শিরোনাম :
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন’র উদ্যোগে রাজধানীতে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পেরিলা: সম্ভাবনাময়  অর্থকরী নতুন ফসল চরফ্যাশন শহরের ফুটপাত দখলে প্রভাবশালীরা : ঝুঁকি নিয়েই সড়কে হাঁটছেন পথচারীরা মেঘনার ভাঙন ঠেকাতে নির্মাণ হচ্ছে শহর রক্ষা বাঁধ! ভোলার মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে ধ্বস : বন্ধ লঞ্চঘাট ভোলা সহ ১৬ পাসপোর্ট অফিসে ‘অদৃশ্য’ রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং : ব্যয়ের হিসাব থাকলেও মিলেনি বাস্তব প্রমাণ ভোলায় আধুনিকায়নকৃত ১০ শয্যার পুলিশ লাইন্স হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন ভোলাসহ ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু! কৃষিতে এক সম্ভাবনাময় সম্পদ : চায়ের বর্জ্য থেকে জৈব সার

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন’র উদ্যোগে রাজধানীতে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি

সুগন্ধা মজুমদার
  • আপডেট সময় : Thursday, July 30, 2026
  • 40 বার দেখা হয়েছে
অনুসন্ধান ডেস্ক ::
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর শেরেবাংলা নগর ও তেজগাঁও থানা কমিটি এবং এফএমজি ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের সামনে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বিশিষ্ট লেখক ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক গিলবার্ট গমেজ শিশির, শেরেবাংলা নগর থানা কমিটির সভাপতি মো. মেহেদী হাসান মুন্না, সহ-সভাপতি মো. শাহজাহান বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক সিসিলিয়া হিরা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মৌ গমেজ, অর্থ সম্পাদক বিজলী গমেজসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় ড. আজাদ বলেন, “স্বেচ্ছায় রক্তদান মানবতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেবা। একজন সুস্থ মানুষের স্বেচ্ছায় দেওয়া এক ব্যাগ রক্ত একজন অসুস্থ মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। সমাজে নিরাপদ রক্তের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে তরুণ সমাজকে আরও বেশি স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসতে হবে।
নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ
অনুসন্ধান ডেস্ক ::
বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর শেরেবাংলা নগর ও তেজগাঁও থানা কমিটি এবং এফএমজি ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের সামনে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বিশিষ্ট লেখক ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক গিলবার্ট গমেজ শিশির, শেরেবাংলা নগর থানা কমিটির সভাপতি মো. মেহেদী হাসান মুন্না, সহ-সভাপতি মো. শাহজাহান বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক সিসিলিয়া হিরা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মৌ গমেজ, অর্থ সম্পাদক বিজলী গমেজসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এ সময় ড. আজাদ বলেন, “স্বেচ্ছায় রক্তদান মানবতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সেবা। একজন সুস্থ মানুষের স্বেচ্ছায় দেওয়া এক ব্যাগ রক্ত একজন অসুস্থ মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে। সমাজে নিরাপদ রক্তের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে তরুণ সমাজকে আরও বেশি স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসতে হবে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন’র উদ্যোগে রাজধানীতে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি

কৃষি ডেস্ক ::
বর্তমান বিশ্বে নিরাপদ, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও কার্যকর খাদ্যের (Functional Food) চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্যসচেতন ভোক্তাদের কাছে প্রাকৃতিক পুষ্টির উৎস, ভেষজ উপাদান এবং উদ্ভিজ্জ তেলের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে পেরিলা (Perilla frutescens) একটি সম্ভাবনাময় উচ্চমূল্যের (High Value Crop) ফসল হিসেবে বিশ্বব্যাপী কৃষি ও খাদ্যশিল্পে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করেছে।
পূর্ব এশিয়ার জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ভিয়েতনামে শত শত বছর ধরে পেরিলা শাক, মসলা, ভেষজ উদ্ভিদ এবং তেলবীজ ফসল হিসেবে চাষ হয়ে আসছে। বর্তমানে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্যকর খাদ্য ও উদ্ভিজ্জ তেলের উৎস হিসেবে এর চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশের জলবায়ু, মাটির গুণাগুণ এবং উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্যের ক্রমবর্ধমান বাজার বিবেচনায় পেরিলা একটি সম্ভাবনাময় নতুন অর্থকরী ফসল হিসেবে কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
🔳পেরিলা কি?
পেরিলা পুদিনা (Lamiaceae) পরিবারের একটি সুগন্ধি একবর্ষজীবী (Annual Herb) উদ্ভিদ। এর পাতা, কচি ডগা, বীজ এবং বীজ থেকে উৎপাদিত তেল-সবকিছুরই রয়েছে বাণিজ্যিক মূল্য।
পেরিলার সবুজ ও বেগুনি রঙের বিভিন্ন জাত পাওয়া যায়। এর সুগন্ধযুক্ত পাতা সালাদ, স্যুপ, ভর্তা, চা, বিভিন্ন রান্না এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে এর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল আন্তর্জাতিক বাজারে একটি উন্নতমানের স্বাস্থ্যকর ভোজ্য তেল হিসেবে পরিচিত।
🔳পুষ্টিগুণে অনন্য পেরিলা
 পেরিলা মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের সমৃদ্ধ উৎস। এতে রয়েছে-
★ উচ্চমাত্রার ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (Alpha-Linolenic Acid-ALA)
★ শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (Rosmarinic Acid, Flavonoids ও Polyphenols)
★ ভিটামিন A, C ও K
★ ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও জিঙ্ক
★ খাদ্য আঁশ (Dietary Fiber)
★ উচ্চমানের উদ্ভিজ্জ প্রোটিন (বিশেষ করে বীজে)
এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কোষ সুরক্ষা এবং সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
 
🔳সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা
গবেষণালব্ধ তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য তালিকায় পেরিলা অন্তর্ভুক্ত করলে-
★ হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
★ শরীরের প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
★ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।
★ পরিপাকতন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে।
★ ত্বক ও চুলের পুষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
★ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাধ্যমে কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
তবে পেরিলা একটি পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান; এটি কোনো রোগের বিকল্প চিকিৎসা নয়।
 
🔳বাংলাদেশে পেরিলা চাষের সম্ভাবনা
 বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া, উর্বর মাটি এবং দীর্ঘ উৎপাদন মৌসুম পেরিলা চাষের জন্য উপযোগী। পর্যাপ্ত সূর্যালোক, সুনিষ্কাশিত জমি এবং সুষম সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক উৎপাদন সম্ভব।
পেরিলা একটি স্বল্পমেয়াদি ও উচ্চমূল্যের ফসল, যা মাঠ ফসল, বসতবাড়ির আঙিনা, ছাদবাগান এবং সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থাপনায় চাষ করা যায়। এটি কৃষকের ফসল বহুমুখীকরণ (Crop Diversification), পুষ্টি নিরাপত্তা এবং আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
 
🔳চাষাবাদ ব্যবস্থাপনা
জীবনকাল:
পেরিলা একটি একবর্ষজীবী (Annual) ফসল। জাত, আবহাওয়া ও পরিচর্যার ওপর নির্ভর করে এর মোট জীবনকাল সাধারণত ৯০-১২০ দিন।
রোপণের ৪৫-৬০ দিনের মধ্যে কচি পাতা ও ডগা সংগ্রহ করা যায়।
৯০-১২০ দিনের মধ্যে বীজ পরিপক্ব হয় এবং সংগ্রহ উপযোগী হয়।
মাটি নির্বাচন:
উর্বর, ঝুরঝুরে, জৈব পদার্থসমৃদ্ধ এবং সুনিষ্কাশিত দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি পেরিলা চাষের জন্য উপযোগী। মাটির pH ৫.৫-৭.০ হলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
বপন ও রোপণ সময়:
বাংলাদেশের পরিবেশে সাধারণত-
ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল
আগস্ট-সেপ্টেম্বর
সময়ে বপন করা যেতে পারে।
রোপণ দূরত্ব:
সারি থেকে সারি: ৪৫-৬০ সেন্টিমিটার
গাছ থেকে গাছ: ২৫-৩০ সেন্টিমিটার
🔳শতাংশ প্রতি সার ব্যবস্থাপনা
প্রতি ১ শতাংশ জমিতে  সার প্রয়োগ-
পচা গোবর/কম্পোস্ট: ৪০-৫০ কেজি
ইউরিয়া: ৪০০-৫০০ গ্রাম
টিএসপি: ৩০০-৩৫০ গ্রাম
এমওপি (পটাশ): ২০০-২৫০ গ্রাম
জিপসাম: ১৫০-২০০ গ্রাম
জিংক সালফেট: ২০-২৫ গ্রাম (প্রয়োজনে)
বোরিক অ্যাসিড/বোরন সার: ১০-১৫ গ্রাম (প্রয়োজনে)
🔳সার প্রয়োগ পদ্ধতি
 জমি তৈরির সময় গোবর, টিএসপি, এমওপি, জিপসাম, জিংক ও বোরন সার  মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ইউরিয়ার অর্ধেক জমি তৈরির সময় এবং বাকি অর্ধেক রোপণের ২৫-৩০ দিন পর উপরি প্রয়োগ করা ভালো।
🔳পরিচর্যা
নিয়মিত আগাছা দমন করতে হবে।
প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিতে হবে।
মাটির আর্দ্রতা সংরক্ষণ করতে হবে।
রোগ ও পোকা দমনে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা  অনুসরণ করতে হবে।
🔳ফসল সংগ্রহ
 পাতা উৎপাদনের ক্ষেত্রে ৪৫–৬০ দিনের মধ্যে সংগ্রহ শুরু করা যায়। বীজ উৎপাদনের জন্য গাছের ফুল ও বীজ পরিপক্ব হওয়ার পর ৯০–১২০ দিনের মধ্যে সংগ্রহ করতে হয়।
 
🔳অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
 বর্তমানে স্বাস্থ্যকর খাদ্য, ভেষজ পণ্য এবং উদ্ভিজ্জ তেলের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। পেরিলা বীজ ও তেলের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় এটি কৃষকদের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রক্রিয়াজাতকরণ, মূল্য সংযোজন (Value Addition), তেল উৎপাদন এবং রপ্তানিমুখী বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমে পেরিলা বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
🔳ভবিষ্যৎ করণীয়
 বাংলাদেশে পেরিলার বাণিজ্যিক সম্প্রসারণে প্রয়োজন
স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী উচ্চফলনশীল জাত নির্বাচন ও উদ্ভাবন।
মানসম্মত বীজ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী প্লট স্থাপন।
পেরিলা তেল ও মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদনে উদ্যোক্তা তৈরি।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে কার্যকর বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর  ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ।
পেরিলা শুধু একটি সুগন্ধি ভেষজ উদ্ভিদ নয়; এটি পুষ্টি নিরাপত্তা, কৃষি বহুমুখীকরণ এবং উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্য উৎপাদনের একটি সম্ভাবনাময় ফসল।
যথাযথ গবেষণা, মানসম্মত বীজ উৎপাদন, কৃষক প্রশিক্ষণ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা গেলে পেরিলাকে বাংলাদেশে একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। নিরাপদ খাদ্য, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানিমুখী কৃষি উন্নয়নে পেরিলা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
লেখক: ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
★সভাপতি: বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক: বাংলাদেশ বেতার
★EX. সিনিয়র শিক্ষক ও পরীক্ষক: কৃষি শিক্ষা,
    কৃষিতে বারো মাস গ্রন্থ সহ বহু গ্রন্থের লেখক
★উপদেষ্টা: দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

পেরিলা: সম্ভাবনাময়  অর্থকরী নতুন ফসল

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

ভোলার চরফ্যাশন পৌর শহরের ফুটপাত এখন আর পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত নেই। শহরের প্রধান সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত বছরের পর বছর ধরে প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের দখলে থাকায় শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্কদের বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। প্রশাসনের মাঝে মাঝে পরিচালিত উচ্ছেদ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের সরানো হলেও স্থায়ীভাবে ফুটপাত দখল করে থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ স্থানীয়দের।

সম্প্রতি সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সরকারি ট্যাফনাল ব্যারেট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিআরডিবি চত্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ফুটপাতজুড়ে দোকানের মালামাল, নির্মাণসামগ্রী ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রম চলছে। কোথাও ফুটপাতে দোকানের পণ্য সাজিয়ে রাখা হয়েছে, কোথাও আবার স্টিল, লোহা ও আসবাবপত্র তৈরির কাজ চলছে। এছাড়া মোটরসাইকেল ধোয়া, গাড়ির ইঞ্জিন মেরামত এবং ওয়েল্ডিংয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজও সড়ক ও ফুটপাত দখল করেই পরিচালিত হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, পৌর শহরে প্রায় দেড় হাজার ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ফলে পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের সুযোগ প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

চরফ্যাশন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ফুটপাত ব্যবহার করার সুযোগ না থাকায় প্রতিদিন চলন্ত যানবাহনের পাশ দিয়ে সড়ক ব্যবহার করতে হয়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময়ই থাকে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, যারা ফুটপাত দখল করে আছেন, তাদের অনেকেই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। এ কারণে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পান না।

ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নতুন নয়। ২০২১ সালের ১২ মে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হন। ওই ঘটনার পর দখলদারদের বিরুদ্ধে আর দৃশ্যমান কোনো কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে চরফ্যাশন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সোহেল বলেন, সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় বাজার ও শহরের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ ও স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় প্রধান সড়ক থেকে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের সরানো হয়েছে। শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করছেন। ফুটপাত পুরোপুরি দখলমুক্ত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

তবে প্রশাসনের এ দাবির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির পুরোপুরি মিল পাওয়া যায়নি। শহরের অধিকাংশ ফুটপাত এখনো বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে। ফলে নিরাপদে চলাচলের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ পথচারীরা। স্থানীয়দের দাবি, বিচ্ছিন্ন উচ্ছেদ অভিযান নয়, স্থায়ীভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নিয়মিত নজরদারি ও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

চরফ্যাশন শহরের ফুটপাত দখলে প্রভাবশালীরা : ঝুঁকি নিয়েই সড়কে হাঁটছেন পথচারীরা

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পানিতে মেঘনার স্রোত এবারও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। নদীর সেই তীব্র আঘাতে ভোলা শহর রক্ষা বাঁধের ইলিশা অংশে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে।

ধসে পড়েছে শত শত সিসি ব্লক, নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে তীররক্ষা কাঠামো। ইতোমধ্যে ইলিশা লঞ্চঘাটের পন্টুন সরিয়ে নিতে হয়েছে, ব্যাহত হয়েছে যাত্রী ওঠানামা। ভাঙনের মুখে পড়েছে জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-যোগাযোগ কেন্দ্র, ফেরিঘাট, মাছঘাট, বাজার ও আশপাশের জনপদ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে শুধু ইলিশা নয়, ঝুঁকিতে পড়বে পুরো ভোলা শহর রক্ষা বাঁধ।

প্রায় প্রতি বর্ষাতেই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না। নদীর ভাঙনে একদিকে যেমন বসতভিটা ও কৃষিজমি হারাচ্ছেন মানুষ, অন্যদিকে দুর্বল হয়ে পড়ছে উপকূলীয় বাঁধ। অতিজোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়ের সময় সেই বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। বছরের পর বছর এমন দুর্ভোগের পর এবার মেঘনার ভাঙন ঠেকাতে বড় পরিসরে নদীশাসন ও বাঁধ পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার।

এ লক্ষ্যে ‘মেঘনা নদীর ভাঙন হতে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা’ শীর্ষক একটি নতুন প্রকল্প আগামী ২২ জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। পুরো অর্থই সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের মার্চ থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।

সম্প্রতি সরেজমিনে ইলিশা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙনের মাত্রা দ্রুত বাড়ছে। লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট ও মাছঘাটসংলগ্ন এলাকায় তীররক্ষা ব্লক ধসে পড়েছে। কোথাও কোথাও নদী তীরবর্তী মাটিতে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মালিকেরা। নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, গত ১৪ জুলাই ভোর থেকে ইলিশা লঞ্চঘাটসংলগ্ন এলাকায় সিসি ব্লক ধস শুরু হয়। এরপর কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় চার স্তরের শত শত সিসি ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি আরও প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে, যা নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

ইলিশা লঞ্চ ও ফেরিঘাট এলাকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভাঙন এভাবে চলতে থাকলে তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। বহু পরিবার বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে নদী আরও ভেতরের দিকে অগ্রসর হবে।

ভাঙনের প্রভাব ইতোমধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও পড়েছে। ব্লক ধসের কারণে ইলিশা লঞ্চঘাটের পন্টুন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ সেটি অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছে। এতে যাত্রী ওঠানামা ব্যাহত হচ্ছে। ভোলা-ঢাকা ও ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌপথের যাত্রীদের বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ও ধনিয়া ইউনিয়ন এবং দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের চার কিলোমিটার নদীতীর বর্তমানে অরক্ষিত। প্রতি বছর মেঘনার ভাঙনে কৃষিজমি, বসতবাড়ি, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা হুমকির মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে উপকূলীয় বাঁধ দুর্বল হয়ে যাওয়ায় অতিজোয়ার ও জলোচ্ছ্বাসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় চার কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ, ছয় কিলোমিটার উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন, ৫ দশমিক ২০ কিলোমিটার বাঁধের ঢাল সংরক্ষণ এবং দুটি পানি নিষ্কাশন কাঠামো নির্মাণ করা হবে। পরিকল্পনা কমিশনের মতে, এসব কাজ সম্পূর্ন হলে নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি কমবে এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে।

পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, মেঘনা নদীর করাল গ্রাসে প্রতিবছর হাজার হাজার একর জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকায় ভাঙন বর্তমানে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

একই সময়ে অতিজোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছ্বাসে শিবপুরে প্রায় ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার, ধনিয়ায় ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার এবং মেদুয়ায় প্রায় শূন্য দশমিক ৮ কিলোমিটার উপকূলীয় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পোল্ডারের ভেতরে পানি ঢুকে কৃষিজমি, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, বাজার ও বসতবাড়ি প্লাবিত হচ্ছে।

কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২ হাজার ২০০ হেক্টর কৃষিজমি জলাবদ্ধতা ও বন্যার ক্ষতি থেকে সুরক্ষা পাবে। একই সঙ্গে প্রায় ৬৫ হাজার ৪৭২ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভোলা সদর ও দৌলতখানের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, কৃষিজমি ও জনবসতি মেঘনার ভাঙন থেকে সুরক্ষা পাবে। উপকূলীয় বাঁধ আরও শক্তিশালী হবে, বন্যা ব্যবস্থাপনার উন্নতি হবে এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যাও অনেকাংশে কমে আসবে। তবে ভোলাবাসীর প্রত্যাশা, শুধু প্রকল্প অনুমোদন নয়, দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমেই মিলবে মেঘনার আগ্রাসন থেকে স্থায়ী মুক্তি।

এদিকে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ জানিয়েছেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছর অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলেও স্থায়ী নদীশাসনের কাজ না হওয়ায় সংকট ফিরে আসে। জরুরি জিওব্যাগের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নই একমাত্র টেকসই সমাধান।

পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানান, উপকূলীয় এলাকায় মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে আগামী অর্থবছর থেকেই সরকারের ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী প্রকল্পের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, চোখের সামনেই মানুষের বসতভিটা, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। জনগণের পাশে থাকা এবং তাদের জানমাল রক্ষা করা আমা

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

মেঘনার ভাঙন ঠেকাতে নির্মাণ হচ্ছে শহর রক্ষা বাঁধ!

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

ভোলার ইলিশায় মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ সিসি ব্লকে ৩০ মিটার এলাকায় ধস সৃষ্টি হয়েছে। এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। ব্লকের ধসের কারণে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে দোকান পাট। ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও সিসি ব্লকে ধসের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে ইলিশা-ঢাকা রুটের একটি লঞ্চঘাটও। দ্রুত সিসি ব্লকের ধস বন্ধ না করলে হুমকির মুখে পরবে শহররক্ষা বাঁধও। স্থানীয়দের দাবি, পানিতে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে তাদের বসতঘর। এছাড়াও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রম নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে তাদের।

ভোলা পানি উন্নয়ন অফিস তথ্য মতে, ২০১৭-২১ সাল পর্যন্ত একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশার ইউনিয়নের সাজি কান্দি থেকে রাজাপুর ইউনিয়নের জোর খাল পর্যন্ত সিসি ব্লক দ্বারা ৪ কিলোমিটার নদীর তীর সংরক্ষণ করা হয়। এসময় প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার সিসি ব্লক দ্বারা বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, অমাবস্যার প্রভাবে মেঘনার নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রভাবিত হয়ে গত ১৪ জুলাই ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নে ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকার প্রায় ৩০ মিটার এলাকায় সিসি ব্লকে ধস সৃষ্টি হয়েছে। উপর থেকে একে একে সিসি ব্লক ধসে পরছে মেঘনা নদীতে। এতে আতঙ্কিত ভোলা সদরের পূর্ব ইলিশা, পশ্চিম ইলিশা ও রাজাপুর ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা। হুমকির মুখে পড়েছে শহর রক্ষা বাঁধও। এদিকে সিসি ব্লকে ধসের কারণে ওই এলাকার দোকানপাট সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিয়াজ হোসেন ও মো. রাজীব জানান, মেঘনা নদীর পানির তীব্র স্রোতে ইলিশার ইলিশা-ঢাকা লঞ্চঘাটের পাশে সিসি ব্লকে ধস সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই সিসি ব্লকগুলো নদীর গর্ভে বিলীন হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভাঙতে ভাঙতে সাড়ে ৩ কিলোমিটার সিসি ব্লকের বাঁধটিও ভেঙে যাবে। এতে পূর্ব ইলিশা, রাজাপুর ও পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের হাজার হাজার বসতঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা পানিতে প্লাবিত হবে। লক্ষাধিক মানুষ হবে গৃহহীন।

তারা আরও জানান, প্রায় পাঁচ বছর আগে সিসি ব্লক দ্বারা নদীর তীর সংরক্ষণ ও বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এরপর আর কোনো খোঁজ খবর নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। মূলত পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতার কারণে সিসি ব্লকে ধস সৃষ্টি হয়েছে। যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড সংস্কার কাজ করতো তাহলে ধস হতো না।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হানিফ ও মো. আরিফ বলেন, ‘তারা বেশ কয়েক বার মেঘনার ভাঙনের কারণে বসতঘর ও জমি জমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। বর্তমানে ইলিশা লঞ্চঘাটের পাশে সরকারি জমিতে বসতঘর উঠিয়ে বসবাস করছেন। এখন ব্লক ধসের কারণে আতঙ্কিত রয়েছেন তারা।’

তারা আরও বলেন, ‘আবারও যদি ভাঙনের শিকার হন, তাহলে নতুন করে জমি কেনার মতো সামর্থ্য নেই আর কোথাও যাওয়ার জায়গাও নেই তাদের।’

ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকার ব্যবসায়ী মো. মাকসুদ বলেন, ‘ব্লক বাঁধের ধ্বসের কারণে ইলিশা টু ঢাকার বড় লঞ্চঘাটটি বন্ধ রয়েছে। ওই লঞ্চঘাটটি সরিয়ে অন্যস্থানে নিয়ে যাবে। বর্তমানে ছোট লঞ্চঘাটে লঞ্চ যাতায়াত করছে। ফলে এখানকার ব্যবসায়ীদের বেচা-বিক্রি বন্ধ। এছাড়াও ব্লক ধসের কারণে এ ঘাটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তারা ভেঙে নিয়ে যাচ্ছেন। কারণ যে কোনো সময় দোকান পাট ভাঙনের শিকার হতে পারে। ব্লক ধ্বসের কারণে দুইটি দোকান ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে।

ঘাটের আরেক ব্যবসায়ী মো. সাঈদ বলেন, ‘তাদের আর্থিক সচ্ছলতা নেই যে ইলিশা বাজার বা অন্য কোথাও গিয়ে লাখ টাকা অ্যাডভান্স দিয়ে দোকান ঘর নিয়ে ব্যবসা করবেন। তারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তাই এ ঘাটে বেচা-বিক্রি দিয়েই সংসার ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন।’

এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়া উদ্দিন আরিফ বলেন, সিসি ব্লকের ধসের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে বিআইডব্লিউটিএ এর মাধ্যমে ইলিশা লঞ্চঘাটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইলিশা ঢাকা রুটের ইলিশায় দুইটি লঞ্চঘাটের মধ্যে বর্তমানে আরেকটি লঞ্চঘাট চালু রয়েছে। এছাড়াও ব্লক ধসের স্থানে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ করতে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। ৫০ মিটার এলাকায় আপাতত প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগ ফেলা হবে। আশা করি দ্রুত কাজ শুরু করা যাবে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলার মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধে ধ্বস : বন্ধ লঞ্চঘাট

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের (রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং) ব্যবস্থা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ও ব্যয়ের তথ্য থাকলেও বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে বৃক্ষরোপণ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও ভবনের নির্মাণমান নিয়েও একাধিক অনিয়ম ও দুর্বলতার তথ্য উঠে এসেছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রভাব মূল্যায়ন প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে আধুনিক পাসপোর্ট সেবা নিশ্চিত করতে ‘১৭টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট (সংশোধিত ১৬টি) অফিস নির্মাণ (২য় সংশোধন)’ প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। শুরুতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১০৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৯ হাজার টাকা। পরে তা বাড়িয়ে প্রায় ১০৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা করা হলেও শেষ পর্যন্ত ব্যয় হয় ৯৭ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুর, জামালপুর, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ভোলা, শরীয়তপুর, সুনামগঞ্জ, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা, নেত্রকোনা, নওগাঁ, মাদারীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও রাজবাড়ীতে মোট ১৬টি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস নির্মাণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় গাজীপুরের কার্যালয় পরবর্তী পর্যায়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।

আইএমইডির মূল্যায়নে দেখা গেছে, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামোর অংশ হিসেবে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য ১৫ লাখ ১ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদনে (পিসিআর) এ খাতে ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্যও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সরেজমিন পরিদর্শনে কোনো কার্যালয়েই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি।

একইভাবে, বনায়নের জন্য ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ এবং ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য থাকলেও অধিকাংশ কার্যালয় প্রাঙ্গণে পর্যাপ্ত বৃক্ষরোপণের প্রমাণ মেলেনি। এ কারণে ব্যয়ের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে আইএমইডি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পটি ২০২১ সালে শেষ হলেও এখন পর্যন্ত এর কোনো বাহ্যিক অডিট সম্পন্ন হয়নি। দ্রুত পূর্ণাঙ্গ অডিট সম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এদিকে প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। জামালপুর, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, মাগুরা, বাগেরহাট, নেত্রকোনা ও নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল রয়েছে। সাতক্ষীরা কার্যালয়ে মেরামতের কাজ চলছে। শরীয়তপুর কার্যালয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল থাকলেও স্টোরেজ ব্যাটারি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ভোলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সৌর প্যানেলের একটি অংশ নষ্ট অবস্থায় রয়েছে।

নির্মাণমান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইএমইডি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ভবনের মান সন্তোষজনক নয়। ভবনের বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টার খসে পড়েছে, বাইরের রঙ নষ্ট হয়েছে এবং দেয়ালে শেওলা জমেছে। বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় ভবনটি ঝুঁকির মধ্যেও রয়েছে।

এ ছাড়া মাদারীপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে বজ্রনিরোধক দণ্ড ভবনের সর্বোচ্চ স্থানে স্থাপন না করায় বজ্রপাতের সময় ভবন ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বাগেরহাট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর না হওয়ায় প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতকাজও ব্যাহত হচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াতেও প্রশাসনিক অস্থিরতার চিত্র উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। ২০১৬ সালের ৩০ জুন একনেকে অনুমোদনের পর ১৭ জুলাই প্রথম প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হলেও বাস্তবায়নকালে মোট ছয়বার প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন করা হয়।

আইএমইডি সুপারিশ করেছে, অচল সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা দ্রুত সচল করে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। বাগেরহাট কার্যালয় দ্রুত হস্তান্তর, মাদারীপুরে বজ্রনিরোধক দণ্ড পুনঃস্থাপন এবং ভোলা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নিম্নমানের নির্মাণকাজ দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও বনায়ন খাতে দেখানো ব্যয়ের বাস্তবতা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ই-পাসপোর্ট আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই আরও সহজ ও নির্ভুল করতে ই-পাসপোর্টের বায়োমেট্রিক ডাটাবেজকে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বায়োমেট্রিক ডাটাবেজের সঙ্গে সমন্বয়ের সুপারিশ করেছে আইএমইডি।

এ বিষয়ে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অর্থ) এটিএম আবু আসাদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তার কাছে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। বিস্তারিত জেনে পরে মন্তব্য করবেন। তবে তার দাবি, দেশের বিভিন্ন জেলার পাসপোর্ট অফিস অন্য অনেক সরকারি কার্যালয়ের তুলনায় বেশি পরিচ্ছন্ন এবং সেখানে তুলনামূলক বেশি গাছপালা রয়েছে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলা সহ ১৬ পাসপোর্ট অফিসে ‘অদৃশ্য’ রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং : ব্যয়ের হিসাব থাকলেও মিলেনি বাস্তব প্রমাণ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভোলা জেলা পুলিশ লাইন্সে ১০ শয্যার আধুনিকায়নকৃত হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সকাল ১০টায় জমকালো এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার। লাল ফিতা কেটে, নামফলক উন্মোচন এবং বিশেষ দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।

এ সময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আহসানুজ্জামান, ভোলা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম, লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ। ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, ডিআইও শেখ মোনায়েম হোসেন এবং সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হকসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

উদ্বোধন শেষে পুলিশ সুপার হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষ, শয্যা এবং চিকিৎসা সেবার সুযোগ-সুবিধাগুলো ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বরতদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ কাওছার বলেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এই হাসপাতালটিকে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। আমরা আশা করি, এই আধুনিকায়নের ফলে এখন থেকে আরও উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।

আধুনিক চিকিৎসা সামগ্রী ও উন্নত পরিবেশ সম্বলিত এই ১০ শয্যার হাসপাতালটি পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসা সেবায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলায় আধুনিকায়নকৃত ১০ শয্যার পুলিশ লাইন্স হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।

এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেত, জিজেইউএস এর উপ পরিচালক গোপাল চন্দ্র শীল সহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলাসহ ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু!

ভোলাসহ ১০ জেলায় বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু!

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধসহ বিভিন্ন দেওয়ানি বিরোধ আদালতে মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের ১০ জেলায় একযোগে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ভোলায়ও অনুষ্ঠিত হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিচার, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের কনফারেন্স রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধিত) আইন, ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু বিরোধের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে হবে। এসব বিরোধের মধ্যে রয়েছে জমি সংক্রান্ত প্রি-এম্পশন, পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া, পিতামাতার ভরণপোষণ এবং যৌতুক নিরোধ আইনের আওতাধীন নির্দিষ্ট বিষয়।

এ উপলক্ষে ভোলা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সেমিনার কক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা ও দায়রা জজ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইব্রাহীম মিয়া, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বেল্লাল হোসেন, মো. এনায়েত উল্লাহ ও এ. এস. এম. তারিক শামস, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. শহীদুল ইসলাম, ভোলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ফরিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম বাসেত, জিজেইউএস এর উপ পরিচালক গোপাল চন্দ্র শীল সহ বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীরা আদালতে মামলা দায়েরের আগেই আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাবেন। এতে একদিকে যেমন আদালতের মামলার চাপ কমবে, অন্যদিকে দ্রুত, সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষে বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

কৃষি ডেস্ক ::
বর্তমান কৃষিতে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য জৈব সারের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত চায়ের পাতা সাধারণত বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হলেও এটি আসলে একটি মূল্যবান জৈব সম্পদ। ব্যবহৃত চা-পাতায় প্রচুর জৈব পদার্থ, নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ফসফরাসসহ বিভিন্ন অণুপুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে, যা মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়ের বর্জ্য সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার করলে এটি মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক গুণাগুণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
🔳 চায়ের বর্জ্য জৈব সারের প্রধান উপকারিতা
১. মাটির জৈব পদার্থ বৃদ্ধি করে
চায়ের বর্জ্যে থাকা জৈব উপাদান মাটির অর্গানিক ম্যাটার বৃদ্ধি করে। ফলে মাটির গঠন উন্নত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে মাটির উৎপাদনশীলতা বজায় থাকে।
২. মাটির উর্বরতা ও পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করে
চায়ের বর্জ্যে নাইট্রোজেন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও বিভিন্ন অণুপুষ্টি উপাদান থাকে, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও ফলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৩. পানি ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে
বেলে বা হালকা মাটিতে চায়ের বর্জ্য মিশিয়ে দিলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ফলে সেচের প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমে।
৪. মাটির উপকারী অণুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি করে
জৈব পদার্থ মাটির উপকারী ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও কেঁচোর কার্যক্রম বৃদ্ধি করে। এর ফলে মাটিতে পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা বাড়ে।
৫. শিকড়ের বৃদ্ধি ও গাছের স্বাস্থ্য উন্নত করে
চায়ের বর্জ্য মাটিকে ঝুরঝুরে রাখে, ফলে শিকড় সহজে বিস্তার লাভ করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।
৬. রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরতা কমায়
নিয়মিত জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে রাসায়নিক সারের আংশিক বিকল্প হিসেবে কাজ করে, যা কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে সহায়তা করে।
৭. পরিবেশ সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে
চায়ের বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত হয় এবং পরিবেশ দূষণ কমে। এটি টেকসই কৃষি ব্যবস্থার একটি কার্যকর উপাদান।
🔳 কোন কোন ফসলে ব্যবহার করা যায়?
 সবজি ফসল (টমেটো, বেগুন, মরিচ, বাঁধাকপি ইত্যাদি)
 ফলদ গাছ (আম, পেয়ারা, লেবু, ডালিম, পেঁপে)
 ফুলের গাছ (গোলাপ, গাঁদা, জবা)
 ছাদবাগান ও টবের গাছ
 নার্সারির চারা উৎপাদনে
🔳ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি
 ব্যবহৃত চা-পাতা থেকে দুধ ও চিনির অংশ পরিষ্কার করে নিতে হবে।
 ২–৩ দিন রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।
 প্রতি টব বা গাছের গোড়ায় অল্প পরিমাণে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।
কম্পোস্ট তৈরির উপাদান হিসেবেও চায়ের বর্জ্য ব্যবহার করা যায়।
 অন্যান্য জৈব সারের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে আরও ভালো ফল পাওয়া যায়।
🔳 ব্যবহারে সতর্কতা
অতিরিক্ত পরিমাণে প্রয়োগ করা যাবে না।
ভেজা অবস্থায় দীর্ঘদিন জমিয়ে রাখলে ছত্রাক জন্মাতে পারে।
দুধ ও চিনি মিশ্রিত চা-পাতা সরাসরি ব্যবহার করা উচিত নয়।
মাটির অম্লতা বেশি হলে সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করা উত্তম।
চায়ের বর্জ্য কোনো ফেলনা বস্তু নয়; বরং এটি কৃষি ও বাগান ব্যবস্থাপনায় একটি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব জৈব সার। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে চায়ের বর্জ্যের যথাযথ ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।  তাই আসুন, দৈনন্দিন জীবনের এই সাধারণ বর্জ্যকে মূল্যবান কৃষি সম্পদে পরিণত করি এবং সবুজ ও নিরাপদ কৃষি গড়ে তুলতে সচেষ্ট হই।
লেখক: 
★সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক,বাংলাদেশ বেতার
★সাবেক সিনিয়র শিক্ষক ও পরীক্ষক (কৃষি শিক্ষা)
★উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

কৃষিতে এক সম্ভাবনাময় সম্পদ : চায়ের বর্জ্য থেকে জৈব সার