সাংসদ রত্না ও ব্যারিস্টার প্রিন্স ইলাহীর নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজির নতুন ধান্ধা:বরিশাল ক্রাইম’র সম্পাদক শাহআলমের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগে উকিল নোটিস কৃষি কর্মকর্তার
নবরাজ বিশ্বাস
-
আপডেট সময় :
Friday, November 29, 2019
-
1307 বার দেখা হয়েছে
- নবরাজ বিশ্বাসঃ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মিডিয়াঙ্গনে বর্তমান সময়ের সবচে’ বিতর্কিত দৈনিক বরিশাল ক্রাইম পত্রিকা ও এটির প্রকাশক ও সম্পাদক এইচ এম শাহআলম শাহ্। তার বিরুদ্ধে রয়েছে প্রতারণা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য অভিযোগ। পেছনের সকল নিন্দনীয় কর্মকান্ড, অনিয়ম আর দূর্ণীতির রেকর্ড ভঙ্গ করে ফের চাঁদাবাজি পেশার রমরমা বানিজ্যে এবার প্রতারণায় নয়া কৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ডিক্লারেশন প্রাপ্ত আন্ডার গ্রাউন্ড পত্রিকা দৈনিক বরিশাল ক্রাইম’র কথিত প্রকাশক ও সম্পাদক এইচ এম শাহআলম শাহ। চাঁদাবাজির অভিযোগে তিনি ও তার সাঙ্গোপাঙ্গরা বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্যবার নজীরবিহীন গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। গণরোষের তাড়া খেয়ে পালিয়ে রক্ষা পেয়েছেন অসংখ্যবার। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ১৩ অক্টোবর শাহআলমের নেতৃত্বে সুন্দরী নারীসহ ৫ সদস্যের একটি চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট গ্রুপ বরিশালের উজিরপুর মালিকান্দা মাহমুদিয়া আলিম মাদ্রাসায় মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম পরিচয়ে চাঁদাবাজির চেষ্টাকালে ধরা খেয়ে অবশেষে জনৈক ছাত্রলীগ নেতার সুপারিশে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের হাত-পা ধরে ক্ষমা চেয়ে কোনোমতে রেহাই পান বিতর্কিত ওই সম্পাদক ও তার সহযোগিরা। ছাড়া পেয়েই ওই গ্রুপটি নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছে মাদ্রাসা কতৃপক্ষকে মোবাইল ফোনে বিভিন্নভাবে হুমকি দিলে মাদ্রাসার সভাপতি ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন আ.লীগের সেক্রেটারি মো. মিজানুর রহমান কামাল ওইদিন উজিরপুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেন। জিডি নং-৫৩২। ১৫ অক্টোবর এ বিষয়ে বরিশালের বহুল প্রচারিত প্রায় সবক’টি পত্রিকায় ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ভূয়া পরিদর্শক শাহআলমের নিকট থেকে আটককৃত মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশ আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশন(বাসক) নামের একটি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান সাগরিকা ইসলাম স্বাক্ষরিত গত ৫ মার্চ তারিখের চিঠি এটি। শিক্ষামন্ত্রী বরাবরে ইস্যুকৃত ওই চিঠিতে শাহআলমকে পরিচালক(প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ দিয়ে দেশের সবক’টি বিভাগের প্রতিটি উপজেলা ও থানার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন না করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসাগুলোতে সবধরনের পরীক্ষার ফরম ফিলাপের জন্য সরকার নির্ধারিত ‘ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত নেয়া, অতিরিক্ত ভর্তি ‘ফি’ নেয়া, সেকশন না থাকলেও গোপনে অতিরিক্ত ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করাসহ সরকার নির্ধারিত নিয়ম বহির্ভূত কার্যক্রম করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা শ্রেণীকক্ষে ক্লাশ চলাকালিন কোচিং বানিজ্য করা, সরকারি অননুমোদিত ও নিষিদ্ধ সিলেবাস ও গাইড দ্বারা শিক্ষাদান ও বিক্রয় করাসহ জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করা, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন না করা, দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখিত পরীক্ষাসমূহ সরকারের নকলমুক্ত ঘোষণাসত্বেও পরীক্ষা কেন্দ্রের হল সুপার বা দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও উর্ধতন কর্মকর্তাদের সরকারি নিয়ম বহির্ভূত কার্যক্রম, শিক্ষকরা নিয়মিত ও সময়মত ক্লাশ না করে ফাঁকি দেওয়া, ছাত্রছাত্রীদের বেত্রাঘাতসহ ভয়ভীতি প্রদর্শন, সরকারি বইপত্র গোপনে বাজারে বিক্রয় করা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করা, স্মরনীয় ব্যক্তির ছবি সংরক্ষণ না করা প্রভৃতি বিষয়ে তদন্ত ও যাচাই-বাছাই পূর্বক প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তাকে একটি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। চিঠিতে এসকল কার্যক্রমের মেয়াদ ধার্য রয়েছে ২০৩১ সাল পর্যন্ত। আশ্চর্যের বিষয় হলো- সারাদেশে শাহআলমের মতো সুনিপুন কৌশলী কুখ্যাত চাঁদাবাজ না থাকায় সম্ভবত: ওই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানটি ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্বেও তাকেই বেছে নিয়েছে দেশব্যাপী চাঁদাবাজি করার জন্য! যতদূর জানা গেছে, দীর্ঘ নয় মাস দায়িত্বে থেকেও আজ অবধি শাহআলম একটি রিপোর্টও জমা দিতে পারেননি কোনো প্রতিষ্ঠান কতৃপক্ষের কাছে। অথচ ওই চিঠির বলে দু’হাত ভরে টাকা তুলে পকেট ভারী করেছেন প্রত্যন্ত এলাকার সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে দলবলে হানা দিয়ে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে। বিতর্কিত ও অযোগ্য ব্যক্তিকে দেশব্যাপি এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়ায় ওই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানটির মান ও কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে গোটা দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে। মিডিয়াঙ্গনেও তা হাস্যরসের খোরাক যুগিয়েছে।
- অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৭ জুন ঝালকাঠীর নলছিটি উপজেলার তিমিরকাঠী এলাকায় হারুন মিয়ার ব্রিকফিল্ডের কাছে চাঁদাবাজি ও প্রতারনা করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়ে নলছিটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সুস্থ্য হয়ে আবার ৫ জনের একটি গুরুপ নিয়ে ১৯ জুন বাকেরগঞ্জ উপজেলার নেয়ামতি বাজারে চাঁদাবাজি করতে গেলে স্থানীয় সাংবাদিক কবির গাজীর নেতৃত্বে এলাকাবাসী ধাওয়া করলে পালিয়ে রক্ষা পান। স্থানীয় ও বিশেষ সূত্রে জানা যায়, চাঁদাবাজদের ওই গুরুপে আরও ছিলেন মোঃ কামরুজ্জামান, তানিয়া আক্তার, সোহেল মেকার ও দেলোয়ার সিকদার। জানা গেছে, এদের মধ্যে কামরুজ্জামান ও তানিয়া আক্তারের নামে বাবুগঞ্জ থানার একটি বেকারীতে চাঁদাবাজির মামলা বরিশালের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তানিয়া ও কামরুজ্জামান দৈনিক বরিশাল ক্রাইম পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার সময় নলছিটির মোল্লাহাট কেন্দ্রে ঢুকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া ছবি তুলতে গেলে নলছিটি উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ আশরাফ আলী তাদের আটক করেন এবং এক পর্যায়ে জরিমানা আদায় করে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেন। জানা গেছে, ইতোপূর্বেও শাহআলমের নেতৃত্বে একটি চাঁদাবাজ গ্রুপ নেয়ামতির মহেষপুর বাজারে পোস্টমাস্টার অলিউল আলম সোহেল এর বিরুদ্ধে রেভিনিউ স্ট্যাম্প পাচারের অভিযোগ এনে তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবী করলে স্থানীয় লোকজন শাহআলমকে আটক করে বাকেরগঞ্জ থানায় খবর পাঠায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে শাহআলম জরিমানা দিয়ে ও মাফ চেয়ে মুক্তি পান। বেশ কিছুদিন আগে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ সুবিদখালী বন্দরে চাঁদাবজি করার সময়ে স্থানীয় জনতা শাহআলমসহ তার গ্রুপের সদস্যদের আটক করলে শাহআলমের দ্বিতীয় স্ত্রী বাকেরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আনোয়ারা বেগম (আইনু কমিশনার) গিয়ে মুচলেকা দিয়ে তাদের ছাড়িয়ে আনেন। তার নিজ গ্রামের বিন্নাইল বাজারে র্যাব পরিচয়ে প্রতারনা ও চাঁদাবাজির কারনে সুলতান গাজী ও মুনসুর খাঁর নেতৃত্বে স্থানীয়জনতা শাহআলমকে উত্তম মধ্যম দিয়ে বিষ্ঠা পর্যন্ত খাইয়ে দিয়েছিল। বুড়ির হাট এলাকার মন্নান আকনকে মানবাধিকার কার্ড দেয়ার আশ্বাস দিয়ে এবং প্রতারনার আশ্রয়ে দের লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে দীর্ঘদিন ঘুরিয়ে অবশেষে তাকে পাগল বানিয়ে ছেড়েছেন। এ ঘটনায় মন্নান আকনের ভাই সুমন আকন ও আলম মুনসীর নেতৃত্ব স্থানীয় জনগন গনপিটুনী দিয়ে শাহআলমের নিকট থেকে তার আত্মসাৎ করা দেরলক্ষ টাকা আদায় করে নেন। পেশাদারী চাঁদাবাজ এই শাহআলমের বিরুদ্ধে তার এলাকাবাসীর অভিযোগের ফিরিস্তি বিস্তর। সুনির্দিষ্ট কোনো পেশা না থাকলেও চাঁদাবাজির অর্থে তার দুই সংসার চলে রাজার হালে। সাংবাদিক হিসেবে লেখা বা কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলেও পুরো টিমসহ চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহারের জন্য ইতোমধ্যেই কয়েক লাখ টাকার মটর সাইকেল, থ্রি-স্ট্যান্ড ক্যামেরা, বুমসহ জনসাধারনের জন্য ভীতিকর সব যন্ত্রপাতি কিনে দস্তুরমতো একজন মিডিয়াম্যান সেজেছেন প্রতারক শাহআলম
- সম্প্রতি তিনি তার একমাত্র চাঁদাবাজি পেশা ও অপকর্ম আড়াল করতে দু’ বিশিষ্ট ব্যক্তি বরিশাল-৬(বাকেরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য বেগম নাসরিন জাহান রত্না ও ব্যারিস্টার প্রিন্স ইলাহীর নাম ব্যবহার করতে শুরু করে দিয়েছেন। তিনি অনিয়মিতভাবে প্রকাশিত ও দক্ষিনাঞ্চলে এ সময়ের সবচে’ বিতর্কিত পত্রিকা দৈনিক বরিশাল ক্রাইম এ ওই দু’ ব্যক্তির নাম উপদেষ্টা হিসেবে জুড়ে দিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও হাস্যরসের খোরাক যুগিয়েছেন। ওই পত্রিকাটি বিভিন্ন ভুয়া কাগজপত্রের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে ডিক্লারেশন পেয়ে অদ্যাবধি ১টি সংখ্যাও প্রকাশিত হয়নি উহার প্রকাশক ও সম্পাদকের নিজস্ব অর্থায়নে। নানা প্রতারনা ও টাউটারির আশ্রয়ে এ পর্যন্ত পাঁচ জন মালিকানা বদলের মাধ্যমে তাদের পকেটের অর্থ তশ্রুপ করেও আজ অবধি দেরশ সংখ্যাও নিয়মিতভাবে প্রকাশ করতে পারেননি প্রকাশক শাহআলম। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে একমাত্র সুগন্ধা মজুমদার সর্বোচ্চ ১৪৫ সংখ্যা পর্যন্ত প্রকাশ করেছিলেন পত্রিকাটি। সম্পাদক পদটি হস্তান্তরের শর্তে শাহআলম প্রকাশক হিসেবে গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে প্রতি মাসে পনের হাজার টাকা সম্মানী(ভাড়া) নিতেন সুগন্ধা মজুমদারের নিকট থেকে। অপর দিকে পত্রিকার মালিক পরিচয় দিয়ে বিজ্ঞাপনের টাকাও তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করতেন সুগন্ধা মজুমদারকে না জানিয়ে। বিভিন্ন মহলে চাঁদাবাজিও করতে থাকেন পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক পরিচয়ে। শাহআলমের চাঁদাবাজি ঠেকাতে সুগন্ধা মজুমদার বিভিন্ন সময়ে থানায় একাধিকবার জিডি করেছেন। এ ছাড়াও পাঠক, মিডিয়াকর্মী ও প্রশাসন’র দৃষ্টি আকর্ষণ করে পত্রিকায় রাবাহিকভাবে সতর্কীকরণ বিজ্ঞাপন দিয়েছেন মাসব্যাপী। মূলত: এ কারণেই তাদের মধ্যে দ্বন্দের সূত্রপাত ঘটে। গত ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত টানা পাঁচ মাসের ভাড়া নিয়েও গত বছরের নভেম্বর মাসে শাহীন নামে জনৈক ডায়াগনস্টিক ব্যবসায়ীর নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তার সাথে ওই পত্রিকা পূন: ভাড়ার একটি চুক্তিপত্র সম্পাদন করে তা গোপন রাখেন। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সুগন্ধা মজুমদার এবং মোঃ শাহীন এর সম্পাদনায় “দৈনিক বরিশাল ক্রাইম” এর দু’টি করে সংখ্যা একযোগে প্রকাশিত হতে থাকলে তা বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে মিডিয়াঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে এবং বিভিন্ন পত্রিকায় ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তখন সুগন্ধা মজুমদারের সাথে চুক্তিপত্র ও টাকা নেয়ার বিষয়ে অস্বীকার করেন শাহআলম। ফলে মার্চ মাস থেকে পত্রিকা প্রকাশনার কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে চুক্তিপত্রের শর্ত ভঙ্গ ও টাকা গ্রহনের বিষয় অস্বীকার করার কারণে সুগন্ধা মজুমদার গত ৬ মার্চ বরিশালের বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আাদালতে শাহআলমের বিরুদ্ধে ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় প্রতারনার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- এমপি ৪৬/১৯(সদর)। আদালতের নির্দেশে উক্ত মামলার বিষয়ে তদন্ত শেষে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা আছে মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। মামলা করার কারনে শাহআলম ক্ষিপ্ত হয়ে মামলার বাদী সুগন্ধা মজুমদারকে বিভিন্নধরনের হুমকী দিলে সুগন্ধা মজুমদার শাহআলম, তার প্রথম স্ত্রী পারুল বেগম ও ভাই হাবিবুর রহমানকে অভিযুক্ত করে বরিশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০৭ ও ১১৭(গ) ধারায় নিরাপত্তা চেয়ে একটি মামলা করেন। মামলা নং-এমপি ৪৫/১৯(কোতয়ালী)। ওই মামলায় শাহআলমসহ সকল বিবাদীরা আদালতে হাজির হয়ে বন্ডস্বাক্ষর দেন। আদালতে অঙ্গীকারনামা দেয়ার পরও শাহআলম তা অমান্য করে সুগন্ধা মজুমদারের স্বামী পরিমল মজুমদারের বিরুদ্ধে তার উর্ধতন কর্তৃপক্ষ, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন দপ্তরে ভূয়া অভিযোগে বেনামী দরখাস্ত করতে থাকেন। বেনামী ও ভূয়া অভিযোগে মানহানির কারণে পরিমল মজুমদার ৫ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারন করে সম্প্রতি শাহআলমের বিরুদ্ধে পরপর ৩ টি উকিল নোটিস পাঠিয়েছেন। তার বাড়ি ও পত্রিকার ঠিকানায় পাঠানো দু’খানা নোটিস শাহআলম গ্রহন না করায় ইতোপূর্বে ডাক বিভাগ ফেরৎ দিয়েছ। তৃতীয় নোটিসটি ২৪ নভেম্বর রেজিঃ ডাকযোগে শাহআলমের দ্বিতীয় স্ত্রী আনোয়ারা বেগমের বাকেরগঞ্জ পৌরসভার বাড়ির ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে।
- ইতোমধ্যে কৃষিমন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো ৩ সদস্যের একটি তদন্ত টিম ২৬ নভেম্বর শাহআলমের দায়ের করা হয়রাণীমূলক একটি অভিযোগের বিষয়ে তদন্তকার্য সম্পন্ন করেছেন। তৎপূর্বেও একই অভিযোগের বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ সিভিল প্রশাসনের পক্ষ থেকেও তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়নি।
- এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিমল মজুমদার বলেন, আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ভুয়া ও বেনামী অভিযোগ এনে বিভিন্ন দপ্তরে বিভ্রান্তিকর দরখাস্ত পাঠিয়ে আমার সম্মান ক্ষুন্ন করেছেন শাহআলম; এ কারণে তার বিরুদ্ধে মানহানী মামলার প্রস্তুতি চলছে। এছাড়াও চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করায় শাহআলমের বিরুদ্ধে পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিলসহ কমপক্ষে ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতিপূরণ মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলেও জানান সুগন্ধা মজুমদার।
- বিতর্কিত ওই পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা করার কারণে এরপর থেকে আর কেউ ওই পত্রিকার দায় গ্রহন করতে এগিয়ে আসেননি। মানবাধিকার ও মিডিয়া জগতের বিভিন্ন পদ-পদবীর পরিচয়ধারী বহুরূপী-ভিজিটিং কার্ডসর্বস্ব মহা টাউটখ্যাত ভূয়া সাংবাদিক এই শাহআলম তার দলবল নিয়ে বরিশাল বিভাগের সর্বত্র আনাচে কানাচে ওই পত্রিকা ছাড়াও জাতীয় অপরাধ বার্তা এবং স্বাধীন বাংলাদেশ নামক ভুয়া পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক, বাংলাদেশ সময় নামে একটি ভুয়া অনলাইন টিভির এমডি এবং বাসক নামে কার্ড বিক্রেতাসর্স্ব নামকাওয়াস্ত একটি মানবাধিকার সংগঠনের পরিচালক(তদন্ত) আইডি কার্ড ও ভিজিটিং কার্ড, মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন দপ্তরের সীল-স্বাক্ষর সম্বলিত কথিত চিঠি,থ্রি-স্ট্যান্ড ক্যামেরা, বুম ইত্যাদি সাথে নিয়ে ইটের ভাটা, বেকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক, হাসপাতালসহ বিভিন্ন মহলে হানা দিয়ে ভীতিকর ত্রাস সৃষ্টি করে চাঁদাবাজি করে আসছেন প্রশাসনের নাকের ডগায়। অবশ্য পত্রিকাটির অস্তিস্ব টিকিয়ে রাখতে এবং চাঁদাবাজির কাজে ব্যবহারের জন্য সংখ্যার সাথে প্রকাশনার মিল না থাকলেও এটির কথিত প্রকাশক ও সম্পাদক শাহআলম তার চাঁদাবাজির টাকায় গত ২৭ মে ১৬৩ তম সংখ্যা, ৩ জুলাই ১৬৪ তম সংখ্যা, ৭ সেপ্টেম্বর ১৬৫ সংখ্যা এবং সর্বশেষ ১ অক্টোবর ১৬৬ সংখ্যার প্রকাশনা শো’ করেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের অশিক্ষিত ও অল্প শিক্ষিত সাধারণ মানুষের মধ্যে।
- শাহআলমের নিজ এলাকা ঝালকাঠির পশ্চিম কয়া গ্রাম ও আশপাশের মানুষ তাকে আনসার সদস্য, মসজিদের লেবাসধারী ইমাম, ঝাঁড়ফুকের ফকির, ক্যানভাসার, প্রতারক কিংবা মহাটাউট শাহআলম হিসেবে চেনেন। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, শাহআলম মাদ্রসায় কিছুদিন পড়াশোনা করলেও এস এস সি’র গন্ডি পেরুতে পারেননি। মাদ্রাসায় পড়াশোনা অবস্থায়ই কিছুদিন এলাকার মসজিদে ইমামতি করেন। এরই মধ্যে শুরু করে দেন ঝাড়ফুঁকের কাজ। উপাধি পান ফকির। হয়ে যান শাহআলম থেকে শাহআলম ফকির। নানা প্রতারণায় জড়িয়ে যান এ পেশার মাধ্যমে। গ্রাম্য সহজ সরল নিঃসন্তান মহিলাদের সন্তান লাভের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কুফরি চালানের নামে ঠকিয়ে অর্থ উপার্জন করতে থাকেন দু’হাতে। তার চরিত্র নিয়েও ওঠে নানা বিতর্ক। প্রতারণার মাধ্যমে টাকা পয়সা আত্মসাৎ আর চারিত্রিক স্খলনজনিত কারনে এলাকাবাসী তাকে গণপিটুনি দিয়ে বিষ্ঠা পর্যন্ত খাইয়ে দিয়েছিল। এলাকার শাহীন মাষ্টার জানান, এলাকায় গণপিটুনি খেয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যোগ দেন একটি জঙ্গি সংগঠনে। জঙ্গি বিষয়ে বেশ কিছু লেখালেখিও করেন। ওই সংগঠনে থেকে কিছু টাকা পয়সা কামিয়ে কয়া গ্রামে তার পৈত্রিক ভিটায় একটি সেমিপাকা ঘরও নির্মান করেন শাহআলম। এরপরেই জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে বরিশাল ডিসি অফিসের একজন কর্মচারীর সহায়তায় টাকা পয়সা খরচ করে বিতর্কিত ওই পত্রিকাটির ডিক্লারেশন বের করেন। জীবনে এক কলম লেখার অভিজ্ঞতা না থাকলেও রাতারাতি বনে যান একটি ক্রাইম পত্রিকার মালিক তথা প্রকাশক ও সম্পাদক এইচ এম শাহআলম শাহ! তিনি বাংলাদেশ সময় টিভি নামে একটি অনলাইন চ্যানেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দাবী করে অন্তত: শ’দুয়েক সাংবাদিকতার কার্ড বিক্রি করলেও নেই ওই চ্যানেলের বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব। বরিশাল নগরীসহ গোটা বিভাগ জুড়ে ওই ভুয়া চ্যানেল আর বিতর্কিত পত্রিকাটির কার্ডধারী তথাকথিত সাংবাদিক রয়েছে কমপক্ষে পাঁচশ’। ওইসব কথিত সাংবাদিকদেরও নেই ন্যুনতম পেশাগত কিংবা শিক্ষাগত যোগ্যতা। আর নির্বিচারে বিক্রয় করা এসব কার্ডের আড়ালে চলে নিয়মিত চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, দেহবানিজ্য, চুরি-ছিনতাই সহ নানা অপরাধকর্ম।
- সম্প্রতি এ চক্রের সদস্য রানা গংরা ছাগল চুরি করতে গিয়ে কাগাশুরায় গণপিটুনির শিকার হন। জুয়েল গং গৌরনদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণপিটুনি খান এবং নগরীর হোটেল সী-প্যালেসে ডিবি পরিচয়ে ছিনতাই করে মামলার আসামী হন। এতসব অভিযোগের পরেও প্রশাসন নিরব! কত লিখলে প্রশাসনের টনক নড়বে এটাই এখন অপক্ষার পালা।
https://www.facebook.com
এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ
আপনার মতামত কমেন্টস করুন