শিরোনাম :
বিধবার সম্পত্তির লোভে প্রতিপক্ষের হামলা, মামলা এবং হয়রানির অভিযোগ আধুনিক ভোলার রুপকার মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ নড়াইলে জমাজমি নিয়ে বিরোধের জের : মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণপদ আচার্য্যকে কুপিয়ে জখম প্রতিবেশীর ছাদ ও বারান্দায় সবজি চাষে বীজ বিতরণ কার্যক্রম ধানের কাইচ থোড় (Boots) অবস্থায় শিলাবৃষ্টি হলে করনীয়    মালসায় কলা চাষ  ভোলায় জনপ্রিয় হচ্ছে পেঁয়াজ চাষ : ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাঁসি বোরহানউদ্দিনে স্বাক্ষরের জন্য তিন দিন ঘোরাঘুরি : কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে ভোগান্তিতে সাংবাদিক! কৃষকের মুখে হাসি- ধানের জমিতে মাছ চাষ : দ্বিগুণ ফসল, দ্বিগুণ সম্ভাবনা বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন’র উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ইফতার বিতরণ

বরিশাল নগরীর আলোচিত সেই পাদুকা ব্যবসায়ী সোলাইমানের বিরুদ্ধে অবশেষে ধর্ষণ মামলা দায়ের!

এস এম রাজ্জাক পিন্টু
  • আপডেট সময় : Friday, November 28, 2025
  • 140 বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি [২৭ নভেম্বর, রাত ১২.১৫ মি:] ::

সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষমেশ  বরিশাল নগরীর দক্ষিণ চকবাজারে পুলিশ স্টলের “সোলায়মান সু
হাউজ”র সত্বাধিকারী মোঃ সোলাইমান ফরাজীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন তার সাবেক স্ত্রী মোসা: আখি আক্তার। শেষ রক্ষা হলোনা স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তা গোপন রেখে টানা ৯৯ দিন ঘরসংসার করার পরে স্ত্রী আখিকে নগরীর ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে প্রকাশ্য রাস্তার ওপর ফেলে পেটানো আলোচিত সেই জুতা ব্যবসায়ী সোলাইমানের।
স্ত্রীকে ঘরে রেখেই ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে গোপন করা তালাকের কাগজপত্র উদ্ধার করে গত ২৫ নভেম্বর আখি বাদী হয়ে বরিশালের শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধিত) ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় সোলাইমানকে প্রধান আসামী করে ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এসব অপকর্মে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত অপর আসামীরা হলেন সোলাইমানের বাবা মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজী, মা মোসাঃ পেয়ারা বেগম, বড় ভাই মোঃ লোকমান ফরাজী এবং বোন মোসাঃ আখি বেগম। মামলায় অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় প্রধান আসামী সোলাইমানের বিরুদ্ধে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর স্ত্রী আখি আক্তারকে তালাক দেয়ার পরে ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে তা গোপন রেখে ৬ সেপ্টেম্বর  আখিকে শশুরালয় থেকে লামচরি নিজ বাড়িতে নিয়ে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৯৯ দিন ঘর-সংসার করে সোলাইমান তার বাবা মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজীর মাধ্যমে আবার আখির পিত্রালয়ে পাঠয়ে দেয়। কিন্তু ঘুনাক্ষরেও তালাকে বিষয়টি জানতে পায়নি আখি আক্তার।
ওই আদালতের বিচারক প্রশিক্ষণে বরিশালের বাহিরে অবস্থান করার কারণে আদালতের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আজ বৃহস্পতিবার দীর্ঘ শুনানী শেষে বিজ্ঞ বিচারক মোঃ রকিবুল ইসলাম এমপি নং-৪৮৭/২০২৫ মোকদ্দমাটি বিএমপি কাউনিয়া থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন।
এ ছাড়াও ওই আসামীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় জিআর-২২/২০২৫ (নারী ও শিশু কেস নং-৪৬৮/২০২৫) তদন্তে এবং দ: বি: ৩২৩/৫০৬(২) ধারায় নন এফ.আই.আর প্রসিকিউশন নং-৬৩/২০২৫ (কোতয়ালী) ও দ: বি: ৫০৬(২) ধারায় নন এফ.আই.আর প্রসিকিউশন নং-৬২/২০২৫(কাউনিয়া) মোকদ্দমা বিচারাধীন আছে।
উল্লেখ্য, মোঃ সোলাইমান ফরাজী(৩৫) নগরীর কাউনিয়া থানাধীন চর বাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরী গ্রামের বাসিন্দা মো: ইউসুফ আলী ফরাজী ও মোসা: পেয়ারা বেগম দম্পত্তির পুত্র এবং মোসা: আখি আক্তার(২২) একই ইউনিয়নের চর আবদানীর বাসিন্দা মোঃ আলমগীর হোসেন ও মোসাঃ মিনারা বেগম দম্পত্তির কন্যা।
ঘটনার বিষয়ে জানতে মো: সোলাইমানের মোবাইল ফোনে (01719541613 ও 01919079090 নম্বরে) বারং বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ইতোপূর্বেও এসব ঘটনাবলীর আলোকে অনুসন্ধান টিভিনিউজ-এ গত ১২ আগষ্ট, ৬ অক্টোবর এবং ১২ অক্টোবর তিনটি সবিস্তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
নিউজটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

https://www.facebook.com

এই ক্যাটাগরীর অন্যান্য সংবাদ সমূহ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি,৭ এপ্রিল ::

ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের হাজরাগাতী এলাকায় এক বিধবা নারীর বসতবাড়ি ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ জামালের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর কলেজ পড়ুয়া কন্যা আফরোজা আক্তার তুবা বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছে। মামলাটি ঝালকাঠি ডিবি পুলিশ তদন্ত করেছেন। গত রোববার এ বিষয়ে সাক্ষ্য গ্রহন করেছেন ডিবির উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো: তারিকুল ইসলাম।

ঝালকাঠি আদালতে দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাজরাগাতী গ্রামের বাসিন্দা নাসিমা বেগমের কন্যা আফরোজা বেগম দীর্ঘদিন ধরে তার পৈত্রিক বসতবাড়িতে মা-বোন-ভাইকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। তিনি জানিয়েছেন তার পিতা না থাকায় প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের সম্পত্তির প্রতি লোভ সৃষ্টি করে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করে আসছে।

গত সপ্তাহে জামাল প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পাশ্ববর্তী কুলকাঠি ইউনিয়নের রাজা নামে এক যুবককে বাড়িতে এনে মামলা তুলে নিতে নানা ধরনের ভয়ভীতি দেখায়। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ধাওয়া করলে ঐ যুবক পালানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ঝালকাঠি থানা পুলিশ তাকে টেকেরহাট বাজার থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

অভিযোগে বলা হয়, গত ৬ মার্চ বিকেল ৪টার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একই বাড়ির মছেল উদ্দিনের পুত্র জামাল হোসেনের ও তার অনুসারীরা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ১৪-১৫জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন ভুক্তভোগীর বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় তারা ঘরের টিনের বেড়া কুপিয়ে, দরজা-জানালা ভাঙচুর করে এবং বাধা দিতে গেলে বাদীর মা-সহ পরিবারের সদস্যদের মারধর করে গুরুতর জখম ও শ্লীলতাহানী ঘটায়।

হামলাকালে তারা বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ১ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে ও গাছপালা কেটে ফেলে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন এবং ঘরের ব্যবহৃত বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে নিয়ে নেয়।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী রয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তুবা বলেন, আমার পিতা মৃত্যুর পর পরিবারের নিরাপত্তার জন্য মামা বাড়ির পাশে জমি ক্রয় করে বাড়িঘর নির্মান করি। আমার পিতা না থাকায় তারা আমাদের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করতে চায়। আমরা এর ন্যায় বিচার চাই।

এদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ঝালকাঠি সদর থানায় আমার মা ও নাবালক ছোট ভাইসহ মামাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে। এ মামলায় আমার আত্মীয় স্বজন একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দুপক্ষের মধ্যে জমাজমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর সুষ্ঠু সমাধান হওয়া উচিত।

এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ জামাল হোসেন জানিয়েছেন নাসিমা বেগম ৬ দাগে সাড়ে ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করে, কিন্তু একদাগে ভোগদখল করায় এ বিরোধের সৃষ্টি।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

বিধবার সম্পত্তির লোভে প্রতিপক্ষের হামলা, মামলা এবং হয়রানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

ভোলা বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ব-দ্বীপ ভোলা। এই ভোলার কৃতি সন্তান মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জু। তিনি ১৯৪৮ সালে ৩০শে জুন ভোলা ঐতিহ্যবাহী বালিয়া মিয়া বাড়ীতে মিয়া পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন এবং ২০০৮ সালের ৬ই এপ্রিল তিনি লিভারে সমস্যা জনিত কারনে মাত্র ৬০ বছর বয়সে ঢাকা ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা যান।

তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজকের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এই লেখা।

প্রাক্তন এলজিআইডি মন্ত্রী ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সফল মেয়র ও আধুনিক ভোলার রুপকার মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জু ১৯৪৮ সালের ৩০শে জুন বালিয়াতে ভোলার ঐতিহ্যবাহী মিয়া পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম বজলুর রহমান মিয়া। ৪ ভাই এর মধ্যে তিনি ২য়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে এম.কম পাস করেছেন। প্রথম জীবনে মতিঝিলে তিনি এশিয়াটিক ট্রাভেলের সাথে জড়িত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। রাজনীতির ক্ষেত্রেও তিনি ছিলন সফল। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সংস্পর্শে আসেন। ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্মাস সংসদের সাধারন সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদের সদস্য ও হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদের ১৮ দফা বাস্তবায়ন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তৎকালীন সময়ে জাতীয় পার্টি (জাপা)’র মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি চারদলীয় ঐক্য জোটের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) শরীক দল ছিলেন। তাছাড়াও ১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ঢাকা সিটিকর্পোরেশনের পূর্বে নাম ছিল ঢাকা মিনিসিপাল কর্পোরেশন তা পরিবর্তন করে তার নাম দেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন। তিনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দক্ষতার পরিচয় দেন।এরশাদের আমলে তিনি ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় দফতরের মন্ত্রী। তিনি ভোলা জেলার সকলের একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর জনহিতকর কর্মকান্ডে ছোঁয়া পায়নি এমন এলাকা খুবই বিরল। তাঁর ভক্তরা তাঁকে কখনো “হাতেম তাই” বলে সম্বোধন করতো। নিজের অর্থে নির্দিষ্ট সময়ে তিনি ব্যাপকভাবে জনসেবামূলক কাজ করেছেন যার জুড়ি মেলা ভার। তাঁর আশা আকাঙ্খা ছিল অনেক।

বলেছিলেন, ‘সুযোগ পেলে আমি ভোলাকে সিঙ্গাঁপুর বানিয়ে ছাড়ব। তার কথার সাথে কাজের মিল রেখেই এগিয়েছেন তিনি। ভোলার উন্নয়নের স¦ার্থে নিয়ে ছিলেন নানা রকম পরিকল্পনা। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়নও করেছেন অনেক কাজ।

শিক্ষা বিস্তার:
মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জু ১৯৮৬ সালে ভোলার এমপি নির্বাচিত হয়ে প্রথমে জোড় দেন শিক্ষার উপর। তিনি মনে করেন একটি জাতি যদি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে তবে তারা অতি দ্রুত উন্নতি করতে পারবে। তাই তিনি ভোলা শিক্ষার মান বিস্তারের জন্য ৪টি কলেজ ও ১০০ উপরে মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এর পাশাপাশি তিনি শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ভোলার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের নিয়ে শিক্ষার উন্নয়নের জন্য একটি তহবিল গঠন করেন। এই তহবিল থেকে তিনি বিভিন্ন গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান সহ বিভিন্ন শিক্ষার উপকরন দিয়ে সাহায্য করতেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে তার নামে গড়া নাজিউর রহমান কলেজ ভোলার জেলা মধ্যে অন্যতম বিদ্যাপিঠ হিসাবে গড়ে উটেছে।

স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ণ:
স্বাস্থ্য সেবা জনগনের দোড় গোড়ায় পৌছে দেয়ার জন্য তিনি গ্রাম পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেন। এর পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সময়ে অসহায় দুস্থ দের সেবা দেয়ার জন্য বিনা মূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করতেন। এবং বিনা মূল্যে ঔষধ প্রদান করতেন। তিনি জেলার চিকিৎসা সেবার জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল নির্মান করেন। সদর হাসপাতালে তিনি প্রথম রক্ত দান করে একটি ব্লাড ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন। তিনি ভোলা বাসীকে মহামারীর হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বিনা মূল্যে ৪ হাজার টিউবওয়েল স্থাপন করেন।তার দেয়া টিউবয়েলে গুলো আজও উপকার ভোগীরা সুফল পেয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও তিনি জেলা পশু হাসপাতাল নির্মান করেন।

যোগাযোগ ব্যাবস্থা:
ভোলা জেলার সর্বস্তরের জনগনের যোগাযোগের সুবিধার জন্য তিনি রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ, কালবার্ট নির্মান করেন। তিনি প্রথম ভোলা চরফ্যাশন সড়ক নির্মান করেন। তিনি ইউনিয়ন পর্যায়েও যোগাযোগ ব্যাবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করেন। এছাড়াও তিনি হ্যালিপ্যাড, ভোলার বৃহত্তম বাস টার্মিনাল নির্মান করেন। তিনি ঢাকার সাথে ভোলার যোগাযোগের জন্য লঞ্চ টার্মিনাল নির্মান ও লঞ্চ যাতায়াতের ব্যবস্থার সুযোগ করে দেন। ভোলা লঞ্চ যাত্রীদের সুবিধার জন্য তারই প্রতিষ্ঠানের চলছে এমভি দিঘলদী ও এমবি বালিয়া নামের দুটি লঞ্চ দিয়ে ভোলার সাথে ঢাকার নিরবিচ্ছন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা করে গেছেন।

শহরের উন্নয়ন:
ভোলা শহরকে ঢাকার পরে দ্বিতীয় রাজধানী রুপ দেয়ার জন্য তিনি প্রথমে ঢাকার বাহিরে সর্বপ্রথম ভোলাতে সোডিয়াম বাতি স্থাপন করেন। ভোলার উন্নয়নের সার্থে তাকে মামলা এমনকি কারাগারে যেথে হয়েছে। এছাড়াও তিনি ভোলা পৌরসভাকে দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে প্রথম শ্রেণী উন্নীত করন ১০টি শহর উন্নয়নের মধ্যে ভোলা শহরকেও তালিকাভুক্ত করে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়ে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেন।

গ্যাস উত্তোলনের ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ প্লান স্থাপনঃ
তাঁর আমল থেকেই শাহবাজপুর গ্যাস উত্তোলন

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

আধুনিক ভোলার রুপকার মরহুম নাজিউর রহমান মঞ্জুর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অনুসন্ধান ডেস্ক ::
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কৃষ্ণপদ আচার্য্য (৭৩) নামের এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) কালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
 এর আগে রোবার (৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ছোট কালিয়া গ্রামের সাইদের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত কৃষ্ণপদ আচার্য্য উপজেলার ছোট কালিয়া গ্রামের মৃত সন্তোষ আচার্য্যের ছেলে।
অভিযুক্ত ৩ যুবক হলেন-একই গ্রামের আশিকুর রহমান সুমন (৪০), আকিবুর রহমান মিলন (৩৭) ও মাহিদুল শেখ (৩৫)।
স্থানীয় ও স্বজনরা জানান, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কৃষ্ণপদ আচার্য্য কালিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় ছোট কালিয়া গ্রামের সাইদের দোকানের সামনে পৌঁছালে সুমন, মিলন ও মাহিদুল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। তারা তাকে মাথা, হাত ও পায়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, মনসা মন্দিরের জমি ও আমার পৈতৃক জমি নিয়ে প্রতিবেশী ফজর শেখ ও ওলিয়ার রহমানের সঙ্গে মামলা চলছে। এ মামলার জের ধরে কাল বাজার থেকে ফেরার সময় আমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছে তারা। আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব। আমি এই ঘটনার যথাযথ বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দোষীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান ওসি মো. ইদ্রিস আলী

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

নড়াইলে জমাজমি নিয়ে বিরোধের জের : মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণপদ আচার্য্যকে কুপিয়ে জখম প্রতিবেশীর

কৃষি ডেস্ক ::

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF)-এর উদ্যোগে নগর এলাকায় সবুজায়ন সম্প্রসারণ ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে একটি কার্যকর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় বাসা-বাড়ির ছাদ ও বারান্দায় সবজি চাষাবাদে উৎসাহিত করতে আগ্রহীদের মাঝে বিনামূল্যে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ প্রদান করা হয়।

উক্ত কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে সার্বিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনে’র সভাপতি ড. সরকার মো. আবুল কালাম আজাদ।

তিনি বলেন, সীমিত পরিসরে হলেও ছাদ ও বারান্দায় সবজি চাষের মাধ্যমে পরিবারিক পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ নগরবাসীর মাঝে কৃষিমুখী সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ছাদ ও বারান্দায় সবজি চাষে বীজ বিতরণ কার্যক্রম

কৃষি ডেস্ক::
জমি থেকে দ্রুত অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করতে হবে এবং ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। শিলার আঘাতে ক্ষতবিক্ষত গাছে পচন রোধে প্রোপিকোনাজল বা ট্রাইসাইক্লাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক এবং ইউরিয়া সারের পরিবর্তে পটাশ সার ব্যবহার করা উত্তম।
পদক্ষেপসমূহ:
পানি নিষ্কাশন: জমিতে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি ও শিলা দ্রুত সরিয়ে ফেলুন।
ছত্রাকনাশক স্প্রে: 
শিলার আঘাতে ক্ষত সৃষ্টি হলে ছত্রাকজনিত রোগ (যেমন- ব্লাস্ট বা খোলা পচা) হতে পারে। তাই ট্রাইসাইক্লাজল (যেমন- ট্রুপার বা জিল) বা কার্বেন্ডাজিম (যেমন- অটোস্টিন) গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ১-২ গ্রাম মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।
গাছের পরিচর্যা:
যদি গাছ ভেঙে না পড়ে, তবে পটাশ (এমওপি) সার হালকা উপরি প্রয়োগ করলে গাছের ক্ষত সারতে ও শীষ শক্ত হতে সাহায্য করে।
ইউরিয়া সার বর্জন:
শিলাবৃষ্টির পর জমিতে অতিরিক্ত ইউরিয়া সার দেবেন না, এতে রোগবালাই বৃদ্ধি পেতে পারে।
জমির আগাছা পরিষ্কার: 
শিলাবৃষ্টির পর জমিতে শামা বা অন্যান্য ঘাস থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে।
লেখক:
সভাপতি: বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন।
কৃষি লেখক ও কথক: বাংলাদেশ বেতার।
উপদেষ্টা,দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ।
প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক ও পরীক্ষক: কৃষি শিক্ষা।
★কৃষিতে বারো মাস গ্রন্থ সহ বহু গ্রন্থের লেখক

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ধানের কাইচ থোড় (Boots) অবস্থায় শিলাবৃষ্টি হলে করনীয়

 
কৃষি ডেস্ক ::
🔳 মালসা/পাত্র নির্বাচন:
ধারণক্ষমতা: ৫০-৮০ লিটার (ড্রাম/বড় টব)
নিচে ৩-৫টি ছিদ্র থাকতে হবে (ড্রেনেজের জন্য)
প্লাস্টিক ড্রাম/সিমেন্ট টব/মাটির বড় পাত্র ব্যবহারযোগ্য
 
🔳 মাটি প্রস্তুতি:
বেলে দোঁআশ মাটি – ৫০%
পচা গোবর/কম্পোস্ট – ৩০%
বালি – ১০%
ভার্মি কম্পোস্ট – ১০%
সাথে: হাড়ের গুঁড়া ৫০-১০০ গ্রাম + ছাই ৫০ গ্রাম
🔳 চারা রোপণ:
রোগমুক্ত সাকার/টিস্যু কালচার চারা নিন
এক পাত্রে ১টি গাছ
উপরে ২-৩ ইঞ্চি ফাঁকা রাখুন
 
🔳 সেচ ব্যবস্থা:
মাটি আর্দ্র রাখুন, পানি জমে থাকা যাবে না
গরমে প্রতিদিন, শীতে ২-৩ দিনে একবার
🔳 আলো ও অবস্থান:
প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা রোদ
ঝড়ো বাতাস থেকে সুরক্ষা, প্রয়োজনে খুঁটি দিন
🔳 সার প্রয়োগ (মাসভিত্তিক):
১ম মাস:
২-৩ কেজি জৈব সার (আগে মাটিতে মিশানো)
২য়-৩য় মাস:
প্রতি ১৫ দিনে তরল জৈব সার ১–২ লিটার
ইউরিয়া ২০–৩০ গ্রাম + টিএসপি ২০ গ্রাম
৪র্থ-৫ম মাস:
প্রতি ২০ দিনে: ইউরিয়া ৩০–৪০ গ্রাম + এমওপি ২০–৩০ গ্রাম
ছাই ১ মুঠো
৬ষ্ঠ-৭ম মাস:
ইউরিয়া ৩০ গ্রাম + এমওপি ৩০–৪০ গ্রাম (প্রতি ২০–২৫ দিনে)
🔳 মোচা আসার সময় (৭-৯ মাস):
এমওপি ৪০-৫০ গ্রাম + টিএসপি/ডিএপি ২০-৩০ গ্রাম
 
🔳 ফল বড় হওয়ার সময়:
প্রতি ১৫-২০ দিনে তরল জৈব সার + ছাই ১-২ মুঠো
🔳 পরিচর্যা:
শুকনো পাতা কেটে ফেলুন
অতিরিক্ত চারা রেখে দেবেন না (১-২টি রাখুন)
পোকা দমনে নিম তেল স্প্রে (মাসে ১ বার)
 
🔳 ফলন:
৮-১২ মাসে ফল আসে
ভালো যত্নে ১টি গাছে ১টি থোকা পাওয়া সম্ভব
সার গাছের গোড়া থেকে ৩-৪ ইঞ্চি দূরে দিন
একবারে বেশি সার নয়-ভাগে ভাগে দিন
পানি দেওয়ার পর সার দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়
ভারী হলে মালসার নিচে স্ট্যান্ড/চাকা ব্যবহার করুন
 অল্প জায়গায় সঠিক পরিচর্যায় মালসায় কলা চাষ করে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
লেখক
★সভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন
★কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার
★উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ
★প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক ও পরীক্ষক (কৃষি শিক্ষা)
★কৃষিতে বারো মাস গ্রন্থ সহ বহু গ্রন্থের লেখক

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

   মালসায় কলা চাষ 

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::

গত কয়েক বছরে বাজারে পেঁয়াজের দামের অস্বাভাবিক ওঠানামা কৃষক ও ভোক্তা-উভয়ের জন্যই ভোগান্তির কারণ হয়েছে। তবে সেই পরিস্থিতিই ভোলার অনেক কৃষকের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। ফলে জেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পেঁয়াজ চাষ। চলতি মৌসূমে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পেঁয়াজের ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকদের মুখে হাঁসি ফুটেছে। বর্তমানে মাঠ থেকে পেঁয়াজ তোলা, রোদে শুকানো এবং সংরক্ষণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কেউ কেউ আবার আগামী মৌসূমের জন্য বীজ সংরক্ষণেও মনোযোগ দিচ্ছেন।।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, অনুকূল আবহাওয়া, উন্নত জাতের বীজ এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এ বছর ভোলায় পেঁয়াজের আবাদ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ২শ’ ৩৪ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে এবং উৎপাদন হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮শ’ ৮ মেট্রিক টন। বিশেষ করে সদর ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে।

বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের কৃষক জাকির মিজি বলেন, গত কয়েক বছরে বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় অনেক সময় কিনতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তাই ধানসহ অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি নিজের জমিতেই পেঁয়াজ চাষ শুরু করেছেন তিনি।

একই এলাকার কৃষক সেলিম বেপারী বলেন, গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতায় তারা আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ শিখেছেন। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। বর্তমানে মাঠ থেকে পেঁয়াজ তুলে রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণের কাজ চলছে। পাশাপাশি আগামী মৌসুমের জন্য বীজও সংরক্ষণ করছেন।

কৃষক মাকসুদ পাটোয়ারী জানান, তিনি ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন এবং ভালো দাম পেয়েছেন। পাশাপাশি ঘরে ব্যবহারের জন্য কিছু পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রেখেছেন এবং আগামী মৌসূমে চাষের জন্য বীজও রেখে দিচ্ছেন।

সদর উপজেলার পরানগঞ্জ এলাকার কৃষক শামসুদ্দিন বলেন, এবার পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। এখন আমরা মাঠ থেকে পেঁয়াজ তুলে শুকিয়ে ঘরে তুলছি। বাজারে দাম ভালো থাকলে কৃষকেরা লাভবান হবেন। কৃষকদের মতে, পেঁয়াজ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে দীর্ঘ সময় ধরে বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হয়। এতে ন্যায্য দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।

গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)-এর টেকনিক্যাল অফিসার কৃষিবিদ মুরাদ হাসান চৌধুরী জানান, পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আরএমটিপি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ শেখানো হয়েছে। ফলে অনেক কৃষক এবার প্রথমবারের মতো পেঁয়াজ চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষকদের বীজ সংরক্ষণের সুবিধার জন্য একটি বীজ সংরক্ষণাগারও স্থাপন করা হয়েছে।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. শামিম আহমেদ বলেন, কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ ও সংরক্ষণ বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলন বাড়াতে উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

গ্রামীণ জন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক জাকির হোসেন মাহিন জানান, পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের আগ্রহী করতে আমরা আরএমটিপি প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করছি। ফলে কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হচ্ছে। ইতোমধ্যে চাষীদের উন্নতমানের পেঁয়াজের বীজ ও সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষণাগার স্থাপন করা হয়েছে, যা ভোলায় প্রথম। আমাদের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ খায়রু ইসলাম মল্লিক বলেন, ভোলায় আগে পেঁয়াজ চাষ খুব কম হতো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ায় এ চাষ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কৃষকদের সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের আশা, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে চলতি মৌসুমে ভোলা জেলার কৃষকেরা পেঁয়াজ উৎপাদন থেকে ভালো লাভ করতে পারবেন এবং স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহও স্থিতিশীল থাকবে।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

ভোলায় জনপ্রিয় হচ্ছে পেঁয়াজ চাষ : ভালো ফলনে কৃষকের মুখে হাঁসি

নিজস্ব প্রতিনিধি,ভোলা::
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় একটি স্বাক্ষরের জন্য টানা তিন দিন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘোরাঘুরি করেও প্রয়োজনীয় সত্যায়ন করাতে না পেরে চরম ভোগান্তি ও হতাশার মুখে পড়েছেন দেশের প্রথম শ্রেণীর একটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক আহসান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় তিনি সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ভোটার আইডি কার্ড, ছবি, শিক্ষা সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সত্যায়নের জন্য তাকে উপজেলা পর্যায়ের একাধিক সরকারি দপ্তরে যেতে হয়েছে। এ জন্য তিনি টানা তিন দিন ধরে বোরহানউদ্দিন উপজেলার মৎস্য অফিস,  প্রাণিসম্পদ অফিস এবং ্নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়সহ কয়েকটি সরকারি কার্যালয়ে ঘোরাঘুরি করেন। কিন্তু কোনো দপ্তর থেকেই প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান, সত্যায়িত কাগজপত্র ঢাকায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়ার একটি নির্ধারিত সময়সীমা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর না পাওয়ায় তিনি কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি। এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি স্বাক্ষরের জন্য তিন দিন ধরে সরকারি অফিসে ঘুরেছি। কিন্তু কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে স্বাক্ষর করাতে পারিনি। আমাদের মতো মানুষের যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে সাধারণ জনগণের অবস্থা কী-তা আল্লাহই ভালো জানেন।”

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের একজন নাগরিক হিসেবে সরকারি দপ্তরে সেবা পাওয়াটা তার অধিকার। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরের অভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় তিনি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ক্ষতির দায়ভার কে নেবে-এ প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন জেলা সিনিয়র সাংবাদিকরা তারা বলছেন সাধারণ মানুষের ছোট ছোট প্রশাসনিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন না হওয়ায় প্রায়ই ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তারা এ ধরনের সমস্যার দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা আহবান জানান তারা।

এদিকে সমস্ত বিষয়গুলো নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন এর সাথে কথা বলতে গেলে, অফিস টাইমে বিভিন্ন লোকজনের সাথে খোশ গল্প,ও হাসি ঠাট্টা করতে দেখা যায়, তাই অভিযোগের বিষয়ে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।া

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

বোরহানউদ্দিনে স্বাক্ষরের জন্য তিন দিন ঘোরাঘুরি : কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে ভোগান্তিতে সাংবাদিক!

কৃষি ডেস্ক ::     
বাংলাদেশের কৃষি আজ বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে। সীমিত জমি, বাড়তি উৎপাদন ব্যয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে কৃষকদের বিকল্প ও লাভজনক চাষপদ্ধতির দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে। এই বাস্তবতায় ধানের জমিতে মাছ চাষ একটি কার্যকর ও টেকসই সমাধান হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।
এই পদ্ধতিতে একই জমিতে ধান ও মাছ একসঙ্গে চাষ করা হয়। ফলে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়, কৃষকের আয় বাড়ে এবং পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়।
ধানের জমিতে মাছ চাষের জন্য নিচু বা মাঝারি উঁচু জমি সবচেয়ে উপযোগী, যেখানে  ৪-৫  মাস পানি ধরে রাখা যায়। জমির চারদিকে ১ থেকে ১.৫ ফুট উঁচু বাঁধ তৈরি করতে হয়। পাশাপাশি জমির এক পাশে বা চার কোণে মোট জমির ৫-১০ শতাংশ জায়গা নিয়ে নালা বা গর্ত রাখতে হয়, যা মাছের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে।
ধান নির্বাচনের ক্ষেত্রে পানিসহিষ্ণু ও দীর্ঘমেয়াদি জাত বেশি উপযোগী। BR11, BRRI dhan 49, BRRI dhan 52 ছাড়াও উপযোগী দেশি জাত ব্যবহার করা যায়। মাছের ক্ষেত্রে দেশি ও চাষযোগ্য মাছের মিশ্রচাষে ভালো ফলন পাওয়া যায়। টেংরা, পুঁটি, মলা, কৈ, শিংয়ের পাশাপাশি রুই, কাতলা, মৃগেল বা তেলাপিয়া চাষ করা যেতে পারে।
ধান রোপণের ১৫-২০ দিন পর মাছের পোনা ছাড়তে হয়। প্রতি শতাংশ জমিতে গড়ে ২০-৩০টি পোনা ছাড়া নিরাপদ। পোনার ওজন ৫-১০ গ্রাম হলে বেঁচে থাকার হার বেশি হয়। ধানের জমিতে প্রাকৃতিকভাবে মাছের খাদ্য তৈরি হয় বলে অতিরিক্ত খাবারের প্রয়োজন কম পড়ে। প্রয়োজনে অল্প পরিমাণ ভুসি বা খৈল দেওয়া যেতে পারে।
পানি ব্যবস্থাপনায় সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি। ধানের জন্য ৪-৬ ইঞ্চি পানি যথেষ্ট। অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে সংযমী হতে হবে, কারণ এগুলো মাছের জন্য ক্ষতিকর। সম্ভব হলে জৈব ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করাই উত্তম।
ধান কাটার সময় আংশিকভাবে মাছ সংগ্রহ করা যায় এবং ধান কাটার পর সম্পূর্ণ মাছ আহরণ সম্ভব। এতে একই জমি থেকে দুটি ফসল পাওয়া যায়, যা কৃষকের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।
সবশেষে বলা যায়, ধানের জমিতে মাছ চাষ একটি লাভজনক, পরিবেশবান্ধব ও পুষ্টিসমৃদ্ধ কৃষি পদ্ধতি। সঠিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও সচেতনতার মাধ্যমে এই সমন্বিত চাষব্যবস্থা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
লেখক:
★বসভাপতি, বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন(BPF)।
★ কৃষি লেখক ও কথক, বাংলাদেশ বেতার।
★ উপদেষ্টা, দৈনিক গ্রামীণ কৃষি, দৈনিক সংবাদ প্রতিক্ষণ, দৈনিক নাগরিক কন্ঠ, অগ্নিবার্তা।
★ প্রাক্তন সিনিয়র শিক্ষক(কৃষি শিক্ষা)।
★ কৃষি বিষয়ক বহু গ্রন্থের লেখক

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

কৃষকের মুখে হাসি- ধানের জমিতে মাছ চাষ : দ্বিগুণ ফসল, দ্বিগুণ সম্ভাবনা

ডেস্ক রিপোর্ট ::
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আজ ১৩ মার্চ (শুক্রবার)  বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন (BPF) এর উদ্যোগে রাজধানীর পুরান ঢাকার একটি এতিমখানার  শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩ শতাধিক ব্যক্তির মধ্যে চিকেন পোলাও ও খেজুর সমন্বয়ে প্রস্তুতকৃত ইফতার প্যাকেট বিতরণ করা হয়।
এই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিপিএফ’র কেন্দ্রীয় সভাপতি বিশিষ্ট লেখক আলহাজ্ব ড. সরকার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাস মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার শিক্ষা দেয়। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সকলের নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, বিপিএফ একটি অরাজনৈতিক কল্যাণমুখী পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং সমাজের বিত্তবানদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

আপনার মতামত কমেন্টস করুন

বাংলাদেশ পেশাজীবী ফেডারেশন’র উদ্যোগে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে ইফতার বিতরণ