বিদ্যালয় আছে, নেই শহীদ মিনার তাই হয় না একুশে ফেব্রুয়ারির কোনো আয়োজন। যদিও সরকারি আদেশ অনুযায়ী প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা বাধ্যতামূলক। ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আজমেহেরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো শহীদ মিনার তৈরি হয়নি। এতে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা জানতে পারছে না ভাষার সঠিক তাৎপর্য, জানাতে পারছে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা।
আজ২১ ফেব্রুয়ারি। ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর দিন। এদিন দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানায়। তবে প্রতিবারের মতো এবারও সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলো যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ১৯নং আজমেহেরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী নূরজাহান আমাদের প্রতিবেদক কে জানায়, স্কুলে শহীদ মিনার নেই, তাই ফুল দিতে পারি না। শহীদ মিনার না থাকার কারণে ২১ ফেব্রুয়ারি ভালোভাবে পালন করতে পারি না। এছাড়া ওইদিন কোনো ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয়ে আসতে চায় না।
পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র বিল্পব হোসেন জানায়, শহীদ মিনার না থাকার কারনে ২১ ফেব্রুয়ারির দিন আমরা সবাই মিলে বাঁশ, ইট, কলা গাছ দিয়ে শহীদ মিনার তৈরি করে আমরা ওখানে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।
আজমেহেরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা তহমিনা জাকারিয়া এ প্রতিবেদককে বলেন, অন্য সব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার রয়েছে তারা ২১ ফেব্রুয়ারি পালন করে। আমাদের বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার না থাকায় দিনটি পালন করতে পারি না।
এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কর্তৃপক্ষের কাছে একটি শহীদ মিনার আবেদন জানান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান বলেন, ১৯৫৪ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলেও গড়ে ওঠেনি শহীদ মিনার। ভাষার জন্য যারা শহীদ হয়ে ছিলেন, যাদের জন্য আমরা বাংলা ভাষা পেয়েছি, যাদের জন্য আমরা বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারি সেই শহীদের জন্য আমরা গর্ব করি। দুঃখের বিষয় আমাদের স্কুলে শহীদ মিনার নেই। আমাদের স্কুলে একটি শহীদ মিনার তৈরির দাবি জানাই।
গ্রামের বাসিন্দা এক ছাত্রীর অভিবাবক উজ্জল বিশ্বাস বলেন স্কুলে যদি শহীদ মিনার থাকতো তাহলে তাঁদের সন্তানেরা ভাষা আন্দোলনের শহীদদের ভালমতো স্মরণ করে দিনটি উদযাপন করতে পারতো; ভাষা দিবস সম্পর্কে জানতে হলে বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা অপরিহার্য।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন