শিরোনাম :
বরিশাল নগরীতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম কোনাপাড়ায় উঠান বৈঠক : বিষমুক্ত সবজি চাষে উদ্বুদ্ধকরণ মেথি শাক চাষে পুষ্টি ও বাড়তি আয় ভবন আছে, হোস্টেল আছে-নেই শুধু ম্যাটসের শিক্ষা কার্যক্রম মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে হামলা, আহত ৫ : থানায় মামলা কৃষিপণ্য পরিবহনে চাই নিরাপদ সড়ক জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে নিত্যপণ্যের বাজারে প্রভাব  ভোলা জেনারেল হাসপাতাল : ২৫০ শয্যার হাসপাতালে জনবল ১০০ শয্যার বিসিসির ১১ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জনমত জরিপ : রানা পাল এগিয়ে ক্লু লেস ও চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন : পুরস্কৃত হলেন ঝালকাঠির ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসান, মাদক উদ্ধার ওয়ারেন্ট তামিল করায় পুরস্কৃত হয়েছেন এএসআই বাপ্পি দে

সাজাপ্রাপ্তদের নাম নেই রাজাকারের তালিকায়:সোস্যাল মিডিয়ায় তোলপাড়

অনুসন্ধান ডেস্ক
  • আপডেট সময় : Wednesday, December 18, 2019
  • 1003 বার দেখা হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্টঃ স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৮ বছর প্রথমবারের মত রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। প্রকাশিত প্রথম ধাপের তালিকা নিয়ে বিতর্কের ঝড় বাড়ছে। একদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম এসেছে তালিকায় অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধে আদালতের রায়ে যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে তাদের নাম নেই তালিকায়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন মুক্তিযোদ্ধাসহ সচেতন মহলরা।

গত ১৫ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী রাজাকার, আলবদর ও আল-শামস বাহিনীর সদস্যের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এ তালিকায় নেই— যুদ্ধাপরাধী হিসেবে সাজাপ্রাপ্ত মতিউর রহমান নিজামী, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী (সাকা চৌধুরী), আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, কাদের মোল্লা, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামানসহ আলোচিত অনেকে।

অথচ রাজাকারের এ তালিকায় কমপক্ষে ১৭ মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে। রয়েছে আওয়ামী লীগের বেশ কিছু নেতার নামও। যাদের অনেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে পরিচিত। ৩৮ নারীও রাজাকার হিসেবে তালিকায় রয়েছেন। ৯২ হিন্দু ধর্মাবলম্বীর নামও রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সময় কমান্ডার ও বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই–বাছাই কমিটির সদস্যও এ তালিকায় রাজাকার হিসেবে রয়েছেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কয়েকজন স্বজনের নামও এসেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায়। আব্দুল হাই সেরনিয়াবাত তালিকায় রাজাকার হিসেবে স্থান পেয়েছেন। তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে ঘাতকের হাতে নিহত শহীদ সেরনিয়াবাতের বাবা এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর বেয়াই। এ ঘটনায় বিস্মিত তার সন্তান ও স্বজনরা।

বঙ্গবন্ধুর ফুপুর সঙ্গে আব্দুল হাই সেরনিয়াবাতের বাবা আব্দুল খালেক সেরনিয়াবাতের বিয়ে হয়। এ সূত্রে আব্দুল হাই সেরনিয়াবাত বঙ্গবন্ধুর ফুপাতো ভাই। পরে বঙ্গবন্ধুর বোন আমেনা বেগমের সঙ্গে আব্দুল হাই সেরনিয়াবাতের ছোট ভাই শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বিয়ে হয়। এ দিক থেকে বঙ্গবন্ধুর বেয়াই হন তিনি। সব মিলিয়ে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

প্রধানমন্ত্রীর ‘হক চাচা’ খ্যাত মজিবুল হক ছিলেন ১৯৭১ সালে তৎকালীন বরগুনা মহকুমা মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম পরিষদের সদস্য। অথচ তার নামও এসেছে রাজাকারের তালিকায়।

কোন প্রক্রিয়ায় এ তালিকা প্রকাশ হয়েছে, এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া, রাজনৈতিক অঙ্গনসহ নানা মহলে সমালোচনার ঝড় বইছে।

যাচাই-বাছাই না করে রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করায় ভুল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দালাল আইনে রাজাকারদের তালিকা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানে অনেকের নামের পাশে নোট ছিল, কারও নামে মামলা ছিল, সে বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই না করেই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এজন্যই এমন অসঙ্গতি। তাই নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করে পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

এ দিকে রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম আসায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। মঙ্গলবার তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে যা পেয়েছি তাই প্রকাশ করা হয়েছে। ভুল-ভ্রান্তি অনেক বেশি হলে এ তালিকা প্রত্যাহার করা হবে। আর ভুলের পরিমাণ কম হলে তালিকায় ভুলবশত যাদের নাম এসেছে, সেগুলো প্রত্যাহার করা হবে। প্রয়োজন হলে তারা আদালতেও যেতে পারেন।

রাজাকারের তালিকা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষকরাও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ এ তালিকা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

(সূত্র:বাংলাদেশ টুডে )

নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ