শিরোনাম :
মেঘনার বুকে জন্ম ! সেখানে সংসার !! সেখানেই মৃত্যু !!! ভোলায় চালু হচ্ছে ‘ফুডল্যান্ড মিট কর্নার’ ঝড়-বৃষ্টিতে ভোলায় রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি : দিশেহারা কৃষক বোরহানউদ্দিনে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানাসহ ২ অবৈধ ইটের ভাটা বন্ধ করেন প্রশাসন এতিম শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিলো ভোলা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাঈম দু’দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার নগরীতে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত বরিশাল নগরীর জিয়াসড়কে শীতলা ও কালীমাতার মন্দির সুরক্ষা কমিটি গঠন ভোলায় কালবৈশাখী ঝড়ে অর্ধ শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত : সড়কে গাছ উপড়ে ভোগান্তি বোরহানউদ্দিনে জেলেদের প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

প্লাস্টিক দূষণ: আধুনিক সুবিধার আড়ালে নীরব পরিবেশগত বিপর্যয়!

আলহাজ্ব ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ
  • আপডেট সময় : Sunday, December 28, 2025
  • 1089 বার দেখা হয়েছে
অনুসন্ধান ডেস্ক::      
আধুনিক সভ্যতার অগ্রযাত্রায় প্লাস্টিক একদিকে আমাদের জীবনকে করেছে সহজ, সাশ্রয়ী ও গতিশীল; অন্যদিকে নীরবে জন্ম দিয়েছে এক গভীর পরিবেশগত সংকট।
স্বল্পমূল্য, হালকা ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় প্লাস্টিক আজ সর্বত্র ব্যবহৃত। কিন্তু এই ‘দীর্ঘস্থায়ীত্বই’ প্রকৃতির জন্য সবচেয়ে বড় অভিশাপ। অপচনশীল এই বস্তু শত শত বছরেও মাটিতে মিশে যায় না; ফলে পৃথিবীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য আজ মারাত্মক হুমকির মুখে।
আলবার্ট আইনস্টাইন যথার্থই বলেছিলেন-
“The world will not be destroyed by those who do evil, but by those who watch them without doing anything”
অর্থাৎ, মন্দকারীর চেয়ে নীরব দর্শকই ধ্বংসের বড় কারণ।
পরিবেশের ওপর প্লাস্টিকের বহুমাত্রিক প্রভাব
প্লাস্টিক বর্জ্য মাটিতে জমে মাটির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট করে এবং কৃষিজমির উর্বরতা হ্রাস করে। শহর ও গ্রামে ড্রেন, খাল ও নদীতে জমে থাকা প্লাস্টিক সৃষ্টি করে জলাবদ্ধতা, যা বন্যা ও জলনিষ্কাশন সংকটকে আরও তীব্র করে তোলে।
সমুদ্র ও নদীতে প্রতিনিয়ত নিক্ষিপ্ত প্লাস্টিক জলজ প্রাণীর অস্তিত্বকে মারাত্মকভাবে বিপন্ন করছে। মাছ, কচ্ছপ ও পাখি প্লাস্টিককে খাদ্য ভেবে গ্রহণ করে প্রাণ হারাচ্ছে।
সমুদ্রবিজ্ঞানী জ্যাক কুস্টো সতর্ক করে বলেছিলেন—
“Water and air, the two essential fluids on which all life depends, have become global garbage cans”
আজ সত্যিই পানি ও বাতাস বৈশ্বিক আবর্জনার আধারে পরিণত হয়েছে।
এছাড়া প্লাস্টিক পোড়ালে নির্গত ডাই-অক্সিন ও ফিউরানজাতীয় বিষাক্ত গ্যাস বায়ুদূষণ বাড়ানোর পাশাপাশি ক্যান্সারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
মানবস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হুমকি
ভাঙা প্লাস্টিকের অতি সূক্ষ্ম কণা-মাইক্রোপ্লাস্টিক-আজ পানি, মাছ, লবণ এমনকি বাতাসেও ছড়িয়ে পড়েছে। খাদ্যচক্রের মাধ্যমে এগুলো মানুষের শরীরে প্রবেশ করে হরমোনজনিত সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ ও স্নায়বিক জটিলতার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
প্লাস্টিক দূষণ রোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে-
★ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন
★ পাট, কাপড়, কাগজ ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহার
★ বর্জ্য পৃথকীকরণ ও পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা জোরদার
★ শিল্পকারখানায় পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগ
★ কঠোর আইন বাস্তবায়নের পাশাপাশি গণসচেতনতা বৃদ্ধি
এসব অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
পরিবেশবিদ র‍্যাচেল কারসনের ভাষায়-
“In nature, nothing exists alone.”
প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
প্লাস্টিক দূষণ কেবল একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়; এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক সংকটেরও প্রতিচ্ছবি। আজ আমরা যদি সাময়িক সুবিধার মোহে প্রকৃতিকে উপেক্ষা করি, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা ক্ষমার অযোগ্য হয়ে থাকব। তাই এখনই সময়-ব্যবহার নয়, বিবেচনা বদলানোর; প্লাস্টিকের পক্ষে নয়, প্রকৃতির পক্ষে দাঁড়ানোর।
লেখক :
★ সভাপতি,বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★ উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য: দৈনিক গ্রামীণ কৃষি
     দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ
★ সাধারণ সম্পাদক, আমরা পল্লবী বাসী, ঢাকা
নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
জাহানুর বিবি জানেন না তাঁর বয়স কত। শৈশবের স্মৃতি বলতে তাঁর আছে নৌকায় পাতা বাবা-মায়ের সংসার আর তাঁদের সঙ্গে মেঘনার জলের বুকে ভেসে থাকার বিরতিহীন যাত্রা। তাঁর জন্ম এই নৌকায়। অল্প বয়সে বিয়ের পর সংসার গড়েছেন আরেক নৌকায়। এখন হয়তো বয়স ৪০ বা কিছুটা বেশি। পুরো একটা জীবন তাঁর কেটে গেল এই জলের বুকে।

জাহানুর বিবির সঙ্গে দেখা হয় ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ফেরিঘাটের অদূরে মেঘনার তীরে। দুপুরের প্রখর রোদে একটু জিরিয়ে নিচ্ছিলেন। একটু পরই মাছ ধরতে যাবেন নদীতে। তাঁর পরনের সুতির শাড়ির আঁচল হাতের মুঠিতে নিয়ে কিছু একটা আবদার করছিল একটি শিশু। আমার দিকে হেসে বললেন, ‘ও আমার মেয়ে, নাম কোহিনূর।’ শিশুটির চোখের মণি দুটি হীরার মতো। নামের প্রতি সুবিচার তার চাহনিতে।

আমাদের শহুরে কিংবা গ্রামীণ মানুষদের জীবনে উৎসব, আনন্দ কিংবা বেদনা পালনের যেমন সুযোগ থাকে, জাহানুর বিবিদের তা নেই। তাঁদের আছে কেবল সংগ্রাম আর টিকে থাকার লড়াই। মাছ ধরতে পারলে তা বেচে চুলায় হাঁড়ি চড়বে। ফলে রোদ-বৃষ্টির দোহাই নেই। আবার যতই ঝড় আসুক, এই নৌকায়, এই জলের বুকে তাঁদের ভেসে থাকতে হবে। এই পৃথিবীর বুকে সত্যিই কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই তাঁদের।

ইলিশা ঘাট থেকে তিন কিলোমিটার দূরে রাজাপুর খাল। এটি মেঘনায় পড়েছে। ভাসমান এই জীবনের আশ্রয় হিসেবে এখন খালেই রাত যাপন করেন তাঁরা। সেখানে আছে আরও শ খানেক পরিবার। সবাই মানতা সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁরা মূলত জলযাযাবর। নিজেদের বেদে হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

জাহানুর বিবি বললেন, ‘আমাদের জাগা নাই, জমিন নাই। কী খাইয়া বাঁচমু? মাছ ধরা ছাড়া উপায় নাই। চাইর মেয়ে, এক ছেলে আমার। স্বামী-সন্তানদের নিয়া মাছ ধরি। এই ধরেন, হাতিয়া, রামগতি, মতিরহাট এদিকেও চলে যাই মাছ ধরতে। আশপাশে ঘাট যেখানে পাই, সেখানে বেচে দিই।’

মাছ ধরে যে টাকা পান তা দিয়ে সংসার চলে? এমন প্রশ্নের পর জাহানুর বিবির চোখে বিষাদ নেমে আসে। খানিকটা চুপ করে বললেন, ‘না…আরও দেনা থাকে। দোকানের দেনা, দাদনের দেনা…’

নদীতে যখন ঝড় ওঠে তখন নৌকা নিয়ে খালে ঢুকে পড়েন তাঁরা। কখনো কখনো হঠাৎ ঝড় ওঠে। তখন আসলে ফেরার উপায় থাকে না। তটস্থচিত্তে নৌকা তীরে এনে ঝড় থামার অপেক্ষায় থাকেন।

মানতাদের নৌকায় অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা নিয়ে বড় হয় শিশুরা। যেসব শিশুদের সাঁতার শেখার বয়স হয়নি, ২৪ ঘণ্টাই তাদের পা নৌকার সঙ্গে একটি দড়িতে বাঁধা থাকে। তা না হলে হামাগুড়ি দিয়ে বা কোনো কারণে নদীতে পড়ে গেলেই নিশ্চিত মৃত্যু। গহিন জলে লাশটিও খুঁজে পাওয়া যাবে না। অনেক বছর আগে জাহানুর বিবির একটি ছেলে এভাবে মেঘনায় পড়ে তলিয়ে গিয়েছিল।

মানতাদের এখন জাতীয় পরিচয়পত্র আছে। তাঁরা ভোটও দেন। তবে এর বাইরে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কোনো সুযোগ তাঁরা পান না। তাঁদের জেলে কার্ড নেই, ফলে সরকারের তরফে কোনো বরাদ্দের আওতায় তাঁরা পড়েন না।

জাহানুর বিবির সঙ্গে যখন কথা হচ্ছিল, পাশে বসেছিলেন তাঁর স্বামী মো. ইব্রাহিম। বয়স একবার বললেন ৫০, আবার বললেন ৫৫। তাঁরও জন্ম এমন একটি নৌকায়। এতগুলো বছর ধরে জলযাযাবরের জীবন কাটিয়ে এখন তিনি ক্লান্ত। মাটির বুকে একটি ঘর পেতে চান তিনি। সরকারের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের মতো কোনো একটাতে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেই চলবে। তিনি বললেন, ‘ঝড়ের মধ্যে স্ত্রী, বাচ্চাকাইচ্চা নিয়া মরি, না বাঁচি, আল্লায় রাখবে, না লইয়া যাইবে-এর ঠিক থাকে না। একখান ঘর হইলে খুব সুবিধা হয়।’

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

মেঘনার বুকে জন্ম ! সেখানে সংসার !! সেখানেই মৃত্যু !!!

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোজনরসিকদের জন্য ভোলায় প্রথমবারের মতো যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘ফুডল্যান্ড মিট কর্নার’। ভোলা শহরের হোমিওপ্যাথিক কলেজ মোড় এলাকায় সুন্দরবন কুরিয়ার অফিস সংলগ্ন সড়কের দক্ষিণ পাশে নান্দনিক পরিবেশে গড়ে তোলা হয়েছে এই খাবার প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিতে দুম্বা, উট ও ভেড়ার মাংসের পাশাপাশি নিয়মিতভাবে গরু ও খাসির মাংস পরিবেশন করা হবে। বাসমতি চালের ভাতের সঙ্গে সুলভ মূল্যে এসব খাবার উপভোগ করতে পারবেন ক্রেতারা। এছাড়া বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বাহারি সালাদ ও বিভিন্ন স্পেশাল আইটেম।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজকীয় পরিবেশে রুচিশীল খাবারের আয়োজনের মাধ্যমে ভোজন বিলাসীদের জন্য ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য। বাহারি আলোকসজ্জা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও আধুনিক সাজসজ্জা ইতোমধ্যে দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। শুধু খাবার নয়, বিনোদনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে এখানে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরতে বাউল শিল্পীদের সরাসরি সংগীত পরিবেশনার আয়োজন থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সপ্তাহের বৃহস্পতি ও শুক্রবার বিশেষভাবে দুম্বা ও উটের মাংস পরিবেশন করা হবে। এছাড়া আগাম অর্ডারের ভিত্তিতেও স্পেশাল খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মনোরম পরিবেশে খাবার উপভোগের জন্য সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ফুডল্যান্ড মিট কর্নার কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলায় চালু হচ্ছে ‘ফুডল্যান্ড মিট কর্নার’

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
টানা বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে ভোলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গত কয়েক দিনের দুর্যোগে জেলায় প্রায় ২১ কোটি টাকার রবি শস্যের ক্ষতি হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মুগডাল, চিনাবাদাম ও সয়াবিন। আকস্মিক এই ক্ষতিতে জেলার শত শত কৃষক এখন চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে জেলার অধিকাংশ এলাকায় মুগ, চিনাবাদাম ও সয়াবিন ঘরে তোলার মৌসূম চলছিল। ঠিক এমন সময় টানা বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ফসলি জমিতে পানি জমে যায়। অনেক জমিতে কয়েকদিন ধরে পানি আটকে থাকায় ক্ষেতের ফসল পচে নষ্ট হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে নিচু ও জলাবদ্ধ এলাকায় ক্ষতির মাত্রা বেশি।

ভোলা সদর উপজেলার চরসাসাইয়া ইউনিয়নের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, ৬০ শতাংশ জমিতে সয়াবিন ও ১২ শতাংশ জমিতে মুগডালের আবাদ করেছিলাম। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পুরো জমি পানির নিচে চলে গেছে। এখন ফসল তোলার আর কোনো সুযোগ নেই। প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

একই উপজেলার আলীনগর এলাকার কৃষক পারভেজ জানান, লাভের আশায় ধারদেনা ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি আবাদ করেছিলেন। কিন্তু এখন পুরো ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, মাঠে যা ছিল সবই শেষ। সব মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন কিভাবে ঋণ পরিশোধ করব, সেই চিন্তায় আছি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, অনেক এলাকায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জমিতে দীর্ঘ সময় পানি আটকে রয়েছে। খাল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। এতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। বাপ্তা এলাকার কৃষক মো: মাসুদ বলেন, এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে জমি ডুবে গেছে। যদি পানি নামার ব্যবস্থা থাকত তাহলে এত ক্ষতি হতো না।

আলীনগর এলাকার কৃষক রিপন বলেন, জমির সঙ্গে খালের সংযোগ থাকলে পানি দ্রুত নেমে যেত। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেই। কৃষকদের কথা শুধু বলা হয়, বাস্তবে তেমন সহযোগিতা পাওয়া যায় না।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, চলতি মৌসূমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করেছিলেন তারা। কিন্তু মৌসূমের শেষ সময়ে এসে প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। অনেক কৃষকই এখন নতুন করে আবাদ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা হারানোর আশঙ্কা করছেন।

এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ভোলার উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. শামীম আহমেদ বলেন, গত ২৮ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত টানা বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে জেলায় ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এক কোটি ৬২ লাখ টাকার মুগডাল, ১৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকার চিনাবাদাম এবং দুই কোটি ৭৮ লাখ টাকার সয়াবিন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ঝড়-বৃষ্টিতে ভোলায় রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতি : দিশেহারা কৃষক

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ২টি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান করে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানাসহ ভাটা ২টির কার্যক্রম বন্ধ করে দেন ভ্রাম্যমান আদালত বা মোবাইল কোর্ট। সোমবার জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর, ভোলা জেলা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের নেতৃত্বে ছিলেন ভোলা জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জয়নুল আবেদীন ও মোঃ নুরুল আলম।

পরিবেশ অধিদপ্তর, ভোলা জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মোঃ তোতা মিয়া’র প্রসিকিউশন এবং হিসাব রক্ষক মোঃ মতিউর রহমানের সার্বিক সহযোগীতায় পরিচালিত মোবাইল কোর্ট বোরহানউদ্দিন উপজেলাধীন হাসাননগর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স আলম ব্রিকসটি অবৈধভাবে চালানোর অপরাধে নগদ ৪ লক্ষ টাকা অর্থ দন্ড প্রদান করেন।

অন্যদিকে একই এলাকায় অবস্থিত মেসার্স এসএনএস ব্রিকসকে নগদ ১ লক্ষ টাকা অর্থ দন্ড প্রদান করেন মোবাইল কোর্ট। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের মেশিন দ্বারা ইটের ভাটাগুলো ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে এবং পানি দিয়ে ধংস করে দেয়া হয়।

সকাল ১১টা থেকে বিকাল সারে ৪টা পর্যন্ত চলা মোবাইল কোর্টকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি দল, কোস্টগার্ডের একটি টিম, জেলা পুলিশের একটি টিম ও ফায়ার সার্ভিসের এক দল সদস্য। ভোলা জেলার সর্বস্তরে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

বোরহানউদ্দিনে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানাসহ ২ অবৈধ ইটের ভাটা বন্ধ করেন প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলা সরকারি কলেজে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাইম হাসান। আর্থিক সংকটের কারণে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েও ভর্তি অনিশ্চয়তায় পড়া এক শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়ে তার ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার পাশাপাশি আগামী চার বছরের শিক্ষাজীবনের সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

জানা যায়, বাবা হারা পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে মেধাবী ওই শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাইম হাসান ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থীর ভর্তি ফি প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে পড়ালেখার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক আরাফাত ইসলাম ইফতি বলেন, ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদল শুধু রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমরা সবসময় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। একজন শিক্ষার্থীর স্বপ্ন বাঁচানো মানে একটি পরিবারকে বাঁচানো, একটি ভবিষ্যৎকে আলোকিত করা। আমরা চাই, অর্থের অভাবে কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন থেমে না যাক। মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রমের মাধ্যমেই ছাত্রদল শিক্ষার্থীদের আস্থার জায়গা হয়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ।

যুগ্ম আহ্বায়ক নাইম হাসান বলেন, একজন শিক্ষার্থীর চোখের স্বপ্ন কখনো টাকার অভাবে থেমে যেতে পারে না। যতদিন সামর্থ্য থাকবে, অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ রক্ষায় ছাত্রদল সবসময় কাজ করে যাবে।

শিক্ষার্থী ও সচেতন মহল এ মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এ ধরনের সমাজসেবামূলক কাজ তরুণদের মাঝে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেবে এবং অসহায় শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন পূরণে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

শিক্ষার্থীর পরিবারও এ সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাবা হারা আমাদের সন্তানের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন প্রায় ভেঙে যাচ্ছিল। এমন সময়ে পাশে দাঁড়ানো সত্যিই মানবিকতার বড় উদাহরণ। মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে ভোলা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের এই সহায়তা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

এতিম শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিলো ভোলা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাঈম

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
হঠাৎ কালবৈশাখীর তা-বে ল-ভ- হয়ে গেছে দ্বীপ জেলা ভোলা। ঝড়ের তীব্র আঘাতে বিভিন্ন এলাকায় গাছ উপড়ে পড়ে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও শিল্পকারখানা। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় টানা দুই দিন ধরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই অর্থের অভাবে এখনো ভাঙা ঘর মেরামত করতে পারছেন না। কর্মহীন হয়ে পড়ায় দেখা দিয়েছে খাদ্য সংকটও। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ভোলার চরসামাইয়া গ্রামের অসহায় ফাতেমা বেগম। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে কোনোরকমে একটি ছোট ঘর তুলে দুই সন্তানকে নিয়ে বসবাস করছিলেন তিনি।

কিন্তু সোমবার বিকেলে মাত্র পাঁচ মিনিটের ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে মুহূর্তেই ল-ভ- হয়ে যায় তার সেই একমাত্র আশ্রয়স্থল। ঝড়ের তা-বে ঘরটি মাটির সঙ্গে মিশে গেলে এখন খোলা আকাশের নিচেই দুই সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ফাতেমা।

অর্থের অভাবে নতুন করে ঘর তুলতে পারছেন না তিনি। দুই দিন ধরে সন্তানদের নিয়ে অনিশ্চয়তা আর কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে অসহায় এই মায়ের।

ফাতেমা জানান, আমার স্বামী দিন মজুরের কাজ করে ঢাকাতে। আমি ছোট দুইটা বাচ্চা নিয়ে কোন রকম টিকে আছি। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় আমার ঘরটা মাটির সাথে মিশায়া দিছে। আমি যে ঘর তুলবো সেই অর্থও আমার কাছে নাই। এখন সরকার যদি ইকটু সহযোগিতা করতো তাহলে কোন রকম ঘরটা দাড় করাতে পারতাম।

ফাতেমার মে ঘূর্ণিঝড় আমার বই খাতা সব ভিজি গেছে। আমি এখন সেগুলো পরতেও পারিনা স্কুলেও যেতে পারিনা। আমাদের থাকতে অনেক কষ্ট হয়। অন্যের বাসায় থাকি।

ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়ন সেকমা গ্রাম। এখানে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় অর্ধ শতাধিক। ফলে ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকটা মানবতার জীবন যাপন করছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

এই গ্রামে আরেক ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের বাসিন্দা মনজোনা বলেন, ঘরটা পরে যাওয়ার কারনে থাকার মতো কোন পরিবেশ নাই।খেতেও কষ্ট। কেউ এসে সহযোগিতার হাত বাড়ায়নি। পোলাপান নিয়ে কষ্টের মধ্যে দিয়ে জীবন কাটাচ্ছি।

প্রবল বাতাস আর ঝড়ের তা-বে ল-ভ- হয়ে যায় ভোলা বিসিক শিল্পনগরীসহ সদর উপজেলার চরসামায়া, ভেলুমিয়া ও আলীনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা।

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিসিকের মধ্যে থাকা মেঘনা লবণ কারখানা, মুড়ি ও ভূসির একাধিক কারখানা। মেঘনা লবন কারখানার টিনের চালা উড়ে গেছে, ভেঙে পড়েছে দেয়াল। কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হইছে।

মেঘনা লবন কারখানায় মালিক ইয়াদ জানান, মাত্র ৫ মিনিটের ঘূর্ণিঝড় আমাদের লবন কারখানা লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।

আমারা ধারদেনা করে ২ থেকে ৩ বছর কষ্ট করে কারখানা ধার করিয়েছি। আগামী সপ্তাহে চালু হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু কারখানা ক্ষতি গ্রস্ত হওয়ায় আমাদের স্বপ্ন মাটির সাথে মিশে গেছে।

আমাদের ঘরের মধ্যে প্রায় ১২ লাখ টাকার লবন পানি হয়ে গেছে। আমাদের কারখানা পুরা মাটির সাথে মিশে গেছে। আমাদের স্বপ্নটা ভেঙে গেছে। আমি অনেক নিঃষ হয়েগেলাম। প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে আমাদের। আমরা এতো টাকা কোথায় পাবো। এখন সরকার যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায় তাহলে ঘুরে দাড়াঁনো সম্ভব।

গত এক সপ্তাহ আগে চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর ইউনিয়নেও ঝড়ে অন্তত ২৫টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আর ঝড়ের পর থেকেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো.আরিফুজ্জামান। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি হলেই আমরা আমাদের বরাদ্দ থেকে চাল ও টিন দেওয়া হবে।

আর্থিক অবস্থার ভালো না থাকার কারনে। ঘরবাড়ি তুলতে পারছেনা অনেকেই। তাই দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিলবে সহযোগিতা এমনটা প্রত্যাশা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষদের।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

দু’দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
আগামী ৮ মে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের ৪৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা বুধবার সন্ধ্যা ৭ টার সময় আমির কুটির রোজ ইন হোটেল হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের জেলা সভাপতি রিয়াজ হাসান এর সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এস এম রাসেল এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন এজিপি সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. আঃ বারেক, মহানগর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি অধ্যাপিকা ফারজানা তিথি, সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক ছাত্র নেতা কামরুল আলম মামুন, সদস্য মাহবুব সহ প্রমুখ। বক্তারা মানবতার সেবার লক্ষ্যে শেষ সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক নেতৃবৃন্দের উপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছিল সেই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন এর কতটুকু অগ্রসর হয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। স্বাধীনতার ঘোষক সেক্টর কমান্ডার বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আজীবন স্মৃতি সংরক্ষণ ও তাহার সুচিতে ১৯ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের তাগিদে ১৯৮২ সালের ৫ই মে তৎকালীন স্পিকার মরহুম মির্জা গোলাম হাফিজ প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তাদের স্মরণে আগামী ৫ই মে ৪৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বরিশাল জেলা ও মহানগরের উদ্যোগে আগামী ৮ই মে শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত বরিশাল নগরীর গির্জা মহল্লায় অবস্থিত আচমত আলী খান ইনস্টিটিউট (একে স্কুল ) প্রাঙ্গনে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে অসহায় দুঃস্থ গরিব চিকিৎসা বঞ্চিত পরিবারের জন্য ।।

উক্ত ক্যাম্পে অত্র বিদ্যালয়ের ছাত্র অভিভাবক শিক্ষক কর্মচারীসহ সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকিবে ।

এতে উপস্থিত থাকবেন ডক্টর শিহাব উদ্দিন অর্থপেডিক্স ডক্টর মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম আবির ডায়াবেটিস ডঃ রেজাওনুর রহমান রায়হান, ডঃ মোঃ তানভীর হোসেন ডাক্তার শরিফ উদ্দিন রায়হান ডক্টর শেখ মোস্তফা আলী সংগঠনের সম্মানিত নেতৃবৃন্দদের সমন্বয়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করিবেন । শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন ও সংরক্ষণ আমাদের মূল উদ্দেশ্য সকল রোগীদের প্রতি থাকবে তাদের আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ।।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

নগরীতে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

অনুসন্ধান ডেস্ক :: বরিশাল নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডস্থ পশ্চিম বগুরা জিয়া সড়কস্থ আর্য্যদিঘী শ্রী শ্রী শীতলা ও কালীমাতার মন্দির সুরক্ষা কমিটির বিশেষ সাধারণ সভা ও নতুন করে কমিটি গঠণ করা হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) বিকেলে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রেরিত ই-মেইল বার্তায় জানা গেছে, অতিসম্প্রতি মন্দির সুরক্ষা কমিটির বিশেষ সাধারণ সভা  অধ্যক্ষ (অব:) প্রফেসর ড. গোকুল চন্দ্র বিশ্বাসের আহবানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)’র বরিশাল জেলা কমিটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ অ্যাডভোকেট পরিমল মজুমদার শিশিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মনিন্দ্র নাথ ঘরামী। অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএমজেপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন কুমার বেপারী।
বিশেষ সাধারণ সভায় মন্দিরের জমি বেদখল ও বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করে বেদখল হওয়া জমি পুনরুদ্ধার ও বিএমজেপির তত্ত্বাবধানে মন্দিরটিকে ‘তীর্থধাম উন্নয়ন প্রকল্প’ গ্রহনের ব্যাপারে উপস্থিত অতিথিদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
সবশেষে সভায় উপস্থিত সদস্যবৃন্দের সর্বসম্মতিক্রমে আর্য্যদিঘী শ্রীশ্রী শীতলা ও কালীমাতার মন্দির সুরক্ষায় বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট অনিল চন্দ্র দে’কে আহবায়ক, অ্যাডভোকেট নিরঞ্জন চন্দ্র দাস নিরুকে সদস্য সচিব, কৃষিবিদ অ্যাডভোকেট পরিমল মজুমদার শিশির, অধ্যাপক ড. চিত্ত রঞ্জন সরকার, পরিমল চন্দ্র রায়, নারায়ন চন্দ্র মন্ডল, মনিন্দ্র নাথ ঘরামী, উত্তম কুমার মিত্র, বাসুদেব চক্রবর্তীকে যুগ্ন আহবায়ক করে ৯১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠণ করা হয়েছে।
একই সভায় বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও আন্তর্জাতিক কুটনৈতিক প্রতিনিধি আর.কে মন্ডল রবিন, অধ্যক্ষ (অব:) প্রফেসর ড. গোকুল চন্দ্র বিশ্বাসসহ ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ গঠণ করা হয়েছে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

বরিশাল নগরীর জিয়াসড়কে শীতলা ও কালীমাতার মন্দির সুরক্ষা কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার উপর দিয়ে বয়ে আকস্মিক কাল বৈশাখী ঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়াও সদরের বিভিন্ন সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল বিঘ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও যানবাহন চালকরা। শনিবার (২ মে) দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত ঝড়োবাতাসে এ ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে দক্ষিন দিঘলদী, বাপ্তা ও ধনিয়া। তবে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দক্ষিন দিঘলদী ইউনিয়নে।

জানা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত জেলায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টির সাথে ঝড়ে বাতাস বয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরবাড়ি ও গাছপালা।

এদিকে ঝড়ে জেলার অন্তত ১০/১২টি পথে গাছ পড়ে বিদ্যুতের খুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের সৃষ্টি হয়। তবে সন্ধ্যার আগে কিছু কিছু পয়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে।

ভোলা বিদ্যুৎ সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান ওজোপাডিকো’র নিরর্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইউসুফ জানান, ঝড়ে ভোলা সদর, ইলিশা, ধনিয়া ও বাপ্তা ইউনিয়নের ৭/৮ টি পয়েন্টে খুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ৪/৫ কিলোমিটার বিদ্যুতের তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশীরভাগ এলাকায় মেরামত হয়েছে, বাকিগুলো সংস্কার চলছে। তবে রাতের মধ্যে বাপ্তা, ধনিয়া ও ইলিশা পয়েন্টে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি, বাকি পয়েন্টে বিদ্যুৎ সরবরাহ চলছে।

অপরদিকে দিনভর বর্ষন ও ঝড়ো বাতাসে জনজীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। দুভোগে পড়েন কর্মজীবীন মানুষ। শহরের বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ এই ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি না হলেও মাঝারি ধরনের ক্ষতি হয়েছে।

ঝড় পরবর্তি সময়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক থেকে গাছ অপসারণে কাজ শুরু করে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

এ ব্যাপারে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামান বলেন, ঝড়ে কয়েকটি ইউনিয়নে ৩০/৪০টি ঘড় বিধ্বস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সহায়তা প্রদান করা হবে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলায় কালবৈশাখী ঝড়ে অর্ধ শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত : সড়কে গাছ উপড়ে ভোগান্তি

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় জেলেদের জন্য সরকারের দেওয়া মৎস্য প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় জেলেদের দাবি, প্রণোদনা বিতরণে ব্যাপক গড়মিল হয়েছে এবং প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইলিশ সংরক্ষণ মৌসুমে নিবন্ধিত জেলেদের সহায়তার জন্য সরকার নির্ধারিত চালের পাশাপাশি বকনা বাচুর দিত, বকনা বাচুর প্রকল্পের পরিবর্তনে তেল, ডাল,চিনি,আলু,লবন,আটা সহ আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করে। কিন্তু এবারের তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

জেলেদের অভিযোগ, তালিকা তৈরির সময় প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে অযোগ্য ও অন্য পেশার লোকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে অনেক প্রকৃত দরিদ্র জেলে প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, তালিকা প্রণয়নে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের প্রভাব কাজ করেছে।

কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে পরিচিত বা রাজনৈতিক ব্যাক্তি দেখে দেখে নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায় সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “আমরা প্রকৃত জেলে হয়েও তালিকায় নাম পাইনি, কিন্তু অন্যরা সুবিধা পাচ্ছে।”

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার ভূমিকা।

মৎস কর্মকর্তা মনোজ কুমারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পৌরসভা সহ ১০ ইউনিয়নে জেলেদের সংখ্যা প্রায় কয়েক হাজারের উপরে তবে প্রনোদনা এসেছে মাত্র ১৮০০ নামের তাই সবাইকে দেওয়া সম্ভব নয়, এতেই সাধারণ মানুষ বিপত্তি বাজে। তবে প্রর্যাক্রমে সবাইকে দেওয়া হবে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

বোরহানউদ্দিনে জেলেদের প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ