
ঝালকাঠি প্রতিনিধি,৭ এপ্রিল ::
ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের হাজরাগাতী এলাকায় এক বিধবা নারীর বসতবাড়ি ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ জামালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর কলেজ পড়ুয়া কন্যা আফরোজা আক্তার তুবা বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। মামলাটি ঝালকাঠি ডিবি পুলিশ তদন্ত করেছেন। গত রোববার এ বিষয়ে সাক্ষ্য গ্রহন করেছেন ডিবির উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো: তারিকুল ইসলাম।
ঝালকাঠি আদালতে দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাজরাগাতী গ্রামের বাসিন্দা নাসিমা বেগমের কন্যা আফরোজা বেগম দীর্ঘদিন ধরে তার পৈত্রিক বসতবাড়িতে মা-বোন-ভাইকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। তিনি জানিয়েছেন তার পিতা না থাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের সম্পত্তির প্রতি লোভ সৃষ্টি করে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে।
গত সপ্তাহে জামাল প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পাশ্ববর্তী কুলকাঠি ইউনিয়নের রাজা নামে এক যুবককে বাড়িতে এনে মামলা তুলে নিতে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখায়। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ধাওয়া করলে ঐ যুবক পালানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ঝালকাঠি থানা পুলিশ তাকে টেকেরহাট বাজার থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৬ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একই বাড়ির মছেল উদ্দিনের পুত্র জামাল হোসেনের ও তার অনুসারীরা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ১৪-১৫জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন ভুক্তভোগীর বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় তারা ঘরের টিনের বেড়া কুপিয়ে, দরজা-জানালা ভাঙচুর করে এবং বাধা দিতে গেলে বাদীর মা-সহ পরিবারের সদস্যদের মারধর করে গুরুতর জখম ও শ্লীলতাহানী ঘটায়।
হামলাকালে তারা বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে ও গাছপালা কেটে ফেলে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন এবং ঘরের ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে নিয়ে নেয়।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তুবা বলেন, আমার পিতা মৃত্যুর পর পরিবারের নিরাপত্তার জন্য মামা বাড়ির পাশে জমি ক্রয় করে বাড়িঘর নির্মান করি। আমার পিতা না থাকায় তারা আমাদের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করতে চায়। আমরা এর ন্যায় বিচার চাই।
এদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ঝালকাঠি সদর থানায় আমার মা ও নাবালক ছোট ভাইসহ মামাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে। এ মামলায় আমার আত্মীয় স্বজন একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দুপক্ষের মধ্যে জমাজমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর সুষ্ঠু সমাধান হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ জামাল হোসেন জানিয়েছেন নাসিমা বেগম ৬ দাগে সাড়ে ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করে, কিন্তু একদাগে ভোগদখল করায় এ বিরোধের সৃষ্টি।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন