নিজস্ব প্রতিনিধি ::
স্ত্রীকে তালাক দেয়ার পর ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে তালাকের কথা গোপণ করে টানা ৯৯ দিন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একই সাথে থেকে ঘর সংসার করায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে সাবেক স্ত্রী মামলা করলে বরিশাল নগরীর দক্ষিন চকবাজার এলাকায় প্রকাশ্যে স্ত্রীকে পেটানো ভাইরাল হওয়া সেই পাদুকা ব্যবসায়ী সোলাইমান সু হাউজ‘র কর্নধার মোঃ সোলাইমান ফরাজী ও তার বড় ভাই মোঃ লোকমান ফরাজীকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজত পাঠানোর কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে লোকমানের স্ত্রী মিম আক্তার বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলার স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে আদালতে ডাকাতি মামলা করেন।


এ সহিংস ঘটনাটিকে ডাকাতি মামলা সাজিয়ে গত ২ ডিসেম্বর ২ নম্বর আসামী মোঃ লোকমান হোসেনের স্ত্রী মিম আক্তার বাদী হয়ে ধর্ষণ মামলার ৬ জন স্বাক্ষীকে আসামী করে দন্ড বিধি আইনের ৩৯৫/৩৯৭/১০৯ ধারায় বরিশালের বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি. আর২৬১৫/২০২৫ (কোতয়ালী) নম্বর মামলা দায়ের করেন। এ মামলার আসামীরা হলেন, আখির বাবা মোঃ আলমগীর হেসেন(৫০), আখি ভগ্নপতি মোঃ ফিরোজ(৩২), অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা ও মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক পরিমল মজুমদার শিশির(৬২), আখির মামা মোঃ ফয়সাল(৪২), আখির নানা মোঃ শাহআলম হাওলাদার(৮৩) এবং শেবাচিম কর্মচারী মোঃ বাহাদুর (৩৫)।

বিজ্ঞ বিচারক মামলার বিষয়ে তদন্তের জন্য বিএমপি কোতয়ালী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, আখি আক্তার সোলাইমান সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গত ২৭ ডিসেম্বর বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় এমপি কেস নং-৪৮৭/২০২৫ মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোঃ রকিবুল ইসলাম এর নির্দেশে বিএমপি কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ ইসমাইল হেসেন এজাহার হিসেবে গণ্য করে ৩০ নভেম্বর থানার মামলা নম্বর ২৭ নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করে উপ পরিদর্শক(এসআই) উজ্জল ভক্তকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
এ ছাড়াও সোলাইমান গংদের বিরুদ্ধে বরিশালের বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে ফৌ: কা: বি: ১০৭/১১৭(গ) ধারায় এমপি মোকদ্দমা নং-৬৪২/২০২৪ (কাউনিয়া) এবং এমপি নং -৮০২/২০২৪ (কোতয়ালী), নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় মামলা নং-৩৬৪/২০২৫, বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ২০১৮ সনের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় সি.আর কেস নং-৫৮/২০২৫(কাউনিয়া), কোতয়ালী মডেল থানার নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নং-৬৩/২০২৫ এবং কাউনিয়া থানার নন-এফআইআর প্রসিকিউশন নং-৬২/২০২৫ রেকর্ডভূক্ত ও বিচারাধীন।

প্রকাশ্য যে, মোঃ লোকমান হোসেন কোতয়ালী থানার মামলা নম্বর জিআর-২২/২০২৫ এর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ কুদ্দুস মোল্লাকে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে মামলাটির দফারফা ও চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিলের তথ্য লোকমানের স্ত্রী বিতর্কিত ডাকাতি মামলার বাদী মিম আক্তার প্রকাশ করে দিলে তা ওই মামলার বাদী আখি আক্তারের বাবা আলমগীর হোসেনের মোবাইল ফোনে রেকর্ড করার ঘটনা নিয়েও তাদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা রয়েছে।
ইতোপূর্বেও এসব ঘটনার আলোকে অনুসন্ধান টিভিনিউজ-এ গত ১২ আগষ্ট, ৬ অক্টোবর, ১২ অক্টোবর এবং ৩০ নভেম্বর সবিস্তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন