নলছিটিতে বাল্যবিয়ের ভূয়া খবরে তুলকালাম কান্ড : গণপিটুনির শিকার কথিত সাংবাদিক শাহআলম

আপন মন্ডল
  • আপডেট সময় : Saturday, March 7, 2020
  • 859 বার দেখা হয়েছে

অনুসন্ধান ডেস্ক: বাল্যবিয়ের একটি মিথ্যা খবরের ভিত্তিতে অবশেষে বিয়ে ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টার মতো জঘন্য অপরাধের কারণে আবারও গণপিটুনির শিকার হয়েছেন বিভিন্ন অপরাধে বারংবার গণপিটুনি খাওয়া দেশের দক্ষিনাঞ্চলের মিডিয়াঙ্গনে সবচেয়ে কলঙ্কিত আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার কথিত সেই সম্পাদক এইচ.এম শাহআলম শাহ্। ঘটনাটি ঘটেছে ৬ মার্চ (শুক্রবার) বিকেলে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের চরকয়া গ্রামে বিতর্কিত ওই সম্পাদকের নিজ বাড়িতে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিলুপ্তপ্রায় আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা দৈনিক বরিশাল ক্রাইম’র তথাকথিত সম্পাদক এইচ এম শাহআলম শাহ ‘বাংলাদেশ সময়’ নামে তার একটি ভুয়া টিভি চ্যানেলের পরিচালক পরিচয় দানকারী এইচএম রানাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানান যে, তাদের(শাহআলম) বাড়ির মধ্যে একটি নাবালিকা কিশোরী মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। তাকে কয়েকজন সাংবাদিক নিয়ে যাওয়ার জন্যও বলা হয়। শাহআলমের নির্দেশনা অনুযায়ী রানার নেতৃত্বে দু’টি মোটর সাইকেলে ৬ জনের একটি সাংবাদিক টিম তাদের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের আসরে উঠে। এ সময়ে ওই বাড়ির আনোয়ার বিশ্বাসের(হাওলাদার) মেয়ে সুমির(১৮) বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে খাওয়া-দাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। সাংবাদিকেরা খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন সুমির বয়স ১৮ বছর পেরিয়ে গেছে। তাদের আগেও ঝালকাঠির একটি সাংবাদিক টিম  শাহআলম খবর দিয়ে এনেছিলেন। এতে ওই বাড়ির মানসম্মানের হানি ঘটে এ দাবী করে বিয়ে বাড়ি সহ পার্শ্ববর্তী বাড়ির মহিলারা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেন এবং শাহআলমকে ধরে তুলোধুনো দেন।

অবস্থা বেগতিক দেখে সুমির বড় ভগ্নিপতি মোঃ মাইনুল ইসলাম এবং একই বাড়ির পার্শ্ববর্তী ঘড়ের মোঃ ইউনুস আলী ফকির (ইউনুস দারোগা) এগিয় এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।
সাংবাদিকেরা শাহআলমের কথামতো পানি ঘোলাটে না করার কারণে শাহআলম নলছিটি থানা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসেও জাগজপত্র ঘেটে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে ফিরে যায়। এলাকার লোকজন এ ঘটনায় শাহআলমের ওপর চরমভাবে ক্ষুব্ধ। তাদের মতে, পূর্ব শত্রুতার জের মেটাতে শাহ আলম এ কান্ড ঘটিয়েছেন। এ প্রতিনিধি সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হন।
এর আগে বিগত ২৬ ডিসেম্বর শাহআলম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) পরিচয়ে বরগুনার আমতলী এলাকায় ইটের ভাটায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে গণধোলাইয়ের পর ৪০৬, ৪১৯, ৪২০ দঃবিঃ ধারায় আমতলী থানার ১৫ নং মামলায় মাসাধিককাল বরগুনায় জেলহাজত খেটে জামিনে মুক্ত আছেন। তার বিরুদ্ধে আমতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রী ২৯ জানুয়ারী ঘটনার সত্যতা আছে মর্মে চার্জশীট দাখিল করেছেন। এ ছাড়াও শাহআলমের বিরুদ্ধে রয়েছে আদালত ও বিভিন্ন থানায় অসংখ্য জিডি ও মামলা।

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ