিপোর্ট নেই।
দায়িত্ব থাকা রেল লাইন পরিদর্শন কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে হাজারো জীবন। এমন আশংকার মধ্যেই এ রুটে এখন চলছে রেলযাত্রীদের আসা-যাওয়া।
গত ২৪ নভেম্বরে BBC news বাংলার একটি প্রতিবেদনে ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ৮৬৮টি ট্রেন দুর্ঘটনার চিত্র উঠে এসেছে।
জনসাধারন রেলপথ কে নিরাপদ হিসেবে বেছে নিয়েছে; কিন্তু অবহেলিত রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে কাছে রেল পথ এখন নিরাপদ নয়।
সরকারি চাকরি যেন ‘সোনার হরিণ’, ছোট বেলা থেকে শুনতে শুনতে বড় হয়েছেন অনেকেই এবং সরকারি চাকরির জন্য বিক্রি করেছেন বাপ-দাদার জমাজমি এমন উদাহরণও রয়েছে ঢের। কাজ না করে বেতন পাবার জন্যই ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয়া হয়েছে এমন উক্তির প্রচলন হয়েছে এখন ভৈরববাসীর মধ্যে। আর এ কারণেই কিশোরগঞ্জ রেললাইন পরিদর্শন কর্মচারীদের ২০দিনের কোনো কাজের রিপোর্ট উদ্ধতর্ন কর্মকর্তার কাছে না থাকলেও জনসাধারণের কাছে আছে রেললাইনে নাটবল্টু না থাকার রিপোর্ট।
যেকোনো সময় লাইন চ্যুত হয়ে ঘটতে পারে মারাত্মক দূর্ঘটনা। হাজারো জীবনের ঝুকি নিয়ে পাড়ি দিচ্ছে কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ গামী ট্রেন গুলো। ট্রেনকে নিরাপদ ভেবেই যাত্রীরা ঝাপিয়ে পড়েন টিকেট কাউন্টারে নিরাপদে পৌঁছানোর জন্য।
রেল মন্ত্রীসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জনসাধারণ দ্রুত রেল লাইনের সমস্যাগুলো নিরসনের আবেদন জানাচ্ছেন।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন