অনুসন্ধান ডেস্কঃ বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভোজমহল গ্রামে ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন ধর্ষণ করায় গর্ভবতী হওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একজন করাগারে থাকলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) বাবুল ও তার সহযোগী একই স্কুলের শিক্ষিকা রেবা।
বুধবার রাতে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি নির্যাতিতা স্কুলছাত্রী বাবুল ও রেবার শাস্তির দাবি জানায়। নির্যাতিতা ভোজমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং ওই গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সদস্য।
মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অন্ত:সত্ত্বা পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী জানায়, ৯ মাস পূর্বে স্কুলের শিক্ষিকা রেবা তাকে ডেকে নিয়ে প্রধান শিক্ষক বাবুলের কক্ষে যেতে বলে। এরপর সেখানে গেলে প্রধান শিক্ষক বাবুল তাকে লোভ লালসা দেখিয়ে নানা কৌশলে ধর্ষণ করে। অত:পর এ ঘটনা কাউকে জানালে তাকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এভাবে প্রায়দিনই বাবুল তাকে ধর্ষণ করত। বাইরে পাহারায় থাকতো শিক্ষিকা রেবা।
এ ঘটনা তার বাড়ির পার্শবর্তী এলাকার বাসিন্দা জুয়েল জেনে যায় এবং সেও সুযোগ নিয়ে লোকজনের কাছে বলে দেবে এ হুমকি দিয়ে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে বাসায় ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। প্রধান শিক্ষকের সাথে সাথে জুয়েলও তাকে প্রায়ই ধর্ষণ করত বলে জানায় মেয়েটি। ধর্ষণের ফলে গর্ভবতী হওয়ার চার মাস পর বিষয়টি তার মা বুঝতে পেরে তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে সব বলে দেয়।
এরপর মেয়েটির মা স্কুলে গিয়ে সকল শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানালে তারা তাকে ভয়ভীতি দেখায়। এমনকি নির্যাতিত মেয়েটি এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের স্ত্রীকে জানালে তিনিও নির্যাতিতাকে ভয়ভীতি দেখান।
ঘটনার ৫ মাস পর নির্যাতিতার মা বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু ওই মামলা থেকে প্রধান শিক্ষক বাবুল ও শিক্ষিকা রেবাকে বাদ দিয়ে শুধু জুয়েলকে অভিযুক্ত করা হয়। জুয়েল বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। নির্যাতিতা মেয়েটি আরো অভিযোগ করে প্রধান শিক্ষক বাবুল এভাবে স্কুলের বহু মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। তাদের ভয়ভীতি দেখানোর কারনে কোন মেয়ে তার বিরুদ্ধে কিছু বলতে সাহস পায়নি।
স্কুল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদটি শূন্য রয়েছে। সেখানে বাবুল দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। পূর্বে তিনি ভোজমহল এলাকার মেম্বর ছিলেন। এ কারণে তার বেশ প্রভাব থাকায় তার বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দটিও পর্যন্ত করতে পারে না।
মেডিকেলের লেবার ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স শাহানাজ পারভীন বলেন, মেয়েটির শ্বাস কষ্ট হচ্ছে। নরমাল ডেলিভারী সম্ভব হবে না, সিজারিয়ানের প্রয়োজন হতে পারে। এ জন্য তার অভিভাবকদের রক্ত সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। রক্ত সংগ্রহ হলে সিজারিয়ান অপারেশন করা হবে।
এ ব্যাপারে ভোজমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (দায়িত্বপ্রাপ্ত) বাবুল হোসেন বলেন, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।
বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালাম বলেন, এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছিলেন। ওই মামলার চার্জশিটও দেয়া হয়েছে। ভিকটিমের অভিযোগ, পুলিশ প্রধান শিক্ষক বাবুলের নাম বাদ দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, পুলিশ যদি বাদ দিয়ে থাকে তাহলে ভিকটিম ২২ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে। সেখানে কেন প্রধান শিক্ষকের নাম বললো না। আমার ধারণা কারাগারে থাকা জুয়েল ভিকটিমের নিকট আত্মীয়। হয়ত তাদের সাথে কোন গুপ্ত চক্রান্তের প্রক্রিয়া হয়ে থাকতে পারে। এ জন্য ভিকটিম ওই কথা বলছে।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন