শিরোনাম :
বরিশাল নগরীতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম কোনাপাড়ায় উঠান বৈঠক : বিষমুক্ত সবজি চাষে উদ্বুদ্ধকরণ মেথি শাক চাষে পুষ্টি ও বাড়তি আয় ভবন আছে, হোস্টেল আছে-নেই শুধু ম্যাটসের শিক্ষা কার্যক্রম মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে হামলা, আহত ৫ : থানায় মামলা কৃষিপণ্য পরিবহনে চাই নিরাপদ সড়ক জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাব  ভোলা জেনারেল হাসপাতাল : ২৫০ শয্যার হাসপাতালে জনবল ১০০ শয্যার বিসিসির ১১ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জনমত জরিপ : রানা পাল এগিয়ে ক্লু লেস ও চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন : পুরস্কৃত হলেন ঝালকাঠির ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান, মাদক উদ্ধার ওয়ারেন্ট তামিল করায় পুরস্কৃত হয়েছেন এএসআই বাপ্পি দে

তজুমদ্দিনে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের পরামর্শে পতিত জমিতে তরমুজের বাম্পার ফলন : কৃষকের মুখে হাসি

প্রতিম গাঙ্গুলী
  • আপডেট সময় : Friday, March 13, 2026
  • 191 বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগীতা ও পরামর্শে মেঘনার বুকে জেঁগে উঠা নাগর পাটওয়ারীরর চরসহ বিভিন্ন চরের পতিত জমির দিগন্তজুড়ে সবুজের মাঠে তরমুজ গাছে ভরে উঠেছে ফসলে। তরমুজের বাম্পার ফলন হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। তজুমদ্দিন উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চর জহির উদ্দিন, তেলিয়ার চর ও নাগর পাটওয়ারীর চরসহ ক্ষেতগুলোতে তরমুজের ব্যাপক সমারোহ। আকার বড় ও ফলন ভালো হওয়ায় ফসল তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। উপজেলার বাজারসহ নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের আড়ৎগুলোতে তরমুজ বেচাকেনা জমে উঠায় কৃষক ভালো দাম পেয়ে খুশি।

সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে আমন ধান চাষের পরে এসব হাজার হাজার একর জমি পতিত পড়ে থাকতে দেখা গেছে বিগত বছরগুলিতে। কিন্তু এবছর উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগীতা ও পরামর্শে কৃষকরা পতিত জমিতে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়। যে কারণে কৃষি অফিসার ও উপ-সহকারী অফিসারদের দিকনির্দেশনায় কৃষকরা চারা রোপনের পর হতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তরমুজ ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটান। আগাছা দমন, পানি সেচ, সার ঔষুধ প্রয়োগের পাশাপাশি রাত জেগে তরমুজের ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন তারা।

উপজেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৬০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে মোট ২৬৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে। যার মধ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের ১০টি প্রদর্শনী রয়েছে। এ বছর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তরমুজ চাষ ব্যাপকভাবে দেখা গেছে।

সরজমিনে গিয়ে সোনাপুর ইউনিয়নের চর জহির উদ্দিন, তেলিয়ার চর ও নাগর পাটওয়ারীর চর এলাকার কৃষক তছলিম মাঝি, মোঃ হান্নান ও সালাউদ্দিনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এবার আমাদের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। আশা করছি রমযান মাসে তরমুজ কাটায় ভালো দামে বিক্রি করতে পারবো। ইতিমধ্যেই কিছু ক্ষেতের তরমুজ বিক্রি শুরু হয়েছে। তারা অনেক ভালো দামে বিক্রি করায় যাতে ভালো লাভ হয়েছে। তরমুজের ফলন ভালো ও ভালো দামে বিক্রি করতে পেরে আমরা চাষি অনেক খুশি।

তাদেরমতো আরো কৃষকরা জানান, এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শুরু থেকে পোকা মাকড়ের আক্রমন কম থাকায় সার-ঔষধের খরচ তুলনামূলক কম হয়েছে। তাছাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. ইব্রাহিম স্যার ও নুর কবির স্যার সারাক্ষণ আমাদের খোঁজ-খবর নিতে এবং তাদের পরামর্শ অনুযায়ী তরমুজ ক্ষেতে পরিচর্যা করা ফলন ভালো হয়েছে আর এতেই আমরা অনেক সন্তুষ্ট কৃষি অফিসের প্রতি। আশা করি স্যাররা আগামী দিনেও আমাদের সঠিক পরামর্শ দিয়ে তজুমদ্দিন উপজেলাকে একটি কৃষিবান্ধব উপজেলায় পরিনত করবেন। এবারের কৃষি অফিসের যথাযথ পরামর্শ প্রদান করায় উচ্চ ফলন ও মানসম্মত তরমুজ বিক্রি চাষিদের জন্য আনন্দের এক নতুন বার্তা নিয়ে এসেছে।

তজুমদ্দিন উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ ইব্রাহিম বলেন, কৃষকরা ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভালো দাম ও অনুকূল পরিবেশ এই দুটি বিষয় খেয়াল রাখেন। এবছর দাম ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সরকারি সহযোগীতা ও আমাদের পরামর্শে স্থানীয় কুষকরা তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়ে চাষ করেন। বিগত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজের দামে কৃষক অনেক লাভবান। যদি আরো একমাস কৃষক অনুকূল আবহাওয়া পায় তাহলে পুরো ফসল ঘরে তুলতে পারবে আর তাতে অনেক বেশী লাভবান হবেন কৃষকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ