নিজস্ব প্রতিনিধি [২৭ নভেম্বর, রাত ১২.১৫ মি:] ::
সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষমেশ বরিশাল নগরীর দক্ষিণ চকবাজারে পুলিশ স্টলের “সোলায়মান সু
হাউজ”র সত্বাধিকারী মোঃ সোলাইমান ফরাজীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন তার সাবেক স্ত্রী মোসা: আখি আক্তার। শেষ রক্ষা হলোনা স্ত্রীকে তালাক দিয়ে তা গোপন রেখে টানা ৯৯ দিন ঘরসংসার করার পরে স্ত্রী আখিকে নগরীর ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে প্রকাশ্য রাস্তার ওপর ফেলে পেটানো আলোচিত সেই জুতা ব্যবসায়ী সোলাইমানের।
স্ত্রীকে ঘরে রেখেই ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে গোপন করা তালাকের কাগজপত্র উদ্ধার করে গত ২৫ নভেম্বর আখি বাদী হয়ে বরিশালের শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধিত) ২০০৩ এর ৯(১)/৩০ ধারায় সোলাইমানকে প্রধান আসামী করে ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। এসব অপকর্মে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত অপর আসামীরা হলেন সোলাইমানের বাবা মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজী, মা মোসাঃ পেয়ারা বেগম, বড় ভাই মোঃ লোকমান ফরাজী এবং বোন মোসাঃ আখি বেগম। মামলায় অন্যান্য আসামীদের সহযোগিতায় প্রধান আসামী সোলাইমানের বিরুদ্ধে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর স্ত্রী আখি আক্তারকে তালাক দেয়ার পরে ভুয়া ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়ে তা গোপন রেখে ৬ সেপ্টেম্বর আখিকে শশুরালয় থেকে লামচরি নিজ বাড়িতে নিয়ে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৯৯ দিন ঘর-সংসার করে সোলাইমান তার বাবা মোঃ ইউসুফ আলী ফরাজীর মাধ্যমে আবার আখির পিত্রালয়ে পাঠয়ে দেয়। কিন্তু ঘুনাক্ষরেও তালাকে বিষয়টি জানতে পায়নি আখি আক্তার।
ওই আদালতের বিচারক প্রশিক্ষণে বরিশালের বাহিরে অবস্থান করার কারণে আদালতের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আজ বৃহস্পতিবার দীর্ঘ শুনানী শেষে বিজ্ঞ বিচারক মোঃ রকিবুল ইসলাম এমপি নং-৪৮৭/২০২৫ মোকদ্দমাটি বিএমপি কাউনিয়া থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা রুজু করার নির্দেশ দেন।
এ ছাড়াও ওই আসামীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় জিআর-২২/২০২৫ (নারী ও শিশু কেস নং-৪৬৮/২০২৫) তদন্তে এবং দ: বি: ৩২৩/৫০৬(২) ধারায় নন এফ.আই.আর প্রসিকিউশন নং-৬৩/২০২৫ (কোতয়ালী) ও দ: বি: ৫০৬(২) ধারায় নন এফ.আই.আর প্রসিকিউশন নং-৬২/২০২৫(কাউনিয়া) মোকদ্দমা বিচারাধীন আছে।
উল্লেখ্য, মোঃ সোলাইমান ফরাজী(৩৫) নগরীর কাউনিয়া থানাধীন চর বাড়িয়া ইউনিয়নের লামচরী গ্রামের বাসিন্দা মো: ইউসুফ আলী ফরাজী ও মোসা: পেয়ারা বেগম দম্পত্তির পুত্র এবং মোসা: আখি আক্তার(২২) একই ইউনিয়নের চর আবদানীর বাসিন্দা মোঃ আলমগীর হোসেন ও মোসাঃ মিনারা বেগম দম্পত্তির কন্যা।
ঘটনার বিষয়ে জানতে মো: সোলাইমানের মোবাইল ফোনে (01719541613 ও 01919079090 নম্বরে) বারং বার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ইতোপূর্বেও এসব ঘটনাবলীর আলোকে অনুসন্ধান টিভিনিউজ-এ গত ১২ আগষ্ট, ৬ অক্টোবর এবং ১২ অক্টোবর তিনটি সবিস্তার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
আপনার মতামত কমেন্টস করুন