সুগন্ধা মজুমদার: বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় এক বিধবা মহিলার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় মধ্যরাতে জনতার হাতে আটক হন উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি পরিচয়দানকারী চাঁদাবাজ জহিরুল ইসলাম অরুন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিয়ের প্রস্তাবে অবশ্য শেষ রক্ষা পান । করছেন আবার তৃতীয় বিয়ে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৪ জুন (রোববার) বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানাধীন রহমতপুরের সিংহেরকাঠী গ্রামে।
ওই ঘটনায় আটককৃত সাংবাদিক নামধারী অরুণ সম্পর্কে স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ বিস্তর। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী টাউট, বাটপার ও বিএনপি রাজনীতির এজেন্ট হিসেবে পরিচিত অরুণ দীর্ঘদিন ধরে বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেট এলাকায় সাংবাদিক ও প্রেস ক্লাবের সভাপতি পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল ঔষধের ব্যবসা করে আসছিলেন। তারা আরও জানান, অরুন রহমতপুর সিংহেরকাঠি গ্রামের এক সাবেক প্রবাসীর বিধবা স্ত্রীকে ফুসলিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ অনৈতিক সর্ম্পক ও নারী ব্যাবসা চালিয়ে আসছিলেন। তিনি স্থানীয় প্রেসক্লাবের সভাপতির ব্যানারে প্রভাবের সাথে এলাকার মাদক সেবিদের নিয়ে চলাফেরা করার কারণে তার এ সব অপকর্মের বিষয়ে স্থানীয়রা জেনেও প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।
১৪ জুন গভীর রাতে ওই প্রতারক বিধবার ঘরে ঢুকে তার সাথে দৈহিক মিলনে লিপ্ত হয়। এ খবর পেয়ে ওই এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে বিধবার ঘর ঘেরাও করে নারী নেসায় আসক্ত সাংবাদিক নামধারী জহিরুল ইসলাম অরুণকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে। এসময় তার সঙ্গে পাহারায় থাকা মাদক সেবিরা পালিয়ে যায়। পরে গনধোলাইয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে ওই বিধবা নারীকে তৃতীয় বিয়ে করার নাটক সাজিয়ে কৌশলে সটকে পরেন। এ ছাড়াও নারী আসক্ত অরুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নারীদের সাথে অবৈধ মেলামেশা ও এর ছবি তুলে ব্লাকমেইল করে তাদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার গুঞ্জনও রয়েছে এলাকাবাসীর মুখে মুখে।
ঘটনার বিষয়ে জানতে অরুণের সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি নিজেকে নির্দোষী ও ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবী করেন। বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার খবর শুনেছি। তবে বাস্তবতা কি, সেটা আমি এখনো জানিনা।
উল্লেখ্য, প্রথম স্ত্রী থাকা স্বত্ত্বেও অরুন ২০১৩ সালে উপজেলার পাঁচরাস্তা এলাকার জনৈক পুলিশ সদস্যের স্বামী পরিত্যাক্তা মেয়েকে ভাগিয়ে নিয়ে গিয়ে পালিয়ে বিয়ে করেন। দীর্ঘ ৬ বছর বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলায় আরেকটি বিয়ে করে দ্বিতীয় স্ত্রীসহ আত্মগোপনে থেকে নিরবে বরিশালে এসে তাকে তালাক দেন। আগের রূপে ফিরে এসে নারী নেশায় আসক্ত হয়ে আমেরিকা যাওয়ার লোভ দেখিয়ে আবার তৃতীয় বিয়ে করেন। এয়ারপোর্ট থানা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা বলেন, নারী লোভী অরুন নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে আসলে আমরা তাকে বহুবার সংশোধন হওয়ার জন্য বলছি, কিন্তু এতেও তার কোনো পরিবর্তন হলো না। তার দুশ্চরিত্রের ঘটনা জাগ্রত কন্ঠ, দেশের সংবাদসহ বিভিন্ন অনলাইন ও মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় প্রেসক্লাবের মত একটি পবিত্র প্রতিষ্ঠাই কেবল নয়, আমাদের গোটা সাংবাদিক সমাজ কলংকিত হয়েছে। এর কঠিন শান্তি হওয়া প্রয়োজন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিতর্কিত ওই ব্যক্তি প্রেসক্লাবের কর্ণধার পদটি দখল করে উপজেলার সর্বস্তরের প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে অবৈধ ইটেরভাটা, বেকারীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করে থাকেন এবং উপজেলার বাহির থেকে কোনো সাংবাদিক বা মানবাধিকার কর্মীরা তথ্য সংগ্রহে গেলে তাদের নানা কৌশলে ফাঁদে ফেলে প্রশাসন দিয়ে হয়রাণীমূলক চাঁদাবাজী মামলা দিয়ে পরে মোটা অংকের ডোনেশনের বিনিময়ে মিমাংসা বা মামলা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করে থাকেন এমন অভিযোগ এখন বরিশালের মিডিয়াঙ্গনে চাউর হয়ে গেছে।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন