বরিশালে রাজাকারের তালিকা পুড়িয়ে দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা এড.তপন চক্রবর্ত্তী

অনুসন্ধান ডেস্ক
  • আপডেট সময় : Tuesday, December 17, 2019
  • 1022 বার দেখা হয়েছে

অনুসন্ধান ডেস্কঃ বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলার সদস্য সচিব ডা. মনিষা চক্রবর্তীর বাবা মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তপন চক্রবর্তী এবং তার ঠাকুর মা (দাদী) শহীদ জায়া উষা চক্রবর্তীর নাম রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে বরিশালে সংবাদ সম্মেলন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাসদ। সবশেষে সদ্য প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় অগ্নিসংযোগ করা হয়।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় ফকিরবাড়ি রোডের জেলা বাসদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ জায়ার নাম রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব মানুষের জন্য লজ্জাজনক। আমার পরিবারের সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমনটা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় তপন চক্রবর্তীকে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকার গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করেছে সেই একই মন্ত্রণালয় তাকে রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করল। শহীদ সুধীর চক্রবর্তীর স্ত্রী ও তপন চক্রবর্তীর মা প্রয়াত উষা চক্রবর্তীকেও একই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বিশ্বাসী প্রগতিশীল নারী হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত ছিলেন।

রাজাকারের তালিকায় অগ্নিসংগোগ করছেন মুক্তিযোদ্ধা তপন চক্রবর্তী ও তার মেয়ে ডা. মনিষা চক্রবর্তী।

মনীষা অভিযোগ করেন, বরিশালে ক্ষমতাসীন দলের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে বাসদ একমাত্র সোচ্চার কণ্ঠ হওয়ায় আমাদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আমার কণ্ঠরোধ করা যাবে না।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মুক্তিযদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য রাজাকারের তালিকা করা জরুরি। কিন্তু মহান বিজয় দিবসে রাজাকারের যে তালিকা মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে তা প্রশ্নবিদ্ধ। একজন গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাকে কোনো রকম যাচাই-বাছাই ছাড়া রাজাকারের তালিকায় রাখার বিষয়টি তদন্ত এবং এই রাষ্ট্রীয় অপমানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের বুলি আউরিয়ে রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য এ ধরনের চক্রান্ত করা হয়েছে। বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবেলা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে বাসদ দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে গিয়ে সমাবেশ করে। সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট তপন চক্রবর্তী, বাসদের জেলা আহ্বায়ক ইমরান হাবিব রুমন, ডা. মনীষা চক্রবর্তী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অ্যাডভোকেট তপন চক্রবর্তী তার বক্তব্যে বলেন, বিজয়ের ৪৮ বছর পর রাজাকারের তালিকায় আমার নাম যুক্ত করা হয়েছে। এ তালিকায় আমি ও আমার মায়ের নাম অন্তর্ভুক্তির পিছনে বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে। এ তালিকা বাতিল করে রাষ্ট্রকে ক্ষমা চাইতে হবে। ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, বিজয়ের মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কলঙ্কিত করেছে। 

সমাবেশ শেষে সদ্য প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় অগ্নিসংযোগ করেন অ্যাডভোকেট তপন চক্রবর্তী ও ডা. মনীষা চক্রবর্তী।

(সূত্র:সমকাল)

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ