ডেস্ক রিপোর্ট★ চট্টগ্রামের শীতাকুন্ড উপজেলার ৭নং কুমিরা ইউনিয়নের বড় কুমিরা জেলে পাড়া গ্রামের জেলে তান সেনের ছেলে বিজয় সেন। ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে বিবিসি স্টিল নামক একটি শিপ ইয়ার্ডের লোহা বোঝাই ট্রাকের সাথে সে এক্সিডেন্ট করে। সুচিকিৎসার্থে তখন বিজয়ের দুটি পা কেটে ফেলতে হয়। বিবিসি স্টিল শিপইয়ার্ডের মালিক রাজা কাসেম বিজয়ের চিকিৎসার জন্য প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেন।
কিন্তু এলাকাবাসী বিজয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে কিছু একটা করার দাবি জানালে বিবিসি স্টিল শিপইয়ার্ডে জেলে প্রতিনিধি ও শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক হয়। সে বৈঠকে স্থানীয় রাজনীতিকরাও উপস্থিত ছিলেন। সেদিন বৈঠকে রাজা কাশেম জেলেদের প্রতিশ্রুতি দেন এই সড়কে যে আটটি শিপইয়ার্ডের মালামাল বহন করা হয়ে থাকে সেগুলো থেকে এক লক্ষ করে মোট ৮ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করে শিশুটির ভবিষ্যতের জন্য দেয়া হবে। এই আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তখন জেলেরা শান্ত হয়।
দুঃখজনক হলেও সত্য, ওই ঘটনার পর দীর্ঘ ৮ বছর পেরুলেও আজ অব্দি প্রতিশ্রুতির সেই আট লক্ষ টাকা শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। বিজয়ের পিতা-মাতা রাজা কাশেমের কাছে টাকার জন্য গেলে রাজা কাশেম বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিনিধিদের কাছে গেলে তারা নানা টালবাহানায় ঘুরাতে থাকেন। এক পর্যায়ে নিরাশ হয়ে শিপইয়ার্ড মালিক রাজা কাশেম ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছে যাওয়া বন্ধ করে দেন বিজয়ের পরিবার।
এখন পুনরায় বিজয় সেনের পায়ে ইনফেকশন শুরু হওয়ায় তার পরিবারে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাঁরা ভেবেছিলেন রাজা কাশেমের প্রতিশ্রুত সেই টাকাটা পেলে পুনরায় বিজয়ের চিকিৎসা করাবেন। শুধুমাত্র দরিদ্র জেলে পরিবারে জন্মগ্রহণ করাই বিজয়ের অপরাধ বলে তাদের পরিবারের সবাই মনে করেন।
নিরুপায় হয়ে তার পরিবার এখন সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন