
নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার লালমোহন পৌরসভা হচ্ছে প্রথম শ্রেণির। কাগজে কলমে এবং নামেই শুধু প্রথম শ্রেণি, এই পৌরসভার নাগরিকরা পাচ্ছেন না নাগরিক সেবা। বর্তমান পৌর প্রশাসক মো. শাহ আজিজ শুধু হাসি মুখে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ, কাজের কাজ কিছুই করেননি তিনি। প্রায় দেড় বছরের উপরে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থেকে তিনি গতানুগতিক কাজ ব্যতিত ভালো কিছুই দেখাতে পারেননি। নির্দিষ্ট স্থানে লালমোহন পৌরসভার ময়লা ফেলার সমস্যা দীর্ঘদিনের। ময়লা ফেলার জন্য নেই নিজস্ব ডাম্পিং। গত বছর ময়লা ফেলেছে পৌরসভার স্টেডিয়ামে। এ নিয়ে কয়েকটি সংগঠন প্রতিবাদ ও বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রচার হলে সেখানে ময়লা ফেলা বন্ধ করে পৌরসভার ময়লা ফেলেছে লালমোহন ডিগ্রি কলেজের সামনে ভোলা চরফ্যাশন মহাসড়কের পাশে এবং সূর্যের হাসি ক্লিনিকের সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে। এরপর লালমোহন হেলিপ্যাড সংলগ্ন ব্যস্ততম মহাসড়কের উপর ও পাশে ফেলছিলো ময়লা। এসব ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ ওই এলাকাবাসী ও পথচারীরা। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় কয়েকবার সংবাদ প্রকাশ হলেও টনক নড়েনি পৌর প্রশাসকের। বর্তমান পৌর প্রশাসক দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম পৌর করমেলায় বলেছিলেন ময়লা ফেলার জন্য জমি অধিগ্রহণ করে দ্রুত ডাম্পিং এর ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
লালমোহন বাজারের সবচেয়ে ব্যস্ততম সড়কগুলোর মধ্যে হাফিজ উদ্দিন এভিনিউ, মিঠাই পট্টি, সুটকি পট্টি, বিনোদন সিনেমা হল পট্রি, চৌরাস্তার মোড়, দত্তপাড়া, পৌর গোলচত্বর মার্কেট, হাইস্কুল মার্কেট, খাদ্যগুদাম এলাকা, থানার মোড় এবং উত্তর বাজারের রাস্তার মাঝখানে প্রতিদিনই হরেক রকমের ময়লার স্তূপ পড়ে থাকে। পৌর প্রশাসক এই ময়লা অপসারণে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী অফিসের ভবনের উত্তর পাশে। এখানে দীর্ঘদিন ধরে স্তূপ হয়ে পড়েছে ময়লা। একটি টিনের ঘরের চালার উপরও জমেছে ময়লার স্তুপ।
পৌরসভার বাসিন্দা নাইমুর হাসান বলেন, বিগত সরকারের পতনের পর আমরা আশা করেছিলাম, পৌর প্রশাসক বাজারের ময়লার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন এবং প্রতিদিন পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু ওনার অফিসের পাশেই যে পরিমাণ ময়লার স্তূপ দেখা যাচ্ছে, তা ওনার দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। এসব ময়লার স্তূপ দেখে মনে হয় ওনি একটা গিদর। ঠিকমতো কর্মচারীদের দিয়ে তাদের সঠিক কাজ করাতে পারেন না। দেড় বছর পার হয়ে গেল, ওনার হাসিমুখ ছাড়া ময়লার ব্যাপারে দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি।
মাহাজনপট্টির ব্যবসায়ী ফরুক জানান, আমরা এখানকার ব্যবসায়ী সাধারণত প্রতিদিন সকাল ৮টায় দোকান খুলি। কিন্তু বাজারের সব ময়লা মহাজনপট্টি এই চার রাস্তার মোড়ে ফেলে রাখা হয়। পৌরসভার গাড়ি কখনও সকাল ১০টায়, কখনও ১১টায়, আবার কখনও দুপুরে এসে ময়লা নিয়ে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্গন্ধের মধ্যে ব্যবসা চালাতে হয়। সবচেয়ে খারাপ হলো, শুক্রবার ও শনিবার ময়লা তোলা হয় না। রবিবার পর্যন্ত ময়লা পাহাড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন দোকানে বসাও দায় হয়ে পড়ে। ক্রেতারাও ময়লার দৃশ্য দেখে দাঁড়াতে চান না, ফলে বিক্রি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মিঠাইপট্টির ব্যবসায়ী স্বপন বলেন, অনেকবার অভিযোগ করা হয়েছে, সংবাদ হয়েছে। তবুও কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমাদেরকে কষ্ট দেয়া এবং ময়লার মধ্যে দোকানপাট করার জন্যই মনে হয় ময়লাগুলো প্রতিদিন পরিষ্কার করছে না। এই নোংরা পরিবেশেই আমাদের টিকে থাকতে হচ্ছে। এখন নতুন সরকার এসেছে, দেখার বিষয়, কোনো পরিবর্তন আসে কি না।
বাজারের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা আরও জানান, সরকারের পরিবর্তনের পর তারা আশা করেছিলেন পৌর প্রশাসন অন্তত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার এলাকায় নিয়মিত পরিষ্কার রাখবে। কিন্তু বাস্তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি থাকলেও কার্যকর উদ্যোগের দেখা মিলছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. শাহ আজিজ বলেন, আমাদের একটা গাড়ি নষ্ট ছিল, তাই মাঝে কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে অন্য কোথাও কোনো সমস্যা আছে বলে আমরা দেখছি না। নিয়মিত পৌর সভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করছে। তারপরও যদি কোনো সমস্যা থাকে, আমাদের জানালে আমরা তা সমাধান করবো।

নিজস্ব প্রতিনিধি ::
ঝালকাঠিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে আলাদাভাবে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভাম্যমান আদালত। জানা গেছে, বিভিন্ন সুত্রে ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মোঃ মমিন উদ্দিন জানতে পারেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা ইউনিয়নের আগরবাড়ি ও বিনয়কাঠি ইউনিয়নের উত্তর মানপাশা গ্রামে অবৈধভাবে কৃষিজ জমিতে ড্রেজার এর পাইপের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করছে একদল ভুমিখেকো। তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসক সদর উপজেলার ইউএনওকে অবহিত করলে ইনএনও এসি ল্যান্ডকে সরেজমিনে পাঠান। সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বালু উত্তোলন এর অভিযোগে আগরবাড়িতে ৮০ হাজার টাকা ও উত্তর মানপাশায় ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ ঘটনায় এলাকায় কৃষকদের মাঝে ব্যপক খুশির জোয়ার বইছে। কারন বালু উত্তোলনকারিরা এলাকার প্রতাপশালী হওয়ায় তারা কোন প্রতিবাদ করতে পারেনি। স্থানীয় কৃষকরা জেলা প্রশাসক, ইউএনও এবং এসি ল্যান্ডকে অভিনন্দন জানান ও তাঁদের জন্য দোয়া করেন।
সোমবার দুপুরে এ অভিযানে বিনয়কাঠি ইউনিয়নের মানপাশা নামক স্থানে কৃষিজমি থেকে বালু উত্তোলনের অপরাধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী ৭০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানে সদর এসি ল্যান্ড সদর নেতৃত্ব দেন।

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধারা ক্রমেই বদলে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমে ভোলা জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ঘন কুয়াশা, সূর্যহীন দিন ও হিমেল বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে উপকূলীয় এই জেলার জনজীবন। গত কয়েক দিন ধরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। নির্বাচনকালীন পরিবেশ বিরাজ করলেও শহর ও গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারে আগের মতো ভিড় নেই। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, জেলে ও হতদরিদ্র মানুষ। বিশেষ করে ভোলার চরাঞ্চল ও বেড়িবাঁধসংলগ্ন নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি ভয়াবহ। ভোলা সদর, চরফ্যাশন, মনপুরা, তজুমদ্দিন, দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন চরে বসবাসরত লক্ষাধিক নিম্নআয়ের মানুষ শীত মোকাবিলায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ।
ভোলা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, কোল্ড অ্যালার্জি ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে গত কয়েক দিনে কয়েক শ মানুষ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি।
চরাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও করুণ। ঢালচর, চরকুকরি-মুকরি, চর মাদ্রাজ, চর নিজাম, চর শাহজালাল ও চর কলাতলীসহ বিভিন্ন এলাকার ঝুপড়ি ঘরে উত্তরের হিমেল বাতাস সরাসরি ঢুকে পড়ছে। ভোলা সদর উপজেলার চরকালীর বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, দিন আনি দিন খাই। পুরোনো একটা সোয়েটার আর পাতলা কাঁথা দিয়েই কোনো রকমে রাত পার করি।

তজুমদ্দিন উপজেলার চর নাসরিনের বাসিন্দা বৃদ্ধা আয়শা খাতুন বলেন, শীত এলে অনেক জায়গায় কম্বল দেওয়া হয়। কিন্তু চরের মানুষ সব সময়ই অবহেলিত। এখন ভোটের সময় হলেও আমাদের খোঁজ নিতে কেউ আসে না।
ভোলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সোমবার ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ মো. আজিম উদ্দিন বলেন, এ বছর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১৩ হাজার পিস শীতবস্ত্র বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চরাঞ্চলের বাসিন্দারা দ্রুত পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র, চিকিৎসাসেবা ও জরুরি সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তীব্র শীতে এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

চেয়ারম্যান
অধ্যক্ষ(অব:) প্রফেসর ড.গোকুল চন্দ্র বিশ্বাস
উপদেষ্টা সম্পাদক
মো. আ. রাজ্জাক ভূইয়া (বীর মুক্তিযোদ্ধা)
উপদেষ্টা
ড.বাহাউদ্দিন গোলাপ, রাম কৃষ্ণ নাথ
পৃষ্ঠপোষক
বিশ্বজিৎ ঘোষ (বিশু)
আইন উপদেষ্টা
এ্যাড. মোঃ মিজানুর রহমান
ঢাকা জেলা বার এ্যাসোসিয়েশন
ব্যবস্থাপনা পরিচালক
সুগন্ধা মজুমদার
নির্বাহী সম্পাদক
মো. মাসুদুর রহমান চাকলা
মোবাইল:০১৭৩৫৩১৩২০৫
বার্তা সম্পাদক
আপন মন্ডল
মোবাইল: ০১৭৫৩৫৪৭০৭৪
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
ড. সরকার মোঃ আবুল কালাম আজাদ
মোবাইল: ০১৭২০২৫৬৪৫৭
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ পি.সি মজুমদার শিশির
বার্তা কক্ষ ও যোগাযোগ
মোবাইলঃ ০১৭১৫৮৫১৪৯১
Sarkar Villa, House # 47- 48, Block # D, Road # 23, Pallabi, Dhaka -1216
ই-মেইল: atvnews.press@gmail.com
ওয়েব: https://anusandhantv24.com/

