সুগন্ধা মজুমদারঃ নগরীর লঞ্চঘাট এলাকার শিরিন মেডিকেল হলের মালিক শিরিন খানম। তিনি বরিশাল মিডিয়াঙ্গনে এক পরিচিত মুখ। বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন বরিশাল সদর উপজেলা শাখার মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও অনলাইন পোর্টাল আজকের ক্রাইম নিউজ এর নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন শিরিন। গতকাল রাত ১০ টার দিকে মারা গেছে। হঠাৎ দোকানের সামনে অসুস্থ হয়ে পরলে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মানবাধিকার কর্মী হয়ে কি লাভ হলো? অন্য অন্য মানবাধিকার কর্মীর আর্তনাদের এই উচ্চারণ যেন নিতান্তই উত্তরহীন । শিরিনের ভাল পথে ফিরে এসে কি লাভ হলো? মানবাধিকার সৎ কর্মীকে বেচেঁ থাকতে দিলোনা ওরা। কাউন্সিলরসহ ৭ জনের কারনে মানবাধিকার কর্মী শিরিনের মৃত্যুর দায় কে নেবে? এভাবেই চোখের জলে ক্ষোভের বহি:প্রকাশ রবিবার বরিশালে বাংলাদেশ মানবাধিকার কর্মীদের। মানবাধিকার কর্মীরা শিরিনের মৃত্যুর সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবি করছেন। মানবাধিকার কর্মী শিরিন খানমের মৃত্যুর কারণ পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয়। তবে প্রাথমিক তদন্তে তাকে আত্মহত্যা প্ররোচনা দেওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করা হয়েছে। সোমবার সকালে মানবাধিকার কর্মীর ভাই ইউসুফ মৃধা বাদী হয়ে কোতয়াী মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
ওই মামলায় আসামীরা হলেন- এটিএম শহিদুল্লাহ কবির, শেলি, জনি, কায়েস, রনি, আলো, মশিউর রহমান মারুফ
সোমবার দুপুরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে শিরিনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।
চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারনা- বিষাক্ত জাতীয় ইনজেকশন শরীরে পুশ করায় তাৎক্ষণিক তার মৃত্যু ঘটে।
রোববার রাত ১০টায় লঞ্চঘাট নিজস্ব মালিকানাধীন ‘শিরিন ফার্মেসী’তে অবস্থানকালে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরে চিকিৎসকেরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
মৃত্যু পূর্ব শিরিন দুইদফা ফেসবুক লাইভে এসে তাকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে উৎখাতের ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে হতাশ জীবনে বেঁচে থাকার মানে হয় না বলে মন্তব্য করেন। এবং এই ষড়যন্ত্রের অনুঘটক হিসেবে সংশ্লিষ্ট এলাকার ১০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এটিএম শহিদুল্লাহসহ তার অনুসারী ৭ জনকে দোষারোপ করেন।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, বরিশাল সিটি কর্পােরেশনের সফল মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নাম ব্যবহার করে বরিশাল বহুমুখী সিটি মার্কেটে স্টল নিয়ে বানিজ্য করার অভিযোগ রয়েছে কাউন্সিলর এটিএম শহিদুল্লাহ কবিরের
বিরুদ্ধে।
অপর দিকে, পার্শ্ববর্তী ওষুধ ব্যবসায়ি জনৈক জনি নামক এক ব্যক্তির সাথে হৃদয়ঘটিত সম্পর্কের অভিযোগে একতরফা সালিশ বৈঠকের বিচারের ওই কাউন্সিলরের সিদ্ধান্তে শিরিনকে দোকান ছেড়ে দেওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেয়া হয়। ওইদিন রাতেই ঘটে মিডিয়া ও মানবাধিকার কর্মী শিরিনের রহস্যজনক মৃত্যু। এ নিয়ে বরিশালের সর্বত্র মহলে চলছে ব্যাপক তোলপাড়।
বরিশাল কোতয়াী মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে অপরাপর ৬ আসামি গ্রেপ্তার অভিযান শুরুর কথা জানান।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন