জৈন্তাপুর(সিলেট) সংবাদদাতা:
সীমান্তের কমপক্ষে ১০ টি সংযোগ গ্রামীণ রাস্তা দিয়ে শতশত গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসব গরু ট্রাকবোঝাই করে হরিপুর গরুর হাটে সরবরাহ করা হয়। হরিপুর বাজারে প্রবেশ করার পরপরই গরুগুলো বৈধ হয়ে যায়।
রাত নামার পরপরই চোরাকারবারীরা সক্রিয় হয়ে উঠে। সীমান্ত থেকে গরু আনার জন্যে প্রস্তুত করা হয় ট্রাক। সবুজ সংকেত পাওয়ার পরপরই ঝাঁকে ঝাঁকে ট্রাক ছুটে চলে সীমান্তের সংযোগ সড়কগুলোতে। দ্রুত গতির ওইসব ট্রাককে পাস দেয়ার জন্যে সাধারণ যানবাহন নিরাপদ অবস্থানে অবস্থান নেয়। নির্ধারিত সড়কে ট্রাকগুলো প্রবেশ মাত্র তাতে দ্রুত গতিতে ভারতীয় গরু বোঝাই করা হয়।

বোঝাই হওয়া মাত্র গাড়িগুলো আবার দ্রুত গতিতে ছুটে চলে হরিপুর বাজারের উদ্দেশ্যে। ট্রাকে গরু পাহাড়ায় নিয়োজিত করা হয় শিশু। আইনি জটিলতা সৃষ্টির জন্যে ওই কৌশল পুলিশের শেখানো। এসব গরুর গাড়িতে করে মাদক দ্রব্যও প্রবেশ করে হরিপুর বাজার। পরে ওই মাদক দ্রব্য হরিপুর-ফতেহপুর সড়ক হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। ভোররাত পর্যন্ত চলে চোরাকারবারিদের ওই কর্মযজ্ঞ। এই সময়টার জন্যে শিথিল করা হয় পুলিশি টহল।
সীমান্তের সবকটি গ্রামীণ রাস্তা এখন ক্ষেতের জমিতে পরিণত হয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রের প্রতিটি রাস্তার বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জৈন্তাপুর উপজেলার অন্যতম পর্যটন স্থান হল ডিবির হাওর লাল শাপলার বিল। সিলেট তামাবিল মহাসড়কের কদমখাল হতে ডিবির হাওর বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত বিলে যাথায়াতের একমাত্র রাস্তাটি কাঁচা হলেও চলাচল উপযোগী ছিল।
চোরাকারবারী চক্রের সদস্যরা রাতভর ডিআই ট্রাকযোগে ভারতে মটরশুটি পাচার ও গরু বহন করতে গিয়ে পর্যটক চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি এখন চলাচলে অনুপযোগি।
জানা জায়, ঘিলাতৈল, কদম খালপানি, রাংপানি, ৪ নং বাংলাবাজার, আদর্শগ্রাম, শ্রীপুর, মোকামপুঞ্জি ও আলুবাগান এলাকায় চোরাকারবারীদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনের দায়িত্বে রয়েছেন কথিত সামছুর লোকজন। পুলিশের লাইনের টাকা আদায় করছেন সামছু মিয়া।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর হতে চোরাকারবারি সিন্ডিকেটর সদস্যরা স্থানীয় ৪৮বিজিবির অধিনস্থ ডিবির হাওর বিশেষ ক্যাম্পের কিছু সংখ্যাক অসাধু বিজিবি সদস্য ও থানা পুলিশের এক কর্তার সহযোগিতায় বিপুল পরিমাণ মটরশুটি ভারতে পাচার করে কসমেট্রিক্স, হরলিক্স, শেখ নাছির উদ্দিন বিড়ি, গরু মহিষ অবৈধভাবে নিয়ে আসে।
মটর শুটির বস্তা প্রতি বিজিবির নামে ৮০ টাকা ও পুলিশের নামে ৫০ টাকা, মাদক সহ অন্যান্য ভারতীয় সামগ্রীর কিট প্রতি বিজিবি ৫ শ’ এবং পুলিশ ৩ শ’ টাকা করে সামছুর নেতৃত্বে সোর্সরা আদায় করে বলে জানান স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাসিন্দারা।
এবং গেল কয়েক মাস পুর্বে মহিষ নিয়ে লাইনের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে সামছু ও তার লোকজনের বিজিবির সাথে ঝামেলা হয়।
এতে আটক করা হয় ৮ থেকে ১০ টি ভারত থেকে আনা মহিষ। পরে বিজিবি বাদী হয়ে জৈন্তাপুর থানায় মামলা করে।
ওই মামলায় তার ১২ বছরের ভাই সহ আসামি করা হয় অনেককে।
সম্পাদনায়: মুক্তা সাহা
আপনার মতামত কমেন্টস করুন