বাউফলে স্ত্রীর গোপনাঙ্গে আগুনের ছ্যাঁকা দিয়েছে পাষন্ড স্বামী

অনুসন্ধান ডেস্ক
  • আপডেট সময় : Sunday, December 29, 2019
  • 561 বার দেখা হয়েছে

প্রতিকী ছবি

জসিম উদ্দিন:

পটুয়াখালীর বাউফলে যৌতুকের টাকার জন্য রাজিয়া সুলতানা (২২) নামের এক গৃহবধূর যৌনাঙ্গে গ্যাস লাইটের আগুন দিয়ে ছ্যাকা দিয়েছে পাষণ্ড স্বামী। এসময় আগুনে ওই গৃহবধূর শরীরের নিচের অংশ পুড়ে গেছে। তাকে আহত অবস্থায় বাউফল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ পাষণ্ড স্বামী আসাদুল মৃধাকে গ্রেফতার করেছে। পৌর শহরের ৯নম্বর ওয়ার্ডের বাংলালিঙ্ক টাওয়ারের কাছে এ ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে ওই গৃহবধূর মা নুরজাহান বেগম অভিযোগ করেন, চার বছর আগে (২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে) শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দাশপাড়া গ্রামের মোকলেস মৃধার ছেলে আসাদুল মৃধার সাথে তার মেয়ে রাজিয়া সুলতানার বিয়ে হয়। বিয়ে সময় জামাতা আসাদুলকে যৌতুক হিসাবে নগদ ১ লাখ টাকা, স্বর্ণালংঙ্কার ও আসবাবপত্র দেন। এরপর বছরখানেক স্বামীর সংসারে তার মেয়ে ভালোই ছিল। এরপর তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়। জামাতা আসাদুল মাদকাসক্ত হয়ে পরে। তার মেয়েকে নেশার টাকার জন্য মারধর করতো।

নুরজাহান বেগম জানান, আতিউর রহমান নামের এক বছরের একটি শিশু সন্তান রয়েছে আমার মেয়ের। ৩-৪ মাস আগে আসাদুল রাজিয়ার কাছে ব্যবসার নামে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। রাজিয়া বাবার বাড়ি থেকে ৩০ হাজার টাকা এনে স্বামীকে দেয়। এরপর ৬ মাস যেতে না যেতে পুনরায় অটোগাড়ি কেনার নামে দেড় লাখ টাকা দাবি করে। এতে রাজিয়া অপরগতা প্রকাশ করলে ঘটনার দিন মঙ্গলবার দুপুরে আসাদুল স্ত্রী রাজিয়াকে মারধর করে। এক পর্যায়ে তার পরিধেয় কাপড় উপরে তুলে যৌনাঙ্গে গ্যাস লাইটের আগুন দিয়ে ছ্যাকা দেয়। এসময় কাপড়ে আগুন লেগে তার কোমড়ের নিচের অংশ পুড়ে যায়। নুরজাহান বেগমের দাবি, যৌতুকের জন্যই তার মেয়েকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

খবর পেয়ে রাজিয়ার খালু নাসির উদ্দিন ও খালা মাহিনুর বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে উদ্ধার করে বাউফল হাসপাতালে এনে ভর্তি করে।

এ ঘটনার বুধবার সন্ধ্যায় রাজিয়ার বাবা আবদুল আজিজ কাজী বাদি হয়ে বাউফল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ওই দিন রাতে পাষণ্ড স্বামী আসাদুল মৃধাকে গ্রেফতার করে পটুয়াখালী আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

সরেজমিনে বাউফল হাসপাতালের গিয়ে দেখা গেছে, দোতালায় মহিলা ওয়ার্ডের ১০ নম্বর বেডে চিকিৎসাধিন আছেন রাজিয়া। তার কোমড়ের নিচের অংশ ঢেকে রাখা হয়েছে। থেমে থেমে তীব্র ব্যথায় কাতরাচ্ছেন তিনি।

সিনিয়র নার্স সখিনা বেগম জানান, রাজিয়ার যৌনাঙ্গের আশপাশে প্রায় ৮ থেকে ১০ ভাগ পুড়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট আবাসিক চিকিৎসক আবদুর রউফ বলেন,’রাজিয়ার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বলা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ